মোবাইল দোকানের ব্যবসা | মোবাইল ফোনের ব্যবসা করে মাসে 50 হাজার টাকা আয় করুন | Mobile phone business right now

আপনি হয়তো অনেকদিন থেকে ভাবছেন মোবাইল ফোনের ব্যবসা করবেন। কিন্তু কীভাবে পড়বেন কোথায় থেকে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করবেন এর সম্পর্কে আপনি বেশি কিছু জানেন না, তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য আমাদের আজকের এই পোস্ট মোবাইল ফোনের ব্যবসা।
আমরা সবাই জানি বর্তমানে মানুষের জীবনের সাথে যেভাবে মোবাইলফোন জড়িয়ে গেছে তাতে করে মোবাইল ফোন ব্যবহার বাড়তেই থাকবে। এই জন্য সবচেয়ে লাভজনক একটি ব্যবসার মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবসা অন্যতম। বর্তমানে মানুষ টাকা পয়সা রাখার জন্য ওয়ালেট ব্যবহার করেনা।

কারণ সমস্তকিছুই মোবাইল ফোনের মধ্য দিয়ে সম্ভব বর্তমান সময়ে। কোন কিছু খাবার অর্ডার করা থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু জিনিসে অর্ডার এবং টাকা প্রেরন করা সমস্ত তাই সম্ভব মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। তাই দিনে দিনে মোবাইলফোনের ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন একদল ব্যবসায়ী। আপনিও যদি মোবাইল ফোনের ব্যবসা করেন তাহলে আপনাকে আপনার সংসার চালানোর চিন্তা করতে হবে না, কারণ এই মোবাইল ফোনের ব্যবসা থেকে এত পরিমান টাকা আপনি ইনকাম করতে পারবেন যা একটা সংসার নয় দশটা সংসার চালানো সম্ভব হবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন মোবাইল ফোনের ব্যবসা বর্তমান সময়ে কতটা লাভজনক ব্যবসা।

এই আধুনিক সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না এইরকম মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী 1990 থেকে 2021 সাল পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা 9 বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে প্রতিটা বাড়িতে একাধিক মোবাইল ফোন থাকে তাই মোবাইল ফোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। আর এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমান সারাবিশ্বে মোবাইল ব্যবহারকারী মানুষের পরিমাণ 87% এর বেশি। এই কারণে আপনি যদি মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন। চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে মোবাইল ফোনের ব্যবসা আপনি করবেন তা সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য।

Mobile store business
মোবাইল দোকানের ব্যবসা

Table of Contents

মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

মোবাইল ফোনের ব্যবসা করার জন্য আপনাকে মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফোন কোম্পানি সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য জানতে হবে। বিভিন্ন মোবাইল ফোন বিভিন্ন প্রযুক্তির সাথে বাজারে লঞ্চ করে বিভিন্ন কোম্পানি। প্রতিটা কম্পানিজ মোবাইলের রেট এক এক রকম হয়। আবার বিভিন্ন কোম্পানি মোবাইল বিক্রি করার কমিশন বিভিন্ন রকম ভাবে দিয়ে থাকে। তবে সাধারণ অর্থে একটি মোবাইল ফোনের দোকান ব্যবসা শুরু করতে হলে অবশ্যই আপনাকে কমপক্ষে 1 লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করতে হবে। মোবাইল ফোনের ব্যবসা যেমন খুব সহজ কাজ তেমনি এই ব্যবসা করতে অনেক পুঁজির শুরুতে প্রয়োজন পড়ে না।

মোবাইল দোকানের ব্যবসা শুরু করতে হলে যেমন আপনি এক লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন আবার আপনি চাইলে 10 লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন। আপনি আপনার মোবাইল ফোনের ব্যবসাটি কেমন ভাবে করতে চাইছেন এবং অতটা বড় করে পড়তে চাইছেন তার ওপরে নির্ভর করবে খরচের পরিমাণ। একটা ছোট দোকান ভাড়া নিয়ে অল্প কিছু মোবাইল ফোন শুরুতে তুলে আপনি মোবাইল ফোনের ব্যবসা ছোট করে শুরু করতে পারেন। আবার অনেক দামি দামি মোবাইল ফোন আপনার দোকানে রেখে আপনি আপনার ব্যবসাটি অনেক বড় করেও করতে পারেন।

মোবাইল ফোনের দোকান তৈরি

আমরা সবাই জানি বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন কতটা দরকারি প্রতিটা মানুষের কাছে। সেই কারণে প্রতিটা মানুষ মোবাইল ফোন কিনে থাকেন, কিন্তু তাই জন্য সঠিক দোকানও আপনাকে তৈরি করতে হবে মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করার আগে। সেই কারণে মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করার সবচেয়ে প্রথম প্রয়োজন মোবাইল ফোনের দোকান তৈরি করা। মোবাইল ফোনের দোকান টি অবশ্যই আপনাকে এমন জায়গায় তৈরি করতে হবে যে অঞ্চলে আপনি ব্যবসা করতে চাইছেন। দোকান করার আগে আপনাকে সেই এলাকার মার্কেট বুঝতে হবে। আসলে আপনি দোকান করলেই যে মোবাইল ফোন বিক্রি হবে এমনটা নয়, তাই অবশ্যই মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করার আগে সঠিক জায়গা নির্বাচন করে দোকান তৈরি করে ব্যবসা শুরু করুন।

মোবাইল ফোনের দোকান তৈরি করার সবচেয়ে ভালো জায়গা হচ্ছে একটি বড় বাজার, যেখানে লোকসমাগম বেশি পরিমাণে হয় সেই অঞ্চলে। লোকসমাগম বেশি হলে তারা আপনার মোবাইল দোকানে অবশ্যই আসবে এবং মোবাইল পছন্দ করে মোবাইল ফোন কিনে নিয়ে যাবে। আপনার কাছে অর্থ বেশি থাকলে আপনি দোকান কিনে কিংবা দোকান নিজে তৈরি করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আবার আপনার কাছে তুই কি কম থাকলে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

অবশ্যই পড়ুন- ব্যবসা করে কিভাবে হবেন সফল ব্যবসায়ী

মোবাইল দোকান কেমন ভাবে সাজাবেন

মোবাইল দোকানের ব্যবসা শুরু করতে হলে অবশ্যই দোকানটা সুন্দর করে সাজাতে হবে। দোকানে কাঠের সুন্দর ডিজাইনের দেয়াল আলমারি বানাতে হবে। প্রতিটা দেয়াল আলমারি থাকে থাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখবেন একের পর এক মোবাইল ফোন গুলি। এবং দোকানের লাইট পর্যাপ্ত পরিমাণে অবশ্যই রাখতে হবে যাতে কাস্টমার দোকানে এসে মোবাইল ফোন গুলি দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় এবং প্রত্যেকেই কিনতে চাই। মোবাইল ফোনের দোকান বাইরে থেকেও আপনাকে সুন্দর করে সাজাতে হবে।

পথচলতি সাধারণ মানুষের নজর যাতে আপনার দোকানের প্রতি পরে তার জন্য দোকানের বাইরে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফ্লেক্স দিয়ে সুন্দর করে দোকানটি সাজিয়ে তুলুন। দোকান যত দেখতে সুন্দর হবে ততো কাস্টমার আকর্ষণ অনুভব করবে আপনার দোকানের প্রতি। ততো বেশি পরিমাণে মোবাইল বিক্রি করতে পারবেন আপনি এবং মোবাইল ফোনের ব্যবসা করে সফল হবেন আপনি।
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনের দোকান সাজানোর জন্য আপনার 40 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ আপনি কেমন ভাবে দোকানটি সাজাতে চাইছেন তার সাজ সজ্জার ওপর নির্ভর করবে খরচের পরিমাণ টা।

মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?(What is the license required to do mobile phone business?)

ভারত কিংবা বাংলাদেশ আপনি যেখানেই থাকুন না কেন মোবাইল ফোনের ব্যবসা করার জন্য অবশ্যই আপনাকে একটি ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স নেবার জন্য আপনি বর্তমানের অনলাইন পদ্ধতি এপ্লাই করতে পারেন। অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স এর ওয়েবসাইট রয়েছে সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে ফরম ফিলাপ করে 2000 টাকা থেকে 3000 টাকা খরচ করে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এরপর আপনার ব্যবসা যখন আস্তে আস্তে বড় হতে থাকবে এবং আপনি আপনার ব্যবসা থেকে প্রতিমাসে 3 লক্ষ থেকে 4 লক্ষ টাকা ইনকাম করতে থাকবেন তখন আপনাকে ভারতের নিয়ম অনুযায়ী GST লাইসেন্স নিতে হবে।

অনলাইন পদ্ধতিতে যেমন লাইসেন্স নেয়া যায়, এছাড়াও অফলাইনে আপনি যদি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস কিংবা বিডিও অফিস অথবা কর্পোরেশন অফিস এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
এছাড়া আপনি যে কোম্পানির মোবাইল ফোন বিক্রি করবেন আপনার দোকানে সেই কোম্পানির সাথে ডিলারশিপ এর কাগজপত্র আপনার প্রয়োজন পড়বে। প্রতিটা মোবাইল ফোন কোম্পানির আলাদা আলাদা করে ডিলারশিপ আপনাকে নিতে হবে। তারপরেই আপনি সেই সকল কোম্পানির মোবাইল ফোন খুব অল্প দামে কিনে মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি যে দোকান ভাড়া নিয়ে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করছেন সেই দোকানের সমস্ত একটি মেন্টের কাগজপত্র এবং দলিলের এক কপি জেরক্স আপনার প্রয়োজন পড়বে। সমস্ত কাগজপত্র এবং লাইসেন্স যদি আপনার কাছে সব সময় থাকে তাহলে আপনাকে কোনো আইনি জটিলতার মধ্যে কোন সময়ই করতে হবে না। আপনি নিঃসন্দেহে সমস্ত সমস্যা সমাধান করে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতে পারবেন।

মোবাইল ফোনের দোকান সিকিউরিটি ব্যবস্থা করা

যেহেতু মোবাইল ফোনের ব্যবসাতে অনেক দামি দামি মোবাইল ফোন আপনার দোকানে থাকবে তাই অবশ্যই আপনাকে সেই দামি দামি মোবাইল ফোনগুলোর জন্য সিকিউরিটি ব্যবস্থা করতে হবে। তাই জন্য আপনার দোকানে বিভিন্ন জায়গাতে সিসিটিভি ক্যামেরা আপনাকে লাগাতে হবে। CCTV ক্যামেরা লাগানো থাকলে আপনার দোকানে কোন সমস্যা হলে তার সমাধান খুব সহজেই আপনি বার করতে পারবেন। এছাড়াও যখন কোন চোর বা ছিনতাইবাজ আপনার দোকানে মোবাইল ফোন চুরির উদ্দেশ্যে আসবে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে চলেও যেতে পারে। তাই অবশ্যই আপনাকে মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করার সাথে সাথে দোকান সুরক্ষা রাখার জন্য সমস্ত দোকানটা সিসিটিভি ক্যামেরার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

mobile repairing store
মোবাইল মেরামতের দোকান

মোবাইল দোকানের ব্যবসা তে কি কি বিক্রি করা যেতে পারে?

স্বাভাবিকভাবে বর্তমানে মোবাইল দোকানের ব্যবসাতে প্রথমেই আপনি মোবাইল বিক্রি করছেন। মোবাইল ফোনের সাথে সাথে মোবাইলের যাবতীয় প্রোডাক্ট গুলি আপনার দোকানে রাখতে পারেন। যখন কোন মানুষের মোবাইল ফোন কেনা ছাড়াও মোবাইল ফোনের আনুষাঙ্গিক জিনিস এর প্রয়োজন পড়বে তখন সে যেন আপনার দোকানে এসে সেই জিনিসটা পেয়ে যায় এর দিকে অবশ্যই আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এই কারণে মোবাইল ফোনের সাথে সাথে মোবাইল ফোনের আনুষাঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিস গুলি আপনার দোকানের মধ্যে যেন থাকে। মোবাইল ফোনের আনুষাঙ্গিক জিনিস যার মধ্যে রয়েছে-

  • মোবাইল ফোনের চার্জার
  • মোবাইল ফোনের ব্যাটারি
  • ডাটা কেবিল কর
  • হেডফোন
  • ব্যাক কভার
  • স্ক্রীন প্রটেক্টর গ্লাস
  • মোবাইল ফোন হোল্ডার
  • মোবাইল ফোন স্ক্রীন ক্লিনিং স্প্রে
  • হ্যান্ড রিং
  • পাওয়ার ব্যাংক
  • ডাটা কেবিল ফ্যান
  • ডাটা কেবিল লাইট ইত্যাদি

এছাড়াও আরো বহু ধরনের প্রোডাক্ট রয়েছে। মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করলে আপনি ধীরে ধীরে আরও বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ফোনের আনুষাঙ্গিক প্রোডাক্ট গুলি আপনার দোকানে রেখে ব্যবসা করতে পারেন।

আরো পড়ুন- অটোমোবাইল পার্টস এর ব্যবসা

দোকানের জন্য যোগ্য কর্মচারী নিয়োগ

মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে যোগ্য কর্মচারী রাখতে। এখানে যোগ্য কর্মচারী বলতে এমন কয়েকজনকে দোকানে আপনাকে রাখতে হবে যারা মোবাইল ফোন সম্পর্কে অনেক কিছু জানে এবং প্রতিটা কাস্টমারকে দোকানে আসার পর তাদের পছন্দ অনুযায়ী তাদের কি মোবাইল ফোন বিক্রি করতে পারে। আবার বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনের ওপর বিভিন্ন রকমের কমিশন দোকানদারদের দেয়, তাই সেই ফোনগুলো যাতে কাস্টমারকে আগে বিক্রি করা যায় সেই জিনিসটা ও যেন একজন কর্মচারী ভালো করে করতে পারে সেই জিনিসটা আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

আপনি আপনার মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করার পরে পরেই এক থেকে দু’জন কর্মী আপনার দোকানে রাখতে পারেন। আপনি যত বেশি পরিমাণে মোবাইল ফোন বিক্রি করতে পারবেন ততো কোম্পানির কাছে আপনার সুনাম বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তীকালে কোম্পানি নিজের টাকা দিয়ে বিভিন্ন কর্মচারীকে আপনার দোকানে পাঠায় তাদের মোবাইল ফোন গুলো বিক্রি করার জন্য। এতে করে আপনাকে আলাদা করে কর্মী রাখার এবং সেই সব কর্মীদের মাইনে দেওয়ার চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

মোবাইল ফোনের মার্কেটিং কিভাবে করবেন

মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই মোবাইল ফোনের মার্কেটিং সম্পর্কে আপনাকে ন্যূনতম কিছু জিনিস করতে হয়। আপনার দোকান থেকে যাতে বেশি পরিমাণে আপনি মোবাইল বিক্রি করতে পারেন তার জন্য অবশ্যই আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। আপনি চাইলে এলাকায় এলাকায় একটি অটোতে মাইক লাগিয়ে মাইকিং করতে পারেন। বিভিন্ন বড় বড় মোর এবং গ্রামের মোর গুলিতে একটি করে ফ্লেক্স লাগিয়ে আপনার দোকানের প্রচার করতে পারেন। স্কুল কলেজ গেটের সামনে বড় বড় ফ্লেক্স হোডিং লাগিয়ে আপনার দোকানের সবচেয়ে ভালো প্রচার করা যায়। এছাড়াও এলাকায় এলাকায় পোস্টারিং করে আপনি আপনার দোকানের সুনাম বৃদ্ধি করতে পারেন। আবার আপনি চাইলে বর্ধমানের অনলাইন ওয়েবসাইট গুলিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনার দোকানের প্রচার করতে পারেন।

বর্তমানে গুগোল ম্যাপে এবং অনলাইনের একটি ওয়েবসাইট খুলে আপনি আপনার দোকানটি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য লিখতে পারেন। এতে করে মানুষ যখন ইন্টারনেটে আপনার দোকান খুজবে বা একটি ভালো ফোন দোকান খুঁজতে সেভ সর্বপ্রথম যাতে আপনার দোকান টি দেখতে পাই এর ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে। একবার আপনার ব্যবসার সুনাম মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেলে আপনার ব্যবসা কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে যাবে তা আপনি নিজেও হয়তো কল্পনা করতে পারবেন না। তবে মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরুর দিকে অবশ্যই আপনাকে বেশি পরিমাণে বিজ্ঞাপনের ওপর নজর দিতে হবে । যাতে সফল মানুষ আকৃষ্ট হয় আপনার দোকানের প্রতি এই দিকটা অবশ্যই দেখতে হবে।

পাইকারি মোবাইল মার্কেট কোথায় আছে?

বাংলাদেশে যে সকল বন্ধুরা থাকেন তারা অনেকেই গুগোল এ একটা জিনিসই সার্চ করেন মোবাইল ফোন এর পাইকারি মার্কেট কোথায় আছে। মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করতে হলে মোবাইল ফোনের পাইকারি মার্কেট থেকে আপনাকে মোবাইলফোন যেমন সংগ্রহ করতে হবে। তেমন আপনি চাইলে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সঙ্গে ডিলারশিপ নিলে সরাসরি তাদের কোম্পানি থেকে এসে আপনার দোকানে মোবাইল ফোন দিয়ে যাবে। তবে মোবাইল ফোন এর পাইকারি মার্কেট বাংলাদেশের দুই-একটি জাগাতে রয়েছে।

Mobile shop
মোবাইল দোকান

সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটে মোবাইলের পাইকারি বাজার

মোবাইলের পাইকারি বাজার হিসেবে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট ঢাকা গুলিস্থান এ অবস্থিত। তাই আপনারা চাইলে গুলিস্তানের যেকোন বাস ধরে সুন্দরবন সুপার মার্কেটে পৌছাতে পারেন। সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেট এ পৌঁছানের পর এখানে আপনি অনেক মোবাইল ফোনের পাইকারি দোকান পেয়ে যাবেন। তবে আপনি একমাত্র পাইকারি দামে মোবাইল নিতে হলে অনেকগুলো মোবাইল আপনাকে কিনতে হবে। খুচরা যদি মোবাইল কিনতে চান তাহলে আপনাকে আপনার নিকটবর্তী দোকান থেকে কেনা টাই বেশি লাভ যুক্ত হবে।

চাঁদনী মার্কেট মোবাইলের পাইকারি বাজার

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার চাঁদনী মার্কেট মোবাইল ফোনের বিস্তর পাইকারি বাজার রয়েছে। এই চাঁদনী মার্কেটে আপনি শুধু মোবাইল ফোন না মোবাইল ফোনের যেকোন সরঞ্জাম কিনতে পারেন। আবার আপনি চাইলে চাঁদনী মার্কেটে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির অফিস থেকে ডিলারশিপ গ্রহণ করতে পারেন। চাকরি মার্কেট মূলত ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্ট বিক্রি করে থাকলেও এই চাঁদনী মার্কেটে মোবাইল ফোন কম্পিউটার ল্যাপটপ সমস্ত জিনিস খুবই কম দামে বিক্রি হয়ে থাকে। আবার চাঁদনী মার্কেটের চোর বাজার সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল ফোন বিক্রির জন্য বিখ্যাত। আপনি আপনার মোবাইল ফোনের ব্যবসা শুরু করতে হলে নতুন মোবাইলের সাথে সাথে যদি পুরনো মোবাইল রাখতে চান তাহলে অবশ্যই চাঁদনী মার্কেট এর চোর বাজারে থেকে মোবাইল কিনে নিয়ে যেতে পারেন।

কলকাতার ধর্মতলা থেকে চাঁদনী মার্কেট হেঁটে 10 মিনিট সময় লাগে। এছাড়াও আপনি মেট্রো ধরে আসলে চাঁদনী মার্কেট মেট্রো স্টেশনে নেমে চাঁদনী মার্কেটে ঢুকতে পারবেন।
যেকোনো পাইকারি মার্কেট থেকে মোবাইল ফোন কিনতে হলে আপনাকে কমপক্ষে 10 টা মোবাইল ফোন কিনতে হবে। আপনি 10 টি দামি মোবাইল ফোন নিতে পারবেন না। যে কোন কোম্পানির দাম থেকে কমদামি সমস্ত মোবাইল ফোনে আপনি পেয়ে যাবেন।

সেরা ১০ টি মোবাইল ফোন কোম্পানি কি কি? (Top 10 Mobile Phone Companies)

বর্তমানে ভারত এবং বাংলাদেশ বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোন গুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় বড় এবং নামিদামি কোম্পানি গুলি হল-

  1. আইফোন (Apple iPhone)
  2. স্যামসাং (Samsung)
  3. শাওমি (Redmi)
  4. রিয়েলমি (Realme)
  5. ভিভো (Vivo)
  6. ওপ্পো (Oppo)
  7. হুয়াওয়ে (Huawei)
  8. ব্ল্যাকবেরি (BlackBerry)
  9. নোকিয়া (Nokia)
  10. জিও ফোন (Jio Phone)

অবশ্যই পড়ুন- অল্প পুজিতে ওষুধের ব্যবসার আইডিয়া

মোবাইল ফোনের ব্যবসায় লাভ কত? (What is the profit of mobile phone business?)

মোবাইল ফোনের ব্যবসায় লাভ অনেক হয়ে থাকে। তবে বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল ফোনে বিভিন্ন রকম কমিশন দেওয়ার জন্য লাভের পরিমাণ এক এক রকম হতে পারে। তাকে বলা যেতে পারে মোবাইল ফোন বিক্রি করলে আপনার এক একটি মোবাইল ফোন থেকে 15%-20% লাভ থাকবে। আবার আপনি যখন মোবাইল ফোনের বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করবেন তার জন্য আপনার লাভ থাকবে 30%-35% পর্যন্ত। বিশেষত কিছু কিছু বড় বড় কোম্পানি তাদের মোবাইল ফোন বিক্রি করলে বেশি বেশি কমিশন দিয়ে থাকে সে জায়গায় আপনার প্রতি মাসে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করে আপনি কম করে 50 হাজার টাকা এবং ব্যবসা ভালো হলে 3 লক্ষ টাকাও ইনকাম করতে পারেন

মোবাইল ফোনের ব্যবসায় কি কি সমস্যার সম্মুখীন আপনাকে হতে পারে

মোবাইল ফোনের ব্যবসা আপনি যখন করবেন তখন অবশ্যই আপনার নিকটবর্তী মোবাইল ব্যবসায়ী আপনাকে ব্যবসা করা থেকে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। আপনাকে চেষ্টা করতে হবে বাকি অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে একটু কম দামে মোবাইল ফোন বিক্রি করতে আবার বলা যেতে পারে অল্প লাভ রেখে মোবাইলফোন ব্যবসা শুরু করতে।
মোবাইল ফোনের পেছনে একেকটি যদি আপনি গিফট দেয়া শুরু করেন এতে অনেক বেশি পরিমাণে কাস্টমার আপনার মোবাইল দোকানের প্রতিবেশী করে আকৃষ্ট হতে পারে। এই ব্যবসায় তেমন লাশের কোন সম্ভাবনা নেই তবুও আপনাকে সাহসিকতার সাথে সততার সাথে ব্যবসা করে যেতে হবে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: মোবাইল ফোনের দোকান করতে কত টাকা খরচ হয়?

উত্তর: মোবাইল ফোনের ব্যবসা কিংবা মোবাইল ফোনের দোকান করতে আপনার খরচ হবে কম করে 2 লক্ষ টাকা।

প্রশ্ন: মোবাইল কোম্পানির ডিলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়?

উত্তর: যে কোম্পানির আপনি ডিলারশিপ নেওয়া ব্যবসা করবেন সেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনাকে আবেদন করতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি কোম্পানির ডিসট্রিবিউশন সেন্টারে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রশ্ন: মোবাইল দোকান তৈরি করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: একটি মোবাইল দোকান তৈরি করতে আপনার কমপক্ষে 8/10 ফুট এর জায়গা প্রয়োজন পড়বে। এছাড়াও আপনি যদি বড় করে দোকান করতে চান তাহলে আপনি বড় দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

প্রশ্ন: মোবাইল সার্ভিস সেন্টার কোথায় আছে?

উত্তর: প্রতিটি বড় বড় শহরে একাধিক মোবাইল সার্ভিস সেন্টার থাকে। আপনার ফোন যে কোম্পানির সেই কোম্পানির সার্ভিস সেন্টার আপনি গুগলে সার্চ করলে পেয়ে যাবেন। প্রতিটি শহরে একাধিক মোবাইল সার্ভিস সেন্টার প্রতিটা কোম্পানির থাকে।

প্রশ্ন: মোবাইল ফোনের দাম কখন কম থাকে?

উত্তর: বড় কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা বছরের শুরুতে প্রতিটি কোম্পানির মোবাইল ফোনের দাম কম রেখে বিভিন্ন অফার দেওয়া শুরু করে। তাই এই সকল সময় গুলিতে আপনি যদি মোবাইল ফোন কেনেন অনেক কম দামে মোবাইল পেয়ে যাবেন

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

দুধের ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয়

বোতল ক্লিনিং ব্রাশ তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment