হস্তশিল্পের ব্যবসা করে প্রতিমাসে 50000 টাকার আয় করুন | Became a successful businessman by doing handicraft business

হস্তশিল্পের ব্যবসা এখনকার দিনে এক চলনশীল ব্যবসার উদাহরণ। গ্রাম থেকে শহরের বহু মানুষের বর্তমানের জীবিকা হস্তশিল্প ব্যবসা। হাজারে হাজারে মানুষ যেমন হস্তশিল্পের ব্যবসা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে ঘর সংসার চালাচ্ছেন, তেমন আবার অনেকেই শখের হস্তশিল্প ব্যবসা করছেন। হস্তশিল্পের তৈরি জিনিস গুলি আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের ঘর সাজানোর জন্য প্রথম পছন্দ করে থাকি। তাই জন্য আস্তে আস্তে হলেও বর্তমান সময়ে হস্তশিল্প ব্যবসা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে। আপনি যদি হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কিছু হস্তশিল্প শিখতে হবে বা জানতে হবে। আর আপনি যদি কোনরকম হস্তশিল্পের কাজ জেনে থাকেন তাহলে এখনি শুরু করুন হস্তশিল্পের ব্যবসা।

হস্তশিল্পের ব্যবসার সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হচ্ছে এই ব্যবসা করতে খুব বেশি প্রয়োজন পড়েনা, আর প্রচুর বড় জায়গার দরকার পড়ে না। তবে এখনকার দিনে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবসার আইডিয়া গুলির মধ্যে হস্তশিল্পের ব্যবসা অন্যতম। হস্তশিল্পের ব্যবসা আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে করলে আর কি সফলতা পাবেন তা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দেওয়া হল।

handicraft business
হস্তশিল্পের ব্যবসা

Table of Contents

হস্তশিল্প কত ধরনের হয়ে থাকে? (How many types of handicrafts are there?)

হস্তশিল্প বহু ধরনের হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে ব্যবহৃত প্রতিটা জিনিসই হস্তশিল্পের মধ্য দিয়ে সুন্দর থেকে সুন্দরতর হয়ে উঠছে। তবুও হস্তশিল্প সাধারণত যে সকল জিনিস গুলোর উপরে হয়ে থাকে সেগুলি হল-

  1. কাঠের খেলনা
  2. মাটির প্রদীপ
  3. মাটির ফলমূল তৈরি
  4. মাটির প্রতিমা তৈরি
  5. কাঠের বাঁশি
  6. বাঁশের বাঁশি
  7. শাঁখা তৈরি ও ডিজাইন করা
  8. স্যান্ডেল তৈরি
  9. বেলন চাকি তৈরি
  10. গামছা ও শাড়ি তৈরি
  11. উল এর হাতে বোনা সোয়েটার
  12. একতারা, ডুগডুগি, কাঠের তবলা বানানো।
  13. কাঠের ধূপদানি বানানো
  14. কাঠের বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি
  15. ছোট বড় হাতব্যাগ বানানো
  16. শাড়িতে নকশা করা
  17. নকশি কাঁথা তৈরি
  18. হাতে তৈরি ফটো ফ্রেম
  19. জরির শাড়ি তৈরি
  20. শাড়িতে পাথর বসানো এবং ডিজাইন করা
  21. বেতের বোনা টুল, চেয়ার এবং ঘরের আসবাবপত্র বানানো
  22. লাইট ল্যাম্প তৈরি
  23. ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে ছোট ছোট নতুন জিনিস তৈরি
  24. পেন তৈরি করা
  25. মাশরুম চাষ
  26. কাগজের কাপ প্লেট বানানো
  27. শোনপাপড়ি তৈরি
  28. পাপড় তৈরি
  29. চুলের ক্লিপ ও সাজার জিনিস তৈরি করা
  30. পোড়া মাটির জিনিসপত্র তৈরি করা
  31. বিবাহ ও অন্যান্য কাজের জন্য তত্ত্ব প্লেট বানানো
  32. পাটের তৈরি বিভিন্ন জিনিস
  33. কাগজ দিয়ে বিভিন্ন ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি ইত্যাদি।।

এই রকম আরো বহু ধরনের জিনিসপত্র রয়েছে যা হস্তশিল্পের মধ্য পড়ে। আপনি চাইলে এই সব জিনিস গুলির মধ্য যে জিনিসটা আপনি পারেন করতে অথবা আপনি করতে চান সেই জিনিসটাকে নিয়ে আপনি ব্যবসা করতে পারেন। হস্তশিল্পের ব্যবসা করার জন্য কোন আহামরি জিনিস শেখার বা বোঝার প্রয়োজন পড়ে না। হস্তশিল্প সম্পর্কে যদি অল্প জ্ঞান থেকে থাকে তাহলে যে কোন মানুষ হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে পারে।

হস্ত শিল্প কাকে বলে? (What is handicraft?)

হস্তশিল্প বলতে প্রধানত যে সকল জিনিস মানুষ নিজে হাতে গড়েন, যে সকল জিনিস বানানোর মধ্য দিয়ে শিল্পকলার উন্নতি সাধন করেন সেই সব ছোট ছোট শিল্পকলাকে একত্রিত হস্তশিল্প বলা হয়। বর্তমানে একটা মানুষের হাতে তৈরি করা জিনিস হস্তশিল্পের মধ্য পড়ে। হাতে তৈরি করার জিনিসের মধ্যে বহু ধরনের জিনিস পড়ে এবং সেই সমস্ত জিনিসকেই হস্তশিল্প বলা হয়।

হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ হয়?

হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে হলে আপনাকে বেশি পুঁজি খরচা করতে হবে না। একটা হস্তশিল্পের জিনিস বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল গুলি কিনতে ন্যূনতম যত টাকা খরচ হবে সেই টাকাটাই আপনার সমস্ত হস্তশিল্প জিনিস গুলি বানানোর জন্য খরচ হবে। অর্থাৎ বলা যেতে পারে আপনি যদি পাটের তৈরি পুতুল বানাতে চান তাহলে কাঁচামাল হিসেবে শুধুমাত্র পাট আপনাকে কিনতে হবে। তারপর তার দিকে কোন পুতুল বানানোর পর সেটি যখন আপনি বিক্রি করবেন তাতে আপনি আপনার পারিশ্রমিক ধরে নিয়ে বিক্রি করবেন। হলে বলা যেতে পারে হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে কাঁচামাল বাদ দিয়ে আলাদা করে কোনো টাকা খরচ হয় না। তবে হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে হলে পরিশ্রম ছাড়া সফলতা পাওয়া যায় না।

তবুও আপনার কাছে যদি 5 হাজার টাকা থেকে থাকে আপনি সেই পাঁচ হাজার টাকা দিয়েও হস্তশিল্পের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আবার 50 হাজার টাকা নিয়েও হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে পারেন। আপনি কি ধরনের হস্তশিল্প করতে চাইছেন তার ওপর নির্ভর করবে টাকার পরিমাণটা। কেউ যদি বলে সে চন্দন কাঠের উপরে বিভিন্ন ডিজাইন করে বা পুতুল বানিয়ে হস্তশিল্পের কাজ শুরু করবে তাহলে তো খরচ অনেক হবে। হলে আপনি কি ধরনের হস্তশিল্প শুরু করতে চাইছেন তার ওপরে সম্পূর্ণ নির্ভর করবে খরচের টাকার পরিমাণটা।

হস্ত শিল্পের কাঁচামাল কোথায় পাওয়া যায়?

হস্ত শিল্পের কাঁচামাল আপনি আপনার নিকটবর্তী বাজার থেকে অথবা গ্রামাঞ্চলের বাজারে আপনি পেয়ে যাবেন। হস্তশিল্প করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেগুলো লেগে থাকে সেগুলো হলো, কাঠ, মাটি, পাঠ, কাপড়, কাগজ ইত্যাদি। এইসব কাঁচামাল গুলি আপনি আপনার নিকটবর্তী যেকোনো বাজার থেকে আপনি পেয়ে যেতে পারেন। তার পরেও যদি আপনার মনে হয় যে আপনি বেশি বেশি কাঁচামাল কিনবেন হোলসেল রেটে তাহলে অবশ্যই আপনাকে বড় কোন বাজার বা হোলসেল বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

হস্তশিল্পের ব্যবসা প্রধানত গ্রামাঞ্চলের মানুষেরাই করে থাকে। তাই গ্রামাঞ্চলের মানুষদের জন্য হস্ত শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়না। কারণ তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল গুলি তারা তাদের গ্রাম বা আশপাশের গ্রামাঞ্চল থেকেই সংগ্রহ করতে পারেন।

হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে কি কি মেশিন লাগে?

হস্তশিল্প ব্যবসা করতে প্রয়োজনীয় যেসব মেশিন গুলি লাগে সেগুলি হল-

  • ছেনি
  • হাতুড়ি
  • করাত
  • প্লেট
  • সুচ-সুতো
  • ছুরি-কাঁচি
  • এছাড়া বিভিন্ন ছোট ছোট কিছু মেশিন

প্রয়োজনীয় মেশিন গুলি বা জিনিসপত্রগুলি আপনি যেকোন লোকাল বাজার থেকে কিনতে পারবেন।

সেরা 20 টি হস্তশিল্পের ব্যবসা (Top 20 Handicraft Businesses)

হস্তশিল্পের ব্যবসার মধ্যে বহু হস্তশিল্প থাকলেও সেরা কিছু হস্তশিল্প নিয়ে আজ আলোচনা করা হলো। এইসব হস্তশিল্প ব্যবসা গুলি আপনার এলাকায় আপনার সামনে অনেকে করলেও আপনি নিজে কখনো করার জন্য ভাবেন নি। তাই জন্য সেরা কিছু হস্তশিল্প ব্যবসা নিয়ে আজ আলোচনা করা হলো।

পুতুল তৈরির ব্যবসা

বর্তমানে ছোট বাচ্চা থেকে বড় অনেকেরই পুতুলের সবথেকে থাকে। তাই আপনি যদি পুতুল তৈরি করতে পারেন সে যে কোন পদ্ধতিতে, অর্থাৎ আপনি মাটি দিয়ে পুতুল তৈরি করতে পারেন, অথবা কাট দিয়ে পুতুল তৈরি করতে পারেন, কিংবা পাট দিয়ে পুতুল তৈরি করতে পারেন, তাহলে আপনি পুতুল তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
পুতুল তৈরির ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল গুলি সংগ্রহ করে আপনি পুতুল বানাতে পারেন।
তবে বাজারে বেশি পরিমাণে পুতুল বিক্রি হতে পারে পাট এবং কাঠের বানানো পুতুল গুলি।

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা

গ্রাম থেকে বহু পরিবার যাদের প্রধান জীবিকা পাপড় তৈরি, তারা শুধুমাত্র পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করেই সংসার চালাচ্ছেন। আপনিও চাইলে পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করে অনেকের রোজগারের পথ তৈরি করতে পারেন। আপনাকে নিজেকে পাঁপড় না তৈরি করেও অন্য পাপড় তৈরি করা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাঁপড় কিনে মার্কেটে বিক্রি করেও ব্যবসা করতে পারেন। বর্তমানে আমাদের প্রত্যেকের খাবার মেন্যুতে পাঁপড় এর অবস্থান থেকেই যাই। তাই আপনি যদি পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনি লাভবান হবেন।

হার ও চুড়ি তৈরির ব্যবসা

এখন অনেক ছেলে মেয়ে রয়েছে যারা পড়াশোনার সাথে সাথে বিভিন্ন জিনিস বানাতে পছন্দ করে। তারমধ্য অনেক মেয়ে আছে যারা তাদের প্রয়োজনীয় গলার হার-চুরি প্রভৃতি জিনিস গুলি তৈরি করতে পারেন অপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিস দিয়ে।

হার-চুরি এমন একটি জিনিস যা বহু প্রাচীন সময় থেকে মেয়েদের অলংকার হিসেবে চলে আসছে। তাই এই ব্যবসাতেও কখনো লস হয় না। প্রতিটা মেয়েই প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন তাদের প্রয়োজনীয় গলার হার, হাতের চুড়ি কিনতে পছন্দ করে। তাই আপনি যদি বিভিন্ন পাথর, গাছের ডাল, সুতো এইসব ছোট ছোট কিছু জিনিস দিয়ে হাতে তৈরি হার চুরির ব্যবসা করেন তাহলে আপনি অনেক বড় ব্যবসায়ী হতে পারবেন।
শুধু দেশে নয় দেশের বাইরেও ও এই ব্যবসা করে আপনি রপ্তানি করতে পারবেন এবং ব্যবসায় উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাবে ।

অবশ্যই পড়ুন- মহিলাদের জন্য ঘরে বসে ব্যবসা করার সেরা ১৩ টি আইডিয়া

কাঠের সরঞ্জাম তৈরির ব্যবসা

বর্তমানে দিনে দিনে কাঠের তৈরি জিনিসের চাহিদা অনেক বাড়ছে, এবং চাহিদা বাড়লেও জিনিসপত্র উৎপাদন অনেক কম হওয়ার জন্য দাম অনেক বেশি বেশি হয়ে থাকছে। আপনি যদি কাঠের কাজ জেনে থাকেন এবং কার্ড দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতে পছন্দ করেন তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য কাঠের সরঞ্জাম তৈরির ব্যবসা অন্যতম।

কাঠের সরঞ্জাম বলতে ছোট ছোট মুখোশ, পুতুল, ফটো ফ্রেম, ঘর সাজানোর বিভিন্ন জিনিসপত্র হয়ে থাকে। আপনি চাইলে প্রতিটা জিনিস তৈরি করে মার্কেটে যে কোন দোকানে আপনি বিক্রি করতে পারেন। অথবা আপনি চাইলে নিজে কোন একটি মার্কেটের দোকান করে এইসব জিনিস গুলি তৈরি করে ব্যবসা করলে অনেক দ্রুত আপনার নাম বাড়বে এবং ব্যবসার উন্নতি ঘটবে। আবার কাঠের তৈরি প্রতিটা জিনিসই আপনি অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। আবার বিদেশেও রপ্তানী করতে পারেন। তাই বলা যেতে পারে কাঠের সরঞ্জাম তৈরির ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা একজন ব্যবসায়ীকে প্রচুর অর্থ এনে দিতে সাহায্য করে। হস্তশিল্পের ব্যবসার মধ্যে কাঠের জিনিসপত্র তৈরি ব্যবসা অন্যতম।

প্লাস্টিকের ফুল তৈরি

এখনকার বাজারে সত্তিকারের ফুলের পাশাপাশি প্লাস্টিকের ফুল বাজার জুড়ে রয়েছে। হস্তশিল্পের ব্যবসা গুলির মধ্যে আপনিও যদি এই প্লাস্টিকের ফুল তৈরির ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনি অনেক লাভবান হতে পারবেন। ঘর সাজানোর জন্য মানুষ নিত্যনতুন ফুল পছন্দ করে। কিন্তু সত্যি কারের ফুল প্রতিদিনের প্রতিদিনই নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য কেনার ক্ষমতাও হারিয়ে যায় মানুষের। তাই বাজারে পাওয়া প্লাস্টিকের ফুল দিয়ে তারা ঘর সাজাতে এখন বেশি পছন্দ করছে। তাই প্লাস্টিক দিয়ে ছোট ছোট বিভিন্ন ধরনের ফুল তৈরি করে আপনি যদি বাজারে বিক্রি করেন তাহলে এই ব্যবসায় আপনার কোনদিনও মন্দা চলবে না। অর্থাৎ প্লাস্টিকের ফুল তৈরির ব্যবসা করে আপনার সারা বছরের সংসার চালানো ছাড়াও ব্যাংকে জমানোর মত টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

নকশী কাঁথার ব্যবসা

গ্রাম বাংলার পুরানো দিন থেকে নকশি কাঁথা বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। এখনো পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রামের মহিলারা এবং বাংলাদেশের অনেক মহিলারা যাদের প্রধান ব্যবসা হিসেবে নকশি কাঁথা তৈরি করে থাকেন। বাড়ির মহিলারা যারা কাঁথা তৈরি করতে পারেন তারা সকলেই যে নকশি কাঁথা বানাতে পারবেন এমনটা নয়। নকশি কাঁথা বানানোর জন্য নকশি কাঁথা বানানোর শিল্পীর কাছ থেকে শিখতে হয়।

হস্তশিল্পের ব্যবসার মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম একটি ব্যবসার উদাহরণ হল নকশী কাঁথার ব্যবসা। নকশী কাঁথার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে গ্রাম বাংলার সমাজের চিত্র। ভারত সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ও সংগ্রহশালাতে আজও দেখতে পাওয়া যায় সেই পুরনো দিনের নকশি কাঁথা গুলোকে। বর্তমান সময়ের নকশি কাঁথা তৈরি করে অনেক লাভবান হচ্ছেন নকশি কাঁথা শিল্পীরা। আপনি যদি নিজে নকশী কাঁথা না বানাতে পারেন তাহলেও আপনি নকশি কাঁথা বানানোর শিল্পীর কাছ থেকে নকশি কাঁথা বানিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারেন।

পাপোশ বা কার্পেট তৈরির ব্যবসা

প্রতিটি ঘরেই পাপোশ থাকে। আবার প্রতিটা ধনী গরিব পরিবারের মধ্যেই পাপোশ বা কার্পেট নিত্যনতুন ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। আপনি যদি পাপোশ তৈরি করতে পারেন তাহলে অবশ্যই পাপোশ তৈরির ব্যবসা আপনার জন্য অন্যতম।
নারকেল দড়ি দিয়ে অথবা পাটের দড়ি দিয়ে পাপোশ বাজারে বিক্রি হয়। আপনি যদি এই নারকেল দড়ি দিয়ে বা পাটের দড়ি দিয়ে পাপোশ বা কার্পেট বানাতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি এই ব্যবসা করতে পারেন। আপনাকে প্রতিদিন পাপোশ বা কার্পেট বানানোর পরে সেই পাপোশ গুলি বাজারের দোকানে দোকানে বিক্রি করে আসতে হবে। অথবা আপনি বানাচ্ছেন অন্য কারোর জন্য তিনি আপনার কাছ থেকে প্রতিদিনের প্রতিদিন পাপোশ গুলি কিনে বাজারে বিক্রি করবেন।

মাটির তৈরি ফলমূল

বাজারে মেলায় বিক্রি হওয়া মাটির তৈরি হল তরিতরকারি গুলি শিশুদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় একটা জিনিস। আর মাটির তৈরি এই সব জিনিসপত্র গুলিকে হস্তশিল্পের ব্যবসার মধ্যে অন্যতম হিসেবে মানা হয়। আমরাও যখন ছোট ছিলাম প্রত্যেকে আমরা কমবেশি দেখে থেকেছি মাটির তৈরি এইসব ফল, তরিতরকারি কে। আপনি যদি মাটির তৈরি ফল কিংবা তরিতরকারি বানাতে পারেন তাহলে সেগুলি বানিয়ে রং করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। আবার অনলাইনেও এই সমস্ত জিনিস গুলি কে আপনি বিক্রি করতে পারেন।

Top 20 handicraft businesses
সেরা 20 টি হস্তশিল্পের ব্যবসা

পোড়ামাটির তৈরি জিনিসপত্র

যদিও কৃষ্ণনগর পোড়া মাটির জিনিস পত্রের জন্য বিখ্যাত তবুও পোড়া মাটির জিনিস আপনি আপনার এলাকায় বানাতে পারেন। পোড়ামাটির তৈরি জিনিসপত্র শুধু ভারত নয় পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে দেশে দেশে মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। তাই এত ব্যাপক হারে চাহিদা থাকার জন্য পোড়া মাটির জিনিস পত্রের ব্যবসা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনিও চাইলে পোড়া মাটির জিনিস পত্রের ব্যবসা করে অনেক লাভবান হতে পারেন। পোড়া মাটির জিনিস পত্রের মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম হলো বিভিন্ন পোড়ামাটির তৈরি পুতুল, ঘর সাজানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম, মাটির তৈরি মুখোশ ইত্যাদি।

ঠাকুরের ছাঁচ তৈরির ব্যবসা

ভারত-বাংলাদেশ বছরের বারোটা মাসের বেশিরভাগ মাসে ঠাকুর পূজা হয়ে থাকে। আর সেইসব ঠাকুর তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ছাঁচের প্রয়োজন পড়ে। আপনি যদি সেই সব ঠাকুরের ছাঁচ তৈরির ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনি অনেক বেশি পরিমাণে লাভবান হবেন এই ব্যবসাতে। ঠাকুরের ছাঁচ তৈরি করার জন্য আপনার কাঁচামাল হিসেবে লাগবে এরারুট, কাপড়, কাগজ, প্লাস্টার অফ প্যারিস, মাটি প্রভৃতি।

এইসব জিনিস দিয়ে আপনি একটি ছাঁচ বানাতে পারেন যা দিয়ে একজন ব্যবসায়ী দ্রুত ঠাকুর তৈরি করতে পারবে। আপনি যদি ঠাকুরের ছাঁচ এর ব্যবসা করেন তাহলে আপনি সেই ছাঁচ বানানোর পরে যেকোনো পদক্ষেপ বিক্রি করতে পারবেন। অথবা আপনি চাইলে যেকোন দশকর্মা ব্যবসায়ীকে বিক্রি করতে পারবেন। আবার আপনি চাইলে ঠাকুরের ছাঁচ বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন, যাতে অনেক জায়গার মানুষ এইসব ছাঁচ কিনে ঘরেতেই ঠাকুর বানাতে পারেন।

ঠাকুর দেবতার প্রতিমা তৈরি

ভারতসহ বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষই ঠাকুর দেবতার প্রতিমা সম্পর্কে কম-বেশি জানেন। আপনি যদি ঠাকুর দেবতার প্রতিমা বানাতে পারেন তাহলে আপনি এখনই শুরু করুন ঠাকুর দেবতার প্রতিমা বানানোর কাজ। এই কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে পেশাদার পোটর কাছে গিয়ে ঠাকুর বানানো শিখতে হবে। একটা ঠাকুর বানাতে একজন পটোর খরচ হয় যে টাকা তার তিনগুণ দামে বিক্রি করেন সেই ঠাকুর টি। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন ঠাকুর-দেবতা বানানোর ব্যবসা কতটা লাভজনক একটি ব্যবসা। হস্তশিল্পের ব্যবসার মধ্যে অন্যতম প্রতিমা বানানোর ব্যবসা।

কথায় আছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই তেরো পার্বণে এক একটা আলাদা আলাদা ঠাকুরের প্রতিমা নিয়ে পূজা করার প্রবণতা রয়েছে মানুষের মধ্য। তাই ঠাকুর দেবতার প্রতিমা তৈরির কারিগররা এই ব্যবসা করে ব্যাপক পরিমাণে লাভবান হন। আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন সেই প্রান্তে যদি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন তাহলে দেখবেন ভারতীয় এবং বাংলাদেশি মানুষজনদের কাছ থেকে অনেক বেশি বেশি অর্ডার পাবেন এবং ঠাকুর প্রতিমা বিক্রি হয়ে যাবে। হলে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা গুলির মধ্য ঠাকুর দেবতার প্রতিমা বানানোর ব্যবসা অন্যতম।

চটের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা

চটের ব্যাগ সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চাহিদার মার্কেটে অনেক বেশি। কিন্তু দিনে দিনে চটের যোগান কম হওয়ার জন্য অনেক চটের কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আপনি যোদি চট দিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন চটের ব্যাগ বানাতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি চটের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা করতে পারেন। হস্তশিল্পের ব্যবসা গুলির মধ্য চটের জিনিসপত্রের ব্যবসা অন্যতম।

চটের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হিসেবে শুধুমাত্র আপনার পাট লাগবে। পাট দিয়ে চটের দড়ি বানিয়ে তা দিয়ে ব্যাগ বানাতে হয়। চটের ব্যাগ বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে বর্তমান সময়ে। কলেজছাত্র থেকে শুরু করে বাংলার বুদ্ধিজীবি মহল এ চটের ব্যাগ এর প্রচলন ব্যাপকহারে দেখা যাচ্ছে। তাই চটের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা আপনাকে সফলতা এনে দেবে।

আরো পড়ুন- অল্প পুজিতে ওষুধের ব্যবসা

বড়ি তৈরির ব্যবসা

মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে ঝোল থেকে থাকে, সেই ঝোলে ব্যবহৃত বড়ি নিয়ে ব্যবসা করলে আপনি লাভবান হতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের এমন কিছু কিছু গ্রাম রয়েছে যা শুধুমাত্র বড়ি গ্রাম হিসেবে পরিচিত। আসলে এইসব গ্রামের মানুষদের প্রধান জীবিকা বড়ি তৈরি করা। বিভিন্ন রকমের ডাল দিয়ে প্রস্তুত করা হয় বড়ি।

বড়ি প্রস্তুত হয়ে গেলে সেই বড়ি গুলিকে ওজন অনুযায়ী প্যাকেজিং করে মার্কেটে বিক্রি করা যায়। ছোট মুদিখানা দোকান থেকে বড় শপিং মল পর্যন্ত প্রতিটা জায়গাতেই ডালের বড়ি বিক্রি হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি বড়ি তৈরির ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনি ব্যাপকহারে মার্কেট পেয়ে যাবেন বড়িগুলি বিক্রি করার জন্য।

ফুলদানি তৈরির ব্যবসা

ফুলের সাথে সাথে মানুষের ঘর সাজানোর জন্য ফুলদানি কেনার ওপর আকর্ষণও অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়। আপনি যদি মাটি দিয়ে পোড়া মাটির ফুলদানি বানাতে পারেন অথবা কাট দিয়ে ফুলদানি বানাতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি ফুলদানি বানানোর ব্যবসা বা ফুলদানি ব্যবসা করতে পারেন। স্টেশনারি দোকান থেকে মেলা, বাজার সমস্ত জায়গাতেই ফুলদানি বিক্রি হয়ে থাকে। ফুলদানি তৈরির ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা একজন ব্যবসায়ীকে সকল ব্যবসায়ী করে তোলে। আর হস্তশিল্পের ব্যবসা গুলির মধ্য পোড়ামাটির তৈরি ফুলদানি অন্যতম। ফুলদানি তৈরি হয়ে গেলে আপনি চাইলে মার্কেট এর সাথে সাথে অনলাইনে ও বিক্রি করে ব্যাপক মুনাফা কামাতে পারে।

মুখরোচক খাবার তৈরির ব্যবসা

আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা মুখরোচক খাবার তৈরি একটি হস্তশিল্পের ব্যবসার মধ্যে পড়ে। প্রতিটা মানুষেরই মুখরোচক খাবার খেতে ভীষণ পছন্দ করেন। মুখরোচক খাবার বলতে আমরা সাধারণত চানাচুর, ঝুরি ভাজা, চিঁরে ভাজা, ডাল ভাজা প্রভৃতি খাবারগুলি কে চিনে থাকি। আপনি যদি মুখরোচক খাবার তৈরির ব্যবসা করেন তাহলে আপনি একটি বাজারের দোকান করতে পারেন যেখানে আপনি এইসব মুখরোচক খাবার গুলি তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন। মুখরোচক খাবার গুলি খুব দ্রুত মানুষ কিনে, ফলে প্রতিদিনের তৈরি প্রতিদিন খাবার গুলি আপনার বিক্রি হয়ে যাবে, ফলে ব্যবসাতে কোন লস থাকবে না। আর মুখরোচক খাবার তৈরীর ব্যবসাতে অল্প পুঁজি লাগিয়ে এই ব্যবসা করা যায়। এই ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হিসেবে আপনার শুধুমাত্র ময়দা, ডাল, তেল, বিভিন্ন ধরনের মসলা প্রয়োজন।

পাটের পুতুল তৈরির ব্যবসা

পাটের তৈরি পুতুল ছোট বাচ্চা থেকে বড় মানুষদের সবারই খুব পছন্দের। আপনি যদি পাটের পুতুল তৈরির ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনি একজন সফল পাটের পুতুল ব্যবসায়ী হতে পারবেন। পাট দেখতে না ভালো হলেও পাটের তৈরি পুতুল যেমন অসাধারণ হয়ে থাকে যেমন মানুষের মন কেড়ে নেওয়ার জন্য তার সৌন্দর্য ই যথেষ্ট।

মেলা থেকে বিভিন্ন স্টেশনারি দোকান প্রত্যেকটা জায়গাতেই বর্তমানে খুজিলে একটা-না-একটা পাটের তৈরি পুতুল আপনি পেয়ে যাবেন। পাটের তৈরি পুতুল করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হিসেবে আপনার পাট লাগবে, সুতো লাগবে, এবং বিভিন্ন ধরনের কালার লাগবে। যদিও বর্তমান সময়ে পাটের তৈরি পুতুল বাজারে কম দেখা যায় কারণ পাটের তৈরি পুতুল গড়ার কারিগর এর সংখ্যা কম হয়ে গেছে। তাই জন্য আপনি যদি পাটের তৈরি পুতুলের ব্যবসা করেন অবশ্যই আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হবে।

শঙ্খের সৌখিন জিনিস পত্রের ব্যবসা

শঙ্খ দেখতে অসাধারণ হয়ে থাকে। আর শঙ্খ দিয়ে বানানো প্রতিটি জিনিসই মানুষের মন কেড়ে নেয়। শঙ্খ দিয়ে বানানো বিভিন্ন সৌখিন জিনিস যার মধ্য মহিলাদের হাতের শাঁখা, আঙ্গুলের আংটি, কানের দুল পরে। মহিলাদের হাতের শাঁখা গুলি খুব সুন্দর কারুকার্যের সাথে হয়ে থাকার জন্য প্রতিটা বাঙালি ছেলের মন কেড়ে নেয় । আপনি যদি শঙ্খ দিয়ে বানাতে পারেন এই সব সৌখিন জিনিস গুলি তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য সবচেয়ে আদর্শ তম ব্যবসা হচ্ছে শঙ্খের সৌখিন জিনিস পত্রের ব্যবসা।

হস্তশিল্পের ব্যবসা গুলির মধ্য সুন্দর হস্তশিল্প দেখা যায় শঙ্খের তৈরি জিনিসপত্র গুলির মধ্য। বর্তমানে শঙ্খের তৈরি জিনিসপত্র বাজারে যেমন রমরমিয়ে ব্যবসা করছে এমন ভবিষ্যতেও এই ব্যবসা কোনদিনও ঘাটতি দেখা যাবে না। তাই অবশ্যই শঙ্খের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে ব্যবসা, বা শঙ্খের সৌখিন জিনিসপত্র বানানোর ব্যবসা আপনার জন্য লাভজনক ব্যবসা হবে।

সোনার জুয়েলারি ব্যবসা

সোনার তৈরি জিনিসপত্র প্রতিটা মেয়ের মনের অন্তরের জিনিস যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আপনি যদি এইসব স্বর্ণালঙ্কার তৈরি করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি একজন স্বর্ণের জুয়েলারি ব্যবসায়ী হতে পারেন। সোনার জুয়েলারি ব্যবসা করার জন্য যদিও একটু বেশি পরিমাণে পুঁজি দরকার হয়। তেমন এই ব্যবসাতে ও লাভের পরিমাণ অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। স্বর্ণালঙ্কার তৈরির কারিগরিবিদ্যা এতটাই সুন্দর হয় যে স্বর্ণালঙ্কার তৈরির কারিগররা সুন্দর সুন্দর হস্ত শিল্পের মাধ্যমে সোনার জিনিস পত্রের উপর অসাধারণ কারিগরি করেন।

মহিলারা সেইসব সোনার জুয়েলারি দেখে কেনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় সোনার জুয়েলারি এলাকা হচ্ছে কলকাতার বউবাজার স্বর্ণ গলি। আপনি যদি সোনার জিনিসপত্র তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি যেকোন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে কাজ করতে পারেন। সোনার জুয়েলারি ব্যবসা এতটাই লাভজনক ব্যবসা যে যা কোনদিনও ক্ষতির সম্মুখিন হয় না। হলে একজন সোনার ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে পারেন যুগ যুগ ধরে।

পেন্সিল বাক্স বানানোর ব্যবসা

ছোট বাচ্চা থেকে বড় মানুষেরই প্রত্যেকের পেন পেন্সিল রাখার জন্য একটা বাক্স প্রয়োজন হয়। আপনি যদি কাঠ দিয়ে বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর পেন্সিল বাক্স বানাতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি পেন্সিল বাক্স ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কাঠের উপর সুন্দর সুন্দর আলপনা তৈরি করে সেই কাঠ দিয়ে পেন্সিল বাক্স বানিয়ে বাজারে আপনি বিক্রি করতে পারেন। ছোট বাচ্চাদের একাধিক পেন্সিল বাক্স পছন্দ তাই বাজারে যদি এইরকম সুন্দর সুন্দর ডিজাইন করা কাঠের পেন্সিল বাক্স পাওয়া যায় তাহলে প্রতিটা বাবা-মা তার সন্তানকে কাঠের পেন্সিল বক্স কিনে দেবে কারণ কাঠের পেন্সিল বক্স অনেক বেশি সময় ধরে চলবে প্লাস্টিকের তৈরি পেন্সিল বক্স এর থেকে। কাঠের ওপরে সুন্দর হস্ত শিল্পের জন্য কাঠের তৈরি পেন্সিল বক্স হস্তশিল্পের ব্যবসার মধ্যে অন্যতম একটি ব্যবসা হিসেবে পরিচিত।

Handicraft business
হস্তশিল্প ব্যবসা

মসলার গুঁড়ো তৈরীর ব্যবসা

রান্নার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকমের মসলার গুঁড়ো নিয়ে আপনি যদি ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারেন। মেশিনে তৈরি মসলার থেকে এখনকার দিনের মানুষেরা তাদের শরীর ভালো রাখার জন্য ঘরে তৈরি মসলার গুঁড়ো বেশি পছন্দ করেন। তাই আপনি যদি হাতে বানানো বিভিন্ন ধরনের মসলার গুঁড়ো তৈরি করে ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনি হ্যান্ড মেড মসলার ব্যবসা করতে পারেন। মশলা তৈরি করার পরে দোকানে দোকানে গিয়ে আপনি সেই মসলাগুলো বিক্রি করতে পারেন। একবার আপনার নাম বাজারে ছড়িয়ে গেলে মানুষরা অপেক্ষা করে থাকবে শুধুমাত্র আপনার মসলা দিয়েই তাদের ঘরের রান্না করার জন্য। বর্তমানে পাওয়া প্রতিটা মসলাটি কেমিক্যাল মেশানো থাকার জন্য তরকারির স্বাদ এবং মানুষের শরীর খারাপ হওয়া শুরু করেছে।

সেই জন্য হাতে বানানো ঘরের মসলার গুঁড়ো গুলো মানুষ ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করছেন। মসলা তৈরি ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে যাবতীয় যা ইনফরমেশন দরকার হবে তা নিয়ে একটি বড় পোস্ট তৈরী করা হয়েছে, আপনি সেটি দেখতে পারেন।

অবশ্যই পড়ুন- মশলা তৈরির ব্যবসা

শোলার মুকুট তৈরির ব্যবসা

শোলার মুকুট বাঙ্গালীদের বিয়ের জন্য অবশ্যই দরকার হয়। তাই শোলার মুকুট তৈরির ব্যবসা করে আপনি সফলতা অর্জন করতে পারেন। আর হস্তশিল্পের ব্যবসা গুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত শোলার মুকুট তৈরির ব্যবসা। শোলা দিয়ে তৈরি করা মুকুট এবং ফুল বাজারের ব্যাপকহারে বিক্রি হয়ে থাকে। শোলা দিয়ে তৈরি করা ফুল গুলি মূলত বিক্রি হয় ঘর সাজানো, মন্দির সাজানোর জন্য। এছাড়া শোলার মুকুট যেহেতু প্রতিটা বাঙালির বিয়ের জন্য দরকার হয় তাই শোলার মুকুট এর ব্যবসা সারা বছরের বিক্রি হওয়া জিনিস পত্রের মধ্যে একটি। এছাড়া শোলার মুকুট ঠাকুর প্রতিমা মাথায় বসানো হয়। তাই যেকোনো পূজার্চনা এ ব্যবহৃত মুকুট গুলির জন্য শোলার মুকুট তৈরীর ব্যবসায়ী শোলার মুকুট বানিয়ে থাকেন। আপনিও যদি শোলার মুকুট তৈরির ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনি লাভবান হবেন।

হস্তশিল্প ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

হস্তশিল্প ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা অল্প মার্কেটিং করেই আপনি ব্যবসার উন্নতি করতে পারেন। তবে হস্তশিল্প ব্যবসা দু’ধরনের পদ্ধতিতে আপনি যদি মার্কেটিং করেন তাহলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আপনার প্রোডাক্ট গুলি বিক্রি করতে পারবেন। একটি হলো অফলাইন বা পাইকারি মার্কেটিং। আরেকটি অনলাইন মার্কেটিং। প্রধানত বর্তমান সময়ে এই দু ধরনের মার্কেটিং করে সফল হচ্ছেন প্রতিটা হস্তশিল্প ব্যবসায়ী।

হস্তশিল্প ব্যবসায় অফলাইন মার্কেটিং

হস্তশিল্প ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার ব্যবসায় তৈরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলি বিক্রি করতে হবে। আর বিক্রি করতে হলে আপনাকে মার্কেটিং টা সুন্দর ভাবে করতে হবে। রিটেল মার্কেটিং বলতে আপনাকে প্রতিটা দোকানে দোকানে ঘুরে আপনার তৈরি জিনিসপত্রগুলি বিক্রি করতে হবে। এছাড়া আপনি চাইলে কিছু কিছু বড় বড় হোল সেলার কে পাইকারি দামে বিক্রি করতে পারেন হস্তশিল্প তৈরি জিনিসপত্র গুলি। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী হস্তশিল্পে তৈরি জিনিসপত্রগুলি রিটেল এবং পাইকারি মার্কেটে বিক্রি করে থাকেন।

হস্তশিল্প ব্যবসায় অনলাইন মার্কেটিং

হস্তশিল্প ব্যবসাতে উন্নত আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে অনলাইন মার্কেটিং করতে হবে। অনলাইন মারকেটিং বলতে আপনার তৈরি জিনিসপত্রগুলি ইন্টারনেটে যেসকল ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলি রয়েছে সেইসব ওয়েবসাইট যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট প্রভৃতি ওয়েবসাইটে একটি করে বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে আপনার তৈরি প্রোডাক্ট গুলি বিক্রি করতে হবে। বর্তমানে অনলাইন এইসব কি কমার্স ওয়েবসাইট গুলিতে বিক্রি করাটা খুব সহজ হয়ে গেছে এবং অনেক বেশি লাভজনক হয়। তাই একটু সচেতন যে কোনো ব্যবসায়ী তার ব্যবসাকে বড় করার জন্য অনলাইনে ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলির উপর ভরসা রাখেন।

হস্তশিল্প ব্যবসাতে লাভ কত হয়?

যে কোন ব্যবসা করতে হলে আমাদের যেমন প্রথমে মনে হয় সেই ব্যবসা করতে কত লাগবে তেমন ব্যবসা করে লাভ কত হবে এটা আমাদের প্রথমেই আসে মাথায়। হস্তশিল্প ব্যবসা করে আপনি অবশ্যই অনেক বেশি পরিমাণে লাভ করতে পারেন। কারণ বাজারে পাওয়া যেকোনো জিনিসপত্রের থেকে হস্তশিল্পে বানানো হস্তশিল্প গুলির দাম একটু বেশি হয়ে থাকে। এক কথায় বলা যায় একটা প্রোডাক্ট তৈরি করতে আপনার যদি খরচ হয় 10 টাকা সেই প্রোডাক্টটা বাজারে বিক্রি করতে পারেন 100 টাকা দামে। অর্থাৎ লাভ করতে পারেন 90%। সাধারণত হস্তশিল্পের হস্ত শিল্পীরা তাদের হস্তশিল্প ব্যবসা করে লাভ করেন 70% থেকে 80%। তাই আপনার জন্য অবশ্যই হস্তশিল্পের ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা হবে।

হস্তশিল্পের ইতিহাস (History of handicrafts)

হস্তশিল্প শুধুমাত্র এখন নয় বহু প্রাচীন সময় থেকে চলে আসছে। আদি মধ্যযুগীয় বাংলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হচ্ছে হস্তশিল্প। তখন ধাতব ও বিভিন্ন পদার্থ দিয়ে কাজ, জুয়েলারি বিশেষ করে রুপার তৈরি অলংকার, সোনার তৈরি অলংকার, কাঠের জিনিসপত্র, বেত ও বাঁশ দিয়ে বানানো বিভিন্ন জিনিস পত্র, মাটির মৃৎশিল্প খুব প্রসিদ্ধ ছিল। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় তখন বাংলায় তৈরি বিভিন্ন বস্ত্র গ্রিক ও রোমান সাম্রাজ্যতে দেখা মেলে। আবার বৈদেশিক পর্যটকদের গ্রন্থ গুলি থেকে পাওয়া যায় ষোড়শ শতাব্দীতে বঙ্গদেশে উচ্চমানের হাতে বোনা বস্ত্র খুব বিখ্যাত ছিল।

এছাড়া তখন উন্নত মানের হাতির দাঁতের তৈরি জিনিসপত্র সোনা রুপার তৈরি অলংকার মুঘল দরবারে সমৃদ্ধ করেছিল। বাংলার কারিগরদের তৈরি জিনিসপত্রের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন মোগল সম্রাটগণ। সেই জন্য সেই তখন থেকে বাংলায় তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ধীরে ধীরে উপঢৌকন এর মাধ্যমে মুঘল সম্রাটদের কাছে পৌঁছাতে এবং আস্তে আস্তে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। দিল্লির সম্রাটরা তাদের দরবারে উচ্চ মানের জিনিস পত্র রাখার জন্য বাংলা থেকে হস্তশিল্পীদের নিয়ে যেত কারিগরি করার জন্য। হস্তশিল্পের কারিগরিতে বাংলার ভূমিকা অনেক বেশি পরিমাণে ছিল। এখনো সেই কারণে হস্তশিল্প দুই বাংলাতেই ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে রয়েছে এবং এই প্রভাব ভবিষ্যতেও থাকবে বলে বোঝা যায়।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

কুটির শিল্প কি?

উত্তর: যে ব্যবসার কাজ বাড়িতে বসে ছোট আকারের শুরু করা যায় তাহাই কুটির শিল্প নামে পরিচিত। যেকোনো হস্তশিল্প কুটির শিল্পের মধ্যে পড়ে।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন কবে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশ সরকার শিল্প ও বাণিজ্যের অগ্রগতির জন্য ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্পোরেশন গঠন করেন।

হস্তশিল্পের সমার্থক শব্দ কি কি?

উত্তর: কারিগরি, শিল্পকারী, হস্তকলা ইত্যাদি।

হস্তশিল্পের ব্যবসা কোথায় করা যায়?

উত্তর: গ্রাম অথবা শহর যে কোন জায়গাতেই হস্তশিল্পের ব্যবসা করা যায়।

হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ কোথায় দেওয়া হয়?

উত্তর: আপনার এলাকার বিডিও অথবা কারিগরি দপ্তরে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

টুথপিক তৈরির ব্যবসা

পেপার কাপ তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment