স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করুন অল্প পুজিতে | Sports store business at Rs. 1 lakh, Right Now

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা বর্তমানে সব জায়গাতেই করা যায়। শহর কিংবা গ্রাম আপনি যেখানেই দেখবেন সেখানে তো ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার সাথে সবসময় যুক্ত থাকে। আর যারা খেলাধুলা করে তাদের অবশ্যই স্পোর্টস সামগ্রীর দরকার পড়ে। ইনডোর কিংবা আউটডোর যেকোনো খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন প্রকার সামগ্রী নিয়ে আপনি যদি স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি সফল হবেন অবশ্যই। যেমন লুডো দাগা টেবিল টেনিস ফুটবল ক্রিকেট বা অন্য যে কোন খেলায় হোক না কেন প্রতিটা খেলার জন্য আলাদা আলাদা সামগ্রী আপনার দোকানে অবশ্যই থাকতে হবে।

এছাড়াও খেলার জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেস, জুতো প্রভৃতি জিনিস অবশ্যই আপনাকে আপনার দোকানে রাখতে হবে। বর্তমানে এই ব্যবসাটি চাহিদা কম বেশি সারা বছরই থেকেই যায়। তবে কিছু কিছু সময় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দিকে খেলার মরশুমে প্রচুর পরিমাণে খেলার সামগ্রী বিক্রি হয়। আর শহরাঞ্চলে তো প্রতিদিন খেলার একটা প্রবণতা রয়ে যায় তাই শহরাঞ্চলে আপনি যদি স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসা সারাবছরই সমানতালে চলতে থাকবে। আর এই ব্যবসাতে কোন লস হওয়ার সম্ভাবনা নেই কারণ এই ব্যবসা আপনি যেমন ভাবে করুন না কেন প্রতিটা সামগ্রী প্রতিটি ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ অবশ্যই কিনবে।

Table of Contents

খেলার সামগ্রীর দোকান কোন জায়গায় করা উচিত?

খেলার সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে একটা স্পোর্টস স্টোর খুলতে হবে। আর এই ধরনের ব্যবসার জন্য অবশ্যই দোকান তৈরি করার জায়গাটি সুন্দরভাবে আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার এলাকার যেকোনো জনপ্রিয় বাজার এলাকাতে দোকান তৈরি করতে পারেন আবার কোন স্পোর্টস একাডেমীর পাশে একটা দোকান তৈরি করতে পারেন। তবে শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে আপনি যদি এই ব্যবসা করেন তাহলে আপনাকে জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু খোঁজখবর নিয়ে তারপরে দোকান তৈরি করতে হবে।

শহরাঞ্চলে ব্যবসা করতে গেলেযে অঞ্চলে খেলার প্রবণতা ছেলেমেয়েদের বেশি থাকে বা যেখানে স্পোর্টস একাডেমী তৈরি হয়েছে বা খেলার মাঠ আছে তার কাছাকাছি যদি আপনি একটা স্পোর্টস দোকান ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসা অনেক দ্রুততার সাথে উন্নতি করবে। তামিল গ্রামাঞ্চলের দিকে ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জনপ্রিয় কোন বাজার এলাকাতেই দোকান তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন আপনার খেলার সামগ্রীর দোকান নির্ভর করবে আপনি কোন জায়গায় ব্যবসাটি শুরু করছেন তার ওপর এবং তার ওপরেই নির্ভর করবে আপনার লাভের পরিমাণ টা।

Sporting goods store
খেলার সামগ্রীর দোকান

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন?

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে সকল প্রকার খেলার সামগ্রী নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে হবে। তাই আপনাকে প্রথমে মার্কেট রিসার্চ এর উপরে জোর দিতে হবে। মার্কেট রিচার্জ করলে আপনি জানতে পারবেন যে আপনার এলাকাতে কি কি খেলা হয়ে থাকে এবং সেই সকল খেলার জন্য কোন ধরনের স্পোর্টস সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। তারপর আপনাকে সেই সকল স্পোর্টস সামগ্রী পাইকারি মার্কেট থেকে অথবা সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে অল্প দামে কিনে আপনার দোকানটি সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে হবে।

আপনি চাইলে আপনার ব্যবসাতে সকল প্রকার স্পোর্টস সামগ্রী নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। যেমন বর্তমানে স্পোর্টস সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করার প্রতিটা ব্যবসায়ী তাদের দোকানে সকল প্রকার খেলার জিনিসপত্র নিয়ে ব্যবসা করেন। আপনি চাইলে ব্যবসা শুরুর আগে আপনার এলাকায় বা কাছাকাছির মধ্যে যেখানে স্পোর্টসের দোকান রয়েছে সেখানে গিয়ে একবার দেখে আসতে পারেন এবং যাচাই করে আসতে পারেন যে কি পদ্ধতিতে বা কীভাবে তারা ব্যবসাটি করছে।

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসার দোকানের আয়তন কেমন হবে?

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসাতে আপনার কাছে যেমন পরিমাণ পুঁজি থাকবে তার ওপরে নির্ভর করবে আপনার দোকানের আয়তন। কারণ এই ব্যবসা করতে গেলে আপনি চাইলে ছোট করেও ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন আবার বড় করে ও দোকান তৈরি করে ব্যবসাটি করতে পারেন। তাই আপনার এলাকাতে আপনি অল্প মূল্যে দোকান ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করুন এবং সেই দোকানটা ভাড়া নেবার পর দোকানটি ভালো করে সাজান। সাধারণত স্পোর্টস দোকান তৈরি করতে গেলে 10/10 ফুটের একটা ঘরের প্রয়োজন পড়ে। আবার এলাকা বিবেচনায় আপনি 6/10 ঘর নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। তবে আপনি যদি পাইকারিভাবে বড় দোকান করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার দোকানের আয়তন বড় হবার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের সমস্ত ব্যাপারটাই নির্ভর করছে আপনার কাছে কেমন পরিমাণ পুঁজি রয়েছে তার উপর।

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা করতে কত পুঁজি লাগে?

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা করার জন্য যে পরিমাণ পুঁজি আপনাকে খরচ করতে হবে তা নির্ভর করবে সম্পূর্ণ আপনার কাছে যত পরিমাণ টাকা রয়েছে তার উপর। অর্থাৎ আপনি যদি ছোট করে স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনাকে খরচ করতে হবে 1 লক্ষ টাকা থেকে 1.5 লক্ষ টাকা। আবার আপনি যদি ভালোভাবে বড় করে এই ব্যবসাটি করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে খরচ করতে হবে 2 লক্ষ টাকা থেকে 3 লক্ষ টাকা। আর আপনি যদি পাইকারীভাবে স্পোর্টস সামগ্রীর ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে খরচ করতে হবে 5 লক্ষ টাকার মতো। তবে ব্যবসায় শুরুতে আপনার ছোট করে ব্যবসা শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

খেলার সামগ্রীর দোকান ডেকোরেশন কেমন হবে?

খেলার সামগ্রী বা স্পোর্টস সামগ্রীর দোকান ডেকোরেশন এর দিকে আপনাকে অবশ্যই বেশি করে নজর দিতে হবে। দোকান যত সুন্দর করে আপনি ডেকোরেশন করতে পারবেন তত বেশি করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন। দোকান ডেকোরেশন করার জন্য আপনি দোকানের দেয়ালে কাঠের সেলফ তৈরি করতে পারেন এবং প্রতিটা তাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির খেলার আইটেম সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পারেন। আবার দোকানের বাইরে ও খেলার সামগ্রীর বিভিন্ন আইটেম সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পারেন কিংবা ডিসপ্লে করতে পারেন। যে সকল খেলার আইটেমগুলি বেশি বিক্রি হয়ে থাকে সেগুলো আপনি দোকানের সামনের দিকে সাজিয়ে রাখলে না আর যেগুলো অল্প পরিমাণ বিক্রি হয় সেগুলো ভেতরের দিকে সাজিয়ে রাখবেন।

যেমন ক্রিকেট ফুটবল এই ধরনের খেলার আইটেমগুলি দোকানের সামনে ঝুলিয়ে রাখবেন কিংবা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখবেন আবার খেলার জন্য প্রয়োজনীয় জার্সি এই ধরনের জিনিস গুলি দোকানের সামনে সুন্দর করে ঝুলিয়ে রাখবেন, যাতে পথচলতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। আবার কেরাম, জিম আইটেম এই ধরনের জিনিসগুলি দোকানের ভেতরে তাকে আপনাকে রাখতে হবে সামনের দিকে। মনে রাখবেন দোকানটি যত সুন্দর করে আপনি সাজাতে পারবেন তত বেশি পরিমাণে কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন আপনার ব্যবসার দিকে। সকল প্রকার আইটেম সাজানো হয়ে গেলে আপনি বসার জন্য একটা নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করুন।

অবশ্যই পড়ুন- বইয়ের দোকান ব্যবসা

স্পোর্টস ব্যবসায় কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজন আছে কি?

আপনি আপনার ব্যবসা কিভাবে করতে চাইছেন বা কি পদ্ধতিতে করতে চাইছেন তার ওপরে নির্ভর করবে কর্মচারী নিয়োগ। অর্থাৎ আপনার ব্যবসার যদি বড় হয় বা দোকানের আয়তন যদি বড় হয় তাহলে আপনি চাইলে একজন অথবা দুজন কর্মচারী রাখতে পারেন। তবে আপনার ব্যবসা যদি ছোট হয়ে থাকে তাহলে আপনি একাই চাইলে দোকান ভালো ভাবে সামলাতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার দোকান যদি খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং প্রচুর পরিমাণে কাস্টমার সারাদিনে আসতে থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে।

আবার আপনি যদি স্পোর্টস আইটেম এর পাইকারি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে 1-2 জন কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। এখন যেহেতু অনলাইনের যোগ হয়ে গেছে তাই আপনি যদি হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা শুরু করেন আপনার ব্যবসাতে তাহলে অবশ্যই আপনাকে একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। আবার আপনি চাইলে নিজে আপনি দোকান সামলাবেন আর কেউ পাইকারি মার্কেট থেকে প্রোডাক্ট কিনে নিয়ে আসবে, তার জন্য আপনাকে একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করতে হতে পারে।

আরো পড়ুন- মোবাইল দোকানের ব্যবসা

কি ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী রাখা যায়?

আপনার দোকানে ক্রীড়া সামগ্রী রাখার জন্য অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে যে আপনার এলাকাতে কোন ধরনের খেলা বেশি জনপ্রিয় বা কি ধরনের খেলা বেশি পরিমাণে খেলে আশপাশের ছেলেমেয়েরা। এছাড়াও আপনাকে বিভিন্ন গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী এনে দোকানে রাখতে হবে। গ্রামাঞ্চলের দিকে বর্ষাকালের সময় ফুটবল খেলার প্রবণতা একটু বেশি পরিমাণে থাকে আবার গ্রীষ্মকালের দিকে ক্রিকেট খেলার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই এই সময় গুলিতে বেশি করে ক্রিকেটের সামগ্রী এবং ফুটবল সামগ্রী রাখতে পারেন।

এছাড়াও আপনার দোকানে রাখতে হবে জার্সি প্যান্ট বা খেলার জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেস, বুট, মোজা ইত্যাদি। আবার বিভিন্ন জায়গায় খেলার অনুষ্ঠান হওয়ার কারণে তাদের যে পুরস্কার তাও আপনার দোকানে রাখতে হবে। অর্থাৎ বিভিন্ন খেলায় যেসকল পুরস্কার দেওয়া হয় সেই সমস্ত পুরস্কারগুলোর আপনার দোকানে রাখতে হবে। এতে আপনার দোকানের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে ও ক্রেতারা আপনার দোকান থেকেই সকল প্রকার সামগ্রী কিনতে বেশি পছন্দ করবেন। এছাড়াও আপনার দোকানে অবশ্যই যেসকল সামগ্রী রাখতে পারেন সেগুলি হল-

  • ফুটবল
  • ক্রিকেট বল
  • ক্রিকেট ব্যাট
  • উইকেট
  • ভলিবল
  • ভলিবল নেট
  • টেবিল টেনিস
  • ব্যাডমিন্টন
  • স্কেটিং
  • জার্সি
  • জার্সি ট্রাউজার
  • ট্রাকসুট
  • নেট
  • এংলেট
  • নী ক্যাপ
  • কেরাম বোর্ড
  • কেরাম গুটি
  • ডাম্বেল
  • বারবেল
  • বিভিন্ন স্পোর্টস যন্ত্রাংশ

ক্রীড়া সামগ্রী কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

আপনি যখন স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করছেন তখন অবশ্যই আপনাকে অল্প দামে ক্রীড়াসামগ্রী বা খেলার সকল প্রকার উপকরণ কিনতে হবে। তাই খেলার সকল সামগ্রী কেনার জন্য আপনার আশেপাশের যেকোনো বড় পাইকারি মার্কেট এ আপনি যোগাযোগ করতে পারেন বা পরামর্শ নিয়ে সেখান থেকে পাইকারি দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে আপনি যদি ভারতে বসবাস করেন তাহলে আপনার সবচেয়ে সুবিধা হবে কলিকাতার অনেকগুলো পাইকারি খেলার সামগ্রী দোকান রয়েছে যেখানে খুবই কম দামে আপনি পাইকারি রেটে সকল প্রকার সামগ্রী কিনতে পারবেন।

এছাড়াও ভারতের দিল্লী, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদের একাধিক বড় বড় কোম্পানি সহ পাইকারি দোকান রয়েছে আপনি চাইলে সেইসকল দোকানের সাথে যোগাযোগ করেও সকল প্রকার সামগ্রী কিনতে পারেন। সমস্ত দোকানের ঠিকানা আপনি পেয়ে যাবেন গুগোল একটু সার্চ করলেই। এছাড়াও এখন যেহেতু অনলাইন দুনিয়া তাই আপনি চাইলে অ্যামাজন, ইন্ডিয়ামার্ট, ট্রেডইন্ডিয়া এইসব বড় বড় ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে খুব অল্প দামে সহজেই পেয়ে যাবেন সকল প্রকার ক্রীড়া সামগ্রী। বাংলাদেশে যারা থাকেন তারা বাংলাদেশের চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে সকল প্রকার ক্রীড়াসামগ্রী অল্প মূল্যে কিনতে পারবেন। এছাড়াও বাংলাদেশের বন্ধুরা ভারত থেকে অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন সকল প্রকার ক্রীড়া সামগ্রী অল্প দামে।

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা
স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা

স্পোর্টস ব্যবসা আলাদা আলাদা ভাবে কিভাবে শুরু করবেন?

বর্তমানে আপনি যেমন চাইলে স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করতে পারেন সকল প্রকার ক্রীড়া সামগ্রী নিয়ে। এমনই আপনি চাইলে আলাদা আলাদাভাবে পৃথক কোন কোন খেলাকে কেন্দ্র করে তার দোকান বা কোম্পানি তৈরি করতে পারেন। বর্তমানে সকল প্রকার খেলার সামগ্রী নিয়ে যেমন ব্যবসা করা যায় তেমন পৃথক পৃথক খেলাকে নির্বাচন করে এক একটা আলাদা আলাদা ব্যবসা করা যায়। আপনি আপনার শহর বা বাজারে একটা দোকান তৈরি করে এই সকল ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

স্পোর্টস মেগাজিন ব্যবসা

বর্তমানে অনেক মানুষ জন রয়েছে যারা সকল প্রকার খেলা সম্পর্কে অল্প কিছু ধারণা রাখেন বা রাখার চেষ্টা করেন। তারা অনেকেই বিভিন্ন স্পোর্টস মেগাজিন বাইরে থেকে কিনে এনে পড়তে পছন্দ করেন। তাই আপনি যদি আপনার এলাকাতেই শুরু করতে পারেন স্পোর্টস ম্যাগাজিনের ব্যবসা তাহলে আপনার ব্যবসা ও এইসকল কাস্টমার পেয়ে যাবে এবং খুব দ্রুততার সাথে সফলতা অর্জন করবে। যেহেতু অনেক মানুষজন রয়েছেন যারা খেলার সংবাদ বা খেলা সম্পর্কিত আপডেটগুলো সর্বদা রাখেন বা রাখার চেষ্টা করেন তারাই মূলত আপনার দোকান থেকে স্পোর্টস মেগাজিন কিনবে এবং পড়বে। তাই চাইলে আপনি আপনার স্পোর্টস স্টোর ব্যবসার দোকানেও স্পোর্টস মেগাজিন রেখে ব্যবসা করতে পারেন।

ফুটবল জার্সি কাস্টমাইজিং ব্যবসা

বর্তমানে প্রতিটা ফুটবল ক্লাবই চাই তাদের পৃথক পৃথক জার্সি হোক যা বর্তমানে অন্য কোন ক্লাব ব্যবহার করেনা। তাই তারা স্পোর্টসের দোকানে এসে নিত্যনতুন যার সন্ধান করতে থাকে। তাই আপনি যদি তাদের রিক্রুটমেন্ট অনুযায়ী জার্সি কাস্টমাইজ করে তাদের বিক্রি করেন তাহলে আপনার ব্যবসা অনেকটাই সফলতা পাবে। এর জন্য আপনাকে জার্সি ডিজাইনার হিসাবে একজন কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে যে কাস্টমার এর চাহিদা মতো জার্সি ডিজাইন করে সরাসরি কোম্পানি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং করে তাদেরকে প্রদান করবে। তো মানে অনেক ক্লাব রয়েছে যারা রিয়েল মাদ্রিদ, এফসি বার্সেলোনা, এসি মিলান, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, চেলসি মত ক্লাবের জার্সির মেলবন্ধন করিয়ে এক নতুন প্রকার জার্সি বানাতে চাই। আপনি চাইলে এই ধরনের ক্লাবের জার্সি মেলবন্ধন করিয়ে নতুন প্রকার জার্সি তৈরি করে কাস্টমারদের বিক্রি করতে পারেন।

অবশ্যই পড়ুন- চা দোকানের ব্যবসা

স্পোর্টস ফটোগ্রাফি ব্যবসা

বর্তমানে যখন বিভিন্ন ক্লাব খেলার প্রোগ্রাম রাখে তখন তারা চায় তাদের সমগ্র প্রোগ্রামটা কোন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার কে দিয়ে কভার করতে। তাই আপনি যদি আপনার ব্যবসাতে স্পোর্টস ফটোগ্রাফি যুক্ত করেন তাহলে আপনার দোকান থেকে যেমন সকল প্রকার প্রোডাক্ট কাস্টমাররা কিনবে যেমন তার পাশাপাশি তারা আপনাকে অর্ডার দেবে তাদের খেলার সমগ্র প্রোগ্রামটা ফটোগ্রাফি করার জন্য। এর জন্য আপনাকে কোন রেজিস্টার লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফটোগ্রাফারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং তাকে এই ধরনের অর্ডার আসলে ডেকে নিয়ে কাজ করাতে হবে। যেহেতু ক্লাবরা চাই তাদের অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি করে অ্যালবাম অথবা ভিডিও তাদেরকে প্রদান করা হোক তাই আপনি যদি স্পোর্টস ফটোগ্রাফি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন পৃথকভাবে তাহলেও আপনি সফলতা পাবেন।

ক্রীড়া সামগ্রীর ব্যবসায় লাভ কত?

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা বা ক্রীড়া সামগ্রী ব্যবসাতে লাভ করাটা খুবই সহজ। এই ব্যবসায় যেমন কোন লস এর সম্ভাবনা নেই তেমন লাভের পরিমাণ টাও অনেকটাই বেশি পরিমাণে থাকে। আপনি যে প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন তার 5 থেকে 50% লাভ লাগতে পারেন। অর্থাৎ আপনি যখন পাইকারি দোকান থেকে একটা ব্যাট কিনবেন তার দাম যা পড়বে তা আপনি যখন বিক্রি করবেন তা 50% লাভে বিক্রি করতে পারবেন।

এই ব্যবসায় সর্বনিম্ন লাভ হতে পারে প্রতি মাসে 30 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকার মতো। আর এই ব্যবসাতে সর্বোচ্চ লাভ হতে পারে 2 লক্ষ টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তবে একমাত্র পাইকারি ব্যবসা করলে এই বেশি পরিমাণে লাভ আপনি করতে পারবেন। যেহেতু বর্তমানে আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই খেলাধুলা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তাই গ্রামবাংলা হোক কিংবা শহরাঞ্চল আপনি যেখানেই ব্যবসা করুন না কেন ব্যবসার লাভের দিকে আপনাকে কোন চিন্তা করতেই হবে না।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বা FAQ

স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 2 লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে স্পোর্টস স্টোর ব্যবসা শুরু করতে হয়।

ক্রীড়া সামগ্রী দোকান তৈরি করতে কত বড় জায়গা লাগে?

উত্তর: 6/10 ফুটের একটা ঘর হলে আপনি খুব সহজেই ক্রীড়া সামগ্রী ব্যবসা করতে পারবেন।

কোথায় স্পোর্টস সামগ্রীর দোকান করা যায়?

উত্তর: স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা খেলার মাঠের কাছাকাছি বা জনপ্রিয় বাজারে আপনি দোকান তৈরি করতে পারেন।

স্পোর্টস সামগ্রী পাইকারি বাজার কোথায়?

উত্তর: কলকাতার একাধিক জায়গায় বড় বড় পাইকারি দোকান রয়েছে যা আপনি গুগলে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। এছাড়াও বাংলাদেশের চকবাজার পাইকারি মার্কেট এ একাধিক বড় বড় দোকান রয়েছে যা পাইকারি দামে স্পোর্টস সামগ্রী বিক্রি করে থাকে।

স্পোর্টস ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: সর্বনিম্ন লাখ 30 হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ লাভ 1 লক্ষ টাকা হতে পারে

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

জেমস ক্লিপ তৈরির ব্যবসা 

পনির তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment