স্টুডিও ব্যবসা করে নিজের শখকে বাস্তবে পূরণ করুন | How to start a studio business with little money , no1 idea right now

আপনার যদি ছবি তুলতে এবং ছবি নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনি আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়ণ করতে পারেন স্টুডিও ব্যবসা শুরু করে। বর্তমান সময়ে ছবি তোলা এবং ছবি নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা এখন একটা বড় ধরনের ট্রেন হিসেবে প্রচলিত হয়ে পড়েছে। আগেকার দিনে শুধুমাত্র কোন বিশেষ অনুষ্ঠানে বা বিশেষ কারণবশত মানুষ ফটোগ্রাফি তুলত, কিন্তু বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ফটোগ্রাফির পাশাপাশি ডিজিটাল ভিডিওগ্রাফিরও প্রচলন দেখা যাচ্ছে। এই কারণে আপনি যদি ষ্টুডিও ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসা ও অনেক ভালোভাবে চলতে পারে বর্তমান পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করে।

এখন কাজের বাজার কতটা খারাপ তা আমরা সকলেই প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছি। তাই অল্প পুঁজি যে সকল ব্যবসা করা যায় তার মধ্য স্টুডিও ব্যবসা অন্যতম। স্টুডিও ব্যবসা করার জন্য আপনার যেমন বেশি মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ে না ঠিক তেমনি কাস্টমারের ছবি তুলে তা বিক্রি করাও ভীষণ সহজ। এর জন্য শুধুমাত্র আপনাকে ফটোগ্রাফি সম্পর্কে সাধারণ নলেজ সংগ্রহ করতে হবে। বা আপনি যদি ছোটবেলা থেকে ফটোগ্রাফির ওপর আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি খুব সহজভাবেই ফটোগ্রাফি নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসায় কাস্টমারের অভাব আপনার কোন সময়ই পড়বে না। শুধু আপনি যদি ভালোভাবে ছবি তুলতে জানেন এবং কাস্টমারকে ছবি তুলে খুশি করতে পারেন তাহলে আপনি খেয়াল করবেন প্রতিমাসে আপনি অনেক পরিমাণে অর্ধ উপার্জন করতে পারছেন এই স্টুডিও ব্যবসা করে।

Table of Contents

ফটোগ্রাফি ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে? (How much does it cost to start a photography business?)

আপনি যদি ছোট করে ফটোগ্রাফি ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সর্বনিম্ন 50 হাজার টাকার বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ আপনাকে প্রথমেই ডিএসএলআর ক্যামেরা সহ লেন্স কিনতে হবে, তাই আপনাকে লেন্স অনুযায়ী 30-40 হাজার টাকা আরো ব্যয় করতে পারে। তবে ভালোভাবে আপনি যদি একটি স্টুডিও তৈরি করে ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে 1 লক্ষ টাকা থেকে 2 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই টাকার মধ্যে আপনার সকল প্রকার প্রকার কি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হয়ে যাবে।

তবে বর্তমান সময়ে ভালো DSLR কিনতে গেলে আপনাকে 1 লক্ষ টাকার বেশি নিনিয়োগ করতে হতে পারে। এমন অনেক ফটোগ্রাফার রয়েছেন যাদের কাছে কোন স্টুডিও নেই, ঘরে থেকেই তারা সকল প্রকার কাজ করে থাকেন। তাই ব্যবসার শুরুতেই আপনাকে যে স্টুডিও বানাতে হবে এমন কোন কথা নেই আপনি ভাল কাজ জানলে আপনি ঘরে থেকেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে স্টুডিও ব্যবসাতে সফলভাবে ব্যবসা করার জন্য একটা ছোট স্টুডিও তৈরি করা আপনার প্রয়োজন পড়বে।

Photography business
ফটোগ্রাফি ব্যবসা

স্টুডিও ব্যবসা করতে কি কি জিনিস এর প্রয়োজন? (What things are needed to run a studio business?)

সাধারণত আপনি যদি ছোট করে স্টুডিও ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে কয়েকটা জিনিস কিনলেই হয়ে যাবে। তবে আপনি যদি ভালভাবে প্রফেশনালি বড় করে স্টুডিও ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে বেশ কয়েক রকম জিনিস কিনতে হবে। আর সেই সব প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি হল-

  • DSLR camera
  • একটা ল্যাপটপ (নরমাল কম্পিউটার হলেও হবে)
  • ডিএসএলআর লেন্স
  • স্পটলাইট
  • ব্যাকগ্রাউন্ড লাইট
  • সবুজ কাপড়

ডিএসএলআর ক্যামেরার সাথে সাথে বিভিন্ন কোয়ালিটির ভালো লেন্সের প্রয়োজন আপনার পড়বে বিভিন্ন এঙ্গেলের ছবি তোলার জন্য। এছাড়াও স্টুডিওর ভেতরে ফটোশুট করা বা স্টুডিওর বাইরে ফটোশুট করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড লাইট ও স্পটলাইট এর ব্যবস্থা করতে হবে। আবার কিছু কিছু সময় আপনার গ্রিন স্ক্রিনেরও প্রয়োজন পড়বে। তাই অবশ্যই আপনাকে সবুজ কাপড় কিনে রাখতে হবে গ্রীন স্ক্রীন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য।

ফটোগ্রাফি ব্যবসার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ফটোগ্রাফি ব্যবসা করতে গেলে যে সকল প্রয়োজনীয় সামগ্রী আপনার প্রয়োজন পড়বে তা আপনি কিনতে পারেন যেকোনো বড় পাইকারি বাজার থেকে এবং ইলেকট্রনিক্স মার্কেট থেকে। যেমন কলকাতার চাঁদনী চক এবং ধর্মতলার নিউমার্কেটে আপনি খুবই অল্প দামে বিভিন্ন কোয়ালিটির বিভিন্ন কোম্পানির DSLR ক্যামেরা সহ প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী পেয়ে যাবেন। আপনি যদি সেকেন্ডহ্যান্ড ক্যামেরা বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে চান তাও আপনি অল্প দামে পেয়ে যাবেন ধর্মতলার নিউমার্কেট থেকে। এছাড়াও খিদিরপুরের ফ্যানসী মার্কেট থেকেও আপনি সকল প্রকার প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে যাবেন।
বাংলাদেশের ঢাকাই চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে আপনি সকল প্রকার প্রয়োজনীয় সামগ্রী অল্প মূল্যে পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আপনারা চাইলে ইন্ডিয়া মার্ট, আলিবাবা, AMAZON, ফ্লিপকার্ট, আমদানি – মত বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলি থেকে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারবেন।

অবশ্যই পড়ুন- ১০টি অল্প পুজিতে নতুন ব্যবসার আইডিয়া

ফটোগ্রাফি ব্যবসা করতে কি কি জানার প্রয়োজন?

আমরা সকলেই জানি স্টুডিও ব্যবসা করতে গেলে প্রয়োজনীয় মূল উপকরণ হিসেবে ডিএসএলআর ক্যামেরার প্রয়োজন হয়। কিন্তু শুধুমাত্র ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললে ই একজন ফটোগ্রাফার সফল হতে পারেন না। সেই ফটো বা ছবি এডিট করতে হয় তারপরেই তা বেশি সুন্দর ভাবে প্রকাশিত হয়। তাই একজন ফটোগ্রাফারকে ছবি তোলার পাশাপাশি ছবি এডিট করাও অল্প হলেও শিখতে হয়। আপনার যদি ফটোগ্রাফি নিয়ে ক্যারিয়ার করার ইচ্ছা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে ফটোগ্রাফি যেমন শিখতে হবে তার পাশাপাশি ছবি এডিট করা ও শিখতে হবে।

বর্তমান সময়ে ফটোগ্রাফি সম্পর্কে যাবতীয় জিনিস শেখার জন্য বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন ধরনের কোর্স চালু করেছে। আপনাকে এরকম কোন সংস্থা অথবা কোন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে প্রফেশনালি শিখতে হবে ফটোগ্রাফি সম্পর্কে। আর আপনি যদি ফটোগ্রাফি সম্পর্কে অলরেডি শিখে থাকেন কিন্তু কি পদ্ধতিতে ব্যবসা করলে সফল হবেন তা জানতে চান তাহলে অবশ্যই এই পোস্ট সম্পূর্ণ ভালোভাবে পড়ুন। যদিও বর্তমান সময়ে অনলাইনে দুনিয়ায় ফ্রিতে কোন টাকা খরচ না করে ফটোগ্রাফি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন শুধুমাত্র আপনার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। তবে একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে শিখলে তবেই আপনার মধ্যে ফটোগ্রাফি সম্পর্কে দক্ষতা এবং সঠিকভাবে ফটো তোলার নিপুনতা তৈরি হবে।

ফটোগ্রাফি কি ?

বর্তমান সময়ে আপনি যদি স্টুডিও ব্যবসা করতে চান তাহলে যেমন আপনাকে প্রতিটা ফটোগ্রাফ সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে তেমন বুঝতে হবে ফটোগ্রাফির ধরনও বিভিন্ন ছবি অনুযায়ী আলাদা আলাদা হতে পারে। যেমন বর্তমান সময়ে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি, ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি, ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফির এক বিশেষ প্রচলন লক্ষ্য করা যায়।

তেমনি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফির ও রমরমা বর্তমান সময়ে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে আপনি একজন ফটোগ্রাফার হিসাবে যেকোনো একটি বিষয়ে বেশি দক্ষতা অর্জন করার আপনার বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ আপনি যদি সব রকম জিনিস নিয়ে স্টুডিও ব্যবসা করবেন বলে ভাবেন বা ফটোগ্রাফি ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনার সবকিছুই ইনকমপ্লিট ভাবে থেকে যেতে পারে। আপনি যদি যেকোনো একটি বিষয়ের উপরের দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি হবে প্রতিটা মানুষের কাছে সবথেকে পছন্দের।

আরো পড়ুন- পতঞ্জলি ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যাবসা কিভাবে খুলবেন?

ফটোগ্রাফির ধরন (Types of photography)

স্টুডিও ব্যবসা করতে গেলে প্রতিটা ফটোগ্রাফির ধরন বা ফটোগ্রাফির প্রকারভেদ আপনাকে বুঝতে হবে ও জানতে হবে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত ফটোগ্রাফি গুলি হল-

  • ফটো জার্নালিজম (photojournalism)
  • ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি (documentary photography)
  • ওয়েডিং ফটোগ্রাফি (Wedding Photography)
  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফটোগ্রাফি (Industrial Photography)
  • পোট্রেট ফটোগ্রাফি (Portrait photography)
  • ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি (Wildlife photography)
  • ফ্যাশন ফটোগ্রাফি (Fashion photography)
  • মোবাইল ফটোগ্রাফি (Mobile photography)

স্টুডিও ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

আপনি যদি স্টুডিও ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে নূন্যতম 8/10 ফুট অথবা 10/10 ফুটের একটি ঘরে স্টুডিও বানাতে হবে। তবে ব্যবসার শুরুতে যদি আপনি ভালো ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তাহলে আপনি বিনা স্টুডিওতে ও কাজ করতে পারেন। অর্থাৎ আপনি কাস্টমারের বা প্রকৃতির ছবি তুললেন ঘরে এসে সেটা এডিট করে কাস্টমারকে দিলেন। ব্যবসার শুরুতে ঘর থেকেই স্টুডিওর কাজ শুরু করতে পারেন। তবে আপনাকে যদি স্টুডিও বানাতেই হয় তাহলে অবশ্যই আপনাকে কমপক্ষে 10/10 ফুটের একটা ঘর ভাড়া নিতে হবে।

ডিজিটাল স্টুডিও কোথায় তৈরি করা যায়?

স্টুডিও ব্যবসা করতে গেলে আপনি যে ডিজিটাল স্টুডিও বানাবেন তা অবশ্যই কোন জনবহুল বাজার এলাকার রাস্তার ধারে হওয়া বাঞ্ছনীয়। এছাড়া আপনি ডিজিটাল স্টুডিও বানাতে পারেন গ্রাম এবং শহরের যে কোন প্রান্তেই। তবে শহরাঞ্চলে ডিজিটাল স্টুডিও বানানো খুবই সহজ কারণ সহরাঞ্চলে যে কোন জায়গাতেই বেশি জনসমাগম দেখা যায়। তাই আপনার কাস্টমারের কখনোই অভাব হবে না। তবে গ্রামাঞ্চলের দিকে ডিজিটাল স্টুডিও বানানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে জনবহুল বাজারে এলাকা বা জনবহুল মোড় দেখে বানাতে হবে।

একটা ডিজিটাল স্টুডিওতে কি কি কাজ করা হয়? ((What does a digital studio do?)

বর্তমানে ডিজিটাল স্টুডিওতে নানা ধরনের কাজ করা হয়ে থাকে। কারণ একটা ডিজিটাল স্টুডিওতে শুধু ছবি তোলা নয় ছবি তোলার পাশাপাশি ছবি এডিট করা এবং ভিডিওগ্রাফি করে সেই ভিডিও এডিট করার কাজ হয়ে থাকে। আর আপনি ডিজিটাল স্টুডিও বানালে যে সকল কাজ করতে পারবেন তা হল-

  • সাদাকালো ছবিকে রঙিন করা।
  • পুরনো খারাপ ছবিকে নতুন করে তৈরি করা।
  • ছবি তোলা
  • যেকোনো ছবিকে ছোট বড় আকারের তৈরি করা।
  • ভিডিও এডিট করা।
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন করা।
  • বর্তমানের কিছু স্কুল প্রজেক্ট রেডি করা।
  • কম্পোজ করা।
  • ছবি ফ্রেম ও অ্যালবাম বিক্রয় করা।
  • মিনি ব্যাংক এবং পরীক্ষার রেজাল্ট বার করা ও ইন্টারনেটের পরিষেবা দেওয়া।
  • ফটোগ্রাফির ট্রেনিং দেওয়া।
  • বিয়ে বাড়ি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিডিও তৈরি করা ও ছবি তোলা।
  • জেরক্স করা ও প্রিন্ট আউট বার করা।
  • ক্যালেন্ডার তৈরি করা।
  • ভিজিটিং কার্ড ও ব্যানার তৈরি করা।

ডিজিটাল স্টুডিও ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

বর্তমান সময়ে একজন ছোট ফটোগ্রাফার যখন ডিজিটাল স্টুডিও তৈরি করেন তখন তার আলাদা করে কোন লাইসেন্স নেবার প্রয়োজন পড়ে না। তবে ব্যবসা বড় হতে থাকলে বিভিন্ন আইন জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। আইনি জটিলতা থেকে এড়ানোর জন্য প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই বিভিন্ন প্রকার লাইসেন্স নিতে হয়। আপনিও যখন ডিজিটাল স্টুডিও ব্যবসা করবেন তখন আপনাকে প্রতিটা ব্যবসায়ীর মত ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়াও যখন আপনার ব্যবসায়ী প্রতিমাসে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা আয় করবেন তখন আপনাকে জি এস টি নাম্বার নিতে হবে। আর আপনার কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে এবং নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র আপনার কাছে সর্বদা থাকতে হবে।

Digital Studio Business
ডিজিটাল স্টুডিও ব্যবসা

ডিজিটাল স্টুডিও ডেকোরেশন কেমন হবে?

ডিজিটাল স্টুডিও ব্যবসা করতে হলে যে স্টুডিও বানাবেন তার ডেকোরেশনের ওপর আপনাকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। কারণ স্টুডিও যত আকর্ষণীয় লাগবে প্রতিটা কাস্টমার তত বেশি পরিমাণে আপনার স্টুডিওতে আসবেন ছবি তোলার জন্য। এই কারণে প্রতিটা স্টুডিওই সুন্দর দেখতে হওয়া ভীষণ প্রয়োজনীয়। আপনি যখন ডিজিটাল স্টুডিও বানাবেন তখন স্টুডিওর উপরে যে সাইনবোর্ড লাগাবেন তা যেমন আকর্ষণীয় হওয়া বাঞ্ছনীয় তেমনি স্টুডিওর ভেতরের লাইট কালার এবং দেওয়ালের রাখা প্রতিটা জিনিসই যেন আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।

স্টুডিওর দেওয়ালে একাধিক কাঠের রাক তৈরি করে তাতে বিভিন্ন অ্যালবাম ও ফটো ফ্রেম রাখতে পারেন। এবং স্টুডিওর ভেতরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সিনারি সহ কাস্টমারের বসার জায়গা এবং মেকআপ করার জন্য আলাদা একটি রুমের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনি যে এলাকাতে ব্যবসা করছেন সেই এলাকায় থাকা বাকি স্টুডিওর থেকে যেন আপনার স্টুডিও সুন্দর হয়ে থাকে ও আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।

অবশ্যই পড়ুন- বাড়িতে আদা চাষের ব্যবসা করে 1 লক্ষ টাকা আয়

ফটোগ্রাফির পারিশ্রমিক নির্ধারণ

আপনি যেখানে ডিজিটাল স্টুডিও বানাবেন সেখানে এলাকা অনুযায়ী ফটোগ্রাফির ওপরে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণ আপনাকে করতে হবে। বিভিন্ন ফটোগ্রাফি বিভিন্ন দামে ফটোগ্রাফাররা কাজ করে থাকে। তবে এলাকা বিবেচনায় এই ফটোগ্রাফির দাম আলাদা আলাদা হতে পারে। তাই আপনি যখন ফটোগ্রাফি ব্যবসা করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে মার্কেট রিসার্চ করে প্রতিটা ফটোগ্রাফির ওপর আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করতে হবে। আবার বিভিন্ন ফটোগ্রাফার নিজস্ব দক্ষতা অনুযায়ী তাদের কাজের প্রতিটা ফটোগ্রাফির দাম আলাদা হতে পারে তাই আপনি ব্যবসার শুরুতে অল্প টাকা প্রতিটা ফটোগ্রাফির ওপরে নির্ধারণ করে ব্যবসার কাজ করে যেতে পারেন। যতক্ষণ আপনার দক্ষতা কাস্টমার বুঝবে এবং আপনার কাজের মধ্য দিয়ে তা প্রতিফলিত হবে তখন আপনি আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি দাম বাড়াতে পারেন।

স্টুডিও ব্যবসার মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

যেকোনো ব্যবসা বড় করার জন্য তার মার্কেটিং ভালো হওয়া খুবই প্রয়োজন। আপনিও যখন স্টুডিও ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনার ব্যবসা বড় করার জন্য আপনাকে আধুনিক পদ্ধতির পাশাপাশি পুরনো পদ্ধতিতেও মার্কেটিং করতে হবে। যে পদ্ধতিতে আপনি মার্কেটিং করলে আপনার ব্যবসার উন্নতি হবে তা হলো-

  • গ্রাহকের সাথে সুন্দর ব্যবহার ও সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা।
  • নির্দিষ্ট পরিমাণে অল্প মূল্যে কাজ করা।
  • বাকি অন্য ফটোগ্রাফারদের থেকে সুন্দর ছবি তৈরি করা।
  • বিভিন্ন এলাকায় জনবহুল জনপ্রিয় মোড় গুলিতে ফ্লেক্স টাঙিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া।
  • অটো কিংবা টোটোতে মাইক লাগিয়ে এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করা আপনার স্টুডিওর।
  • স্কুল-কলেজের গেটের সামনে পোস্টারিং ও ফ্লেক্স লাগিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া।
  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এ পেজ তৈরি করে নিত্যনতুন ছবি তুলে তাতে আপডেট দেওয়া।
  • ইউটিউব ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া এবং নির্দিষ্ট কমিউনিটি বা এলাকা ধরে প্রচার করা।
  • আপনার এলাকার লোকাল পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া।
  • বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় ছোট বড় পোস্টার ছাপিয়ে পোস্টারিং করে প্রচার করা দোকানের।

ফটোগ্রাফি ব্যবসায় লাভ কত?

সাধারণত ফটোগ্রাফি ব্যবসাতে বা ডিজিটাল স্টুডিও ব্যবসাতে লাভের পরিমাণ অনেকটাই বেশি হতে পারে। আপনি যেমন কাজ করতে পারবেন এবং যেমন অর্ডার ধরতে পারবেন তার ওপরে নির্ধারণ করবে লাভের পরিমাণটা। তবে সাধারণত একজন ফটোগ্রাফার প্রতি মাসে 20 থেকে 30 হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন ব্যবসার শুরুতেই। আর একজন প্রফেশনাল বড় ফটোগ্রাফার প্রতি মাসে 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকার বেশি ইনকাম করতে পারেন তার ফটোগ্রাফি ব্যবসাতে। আবার বিয়ে বাড়ি কিংবা বড় অনুষ্ঠানে ফটো এবং ভিডিও করার জন্য 1 লক্ষ টাকারও বেশি চার্জ করেন একজন ফটোগ্রাফার। এই ধরনের বড় বড় অর্ডার যদি আপনি প্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশটা নিতে পারেন তাহলে আপনি প্রতি মাসে 3 থেকে 5 লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও F.A.Q

ডিজিটাল ফটোগ্রাফি ব্যবসা করতে কোন ধরনের DSLR এর প্রয়োজন?

উত্তর: যেকোনো ভালো কোয়ালিটির ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়েই ডিজিটাল স্টুডিও ব্যবসা করা যায়।

ডিজিটাল স্টুডিও ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 1 লক্ষ থেকে 2 লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে ডিজিটাল স্টুডিও ব্যবসা শুরু করতে।

কোথায় ডিজিটাল স্টুডিও বানানো যায়?

উত্তর: গ্রাম কিংবা শহর আপনি যেখানেই থাকেন সেখানে জনপ্রিয় জনবহুল এলাকা গুলিতে আপনি ডিজিটাল স্টুডিও বানাতে পারেন।

ডিজিটাল স্টুডিওর আয়তন কমপক্ষে কত হওয়া প্রয়োজন?

উত্তর: 6/10 ফুট বা 10/10 ফুট কমপক্ষে একটা ডিজিটাল স্টুডিওর আয়তন হওয়ার প্রয়োজন।

ইনডোর ফটোগ্রাফি কি?

উত্তর: স্টুডিওর ভেতরে বা ঘরের ভেতরে যে সকল ফটোশুট করা হয় তাকেই ইনডোর ফটোগ্রাফি বলা হয়।

আউটডোর ফটোগ্রাফি কি?

উত্তর: ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি ,বিয়ে বাড়ি ফটোশুট, ভ্রমণ ফটোশুট, পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে ফটোশুট এই ধরনের ফটোগ্রাফি গুলিকে আউটডোর ফটোগ্রাফি বলা হয়। অর্থাৎ স্টুডিওর বাইরে যে সকল ফটোগ্রাফি করা হয় তাকেই আউটডোর ফটোগ্রাফি বলা হয়।

স্টুডিও ব্যবসাতে লাভ কত?

উত্তর: প্রতিমাসে স্টুডিও ব্যবসা থেকে 1 থেকে 3 লক্ষ টাকা আয় করা যায়

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

কাজু ও কিসমিস এর হোলসেল ব্যবসা

সরিষার তেলের ডিলারশিপ ব্যবসা

Leave a Comment