লজেন্স তৈরির ব্যবসা করে প্রতিদিন 3 হাজার টাকা আয় | Candy making business right now

লজেন্স ছোট বাচ্চা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সকলের খুব প্রিয় খাদ্যবস্তু। আপনি যদি সব মানুষের জন্য লজেন্স তৈরির ব্যবসা নিজে এলাকায় শুরু করেন তাহলে আপনি এই ব্যবসা থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। 70% লজেন্স বাচ্চারা খেলেও 30% লজেন্স বড়রা খায়। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যে দেশে লজেন্স বিক্রি হয় না এবং লজেন্স ব্যবসা জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। তাই আপনি যদি আপনার এলাকায় লজেন্স তৈরীর কারখানা শুরু করে লজেন্স তৈরির ব্যবসা শুরু করেন সে ক্ষেত্রে আপনি প্রচুর টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবে। তাই আজ এই পোস্টে লজেন্স তৈরির ব্যবসার সম্বন্ধিত যাবতীয় তথ্য দেওয়া হল যা পড়ে আপনার এই ব্যবসার সংক্রান্ত সাময়িক ধারণা তৈরি হবে এবং ব্যবসা করার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা পাবেন।

Table of Contents

লজেন্স তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? (How much money does it take to make candy?)

লজেন্স তৈরির ব্যবসার ছোট করে শুরু করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে 50 হাজার টাকা থেকে 70 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। যেহেতু লজেন্স মেশিন অল্প দামে কিনতে পাওয়া যায় তাই ব্যবসার বিনিয়োগ কম লাগে। তবে আপনি যদি হ্যান্ডমেড মেশিন চেনেন সে ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা 50-60 হাজার টাকা বিনিয়োগে হয়ে যাবে। আর আপনি যদি অটোমেটিক মেশিন কিনে লজেন্স তৈরির ব্যবসা শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে কমপক্ষে 8 থেকে 10 লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এক কথায় বলা যায় আপনার কাছে যেমন অর্থ আছে তেমন অর্থ দিয়েই এই ব্যবসা করা যাবে। অল্প টাকা বিনিয়োগ করলে আপনি প্রতি মাসে অল্প টাকা লাভ করবেন আবার বেশি টাকা বিনিয়োগ করলে আপনি বেশি টাকা লাভ করবেন।

লজেন্স তৈরীর কাঁচামাল কি কি? (What are the raw materials for making lozenges?)

লজেন্স তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে জানতে হবে লজেন্স তৈরি করার কাঁচামাল সম্পর্কে। সাধারণত লজেন্স তৈরি করার প্রধান কাঁচামাল হিসেবে চিনির ব্যবহার হয় তা আমরা জানি কিন্তু একটি লজেন্স তৈরি করার জন্য তিনি ছাড়া আরো বহু জিনিসের প্রয়োজন পড়ে। যেমন-

  • চিনি
  • চিনি গুড়া বা সুগার পাউডার
  • সুগার সিরাপ
  • সাইট্রিক এসিড
  • ফুড কালার
  • বিভিন্ন ফ্লেভার
  • রেপিং প্লাস্টিক পেপার

ক্যান্ডি তৈরির কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়? (Where to buy raw materials for making candy?)

ক্যান্ডি বা লজেন্স তৈরির কাঁচামাল কেনার জন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার নিকটবর্তী যে কোন পাইকারি দোকান থেকে কিনতে হবে। কারণ ক্যান্ডি তৈরির প্রায় সকল প্রকার কাঁচামাল আপনার এলাকার যেকোনো বড় মুদিখানা দোকান বা বড় পাইকারি বাজারে পেয়ে যাবেন। যদি রেপিং প্লাস্টিক পেপার না পান সে ক্ষেত্রে শহরের বড় বাজার থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। লজেন্স তৈরির রেপিং প্লাস্টিক আবার আপনি নিজে ব্যান্ডের ছাপিয়েও নিতে পারেন। তবে আপনি যদি বড় আকারের লজেন্স তৈরির ব্যবসা শুরু করেন সেই ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই কলকাতার বড়বাজার অথবা বাংলাদেশের চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে সব প্রকার কাঁচামাল কিনতে হবে।

কারণ আপনি যদি বড় ধরনের পাইকারি মার্কেট থেকে সব কাঁচামাল একত্রিতে কেনেন সে ক্ষেত্রে আপনার খরচ অনেক কম পড়বে আপনার এলাকার বড় পাইকারি দোকান থেকে কেনার খরচের থেকে। আপনি চাইলে আপনার এলাকায় যে সকল কাঁচামাল পাওয়া যায় না সেই সব কাঁচামাল গুলি অনলাইনে ইন্ডিয়া মার্ট ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মতো কিনতে পারেন। বর্তমান ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইটে প্রায় সব প্রকার কাঁচামাল সহ মেশিন বিক্রয় হয়ে থাকে। আবার তৈরি হওয়া কেন্দ্রীয় এই ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইটে বিক্রি করা যায়।

অবশ্যই পড়ুন- দুধের ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয়

লজেন্স তৈরি করতে কি ধরনের মেশিন লাগে? (What kind of machine is needed to make lozenges?)

লজেন্স তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে লজেন্স তৈরির মেশিন সম্পর্কে জানতে হবে। সাধারণত লজেন্স তৈরি মেশিন দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটা হ্যান্ড মেশিন যা হাতে চালিয়ে লজেন্স তৈরি করা হয়। আরেকটি অটোমেটিক ক্যান্ডি মেকিং মেশিন। এই অটোমেটিক মেশিনে 50 কেজির বেশি ক্যান্ডি প্রতিদিন তৈরি করতে পারবেন। তবে হ্যান্ডমেড মেশিনের থেকে অটোমেটিক মেশিনের দাম বহুগুণ বেশি।

  1. ড্রপ রোলার মেশিন (হ্যান্ড মেড)
  2. অটোমেটিক ক্যান্ডি মেকিং মেশিন (3 টি মেশিন একত্রিতে)
Candy making machine
লজেন্স তৈরির মেশিন

লজেন্স তৈরির মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়? (Where to buy Candy making machine?)

লজেন্স তৈরির মেশিন আপনি পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের কোন মেশিন নির্মাতা কোম্পানির কাছে পাবেন না। কারণ এই ধরনের মেশিন এখানের মেশিন নির্মাতা কোম্পানিগুলো এখনো তৈরি করা শুরু করেনি। কারণ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ লজেন্স তৈরির ব্যবসায় সেভাবে শুরু করেনি। এই মেশিন কেনার জন্য আপনাকে ভারতের অন্য রাজ্যে যেখানে এই মেশিন তৈরি হয় সেখান থেকে অর্ডার করতে হবে। তাই আপনাদের সুবিধার্থে এই রকম বেশ কিছু মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানির যোগাযোগ নাম্বার নিচে দেওয়া হল-

  • Company-Merari Traders, Ravipuram, Maharastra, Contact-8850626633
  • Rachna Udyog, 16/145, St. Francis School Road, Ghatia Azam Khan Chowk, Agra- 282003, Uttar Pradesh, Contact: +919837157528 +919837939275
  • Dhiman Engineers, Dakhni Gate, Naodar- 144040, Jalandhar, Punjab Contact;: 00911821220300 Mobile: +919915420900


আপনারা চাইলে অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকে ড্রপ রোলার মেশিন এবং অটোমেটিক ক্যান্ডি মেকিং মেশিন কিনতে পারেন।

ক্যান্ডি তৈরির মেশিনের দাম কত? (How much does the candy making machine cost?)

লজেন্স তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে লজেন্স তৈরি করার জন্য মেশিন কিনতে হবে। আর এই মেশিন অল্প দামে যেমন পাওয়া যায় তেমন অনেক বেশি দামের ও পাওয়া যায়। আপনি কি দামের মেশিন কিনবেন এবং কেমন ধরনের ব্যবসা করতে চাইছেন তার ওপর নির্ভর করবে মেশিনের দাম এবং কোয়ালিটি। সাধারণত ক্যান্ডি তৈরি করার জন্য যে ক্যান্ডি তৈরির মেশিন আমাদের লোকাল পাইকারি বাজারে পাওয়া যায় তা খুব একটা ভালো কোয়ালিটির হয় না। তাই এই মেশিন বাইরে থেকে অর্ডার দিয়ে নিয়ে আসতে হয়। আপনাদের সুবিধার্থে লজেন্স তৈরির মেশিনের দামের একটি তালিকা দেওয়া হল-

ড্রপ রোলার মেশিন- 35 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

অটোমেটিক মেশিন যেহেতু তিনটি ভাগে ভাগ করা হয় তাই এই তিন ধরনের মেশিনের দামও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

  1. ব্যাচ কুকার মেশিন- 1 লাখ টাকা থেকে 1.5 লাখ টাকার মতো।
  2. ব্যাচ রোলার মেশিন- 3 লাখ টাকা থেকে 4.5 লাখ টাকার মত দাম।
  3. পিলো প্যাকেজিং মেশিন- 2.5 লাখ টাকা থেকে 3.5 লাখ টাকা দাম।

লজেন্স কিভাবে তৈরি করা হয়? (How are candy made?)

লজেন্স তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে লজেন্স তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে। সাধারণত লজেন্স তৈরি করার জন্য ট্রেনিং নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কারণ লজেন্স বিভিন্ন ফ্লেভারের যেমন হয়ে থাকে তেমন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তাই লজেন্স তৈরির ট্রেনিং নেওয়ার জন্য আপনি যেখান থেকে মেশিন কিনবেন সেখান থেকেই নিতে পারেন। তবুও আপনাদের সুবিধার্থে লজেন্স তৈরি করার জন্য একটি ফর্মুলা দেওয়া হল-

  • চিনি – ৫০০ গ্রাম
  • সুগার সিরাপ – ১২০ মিলি
  • সাইট্রিক এসিড( পাউডার)- ৫-৭ গ্রাম
  • ফুড কালার- পরিমান মত
  • ফ্লেবার- পরিমান মত
  • জল- ৩৫০- ৩৭০ মিলি

ড্রপ রোলার মেশিনে ক্যান্ডি তৈরির পদ্ধতি

  • পরিমাণ মতো চিনি, সুগার সিরাপ, সাইট্রিক এসিড, ফুড কালার এবং ফ্লেভার মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
  • এই মিশ্রণটি ভালো করে গরম করে যখন তরলে পরিণত হবে তখন তা সরিয়ে নিন।
  • মিশ্রিত তরলটি সমতল পরিষ্কার জাগায় ঢেলে দিন।
  • এরপর চিনির গুড়া বা সুগার পাউডার ওপরে একটু ছড়িয়ে ভালো করে হাত দিয়ে মারতে থাকুন।
  • হাত দিয়ে মাখার ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই হাওয়ালে গিয়ে মিশ্রণটি অনেকটাই শক্ত হয়ে যাবে।
  • তখন মিশ্রণটিকে ড্রপ রোলার মেশিন এর মধ্য দিয়ে হাত দিয়ে রোলিং করলে ক্যান্ডি তৈরি হয়ে যাবে।
  • এরপর আরো ঠান্ডা হয়ে গেলে ক্যান্ডি গুলিকে ভেঙে রেপিং পেপারে মোড়ে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন।

আরো পড়ুন- আইসক্রিম তৈরির ব্যবসা

অটোমেটিক মেশিনে ক্যান্ডি তৈরির পদ্ধতি

  • ব্যাচ কুকার মেশিনে পরিমাণমতো চিনি, সুগার সিরাপ, সাইট্রিক অ্যাসিড, ফুড কালার এবং ফ্লেভার মিশিয়ে দিতে হয়।
  • ব্যাচ কুকার মেশিন ধীরে ধীরে এই মিশ্রণটিকে গরম করে তরলে পরিণত করে। তারপর মিশ্রিত তরল টিকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ব্যাচ রোলার মেশিনে।
  • ব্যাচ রোলার মেশিন সাধারণত লজেন্স তৈরির জন্য ব্যবহার হয়। ব্যাচ রোলার মেশিনের নির্দিষ্ট সাইজের লজেন্স তৈরি করার জন্য নির্দিষ্ট ডাইস লাগানো থাকে।
  • ব্যাচ রোলার মেশিনে ক্যান্ডি তৈরি হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং ঠান্ডা হয়ে শক্ত হয়ে যায়।
  • এরপর মেশিন দিয়ে এগিয়ে চলে আসে পিলো প্যাকেজিং মেশিনে।
  • পিলো প্যাকেজিং মেশিন এর মধ্য লজেন্স প্যাকেজিং করার জন্য প্লাস্টিক দেওয়া থাকে, যার মধ্যে লজেন্স শিল প্যাক হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।
  • এরপর লজেন্সি নিয়ে কাগজের কার্টুনের মধ্যে ভরে বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা যেতে পারে।

লজেন্সের প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়? (How is the packaging of candy done?)

লজেন্সের প্যাকেজিং করার জন্য যে র‍্যাপিং পেপার ব্যবহার করা হয় তা আপনি রেডিমেড কিনতে পারেন বাজার থেকে। তবে আপনি যদি নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করে লজেন্স তৈরির ব্যবসা করতে চান, সেক্ষেত্রে এই র‍্যাপিং প্লাস্টিকের ওপর কোম্পানির নাম্বার ব্র্যান্ড নেম হিসেবে লজেন্স নেম ছাপাতে হবে। তবে ক্যান্ডি তৈরির ব্যবসা যে সকল ব্যবসায়ী বর্তমানে করেন তারা সকলেই নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করেই লজেন্সের জন্য রেপিং প্লাস্টিক ছাপিয়ে থাকেন।

বাজারে যে ধরনের লজেন্স বর্তমানে বিক্রি হয়ে থাকে তা দেখে নিয়ে আপনি সেই ধরনের প্লাস্টিক রাপিং পেপার ছাপিয়ে নিয়ে নিজস্ব কোম্পানির লজেন্স গুলি বাজারে বিক্রি করতে পারেন। মনে করবেন যে জিনিসটা যতো বেশি সুন্দর দেখতে লাগবে তার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি বাড়বে। আর লজেন্স যেহেতু বাচ্চারা বেশি পরিমাণে খায় তাই এর প্যাকেজিং প্লাস্টিক ও আকর্ষণীয় দেখতে হওয়ার ভীষণ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ক্যান্ডি তৈরির ব্যবসা করতে কি ধরনের লাইসেন্স লাগে? (What kind of license is required to make candy?)

ক্যান্ডি তৈরীর ব্যবসা বা লজেন্স ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে একাধিক লাইসেন্স নিতে হবে। যে কোন ব্যবসার জন্য যেমন একজন ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স নিতে হয় তেমনি এই ব্যবসা করার জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে। যেহেতু লজেন্স খাবার জিনিস তাই অবশ্যই আপনাকে ফুড ডিপার্টমেন্টের লাইসেন্স অবশ্যই নিতে হবে। আবার যে রাজ্যে আপনি ব্যবসা করবেন সেই রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী একটি ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গুলি আপনাকে নিতে হবে। সাধারণত যে সকল লাইসেন্স নিয়ে আপনি এই ব্যবসা করতে পারেন তা হল-

  1. ট্রেড লাইসেন্স
  2. FSSAI লাইসেন্স
  3. GST নাম্বার
  4. NOC রেজিস্ট্রেশন
  5. MSME রেজিস্ট্রেশন
  6. ফায়ার সেফটি লাইসেন্স
  7. কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক
candy making business
লজেন্স ব্যবসা

লজেন্স ব্যবসার মার্কেটিং কিভাবে করা হয়? (How is the marketing of Candy business done?)

লজেন্স ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে সঠিকভাবে মার্কেটিং করতে হবে। যেহেতু বাজারে বহু কাল থেকে বিভিন্ন লজেন্স কোম্পানি তাদের নিত্যনতুন লজেন্সের প্রোডাক্ট বিক্রি করছে, তাই আপনি যখন লজেন্স তৈরির ব্যবসা শুরু করবেন সেই ক্ষেত্রে আপনাকেও ব্যাপকভাবে মার্কেটিং এর ওপর জোর দিতে হবে। আর তাই লজেন্স তৈরির ব্যবসায় আধুনিক পদ্ধতিতে মার্কেটিং এর ওপর একটু বেশি জোর দিতে হবে। যে পদ্ধতিতে মার্কেটিং করলে আপনার ব্যবসা দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাবে এবং সফলভাবে করা যাবে তা হল-

  • আপনার এলাকার আশেপাশের সমস্ত পাইকারি দোকানে লজেন্স বিক্রি করতে পারেন।
  • আপনার কোম্পানির নামে অথবা লজেন্সের নামে ছোট ছোট স্টিকার তৈরি করে দোকানে লাগাতে পারেন।
  • ছোট-বড় বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটার তৈরি করে তাদের মারফত এলাকার প্রতিটি দোকানে লজেন্স বিক্রি করা যায়।
  • ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম এ পেজ তৈরি করে লজেন্স নিয়ে বিভিন্ন ছবি এবং লেখা পোস্ট করতে পারেন। ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম পেজ যত জনপ্রিয়তা লাভ করবে তত আপনার ব্যবসার ও অর্গানিক বিজ্ঞাপন হয়ে যাবে।
  • ফেসবুক গুগল ইউটিউবে অল্প টাকা খরচ করে আপনি লজেন্সের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • বড় বড় পাইকারি বাজারে বা বড় বড় পাইকারি দোকানে ক্যান্ডি পাইকারি দামে বিক্রি করতে পারেন।
  • নিজস্ব কোম্পানির নামে ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে আপনি ই-কমার্স বিজনেসের মধ্য দিয়ে ক্যান্ডি বিক্রি করতে পারেন।
  • অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়া মাট এর মত ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলিতে বিজনেস অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের লজেন্সের ছবি পোস্ট করুন এবং অনলাইনে লজেন্স বিক্রি করুন।
  • ছোট ছোট পোস্টার ছাপিয়ে ইলেকট্রিক পোষ্টের ওপর লাগান এবং জনগণের সম্মুখে আপনার ব্যবসাটি তুলে ধরুন।
  • বাচ্চাদের স্কুল এবং বড়দের স্কুলের সামনে বড় বড় ব্যানার ছাপিয়ে লজেন্সের বিজ্ঞাপন দিলে দ্রুততার সাথে বাচ্চাদের মধ্য আপনার কোম্পানির লজেন্স সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে এবং খাওয়ার ইচ্ছা বাড়বে।
  • স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রিতে লজেন্স ক্যান্ডি বিলি করতে পারেন এবং বাচ্চাদের মধ্যে তা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

অবশ্যই পড়ুন- ঘর রং করার ব্যবসা এখন 0 পুঁজি বিনিয়োগে

ক্যান্ডি তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন হয়? (How much space is needed to make candy?)

আপনি যদি হ্যান্ডমেড মেশিন কিনে ক্যান্ডি তৈরি করেন সে ক্ষেত্রে আপনার 10/10 এর একটি ঘর হলেই ক্যান্ডি তৈরির ব্যবসা শুরু করা যায়। আর আপনি যদি অটোমেটিক মেশিন কিনে ক্যান্ডি তৈরি করার ব্যবসা শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে কমপক্ষে 500 বর্গফুট থেকে 1 হাজার বর্গফুটের একটি ঘরের বা কারখানার প্রয়োজন পড়বে। তবে ব্যবসার শুরুটা আপনি হ্যান্ড ড্রপ রোলার মেশিন কিনেই শুরু করুন। কারণ ব্যবসা সম্পর্কে আপনার ধারণাও তৈরি হবে এবং মার্কেটটাও ধরার ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধা হবে অল্প টাকায় ছোট করে ব্যবসা শুরু করলে।

ক্যান্ডি তৈরির ব্যবসায় লাভ কত? (How much is the profit in the candy making business?)

ক্যান্ডি তৈরির ব্যবসায় লাভ হয় অনেক বেশি পরিমাণে কারণ এই ব্যবসা কোনদিনই বন্ধ হওয়ার নয় এবং বছরের প্রতিটি দিন এই ব্যবসা অমর নিয়ে চলে। কারণ লজেন্স এমন একটি জিনিস যা প্রতিটি বাচ্চা থেকে বড়রা সবাই ভীষণ পছন্দ করে। বোঝার সুবিধার জন্য বলা যেতে পারে এক কেজি লজেন্স তৈরি করতে খরচ হবে আপনার 85 টাকা থেকে 100 টাকার মত। আর সেই 1 কেজি ক্যান্ডি বিক্রি করতে পারেন 140 টাকা থেকে 150 টাকা দামে। অর্থাৎ এক কেজি ক্যান্ডি বিক্রি করে আপনার লাভ হতে পারে কমপক্ষে 60 টাকা থেকে 80 টাকার মত।

প্রতিদিন আপনি যদি 50 কেজি ক্যান্ডি বানান সে ক্ষেত্রে 2.5 হাজার টাকা থেকে 4 হাজার টাকা লাভ করতে পারেন। আর প্রতিদিন আপনি যদি চার হাজার টাকা করে আয় করা শুরু করেন প্রতি মাসে আপনি 1 লক্ষ টাকা থেকে 1.5 লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন। ব্যবসার শুরুতে প্রতিদিনে 2 হাজার টাকা আয় করা সম্ভব না হলেও 1000 টাকা আপনি অবশ্যই আয় করতে সক্ষম হবেন। ধীরে ধীরে আপনার ব্যবসা যত জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং আপনি ব্যাপকভাবে মার্কেট ধরতে পারবেন তত বেশি আপনি লাভ করা শুরু করবেন।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

লজেন্স তৈরির মেশিনের দাম কত?

উত্তর: 30 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকার মতো।

ক্যান্ডি তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: ৫০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা লাগে ক্যান্ডি তৈরির ব্যবসা করতে।

লজেন্স তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: ছোট করে এই ব্যবসা করতে হলে 10/10 ফুটের একটি ঘরের প্রয়োজন পড়ে।

ক্যান্ডি তৈরির মেশিন অনলাইনে কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

উত্তর: অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকে এর মেশিন কিনতে পাওয়া যায়।

লজেন্স তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: প্রতিদিন 2.5 হাজার টাকা থেকে 4 হাজার টাকা লাভ হয় লজেন্স তৈরির ব্যবসা করে।

সুগার ক্যান্ডি কি দিয়ে তৈরি হয়?

উত্তর: চিনি, সুগার সিরাপ, ফুড কালার, সাইট্রিক এসিড এবং ফ্লেভার দিয়ে তৈরি করা হয় সুগার ক্যান্ডি।

1 টা লজেন্স তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয়?

উত্তর: 10 পয়সা থেকে 25 পয়সা খরচ হয় একটা লজেন্স তৈরি করতে

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা

ব্যবসা করে প্রতিমাসে 5 লক্ষ টাকা আয়

Leave a Comment