মাছ চাষের ব্যবসা শুরু করার সকল তথ্য | 3 lakh income from fish farming business, Right Now

প্রায় প্রতিটা বাঙালি মাছ তাদের খাদ্য তালিকায় প্রত্যেকদিন দেখতে চান। তাই পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মানুষেরা মাছকে খাদ্য হিসাবে খুবই পছন্দের উপাদান হিসেবে বেছে নেন। এই কারণে মাছ চাষের ব্যবসায় কখনো মন্দা দেখা যায় না। আপনি যদি সঠিকভাবে মাছ চাষের ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে আজকের এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে দেখতে হবে। কারণ বর্তমান সময়ে মাছ শুধু বাঙালীরা খাই এরকম নয়। মাছ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রপ্তানিও করা হয়। তাই আপনি যদি একজন সফল মাছ চাষী হতে চান এবং সফলভাবে পুকুরে মাছ চাষ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনি এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

ভারতীয় মাছ চাষের ব্যবসায় লাভ

আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা ভারতে মাছ চাষের ব্যবসা অত্যান্ত লাভজনক একটি ব্যবসার মতো পরে। কারণ ভারতের ৬০ শতাংশ মানুষ দুবেলা খাবারের অংশ হিসেবে মাছ খেয়ে থাকে। যেহেতু ভারতীয় ৬০ শতাংশ মানুষ মাছ খায় তাই আপনি যদি মাছ চাষের ব্যবসা ভারতে করেন তাহলে অবশ্যই আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন। এছাড়া ভারতের ক্রান্তীয় জলবায়ু মাছের বিকাশ এবং মাছের প্রজননের জন্য খুবই উপযুক্ত। ভারতে থাকা খাল বিল নদনদী সকল জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যায়।

এবং ভারতের মাছ ব্যবসায়ীরা যারা মাছ চাষ করে না তারা এই নদী ও জলাশয়গুলি থেকে মাছ ধরে ও বিক্রি করেও অনেক লাভবান। এছাড়া বলা যায় অন্যান্য চাষবাস ও ব্যবসার মতো পুকুরে মাছ চাষ বেশি পরিশ্রমের নয়, একটু বুদ্ধি আর অল্প শ্রম প্রয়োগে এই ব্যবসা আপনিও বড় করতে পারবেন।

Fish farming business
মাছ চাষের ব্যবসা

মাছ চাষ কেন করবেন?

আমরা সবাই জানি মাঝে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও প্রোটিন যা প্রতিটা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপযোগী। তাই ছোটবেলা থেকে বাড়ির বাবা-মা থেকে শুরু করে বড় হয়ে ডাক্তারের পরামর্শেও মাছ আমাদের খাদ্য তালিকায় থেকেই যাই। আবার বাঙ্গালীদের মধ্য মাছ খাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি পরিমাণে দেখা যায়। ভারত ও বাংলাদেশের কোটি কোটি বাঙালি মাছ খেতে ভালোবাসেন। তাই মাছ চাষের ব্যবসা অত্যান্ত লাভজনক একটি ব্যবসার মতো সর্বদাই বিরাজ করে। তাছাড়া মাছ দেশে খাওয়ার সাথে সাথে বিদেশেও রপ্তানি হয় প্রচুর পরিমাণে। আবার বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি মাছের বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ওষুধ তৈরি হয় তাই মাছ মেডিসিন কোম্পানির কাছেও এক বিপুল চাহিদা নিয়ে থাকে। এই সকল কারণগুলি যদি আপনাকে একটু ভাবিত করে তাহলে অবশ্যই আপনি পুকুরে মাছ চাষ করবেন এবং এই ব্যবসায় সফলতাও অর্জন করবেন।

অবশ্যই পড়ুন- সরিষার তেলের ডিলারশিপ ব্যবসা

মাছ চাষ করার পদ্ধতি

আমরা সবাই জানি মাছ চাষের ব্যবসা অনেক লাভজনক একটি ব্যবসা, কারণ এই ব্যবসায় আপনি যে টাকায় মাছের ডিম অথবা চারা মাছ উপরে ছাড়বেন বড় করে তা ৫ থেকে ১০ গুন টাকায় বিক্রি করতেও পারবেন। এছাড়া মাছ চাষ আপনি বিভিন্ন ছোট বড় সকল জলাশয় করতে পারেন তবে এই মাছ চাষ করার কিছু পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই যে পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে আপনি সফল হতে পারবেন তা হল-

মাছের রক্ষণাবেক্ষণ

মাছ চাষের ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে মাছের রক্ষণাবেক্ষণ ভালোভাবে জানতে হবে। মাছ চাষের পর মাছ কি খাবার দেওয়া থেকে মাছের রোগ হলে তা নিরাময় করার ব্যবস্থা আপনাকে সর্বদা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মাছকে দিনে দুবার কিংবা তিনবার খাবার দিতে হবে। মাছের যদি কোন রোগ হয় তখন আপনাকে সেই রোগের জন্য পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট আর লবণ জলে দিতে হবে রোগ জীবাণুম মুক্ত করার জন্য। এছাড়াও মাছের রোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে রোগ নিরাময়ের জন্য।

একটি মাছ ছোট থেকে বড় হতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এবং সেই ছোট মাছ থেকে বড় মাছের রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় আপনাকে প্রতিটা মাছের ওপর বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তাই আপনি যখন মাছ চাষ করবেন তখন মাছের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর আপনাকে বিশেষ করে নজর দিতে হবে।

জলের গুনাগুন বজায় রাখা

মাছ চাষের জন্য জলের ph দেখা আপনাকে শিখতে হবে। এসিড বা ক্ষারীয় জলে মাছ চাষ ভালো হয় না। তাই মাছ চাষের জন্য ক্ষারীয় জল হলে তা সংশোধন করার ব্যবস্থা করতে হবে। মাছ যেহেতু প্রাকৃতিক জলাশয় সবথেকে ভালো পরিমানে হতে পারে তাই আপনি যে পুকুরে মাছ চাষ করবেন তার জলকেও এবং তার পরিবেশকে প্রাকৃতিক করার প্রক্রিয়া কৃত্রিমভাবেই করতে হবে। আপনাকে সর্বদা দেখতে হবে যে জলাশয় আপনি মাছ চাষ করছেন সেই জলাশয় যেন কোন ভাবে শিল্পাঞ্চলের নোংরা আবর্জনা বা বন্যার জল কিংবা অতিরিক্ত বৃষ্টির জল প্রবেশ করতে না পারে।

আবার যেখানে মাছ চাষ করবেন সেই জলাশায়ের আশেপাশের গাছপালার পাতা পড়ে যাতে জল নষ্ট না হয় তার দিকেও খেয়াল দিতে হবে। আপনাকে দেখতে হবে জলের পিএইচ লেভেল যেন সব সময় ৭ থেকে ৮ মধ্যে থাকে কারণ জলের পি এইচ মাছ চাষের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

আরো পড়ুন- মুড়ি ভাজার ব্যবসা করে প্রতিদিন 3000 টাকা আয়

মাছ চাষের পুকুর কেমন হবে?

মাছ চাষের ব্যবসা আপনি যদি কোন পুকুরে করেন তাহলে পুকুরটা উপযুক্ত মাছ চাষের জন্য কি না তা দেখা অত্যান্ত প্রয়োজনীয়। কারণ মাছ চাষ যেকোনো পুকুরেই ভালোভাবে হয় না তার জন্য পুকুরকে উপযুক্ত হতে হয়। পুকুর উপযুক্ত কিনা তা বোঝার জন্য আপনাকে দেখতে হবে এই জিনিসগুলি-

  • পুকুরের চারপাশে ঝোপঝাড় যেন না থাকে
  • পুকুরের পাশে থাকা গাছের পাতা যেন না পড়ে।
  • পুকুরের পাশে থাকা গাছের শিকড় জলে যেন না পচে
  • বাইরে থেকে আসা নোংরা জল যাতে পুকুরে না পড়ে
  • পুকুরের আশেপাশে থাকা মানুষের ব্যবহৃত আবর্জনা যেন পুকুরের মধ্যে না পড়ে।
  • পুকুর থেকে মাছ যেন না চুরি হয়
  • পুকুরের জলের ph যেন ঠিক থাকে
  • পুকুরের যেন বেশি পাঁক না থাকে।

মাছ চাষের উপযুক্ত পুকুরের মাটি

যে পুকুরে আপনি মাছ চাষের ব্যবসা করবেন সেই পুকুরের মাটি মাছ চাষ করার আগে একটু পরীক্ষা করে নেবেন। দেখে নেবেন মাটিতে যেন ১৫ থেকে ৩০% পলি মাটি, ৩০ থেকে ৩৫% কাদামাটি ও বালি মাটির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫৫% এর মধ্য থাকে। এছাড়া আপনাকে দেখতে হবে পুকুরের যে কাদামাটি তা যেন ১.২ অনুপাতে বালি ও কাদামাটির মিশ্রণটি হয়ে থাকে।

তবে এটা সাধারণত গ্রামাঞ্চলের পুকুরগুলিতে লক্ষ্য করার জন্য বলা হচ্ছে। আপনি যদি পাহাড়ি অঞ্চলে মাছ চাষ করেন সেক্ষেত্রে এই জিনিসটা একটু অন্যরকম ভাবে হবে কারণ পাহাড়ি অঞ্চলে পুকুর মাটি র পুলি ও বালির পরিমাণ একটু অন্যরকম থাকে। পাহাড়ি অঞ্চলে যে সকল পুকুরে পাথরে ও চুনাপাথর ও বেলে মাটির পরিমাণ বেশি থাকবে সেই সকল পুকুরগুলি এড়িয়ে অন্য পুকুরে মাছ চাষ করুন।

মাছ চাষ
পুকুরে মাছ চাষ

পুকুরে মাছ চাষের ব্যবসার প্রয়োজনীয় উপকরণ কি কি?

আপনি যখন মাছ চাষের ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে হবে। আবার আপনি যদি শুধুমাত্র এই সকল উপকরণ ভাড়ায় নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনার ব্যবসায় লাভের পরিমাণ কমে যাবে। তাই আপনার মাছ চাষের ব্যবসা করতে গেলে এই সকল উপকরণ কেনা বাধ্যতামূলক।

  • মাছ চাষ করার জন্য একটি পাম্প কিনতে হবে কারণ পুকুরে জল সেচ করা থেকে শুরু করে পুকুরের জল ছেচে মাছ ধরার কাজেও পাম্প প্রয়োজনীয়।
  • জল পরীক্ষা করার উপকরণ যা আপনি পেয়ে যাবেন বিভিন্ন মাছের খাবারের দোকান থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।
  • মাছ ধরার জাল আপনাকে অবশ্যই কিনতে হবে।
  • মাছ রাখার একাধিক পত্র কিনতে হবে।
  • মাছ রাখার খাঁচা বানাতে হবে অথবা কিনতে হবে। কারণ আপনি মাছ ধরার পরে সেই মাছ কিছুদিন জিজিয়ে রাখার জন্য মাছ রাখার খাঁচার প্রয়োজন।

মাছ চাষের ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্সের প্রয়োজন?

আপনি যদি ছোট করে মাছ চাষের ব্যবসা শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনার কোন লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে না। আবার আপনি যদি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মাছ চাষের ব্যবসা করেন তাহলেও আপনার আলাদা করে কোন লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে না। তবে আপনি যদি খুব বড় আকারের মাছ চাষের ব্যবসা শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই আপনার ব্যবসার জন্য কিছু লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে।

সাধারণত মাছ চাষের জন্য সরকারি MSMI অফিস থেকে মাছ চাষের জন্য রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। আপনার প্রয়োজন পড়বে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র অর্থাৎ আধার কার্ড কিংবা ভোটার কার্ড। আর আপনি যদি আপনার ব্যবসায় প্রতিমাসে ২-৩ লক্ষ টাকারও বেশি ইনকাম শুরু করেন তাহলে একটি জিএসটি নাম্বার নিতে হবে। আপনার কাছে যদি সরকারি এই সকল লাইসেন্স এবং মাছ চাষের অনুমোদন পত্র থাকে তাহলে আপনি সরকারি বিভিন্ন লোন পেতে পারেন।

অবশ্যই পড়ুন- মিষ্টির ব্যবসা শুরু করুন অল্প পুঁজি দিয়ে

কৃত্রিম পদ্ধতিতে মাছ চাষ

বর্তমানে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কৃত্রিম পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন এবং কৃত্রিম পদ্ধতিতে মাছ চাষের ব্যবসাতে প্রচুর লাভবান হচ্ছেন। আপনি যদি কৃত্রিম পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে চান তাহলে আপনি মাছ চাষের জন্য বড় চৌবাচ্চা বানাতে পারেন আবার মাছ চাষের জন্য প্লাস্টিক বড় প্যাকেট কিনে এনে জল ভরে মাছ চাষ করতে পারেন। কৃত্রিম পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য যাবতীয় ইনফরমেশন আপনাকে দেওয়া হল-

মাছ চাষের ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

আপনি কত বড় পুকুরে কত পরিমানের মাছ নিয়ে চাষ করবেন তার ওপর নির্ভর করবে আপনার এই ব্যবসার বিনিয়োগ। ধারণা তৈরি করতে বলা যেতে পারে, মাছ চাষের ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ করতে হবে এই ব্যবসায়। বিভিন্ন মাছ চাষিরা একাধিক পুকুর লিজে নেন এবং বাৎসরিক হারে পুকুরের মালিক কে টাকা প্রদান করেন। প্রতিটি পুকুরে ১ লক্ষ টাকার বেশিও মাছ ফেলেন এবং প্রতিবছর এখান থেকে অনেক বেশি টাকার মাছ বিক্রি করেন। তাই আপনি কত বড় পুকুরে মাছ চাষ করবেন তার ওপরে নির্ভর করবে আপনার ব্যবসার বিনিয়োগের টাকাটি।

মাছ চাষের ব্যবসায় লাভ কত?

মাছ চাষের ব্যবসায় লাভ প্রচুর পরিমাণে হতে পারে যদি আপনি সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে পারেন। একটি ধারণা তৈরি করার জন্য বলা যেতে পারে আপনি যদি একটি পুকুরে ১ লাখ টাকার মাছ চাষ করেন, বছরের শেষে সেই ১ লাখ টাকার মাছ আপনি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকারও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন। সাধারণত যে টাকা আপনি এই ব্যবসাতে ইনভেস্ট করবেন তার চার থেকে পাঁচ গুণ টাকা আপনি লাভ করতে পারবেন এই ব্যবসা থেকে। একজন ছোট মাছের চাষীও প্রতি মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন মাছ চাষের ব্যবসা করে। আবার একজন বড় মাছ চাষের ব্যবসায়ী প্রতি মাসে ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকাও ইনকাম করতে পারেন মাছ চাষ করে।

তাই যে কোন ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে একটু শিখতে হবে বুঝতে হবে ব্যবসাটি সম্বন্ধে। আপনি যদি এই ব্যবসাটি করতে চান তাহলে বর্তমানে আপনার এলাকার থাকা মাঝের চাষীদের সাথে যোগাযোগ করুন ও তাদের সঙ্গে বেশ কিছুদিন সময় কাটান এবং তাদের কাছ থেকে শিখুন

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

বুটিক ব্যবসা শুরু করুন

চিনির পাইকারি ব্যবসা

Leave a Comment