1 হাজার টাকায় ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করুন | Successful Ways to Make a Vinegar Business

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা শুরু করা যায় খুবই অল্প পুঁজি নিয়ে। আর ভিনিগার ব্যবসায় লাভ হয় অনেক বেশি পরিমাণে। ভিনিগার এর মধ্য আমরা পাই একপ্রকার অ্যাসিড যা ভিনিগার এর গাঁজন এবং ইথানল থেকে উৎপাদিত হয়। বর্তমানে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব বাজারে বিভিন্ন রকমের ভিনিগার বিক্রি হয়ে থাকে। যেমন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে লক্ষ্য করা যায় লেবু ফেভার, নারকেল ফ্লেভার, আপেল ফ্লেভার, স্ট্রবেরি ফ্লেভার ভিনিগার। প্রতিটা ফ্লেভারের ভিনিগার আলাদা আলাদা ধরনের খাবার তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আর ভিনিগার এর চাহিদা শুধু বড় বড় রেস্টুরেন্টে থাকেনা এখন প্রতিটা পরিবারের ভিনিগার এর চাহিদা থাকে। তাই জন্য ভিনিগার তৈরির ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা।

ভিনিগার শুধুমাত্র খাবারের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে আমরা জানলেও ভিনিগার ত্বকের বিভিন্ন উপকারেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন আপেল সিডার ভিনিগার এর বহু গুনাগুন আমরা দেখতে পাই। যেহেতু ভিনিগারের ব্যবহার বাজারে খুব দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই জন্য ভিনিগার তৈরির ব্যবসাও ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করছে। আপনিও যদি ভিনিগার তৈরীর ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য এই পোস্টটা উপযুক্ত হবে।

The business of making vinegar
ভিনিগার তৈরির ব্যবসা

Table of Contents

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? (How much does it cost to make vinegar?)

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে সাধারণত সবচেয়ে কম 1 থেকে 2 হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করা যায়। অল্প পরিমাণ পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার বাড়ি থেকেই ব্যবসা শুরু করতে হবে। এছাড়া আপনি যদি একটি কারখানা তৈরি করে ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনার কারখানার আয়তন এবং আপনার ব্যবসা করার ধরনের ওপর নির্ভর করবে পুঁজি বিনিয়োগের পরিমাণ।

আপনি যদি বড় করে কারখানা তৈরি করে ভিনিগার তৈরির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনার বেশি পুঁজি খরচ হবে। কারণ কারখানা তৈরীর জন্য ব্যবহৃত জমি, বিদ্যুৎ, জল, কাঁচামাল এবং যানবাহন সমস্ত কিছুর আলাদা আলাদাভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। বড় করে কারখানা তৈরি করে ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে 2 থেকে 3 লক্ষ টাকা কমপক্ষে বিনিয়োগ করতে হবে। এবং আপনি যদি আরো বড় আকারের ব্যবসা করেন তাহলে আরো বেশি পুঁজি খরচ করতে হবে।

ভিনিগার তৈরির কাঁচামাল কি কি? (What are the raw materials for making vinegar?)

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ভিনিগারের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু কাঁচামাল কিনতে হবে। আর সেইসব কাঁচামাল গুলি হল-

  • বিভিন্ন ফল অথবা ফুড ফ্লেভার
  • অ্যাসিটাস এবং অ্যালকোহল
  • কাচের বোতল (ল্যাবরেটরি তে ব্যবহার করা যেগুলো হয়)
  • গ্লেসিয়াল অ্যাসিটিক অ্যাসিড
  • RO ওয়াটার
  • ল্যাব ব্যবহারযোগ্য লেভেল

অবশ্যই পড়ুন- কিভাবে ব্যবসা শুরু করব?

ভিনিগার তৈরির কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা শুরু করতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাঁচামাল কিনতে হবে। ভিনিগার তৈরি করার কাঁচামাল কেনার জন্য আপনি আপনার নিকটবর্তী যেকোনো কেমিকাল ল্যাবরটরি থেকে কিনতে পারেন। অথবা আপনি চাইলে অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজন অনুসারে পরিমাণমতো কিনতে পারেন। আবার আপনি চাইলে সরাসরি কলকাতার বিভিন্ন বড় বড় কেমিক্যাল স্টোর থেকে সকল কাঁচামাল কিনে নিয়ে যেতে পারেন। এছাড়াও আপনাকে ভিনেগার তৈরি করার জন্য বিভিন্ন মেশিন কিনতে হবে।

ভিনিগার তৈরীর মেশিন কি কি লাগে? (What does a vinegar making machine cost?)

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বেশ কয়েকটি রকমের মেশিন কিনতে হবে, যেমন-

  • ভিনিগার জেনারেটর
  • জলের ট্রাঙ্ক
  • ফিল্টার মেশিন
  • ওয়েট মেশিন
  • স্টিলের কিছু বড় পাত্র

ভিনিগার তৈরির মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে আপনাকে যে সকল মেশিন কিনতে হবে তা আপনি আপনার নিকটবর্তী যেকোনো মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি থেকে কিনতে পারেন। বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অনেকগুলো মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি রয়েছে। আপনি যদি একটু খোঁজখবর নেন তাহলেই সেইসব ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি যোগাযোগ নাম্বার সহ নাম পেয়ে যাবেন। আপনি চাইলে প্রতিটা ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানিতে যোগাযোগ করে কিংবা অর্ডার দিয়ে ভিনিগার তৈরীর মেশিন কিনতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকে সকল প্রকার মেশিন সহজলভ্য দামে কিনতে পারেন।

ভিনিগার তৈরীর ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন?

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন আপনি আপনার বাড়ি থেকেই, কিন্তু বাড়িতে আপনি সঠিক ল্যাবরেটরি তৈরি করতে পারবেন যদি আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গা অথবা ঘর থাকে। তবে সঠিক উপায়ে ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বেশ কয়েকটা জিনিস লক্ষ্য রাখতে হবে। সেই সব জিনিস গুলি হল-

মার্কেট রিসার্চ করা

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা শুরু করতে হলে অবশ্যই আপনাকে মার্কেট রিচার্জ করতে হবে। মার্কেট রিসার্চ বলতে আপনি কোথায় থেকে কাঁচামাল কিনবেন, আবার কোথায় আপনি বিক্রি করবেন, এবং যে এলাকাতে ব্যবসা করছেন সেই এলাকাতে চাহিদা কেমন আছে। এর জন্য আপনাকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে বিভিন্ন এলাকাতে। আপনাকে দেখতে হবে যে এলাকাতে আপনি ব্যবসা করতে চাইছেন সেই এলাকাতে আর দ্বিতীয় কোন কোম্পানি আছে কিনা, যদি থেকে থাকে তাদের তৈরি পণ্যের দাম কত, এবং আপনি কি তার থেকে কম দামে পণ্য তৈরি করতে পারবেন, এবং গ্রাহকের চাহিদা কেমন আছে, এইসব জিনিসগুলো আপনাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হবে সর্বপ্রথমে।

উপযুক্ত স্থান নির্বাচন

মার্কেট রিসার্চ করে আপনি উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে ফেলেছেন যে কোন জায়গাতে আপনি ব্যবসা শুরু করবেন। সাধারণত উপযুক্ত স্থান বলতে এমন একটি জায়গা আপনাকে নির্বাচন করতে হবে যেখান থেকে আপনি কাঁচামাল কিনে আনা এবং তৈরি হয়ে যাওয়া পণ্য বাজারে বিক্রি করার সুবিধা থাকে। সাধারণত ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে 200 থেকে 300 বর্গফুট এলাকার প্রয়োজন পড়ে। আবার আপনি যদি কারখানা তৈরি করতে চান বড় করে তাহলে এর থেকেও বড় জায়গার প্রয়োজন পড়বে। তবে ব্যবসায় শুরুতে যদি আপনি শুধুমাত্র বাড়ি থেকেই ভিনিগার তৈরির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার 10/10 এর একটা ঘর হলেই চলবে।

ব্যবসার প্ল্যান তৈরি

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে একটি ব্যবসায়িক প্ল্যান তৈরি করতে হবে। এই ব্যবসায়ী প্লান এর মধ্যে অবশ্যই আপনাকে বিনিয়োগের টাকা এবং সমস্ত হিসাব নিকাশ রাখতে হবে। আবার তৈরি হয়ে যাওয়া পণ্য বাজারে বিক্রি কিভাবে করবেন তাও এই ব্যবসায়ী প্লান এর মধ্যে আগে থেকে নির্বাচিত করতে হবে।

Apple cider vinegar
অ্যাপেল সিডার ভিনিগার

ভিনিগার তৈরির ব্যবসায় কি কি লাইসেন্স লাগে?(What is the license for vinegar making business?)

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে শুরুতে বিনা লাইসেন্সে আপনি বেশ কিছুটা এগুতে পারেন। তবে আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে আপনাকে কয়েকটা লাইসেন্স নিয়ে নিতে হবে।

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • FSSAI লাইসেন্স
  • GST নাম্বার
  • FPO শংসাপত্র
  • দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র
  • কারখানা লাইসেন্স

ট্রেড লাইসেন্স মূলত আপনি আপনার ব্যবসাকে সরকারের কাছে নথিভূক্ত করার জন্য নেবেন। প্রতিটা ব্যবসায় ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। আবার আপনি যেহেতু খাবারের জিনিস তৈরি করছেন তাই অবশ্যই আপনাকে FSSAI লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে। এইরকম প্রতিটা লাইসেন্স আলাদা আলাদা করে বিভিন্ন কাজের জন্য নিতে হবে আপনাকে। প্রতিটা লাইসেন্স নেবার জন্য আপনি অনলাইনে আবেদন করে পেতে পারেন। আবার আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস কিংবা কর্পোরেশন থেকে পেতে পারেন। প্রতিটা লাইসেন্সের জন্য আপনার খরচ হবে কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকার মতো।

আরো পড়ুন- টুথপিক তৈরির ব্যবসা করে প্রতি দিন ইনকাম করুন 50000 টাকা

কিভাবে ভিনিগার তৈরি করা হয়? (How is vinegar made?)

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ভিনিগার তৈরি করা শিখতে হবে। আর ভিনিগার তৈরি করা খুবই সহজ সরল পদ্ধতি। আপনি চাইলে যেকোনো বড় কোম্পানি থেকে অথবা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আবার আপনি চাইলে খুব সহজ সরল পদ্ধতি যা নিচে দেওয়া হল সেইসব পদ্ধতিতেও বানাতে পারেন। 1 লিটার ভিনেগার তৈরি করতে যে সকল জিনিস গুলি লাগে সেগুলি হল-

  • ভিনিগার তৈরীর ফরমুলা হল 0.5:9.5
  • প্রথমে কাচের একটি পাত্রে 50 মিলিলিটার গ্লেসিয়াল অ্যাসিটিক অ্যাসিড নিতে হবে।
  • আরেকটি পাত্রে 950 মিলি লিটার RO ওয়াটার বা বিশুদ্ধ জল নিতে হবে।
  • আরেকটি কাচের পাত্রে অল্প RO ওয়াটার এর সাথে গ্লেসিয়াল অ্যাসিটিক অ্যাসিড মিশিয়ে দিতে হবে।
  • তারপর তার মধ্যে বিভিন্ন ফুড ফ্লেভার মিশিয়ে বেশ কিছুক্ষণ নাড়তে হবে যতক্ষণ ভালো করে মিশ্রণটি তৈরি না হয়ে যায়।
  • মিশ্রণটি তৈরি হয়ে যাবার পর তার মধ্য বাকি RO ওয়াটার মিশিয়ে আরেকটু বেশিক্ষণ ধরে মিশ্রণটি নাড়িয়ে ভিনেগার তৈরি করতে হবে।
  • ভিনিগার তৈরি হয়ে যাবার পর প্লাস্টিকের এক লিটারের বোতল কিনে তার ভেতরে ভরতে হবে সম্পূর্ণ ভিনিগার।
  • এরপর প্লাস্টিকের বোতলের গায়ে আপনার কোম্পানির লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
How to make vinegar
ভিনিগার বানানোর পদ্ধতি

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার বানানোর পদ্ধতি (How to make apple cider vinegar)

ভিনিগার তৈরীর ব্যবসা করতে হলে বিভিন্ন ধরনের ভিনেগার বানানোর পদ্ধতি গুলো অবশ্যই আপনাকে রপ্ত করতে হবে। যেমন অ্যাপেল সিডার ভিনিগার বানাতে হলে-

  • প্রথমে 5 কোয়া রসুন,
  • এক চামচ আদা বাটা,
  • একটা শুকনো লঙ্কা,
  • 1 চা চামচ পেঁয়াজ বাটা,
  • আজ চামচ কালো মরিচ,
  • একটা কমলা লেবুর রস,
  • একটা পাতি লেবুর রস,
  • এবং আপেল থেকে নিঃসৃত রস

এই সমস্ত জিনিস গুলি নিয়ে একসাথে ভিজিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষণ।
তারপর সমস্ত মিশ্রণটি একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ভালো করে ছেঁকে নিতে হবে।
তারপর যে রসটা পড়ে থাকবে তাই অ্যাপেল সিডার ভিনিগার।

অবশ্যই পড়ুন- দুধের ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয়

অ্যাপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা কি কি?

অ্যাপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা অনেক বেশি পরিমাণে বর্তমানের লক্ষ্য করা যায়। শুধুমাত্র অ্যাপেল সিডার ভিনিগার খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকলেও বর্তমানে এই ভিনিগার আরো অনেক কাজেই ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন বলা যায়-

  • অ্যাপেল সিডার ভিনিগার রোজ খেলে আপনি ঠান্ডা থেকে মুক্তি পাবেন।
  • গলা খুসখুস, সর্দি, কাশি কিংবা জ্বর সমস্ত কিছু থেকে রোগ নিরাময়ের বিকল্প অ্যাপেল সিডার ভিনিগার।
  • এছাড়াও ওজন কমানোর জন্য ডায়েটিশিয়ানরা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার রোজ প্রোটিন ড্রিঙ্ক এর মধ্য দু-চামচ করে খাবার কথা বলেন।
  • এছাড়াও অ্যাপেল সিডার ভিনিগার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • ত্বক এবং চুলের রুক্ষতা কমানোর জন্য অ্যাপেল সিডার ভিনিগার এর বিকল্প হয় না।

ভিনিগারের প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়?

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্যাকেজিং এর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাজার থেকে প্লাস্টিকের বোতল কিনে আনার পর সেই বোতল গুলোকে ভাল করে জল দিয়ে ধুয়ে তারপরেই তার ভেতরে ভিনিগার ঢালতে হবে। ভিনিগার ভর্তি হয়ে যাবার পর প্রতিটা প্লাস্টিকের বোতল ভালো করে সেট করতে হবে। যাতে কোনভাবে ভিনিগার বাইরে পড়ে না যায় তার দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রতিটা বোতলের গায়ে আপনার কোম্পানির নাম লাগানো স্টিকার লাগাতে হবে। এছাড়াও আপনার কোম্পানির ঠিকানা ফোন নাম্বার সমস্তটাই যেন টিকে থাকে তাও দেখতে হবে। মনে রাখবেন ভালো করে প্যাকেজিং হলেই তবে মার্কেটে বিক্রির জন্য একটা ভিনিগার আপনার কোম্পানি থেকে বার করবেন। ক্রেতারা যতো সুন্দর দেখতে জিনিস হয় সেই জিনিসটা কিনতে বেশি পছন্দ করেন, তাই প্যাকেজিং সুন্দর ভাবে করার চেষ্টা করবেন।

ভিনিগার মার্কেটিং কিভাবে করা হয়?

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার কোম্পানিতে প্রস্তুত ভিনিগার গুলিকে বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। ভিনিগার বিক্রির জন্য আপনি বেশ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। যেমন-

  • বাজারের বড় ছোট মুদিখানা দোকান গুলিতে ভিনিগার বিক্রি করতে পারেন।
  • বড় সুপারমার্কেটে ভিনিগার বিক্রি করতে পারেন।
  • এছাড়া বড় বড় হোলসেল মার্কেট এ আপনি বিক্রি করতে পারেন।
  • অনলাইনে নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভিনিগার বিক্রি করা যায়।
  • বর্তমানের বহুপ্রচলিত ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলি যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট এই ধরনের ওয়েবসাইটের একটি করে বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে ভিনিগার বিক্রি করতে পারেন।
  • এছাড়াও আপনি বিভিন্ন এলাকাতে ডিস্ট্রিবিউটার তৈরি করে তাদের মাধ্যমে ভিনিগার বিক্রি করতে পারেন।

ভিনিগার তৈরির ব্যবসায় লাভ কত? (What is the profit of vinegar making business?)

ভিনিগার তৈরির ব্যবসা যেমন খুব অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায় তেমনই এই ব্যবসা অনেক লাভজনক একটি ব্যবসা। 1 লিটার ভিনিগার তৈরি করতে খরচ হবে 3 টাকা। কারণ গ্লেসিয়াল অ্যাসিটিক এসিডের দাম 60 টাকা লিটার। আর বিশুদ্ধ RO ওয়াটার এর কুড়ি লিটারের ড্রামের দাম 25 থেকে 30 টাকা। এছাড়াও বাকি সকল কাঁচামালের দাম খুব কম থাকায় 1 লিটার ভিনিগার তৈরি করার জন্য 3 টাকা খরচ হয়।

বাজারে বিক্রি করতে পারেন ভিনিগার এক লিটারের বোতল পাইকারি দাম 20 থেকে 30 টাকা। প্রতিদিন আপনি যদি 50 লিটার ভিনিগার বাজারে বিক্রি করতে পারেন। তাহলে আপনার লাভ থাকবে প্রতিদিন 1.5 হাজার টাকা। তবে ছোট্ট করে ভিনিগার তৈরির ব্যবসা শুরু করলে আপনার প্রতিমাসে কমপক্ষে 50 থেকে 60 হাজার টাকা লাভ থাকে। আর আপনি যদি বড় করে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার প্রতি মাসে লাভ থাকবে 2 লক্ষ থেকে 3 লক্ষ টাকা।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: খুব ছোট করে ভিনিগার তৈরির ব্যবসা শুরু করতে 5 থেকে 10 হাজার টাকা খরচ হয়। একটু বড় করে এই ব্যবসা করতে গেলে আপনার 50 থেকে 60 হাজার টাকা খরচ হবে।

প্রশ্ন: বিশুদ্ধ ভিনিগার তৈরীর ফরমুলা কি?

উত্তর: 0.5:9.5 অনুপাতে গ্লেসিয়াল অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং RO ওয়াটার মেশাতে হবে। ভালো করে মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলেই ভিনিগার প্রস্তুত হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন হয়?

উত্তর: কমপক্ষে 10/10 ফুটের একটি ল্যাবরটরি আপনাকে তৈরি করতে হবে।

প্রশ্ন: ভিনিগার ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: ভিনিগার ব্যবসায় লাভ হয় কমপক্ষে প্রতিমাসে 50 থেকে 60 হাজার টাকা।

প্রশ্ন: কত রকমের ভিনিগার হয়ে থাকে ও কি কি?

উত্তর: 15 রকমের ভিনিগার বর্তমানে হয়ে থাকে। আর সেগুলি হল-

  1. বিশুদ্ধ ভিনিগার
  2. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার
  3. সুবাসিত ভিনিগার
  4. সাদা ওয়াইন ভিনিগার
  5. রেড ওয়াইন ভিনিগার
  6. ধান ভিনিগার
  7. মাল্ট ভিনিগার
  8. রেড রাইস ভিনিগার
  9. শ্যাম্পেন ভিনিগার
  10. সেরি ভিনিগার
  11. কালো(চিংকিয়াং) ভিনিগার
  12. বেতের ভিনিগার
  13. বিয়ার ভিনিগার
  14. কিসমিস ভিনিগার
  15. এপ্রিকট ভিনিগার

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

LED লাইটের ব্যবসা

গ্রামে কি ব্যবসা করা যায়

Leave a Comment