সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসায় এখন প্রচুর টাকা ইনকাম | Earn 60000 rupees by making Sellotape Business, Right Now

আমরা সবাই জানি সেলোটেপ আমাদের প্রতিদিনের কাজের কিভাবে সঙ্গী হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা শেখা ছাত্র-ছাত্রী থেকে ব্যবসার প্যাকেজিং এর ক্ষেত্রে সেলোটেপের ব্যবহার অপরিহার্য। আপনি যদি সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা শুরু করেন আপনার ব্যবসা বছরের শেষ দিন পর্যন্ত ভালোভাবে চলবে। শুনে হয়তো আপনি অবাক হবেন সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করেন খুব অল্প সংখ্যক ব্যবসায়ী তাই আপনি যদি এই ব্যবসা শুরু করেন দ্রুততার সাথে আপনার ব্যবসা বৃদ্ধি লাভ করবে এবং আপনি প্রচুর পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। চলুন দেখে নেয়া যাক কি পদ্ধতিতে সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করলে ব্যবসা দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাবে।

Table of Contents

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

আপনি যদি ছোট করে সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করবেন ভাবেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে 80 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ সেলোটেপ তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন এবং কাঁচামাল কিনতে আপনার ন্যূনতম এই অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর আপনি যদি বড় আকারের সেলোটেপ তৈরির কোম্পানি খুলতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে 1 লক্ষ টাকা থেকে 3 লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে। বড় করে অটোমেটিক সেলোটেপ মেশিন এর সাহায্যে আপনি যেমন সেলোটেপ তৈরি করতে পারবেন এছাড়া মার্কেটিংয়ের জন্য একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করে আপনার ব্যবসা দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি করতে পারবেন।

যেহেতু সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করতে 80 হাজার টাকার মতো খরচ হয় তাই এই ব্যবসাকে অল্প পুঁজির ব্যবসা ও বলা হয়ে থাকে। কারন আমরা অনেকেই জানি একটি বড় আকারের ব্যবসা তৈরি করতে বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়। তবে এই ব্যবসাটি বড় করে তৈরি করতে গেলেও অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেই করা যায়।

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করতে কি কি কাঁচামাল লাগে?

সেলোটেপ তৈরির ব্যবসা করতে সর্বপ্রথম কাঁচামাল হিসাবে আপনার লাগবে সেলোটেপ রোল এবং কাগজের রোল বা কাগজের কোড়া রোল। যেহেতু সেলোটেপ আপনি নিজে ম্যানুফ্যাকচার করছেন না আপনি শুধু তার সাইজের পরিবর্তন করে মার্কেটে বিক্রি করছেন তাই অবশ্যই আপনাকে সেলোটেপের বড় রোল কিনতে হবে। আর সেলোটেপ লাগানোর জন্য কাগজের রোলের ব্যবস্থা ও করতে হবে।

Raw materials for making sellotape
সেলোটেপ তৈরীর কাঁচামাল

সেলোটেপ তৈরীর কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

সেলোটেপ তৈরির কাঁচামাল কেনার জন্য আপনাকে যেতে হবে আপনার এলাকার কাছাকাছির বড় পাইকারি বাজারে। অর্থাৎ আপনার বাড়ি যদি পশ্চিমবঙ্গে হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে আসতে হবে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় পাইকারিং বাজার অর্থাৎ কলকাতার বড় বাজারে। আর আপনার বাড়ি যদি বাংলাদেশে হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে আসতে হবে ঢাকার চকবাজার পাইকারি মার্কেটে। কলকাতার বড়বাজার এবং ঢাকার চকবাজারে সেলোটেপ তৈরির কাঁচামাল আপনি পেয়ে যাবেন খুবই অল্প মূল্যে। আর আপনি যদি বড় আকারের সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করেন তাহলে আপনি সরাসরি ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি থেকে নিতে পারেন সেলোটেপের বড় রোল। আপনার ব্যবসা যতটা বড় সেই অনুযায়ী আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে আপনার সুবিধার্থে কোন বড় পাইকারি বাজার থেকে কাঁচামাল কিনলে আপনি বেশি লাভবান হবেন।

অবশ্যই পড়ুন- গাড়ি ধোয়ার ব্যবসা করুন বিনা পুঁজিতে

সেলোটেপ তৈরীর মেশিনের দাম কত?

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই সেলোটেপ তৈরীর মেশিন কিনতে হবে। আর সেলোটেপ তৈরীর মেশিন কেনার জন্য আপনাকে জানতে হবে কতগুলো মেশিনের মধ্য দিয়ে বাজারে বিক্রি করার সেলোটেপ তৈরি হয়ে আসে। সাধারণত আপনি যদি ছোট সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসায়ী হন তাহলে অবশ্যই আপনাকে দুটো সেলোটেপ তৈরীর মেশিন কিনতে হবে। আর আপনি বড় ব্যবসায়ী হলে অটোমেটিক মেশিন দিয়ে সেলোটেপ তৈরি করতে পারেন। তবে বর্তমানে সেলোটেপ তৈরি করার জন্য যে মেশিন গুলি ব্যবহার করা হয় তা হল-

  • সেলোটেপ রোলিং মেশিন- 60 থেকে 80 হাজার টাকা
  • পেপার রোল কাটিং মেশিন- 20 থেকে 40 হাজার টাকা
  • অটোমেটিক সেলোটেপ মেকিং মেশিন- 80 হাজার থেকে 1 লক্ষ টাকা

সেলোটেপ তৈরীর মেশিন কোথায় পাওয়া যায়?

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে অল্প দামে কাঁচামালের সাথে সাথে অল্প দামে ভালো মেশিন কিনতে হবে। আর আপনার অল্প দামে ভালো মেশিন কেনার জন্য অবশ্যই একটি বড় মেশিন নির্মাতা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাই আপনাদের সুবিধার্থে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বড় বড় মেশিন নির্মাতা কোম্পানির নাম ফোন নাম্বার দিয়ে দেওয়া হল। আপনারা চাইলে এই সকল কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে সেলোটেপ তৈরির মেশিন কিনতে পারেন সাথে কাঁচামাল কিনতে পারেন।

এছাড়া আপনি যদি বাংলাদেশে থেকে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি ফোনে অনলাইনে অর্ডার করে এইসব মেশিন কোম্পানির কাছ থেকে মেশিন কিনে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে পারেন। আবার আপনারা চাইলে সরাসরি indiamart, amazon ও আলিবাবা ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন প্রকারের মেশিন দেখে পছন্দ করে কিনতে পারেন। তবে মনে রাখবেন অনলাইনে থেকে মেশিন কিনলে তার যান্ত্রিক গোলযোগ এর জন্য আপনাকে আলাদা করে মেকানিক দিয়ে সারাতে হবে কিন্তু আপনি যদি সরাসরি মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি থেকে কেনেন তাহলে আপনার মেশিনের উপরে ওয়ারেন্টির পাশাপাশি সার্ভিস ও পেয়ে যাবেন।

সেলোটেপ তৈরির প্রশিক্ষণ কোথায় হয়?

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই সেলোটেপ বানানো শিখতে হবে। তবে সেলোটেপ তৈরি করা খুবই সহজ কাজ, যা আপনি কয়েক ঘন্টার প্রশিক্ষনেই শিখে যাবেন। আবার আপনি এই প্রশিক্ষণ নিতে পারেন যে মেশিন নির্মাতা কোম্পানির কাছ থেকে মেশিন কিনছেন সেখান থেকেই। আসলে আলাদা করে সেলোটেপ তৈরি করার প্রশিক্ষণ কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয় না, তাই এর প্রশিক্ষণ নেবার জন্য আপনাকে মেসিন নির্মাতা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। অথবা যারা সেলোটেপ তৈরির ব্যবসা করছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। প্রতিটা সেলোটেপ তৈরীর মেশিন নির্মাতা কোম্পানি মেশিন বিক্রির পাশাপাশি সেলোটেপ বানানোর ট্রেনিং ও আপনাকে দিয়ে দেবে।

কিভাবে সেলোটেপ তৈরি করা হয়?

বর্তমানে সেলোটেপ তৈরি করা খুবই সহজ একটি কাজ যা আপনি খুব সহজেই করতে পারবেন বিনা ট্রেনিং নিয়েই। আপনি চাইলে ইউটিউবের সেলোটে তৈরি করা শিখতে পারেন অথবা আজকের এই পোস্ট পড়ে আপনি অনেকটাই আইডিয়া করে কাজ শুরু করতে পারেন। যে পদ্ধতিতে সেলোটেপ বানিয়ে আপনি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন তা হল-

  • সেলোটেপ রোলটি মেশিনের সাথে যুক্ত করুন।
  • যতটা চওড়া আপনি সেলোটেপ বানাতে চান সেই অনুযায়ী কাগজের রোলটি কেটে নিন।
  • তারপর সেলোটেপ রোলিং মেশিনে প্রতিটা কাগজের রোল সুন্দর করে লাগিয়ে দিন এবং সেলোটেপের একটি প্রান্ত এই কাগজের ওপর লাগিয়ে মেশিন চালিয়ে দিন।
  • মেশিন চলতে থাকলে অটোমেটিক পদ্ধতিতে কাগজের রোলের উপরে সেলোটেপ জুড়তে থাকবে।
  • নির্দিষ্ট সময়ে সেলোটেপ রোলিং হয়ে গেলে আবার মেশিন বন্ধ হয়ে যাবে অটোমেটিক ভাবে।
  • তারপর প্রতিটা সেলোটেপ জড়ানো রোল বের করে নিন এবং বাজারে বিক্রি করার জন্য একসাথে প্রস্তুত করে ফেলুন।
  • মনে রাখবেন মেশিনে সেলোটেপ রোল লাগানোর পরে পরিমাপ এবং সাইজ ঠিক করে দেবেন। অটোমেটিক মেশিনে এইসব সিস্টেম থাকার কারণে খুব সহজেই নির্দিষ্ট পরিমাণের সেলোটেপ রোল হয়ে বাজারে বিক্রি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

আরো পড়ুন- স্টুডিও ব্যবসা করুন

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা করার জন্য খুবই অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়। কারণ এর মেশিনের আয়তন খুবই ছোট হয়, যা আপনি চাইলে একটি 10/10 ঘরে নিঃসন্দেহে কাজ করে টাকা উপার্জন করতে পারেন। তবে আপনি যদি বড় করে সেলোটেপ কোম্পানি তৈরি করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে 100 বর্গফুটের একটি জায়গার প্রয়োজন পড়বে এবং এই জায়গার উপরে একটি বড় করে কারখানা বানানোর প্রয়োজন। তবে ব্যবসার শুরুটা যেহেতু আপনি ছোট করেই শুরু করতে চলেছেন তাই আপনার সুবিধার্থে আপনি যেকোনো ছোট জায়গাতেই এই ব্যবসার কাজ করতে পারেন। অর্থাৎ আপনি চাইলে আপনার বাড়িতেই একটি জায়গা নির্বাচন করে মেশিন বসিয়ে সেলোটেপ তৈরি করতে পারেন।

Cellotape making machine
সেলোটেপ তৈরীর মেশিন

সেলোটেপ ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স এর প্রয়োজন?

প্রতিটা ব্যবসার ব্যবসায়ীকে তার ব্যবসা শুরু করার আগে কয়েক প্রকার লাইসেন্স নিয়ে নিতে হয়। আপনি যদি ব্যবসার শুরুতে কোন লাইসেন্স না নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না। তবে আপনার ব্যবসা যত বড় হতে থাকবে তত বিভিন্ন আইনে জটিলতার সম্মুখীন আপনাকে হতে হবে। তাই আইনি জটিলতা থেকে এড়ানোর জন্য প্রতিটা বড় ব্যবসায়ীর মতো আপনাকেও আপনার ব্যবসার জন্য বিভিন্ন রকমের লাইসেন্স নিতে হবে। এই ব্যবসা করার জন্য যে লাইসেন্স গুলি আপনাকে নিতে হবে তা হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স-প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসা সরকারের কাছে নথিভুক্ত করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। আপনি যেরকম ব্যবসা করুন না কেন আপনাকে আপনার ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স সরকার কাছ থেকে নিতেই হবে।
  • জি এস টি নাম্বার-ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসা করার জন্য জিএসটি নাম্বার নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। ব্যবসার আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে জিএসটি নাম্বার নিতে হবে। এছাড়া বড় ব্যবসায়ীদের সাথে আপনার ব্যবসা করার ক্ষেত্রে অর্থাৎ ব্যবসার লেনদেনের ক্ষেত্রে GST নাম্বারের ভূমিকা অপরিহার্য বর্তমান সময়ে।
  • কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক লাইসেন্স- বর্তমান সময়ে ব্যবসা করতে গেলে কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক এর জন্য অবশ্যই আগে আপনাকে আবেদন করতে হবে। আপনার ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক যদি আপনি বাড়ির ইলেকট্রিক থেকে নিয়ে শুরু করেন তাহলে আপনাকে অনেক আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে। তাই বাড়ির 220 ইলেকট্রিকের পরিবর্তে আপনাকে অবশ্যই কমার্শিয়াল ইলেকট্রিকের জন্য আবেদন করতে হবে ইলেকট্রিক দপ্তরে।
  • কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট-ব্যবসার বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের জন্য কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট থাকা অবশ্যই দরকার প্রতিটি ব্যবসায়ীর। আপনি যখন ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনার ব্যবসা করার ক্ষেত্রে যাতে কোন আর্থিক সমস্যার মধ্যে না পড়তে হয় তাই আপনাকে একটি কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট রাখতে হবে।
  • নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র-আপনি যে দেশের নাগরিক সেই দেশের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নিয়ে আপনাকে আপনার ব্যবসা শুরু করতে হবে। আইনি জটিলতা থেকে এড়ানোর জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের কপি অবশ্যই আপনার কাছে থাকা অত্যন্ত জরুরী।

এইসব লাইসেন্সগুলি নেবার জন্য আপনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে বর্তমান সময়ে অনলাইনে যুগে আপনি চাইলে প্রতিটা লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করে পেয়ে যেতে পারেন। সকল প্রকার লাইসেন্সের জন্য নূন্যতম দুই থেকে তিন হাজার টাকা আপনার খরচ হবে।

অবশ্যই পড়ুন- কাগজের খাম তৈরির ব্যবসা

সেলোটেপের প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়?

সিলেটেপ বাজারে দোকানে পাইকারি কিভাবে বিক্রি করতে হলেও আপনাকে এর প্যাকেজিং সুন্দর করে পড়তে হবে। তাই 5 টা থেকে 10 টা করে সেলোটেপ একসাথে প্যাকেজিং করে বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করুন। এছাড়া কাস্টমারের কাছে আপনার তৈরি সেলোটেপ দ্রুততার সাথে বিক্রির জন্য প্রতিটা সেলোটেপকে আলাদা করে আপনি প্যাকেজিং করে সুন্দর করতে পারেন। এবং প্যাকেজিংয়ের সময় আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ড নেম সেলোটেপ প্যাকেজিং প্লাস্টিকের ওপর লাগাতে পারেন।

সেলোটেপের মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

যেকোনো ব্যবসার মার্কেটিং যত সুন্দর করে করা যাবে তত বেশি পরিমাণে লাভবান হওয়া যাবে সেই ব্যবসায়। তাই সেলোটেপ তৈরির ব্যবসা করতে গেলেও আপনাকে খুব ভালোভাবে মার্কেটিং করতে হবে। তাই যে পদ্ধতিতে আপনি মার্কেটিং করলে সফল হতে পারবেন তা হল-

  • আপনি যেখানে ব্যবসা শুরু করছেন সেই এলাকার আশেপাশের প্রতিটি মুদিখানা দোকান, বই দোকান, এবং হার্ডওয়ারসের দোকানে সেলোটেপ পাইকারি দরে বিক্রি করতে পারেন।
  • আপনার এলাকার হোলসেল ডিস্ট্রিবিউটার এর কাছে প্রতিদিন পরিমাণ মতো সেলোটেপ বিক্রি করতে পারেন।
  • কলকাতার বড়বাজার অথবা বাংলাদেশের চকবাজার পাইকারি মার্কেটে পাইকারি দরে সেলোটেপ বিক্রি করা যায়।
  • বিভিন্ন এলাকাতে একাধিক ডিস্ট্রিবিউটার তৈরি করে আপনি আপনার ব্যবসার মার্কেটিং বানাতে পারেন।
  • আবার আপনি বিভিন্ন এলাকাতে মার্কেটিং সেলসম্যান তৈরি করে বিক্রি বাড়াতে পারেন।
  • অ্যামাজন ফ্লিপকার্ট ইন্ডিয়ামার্ট এর মত ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলিতে একটি বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে সেলোটেপ বিক্রি করতে পারেন।
  • আপনার নিজস্ব কোম্পানির ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতিদিন নিত্য নতুন পোষ্টের মধ্য দিয়ে নিত্যনতুন সাইজের সেলোটেপ বিক্রি করতে পারেন।
  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে পেজ তৈরি করে প্রতিদিন নিত্যনতুন পোস্ট এবং ভিডিও আপলোড করে সেলোটেপের বিক্রি বাড়াতে পারেন।

সেলোটেপ তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

একটা মেশিন প্রতি ঘন্টায় 1200 সেলোটেপ তৈরি করতে পারে। আপনি যদি 5 থেকে 6 ঘন্টা প্রতিদিন মেশিন চালিয়ে কাজ করে সেলোটেপ তৈরি করেন তাহলে প্রতিদিন 10 হাজার সেলোটেপ বানাতে পারবেন। বাজারে পাইকারি দামে সেলোটেপ বিক্রি করলে প্রতি সেলোটেপে লাভ থাকবে 2 টাকা থেকে 3 টাকা। প্রতিদিন 10 হাজার সেলোটেপে আপনার লাভ থাকবে 2 হাজার টাকা। আর প্রতিদিন 2000 টাকা করে লাভ হলে প্রতি মাসে আপনি 60 হাজার টাকা খুব ভালোভাবে আয় করতে পারবেন। ব্যবসার শুরুর দিকে এই 30 হাজার টাকা করে প্রতি মাসে আয় করলেও 5-6 মাসের মধ্য আপনার প্রতি মাসে 60 হাজার টাকা আয় হয়ে দাঁড়াবে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

কত ধরনের সেলোটেপ বাজারে বিক্রি হয়?

উত্তর: 8 থেকে 10 ধরনের সেলোটে বর্তমানে বাজারে বিক্রি হয়।

সেলোটেপ তৈরীর মেশিনে কি ধরনের সেলোটেপ বানানো যায়?

উত্তর: সিলোটেপের কাঁচামাল যে কালারের এবং যে মানের হবে সেই ধরনের সেলোটেপ আপনি বানাতে পারবেন। সেলোটেপ তৈরীর মেশিন এর সকল প্রকার সেলোটেপ বানানো যায়।

ব্রাউন সেলোটেপ কিভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: ব্রাউন সেলোটেপ এবং ট্রান্সপারেন্স সেলোটেপ দুটো একই পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়।

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা শুরু করতে কত পুঁজি লাগে?

উত্তর: 70 হাজার টাকা থেকে 80 হাজার টাকা সিলেটের তৈরির ব্যবসা শুরু করতে লাগবে।

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা কোথায় শুরু করা যায়?

উত্তর: গ্রাম কিংবা শহরের যে কোন জায়গাতেই আপনি সেলোটেপ তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসায় আয় কত?

উত্তর: 60 হাজার টাকা থেকে 80 হাজার টাকা প্রতি মাসে আয় করতে পারেন সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসা থেকে

নতুন নতুন ব্যবসা আইডিয়া দেখুন-

ছাতা তৈরির ব্যবসা

হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং কি?

Leave a Comment