রিয়েল এস্টেট কি? রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সফল হওয়ার চাবিকাঠি | Real estate is the key to business success ,1

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথেই রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ও চরম বিকাশ হচ্ছে। অর্থাৎ দিনে দিনে মানুষের চাহিদা বাড়ছে ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে স্থায়ী বাসস্থানের চিন্তা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বড় করার পেছনে থাকছে। একবিংশ শতাব্দীতে যেভাবে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে এবং তাদের স্থায়ী বাসস্থানের জন্য রিয়েল এস্টেট গড়ে উঠছে। এছাড়া শিল্প উন্নয়নের জন্য মানুষের ব্যবহৃত অফিস, দোকান, শপিংমল, কমপ্লেক্স সবই এই ব্যবসার মধ্য অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

Table of Contents

রিয়েল এস্টেট কি? (What is real estate?)

বিভিন্ন জায়গা জমিয়, রাস্তাঘাট, সম্পত্তি, ভবন, স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাকে রিয়েল এস্টেট বলা হয়। সাধারণত ইংরাজি শব্দ রিয়েল এস্টেট এর বাংলা অর্থ হল আবাসন-সম্পত্তি। অর্থাৎ আপনার জায়গা সম্পত্তি ভবন অফিস সবগুলোকেই একত্রে রিয়েল এস্টেট বলা হয়ে থাকে। আর যারা এইসব জিনিস উন্নয়নের কাজ করে তাদেরই রিয়েল এস্টেট কোম্পানি বলা হয়।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা কি? (What is real estate business?)

বিভিন্ন জায়গায় জমি ক্রয় করে সেই জমিতে নতুন বিল্ডিং তৈরি করে সেই বিল্ডিং বিভিন্ন মানুষকে বিক্রয় করার কাজের সমগ্র প্রক্রিয়াকে রিয়েল এস্টেট (Real Estate) ব্যবসা বলা হয়। এক কথায় বলতে গেলে বলা হতে পারে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বলতে জায়গা জমি কিনে নতুন বাড়ি, ফ্ল্যাট, অফিস তৈরি ব্যবসাকে।

এই ব্যবসা এতটা জটিল যে কিছু সময় অনেক অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেন। তবে দ্রুততার সাথে যদি আপনাকে ধনী হতে হয় তাহলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা আপনাকে সেই পথ খুলে দেবে। বর্তমানে যত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রয়েছে তারা সবাই এই ব্যবসা করে দ্রুততার সাথে ধনী হয়েছেন এবং ধনী হয়ে চলেছেন।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পরিকল্পনা (Real Estate Business Plan)

রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পরিকল্পনা আগে আপনাকে তৈরি করে নিতে হবে। কারণ বর্তমান সময়ে এত পরিমান এ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী রয়েছেন তাদেরকে পেছনে ফেলে আপনাকে যদি ব্যবসায়ী উন্নতি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আপনার আগে বিজনেস প্ল্যানিং রেডি করতে হবে। তবে মনে রাখবেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার অভিজ্ঞতা অনেক জরুরী এই ব্যবসা করার জন্য। আপনার যদি কোনরকম অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে শুরুতেই আপনি এই ব্যবসা না করে আগে ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। অর্থাৎ কোন বড় রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সাথে যুক্ত হয়ে বেশ কিছুদিন কাজ করে নিজের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুন।

আপনি যত অভিজ্ঞ হবেন ততই আপনার ব্যবসা পরিচালনার জন্য আপনার সুবিধা হবে। কারণ রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুধুমাত্র নতুন নতুন আবাসন অফিস আদালত তৈরি করা নয়, তার পাশাপাশি জায়গা কেনাবেচারও এক বড় ভূমিকা থাকে। এক্ষেত্রে আপনি যদি অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন তাহলে আপনার কেনাবেচা করতে অনেক সুবিধা হবে এবং আপনি ঠকবেন না।

Real estate business plan
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পরিকল্পনা

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? ((How much does it cost to run a real estate business?)

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। আর এই ব্যবসায় নগদ অর্থের সব সময় যোগান দেওয়া আবশ্যিক। তবে আর এক রকম ভাবে আপনি যদি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করেন তাহলে আপনার টাকার প্রয়োজন পড়বে না। সাধারণত রিয়েল স্টেট ব্যবসার জন্য জায়গা কেনা, নতুন আবাসন তৈরি করা সমগ্র পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য আপনার বিপুল পরিমাণের অর্থের প্রয়োজন পড়বে। তাই আপনার ব্যবসার জন্য অবশ্যই স্থায়ীভাবে টাকা লোকনীর উৎস থাকা জরুরী।

এর জন্য আপনি চাইলে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা লোন নিতে পারেন, তবে তা আপনার বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে ব্যাংক লোন দেবে। অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেন হঠাৎ করে পরিকল্পনা না করে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ না করা ভালো। তবে আপনার কাছে যদি অল্প পরিমাণ আর পুঁজি থাকে আপনি ছোট করে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ছোট করে ব্যবসা শুরু করলে আপনার ব্যবসার লস খাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম হবে এবং ছোট করে ব্যবসা করলে আপনি শিখতে পারবেন ধীরে ধীরে বড় হওয়ার উপায়।

রিয়েল এস্টেট এজেন্ট কিভাবে কাজ করে?

আপনি যদি টাকা ছাড়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হয়ে কাজ শুরু করতে হবে। কারণ রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এর কোন অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় না রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতে কিন্তু ব্যবসা থেকে ইনকাম করা যায় প্রচুর পরিমাণে। কারণ বড় বড় প্রোমোটাররা যখন কোন আবাসন তৈরি করে বা জায়গা জমি বিক্রি করে, তখন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এর কাজ থাকে সেই আবাসনের ফ্ল্যাট গুলি কাস্টমারকে বিক্রি করা বা জায়গা গুলি কাস্টমারকে বিক্রি করে একটা পার্সেন্টেজ টাকা উপার্জন করা।

এক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সর্ব প্রধান কাজ হয় ফ্ল্যাট জায়গা জমি ক্রয় ও বিক্রয়ের লেনদেনের দালাল হিসাবে কাজ করা। এবং জায়গা জমিও ফ্ল্যাটের ক্রয় ও বিক্রয় থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে কমিশন গ্রহণ করা। তাই আপনার কাছে যদি কোনরকম টাকা না থাকে কিন্তু আপনার কথা বলার এবং মানুষকে বোঝানোর ক্ষমতা থাকে তাহলে আপনি রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হতে পারেন। রিয়েল এস্টেট এজেন্টের ইনকাম অনেক বেশি হতে পারে কোনরকম পুঁজি বিনিয়োগ না করেই।

অবশ্যই পড়ুন- ইন্টেরিয়র ডিজাইন ব্যবসা করুন 0 পুঁজি বিনিয়োগ করে

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

প্রত্যেকটা ব্যবসার মতো এই ব্যবসা করার জন্য লাইসেন্স নিতে হবে। সাধারণত রিয়েল এস্টেড ব্যবসার শুরুতে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে নিতে হয় আপনার ব্যবসা করার জন্য। এছাড়াও এই ব্যবসা করতে গেলে বিভিন্ন আইনি সমস্যার সম্মুখীন যাতে আপনাকে না হতে হয় তার জন্য অবশ্যই আপনাকে জমির রেজিস্ট্রেশন নিউট্রেশনের নানা কাগজপত্র সর্বদা রাখতে হবে এবং তা করিয়ে নিতে হবে। আপনার ব্যবসার শুরুতেই অবশ্যই আপনাকে জি এস টি নাম্বার নিয়ে নিতে হবে কারণ সরকারের কাছে আইনি টাকা-পয়সার লেনদেন হিসাবে জিএসটি নাম্বার প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই নিতে হচ্ছে।

রিয়েল এস্টেটের অর্থনীতি গত বৈশিষ্ট্য কি কি?

রিয়েল এস্টেট এর অর্থনীতিগত অনেক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় এবং তা অবশ্যই আপনার ব্যবসা করার আগে বুঝতে হবে। যাতে আপনার ব্যবসা করার সময় কোনরকম সমস্যা না হয় এবং আপনার সুবিধার জন্য রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সংক্রান্ত সকল তথ্য আগে থেকে আপনাকে জোগাড় করতে হবে। অর্থনীতিগত যে বৈশিষ্ট্য গুলি লক্ষ্য করা যায় তা হল-

  • যে জায়গার ওপরে আপনি আবাসন তৈরি করবেন তার মালিকানা আইনগত দিক থেকে জায়গার মালিক।
  • কোন জায়গার ওপরে যখন বিল্ডিং তৈরি করে উন্নতি সাধন করা হবে তখন সেই জায়গার মূল্যের পরিবর্তন হবে।
  • জায়গা জমির পরিবর্তন ব্যক্তিগত স্বার্থে করা হয় আর এই উন্নতি সাধনের জন্য সেই জায়গার দামেরও পরিবর্তন হয়।
  • কোন বাড়ির যদি মেরামতি করে উন্নতি সাধন করা হয় তাহলে সেই বাড়ির ও মূল্যের পরিবর্তন হয়।
  • সরকারি কাজে যদি আপনি জায়গার ওপর রাস্তা ও ফুটপাত তৈরি করে থাকেন সেটাও জায়গার উন্নতি সাধন বলা হয়ে থাকে।
  • একটা বিল্ডিং তৈরি করে ভেঙে ফেলা পর সেই জায়গার অর্থনীতি গত মূল্য কমে যায়।
  • অনুন্নত শীল জায়গাতে আপনি যদি বাড়ি রাস্তা তৈরি করে উন্নতি সাধন করেন তাহলে তার আশেপাশের জায়গারও মূল্য বেড়ে যায়।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা কিভাবে কাজ করে?

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে সর্বপ্রথম উন্নত ও অনুন্নত জায়গাতে এমন কিছু জায়গার সন্ধান বা জমির সন্ধান করতে হবে যেখানে আপনি বড় বা ছোট আবাসন তৈরি করে বিক্রি করতে পারবেন। এর জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া গুলিতে ফাঁকা জায়গা ক্রয় করে মাটি ফেলে জায়গার উন্নতি সাধন করে তার ওপরে আপনি যদি বড় আবাসন তৈরি করেন তা বিক্রি করার জন্য এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার বহু কাস্টমার আপনি পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আপনাকে আপনার ব্যবসার জন্য একাধিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে যাদের প্রধান কাজ হবে আপনার তৈরি আবাসনের প্রতিটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা বা আপনি যে জায়গাটি বিক্রি করতে চাইছেন তা বিক্রি করে দেওয়া।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুধুমাত্র ব্রোকার বা সেলসম্যানদের দ্বারাই চলে কারণ এই ব্যবসা করার জন্য মানুষকে বোঝানো এবং মানুষের সাহায্য করার দ্বারাই সম্ভব। বর্তমানে রিয়েল স্টেট এর কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এমন অনেক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রয়েছে যারা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কোন না কোন জায়গায় চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে বুঝতে হবে কোন সময় কোন এলাকাতে জায়গা জমির দাম কম রয়েছে। কম দামি জায়গা কিনে রেখে পরে যখন জায়গার দাম বাড়বে তা বিক্রি করে দেওয়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসার অংশ।

আরো পড়ুন- মিষ্টির ব্যবসা শুরু করুন অল্প পুঁজি দিয়ে

যোগাযোগের জন্য অফিস ঘর নির্মাণ

আপনি যখন ব্যবসা শুরু করবেন তখন কাস্টমারের যোগাযোগের জন্য অবশ্যই আপনাকে একটি অফিস নির্মাণ করতে হবে। আর এই অফিস নির্মাণের জন্য এমন একটি জায়গা নির্বাচন করতে হবে যা রাস্তার ধারে এবং জনবহুল পরিচিত বাজার এলাকায় হয়ে থাকে। বিভিন্ন কাস্টমারের বিভিন্ন ধরনের রিকয়ারমেন্ট থাকে অর্থাৎ কেউ জায়গা কিনতে চায়, কেউ জায়গা বিক্রি করতে চাই। আবার কেউ ফ্ল্যাট কিনতে চায়, আবার কেউ ফ্ল্যাট বানাতে চায়। সকল প্রকার রিকোয়ারমেন্ট সম্পন্ন আপনাকে হতে হবে। আপনাকে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার অফিসে এসে কোন কাস্টমার ফিরে না যেতে পারে, অর্থাৎ তাদের চাহিদা মত আপনাকে পরিষেবা দিতে হবে।

এছাড়া রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের বসার জন্য এবং তাদের সাথে মিটিং করার জন্য আপনাকে একটি অফিস নির্মাণ করতে হবে। তাই এমন একটি জায়গায় আপনাকে অফিস স্থাপন করতে হবে যা সকলের গ্রহণযোগ্য এবং যেখানে সবাই খুব সহজেই পৌঁছাতে পারবে। ব্যবসাকে বড় করার পিছনে অফিসের গুরুত্ব অনেক থাকে। এর জন্য আপনার অফিসের ভেতরে সুন্দর করে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করতে হবে, এবং দেখতে হবে যাতে অফিসটা সর্বদা সুন্দর দেখতে লাগে। কারণ যখন কোন কাস্টমার আপনার অফিসে আসবে তারা যাতে আপনার অফিস দেখে ভালো লাগে এবং আপনাকে তাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী অর্ডার দেয়।

রিয়েল এস্টেট মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

যে কোন ব্যবসা বড় করার পেছনে মার্কেটিং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি যদি আপনার ব্যবসায় সঠিক পদ্ধতিতে সুন্দর করে মার্কেটিং করতে পারেন আপনার ব্যবসা ও দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাবে। তাই যে পদ্ধতিতে আপনি ভালো করে মার্কেটিং করতে পারবেন তা হল-

  • আপনি নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন এবং এই ওয়েবসাইটে প্রতিদিন নিত্যনতুন রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত পোস্ট করতে থাকুন। দেখবেন দ্রুততার সাথে ওয়েবসাইট মানুষের কাছে সুপরিচিত লাভ করবে এবং এখান থেকে বহু কাস্টমার আপনি পেয়ে যাবেন।
  • ফেসবুক ইনস্টাগ্রামও ইউটিউবে পিএনজি তৈরি করে সেখানে রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত পোস্ট প্রতিদিন করতে থাকুন এবং এখান থেকে আপনি পেয়ে যাবেন বহু সাধারণ মানুষকে যারা তাদের স্বপ্নের বাড়ি বা স্বপ্নের জায়গা কিনতে চাইছে।
  • আপনি যে জায়গায় আবাসন তৈরি করেছেন তার প্রতিটা ফ্ল্যাটের দাম কত করে রেখেছেন তা বুঝে ফ্লেক ছাপিয়ে বিভিন্ন জনবহুল মোড় বা রাস্তার ধারে লাগান।
  • আপনার রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন হিসাবে আপনি পোস্টার ছাপিয়ে বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় দেয়ালে দেওয়ালে লাগাতে পারেন এবং প্রচার বৃদ্ধি করতে পারেন।
  • রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার দিয়ে আপনি আপনার জায়গার মূল্য বৃদ্ধি করিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।
  • রিয়েল এস্টেট এজেন্ট নিয়োগ করে দ্রুততার সাথে আপনার ব্যবসার বৃদ্ধি ঘটাতে পারেন ও মার্কেটিং সফলভাবে করতে পারেন।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দ্বারা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করে আপনি আপনার ব্যবসা বাড়াতে পারেন।
  • আপনার ব্যবসাতে একটি আর্কিটেকচার নিয়োগ করে প্রতিটা বাড়ি সুন্দর ডিজাইন তৈরি করে কাস্টমারকে বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে ভালো সুন্দর ডিজাইনের বাড়ি তৈরি করার জন্য প্রায় প্রতিটা রিয়েল এস্টেট মালিক আর্কিটেকচার দিয়ে ডিজাইন তৈরি করেন।

রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কি করে?

একজন রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের প্রধান কাজ যে কোন রিয়েল এস্টেট এর মূল্য দ্রুততার সাথে বাড়ানো। অর্থাৎ আপনি যে রিয়েল এস্টেট কয় বিক্রয় করছেন বা যাহাতে আপনি আবাসন তৈরি করে বিক্রি করতে চাইছেন তা একজন ডেভেলপার কি পদ্ধতিতে আরো বেশি আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন তা ঠিক করে। তাই প্রতিটা রিয়েল স্টেট ব্যবসায় একাধিক রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারকে নিয়োগ করা হয়। এই রিয়েল এসটেড ডেভেলপারকে এক ধরনের দালাল ও বলা যেতে পারে কারণ এর রিয়েল এস্টেট ডেভেলাপ করার সাথে সাথে জায়গা জমির ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিপত্রগুলিও তৈরি করেন। কারণ একজন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি চাইলেই তাদের রিয়েল এস্টেট গুলিকে জনসাধারণের কাছে বিক্রি করতে পারেনা কারণ তাদের একজন ডেভেলপারের প্রয়োজন পড়ে যে সমস্ত চুক্তিপত্র তৈরি করবে।

Real Estate
রিয়েল এস্টেট

রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি কিভাবে পাওয়া যায়?

রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে সুন্দরভাবে বিভিন্ন ভাষাতে কথা বলতে স্বাবলম্বী হতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি ভারতীয় কোন রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ইংলিশ, হিন্দি এবং স্থানীয় ভাষা জানতে হবে। এবং প্রতিটা ভাষাতে আপনাকে সুন্দরভাবে মানুষকে বোঝানোর ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। আপনি যদি ভালভাবে কোন মানুষকে বোঝাতে পারেন এবং তাদেরকে বুঝিয়ে রিয়েল এস্টেট বিক্রি করতে সক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি যেকোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করতে পারবেন।

একপ্রকার রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি জন্য আপনাকে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না কারণ একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে শুধু রিয়েল এস্টেট এজেন্ট থাকে না তার পাশাপাশি অফিস ম্যানেজমেন্ট এবং একাউন্টেন্টের প্রয়োজন পড়ে। তাই আপনি কোন বিষয়ে বেশি দক্ষ তা বুঝে যে কোন রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে আপনি আবেদন করতে পারেন।

অবশ্যই পড়ুন- বুটিক ব্যবসা শুরু করুন অল্প পুঁজিতে

রিয়েল এস্টেট আইন কি?

রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জন্য অবশ্যই আপনাকে রিয়েল এস্টেট আইন সম্পর্কে জানার প্রয়োজন আছে। কারণ বর্তমান নিয়ে ভারতে রিয়েল এস্টেটের 39 টা আইনের ধারা রয়েছে। আর এই 39 টা আইনের ধারাকে সাত ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। প্রতিটা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে এই সকল আইন মেনে ব্যবসা করতে হয়। তাই আপনিও যখন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে এই আইন গুলি মেনেই ব্যবসা করতে হবে। রিয়েল এস্টেট আইন গুলি হল-

  1. কোম্পানির শিরোনাম ও প্রবর্তন
  2. রিয়েল এস্টেট সংজ্ঞা
  3. রিয়েল এস্টেট প্রযোজ্যতা
  4. রিয়েল এস্টেট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা
  5. রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার নিবন্ধন
  6. রিয়েল স্টেট ডেভলপারের দায়ী দায়িত্ব
  7. ভূমির মালিক কর্তৃক রিয়েল এস্টেট নির্মাণ
  8. রিয়েলি স্টেট ক্রয়-বিক্রয় এর শর্তাবলী
  9. ভূমি মালিক ও ডেভেলপার এর মধ্যে চুক্তি
  10. হস্তান্তর দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন
  11. রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সুবিধা
  12. রিয়েল এস্টেট এর সেবামূলক কাজ
  13. রিয়েল এস্টেট এর মূল্য পরিশোধের নিয়মাবলী
  14. রিয়েল এস্টেটের ক্রেতা কর্তৃক মূল্য প্রদানের ব্যর্থতার নিয়মাবলী
  15. রিয়েল এস্টেড ডেভেলপার কর্তিক রিয়েল এস্টেট হস্তান্তরে ব্যর্থতা
  16. রিয়েল এস্টেট বন্ধক
  17. ক্রেতা কর্তৃক অর্থ গ্রহণের নিয়মাবলী
  18. রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন কাজ করার নিয়ম
  19. রিয়েল এস্টেটস স্থাপত্যের নকশা বা দলিল হস্তান্তর পত্র
  20. অনুমোদন ছাড়া রিয়েল এস্টেট কাজ করার দন্ড
  21. সেবা সমূহের সংযোগ প্রদান না করার দন্ড
  22. নোটিশ ব্যতিরেকে কাজ স্থগিত করার দন্ড
  23. রিয়েল এস্টেট বন্ধক রাখার দণ্ড
  24. চুক্তিবদ্ধ রিয়েল এস্টেট পরিবর্তন করার দন্ড
  25. অনুমোদিত নকশা বাইরে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার দন্ড
  26. প্রতিশ্রুতিমূলক নির্মাণ উপকরণ না ব্যবহার করার আইন
  27. রিয়েল এসটেড ডেভেলপার দ্বারা প্রতারণামূলক আইন
  28. জমির মালিক দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ে ডেভেলপার জমির দলিল হস্তান্ত না করার আইন
  29. জমির মালিক দ্বারা সম্পাদিত হস্তান্তর নামা বাতিলের আইন
  30. রিয়েল স্টেট ডেভেলপার দ্বারা জমির মালিকের অংশ না বুঝে কাজ করার আইন
  31. রিয়েল এস্টেট কোম্পানির দ্বারা অপরাধ হওয়া আইন
  32. অপরাধ বিচার্য গ্রহণ আইন
  33. বিচার ব্যবস্থার প্রাধান্যতা
  34. অর্থদণ্ড অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান
  35. আয়করা অর্থ বন্টনের আইন
  36. বিরোধ নিসপত্তিমূলক আইন
  37. রিয়েল এস্টেট চলমান প্রকল্পের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ
  38. রিয়েল এস্টেট বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
  39. রিয়েল এস্টেট হেফাজত সংক্রান্ত বিশেষ বিধান।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় লাভ কত?

আপনি যখন রিয়েল এস্টেড ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন এই ব্যবসায় লাভ হয় এত বেশি পরিমাণে টাকা যা অন্য কোন ব্যবসা থেকে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ বোঝার সুবিধার্থে বলা যেতে পারে, যদি একটা বাড়ি তৈরি করতে রিয়েল এস্টেট কোম্পানির খরচ হয় 30 লক্ষ টাকা তাহলে কাস্টমারকে সেই বাড়িটার প্রতিটা ফ্ল্যাট বিক্রি করবে কোম্পানি, 40 থেকে 60 লক্ষ টাকাতে। অর্থাৎ একটা প্রজেক্ট তৈরি করে বিক্রি করলে লাভ থাকতে পারে তিন থেকে চার গুণ বেশি। বর্তমানে রিয়েল এস্টেড কোম্পানী রা 10 লাখ টাকার টাকার ঘরকে 50 লাখ টাকায়ও বিক্রি করতে পারে আবার 70 টাকায় বিক্রি করতে পারে। তাই রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করে সবচেয়ে বেশি দ্রুততার সাথে ধনী হওয়া যায়।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা কোথায় করা যায়?

উত্তর-রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শহরে এবং শহর অঞ্চলে আপনি করতে পারেন। আবার উন্নতশীল ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকাতেও করা যেতে পারে। গ্রামে রিয়েল স্টেট ব্যবসা করলে লাভের পরিমাণ অল্প হবে।

রিয়েল এস্টেট এজেন্ট কি করে?

উত্তর: রিয়েল এস্টেট এজেন্ট বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট বিক্রি করার জন্য দালালির কাজ করে।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করতে কত টাকার প্রয়োজন?

উত্তর: রিয়েল স্টেট ব্যবসা আপনি কোথায় করছেন এবং কিভাবে করছেন তার ওপরে নির্ভর করবে ব্যবসার বিনিয়োগ। তবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হয়।

রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কি?

উত্তর: রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিটা রিয়েল স্টেট চুক্তিপত্র সহ মূল্য নির্ধারণের কাজ করে।

রিয়েল এস্টেট আর্কিটেকচার এর কাজ কি?

উত্তর: রিয়েল এস্টেট আর্কিটেকচার এর কাজ সুন্দর সুন্দর ডিজাইন তৈরি করে কাস্টমারকে দেখানো এবং সেই অনুযায়ী আবাসন নির্মাণ করা।

রিয়েল এস্টেট অফিস কোথায় করা যায়?

উত্তর: যেকোনো শহরাঞ্চলের রাস্তার ধারে বা জমজমাট পূর্ণ বাজার এলাকাতে রিয়েল এস্টেট অফিস তৈরি করা যায়।

রিয়েল এস্টেট কোম্পানি কিভাবে তৈরি করা যায়?

উত্তর: রিয়েল এস্টেট এর কাজ করতে করতে আপনার অভিজ্ঞতা বাড়লে, আপনি বেশি অর্থ বিনিয়োগ করে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি তৈরি করতে পারেন যা বিভিন্ন জায়গা জমি কেনা বেচা সহ বিভিন্ন আবাসন নির্মাণের সক্ষম হবে।

একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্টের মাসিক ইনকাম কত?

উত্তর: 5 থেকে 10 লক্ষ টাকা প্রতি রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ইনকাম করতে পারেন, আবার বিভিন্ন জায়গা জমির কমিশন অনুযায়ী তাদের এই উপার্জন কমবেশি হতে পারে

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

মুড়ি ভাজার ব্যবসা করে প্রতিদিন 3000 টাকা আয়

সেলুন ব্যবসা আধুনিক পদ্ধতিতে

Leave a Comment