কেটে ফেলে কলা গাছ থেকে মাসে 1 লাখ টাকা আয় করুন | ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা | Banana Fiber Business Right Now

বর্তমানে কেটে ফেলা কলাগাছ থেকে তৈরি করা হচ্ছে ব্যানানা ফেব্রিক। আর সম্পূর্ণ এই ব্যবসাটি কে ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা বলা হয়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এইরকম নতুন নতুন ছোট ছোট কিছু ব্যবসা গড়ে উঠছে যা বর্তমানের বাজার নতুন করে সৃষ্টি করছে। আপনিও যদি অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করার চিন্তা করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য ব্যানানা ফাইবার ব্যবসাটি ভিশন যুগোপযোগী। কারণ ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে গেলে খুবই অল্প পরিমাণ পুঁজি খরচ করতে হয় এবং তার সাথে সাথে যে লাভটা থাকে তার প্রতি মাসের সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণে।

আবার আপনি যদি এই ব্যবসা বড় আকারে করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটু বেশি পুঁজি খরচ করতে হবে, এবং প্রতি মাসের যে লাভ হবে তা কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে দেখে নেওয়া যাক এই নতুন প্রকার ব্যবসা যা কলাগাছ থেকে সৃষ্টি, সেই ব্যবসা কিভাবে করা যায়, অর্থাৎ ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা কিভাবে করা হয়।

Table of Contents

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে কত পুঁজি লেগে?

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে 80 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ ব্যানানা ফেব্রিক বা তন্তু তৈরি করতে গেলে যে মেশিন আপনাকে কিনতে হবে তার দাম এবং উপযুক্ত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের মজুরি মিলিয়ে আপনার 80 থেকে 90 হাজার টাকা অবশ্যই খরচ করতে হবে। তবে এটা তো শুধুমাত্র ব্যবসার প্রথম বিনিয়োগের অর্থ, পরবর্তী মাসে আপনি মাত্র 5-10 হাজার টাকা খরচ করে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন। কারণ ব্যানানা ফাইবার এর বর্তমান বাজার চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু এই ব্যবসা করে খুব অল্প মানুষজন। তাই আপনি যদি ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করেন তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো সুবর্ণ সুযোগ এখনই।

ফাইবার ব্যবসা
ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে কি কি কাঁচামাল লাগে?

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর সর্ব প্রধান এবং প্রথম কাঁচামাল কলাগাছ। কারণ এই ব্যবসার মূল উপাদান কলা গাছ থেকে তৈরি করা হয়ে থাকে। এছাড়াও আপনাকে যে সকল কাঁচামাল কিনতে হবে ব্যবসার শুরুতে সেগুলি হল-

  • কলাগাছ
  • প্লাস্টিক বড় ড্রাম
  • বড় স্টিলের পাত্র
  • বড় নাইলন দড়ি

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে কি কি মেশিন লাগে?

ব্যানানা ফেব্রিক বানানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই ব্যানানা ফাইবার মেশিন কিনতে হবে। বর্তমানে ব্যানানা ফাইবার মেশিন ছাড়া আপনি আর অন্য কোন পদ্ধতিতে ব্যানানা ফেব্রিক বা তন্তু বানাতে পারবেন না। তাই এই ব্যবসার শুরুতেই আপনাকে এই একটা ছোট মেশিন কিনেই ব্যানানা ফাইবার ব্যবসার কাজ শুরু করতে হবে। এছাড়াও আপনাকে কলা গাছ কাটার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অর্থাৎ কাটারি বা দা কিনতে হবে। এছাড়াও আপনি ধারযুক্ত ছুরি ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যানানা ফাইবার মেশিন এর দাম কত?

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে ব্যানানা ফাইবার মেশিন কিনতে হবে। আর আপনি যেহেতু ব্যবসা করছেন লাভের জন্য তাই অবশ্যই আপনাকে খেয়াল করতে হবে যে মেশিন সবচেয়ে কম দামে কোথায় পাওয়া যায় এবং কি মেশিন আপনার ব্যবসার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। বর্তমানে ব্যানানা ফাইবার মেশিন এর দাম 70 হাজার টাকা থেকে শুরু করে 1 লক্ষ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। আপনার ব্যবসার শুরুতে 70 থেকে 75 হাজার টাকা দামের মেশিন কিনে ব্যবসা শুরু করুন।

পরবর্তীকালে আপনার ব্যবসাতে যে লাভের টাকা উঠবে তা থেকে আপনি আপনার ব্যবসা বাড়াতে পারে না অর্থাৎ আরও একাধিক মেশিন কিনে ব্যবসাটি বড় করতে পারেন। 70-75 হাজার টাকার মেশিন দিয়ে আপনি খুব ভালোভাবেই ব্যানানা ফেব্রিক বা তন্তু তৈরি করতে পারবেন। আর আপনি যদি 1 লক্ষ টাকার মেশিন কিনে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসাতে শুরুতে যে লাভ হবে তাতে আপনার হয়তো পোষাবে না। কারণ দামি মেশিনে কাজ হয়তো খুব ভালো পরিমাণে করতে পারবে না কিন্তু শুরুতে আপনি মার্কেট ভালো করে ধরতে না পারলে আপনার লাভের পরিমাণ অনেক কমে যাবে।

ব্যানানা ফাইবার মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

অল্প দামে ব্যানানা ফাইবার মেশিন কিনতে হলে অবশ্যই আপনাকে মেশিন নির্মাতা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আপনি ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা ভালোভাবে করতে চান তাই আপনাকে সঠিক মেশিন কিনতে হবে। অল্প দামের মেশিন কিনতে হলে আপনি আপনার এলাকার যেকোনো বড় মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি সাথে যোগাযোগ করুন। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ যে সকল মেশিন কোম্পানি রয়েছে যারা মূলত ব্যানানা ফাইবার মেশিন তৈরি করে থাকে তাদের যোগাযোগ নাম্বার নিচে দেওয়া হল।

আপনারা চাইলে এই সকল কোম্পানির সাথে কথা বলে ব্যানানা ফাইবার মেশিন কিনতে পারেন। আবার আপনারা চাইলে অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট, আলিবাবার মত ওয়েবসাইটে গিয়ে এই সকল মেশিন অল্প দামে কিনতে পারেন। তবে অনলাইনে কিনলে আপনার বাড়িতেই যেমন মেশিন চলে আসবে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তেমন মেশিনের কোন সমস্যা হলে আপনাকে দৌড়াতে হবে কোন মেকানিকের কাছে। আর আপনি যদি সরাসরি মেশিন নির্মাতা কোম্পানির কাছ থেকে মেশিন কেনেন তাহলে তারাই সকল প্রকার সুবিধাগুলি আপনাকে দেবে।

কলা গাছের ফাইবার ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

কলা গাছের ফাইবার ব্যবসা বা ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে ন্যূনতম 1000 বর্গফুট জায়গা নির্বাচন করতে হবে। কারণ এই ব্যবসা শুধু মেশিন কিনে শুরু করলেই হবে না, এখানে উৎপাদিত তন্তু প্রসেসিং করতে হবে এবং তা প্যাকিং করতে হবে তাই সমগ্র জায়গাটা অবশ্যই 1000 বর্গফুট হলে কাজ করতে আপনার সুবিধা হবে। আপনার যদি নিজের এইরকম বড় জায়গা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার জায়গাতেই শুরু করতে পারেন ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা। কিন্তু আপনার যদি জায়গার অভাব থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে উপযুক্ত জায়গা ভাড়া নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- বইয়ের দোকান ব্যবসা

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা কোথায় করা যায়?

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করতে হবে যার কাছাকাছি প্রচুর পরিমাণে কলা গাছের বাগান রয়েছে। কারণ এই যেহেতু কলাগাছকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে, তাই ব্যবসা করতে গেলে কলাগাছ কেন্দ্রিক অঞ্চলকেই আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।
সেই কারণে এই ব্যবসা করার জন্য উপযুক্ত জায়গা হিসেবে গ্রামাঞ্চলের কথা আপনি ভাবতে পারেন। যেহেতু গ্রামাঞ্চলের দিকে প্রচুর পরিমাণে কলার বাগান রয়েছে আর আপনার কাঁচামাল হিসেবে কলাগাছ আপনি সহজেই গ্রাম থেকে পেয়ে যাবেন, তাই এই ব্যবসা গ্রামেই সবচেয়ে ভালো করা যায়।

তবে যেখানে আপনি কারখানা তৈরি করবেন তার কাছাকাছি যেন যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত থাকে এই দিকেও আপনাকে খেয়াল করতে হবে। কারন বাজার থেকে কিনে আনা কলা গাছ গুলো গাড়ি ভর্তি করে আপনার কোম্পানিতে আনা এবং তৈরি হওয়া তন্তুগুলো আবার করার জন্য উপযুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই আপনাকে এমন একটি জায়গাতে কোম্পানি তৈরি করতে হবে যেখান থেকে যাতায়াত ব্যবস্থার কোনো সমস্যা না হয়।

Banana Fiber Machine
ব্যানানা ফাইবার মেশিন

কিভাবে ব্যানানা ফেব্রিক তৈরি হয়? (How is banana fabric made?)

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে ব্যানানা ফেব্রিক বানাতে শিখতে হবে। আর ব্যানানা ফেব্রিক বানানো খুবই সহজ একটি কাজ। যে পদ্ধতিতে আপনি ব্যানানা ফেব্রিক বানাতে পারবেন সেটা হল-

  • বাগান থেকে কলা গাছ সংগ্রহ করে আনতে হবে।
  • কলা গাছের বাকল ছাড়াতে হবে।
  • প্রতিটা বাকল মেশিনের ভিতরে দেওয়ার সাথে সাথেই ব্যানানা ফাইবার তৈরি হবে।
  • ফাইবার গুলিকে পরিষ্কার জলে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
  • তৈরি হওয়া ব্যানানা ফাইবার গুলি রোদে দড়িটা নিয়ে শুকনো করতে হবে।
  • শুকনো হয়ে যাবার পর প্রতিটা ব্যানানা ফাইবার কে গরম জলে ভালো করে ফোটাতে হবে।
  • গরম জল থেকে তুলে নিয়ে আবার ভালো করে শুকনো করতে হবে প্রতিটা ব্যানানা ফাইবার কে।
  • শুকনো হয়ে যাবার পর ব্যানানা ফাইবার পরিণত হয়ে যাবে ব্যানানা ফেব্রিক বা ব্যানানা তন্তুতে।

ব্যানানা ফেব্রিক ব্যবসা করতে ট্রেনিং কোথায় পাওয়া যায়?

ব্যানানা ফেব্রিক বানানো ট্রেনিং বর্তমানে কোন সরকারি সংস্থা থেকে আপনি পাবেন না। যেহেতু ব্যানানা ফেভারিট এক নতুন আবিষ্কারের মধ্য পড়ছে তাই এর ট্রেনিং এখনো পর্যন্ত সরকার থেকে দেওয়া হয় না। তাই আপনাকে আপনার নিজের উদ্যোগে খোঁজ করতে হবে আপনার এলাকার আশেপাশে কোথায় ব্যানানা ফেব্রিক বানানোর কোম্পানি রয়েছে। খোঁজ করার পর আপনাকে সেই ব্যানানা ফেব্রিক কোম্পানিতে গিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে ট্রেনিং নিতে হবে। এছাড়াও আপনি চাইলে যেখান থেকে মেশিন কিনবেন সেখানে তাদের কাছ থেকেই ফেব্রিক বানানোর ট্রেনিং নিতে পারেন। প্রতিটা ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি মেশিনের সাথে সাথে মেশিন চালানোর সকল পদ্ধতি এবং ট্রেনিং দিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন- কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ তথ্য

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসায় উপযুক্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত শ্রমিক নিয়োগ

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে গেলে আপনি যেমন নিজে ট্রেনিংপ্রাপ্ত হয়ে ব্যবসাটি শুরু করবেন ঠিক তেমনই আপনাকে একাধিক শ্রমিক বা কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। প্রতিটা কর্মচারী যে শুরুতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত হবে এমন কোন কথা নেই কারণ তাকে আপনাকে ট্রেনিং দিয়েই তাকে দক্ষ করে তুলতে হবে। কারণ বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের দিকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত দক্ষ শ্রমিক পাওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই তাঁকে আপনার কাছেই কাজ করার মধ্য দিয়ে দক্ষ করে তোলার ব্যবস্থা নিতে হবে। একার পক্ষে সমগ্র ব্যবসাটি করা সম্ভব নয়, তাই অবশ্যই আপনাকে একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে।

কলা গাছের ফাইবার ব্যবসায় ইলেকট্রিক কেমন লাগে?

কলা গাছের ফাইবার ব্যবসা বা ব্যানানা ফাইবার ব্যবসাতে ইলেকট্রিকের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই বেশি। যেহেতু ব্যানানা ফাইবার মেশিন ইলেকট্রিক এ চলে, আর সমগ্র কাজটা ইলেকট্রিক থাকলে তবেই করা সম্ভব। তবে ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক এর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। বর্তমানে কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক ছাড়া কোন ব্যবসা শুরু করলেই সরকার থেকে তা অবৈধ ঘোষণা করবে এবং অনেক টাকা ফাইন দিতে হবে। তাই আপনি যখন ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই ইলেকট্রিক দপ্তরে কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক এর জন্য আবেদন করুন।

Banana fiber business
কলা গাছের ফাইবার ব্যবসা

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

এই ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে একাধিক লাইসেন্স নিতে হবে। ব্যবসার শুরুতে আপনি বিনা লাইসেন্সে 1-2 বছর কাজ করতে পারেন। ছোট ব্যবসায়ীরা বিনা লাইসেন্সে তাদের ব্যবসার কাজ করে থাকেন। তবে ব্যবসা যত বড় হতে থাকবে তত আইনি জটিলতার সম্মুখীন আপনাকে হতে হবে, তাই সমস্ত আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় লাইসেন্স আপনাকে নিতে হবে। এই ব্যবসা করার জন্য আপনাকে যেসব লাইসেন্স নিতে হবে সেগুলি হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • জিএসটি নাম্বার
  • আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স
  • কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক পারমিট
  • নাগরিকত্বের প্রমাণ

এছাড়াও আপনি যে জায়গায় ব্যবসা করছেন তার আইনি সকল কাগজপত্র অবশ্যই রাখতে হবে। সকল লাইসেন্স সম্পর্কে বিশদ জানার জন্য আপনি দেখতে পারেন এই লিংকে- ব্যবসায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স

ব্যানানা ফেব্রিক কোথায় বিক্রি করবেন?

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে গেলে সর্বপ্রথম মাথায় যেটা আসে সেটা হল তৈরি হওয়া ফেব্রিক বা তন্তু বিক্রি কোথায় করা হবে। বর্তমানে এমন অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা আপনার কাছ থেকে তৈরি হওয়া ব্যানানা ফেব্রিক লাভজনক দামে কিনে নেবে। বর্তমানে আপনি ব্যানানা ফেব্রিক বানানোর পর তা বিক্রি করার জন্য যে সকল কোম্পানিতে যোগাযোগ করতে পারেন সেগুলি হল-

  • সুতো তৈরীর কম্পানি
  • টিসু পেপার তৈরির কম্পানি
  • টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি
  • মেডিকেল মেডিসিন ইন্ডাস্ট্রি

আপনি যখন ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে একটু মার্কেট রিচার্জ করতে হবে। কে দিতে হবে তৈরি হওয়া ব্যানানা ফেব্রিক বিক্রি করার জন্য এই সকল কোম্পানিগুলো আপনার এলাকা থেকে কত দূরে। আপনাকে প্রতিটা কোম্পানিতে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে এবং তাদের জানাতে হবে যে আপনি ব্যানানা ফেব্রিক তৈরি করেন এবং তাদের বিক্রি করতে চান। এইভাবে আপনাকে মার্কেট টা ধরতে হবে।

ভালোভাবে একবার মার্কেট টা ধরতে পারলে আপনি বুঝতে পারবেন না আপনি প্রতিমাসে যে পরিমাণ ব্যানানা ফেব্রিক তৈরি করছেন বা করবেন তার সবটাই আপনি বিক্রি করতে পারবেন এই কোম্পানিগুলোতে। হয়তো কোন কোন সময় এরকম হতে পারে যে আপনি তৈরি হওয়া ব্যানানা ফেব্রিক যোগান দিয়ে দিতে পারবেন না। বর্তমানে ব্যানানা ফেব্রিক এর চাহিদা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না, যতদিন পর্যন্ত আপনি নিজে না ব্যবসায় নামছেন।

অবশ্যই পড়ুন- জেমস ক্লিপ তৈরির ব্যবসা

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসায় ব্যবসায় লাভ কত?

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসায়ী লাভ অনেকটাই বেশি পরিমাণে হতে পারে যদি আপনি সঠিকভাবে মার্কেটিং করতে পারেন। বাগান থেকে প্রতি কলাগাছ আপনি 2 টাকা থেকে 3 টাকা দামে কিনবেন এবং নিয়ে আসার খরচ বাবদ আরও 2 টাকা আপনার খরচ হবে। সমগ্র একটা কলাগাছ প্রসেসিং করে ব্যানানা ফেব্রিক তৈরি করতে আপনার খরচ হবে 6 থেকে 7 টাকা।

প্রতি কলাগাছ থেকে আপনি যে পরিমাণ ব্যানানা ফেব্রিক পাবেন তা আপনি বিভিন্ন কোম্পানিতে বিক্রি করতে পারেন কোয়ালিটি এবং গুণগত মানের বিচারে। বর্তমানে ভালো কোয়ালিটির ব্যানানা ফেব্রিকের প্রতি কুইন্টাল এর মূল্য 8 থেকে 10 হাজার টাকা। লো কোয়ালিটি ব্যানানা ফেব্রিকের প্রতি কুইন্টাল এর মূল্য 5 থেকে 7 হাজার টাকা। এক কথায় বলা যেতে পারে একটা মেশিন থেকে আপনি প্রতিমাসে কমপক্ষে 25 থেকে 40 হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

ব্যানানা ফেব্রিক ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 70 হাজার টাকা থেকে 80 হাজার টাকা খরচ হবে।

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা কোন এলাকায় করা যায়?

উত্তর: গ্রামাঞ্চলে যেহেতু কলাগাছ পাওয়া যায় বেশি পরিমাণে তাই গ্রামাঞ্চলে এই ব্যবসা করা যায়। এছাড়াও আপনি চাইলে শহরাঞ্চলেও করতে পারেন।

ব্যানানা ফেব্রিক ব্যবসা বাংলাদেশে কোথায় আছে?

উত্তর: ঢাকা, বরিশাল, গাজীপুর, পাবনা আরো বিভিন্ন জায়গাতে বর্তমানে ব্যানানা ফেব্রিক ব্যবসা চলছে।

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসা করতে কত বড় জায়গা লাগে?

উত্তর: 1000 বর্গফুট জায়গার ন্যূনতম প্রয়োজন হবে এই ব্যবসা করতে।

ব্যানানা ফাইবার ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: 25 হাজার টাকা থেকে 50000 টাকা প্রতি মাসে লাভ থাকতে পারে যদি আপনি সঠিক নিয়মে ব্যবসাটি করতে পারেন

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

1 হাজার টাকায় ভিনিগার তৈরির ব্যবসা

চাউমিন তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment