মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট ব্যবসা | পানীয় জলের ব্যবসা করে 1 লক্ষ টাকা লাভ করুন , Mineral Water business right now

মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট বসিয়ে আপনি প্রতিমাসের লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করতে পারেন। কারণ পানীয় জলের ব্যবসা করে বর্তমানে লাভবান হচ্ছে কিছু সংখ্যক মানুষ আপনিও সেই কিছু সংখ্যক মানুষের মধ্যে যদি একজন হতে চান তাহলে এখনই শুরু করুন মিনারেল ওয়াটারের ব্যবসা

Table of Contents

মিনারেল ওয়াটার কি?

মিনারেল ওয়াটারের ব্যবসা করার আগে আমাদের জেনে রাখতে হবে মিনারেল ওয়াটার কি।
আমরা যে ধরনের জল পান করে থাকি সেই জলে খনিজ লবণ, আইরন এই ধরনের খনিজ উপাদান মিশে থাকে কিন্তু মিনারেল একটি খনিজ পদার্থ যা সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া গিয়ে থাকতে। কিন্তু সমস্ত জায়গায় যেহেতু মিনারেল জলে থাকে না তাই জন্য আলাদা করে জলে মিশাতে হয় মিনারেল কারণ আমাদের শরীরে মিনারেল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই মেশিনের দ্বারা জলে মেশানো হয় মিনারেল। এবং এই মিশ্রিত মিনারেল জলটিকেই আমরা বলি মিনারেল ওয়াটার।

মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট
মিনারেল ওয়াটার ব্যবসা

মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট বসাতে কত খরচ হয়?

আমাদের ব্যবসার শুরুতেই মনে হয় ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা খরচ হয়, কিন্তু ব্যবসাতে যে কত টাকা লাভ করা যায় সেইটা আমরা বেশি ভাবি না। তবুও আমরা জেনে নিই একটা প্লান্ট বসাতে আপনার কত টাকা খরচ হবে।
85 হাজার টাকা থেকে শুরু হয় মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট বসাতে।
একটু ভালো কোয়ালিটির যদি প্লান্ট বসাতে চান তাহলে আপনার এক লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকা খরচ হবে সম্পূর্ণ ব্যবসা শুরু করতে।

মিনারেল ওয়াটার প্লান্টের দাম কত?

যেহেতু আপনি একটি বড় ব্যবসা করতে চাইছেন তাই জন্য আপনাকে বড় মেশিন কিনতে হবে তাই মেশিনের দাম আপনার পড়বে 85 হাজার থেকে 1 লক্ষ টাকার মধ্যে। আপনি চাইলে আরো বড় এবং আরো ভালো মেশিন কিনতে পারেন তার জন্য আপনার খরচা হবে দেড় লক্ষ থেকে দু লক্ষ টাকা।

ছোট মিনারেল ওয়াটারের মেশিনের দাম কত?

ছোট মিনারেল ওয়াটার মেশিনের দাম 15000 থেকে কুড়ি হাজার টাকার মধ্যে। আর ও ওয়াটার মেশিনের দাম 10 থেকে 15 হাজার টাকার মধ্যে। বাড়ির জন্য আরও ছোট ছোট অনেক মেশিন পাওয়া যায় যার দাম দুই তিন হাজার টাকা থেকে শুরু হয় কিন্তু সঠিক পানীয় জল খেতে মিনারেল ওয়াটার মেশিন দরকার।

মিনারেল ওয়াটারের প্রয়োজনীয় মেশিন

ওয়াটার প্ল্যান্টের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন বা যন্ত্রপাতি গুলি হল –
1) ফিটকিরি ট্রিটমেন্ট ট্যাঙ্ক
2) রিভার্স ওসমোসিস প্ল্যান্ট
3) স্টেনলেস স্টিলের ক্লোরিন ট্যাঙ্ক
4) স্যান্ড ফিল্টার
5) সক্রিয় কার্বন ফিল্টার
6) মাইক্রন ফিল্টার
7) মেমব্রেন হাউজিংয়
8) ক্লোরিনের জন্য বৈদ্যুতিন ডোজার
9)  পরিশ্রুত জল রাখার ট্যাঙ্ক এবং র-ওয়াটার পাম্প
10) স্বয়ংক্রিয় বোতল ধুয়ে জল ভরার মেশিন
11) র্র্যাপিং মেশিন

কোথায় থেকে মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট মেশিন কিনবেন?

খুব সস্তায় মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট মেশিন কিনতে হলে আমার দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। ভারতবর্ষের যেকোনো প্রান্ত সহ বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তে আপনি থাকলেও আপনি যদি এখান থেকে যোগাযোগ করেন তাহলে খুব সস্তায় মিনারেল ওয়াটার মেশিন লাগাতে পারবেন আপনার এলাকায়। আবার বাংলাদেশে যে সকল বন্ধুরা আছেন তারা যদি চান তাহলে তারা আপনাদের বাংলাদেশ থেকেই এই মিনারেল ওয়াটার মেশিন কিনতে পারেন।
8583918824 / 9932305109 এই ফোন নাম্বারে ফোন করে আপনি মেশিন সম্বন্ধিত যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন এবং তার সাথে সাথে কিভাবে ব্যবসা করবেন তার সম্পূর্ণ গাইডলাইনও এই কোম্পানি থেকে আপনাকে দিয়ে দেবে । এবং শিখিয়ে দেবে কিভাবে প্রাথমিক মেশিন চালিয়ে পানীয় জল তৈরি করবেন।

মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট

কিভাবে মিনারেল ওয়াটার তৈরি করা হয়?

মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট বসানোর পরে যখন আপনি মিনারেল ওয়াটার তৈরি করবেন তখন প্রথমে মেইন সুইচ অন করতে হবে তারপর ইলেকট্রিক প্যানেল বক্স এর সুইচ অন করতে হবে। এরপর র-ওয়াটার পাম্প চালু করতে হবে, র-ওয়াটার পাম্প চালু করলে সাধারণ যে জল মাটি থেকে ওঠে বা কর্পোরেশন যে সাধারণ জল দেয় সেই জল উঠতে থাকবে এবং ভর্তি হতে থাকবে কার্বন ভেসেলে, দুটো বড় বড় কার্বন ভেসেলের ট্যাংক রয়েছে এই কার্বন ভেসেলের ট্যাংকে ভর্তি হবে জল, তারপর জলের প্রেশার দেখে নিতে হবে, দেখে নিয়ে হাই প্রেসার পাম্প চালু করতে হবে, জল আস্তে আস্তে হাই প্রেসার পাম্প এর মধ্য দিয়ে চলে আসবে মাইক্রন ফিল্টারে।


জলের প্রেশার দেখে নেবেন 1000 থেকে 1200 এর মধ্য যেন থাকে, মাইক্রোন ফিল্টার জলকে আরো পরিশুদ্ধ করতে জলকে ফিল্টার করতে থাকবে। এবং এটি যতক্ষণ না 5 মাইক্রোন পর্যন্ত ফিল্টারিং হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত জল ফিল্টার হতে থাকবে। এরপর ফিল্টারিং হয়ে গেলে জল চলে আসবে মেমব্রেন হাউজিংয়ে। দুটো বড় বড় মেমব্রেন হাউসিং রয়েছে যেখানে মিনারেল এড হতে থাকবে জলের মধ্যে ফোটা ফোটা আকারে। এরপর মেমব্রেন হাউসিং থেকে জল দু রকম ভাবে ভাগ হয়ে যাবে একটা শুদ্ধ জল আর একটা অশুদ্ধ জল। শুদ্ধ জল টা পড়বে একটি বড় ট্যাংকে আর অশুদ্ধ খারাপ জলটা চলে যাবে বাইরে। তারপর ওই বড় ব্যাংক থেকে শুদ্ধ জলটা বোতলে ভর্তি করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।

মিনারেল ওয়াটার কোম্পানি করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন হয়?

মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট বসানোর জন্য আপনার খুব বেশী বড় জায়গার প্রয়োজন পড়ে না, 10/10 ফুটের একটি ঘর হলেই আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। পরবর্তীকালে ব্যবসার বৃদ্ধি যখন হবে, তখন আপনি চাইলে এই ঘরের আয়তন বাড়াতে পারেন। অর্থাৎ তখন মেশিন আরও বেশি পরিমাণে লাগাতে হতে পারে। তাই জন্য ঘরের আয়তন টা পরবর্তীকালে বৃদ্ধি করতে পারেন। কিন্তু ব্যবসার শুরুতে আপনার ঘরের সাইজের এক কামরা ঘর হলেই আপনি এই ব্যবসাটি নিঃসন্দেহে করতে পারবেন।

মিনারেল RO জলের ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

যে কোন ব্যবসা করতে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিতেই হবে। তাই পানীয় জলের ব্যবসা শুরু করতে আপনাকে প্রথমেই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ISO লাইসেন্স দরকার।
ISO লাইসেন্স আপনি এক বছরের জন্য দু’বছরের জন্য অথবা তিন বছরের জন্য একেবারে করিয়ে নিতে পারেন।
যেহেতু এটি পানীয় জল তাই আপনাকে FSSAI(ফুড লাইসেন্স) নিতে হবে।
প্রতিটি লাইসেন্সই আপনি চাইলে দু তিন বছরের জন্য একসাথে করিয়ে নিতে পারেন তা না হলে প্রতিবছর রিনুয়াল করতে পারেন।

মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট থেকে কিভাবে জল ভরা হয়?

শুদ্ধ জলটা যে বড় ট্যাংকে ভর্তি হয়েছে ওই বড় টাঙ্ক থেকে একটি পাইপ বেরিয়ে থাকে । ওই পাইপের শেষ মাথায় একটি জলের কল লাগানো থাকে। 500 গ্রাম, 1 লিটার, 2’লিটার অথবা 20 লিটারের বোতল এইখান থেকেই ভর্তি করা হয়।

ওয়াটার

পানীয় জলের ব্যবসা কিভাবে করবেন?

বাজার থেকে বিভিন্ন সাইজের জলের বোতল কিনে নিন হোলসেল দামে। অথবা যে কোম্পানিতে পানীয় জলের বোতল তৈরি করা হয় সেই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে খুবই অল্প মূল্যে 500 গ্রাম, 1 লিটার, 2 লিটার, 5 লিটার ও 20 লিটারের বোতল এবং জার কিনে নিন।
তারপর এই বোতল এবং যারে জল ভর্তি করে ঢাকনা দিয়ে সিলিং পেপার ঢাকনার মুখে লাগিয়ে হট এয়ার মেশিন দ্বারা গরম করে সিলিং পেপার দিয়ে সিল করে দিন বোতলের মুখটি।
এবং বোতলগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে বাজারে বিক্রি করার জন্য।

জলের পাইকারি ব্যবসা বা অফলাইন ব্যবসা কিভাবে করতে হয়?

বিভিন্ন দোকানে আপনি জল পাইকারি রেটে বিক্রি করতে পারেন। অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়ি, হোটেল, রেস্টুরেন্ট এই সমস্ত জায়গাতে আপনি তাদের চাহিদা মতো জলের যোগান দিতে পারেন।
বর্তমানে যে কোন অনুষ্ঠান বাড়িতে কেউ আর সাধারণ জল ব্যবহার করছে না প্রত্যেকেই মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করছে, তাই বর্তমানে অনুষ্ঠান বাড়ি গুলোতে চাহিদা অনেক বেশি। তাই আপনি আপনার নিকটবর্তী লোকাল ক্যাটারিং গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আপনাকে অর্ডারগুলো এনে দেবে।

পানীয় জলের অনলাইন মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

বর্তমান যুগে অনলাইন মার্কেটিং এমন একটি মার্কেটিং ব্যবস্থা যা সমস্ত ব্যবসায়ীরাই করে থাকে এবং যারা না করে অনলাইন মারকেটিং তারা পিছিয়ে পরে বাকি সব ব্যবসায়ীদের থেকে।
জলের অনলাইন মার্কেটিং করতে হলে প্রথমে আপনাকে অনলাইন ই-কমার্স সাইট গুলি যেগুলি রয়েছে এবং ফুড ডেলিভারি যেসব সাইট রয়েছে সেই সমস্ত সাইটগুলোতে একটি করে বিজনেস একাউন্ট খুলতে হবে যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, জোমাটো, সুইগী প্রকৃতি।
বিজনেস একাউন্ট খোলার পরে আপনার কোম্পানির সমস্ত প্রোডাক্ট গুলি ছবি সহ বিবরণ সেখানে লিখে আপলোড দিন এবং দেখবেন অনলাইন থেকেও আপনার অনেক বেশি ইনকাম হচ্ছে এবং অনেক কাস্টমার যারা অনলাইন থেকেই আপনার প্রোডাক্ট গুলি কিনবে।

মিনারেল ওয়াটার কোম্পানি খুলে ফেলুন | পানির ফ্যাক্টরি খুলে ব্যবসা করুন

আপনি যদি এই সব ব্যবসা করতে পারেন এবং একটি মিনারেল ওয়াটার কোম্পানি নিজের এলাকায় খুলতে চান তাহলে আর বেশি দেরি না করে এখনই মিনারেল ওয়াটার কোম্পানি খুলে ফেলুন এবং পানীয় জলের ব্যবসা করে লাভবান হন।
বর্তমান সময়ে চাকরি পাওয়া অনেক দুঃসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সে জায়গায় আপনি নিজে চাকরি না করে একটা কোম্পানি খুলে আরো অনেকজনকে চাকরির সুযোগ করে দিন।

মিনারেল ওয়াটার এর ব্যবসায় লাভ কত?

20 লিটারের যার ভর্তি করতে সম্পূর্ণ খরচ হবে আপনার 3 টাকা। পাইকারি আপনি 10 থেকে 15 টাকা দামে বিক্রি করতে পারেন।
যদি 10 টাকায় বিক্রি করেন তাহলেও আপনার প্রতি বড় যারে লাভ থাকবে 7 টাকা করে।
500 গ্রাম 1 লিটার অথবা 2 লিটারের বোতল সম্পূর্ণ ভর্তি করতে আপনার খরচ পড়বে 1 টাকা থেকে 1টাকা কুড়ি পয়সা মধ্য। কিন্তু সেই বোতলটি আপনি বাজার থেকে কিনতে গেলে আপনার পড়ে যায় 15 থেকে কুড়ি টাকা এক লিটারের বোতল এর দাম।


বুঝতেই পারছেন এখানে আপনার লাভ কত বেশি হবে। প্রতিদিন কম করে 2 হাজার লিটার জল যদি আপনি বিক্রি করতে পারেন তাহলে আপনার লাভ থাকবে 1400 টাকা কম করে। ব্যবসার শুরুতে আপনি মাসে এইরকমই ইনকাম হত করতে পারবেন কিন্তু পরবর্তীকালে আপনার প্রতিদিন 5 থেকে 10 হাজার টাকা ও লাভ রাখতে পারেন। অর্থাৎ ব্যবসার শুরুতে আপনার কি লাভ হবে মাসে 1 লক্ষ টাকার মধ্যে। কিন্তু পরবর্তীকালে এই 1 লক্ষ টা 10 লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে।

পানীয় জলের ব্যবসা করতে গেলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?

মিনারেল ওয়াটারের ব্যবসা অথবা পানীয় জলের ব্যবসা আপনি যদি শুরু করেন তাহলে আপনাকে প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে মার্কেটে যেসকল কম্পানি গুলি রয়েছে তাদের থেকে সস্তায় আপনার জলের প্রতিটি বোতল যেন পড়ে।
অর্থাৎ বাজারে বিক্রি হওয়া বাকি সব জলের বোতলের থেকে তুলনামূলক একটু কম দামে আপনার জল যেন চিনতে পারে সাধারণ মানুষ। জলের কোয়ালিটির ওপরে অনেকটা বেশি জোর দেবেন দেখবেন জলের যেন কোন রকম ত্রুটি না থাকে। এবং মার্কেটিং আপনি প্রথমে আপনার নিকটবর্তী বাজার এবং দোকান এবং ক্যাটারার, রেস্টুরেন্ট, হোটেল গুলো রয়েছে তাদের কাছে অল্প লাভ রেখে পাইকারি রেটে মাল দিন, তাহলে খুব সহজেই আপনি মার্কেট টা ধরতে পারবেন। তা না হলে বর্তমান কম্পিটিশন মার্কেটে আপনি দাঁড়াতে পারবেন না।

আরো অল্প খরচে ব্যবসা নতুন নতুন আইডিয়া পেতে দেখুন-

মশলা তৈরির ব্যবসা

2 thoughts on “মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট ব্যবসা | পানীয় জলের ব্যবসা করে 1 লক্ষ টাকা লাভ করুন , Mineral Water business right now”

Leave a Comment