ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা | 1 no Floor Wiper Making Business Right Now

ঘর পরিষ্কার করার জন্য এখন মানুষ অনেক সহজ উপায়ে বেছে নিয়েছে।মানুষের পছন্দ ফ্লোর ভাইপার। তাই আপনি যদি ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি অল্প পুঁজি লাগিয়ে খুব দ্রুত অনেক লাভবান হবেন। খুবই অল্প পুজিতে শুরু করা যায় ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা।

Table of Contents

ফ্লোর ভাইপার তৈরীর ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ হয়? (How much does it cost to make a floor wiper business?)

ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা শুরু করতে আপনার খরচা হবে মাত্র 15 হাজার টাকা। হ্যাঁ শুনে হয়তো আপনি অনেকটা অবাক হচ্ছেন কিন্তু না, এই ব্যবসা শুরু করতে সত্যিই খুব অল্প পুঁজি দরকার।
তাহলে আপনি যদি ভাইপার তৈরির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে মাত্র 15 হাজার টাকা খরচ করে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

floor wiper making business
ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা

ভাইপার তৈরি করতে কি কি কাঁচামাল লাগে? (What raw material does it take to make a wiper?)

ঘর পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণ আমরা ব্যবহার করে থাকি। তারমধ্য ভাইপার হলো অন্যতম একটি ঘর পরিষ্কারের উপকরণ। ভাইপার তৈরি করার জন্য যে সকল কাঁচামাল লাগে সেগুলি হল-
১: রাবার শিট
২: প্লাস্টিক ভাইপার ক্যাপ
৩: হাতল বা লাঠি
৪: প্লাস্টিক প্যাকেট
এই সমস্ত কাঁচামাল গুলি হলে আপনি ভাইপার তৈরি করতে পারবেন।

ভাইপার তৈরীর কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ভাইপার তৈরির ব্যবসা শুরু করার আগেই আমাদের মনে হতে থাকে যে আমরা কাঁচামাল কোথা থেকে সংগ্রহ করবো।
ভাইপার তৈরির কাঁচামাল আপনি বড়বাজার হোলসেল মার্কেট থেকে পেয়ে যাবেন।
অথবা আপনি যদি চান যে কোম্পানির কাছ থেকে মেশিন কিনবেন, সেই কোম্পানির কাছ থেকে সমস্ত কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও আমি কয়েকটি কোম্পানির নাম সহ ফোন নাম্বার দিয়ে দিচ্ছি এই কোম্পানিতে সরাসরি ফোন করে আপনি চাইলে ভাইপার তৈরীর মেশিন সহ কাঁচামাল সমস্তটাই সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।

ভাইপার তৈরির মেশিনের দাম কত? (How much does a wiper machine cost?)

ভাইপার তৈরীর মেশিন এর দাম হয় খুবই কম মাত্র 12 হাজার টাকায় আপনি মেশিন পেয়ে যাবেন।
এছাড়া আপনি আরো 10 হাজার টাকা খরচা করে মব তৈরির মেশিন ও যাবেন।

ভাইপার তৈরির মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ভাইপার তৈরীর মেশিন বড়বাজার হোলসেল মার্কেট পেয়ে যাবেন, এছাড়া ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকে কিনতে পারেন সরাসরি। বিভিন্ন কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গে ভাইপার তৈরীর মেশিন তৈরি করে থাকে। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কোম্পানির তৈরীর মেশিন সহ সমস্ত প্রোডাকশন দিয়ে থাকে।
আপনারা চাইলে সেই সকল কোম্পানিতে ফোন করে সরাসরি ভাইপার তৈরির ব্যবসা সংক্রান্ত যাবতীয় ইনফরমেশন নিতে পারেন এবং ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

wiper making machine
ভাইপার তৈরির মেশিন

ভাইপার তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গা প্রয়োজন হয়?

ভাইপার তৈরি ব্যবসা করার জন্য খুব বেশী বড় জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। আপনি চাইলে আপনার ঘরের এক কোনে বসেও ভাইপার তৈরি করতে পারেন। এছাড়া আপনি যদি নিজস্ব কোম্পানি খুলতে চান তাহলে 10/12 ফুটের এক কামরা ঘর হলেই আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

কিভাবে ভাইপার তৈরি করা হয়?(How is Wiper made?)

প্রথমে রাবার শিট নিতে হবে, তারপর সেই রাবার শিট কে মেশিনের সাহায্যে সমানভাবে ছোট ছোট আকারে কেটে নিতে হবে, যাতে ভাইপার তৈরিতে কোন অসুবিধা না হয়। রাবার শিট বিভিন্ন কালারের এবং বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে তাই আপনারা চাইলে যেকোনো কালার কে বেছে নিয়ে কাটতে পারেন মেশিন দিয়ে। এরপর যে প্লাস্টিক ক্লিপ পাওয়া যায় সেই প্লাস্টিক ক্লিপ এর সাথে লাগানো থাকে প্লাস্টিক লক।

প্লাস্টিক লকগুলি ভেঙে নিয়ে আলাদা করে নিতে হয়। এরপর রাবার শিট গুলিকে প্লাস্টিক ক্লিপ এর ভেতরে কোনা কোনিভাবে ঢুকিয়ে প্লাস্টিক লকগুলি হাত দিয়ে আপনারা চাইলে আটকে দিতে পারেন। আবার আপনারা চাইলে মেশিন দিয়ে চাপ দিয়ে লকগুলি লাগিয়ে দিতে পারেন। লক লাগানো হয়ে গেলেই ভাইপার তৈরি হয়ে যাবে। এরপর ভাইপার গুলিকে প্লাস্টিকের ভেতরে ভরে বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করে ফেলবেন। আর হাতল গুলি আলাদা করে দোকানের দেবেন, যাতে কাস্টমার যে ডিজাইনের হাতল পছন্দ হবে সেই ডিজাইনের হাতল দোকান থেকে কিনতে পারেন।

মপ তৈরীর ব্যবসা

একই সাথে আপনারা চাইলে মদ তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন, বা মপ তৈরীর ব্যবসার সাথে সাথে ভাইপার তৈরির ব্যবসা শুরু করা যায়। যারা জানেন না মপ তৈরির ব্যবসা কিভাবে শুরু করতে হবে, তাদের জন্য নিচে দেওয়া লিংকে আপনারা দেখতে পারেন কিভাবে মপ তৈরির ব্যবসা শুরু করবেন।

আরো পড়ুন মপ তৈরির ব্যবসা করুন

ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স এর প্রয়োজন হয়?

ফ্লোর ওয়াইপার তৈরির ব্যবসা শুরু করতে গেলে আপনাকে প্রথমে যে লাইসেন্স দরকার পড়বে সেটি হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স। এই ট্রেড লাইসেন্স আপনি আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস থেকে বানাতে পারেন কিংবা বিডিও অফিস থেকে বানাতে পারেন। বর্তমান সময়ে ট্রেড লাইসেন্স বানানো বেশিদূর যেতে হয়না কারণ এখন অনলাইনে এপ্লাই করে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়।
তবে পরবর্তীকালে ব্যবসার উন্নতি যত দিন যাবে ঘটতে থাকবে, তেমন লাভের পরিমাণ টাও বাড়তে থাকবে অনেক বেশি পরিমাণে। তাই তখন আপনাকে একটা জিএসটি লাইসেন্স নিয়ে নিতে হবে।

ভাইপার মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?(How to do Wiper Marketing?)

আপনি আপনার লোকাল বাজার অথবা হোলসেল মার্কেটে বিক্রি করতে পারেন। যে দোকানগুলোতে মূলত মপ বিক্রি হয়ে থাকে অথবা ঘর পরিষ্কার করার যাবতীয় সরঞ্জাম বিক্রি হয়ে থাকে, সেই সকল দোকানে আপনি চাইলে ভাইপার বিক্রি করতে পারেন। কারন এইসব দোকানগুলিতে ঘর পরিষ্কার করার সমস্ত সামগ্রী পাওয়া যায় যেহেতু তাই এরা ভাইপার আপনার কাছ থেকে নিয়ে নেবে।

এছাড়া আপনি চাইলে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট এই ধরনের ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলিতে একটি ঘরে বিজনেস একাউন্ট খুলে সেখানে আপনি আপনার কোম্পানিতে তৈরি হওয়া ভাইপার অথবা মপ দুটো জিনিসই ছবি সহ দাম এবং যাবতীয় তথ্য যদি আপলোড করেন, তাহলে এই অনলাইন থেকেও আপনার প্রচুর পরিমাণে কাস্টমার হয়ে যাবে এবং তারা সরাসরি আপনার কোম্পানি থেকে অনলাইন মারফত ভাইপার কিনে নিয়ে যাবে।

ভাইপার তৈরির ব্যবসা
wiper making

ভাইপার প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়?

ভাইপার প্যাকেজিং করার জন্য আলাদা করে কোনো নতুন জিনিস দিয়ে প্যাকেজিং করার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ ভাইপার তৈরি হবার পর শুধুমাত্র একটি প্লাস্টিকের মধ্য পুড়ে সেটি বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা যায়। তাই আলাদা করে প্যাকেজিং না করলেও ভাইপার খুব দ্রুত কাস্টমার কিনে নিতে পারে সামান্য প্লাস্টিকের প্যাকেজিং দেখেই। আপনি চাইলে আপনার কোম্পানির নাম সহ ভাইপারের সুন্দর ছবি দিয়ে প্লাস্টিক খুলে আলাদা করে ছাড়িয়ে নিতে পারেন।

Wiper তৈরীর ব্যবসায় লাভ কত?

কোম্পানির কাছ থেকে আপনি যখন সমস্ত প্রোডাক্ট কিনছেন সেখানে কম্পানি আপনাকে 2400 টাকার মধ্যে 100 ভাইপার এর কাঁচামাল আপনাকে দিচ্ছে। প্রতি wiper তৈরি করতে খরচ হয় 24 টাকা করে।
আর সেই 24 টাকায় তৈরি ভাইপার গুলি আপনি পাইকারি মার্কেটে বিক্রি করতে পারেন 40 টাকা দামে। অর্থাৎ একটা ভাইপার বিক্রি করে আপনার লাভ হবে 16 টাকা। প্রতিদিন আপনি যদি মাত্র 100 টা করে ভাইবার বিক্রি করতে পারেন তাহলে আপনার লাভ থাকবে প্রতিদিন 1600 টাকা করে।

হলে মাত্র 12 হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে আপনি 48 হাজার টাকা প্রতি মাসে লাভ করতে পারেন। এত অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে এত অধিক পরিমাণে লাভ খুব কম ব্যবসাতেই থাকে তাই খুব বেশি না ভেবে আপনি আজ শুরু করে নিতে পারেন ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা।

ফ্লোর ভাইপার তৈরির ব্যবসা শুরু করতে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?

ভাইপার তৈরির ব্যবসা শুরু করার পর যে সকল সমস্যার সম্মুখীন আপনি হতে পারেন সেগুলি হল-
ঠিকঠাকভাবে মার্কেটিং না করতে পারার সমস্যা।
গুড কোয়ালিটি ভাইপার বিক্রি করার সমস্যা।
আরে এইসব সমস্যাগুলিকে সমাধান করে আপনি যদি এগিয়ে যেতে পারেন তাহলে আপনি খুব দ্রুত এই ব্যবসায় সাফল্য চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যাবেন।
এর জন্য আপনাকে শুধু প্রথমে লাভটা কম রেখে সেলটা বেশি করে বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। আর দ্বিতীয়তঃ বাজারে অনেক বড় বড় কোম্পানি থাকলেও আপনার কোম্পানির প্রোডাক্ট যদি ভালো এবং উন্নত মানের হয়ে থাকে তাহলে কাস্টমার অন্য বড় কোম্পানির প্রোডাক্ট এর ছেড়ে আপনার প্রোডাক্ট কিনবো বাজার থেকে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

ভাইপার তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 15 হাজার টাকা থেকে 20 হাজার টাকা খরচ ভাইপার তৈরির ব্যবসা করতে।

ওয়াইপার কি দিয়ে তৈরি হয়?

উত্তর: রাবার সিট ও প্লাস্টিকের হাতল দিয়ে তৈরি হয় ওয়াইপার।

ঘর মোছা তৈরির মেশিনের দাম কত?

উত্তর: 12 হাজার টাকার মধ্যে ঘর মোছা তৈরির মেশিন পাওয়া যায়।

ভাইপার ব্যবসা করতে কত বড় জায়গা লাগে?

উত্তর: আপনি আপনার ঘরের ভেতরেই একটি টেবিলের উপরেই ছোট মেশিন বসিয়ে কাজ করতে পারবেন। তাই বলা যেতে পারে 10/10 ফুটের ঘর হলেই চলবে।

ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: প্রতিদিন 1500 টাকা থেকে 2000 টাকার মতো লাভ থাকে।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

একটা মেশিন দিয়ে 5টি ব্যবসা করুন

ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির ব্যবসা

1 thought on “ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা | 1 no Floor Wiper Making Business Right Now”

  1. বাংলাদেশে ভাইপার তৈরির কাচামাল কোথায় পাওয়া যায়?

    Reply

Leave a Comment