হার্ডওয়ারের দোকান করে প্রচুর টাকা উপার্জন করুন | Hardware store business in 2022, Right now

হার্ডওয়ারের দোকান আমাদের আশেপাশে দু-একটা যে আছে তাদের বিক্রি প্রতিমাসে বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বর্তমান সময়ে। কারণ আমরা সবাই জানি প্রতিটা পরিবারের কোনো না কোনো কাজের জন্য হার্ডওয়ারের বিভিন্ন জিনিসপত্র প্রয়োজন পড়ে। একটি ঘর থেকে দোকান সাজানোর প্রায় সকল উপকরণী হার্ডওয়ার দোকান থেকে কিনে আনতে হয়। আবার নতুন ঘর বা ঘরের আসবাবপত্র তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় বেশকিছু সামগ্রী হার্ডওয়ারের দোকান থেকেই পাওয়া যায়। আজকের এই পোস্টে আলোচনা করা হবে আপনি কি পদ্ধতিতে হার্ডওয়ারস ব্যবসা করলে সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন এবং এই ব্যবসার যাবতীয় তথ্যাবলী।

Table of Contents

কিভাবে হার্ডওয়্যার ব্যবসা শুরু করা যায়?

পৃথিবীতে যত রকমের কাজ ও ব্যবসা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি ব্যবসা হার্ডওয়্যার ব্যবসা। এই ব্যবসা শুরু করতে গেলে আপনাকে যেমন বেশ অনেকটাই পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে তেমন এই ব্যবসা থেকে আপনি প্রতিদিন প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারবেন। যেহেতু প্রতিটা পরিবারের বিভিন্ন কাজের জন্য হার্ডওয়ার জিনিসপত্রের প্রয়োজন পড়ে তাই দিনে দিনে হার্ডওয়্যার দোকানগুলি প্রচুর লাভবান হচ্ছে।

সাধারণত একটি হার্ডওয়্যার দোকান তৈরি করতে গেলে আপনাকে দোকান ঘর ভাড়া থেকে শুরু করে হার্ডওয়্যার জিনিসপত্র কিনে আনতে হবে পাইকারি মার্কেট থেকে এবং তা রিটেল মার্কেটে বিক্রি করার ব্যবস্থা করতে হবে বিভিন্ন নিয়ম অনুসারে। আপনাকে জানতে হবে এই ধরনের দোকানগুলিতে কি কি জিনিস বিক্রি হয় এবং কোন জিনিসগুলি মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলির মধ্যে একটি। তবে ভারত ও বাংলাদেশের মতো উন্নতশীল দেশগুলিতে হার্ডওয়ারের দোকান ব্যবসা খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে এবং দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি ঘটতে পারে।

hardware business
হার্ডওয়্যার ব্যবসা

হার্ডওয়ারের দোকানে কি কি জিনিস পাওয়া যায়?

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি হার্ডওয়ারের দোকানে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি হয়ে থাকে। তবে হার্ডওয়ার জিনিসপত্র আমরা যে সকল জিনিসগুলি বুঝে থাকি যেমন দড়ি, পাইপ, পেরেক, হাতুড়ি ইত্যাদি তা তো বিক্রি হয় এবং তার পাশাপাশি আরও বহু জিনিসের বিক্রি হয় এই দোকানগুলিতে। বর্তমানে একটি হার্ডওয়ারের দোকানে যে সকল জিনিস বিক্রি হয়ে থাকে তা হল-

হার্ডওয়্যার সামগ্রী তালিকা:

  1. বিভিন্ন ধরনের দড়ি
  2. পেরেক
  3. হাতুড়ি
  4. ছেনি
  5. পাইপ
  6. তারকাটার
  7. বিভিন্ন ধরনের তার
  8. আঠা
  9. স্ট্যাপলার
  10. প্লাস
  11. কাটারি
  12. করাত
  13. ড্রিল মেশিন
  14. বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট মেশিন
  15. কব্জা
  16. স্ক্রু
  17. স্ক্রু ড্রাইভার
  18. ছিটকিনি
  19. নেট
  20. হুক
  21. মেঝে পরিষ্কারের বিভিন্ন পণ্য
  22. পেইন্ট ব্রাশ
  23. তালা
  24. পাপোশ
  25. কাঁটাব্লাস
  26. বিল্ডিং উপকরণ
  27. মাপের ফিতা ও আরো বহু জিনিস

বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের দোকানে সেই এলাকার প্রয়োজনীয় বেশকিছু সামগ্রী বিক্রি করে থাকে। অর্থাৎ যে এলাকায় আপনি হার্ডওয়্যারের দোকান দেবেন সেই এলাকার প্রয়োজনীয় হার্ডওয়ার সামগ্রী আপনাকে কিনে আনতে হবে বড় মার্কেট থেকে।

হার্ডওয়্যারের দোকান কোথায় খোলা যায়?

আপনি যে এলাকায় থাকেন সেই এলাকার আশেপাশের বড় বাজার এলাকা অথবা আপনার এলাকার যেখানে হার্ডওয়ার দোকান একদমই নেই এবং মার্কেট চাহিদা অনেক বেশি আছে বুঝে, আপনি এমন একটি জায়গা নির্বাচন করে দোকান তৈরি করতে পারেন। হার্ডওয়্যারের দোকান তৈরি করার জন্য অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে জনবহুল কোন মার্কেট এলাকা। এবং দোকানটি যেন অবশ্যই রাস্তার ধারে হয়ে থাকে। এছাড়া আপনি গ্রাম এবং শহরের যে কোন জায়গাতেই ছোট করে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আর শহরাঞ্চলের দিকে যদি আপনি এই ব্যবসা করেন তাহলে কোন বাজার এলাকার না হলেও আপনি যেকোন রাস্তার ধারে দোকান তৈরি করতে পারেন।

যেহেতু শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা গ্রামাঞ্চলের থেকে বহুগুণ বেশি তাই শহরাঞ্চলের যেকোনো জায়গাতেই দোকান করলে আপনি লাভবান হবেন। আবার গ্রামাঞ্চলের দোকানের থেকে শহরাঞ্চলের দোকানের পাওয়া জিনিসগুলির দামও অনেক কম হতে পারে। কারণ গ্রামের একজন ব্যবসায়ী শহরের পাইকারি মার্কেট থেকে কিনে এনে গামে বিক্রি করে যে কোন জিনিস সেই কারণে তার বিক্রি করা প্রায় প্রতিটা জিনিসের দাম একটু বেশি হয়ে যায়। আর শহরাঞ্চলের দোকানগুলি যেহেতু তাদের শহরেরই বড় পাইকারি মার্কেট থেকে সকল প্রকার জিনিস কিনে আনতে পারে, তাই যাতায়াত খরচ তাদের অনেক কম হয় এবং তাদের দোকানের বিক্রি হওয়া প্রতিটা জিনিসের দাম তুলনামূলক কম হয়।

কারা হার্ডওয়ার ব্যবসা করতে পারেন?

যেকোনো ব্যক্তি হার্ডওয়ার ব্যবসা করতে পারে। আপনার কাছে যদি ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি থাকে এবং আপনার ব্যবসা করার ইচ্ছা থেকে থাকে তাহলেই আপনি হার্ডওয়্যার ব্যবসা করতে পারবেন। সাধারণত হার্ডওয়ার ব্যবসা করতে গেলে আপনার আলাদা করে কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ডিগ্রির প্রয়োজন পড়বে না এই ব্যবসা করতে। তবে ন্যূনতম একটি ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য কিছু পড়াশোনা জানার অবশ্যই দরকার আছে। কারণ ব্যবসা পরিচালনা করার পাশাপাশি ব্যবসার হিসেব-নিকেশ করার মত ক্ষমতা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে আপনি সফল ব্যবসায়ী ও হতে পারবেন। আবার আপনি যদি কোন হার্ডওয়ার দোকানে আগে থেকে কাজ করে নিজে অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে থাকেন এবং হার্ডওয়ার দোকানে বিক্রি হওয়া প্রতিটা জিনিসের নাম ও কেনার ঠিকানা জেনে থাকেন তাহলেও আপনি অল্প পুঁজি দিয়ে এই ব্যবসা করতে পারেন।

দোকানের জায়গা নির্বাচন

একটি দোকান তৈরি করতে গেলে আপনাকে দেখতে হবে সেই দোকানটি তৈরি করার অবস্থান এবং মার্কেট চাহিদাকে। ব্যবসার আগে আপনাকে দেখতে হবে আশেপাশে কতটা দূরত্বের মধ্য দ্বিতীয় হার্ডওয়ারের দোকান রয়েছে। আপনার দোকানটি যেন সম্পূর্ণভাবে রাস্তার ধারে হয়ে থাকে যাতে পথ চলতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার দিকে নজর দিতে হবে।

হার্ডওয়ার দোকানের ডেকোরেশন কেমন হবে?

যেকোন দোকান তৈরি করতে গেলে দোকানের ডেকোরেশনের ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কারণ দোকান ডেকোরেশন এর ওপর নির্ভর করে বিক্রির পরিমাণ টা অনেকটাই। তাই আপনি যখন প্রথম একটি হার্ডওয়ার দোকান তৈরি করবেন তখন অবশ্যই আপনার দোকানটি ভালো করে সাজাতে হবে। তাই দোকানের সামনে একটি বড় আকারের দোকানের নামের নেমপ্লেট বা বোড লাগান। পথ চলতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য দোকানের বাইরে ফ্লেক্স লাগান এবং হার্ডওয়্যার জিনিসপত্রের ছবি সেই ফ্লেক্সে দিন।

দোকানের ভেতরে প্রতিটি দেয়ালে কাঠের রেক তৈরি করুন এবং প্রতিটি কাঠের রেকে বিভিন্ন হার্ডওয়ার জিনিসপত্র সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন। কাস্টমারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি একদম সামনে আপনি রাখতে পারেন যাতে কাস্টমার এসেই সর্বপ্রথম তার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি চোখের সামনে দেখতে পাই। দোকানের ভেতরে প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো লাইটের ব্যবস্থা করুন। আর দোকানের দেওয়ালের রং সর্বদা সাদা রাখার চেষ্টা করুন এতে কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে আপনার দোকানে থাকা প্রতিটা প্রোডাক্ট।

অবশ্যই পড়ুন- হ্যাচারি ব্যবসা করে 1 লাখ টাকা ইনকাম করুন

হার্ডওয়ার ব্যবসার আগে মার্কেট রিসার্চ করুন:

যেকোনো ব্যবসার আগে সেই ব্যবসা সংক্রান্ত মার্কেট রিসার্চ করা অত্যন্ত জরুরী একটি কাজ। তাই আপনি যখন প্রথম হার্ডওয়ার ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনাকেও মার্কেটে রিসার্চ করতে হবে এবং বুঝতে হবে ব্যবসা সম্পর্কে। মার্কেট রিসার্চ করার জন্য আপনি যে জিনিসগুলি অবশ্যই খেয়াল করবেন এবং জানার চেষ্টা করবেন তা হল-

  • আশেপাশে কতগুলি হার্ডওয়ার দোকান রয়েছে।
  • আপনার তৈরি করা দোকান থেকে সেই হার্ডওয়ার দোকানের দূরত্ব কত।
  • অন্য হার্ডওয়ার দোকানগুলি কি দামে জিনিসপত্র বিক্রি করে।
  • কাস্টমারের প্রয়োজনীয় হার্ডওয়ার সামগ্রিক কি কি।
  • যেখানে আপনি ব্যবসা করতে চাইছেন সেখানে কাস্টমারের চাহিদা কেমন রয়েছে।
  • অন্য কেনার পর কাস্টমার নিয়মিত টাকা প্রদান করে নাকি বাকি রেখে দেয়।
  • কোথা থেকে আপনি হার্ডওয়ার সামগ্রিক কিনবেন।
  • হার্ডওয়ার আপনার এলাকাতে কতজন রয়েছে এবং তাদের যোগাযোগ নাম্বার কি কি
  • কি পদ্ধতিতে আপনি ব্যবসা করলে আপনার হার্ডওয়ার ব্যবসা বাকি অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে আলাদাভাবে হবে এবং তাদের থেকে বেশি লাভ করতে পারবেন।

এই ধরনের বিভিন্ন জিনিস আপনাকে প্রথমে আপনার ব্যবসা শুরু করার আগে একটু মার্কেট রিসার্চ করে জেনে নিতে হবে। এই জিনিসগুলি জানার পর আপনি যখন হার্ডওয়ার ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনার ব্যবসা অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে অনেক আলাদা হবে। আর আপনি খুবই দ্রুততার সাথে আপনার ব্যবসা থেকে প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারবেন। তাই ব্যবসা শুরুর আগেই আপনি শুরু করে দিন মার্কেট রিসার্চ করা।

হার্ডওয়্যার পাইকারি মার্কেট কোথায় আছে?

হার্ডওয়্যারের জিনিসপত্র পাইকারি দামে কিনতে গেলে অবশ্যই আপনাকে একটি পাইকারি মার্কেটে যেতে হবে। আর যে কোন প্রোডাক্টটি অল্প দামে কেনার জন্য এক পাইকারি মার্কেট আর না হয় সরাসরি কোম্পানি থেকে কিনতে হয়, কিন্তু আপনি যেহেতু অল্প প্রোডাক্ট কিনে ব্যবসা শুরু করবেন তাই আপনি সরাসরি কোম্পানি থেকে কোন প্রোডাক্ট কিনতে পারবেন না। আপনার এলাকার ছোট ছোট পেরেক তৈরীর কোম্পানি বা ঘর মোছা তৈরীর কোম্পানি গুলির কাছ থেকে কিনতে পারলেও সব প্রোডাক্ট কিনতে আপনি পারবেন না কোম্পানি থেকে, তাই আপনাকে যেতে হবে বড় কোন পাইকারি মার্কেটে।


হার্ডওয়ারের পাইকারি বাজার হলো কলকাতার বড়বাজার ভারত এবং বাংলাদেশের অন্য সকল বাজারের থেকে অনেক কম দামে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়ার সামগ্রী পাইকারি দামে কিনতে পারবেন। তাই আপনার বাড়ি যদি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কাছাকাছি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি আসতে পারেন কলকাতার সব থেকে বড় পাইকারি মার্কেট এবং পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে বড় পাইকারি বাজার বড়বাজারে। এই বড়বাজার এলাকাতে একাধিক হার্ডওয়ার পাইকারি দোকান আপনি পেয়ে যাবেন যারা খুবই স্বল্প মূল্যে হার্ডওয়ার সামগ্রী বিক্রি করে থাকে।


আর যারা বাংলাদেশে থাকেন তারা চলে আসতে পারেন ঢাকার চকবাজার পাইকারি মার্কেটে। ঢাকার চকবাজার পাইকারি মার্কেট এ হার্ডওয়ার জিনিসপত্রের আলাদা একটি বড় মার্কেট রয়েছে যেখান থেকে আপনি হার্ডওয়ার সামগ্রী খুবই অল্প মূল্যে কিনতে পারবেন। এই চকবাজার পাইকারি মার্কেটে এমন অনেক হার্ডওয়ার জিনিসপত্র তৈরির কোম্পানির নিজস্ব দোকান আছে যাদের কাছ থেকে আপনি আবার সরাসরি বিভিন্ন প্রোডাক্ট কিনতে পারবেন। আবার যে সকল হার্ডওয়ার সামগ্রী পাইকারি মার্কেটে খুঁজে পাবেন না তা আপনি অনলাইন থেকেও কিনতে পারেন। বর্তমানে amazon, flipcart, ইন্ডিয়ামার্ট এর মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলি থেকে খুবই অল্প দামে সকল হার্ডওয়ার প্রোডাক্ট সহজ সরল দামে কেনা যায়।

হার্ডওয়ার স্টোর তৈরি করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

একটি হার্ডওয়ার স্টোর বা দোকান তৈরি করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে 10/10 ফুটের একটি ঘর বানাতে হবে। আর আপনি যদি এইরকম সাইজের একটি ঘর ভাড়া পেয়ে যান আপনার নির্বাচিত এলাকার মধ্যে তাহলে তা decorate করে সুন্দর করে সাজিয়ে ফেলুন একটি হার্ডওয়ারের দোকানের রূপে। তবে আপনি যদি 10/10 ফুটের থেকে বড় কিংবা ছোট জায়গার দোকান তৈরি করেন তাহলেও আপনি ব্যবসা বড় করে করতে পারবেন। তবে আপনার দোকানের আয়তন বেশি বড় হলে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী দোকানে রাখতে সুবিধা হবে।

আর একটি হার্ডওয়ার দোকানে বহু জিনিসপত্র থাকার কারণে দোকান ঘরটি বড় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই বেশি। তবুও আপনার কাছে যে পরিমাণ পুঁজি আছে একটি দোকান ঘর ভাড়া করার জন্য তা দিয়ে আপনি একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে নিন। আর ব্যবসার বিচক্ষণতার জোরে আপনার যে কোন আকারের দোকানকেই আরো বড় করে তুলুন।

আরো পড়ুন- সিমেন্টের ডিলারশিপ ব্যবসা

হার্ডওয়ারের দোকান ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়ে?

যেকোনো ব্যবসা করতে গেলেই প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসার জন্য একটা কিংবা একাধিক লাইসেন্স নিতে হয়। আপনিও যখন একটি হার্ডওয়ারের দোকান তৈরি করবেন তখন আপনাকে আপনার ব্যবসার জন্য কয়েকটা লাইসেন্স নিতে হবে। এই লাইসেন্স গুলি পাওয়ার জন্য আপনি আপনার এলাকার পঞ্চায়েত অফিস অথবা বিডিও অফিস কিংবা সরাসরি প্রতিটা লাইসেন্সের নির্বাচিত অফিসের যোগাযোগ করে নিতে পারেন। আবার আপনি চাইলে আপনার ব্যবসার প্রয়োজনীয় লাইসেন্সগুলি অনলাইনে এপ্লাই করেও পেতে পারেন। একটি হার্ডওয়ার ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গুলি হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • জি এস টি নাম্বার
  • ব্যাংক একাউন্ট
  • আয়কর রেজিস্ট্রেশন
  • নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ইত্যাদি

ব্যবসার জন্য ইন্সুরেন্স করা কতটা জরুরী

আপনি যখন একটি হার্ডওয়ারের দোকান তৈরি করবেন তখন অবশ্যই আপনার ব্যবসার জন্য একটি ইনসুরেন্স করে রাখতে হবে। যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে ইন্সুরেন্স থাকা সেই ব্যবসার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। প্রাকৃতিক কিংবা কৃত্রিম উপায়েও যদি আপনার ব্যবসার কোন ক্ষতি হয়ে যায় সেই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা অনেকটাই এই ইন্সুরেন্স এর মধ্য দিয়ে পেতে পারেন। তাই আপনি ব্যবসা করার কিছু পরেই আপনার ব্যবসার জন্য একটি ইন্সুরেন্স করে রাখুন বিভিন্ন ইন্সুরেন্স কোম্পানির মধ্য দিয়ে। ইন্সুরেন্সের পাশাপাশি হার্ডওয়ারের দোকানে বিভিন্ন দাহ্য প্রডাক্ট থাকার জন্য অবশ্যই আপনাকে অগ্নি নির্বাপক কিছু ব্যবস্থা রাখতে হবে। আপনার এলাকার বিভিন্ন বীমা কোম্পানি যারা দোকানের ইন্সুরেন্স করে থাকে তাদের সঙ্গে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে এবং আপনার দোকানের জন্য একটি ইন্সুরেন্স তৈরি করতে হবে।

hardware store
হার্ডওয়ারের দোকানে

কর্মচারী নির্বাচন করুন

আপনার এই হার্ডওয়ারের ব্যবসা একার পক্ষে শুরুর দিকে সম্ভব হলেও পরবর্তীকালে অনেক সমস্যা আসবে যা আপনি একা সমাধান করতে হিমশিম খেয়ে যাবেন। তাই আপনার ব্যবসা ভালো করে পরিচালনা করার জন্য একজন বা একাধিক কর্মচারী আপনার কে নিয়োগ করতে হবে।এই কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে আপনাকে দেখতে হবে সেই কর্মচারী যেন ভারি জিনিসপত্র তোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মুশকিল কাজ খুব সহজেই করার জন্য সক্ষম থাকে। আবার আপনার অবর্তমানে দোকান পরিচালনা করার মত তার যেন দক্ষতা থাকে। কর্মচারী যেন বিশ্বস্ত হয়ে থাকে এবং যার ওপর ভরসা করে আপনি দোকান ছেড়ে এক দুদিন সময় কাটাতে পারেন পরিবারের সাথে তাও দেখতে হবে। দোকানের আশা প্রতিটা কাস্টমারকে যাতে সাথে সাথে তাদের প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট গুলি তে সক্ষম থাকে এমন কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করুন 5 হাজার টাকায়

হার্ডওয়ারের দোকানের মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

আপনি যদি একটি হার্ডওয়ার দোকান তৈরি করেন তাহলে অবশ্যই সেই দোকানের মার্কেটিং আপনাকে যথেষ্ট ভালোভাবে করতে হবে। কারণ আপনিও জানেন যে এই ব্যবসার জনপ্রিয়তা কতটা বেশি হলে বেশি কাস্টমার দোকানে আসতে পারে। আবার একাধিক হার্ডওয়ারের দোকান আগে থেকে মার্কেটে থাকার কারণে নতুন দোকানের কাস্টমার সংখ্যা কম হতে পারে। তাই আপনার ব্যবসাতে আপনি যদি সঠিক উপায়ে ভালো করে মার্কেটিং করতে পারেন তাহলে খুবই দ্রুততার সাথে আপনার ব্যবসা অনেক বড় হবে এবং এই ব্যবসা থেকে অনেক টাকা আপনি উপার্জন করতে পারবেন। তাই যে পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতে পারেন তা হল-

  • ভালো ব্যবহার: দোকানে আসা প্রতিটি কাস্টমারের সাথে আপনাকে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং এই ভালো ব্যবহারের মধ্য দিয়েই তাদের মন জয় করতে হবে। প্রতিটি কাস্টমারের প্রয়োজনীয় প্রতিটি প্রোডাক্ট যেন আপনার কাছে পাই তারও ব্যবস্থা আপনাকে রাখতে হবে।
  • নির্দিষ্ট দাম: প্রতিটি প্রোডাক্টের একটি নির্দিষ্ট দাম আপনাকে রাখতে হবে। এই দাম যেন বাকি অন্য ব্যবসায়ীদের বিক্রি করা প্রোডাক্টের থেকে একটু কম হয় তার দিকেও নজর দিতে হবে। আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট দাম রেখে প্রোডাক্ট বিক্রি করেন এবং প্রতিটি প্রোডাক্টের ওপর অল্প ছার দেন তাহলে দ্রুততার সাথে আপনার ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে এবং খুবই জনপ্রিয়তা ও লাভ করবে।
  • ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন: একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন আপনার দোকানের নামে অথবা দোকান রিলেটেড প্রোডাক্ট এর নামে। ওয়েবসাইটে প্রতিদিন নিত্য নতুন হার্ডওয়ার সামগ্রী নিয়ে ব্লগ পোস্ট করতে পারেন কিংবা ছবি পোস্ট করতে পারেন। কিছু সময়ের মধ্য যখন আপনার ওয়েবসাইটটি মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করবে তখন আপনি আপনার এই ওয়েবসাইট থেকেও দ্রুততার সাথে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং আপনার দোকানের বিজ্ঞাপন সহজ ভাবে দিতে পারবেন।
  • সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার: ফেসবুক গুগল ইউটিউবের মধ্য দিয়ে অল্প টাকা বিনিয়োগ করে আপনি একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্য টার্গেট কাস্টমার ধরতে পারেন এবং তাদেরকে বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে প্রভাবিত করতে পারেন আপনার দোকানে আসার জন্য। তাই বর্তমানে ফেসবুক এবং ইউটিউবে যে সকল বিজ্ঞাপন দেখেন বিভিন্ন কোম্পানির দেয়া থাকে ঠিক সেই ধরনেরই বিজ্ঞাপন আপনিও দিতে পারেন আপনার ব্যবসার জন্য।
  • পোস্টার প্রচার: আপনি যে এলাকাতে ব্যবসা করছেন সেই এলাকার মধ্য বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় পোস্টার ছাপিয়ে আপনার দোকানের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আবার ফ্লেক্স চাপিয়ে জনবহুল মোড় গুলিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া যেতে পারে।

হার্ডওয়ারের ব্যবসা করতে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয়?

আপনি যদি একটি ছোট আকারের হার্ডওয়্যারের দোকান তৈরি করেন তাহলে আপনার খরচ হবে 2 লাখ টাকা থেকে 3 লক্ষ টাকার মত। তবে ছোট আকারের ব্যবসাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগটা ব্যবসার পরবর্তী সময়ে একটু বাড়াতে হবে। যেমন কিছু কিছু সময় আপনার ব্যবসাতে 5 লাখ টাকাও বিনিয়োগ করতে হতে পারে বিভিন্ন দামি কিছু প্রোডাক্ট কেনার জন্য।
আপনি যদি বড় আকারের হার্ডওয়ার দোকান তৈরি করেন সে ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে 5 লক্ষ টাকা থেকে 7 লক্ষ টাকার মত। বড় আকারের হার্ডওয়ার দোকানগুলিতে এক ধরনের জিনিস বহু কোম্পানির পাওয়া যায় এবং প্রচুর জিনিসপত্র থাকার কারণে বড় দোকানের বিনিয়োগটাও বেশি হয়ে থাকে। তাই আপনার কাছে যে পরিমাণ পুঁজি রয়েছে সেই রকম ভাবে আপনি ব্যবসাটি তৈরি করতে পারেন।

হার্ডওয়্যার ব্যবসায় লাভ কত?

একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে হার্ডওয়ার সামগ্রী বিক্রি হয়ে থাকে। তাই একটি ছোট হার্ডওয়ারের দোকানে প্রতিদিনের লাভের পরিমাণ 2 টাকা থেকে 3 হাজার টাকারও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ একটা ছোট হার্ডওয়ার দোকানের প্রতি মাসের ইনকাম 1 লক্ষ টাকা 1.5 হতে পারে। আবার বড় আকারের হার্ডওয়্যার দোকানগুলিতে প্রতি দিনের ইনকাম ছোট দোকানের থেকে দুই গুন কিংবা তিন গুণও বাড়তে পারে। তাই বলা যেতে পারে একটি বড় হার্ডওয়ার দোকানের মাসিক ইনকাম 1.5 লক্ষ টাকা থেকে 2 লক্ষ টাকা সাচ্ছন্দে হতে পারে। আপনি কি পদ্ধতিতে ব্যবসা করবেন এবং কোন এলাকাতে ব্যবসা করছেন তার ওপর নির্ভর করবে আপনার ব্যবসার লাভের পরিমাণটা

FAQ. :

হার্ডওয়ারের দোকান করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: হার্ডওয়ার দোকান করতে 2 লাখ টাকা থেকে 5 লাখ টাকার প্রয়োজন পড়ে।

হার্ডওয়ার দোকান কোথায় করা যায়?

উত্তর: গ্রাম কিংবা শহরের যে কোন বাজার এলাকাতে রাস্তার ধারে হার্ডওয়ার দোকান করা যায়।

হার্ডওয়ার এর দোকান করতে কত বড় জায়গা লাগে?

উত্তর: 10/10 ফুট জায়গা প্রয়োজন পড়ে।

হার্ডওয়ার পাইকারি মার্কেট কি কি?

উত্তর: কলকাতার বড়বাজার পাইকারি মার্কেট ও ঢাকার চকবাজার পাইকারি মার্কেট।

হার্ডওয়্যার ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: 50 হাজার টাকা থেকে 1.5 লাখ টাকা হার্ডওয়্যার ব্যবসায় মাসিক লাভ

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করুন

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করুন মাত্র 10 হাজার টাকায়

Leave a Comment