হ্যাচারি ব্যবসা করে 1লাখ টাকা ইনকাম করুন | Do the hatchery business successfully, Now

বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটা মানুষই ডিম এবং মাংস খেতে ভীষণভাবে পছন্দ করেন। আপনি যদি হ্যাচারি ব্যবসা করতে চান এবং করে সফল ব্যবসায়ী হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য আজকের এই প্রতিবেদনটি। বর্তমান সময়ে চাকরির বাজার এতটাই খারাপ যে একজন শিক্ষিত ছেলে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে বর্তমান সময়ে সেই ঘরে বসে না থেকে আপনি যদি অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন হ্যাচারি ব্যবসা তাহলে অবশ্যই আপনার প্রতি মাসের শুধু হাত খরচের টাকা না সংসার চালানোর মতো প্রচুর অর্থ আপনি উপার্জন করতে পারেন।

মুরগির ডিমের হ্যাচারি ব্যবসা বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। বর্তমান সময়ে মুরগির মাংসের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি মুরগির বাচ্চার চাহিদাও ভীষণ ভাবে বেড়ে গেছে। তাই আপনি যদি হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসা কোনদিনই আপনাকে লস এর সম্মুখীন করবে না। চলুন দেখে নেওয়া যাক হ্যাচারি ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায় এবং তার সম্পূর্ণ পদ্ধতি।

Table of Contents

হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করতে কত পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়?

আপনার কাছে যেমন পরিমাণ পুঁজি থাকবে সেই পরিমাণ পুঁজি দিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন হ্যাচারি ব্যবসা। কারণ হ্যাচারি ব্যবসা করার জন্য প্রচুর পরিমানের পুঁজির প্রয়োজন নেই শুরুতে। ব্যবসা শুরুর দিকে আপনি চাইলে মাত্র 20 থেকে 30 হাজার টাকা দিয়েই শুরু করতে পারেন এই ব্যবসা। তবে ব্যবসা করতে করতে যখন আপনি লাভের মুখ দেখতে শুরু করবেন তখন আপনি এই ব্যবসার আনন্দটা বুঝতে পারবেন। সাধারণত যেমন এই ব্যবসা শুরু করতে 20-30 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হয় ব্যবসার শুরুতে তেমনি চাইলেই এই ব্যবসাটি আবার 1 লক্ষ টাকা দিয়েও আপনি শুরু করতে পারেন। তবে যত বেশি পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করে আপনি হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করবেন তত বেশি পরিমাণে আপনার প্রতি মাসের লাভ থাকবে।

মুরগির হ্যাচারি ব্যবসা করতে কি কি কাঁচামাল লাগে?

মুরগির হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রথমেই বুঝতে পারছেন কাঁচামাল হিসেবে আপনাকে ডিম সংগ্রহ করতে লাগবে। ডিম ছাড়া আপনি এই ব্যবসায় অন্য কোন জিনিস নিয়ে শুরু করতে পারবেন না। তবে মুরগির বাচ্চা জন্মানোর পরে তাদের খাওয়ানোর জন্য আপনাকে মুরগির খাবার সংগ্রহ করে রাখতে হবে এবং পরিষ্কার জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

Poultry hatchery business
মুরগির হ্যাচারি ব্যবসা

হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করতে কি কি প্রয়োজন?

হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার বেশ কিছু জিনিসের প্রয়োজন পড়বে। যেমন-

  • ফাঁকা ঘর
  • স্প্রে মেশিন বা বোতল
  • ড্রপার
  • ইলেকট্রিক বাল্ব
  • ফিডার (দানা খাওয়ানোর জন্য)

এই কারণে আপনার ফাঁকা ঘরের প্রয়োজন পড়বে কারণ ঘরে যেমন মেশিন বসাতে হবে, তেমন ঘরটি যদি ফাঁকা থাকে বা ঘরের মধ্যে যদি জায়গা একটু বেশি থাকে তাহলে মুরগির বাচ্চা জন্মানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি ভালো সুযোগ থাকবে। এছাড়াও আপনার ঘরে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলেকট্রিসিটি থাকে তার দিকেও আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মুরগির বাচ্চা জন্মানোর পরে সেই বাচ্চাগুলো দুই একদিনের জন্য হলেও আপনার কাছে প্রতিপালন করার মতো পর্যাপ্ত জায়গার প্রয়োজন পড়বে।

মুরগির ডিমের হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

মুরগির ডিমের হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার ন্যূনতম 10/10 ফুটের একটা ঘরের প্রয়োজন পড়বে।
এছাড়াও আপনার কাছে জায়গার পরিমান যতটা বেশি পরিমাণে থাকবে তত ভাল ভাবে আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। ব্যবসার শুরুতে আপনি চাইলে ছোট মেশিন কিনে ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। আর ছোট মেশিন কিনে ব্যবসাটি শুরু করলে আপনার বেশি বড় জায়গার প্রয়োজন পড়বে না, তবে আপনি যদি বড় মেশিন কিনে একসাথে বেশি ডিম ফুটে বাচ্চা তোলার চেষ্টা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে 10/10 ফুটের কম করে একটা ঘরের প্রয়োজন পড়বে। এছাড়াও আপনি চাইলে আরও বড় কোন ঘর তৈরি করে সেখানে শুরু করতে পারেন মুরগির ডিমের হ্যাচারি ব্যবসা।

হ্যাচারি মেশিন কত প্রকার ও কি কি?

হ্যাচারি মেশিন বলতে ইনকিউবেটর মেশিন কে বলা হয়। বর্তমানে ইনকিউবেটর মেশিন তিন ধরনের হয়ে থাকে।

  • মেনুয়াল ইনকিউবেটর মেশিন।
  • সেমি অটোমেটিক ইনকিউবেটর মেশিন।
  • অটোমেটিক ইনকিউবেটর মেশিন।

অবশ্যই পড়ুন- ব্রয়লার মুরগির খামারের পরিকল্পনা

ইনকিউবেটর মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গে থাকেন তাহলে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন জায়গাতে ইনকিউবেটর মেশিন বিক্রি হয়। আবার আপনি চাইলে সরাসরি অনলাইনেও ইনকিউবেটর মেশিন কিনতে পারেন তবে অনলাইনে মেশিন কিনতে তার দাম একটু বেশি পরিমাণে হলেও হতে পারে। আর আপনি যদি চান যে সরাসরি মেশিন নির্মাতা কোম্পানির কাছ থেকে ইনকিউবেটর মেশিন কিনবেন তাহলে আপনার যেমন টাকা কম লাগবে তেমনি ভাল মানের মেশিন আপনি কিনতে পারবেন। মেশিন নির্মাতা কোম্পানির কাছ থেকে ফুললি অটোমেটিক মেশিন যেমন আপনি পেয়ে যাবেন তেমনই আপনি ম্যানুয়াল ছোট মেশিন কিনতে পারবেন।

আর আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন তাহলেও আপনার কাছাকাছি যে সব মেশিন নির্মাতা কোম্পানি রয়েছে তাদের কাছ থেকে আপনি খুব সহজেই অল্প দামে ইনকিউবেটর মেশিন পেয়ে যাবেন। বাংলাদেশের ঢাকাতে একাধিক মেশিন নির্মাতা কোম্পানি রয়েছে এবং এই সকল কোম্পানি ইনকিউবেটর মেশিন তৈরি করে থাকে। যোগাযোগের সুবিধার্থে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন মেশিন নির্মাতা কোম্পানির ফোন নাম্বার দিয়ে দেওয়া হল-

8927143738
9883564558
7385137018
128 192 256( বাংলাদেশ)

ইনকিউবেটর মেশিনের দাম কত?

মেশিনের কোয়ালিটি এবং পরিমাণ অনুযায়ী দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে আপনার ব্যবসার শুরুতে আপনি ছোট মেশিন কিনে ব্যবসা শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর ব্যবসায় বেশি লাভ দেখতে গেলে অবশ্যই আপনাকে বেশি পরিমাণ ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে ব্যবসা করতে হবে, এর জন্য আপনাকে বড় মেশিন কিনতে হবে।

100 ডিমের জন্যঅটোমেটিক মেশিন11 হাজার টাকা দাম
190 ডিমের জন্যঅটোমেটিক মেশিন16 হাজার টাকা দাম
256 ডিমের জন্যঅটোমেটিক মেশিন19 হাজার টাকা দাম
1000 ডিমের জন্যঅটোমেটিক মেশিন50 হাজার টাকা দাম
3000 ডিমের জন্যঅটোমেটিক মেশিন70 হাজার টাকা দাম
5000 ডিমের জন্যঅটোমেটিক মেশিন1 লক্ষ টাকা দাম
8000 ডিমের জন্যঅটোমেটিক মেশিন1 লক্ষ 30 হাজার টাকা দাম
100 ডিমের জন্যম্যানুয়াল মেশিন5 হাজার টাকা দাম
মেশিনের দাম

হ্যাচারি ব্যবসার ট্রেনিং কোথায় দেওয়া হয়?

আপনি যখন হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে উপযুক্ত ট্রেনিং নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করার প্রয়োজন পড়বে। ট্রেনিংয়ের জন্য আপনি আপনার কাছাকাছি সরকারি বিভিন্ন সংস্থা তে যোগাযোগ করতে পারেন কারণ বর্তমান সময়ে সরকারি অনেক সংস্থা রয়েছে যারা মুরগির ডিম ফুটানোর ট্রেনিং দিয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গাতে বেসরকারি অনেক সংস্কার রয়েছে যারা টাকা দিয়ে কোর্স চালু করেছে এবং তার মধ্য দিয়ে ট্রেনিং দিয়ে থাকে। আপনাকে ব্যবসার শুরুতে একটু খোঁজখবর লাগাতে হবে যে কোন জায়গায় আপনি ট্রেনিং নিতে পারবেন।

আগার আপনি যদি সরাসরি মেশিন নির্মাতা কোম্পানির কাছ থেকে মেশিন কেনেন তাহলে আপনি সেই কোম্পানির কাছেই সরাসরি ট্রেনিং নিতে পারবেন তাও বিনামূল্যে। এর জন্য আপনি গুগলে সার্চ করতে পারেন যে আপনার এলাকার মধ্য কাছাকাছি কোথায় ইনকিউবেটর মেশিন নির্মাতা কোম্পানি রয়েছে কিংবা ডিম হ্যাচারি রয়েছে। আপনি যোগাযোগ করতে পারেন সেই সব কোম্পানির কাছে অথবা সেইসব পোল্ট্রি ফার্মে যেখানে হ্যাচিং করে বাচ্চা তুলে বিক্রি করা হয়।

আরো পড়ুন- ব্যবসা মাত্র 10 হাজার টাকা দিয়ে শুরু করুন

কিভাবে মুরগির ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তোলা হয়?

অটোমেটিক ইনকিউবেটর মেশিনে থাকে টেম্পারেচার সেন্সর এবং হিউমিডিটি সেন্সর। এছাড়াও অটোমেটিক মেশিনের ভিতরে ডিম রাখার জন্য একাধিক থাকে।

  • অটোমেটিক ইনকিউবেটর মেশিনের ট্রেতে ডিম সাজিয়ে রাখুন।
  • তারপর ট্রে গুলো ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে ইলেকট্রিক চালু করে দিন মেশিনের।
  • মেশিনে টেম্পারেচার সেন্সর এবং হিউমিডিটি সেন্সর এর মধ্য দিয়ে ডিম অটোমেটিক পদ্ধতিতে বাচ্চা প্রস্তুত করতে থাকবে।
  • সপ্তাহে একবার কিংবা দুবার ডিমগুলো উল্টে দিতে হবে আপনাকে।
  • 25 থেকে 30 দিনের মধ্যে প্রতিটা দিন থেকে বাচ্চা ফুটে বেড়িয়ে আসবে।

আপনি যদি ম্যানুয়াল মেশিন কেনেন তাহলে আপনাকে মাঝেমধ্য দিন গুলোর উপরে জলের স্প্রে করতে হবে। অটোমেটিক মেশিনের জলের স্পিড করার জন্য ভেতরে মেশিন থাকে তারাই ভেতরের হিউমিডিটি মেন্টেন করে। সেই অনুযায়ী অটোমেটিক মেশিন এর ফ্যান লাগানো থাকার দরুন বাতাস করেও ভেতরের টেম্পারেচার কে কন্ট্রোল করা হয়।

Incubator machine
ইনকিউবেটর মেশিন

হ্যাচারি ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

প্রতিটা ব্যবসার মতো এই ব্যবসার শুরুতেই আপনার কোন লাইসেন্স এর প্রয়োজন পড়বে না। এছাড়া আপনি যদি ছোট করে ব্যবসা শুরু করেন তাহলেও আপনার কোন লাইসেন্স এর প্রয়োজন পড়বে না। তবে আপনার ব্যবসা যখন বড় হবে তখন যাতে কোনো আইনি জটিলতার সম্মুখীন আপনাকে পড়তে না হয় তার জন্য আপনাকে কয়েকটি লাইসেন্স আগে থেকে নিয়ে নিতে হবে। প্রতিটা ব্যবসার মতো এই ব্যবসাতে ও লাইসেন্স হিসেবে সর্বপ্রথম ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে। এছাড়া আপনার টাকা পয়সার লেনদেনের ক্ষেত্রে জিএসটি নাম্বার এর প্রয়োজন পড়বে।

আর হ্যাচারি ব্যবসায় যেমন শুরুতে কোন লাইসেন্স লাগে না তেমন ব্যবসার পরবর্তী ক্ষেত্রে এই সকল লাইসেন্স না নিয়ে যদি আপনি ব্যবসা করেন তাহলে হয়তো কোনো আইনি জটিলতার সম্মুখীন আপনাকে কখনো করতে হবে না। আপনি যদি ঘর ভাড়া নিয়ে হ্যাচারির কাজ শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেই ঘরের আইনি দলিল এবং কাগজপত্রের এক কপি করে জেরক্স এর প্রয়োজন পড়বে। এছাড়াও আপনার নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড কিংবা ভোটার কার্ডের কপি সর্বদা আপনার কাছে রাখতে হবে। আর আপনি যদি উৎপাদিত মুরগির বাচ্চা গুলিকে বিদেশে রপ্তানী করার ব্যবস্থা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স নিতে হবে।

এই সকল প্রকার লাইসেন্স আপনি চাইলে বর্তমানের অনলাইনে এপ্লাই করে পেয়ে যাবেন। আপনি যদি অনলাইন সম্পর্কে বেশি কিছু না জেনে থাকেন তাহলে আপনি আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস কিংবা বিডিও অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকারি এই সকল অফিস থেকে খুব সহজেই আপনি সকল প্রকার লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। প্রতিটা লাইসেন্সের জন্য সব মিলিয়ে আপনার খরচ হবে দুই থেকে তিন হাজার টাকার মতো। লাইসেন্স সম্বন্ধিত আরো কিছু জানার জন্য আপনি দেখতে পারেন এই পোস্টটি-

অবশ্যই পড়ুন- ব্যবসায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স

হ্যাচারি ব্যবসার জন্য কেমন ইলেকট্রিক এর প্রয়োজন?

যেহেতু হ্যাচারির জন্য ইনকিউবেটর মেশিনের প্রয়োজন পড়ে আর ইনকিউবেটর মেশিন ইলেকট্রিকে চলে। যদি আপনার এলাকাতে সারা দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ইলেকট্রিসিটি অফ থাকে তাহলেও আপনি ভালোভাবে এই ব্যবসা করতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনার এলাকাতে ইলেকট্রিক চলে গেলে চার-পাঁচ ঘণ্টা বেশি সময় ধরে না আসে তাহলে আপনার সমস্যা হবে। যদি এইরকম কোন সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে ইনভার্টার অথবা জেনারেটর এর ব্যবস্থা রাখতে হবে ইলেকট্রিসিটি অব্যাহত রাখার জন্য। সাধারণত সারা মাসের ইলেকট্রিসিটি হিসেবে আপনার খরচ হবে 200 থেকে 300 টাকার মতো।

মুরগি বাচ্চা সরবরাহ কিভাবে করবেন?

ইনকিউবেটর মেশিনের দ্বারা যখন ডিম ফুটে মুরগির বাচ্চা জন্মায় তখন সেই বাচ্চাগুলো 1-2 দিনের জন্য আপনার কাছে রেখে দিন। তারপর সুস্থ বাচ্চা গুলিকে কাগজের কার্টুন এর ভেতরে নির্দিষ্ট পরিমাণ অনুযায়ী ভর্তি করে ভালো করে প্যাকিং করে আপনি বাইরে রপ্তানি করতে পারেন। একদিন কাগজের কার্টুনের যেন একাধিক ফুটো থাকে যেখান থেকে অক্সিজেন সমপূর্ণ বাক্সটার ভেতরে ছড়িয়ে যাবে। এছাড়াও ডিমগুলো থেকে বাচ্চা জন্মানোর পরে আপনাকে যখন বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে তার আগে আপনাকে ঘর কিংবা কাগজ জাতীয় কিছু জিনিস খুবই ছোট আকারের কেটে রাখতে হবে।

যার ভেতরে আপনি বাচ্চা গুলো ভর্তি করে বা বাচ্চা গুলো রেখে পাঠাবেন তার মধ্যে অবশ্যই এই কাগজ কাটা কিংবা খরকাটা টুকরো গুলো ভর্তি করে রাখবেন যাতে বাচ্চার কোন ক্ষতি না হয়। মুরগির বাচ্চার রপ্তানির জন্য আলাদা ধরনের কাগজের কার্টুন বাক্স পাওয়া যায়, আপনাকে সেই বাক্স সংগ্রহ করতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- বাড়িতে চকলেট ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয় করুন

হ্যাচারি ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

যে কোন ব্যবসা করতে গেলে সবচেয়ে প্রধান যে জিনিসটা থেকে যায় ব্যবসার তাহলো মার্কেটিং। মারকেটিং যদি ভালোভাবে করা হয় তাহলে ব্যবসায় লাভের পরিমাণ ভালোভাবে হয় আর মার্কেটিং খারাপ হলে ব্যবসায় লাভের পরিমাণ অনেক কমে যায়। আপনাকেও এই ব্যবসা শুরু করতে হলে মার্কেটিং এর দিকে ভালো করে নজর দিতে হবে। তাই ব্যবসার শুরুতে আপনাকে দেখতে হবে আশপাশের কোথায় মুরগির ফার্ম রয়েছে। প্রতিটা মুরগির ফার্ম ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে আপনি বলুন যে আপনি মুরগির বাচ্চার যোগান তাদের দেবেন। এছাড়াও বিভিন্ন ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের কাজে লাগাতে পারেন যারা আপনার কাছ থেকে মুরগির বাচ্চা জন্মানোর পরে সেগুলো কিনে এলাকায় এলাকায় বিক্রি করবে। এর জন্য আপনি বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ব্যবহার করতে পারেন যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব প্রভৃতি।


ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ইউটিউবে একাধিক পেজ তৈরি করে আপনি যদি প্রতিদিন নিত্যনতুন পোস্ট করতে থাকেন সেখানে থেকে আপনার অনেক অ্যাডভার্টাইজমেন্ট হয়ে যাবে এবং অনেক কাস্টমার জোগাড় হয়ে যাবে। আবার আপনি চাইলে বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় প্রথম প্রথম প্রচার চালাতে পারেন যাতে সকল মানুষ জানেন যে আপনি মুরগির বাচ্চার হ্যাচিং করেন। আপনার ব্যবসার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে তখন খুব ভালো ভাবে আপনি আপনার ব্যবসা করে লাভবান হতে পারবেন। তাই জন্য ব্যবসা শুরুতে অল্প ডিমের বাচ্চা তৈরি করুন যাতে প্রতিটা বাচ্চা বিক্রি হয়ে যায়। যখন আপনার একটা কাস্টমার বেশ তৈরি হয়ে যাবে তখন আপনি বেশি পরিমাণ ডিম ফুটে বাচ্চা উৎপাদন করবেন।

হ্যাচারি ব্যবসায় লাভ কত? (What is the profit of hatchery business?)

অন্য অল্প পুঁজির ব্যবসা গুলির মধ্যে এই ব্যবসাতে লাভের পরিমাণ টা একটু বেশি থাকে। যেমন আপনি এই ব্যবসাতে পুঁজি বিনিয়োগ করবেন তেমন এই ব্যবসাতে লাভের পরিমাণ বেশি পাবেন। যেতে পারে 1000 মুরগির ডিম আপনি যদি প্রতিমাসে দিয়ে বাচ্চা তোলেন তাহলে আপনার প্রতি মাসে লাভ থাকবে 7 থেকে 8 হাজার টাকা। আমি যদি 1000 হাঁসের ডিম প্রতিমাসে ফটো আমি তাহলে আপনার লাভ থাকবে 8 থেকে 10 হাজার টাকা। তাহলে একবার ভেবে দেখুন আপনি যদি প্রতিমাসে 5 থেকে 10 হাজার ডিম ফোটাতে পারেন তাহলে আপনার প্রতি মাসে কত টাকা লাভ হতে পারে। একজন সফল হ্যাচারি ব্যবসায়ীর মাসে রায় 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা হতে পারে।


এই ব্যবসা করতে করতে আপনি শুরু করতে পারেন মুরগির ফার্ম এর ব্যবসা। ফার্মের ব্যবসা করলে আপনার যে সুবিধা হবে সেটা হল ডিমের যোগান আপনি পেয়ে যাবেন সব সময়। আবার আপনি বাজারের ডিম বিক্রি করতে পারবেন সঙ্গে মাংসও। আই জন্য বর্তমানে সব ব্যবসায়ীরাই ডিমের হ্যাচিং এর পাশাপাশি মুরগির ফার্ম এর ব্যবসা শুরু করেছেন।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

মুরগির ডিমের হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 30 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা লাগে হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করতে।

হ্যাচারি ব্যবসার জন্য কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: এই ব্যবসার জন্য ন্যূনতম 10/10 ফুটের একটা ঘরের প্রয়োজন।

বাংলাদেশের কোথায় ইনকিউবেটর মেশিন পাওয়া যায়?

উত্তর: ঢাকায় ইনকিউবেটর মেশিন নির্মাতা কোম্পানি রয়েছে সেখান থেকে পেয়ে যাবেন।

মুরগির হ্যাচারি ব্যবসা কোন এলাকায় করা যায়?

উত্তর: গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরাঞ্চলে যেখানে আপনি থাকুন না কেন সেখানে আপনি এই ব্যবসা করতে পারবেন।

হ্যাচারি ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: প্রতি মাসে 30 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা এই ব্যবসায় আপনি স্বাচ্ছন্দে ইনকাম করতে পারবেন

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

পপকর্ন তৈরির ব্যবসা করুন

পেন তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment