ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা করে আপনিও অনেক লাভবান হতে পারেন। প্রতিটা মানুষ এখন করণা আবহে জর্জরিত। আর দুনিয়া এখন কেমিকেলের ভর্তি, সেই দুনিয়ায় থেকেও মানুষ চাই প্রাকৃতিক উপায়ে সুন্দর জিনিস পাবার।
তাই মানুষ খুঁজছে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি আবির। দোল পূর্ণিমা হোক বা কোন আনন্দের অনুষ্ঠান প্রতিটা জায়গাতেই এখন ব্যবহার হচ্ছে আবির।
তাই এই আবিরের বিপুল চাহিদা যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আপনিও যদি ঘরে চুপ করে বসে না থেকে শুধুমাত্র হাত খরচের জন্য নয়, ব্যবসা করার উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তাহলে আপনিও এই আবির তৈরীর ব্যবভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আবির কিভাবে তৈরি করবেন তার যাবতীয় বর্ণনা নিচে দেওয়া হল।

ভেষজ আবির তৈরি
ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা

Table of Contents

ভেষজ আবির তৈরীর ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ? (Abir colour toirir babsa)

ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসার জন্য অতি অল্প টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ ব্যবসার শুরুতে 4-5 হাজার টাকা দিয়েও আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আর এই ব্যবসায় লাভ হয় প্রায়ই চার গুণ। অর্থাৎ তৈরি করতে আপনার যদি 10 টাকা খরচ হয় বিক্রি হবে 40 টাকা দামে।

ভেষজ আবির তৈরীর জন্য কি কি কাঁচামাল লাগে? (Raw material for making herbal abir)

ভেষজ আবির তৈরীর জন্য যেসকল কাঁচামাল দরকার হয় সেগুলি হল-

  • 1: গাঁদা ফুল
  • 2: অপরাজিতা ফুল
  • 4: গোলাপ ফুল
  • 5: রজনীগন্ধা
  • 6: চন্দ্রমল্লিকা
  • 7: বিট
  • 8: এরারুট
  • 9: কর্নফ্লাওয়ার
  • 10: সুগন্ধি আতর

এইসকল কাঁচামাল হলেই মোটামুটি ভাবে আপনি 4-5 রংয়ের ভেষজ আবির তৈরি করতে পারবেন।

ভেষজ আবির তৈরীর কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

বুঝতেই পারছেন আবির তৈরি করার জন্য কাঁচামাল যেগুলি লাগছে, সেগুলি আমাদের সকলের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে একটি। তাই এই সমস্ত কাঁচামাল আমরা আমাদের নিকটস্থ বাজার থেকে, অথবা মন্দিরে যে সকল ফুল উচ্ছিষ্ট হিসেবে শেষে ফেলে দেওয়া হয়, সেই সমস্ত ফুলগুলি যদি আমরা মন্দির কর্তৃপক্ষকে বলে নিয়ে আসি। সেই ফুলগুলো থেকেও আমরা এই আবির তৈরি করতে পারব। এর জন্য আলাদা করে আর আমাদের কোন কিছু কেনার দরকার পড়বে না।

আবির তৈরি করার জন্য কি মেশিনের প্রয়োজন?

যেহেতু আমরা ভেষজ আবির তৈরি করছি, তার জন্য আলাদা করে কোনো রকমের মেশিনের দরকার পড়ে না। তবুও আমরা হাতের কাছে মিক্সার গ্রাইন্ডার মেশিন কি রাখতে পারি।
কারণ অনেক জিনিস আছে যেগুলি আমাদের মিক্সার গ্রাইন্ডার এর দ্বারা গুড়ো করতে হবে।

মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করুন?

ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা প্রতিটা বাড়ির প্রতিটা মহিলাই অবসর সময়ে করতে পারেন। এবং এই ব্যবসা করে তারা তাদের সংসারে অর্থ যোগান দিতে পারে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জায়গাতে গড়ে উঠছে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর মহিলারা বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা শুরু করেছেন। তাই আপনিও নিজের দায়িত্বে এই ব্যবসা শুরু করুন। এবং সঙ্গে লাগান মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের, এতে আপনি নিজেও ব্যবসায় সফলতা অর্জন করবেন। তার সাথে সাথে মহিলাদের রোজগারের একটি পথ খুলে দেবেন।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বর্তমানে গঠিত হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় স্বনির্ভর গোষ্ঠী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিভিন্ন জায়গায় গোষ্ঠীর মহিলাদের ট্রেনিং দিচ্ছেন ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা। আর কোন রাসায়নিক নয়, এবার সম্পূর্ণ ভেষজ পদ্ধতিতে তৈরি করা হবে আবির যার গন্ধ সেই ভেষজ উপাদানের সঙ্গে মিলে থাকবে।

মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী আবির তৈরি
মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী

Read more- বিনা পুঁজিতে মাসে আয় করুন 1 লক্ষ টাকা

ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন পড়ে?

ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা করার জন্য খুব বেশী বড় জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। বাড়ির রান্নাঘর থেকে শুরু করে বাড়ির উঠান পর্যন্ত গেলেই আপনার এই ব্যবসাটি খুব সহজে করতে পারবেন।
শুনে অবাক লাগলেও জিনিসটা সত্য আসলে আবির তৈরি করার জন্য রান্নাঘরের গ্যাস ওভেনটার দরকার পড়ে আর শুকনো করার জন্য খোলা আকাশের সূর্যের রোদের দরকার পড়ে।

আবির তৈরির পদ্ধতি | কিভাবে ভেষজ আবির তৈরি করা হয়? (Abir colour toirir kivabe hoi)

আবির অনেক রঙের অনেক ধরনের হয়ে থাকে, তাই আমাদের দেখতে হবে আমরা কি রংয়ের এবং কি ধরনের আবির বানাতে চাই।
প্রথমে আমরা যে ফুলগুলি সংগ্রহ করেছি সেই ফুলগুলিকে আলাদা আলাদা করে নিতে হবে।

হলুদ আবির তৈরি পদ্ধতি

  • ধরে নেওয়া যাক গাঁদা ফুল দিয়ে প্রথমে আমরা আবির তৈরি করব।
  • তাহলে গাঁদা ফুল গুলি নিয়ে গাঁদা ফুলের পাপড়ি গুলিকে ছাড়িয়ে ফেলতে হবে।
  • এরপর সমস্ত পাপগুলি একটি বড় পাত্রে রেখে সেই পাত্রে কিছুটা জল দিয়ে ভালো করে গরম করতে হবে। জল যখন ফুটতে থাকবে তখন আমরা দেখতে পাব জলের রং টা আস্তে আস্তে হলুদ বর্ণ হয়ে যাচ্ছে, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত জলটা গাঁদা ফুলের পাপড়ির সমস্ত রস বের করতে না পারছে এবং জলটার রং সম্পূর্ণ হলুদ না হচ্ছে ততক্ষণ আমরা ফোটাতে থাকবো।
  • তারপর আমরা জল টা নামিয়ে পাপড়িগুলি জলটা থেকেছে কে বাইরে ফেলে দেবো। জলটা কিছুটা ঠান্ডা হবার জন্য খোলা বাতাস এর মধ্যে রেখে দেবো।
  • তারপর জলটা ঠান্ডা হয়ে গেলে জলের সাথে আমরা মেশাবো কর্নফ্লাওয়ার এবং এরারুট। পরিমাণটা আমরা সেই অনুযায়ী দেবো যতটা পরিমাণে জল টা থাকবে সেই অনুযায়ী। চেষ্টা করতে হবে জলটা যেন সম্পূর্ণ শুকনো করে নেয় আমাদের দেওয়া কনফ্লাওয়ার এবং এরারুট পাউডারটি।
  • সাথে সাথে আমরা কয়েক ফোঁটা সুগন্ধি আতর মিশিয়ে দেব যাতে আবিরের গন্ধটা সুন্দর হয়।
  • তারপর আমরা সেই মিশ্রণটা বাইরে রোদে শুকনো হওয়ার জন্য মিলে দেব একটি প্লাস্টিকের ওপর।
  • রোদে সম্পূর্ণ শুকনো হয়ে গেলে মিশ্রণটি হাত দিয়ে ভেঙে একটু গুড়ো করে নিতে হবে।
  • দরকার পড়লে মিক্সার গ্রাইন্ডার এর সাহায্য নিতে হবে, এবং একটি ছাকনি দিয়ে চেলে নিলে যে অংশটা আমরা পাব সেটি হবে হলুদ আবির।

হলুদ আবির আপনি চাইলে কাঁচা হলুদ দিয়ে করতে পারেন। কাঁচা হলুদ বাজার থেকে কিনে এনে তার ছাল ছাড়িয়ে বেটে নিতে হবে। তারপর সেই বাটা হলুদ তার সাথে এরারুট এবং কনফ্লাওয়ার মিশিয়ে আপনি হলুদ আবির তৈরি করতে পারেন এবং তারপরে আপনি চাইলে ট্যালকম পাউডার দিয়ে আবিরের সুগন্ধ বৃদ্ধি করতে পারেন।

গোলাপি আবির তৈরীর পদ্ধতি

  • বাজার থেকে কিনে নিয়ে আশা বিট গুলিকে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • তারপর একটি ছুরি অথবা বটি দিয়ে বিটকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলতে হবে।
  • কেটে ফেলা বিটের টুকরো গুলিকে একটি পাত্রে নিয়ে, সেই পাত্রে জল দিয়ে ভালো করে ফোটাতে হবে।
  • আমরা দেখতে পাব জলের রংটা ধীরে ধীরে লাল হয়ে গেছে বিটের রঙের জন্য।
  • তারপর ওই পাত্র থেকে বিডি গুলোকে ছেঁকে আলাদা পাত্রে নিয়ে নিতে হবে এবং আমাদের লাগবে মূলত জলটা।
  • এরপর অন্য একটি পাত্রে এরারুট এবং কনফ্লাওয়ার দিয়ে তাতে অল্প অল্প করে এই বিটের লাল জলটা মেশাতে হবে। যখন সমস্ত কর্নফ্লাওয়ার এবং এরারুট জলটা টেনে নেবে এবং সুন্দরভাবে মাখানো হয়ে যাবে, তার মধ্য কয়েক ফোঁটা সুগন্ধি আতর মিশিয়ে দিতে হবে।
  • এরপর সমস্ত মিশ্রণটা রোদে একটি প্লাস্টিকের মধ্যে ঢেলে পাতলা করে বিছিয়ে দিয়ে শুকনো করতে হবে।
  • একদিন রোড পেলে সমস্তটাই শুকনো হয়ে যাবে এবং শুকনো হয়ে গেলে মিক্সার গ্রাইন্ডার এর জিনিসটা দিয়ে গুড়ো করে নিতে হবে। তারপর শুকনো অংশটা একটা চালুনি দিয়ে চেলে একদম যে মিহি অংশটা বের হবে সেটি হবে গোলাপি আবির।
ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা Abir colour
ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা

সবুজ আবির বানানোর পদ্ধতি

সবুজ আবির বানানোর জন্য আপনার কাজে লাগবে হেনা পাউডার। ঘন সবুজ রং পাওয়ার জন্য হেনা পাউডার এর সাথে কনফ্লাওয়ার মেশাতে হবে। তাছাড়া যে কোন গাছের পাতা গরম জলে ফুটিয়ে তার রস দিয়েও আপনি সবুজ আবির তৈরি করতে পারেন। এবং সবশেষে মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে রোদের শুকনো করে তার মধ্য ট্যালকম পাউডার মিশিয়ে গন্ধ তৈরি করে নিতে পারেন। বাজারে চলতি যে সুগন্ধি আতর আছে সেটি মিশিয়েও গন্ধ তৈরি করতে পারেন।

নীল আবির তৈরীর পদ্ধতি

নিল আবির তৈরি করার জন্য সবচেয়ে ভালো অপরাজিতা বা নীলকন্ঠ ফুলের পাপড়ি।
অপরাজিতা বা নীলকন্ঠ ফুলের পাপড়ি জলের মধ্য দিয়ে জলটি ভালো করে ফুটিয়ে নীলের নীল রঙে মিশে যাবে এবং তারপর সেই দলটি সাথে কনফ্লাওয়ার পাউডার এবং এগারোটি মিশিয়ে মিশ্রণটি তৈরি করুন। মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে রোদে শুকিয়ে চালুনি দিয়ে চেলে নীল আবীর তৈরি করে নিন।

খয়রি আবির বানানোর পদ্ধতি

খয়রি আবির বানানোর জন্য কফি পাউডার এর ব্যবহার আপনারা করতে পারেন। এর জন্য কফি পাউডার কে জলের মধ্যে মিশিয়ে দিন এবং জল দিয়ে গুলে যাবার পর সেই জলটির সাথে কনফ্লাওয়ার এবং অ্যারোরুট মিশিয়ে মিশ্রণটি তৈরি করুন এবং মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে রোদে শুকাতে দিন। রোদে শুকানোর পরে চালুনি দিয়ে চেলে ফেলুন এবং খয়রি আবির তৈরি হয়ে যাবে।

এইভাবে লাল আবির সবুজ আবির নিল আবির এবং কমলা আবির বিভিন্ন ফুল দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে।

  • গোলাপ দিয়ে তৈরি হয় লাল আবির,
  • গোলাপি আবির তৈরি হয় বিট দিয়ে,
  • হলুদ আবির তৈরি করা হয় গাঁদা ফুল দিয়ে,
  • নিল আবির তৈরি করা হয় অপরাজিতা ফুল দিয়ে,
  • এবং অন্যান্য ফুলগুলো দিয়েও আমরা সমকালের ভেষজ আবির তৈরি করতে পারি ।

আবির তৈরীর ব্যবসার জন্য কি কি লাইসেন্স এর দরকার পড়ে?

প্রতিটা ব্যবসার মতো আবির তৈরীর ব্যবসার জন্য আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।
তবে আপনি যেহেতু ব্যবসাও অল্প টাকায় শুরু করছেন এবং ছোট করে ব্যবসা শুরু করছেন তার জন্য শুরুতেই ট্রেড লাইসেন্স না নিয়েও ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা আপনি করতে পারেন।
তবে ব্যবসা বড় যত হতে থাকবে ঠিক তার আগেই আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে নিতে হবে।
এবং আরো পরে যখন আপনার ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা থেকে 2-3 লক্ষ টাকা আপনি প্রতি মাসে ইনকাম করা শুরু করবেন তখন আপনাকে একটি জিএসটি লাইসেন্স নিতে হবে।

আবিরের প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়?

আমরা সবাই জানি বাজারে বিক্রি হওয়া আবির গুলি খুব সুন্দর সুন্দর প্যাকেটে বিক্রি করা হয়ে থাকে। ঠিক সেইভাবে আপনার কোম্পানির তৈরি প্যাকেট, যার ভেতরে কোম্পানির নামসহ, আবির খেলছে এইরকম কিছু ছবি থাকবে তার মধ্য। তার ভেতরে আবির ভর্তি করে সেটি সিল প্যাক করে আমরা বাজারে বিক্রি করতে পারি।
তাই মনে রাখবেন প্যাকেটটি যত সুন্দর এবং রংচঙে হবে ততো মানুষকে আকর্ষণ করবে আপনার প্যাকেটটি এবং এই প্যাকেটটা দেখেই মানুষটার ঝাঁপিয়ে পড়বে আপনার কোম্পানির তৈরি আবির কেনার জন্য।

Abir's packaging
আবিরের প্যাকেজিং

ভেষজ আবিরের মার্কেটিং কিভাবে করা হয়?

বর্তমান সময়ে প্রতিটা ব্যবসায়ীর মত আপনাকেও দু ধরনের মার্কেটিং এর উপরে জোর দিতে হবে। একটি হলো পাইকারি মার্কেটিং এবং আরেকটি অনলাইন মার্কেটিং।

আপনার এলাকার আশপাশে সমস্ত দোকান গুলিতে আপনি চাইলে আপনার তৈরি আবির গুলি বিক্রি করতে পারেন। এবং তার সাথে সাথে আশপাশে যতগুলি রিটেলার রয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাদেরকে পাইকারি রেটে আপনি আবির বিক্রি করতে পারেন।

অনলাইনে আবিরের ব্যবসা কিভাবে করবেন?

বর্তমান সময়ে আমরা জানি অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট , মিশো প্রভৃতি। এই সমস্ত ই-কমার্স সাইট গুলোতে আপনার একটি করে বিজনেস একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর যেমন করে আপনি ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে ছবি আপলোড করেন, ঠিক সেইরকম ভাবেই এই বিজনেস একাউন্ট গুলিতে আপনার কোম্পানিতে তৈরি আবির এর প্যাকেট সহ আবিরের ছবি এবং তার দাম যাবতীয় ইনফর্মেশন এখানে দিয়ে পোস্ট করে দিন।
দেখবেন অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন থেকেও অনেক ক্রেতা আপনার কাছ থেকে আবির কিনছে। এবং এইভাবে অনলাইন ব্যবসা করে ও আপনি খুব সহজেই ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে নিয়ে যেতে পারেন।

ভেষজ আবির তৈরীর ব্যবসায় লাভ কত?

1 কেজি আবির তৈরি করতে খরচ হবে 30 টাকা। বর্তমানে বাজারে বিক্রি হয় 10 গ্রাম আবিরের প্যাকেটের দাম 15 টাকা। অর্থাৎ 30 টাকায় তৈরি আবির 150 টাকায় আপনি বিক্রি করতে পারছেন।
এতটাই লাভজনক ব্যবসা ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা। আবার আপনি যদি চান অনলাইনে বিক্রি করবেন তাহলে আরো দাম বেশি পাবেন। আপনি এখনই অ্যামাজনে যদি সার্চ করেন যে আবিরের দাম কত তাহলে আপনি দেখতে পাবেন 10 গ্রাম আবির অ্যামাজনে বিক্রি হচ্ছে কুড়ি টাকা থেকে পঁচিশ টাকা দামে। মানে অনলাইনে বিক্রি করলে আপনার লাভটা 200 টাকা প্রতি কেজিতে দাঁড়িয়ে যাবে। কিন্তু তৈরি করতে আমাদের খরচ হচ্ছে মাত্র 30 টাকা। আপনি চাইলে প্রতিমাসে আবির তৈরি করে এক লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারেন। শুধুমাত্র ব্যবসায় মার্কেটিং সুন্দর করলেই হবে।

ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা করতে গেলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?

বর্তমানে বাজারে অনেক কোম্পানির অনেক ধরনের আবির রয়েছে। সেই মার্কেটে আপনাকে দাঁড়াতে হলে আপনার প্রথমত যেটা লাগবে সেটা কোয়ালিটির ওপরে জোর দিতে হবে।
এরপর আসছে দামের ওপরেও নজর দিতে হবে। অর্থাৎ ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা শুরুতে লাভ কম দেখে অল্প লাভ রেখে আপনাকে আবির পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কাছে এতে মানুষ যখন দেখবে কম দামে ভালো কোয়ালিটির আবির পাওয়া যাচ্ছে তখন সবাই আপনারা ভিটায় কিনবে এতে আপনার ব্যবসা খুব তাড়াতাড়ি অনেক সাফল্য অর্জন করবে

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 4-5 হাজার টাকা ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা করতে লাগে।

আবির তৈরীর কারখানা করতে কত জায়গা লাগে?

উত্তর: কৃত্রিম পদ্ধতিতে আবির তৈরীর কারখানা করতে গেলে আপনাকে কমপক্ষে ২০০ স্কয়ার ফিট জায়গা দরকার পড়বে।

আবির ব্যবসা কোথায় করা যায়?

উত্তর: বর্তমানে গ্রাম কিংবা শহর সব জায়গাতেই আবিরের চাহিদা রয়েছে, তাই এই ব্যবসা আপনি সব জায়গাতেই করতে পারেন।

ভেষজ আবীর তৈরির মেশিনের দাম কত?

উত্তর: ভেষজ আবীর তৈরির মেশিন বলতে গ্রাইন্ডার মেশিন এবং ওভেনের প্রয়োজন পড়ে যা আপনি ২-৩ হাজার টাকা বিনিয়োগেই কিনতে পারবেন।

ভেষজ আবির ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: ব্যবসার উপর নির্ভর করবে আপনার লাভের পরিমাণ। তবুও আপনি ছোট ব্যবসায়ী হলে প্রতি মাসে 1 লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

নতুন নতুন অল্প পুঁজির ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা

পারফিউম তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment