মিষ্টির ব্যবসা শুরু করুন অল্প পুঁজি দিয়ে | Start a Sweets Business with Rs 1 Lakh, Right Now

আমরা সবাই জানি, বাঙালি মিষ্টির কত বড় দিবানা। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মিষ্টির ব্যবসা খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করছে শুধুমাত্র মানুষ এত বেশি পছন্দ করে তাই জন্য। সমগ্র ভারতে 40 লাখ মানুষ মিষ্টি ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত। ভারতের জনসংখ্যা অনুযায়ী মিষ্টির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা নগণ্য। আপনি যদি অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করতে চান মিষ্টির ব্যবসা তাহলে অবশ্যই আজকের এই পোস্ট সম্পূর্ণ ভালোভাবে পড়ুন। মিষ্টির ব্যবসা যেমন অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায়, তেমন এই ব্যবসায় লাভের পরিমাণও অনেক বেশি হয়ে থাকে, আবার এই ব্যবসাতে অল্প ঝুকি ও থাকে।

যেকোনো অনুষ্ঠান ও উৎসবে মানুষ মিষ্টান্ন ছাড়া অন্য কিছুর কথা ভাবতেই পারে না। তাই শিশুর জন্ম থেকে বিবাহ এবং মৃত্যুবার্ষিকী পর্যন্ত প্রতিটা কাজেই মিষ্টির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান সময়ে যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে পারিবারিক অনুষ্ঠানে এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার অনেক পরিবারেই প্রতিদিনই মিষ্টান্ন থেকেই থাকে। তাই জন্য মিষ্টির ব্যবসা এতটা বেশি পরিমাণে জনপ্রিয়তা লাভ করছে এবং দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি ঘটছে। চলুন দেখি নেয়া যাক মিষ্টির ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায় এবং বৃদ্ধি ঘটানো যায়।

Table of Contents

মিষ্টির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

বর্তমান সময়ে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করতে আপনাকে কমপক্ষে 1 লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে। এই 1 লক্ষ টাকা দিয়ে যেমন দোকান ঘর ভাড়া নেবেন তেমনি মিষ্টি তৈরি করার যাবতীয় সরঞ্জাম সহ মিষ্টি তৈরির কাঁচামাল কিনবেন। আর আপনি যদি আরও বড় করে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে 2 লক্ষ থেকে 3 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তবে ব্যবসার শুরুতে বেশি পুঁজি বিনিয়োগ না করে অল্প পুঁজি বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে ব্যবসার শুরু করুন।

যখন আপনার ব্যবসায় লাভের পরিমাণ বাড়তে থাকবে এবং আপনার নির্দিষ্ট পরিমাণ এর কাস্টমার তৈরি হয়ে যাবে তখন আপনি ব্যবসাতে আরো পুঁজি বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে ব্যবসা বড় করে তুলবেন। তবে বর্তমান সময়ে যদি আধুনিক পদ্ধতিতে মিষ্টির ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে 5 থেকে 10 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হতে পারে। কারণ বিভিন্ন আধুনিক মেশিনপত্রের দ্বারা এখন কমার্শিয়াল ভাবে মিষ্টি তৈরি হচ্ছে এবং দেশ-বিদেশের রপ্তানি হচ্ছে। তাই এই ধরনের ব্যবসাতেও বেশি টাকার প্রয়োজন পড়বে।

Sweets Business
মিষ্টান্ন ব্যবসা

মিষ্টি ব্যবসা করতে কি কি কাঁচামালের প্রয়োজন?

সাধারণত মিষ্টির ব্যবসা করার জন্য প্রধান কাঁচামাল হিসেবে আপনাকে দুগ্ধজাত ছানার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও মিষ্টি তৈরির জন্য আরো বিভিন্ন প্রকার কাঁচামালের প্রয়োজন পড়ে আর সেই সকল কাঁচামাল গুলি হল-

  • দুধের ছানা
  • দুধ
  • ময়দা
  • বেসন
  • ব্রেকিং সোডা ও খাবার সোডা
  • ফুড কালার
  • চিনি
  • তেল
  • ঘি
  • এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি
  • লবণ
  • আমসত্ত
  • বিভিন্ন বাদাম
  • চেরি
  • সিলভার পেপার
  • গোল্ডেন পেপার
  • বাটার পেপার
  • থার্মোকলের বাটি
  • সুগন্ধি বা ফ্রেগনেন্স

মিষ্টান্ন ব্যবসার কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

মিষ্টান্ন ব্যাবসার কাঁচামাল কেনার জন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার এলাকার বড় পাইকারি বাজারে যোগাযোগ করতে হবে। আপনি যদি খুব বড় আকারের মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি সরাসরি বড়বাজারের মত বড় পাইকারি মার্কেট থেকে সকল প্রকার কাঁচামাল কিনতে পারেন। আর আপনি যদি ছোট করে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি আপনার এলাকার লোকাল পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে পাইকারি দামেই বা অল্প মূল্যে সকল প্রকার কাঁচামাল কিনতে পারেন। তবে দুধের ছানার জন্য আপনাকে আপনার এলাকার গরুর খাটাল অথবা যারা দুগ্ধ ব্যবসায়ী রয়েছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আপনি খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার এলাকার বড় বড় গরুর খাটাল বা দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের।

অবশ্যই পড়ুন- বাড়ির বউদের জন্য সেরা ১০টি ব্যবসার আইডিয়া

মিষ্টি বানানোর মেশিনের দাম কত?

বর্তমান সময়ে হাতে তৈরি মিষ্টির পাশাপাশি মিষ্টি বানানোর মেশিন দিয়ে মিষ্টি প্রস্তুত করা হচ্ছে। যে সকল বড় বড় কমার্শিয়াল মিষ্টির ব্যাবসায়ী রয়েছেন তারা প্রতিদিন বেশি পরিমাণে মিষ্টি বানানোর জন্য মিষ্টির মেশিনের ব্যবহার করছেন। তবে বিভিন্ন প্রকার মিষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রকারের মেশিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর প্রতিটা মেশিন বিভিন্ন কোম্পানি অনুযায়ী দামের ও তারতম দেখা যায়। যেমন-

  • পেনার্ট সুইট মেকিং মেশিন– দাম 1 লক্ষ টাকা থেকে 3 লক্ষ 25 হাজার টাকা পর্যন্ত
  • অটোমেটিক সুইটস মেকিং মেশিন– এর দাম 2 লক্ষ 25 হাজার টাকা থেকে 3 লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
  • কাজু বরফি মেকিং মেশিন– এর দাম এক লক্ষ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত

মিষ্টি তৈরির মেশিন কোথায় পাওয়া যায়?

মিষ্টি তৈরির মেশিন কেনার জন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার এলাকার যে কোন বড় মেশিন নির্মাতা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বর্তমান সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক বড় মেশিন নির্মাতা কোম্পানি রয়েছে যারা বিভিন্ন প্রকারের মেশিন নির্মাণ করে থাকেন। বাংলাদেশের ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশে বড় বড় মেশিন নির্মাতা কোম্পানি রয়েছে যারা আপনার এলাকার সকল প্রকার মেশিন নির্মাণ করে থাকেন। আপনি চাইলে এই সকল বড় কোম্পানি গুলির কাছ থেকে সরাসরি মেশিন কিনে ব্যবসা করতে পারেন। এছাড়াও আপনি মেশিন কেনার জন্য অনলাইনে ইন্ডিয়া মার্ট এবং আলিবাবা ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো ধরনের বড় মেশিন ছোট মেশিন কিনতে পারেন অল্প মূল্যে। আপনাদের সুবিধার্থে বেশ কিছু মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানির ফোন নাম্বার দিয়ে দেওয়া হল-

মিষ্টির দোকানের নাম নির্ধারণ করা

মিষ্টির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে মিষ্টির দোকানের সঠিক এবং সুন্দর নাম নির্ধারণ করতে হবে। আপনাকে দেখতে হবে এমন একটি নাম যা সচরাচর আশেপাশের কোন দোকানের নেই এবং যে নামটা সকল কাস্টমারের এবং মানুষের খুব সহজেই মনে থাকে। তাই সুন্দর নাম নির্বাচন করে আপনি আপনার মিষ্টির দোকানের নাম রাখুন। দোকানের নামের উপর নির্ভর করে অনেক সময় ব্যবসার মার্কেটিং পলিসি। কারণ সহজ সরল নামই মানুষ বেশি মনে রাখতে চাই এবং সুন্দর নাম মানুষ বেশি পছন্দ করে। তাই কাস্টমারের মনের মত এমন একটি নাম রাখুন যা সবাই মনে রাখবে।

মিষ্টির দোকান ব্যবসা কোথায় করা যায়?

আপনি গ্রামে থাকুন কিংবা শহরে প্রতিটা জাগাতেই মিষ্টির দোকান খুব ভালোভাবেই চলছে আপনি লক্ষ্য করতে পারবেন। তাই আপনি যেখানে থাকেন সেখানে কাছাকাছি জনপ্রিয় বড় এলাকাতে বা যে এলাকায় মিষ্টির দোকান নেই সেখানে আপনি মিষ্টির দোকান তৈরি করতে পারেন। বর্তমানে প্রতিটা রাস্তার মোড়ে এবং জনপ্রিয় বাজার এলাকাতে আপনি যদি মিষ্টির দোকান তৈরি করে ব্যবসা করেন তাহলে আপনার মিষ্টির ব্যবসা অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি ঘটবে। তবে শহরাঞ্চলের দিকে যে কোন জায়গায় অর্থাৎ রাস্তার যে কোন ধারে আপনি মিষ্টির দোকান করলে আপনার ব্যবসা খুব ভালোভাবে চলতে পারে। কারণ শহরাঞ্চলে প্রচুর মানুষের জনসমাগম এবং যাতায়াত রয়েছে।

মিষ্টির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

মিষ্টির ব্যবসা করার জন্য যথেষ্ট বড় পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন রয়েছে। তবে শুধুমাত্র মিষ্টির দোকান তৈরি করে ব্যবসা করতে হলে আপনাকে 10/10 ফুটের একটি ঘর ভাড়া নিতে হতে পারে বা নিজে বানাতে পারেন। তবে মিষ্টি বানানোর জন্য রান্নাঘর সহ কর্মচারীদের বসার জায়গা এবং মিষ্টির কারখানা তৈরি করতে কমপক্ষে আপনাকে 10/20 ফুটের একটা ঘরের প্রয়োজন পড়বে।

বর্তমান সময়ে প্রতিটা মিষ্টির ব্যবসায়ী মিষ্টির দোকান নিচে করলে উপরে মিষ্টি তৈরির কাজ করে থাকেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী মিষ্টি দোকানের পাশেই মিষ্টি বানানোর কারখানা তৈরি করে থাকেন। তাই আপনি যে এলাকাতে ব্যবসা করছেন ও আপনার জায়গার যদি সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনি আলাদা জায়গায় মিষ্টি তৈরি করে দোকানে সাপ্লাই করতে পারেন। আর যদি জায়গার সমস্যা না থাকে তাহলে মিষ্টি দোকানের সাথেই বা পাশেই মিষ্টি তৈরির কারখানা তৈরি করুন।

মিষ্টির ব্যবসা কিভাবে করবেন?

বর্তমান সময়ে মিষ্টির ব্যবসা দুই ধরনের পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। তাই আপনি কোন পদ্ধতিতে মিষ্টির ব্যবসা করতে চান তা আগে আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে।

  1. মিষ্টি কারখানায় তৈরি করে পাইকারি ব্যবসা
  2. মিষ্টির দোকান করে রিটেল ব্যবসা

আপনি চাইলে দুই রকম ব্যবসায়ী একই সাথে করতে পারেন নিজস্ব কারখানায় মিষ্টি তৈরি করে নিজস্ব দোকানে মিষ্টি বিক্রি করতে পারেন। আবার বেশি পরিমাণে মিষ্টি উৎপাদন করে আশেপাশের ছোট মিষ্টি বিক্রেতাদের পাইকারি দরে মিষ্টি বিক্রয় করতে পারেন। তবে বর্তমান সময়ে প্রতিটা বড় শহরাঞ্চলের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা তারা বড় বড় কারখানা তৈরি করে মিষ্টির পাইকারি ব্যবসার ওপরে বেশি লক্ষ-নিবেশ করছেন।

আর আপনি যদি ছোট মিষ্টির বিক্রেতা হয়ে থাকেন বা হন, আর আপনি যদি পাইকারি মিষ্টির বিক্রেতার কাছ থেকে মিষ্টি কিনে ব্যবসা করেন, তাহলে অবশ্যই আপনাকে নির্ভর করতে হবে সেই ব্যক্তির ওপর যে আপনাকে মিষ্টি দেবে আর যে দামে দেবে তার ওপর। আপনাকে সেই দাম অনুযায়ী কাস্টমারকে মিষ্টি বিক্রি করতে হবে এতে লাভের পরিমাণ একটু কমতে পারে তবে ছোট বিক্রেতাদের জন্য এটা অনেক ভালো অপশন কারণ মিষ্টি তাদের তৈরি করতে হচ্ছে না।

মিষ্টি তৈরির কারিগর নিয়োগ

মিষ্টির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে মিষ্টি তৈরির সঠিক কারিগর খুঁজতে হবে। কারণ একজন মিষ্টির বড় কারিগরি পারেন সকল প্রকার মিষ্টি বানাতে। এবং সুন্দর স্বাদের কাস্টমারের মনের মত মিষ্টি বানানোর জন্য ভরসাযোগ্য এবং যোগ্যতম কারিগর নিয়োগ করতে হবে। আপনি যদি আপনার ব্যবসাতে নতুন কোন কর্মচারী নিয়োগ করেন তাদের অবশ্যই যে কোন বড় মিষ্টি তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তবেই নিয়োগ করবেন। বর্তমানে বড় বড় মিষ্টি তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে সেখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে বিভিন্ন ছোট বড় কারিগর মিষ্টি বানাতে সক্ষম হচ্ছেন। আপনি চাইলে এই সকল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সরাসরি মিষ্টি তৈরীর কারিগর নিয়োগ করতে পারেন আপনার ব্যবসাতে।

আরো পড়ুন- ১২ টি সেরা গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া

মিষ্টির প্রকারভেদ ও মিষ্টির নাম

বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি বিভিন্ন প্রকার নামে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়ে থাকে। কিছু কিছু এলাকা বিবেচনায় কিছু কিছু মিষ্টি জনপ্রিয়তা ও লাভ করে।
ভারতের জনপ্রিয় মিষ্টিগুলি হলো-

  • রসগোল্লা
  • পান্তুয়া
  • ছানাবড়া
  • কাজু বরফি
  • রসমালাই
  • লাড্ডু
  • কালোজাম
  • ক্ষীর কদম
  • কাঁচা গোল্লা
  • রাজভোগ
  • সন্দেশ
  • ছানামুখী
  • রক্ত জ্যাম
  • মতিচুর
  • আমচুর
  • ল্যাংচা
  • গুজিয়া
  • ছানা ভাজা
  • মালাইকারি
  • জিলাপি
  • গজা
  • মিহিদানা
  • সরভাজা
  • হালুয়া
  • বাতাসা
  • মতিচুর লাড্ডু
  • দিলখুশ
  • দিলের নাড়ু
  • গঙ্গাজলি
  • নারকেল নাড়ু
  • কামারপুরের সাদা বোদে
  • অমৃতি
  • কদমা
  • মোরব্বা
  • মাঠা
  • বোরহানি
  • রাবরি
  • প্যারা
  • ক্ষীর তোয়া
  • পাতক্ষীর
  • কানসাট
  • আবার খাবো
  • মিষ্টি দই
  • মাচা
  • দরবেশ

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় মিষ্টি

  • কলকাতার-রসগোল্লা
  • বর্ধমানের-সীতাভোগ
  • বর্ধমানের-মিহিদানা
  • শান্তি গড়ের-ল্যাংচা
  • কৃষ্ণনগরের-সরপুরিয়া
  • কলকাতার-সন্দেশ
  • কৃষ্ণনগরের-সরভাজা
  • চন্দননগরের-জল ভরা সন্দেশ
  • রানাঘাটের-পান্তুয়া
  • নবদ্বীপের-লাল দই
  • ঝাড়গ্রাম এর-ক্ষীরপাই এর বাবরসা
  • জয়নগরের-মোয়া
  • বাঁকুড়ার-মেচা সন্দেশ
  • কলকাতার-ক্ষীর দই
  • কলকাতার-কাজু বরফি
  • শান্তিপুরের-নিখুতি
  • গুপ্তিপাড়ার-গুপো সন্দেশ
  • কলকাতার-জিলাপি

বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মিষ্টি

  • রংপুরের-হাবসি হালুয়া
  • রাজশাহীর-রসকদম
  • নাটোরের-কাঁচাগোল্লা
  • নাটোরের-ক্ষীর তক্তি
  • চাঁপাই নবাবগঞ্জের-কালো তিলকদম
  • পাবনার-ইলিশ পেটি
  • নেত্রকোনার-বালিশ মিষ্টি
  • যশোরের-জামতলার রসগোল্লা
  • ব্রাহ্মণ বেরিয়ার-ছানামুখী
  • যশোরের-চমচম
  • খুলনা- মিহিদানা লাড্ডু
  • রাজশাহীর-চমচম
  • ফরিদপুরের-মালাইশর
  • বরিশালের-গটিয়া সন্দেশ
  • বরিশালের-আদি রসগোল্লা
  • দিনাজপুরের -গুর ক্ষীরমোহন

মিষ্টির প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়?

বর্তমান সময়ে মিষ্টি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র মিষ্টির বাক্সে প্যাকেজিং করলে মিষ্টির ক্ষতি হতে পারে। তাই জন্য প্লাস্টিকের কন্টেনার বা প্লাস্টিকের বাক্স ব্যবহার করছেন প্রতিটা মিষ্টির বিক্রেতা। এই প্লাস্টিক বাক্সে সিল করে মিষ্টি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর ব্যবস্থা ও তারা করছেন অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে। আপনি যখন মিষ্টির প্যাকেজিং করবেন তখন এই আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে যদি মিষ্টির প্যাকেজিং করেন তাতে মিষ্টির কোন ক্ষতি হবে না এবং মিষ্টি দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। ভালো মানের উন্নত প্যাকিং করার পদ্ধতি থাকলেই মিষ্টি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

কারণ যদি মানুষ আপনার দোকান থেকে মিষ্টি কিনে নিয়ে যায় এবং বাড়ি গিয়ে দেখে মিষ্টি নষ্ট হয়ে গেছে তাহলে আপনার দোকানের প্রতি তাদের মনঃক্ষুণ্য হতে পারে তাই জন্য সর্বদাই মিষ্টি ভালোভাবে প্যাকিং করার ব্যবস্থা করুন। এছাড়া মিষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে মিষ্টির প্যাকেজিং করতে হবে আপনাকে, অর্থাৎ বড় মিষ্টি হলে তার জন্য আলাদা প্যাকেজিং পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে আবার ছোট মিষ্টির জন্য আলাদা পদ্ধতি। এবং আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, মিষ্টির প্যাকেজিং কন্টেনার গুলো যেন এয়ার টাইট ও ওয়াটার প্রুফ হয়ে থাকে। ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য আপনি মাটির ভাঁড় ও মাটির পাত্রের ব্যবহার করতে পারেন মিষ্টির প্যাকেজিংয়ের জন্য।

Sweet shop business
মিষ্টির দোকান ব্যবসা

মিষ্টির ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্সের প্রয়োজন?

মিষ্টির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে সর্বপ্রথম ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়াও আপনি যেহেতু কারখানা করছেন তাই আপনাকে অবশ্যই একাধিক লাইসেন্স এবং দোকান করার জন্য বিভিন্ন প্রকার লাইসেন্স নিয়ে তারপরে ব্যবসার কাজ শুরু করতে হবে। আপনি এখন প্রতিমাসে 2 থেকে 3 লক্ষ টাকা আয় করবেন তখন আপনাকে জি এস টি নাম্বারও নিতে হবে। আপনার ব্যবসার জন্য যে লাইসেন্স গুলো আপনার প্রয়োজন পড়বে তা হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • জি এস টি নাম্বার
  • কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার
  • কারখানার রেজিস্ট্রেশন
  • কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক
  • ধোয়া পরীক্ষা সার্টিফিকেট
  • FSSAI লাইসেন্স
  • বি এস টি আই অনুমোদন পত্র

মিষ্টির মান নির্ণয় করুন

আপনি যখন মিষ্টির ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে প্রতিটা মিষ্টির মান নির্ণয় করতে হবে। বাজারে সেই একই পরিমাণের মিষ্টি একাধিক বিক্রেতা বিক্রি করছে, তাই আপনাকে খেয়াল করতে হবে সেইসব মিষ্টির কোয়ালিটি থেকে আপনার তৈরীর মিষ্টির কোয়ালিটি যেন কোন অংশে কম না হয়ে থাকে। এবং মিষ্টির কাঁচামাল থেকে শুরু করে মিষ্টির উৎপাদন, বাজারজাতিকরণ সমস্ত জিনিসটার ওপরেই আপনাদের দৃষ্টি আরোপ করতে হবে।

প্রত্যেকটা জিনিসের মান নির্ণয় করে সঠিক জিনিস ক্রেতার কাছে যাতে পৌঁছই তা লক্ষ্য রাখতে হবে। এই মান নির্ণয়ের জন্য আপনাদের এমন একজন দক্ষ কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে যে সব জিনিস সম্পর্কে সচেতন এবং সঠিক জ্ঞান রাখেন। বর্তমানের অনেক বড় মিষ্টির বিক্রেতা আছেন যারা এই মিষ্টির মান নির্ণয়ের জন্য অনেক টাকা ব্যয় করে ভালো ভালো মিষ্টি পরীক্ষক বা কেমিস্ট রেখেছেন।

অবশ্যই পড়ুন- টিস্যু পেপার তৈরির ব্যবসা

মিষ্টির ব্যবসায় লাভ কত?

বর্তমান সময়ে একজন ছোট মিষ্টি বিক্রেতা প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লাভ রাখেন প্রতিটা মিষ্টির উপরে। অর্থাৎ বলা যেতে পারে একজন ছোট মিষ্টির বিক্রেতা প্রতিমাসে 20 থেকে 30 হাজার টাকা আয় করতে পারেন মিষ্টি বিক্রি করে। আর একটু বড় মিষ্টির বিক্রেতা প্রতিমাসে 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন। আর বড় বড় কর্পোরেট মিষ্টির বিক্রেতারা প্রতিমাসে 1.5 কোটি থেকে 2 কোটি টাকার বেশি মিষ্টি বিক্রি করেন এক একটা আউটলেট দোকান থেকে। এই বড় মিষ্টি বিক্রেতাদের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মিষ্টির দোকান থাকার জন্য প্রতিমাসের ইনকাম 5-10 কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মিষ্টি ব্যবসায় সাবধানতা

মিষ্টির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে সাবধানতা অবলম্বন করে ব্যবসা করতে হবে। তৈরি করা মিষ্টি যদি ঠিকঠাক সময়মতো বিক্রি করতে না পারেন তাহলে মিষ্টি খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মিষ্টি প্রতিদিন পরীক্ষা করে তবেই বিক্রি করবেন। এছাড়া দুধ নিয়ে আসার পর ঠিকঠাক সময় মত যদি দুধ গরম না করা হয় তাহলে দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এতে অনেক ক্ষতির সম্ভাবনা হতে হয় প্রতিটা ব্যবসায়ীকে।

তাই প্রতিটা কাঁচামাল পরীক্ষামূলকভাবে দেখে নিয়ে তারপরে প্রোডাক্ট তৈরি করতে হবে যাতে প্রোডাক্ট তৈরি করার পর নষ্ট না হয়ে যায়। এছাড়া যদি একটা এলাকায় একাধিক মিষ্টির দোকান থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে আপনার দোকানের তৈরী মিষ্টির কোয়ালিটি ও গুণগত মান অনেকটাই বেশি বাড়াতে হবে বাকি অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও F.A.Q

মিষ্টান্ন ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 50 হাজার টাকা দিয়ে ছোট করে মিষ্টান্ন ব্যবসা শুরু করা যায়। আবার 2-3 লক্ষ টাকা দিয়ে বড় করে মিষ্টান্ন ব্যবসা শুরু করা যায়।

মিষ্টির দোকান কোথায় তৈরি করা যায়?

উত্তর: মিষ্টির দোকান গ্রাম এবং শহর যে কোন জায়গায় রাস্তার ধারে তৈরি করতে পারেন।

মিষ্টি বানানোর মেশিনের দাম কত?

উত্তর: মিষ্টি বানানোর মেশিনের দাম 1 লক্ষ টাকা থেকে 3 লক্ষ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

ভারতের প্রাচীনতম মিষ্টির নাম কি?

উত্তর: মতিচুর লাড্ডু প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি আগের।

রসগোল্লার আদি নাম কি ছিল?

উত্তর: রসগোল্লার প্রথম নাম ছিল গোপাল গোল্লা।

মিষ্টান্ন ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা আয় হতে পারে মিষ্টান্ন ব্যবসায়

নতুন নতুন ব্যবসা আইডিয়া দেখুন-

ফুল ঝাড়ু তৈরির ব্যবসা 

চকলেট তৈরির ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয় করুন

Leave a Comment