ব্যবসায়িক উন্নয়ন করার যাবতীয় তথ্য | 10 Rules for Business Development great idea

আমরা যারা ব্যবসা করি তারা সবাই চাই ব্যবসা বড় করতে তাই জন্য প্রয়োজন হয় ব্যবসায়িক উন্নয়নের। আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে চান তাহলে প্রত্যেক ব্যবসাতেই ব্যবসায়িক উন্নয়নের প্রয়োজন পড়ে। ব্যবসার বিকাশ নির্ভর করে ব্যবসায়িক প্রচেষ্টার উপর ভিত্তি করে। বড় কোম্পানির উন্নয়নের জন্য একাধিক শিক্ষিত কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। তবে ছোট কোম্পানির ক্ষেত্রে এইরকম শিক্ষিত কর্মচারী নিয়োগের অর্থ থাকে না। তাই আপনার ব্যবসায় সাধারণ উন্নয়নের জন্য আপনাকেই ভালো করে জানতে হবে ব্যবসায়িক উন্নয়ন সম্পর্কে। আজকের এই পোস্টে আমরা সেই ব্যবসায়িক উন্নয়ন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছি।

Table of Contents

ব্যবসায়িক উন্নয়ন কি? (What is business development?)

যেকোনো ব্যবসা করার জন্য চাই সাময়িক ব্যবসায়িক বুদ্ধি । আবার ব্যবসার বৃদ্ধি নির্ভর করবে আপনার ব্যবসায়িক উন্নয়ন করার বুদ্ধি কেমন রয়েছে তার ওপর। কারণ একটি দোকান করে ব্যবসা করলেই যদি তারা সফল ব্যবসায়ী হয়ে যেত তাহলে আজকে প্রতিটি বাজারের সকল দোকানদার একজন সফল বড় ব্যবসায়ী হয়ে যেত। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যবসায়িক উন্নয়ন সম্পর্কে সঠিক তথ্য না থাকার কারণে ব্যবসার বৃদ্ধি খুব বেশি করতে পারে না।

ব্যবসায়িক উন্নয়ন বলতে সাধারণত একটি ছোট ব্যবসা থেকে বড় ব্যবসায় রূপান্তরিত করার যাবতীয় আধুনিক প্রচেষ্টাকে বলা হয়। ব্যবসায়িক উন্নয়ন মূলত বিশেষজ্ঞ শিক্ষিত কর্মচারীদের দ্বারাই করা হয়ে থাকে বড় কোম্পানি গুলিতে। এই অভিজ্ঞ কর্মচারীদের প্রধান কাজ থাকে কোম্পানির মধ্য নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে এসে সঠিক পদ্ধতিতে মার্কেটিং করে কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি করা।

অবশ্যই পড়ুন- ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

ব্যবসায়িক উন্নয়ন কিভাবে করবেন? (How to do business development?)

আপনি যদি আপনার ব্যবসার বৃদ্ধি চান এবং ব্যবসায়িক উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই জানতে হবে একটি ব্যবসা বৃদ্ধি করার জন্য কি কি জিনিসের প্রয়োজন পড়ে। শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনে যেমন ব্যবসার বৃদ্ধি হয় না, তেমন শুধুমাত্র মার্কেটিংয়েও ব্যবসার বৃদ্ধি সম্ভব হয় না। ব্যবসায়িক উন্নয়নের জন্য চাই সঠিক সময়ে সঠিক জিনিস নির্ণয় করে ব্যবসার পথকে প্রশস্ত করা। এর জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে আপনাকে আপনার ব্যবসার বাজেট অনুযায়ী যতদূর সম্ভব নিত্য নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে ব্যবসার বৃদ্ধি করতে হবে।

আর যখন আপনার ব্যবসার উন্নয়নের প্রসঙ্গ আসবে তখন অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে আপনার ব্যবসার সময় মতো আর ব্যবসা গুলি কি পদ্ধতিতে কাজ করছে। হলে ব্যবসায়িক উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে আপনি অবজার্ভ অ্যান্ড রিয়াক্ট (Observe and React) কে গুরুত্ব দিতে পারেন। একজন বিজনেস ডেভেলপার সব সময় কোম্পানিতে বিভিন্ন বিজনেস প্ল্যান আনার সাথে সাথে কোম্পানির কর্মচারীদের সঙ্গেও এক মৈত্রতা গড়ে তোলার চেষ্টা করে। যার ফলে কোম্পানির সম্পদ দিনে দিনে বেড়ে যায় এবং কর্মচারীদের মধ্য কাজ করার উৎসাহ অনেক বৃদ্ধি পায়।

তাহলে আপনি যদি নিজেও উদ্যোগে ব্যবসায়িক উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি ব্যবসা বড় করার জন্য যাবতীয় জিনিস সম্পর্কে জানতে হবে। ব্যবসার শুরুতে যেহেতু আপনাকে নিজের থেকেই সমস্ত ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় তাই ব্যবসা বড় করার পেছনেও আপনার ব্যবসায়িক উন্নয়নের গভীর দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষ থাকবে। তাই অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে আপনার ব্যবসা বড় করার জন্য যৌথ উদ্যোগ, ব্যবসার খরচ কমানো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রোডাক্ট কোয়ালিটি, বিক্রয় এবং মার্কেটিং এর ওপর বিশেষ সুচিন্তিত প্রচেষ্টা।

প্ল্যান
ব্যবসায়িক প্ল্যান

প্রোডাক্ট কোয়ালিটি (Product quality)

আপনার কোম্পানিতে যদি কোন প্রোডাক্ট তৈরি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেই প্রোডাক্ট এর কোয়ালিটির ওপর অর্থাৎ বাজারে বিক্রি হওয়া বাকি সকল প্রোডাক্ট গুলি থেকে আপনার কোম্পানিতে তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট গুলি যেন আরো উন্নত মানের হতে পারে তার দিকে অবশ্যই আপনাকে বেশি করে নজর দিতে হবে। যেকোনো ব্যবসায়িক উন্নয়ন নির্ভর করে প্রোডাক্টের কোয়ালিটির ওপর। কারণ বাকি অন্য বাজারে বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টগুলি থেকে আপনার কোম্পানির তৈরি হওয়া প্রোডাক্টের কোয়ালিটি যদি কম বা খারাপ মানের হয়ে থাকে তাহলে তা কোনদিনই আপনার কোম্পানির বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে না বরং আপনার কোম্পানিকে আরো পিছনের দিকে নামানোর জন্য বড় ভূমিকা রাখবে।

বিক্রয়

আপনি যে ব্যবসা করুন না কেন সেই ব্যবসায় প্রোডাক্টের বিক্রি অবশ্যই থাকছে। আর আপনি যদি প্রোডাক্ট বিক্রির ক্ষেত্রে পুরনো পদ্ধতির সাথে সাথে আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে না পারেন তাহলে তা অনেক কম হবে। বিভিন্ন বিজনেস ডেভেলপার প্রোডাক্টের বিক্রির জন্য একাধিক বিক্রয় কর্মী নিযুক্ত করার পরামর্শদেন। আর প্রতিটি বিক্রয় কর্মীকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য এটা প্রতিটা ব্যবসার প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিচার্য হয়। ব্যবসায়িক উন্নয়ন করতে গেলে আপনার ব্যবসায় বিক্রয় পরিমাণ বহুগুণ বাড়াতে হবে। অনেকে বিক্রির সাথে ব্যবসার বিকাশের মধ্য যোগাযোগের পথটি গুলিয়ে ফেলে। তবে ব্যবসার বিকাশ নির্ভর করে অনেকটাই বিক্রয়ের ওপর। বিজনেস ডেভেলপাররা একাধিক গ্রুপ তৈরি করে প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য এবং এই ভাবেই ব্যবসায়িক উন্নয়ন তারা করে।

অবশ্যই পড়ুন- ১০টি অল্প পুজিতে নতুন ব্যবসার আইডিয়া

ব্যবসার উন্নয়নে মার্কেটিং এর ভূমিকা (Role of marketing in business development)

যে কোন ব্যবসার উন্নয়ন নির্ভর করে মার্কেটিং এর ওপর বিশেষ করে। অর্থাৎ আপনি আপনার ব্যবসায়িক উন্নয়ন তবেই ভালো করে করতে পারবেন যদি আপনি ভাল করে মার্কেটিং করতে পারেন আপনার ব্যবসার। পুরনো পদ্ধতিতে মার্কেটিং আপনি করতে পারেন আপনার ব্যবসার উন্নতি করার জন্য আবার আপনি নতুন আধুনিক পদ্ধতিতে অনলাইনের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে পারেন।

  • পুরনো পদ্ধতিতে মার্কেটিং বলতে গাড়িতে মাইক লাগিয়ে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করা।
  • লিফলেট ছাপিয়ে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে বা বাজার এলাকায় মানুষের হাতে হাতে বিলি করে প্রচার করা।
  • পোস্টার ছাপিয়ে এলাকায় অলিতে গলিতে দেওয়ালে মেরে ব্যবসার প্রচার করা।
  • বড় ব্যানার ছাপিয়ে জনবহুল মোড় বা রাস্তার ধারে লাগিয়ে মানুষের মতো প্রচার তোলা।
  • রেগুলার কাস্টমারদের মধ্যেও রেফারেল কাস্টমার বাড়ানোর অফার রাখা।
  • লোকাল ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসার উন্নতি করা।
  • আপনার এলাকার দোকান গুলিতে তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য মার্কেটিং করতে পারেন।
  • নিউজ পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসার বিক্রি বাড়ানোর ইত্যাদি।

আর আপনি যদি আধুনিক পদ্ধতিতে অর্থাৎ অনলাইন পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে অনলাইনে সমস্ত পদ্ধতিতে ব্যবসার প্রসার করতে হবে। অনলাইনে মার্কেটিং বর্তমানে খুবই প্রচলিত মার্কেটিং সিস্টেম।
আপনি যখন কোন ব্যবসা শুরু করবেন এবং ব্যবসার ব্যবসায়িক উন্নয়ন নিজেই করতে চাইবেন তখন আপনাকে অনলাইন পদ্ধতিতে মার্কেটিং অবশ্যই করতে হবে। তাই অনলাইনে যে পদ্ধতিতে আপনি মার্কেটিং করতে পারেন তা হল-

  • Facebook instagram এ পেজ তৈরি করুন আপনার ব্যবসার সম্বন্ধিত প্রোডাক্টের বা আপনার ব্যবসার নামে। এই ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রতিদিন নিত্যনতুন পোস্ট করতে থাকুন আপনার ব্যবসার তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট বা বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টের ওপর। এছাড়া আপনি বিভিন্ন ছবিও পোস্ট করতে পারেন এই পেজগুলিতে। কিছুদিনের মধ্যে যখন ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম পেজে ফলোয়ার বৃদ্ধি পাবে তখন আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন খুব সহজেই করা যাবে।
  • ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে আপনার ব্যবসার তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট বা বিক্রি হওয়া প্রোডাক্ট সংক্রান্ত ভিডিও আপনি নিয়মিত পোস্ট করতে পারেন এবং এর মধ্য থেকে আপনি অনেক কাস্টমার পেতে পারেন।
  • Google youtube ফেসবুকে অল্প টাকা বিনিয়োগ করে আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আমরা যখন ইউটিউব বা গুগল ঘাঁটি তখন আমাদের সামনে যে সকল বিজ্ঞাপন আসে সেই ধরনের বিজ্ঞাপন আপনি আপনার ব্যবসার জন্য দিতে পারেন। যেহেতু বর্তমানে মানুষ ইন্টারনেটের ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং ইউটিউব গুগল ফেসবুক সারা দিনে বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহার করেন তাই অল্প টাকা বিনিয়োগ করে এখানে বিজ্ঞাপন দিলে সঠিকভাবে মার্কেটিং হয়।
  • আপনি আপনার কোম্পানির একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন এবং সেই ওয়েবসাইটে নিত্য নতুন পোস্ট লিখুন আপনার ব্যবসা সম্বন্ধিত অথবা ছবি ও ভিডিও আপলোড করতে পারেন। আপনার এই ওয়েবসাইটটি যখন মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করবে তখন খুব সহজেই আপনার ব্যবসার মার্কেটিংও হয়ে যাবে।
  • আপনি যদি কোন প্রোডাক্ট বিক্রি করেন সে ক্ষেত্রে আপনি অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়া মার্ট এর মত ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলিতে বিজনেস একাউন্ট খুলে আপনার কোম্পানির তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট এর ছবি পোস্ট করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট দাম রেখে মার্কেটিং করতে পারেন।

বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এ অংশীদারিত্বের ভূমিকা

আপনি যখন একটি ব্যবসা শুরু করবেন তখন ব্যবসা বড় করার জন্য যে পুঁজির প্রয়োজন পড়বে তা আপনার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও যদি আপনার ব্যবসায় পার্টনারশিপ হিসেবে একাধিক অভীক্ষ মানুষকে নিযুক্ত করতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসার ডেভেলপমেন্ট খুব দ্রুততার সাথে হতে পারে। তাই যে কোন বিজনেস ডেভেলপমেন্টের প্রশ্নে একা মানুষের থেকে একাধিক অভিজ্ঞ মানুষ থাকলে তা দ্রুততার সাথে হতে পারে।

একা একটি ব্যবসা করা সম্ভব নয়, তা ভালোভাবেই জানেন। কারণ ব্যবসা করতে গেলে একাধিক কর্মচারী লাগে এবং ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য একাধিক অভিজ্ঞ মানুষের প্রয়োজন পড়ে। তাই আপনি যখন নিজে উদ্যোগে ব্যবসায়িক উন্নয়ন করতে চাইবেন তখন অবশ্যই আপনার ব্যবসাতে পার্টনারশিপ চালু করে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ব্যবসা বড় করতে পারেন।

ব্যবসায়িক প্ল্যান তৈরি করুন

যে কোন ব্যবসার উন্নতি নির্ভর করে সঠিক ব্যবসায়িক প্ল্যান এর ওপর ভিত্তি করে। ব্যবসায়িক প্ল্যান বলতে আপনাকে আগে থেকে ঠিক করতে হবে আপনার ব্যবসার তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট বা বিক্রি করার প্রোডাক্ট নির্ণয়, সরবরাহ, খরচ ও মার্কেটিং স্ট্যাটাজি। আপনি যখন আপনার ব্যবসার ব্যবসায়ীক প্ল্যান তৈরি করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখতে হবে আপনার কোম্পানিতে তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট কিংবা বিক্রি করার প্রোডাক্ট কোথা থেকে কিনবেন, কি মূল্যে বিক্রি করবেন এবং কত টাকা লাভ রাখতে পারবেন।

আরো পড়ুন- হোয়াটসঅ্যাপের সাহায্যে কিভাবে ব্যবসা করা যায়?

ব্যবসায়িক উন্নয়নে নেটওয়ার্কিং এর ভূমিকা (Role of Networking in Business Development)

যেকোনো ব্যবসার ব্যবসায়িক উন্নয়ন নির্ভর করে সঠিক নেটওয়ার্কিং সিস্টেমের ওপর। অর্থাৎ আপনার ব্যবসায় তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য যদি আপনার সঠিক নেটওয়ার্ক আগে থেকেই থাকে তাহলে তা দ্রুততার সাথে বিক্রি করা সম্ভব এবং বেশি মুনাফা কামানো সম্ভব। এই নেটওয়ার্কিং আপনি তৈরি করতে পারেন আপনার ব্যবসার বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টের ওপর ভিত্তি করে।

অর্থাৎ একদম নিচুস্তালায় যে কর্মচারী থাকবে তার প্রধান কাজ হবে প্রোডাক্ট নিয়ে দোকানে বিক্রি করা, এই কর্মচারীদের দেখার জন্য সুপারভাইজার রাখতে পারেন, সুপারভাইজারদের দেখার জন্য ম্যানেজার বা আরেকটু উচ্চপদস্থ কোন কর্মচারীকে নিযুক্ত করতে পারেন। এইভাবে বিভিন্ন এলাকায় যদি আপনি সঠিক চেন তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি সেই নেটওয়ার্কের দ্বারা আপনার ব্যবসার তৈরি হওয়া প্রোডাক্টগুলি খুব সহজেই বিক্রি করতে পারবেন। পৃথিবীর সমস্ত বড় কোম্পানিরা নিজস্ব নেটওয়ার্কের মধ্যেই তাদের ব্যবসা বড় করার জন্য কাজ করায়।

Business Development
Business Development

ব্যবসা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা

যেকোনো ব্যবসা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পড়ে সঠিক দক্ষতার অর্থাৎ এই দক্ষতা নির্ণয় করে আপনি কিভাবে মার্কেটিং করবেন, কিভাবে কাস্টমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন, কি পদ্ধতিতে ব্যবসা করে ব্যবসার লাভ দ্বিগুণ করবেন তার পুঙ্খানুপুঙ্খন পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। তবে ব্যবসার শুরুতেই দক্ষতা অর্জন করা প্রতিটা ব্যবসায়ীর পক্ষে সম্ভব হয় না তাই ব্যবসা করতে করতে নিজ অভিজ্ঞতা বাড়াতে হয় এবং আস্তে আস্তে প্রতিটা ব্যবসায়ী দক্ষ হয়ে ওঠেন তার ব্যবসায়। তবে আপনি যদি আগে থেকেই আপনার ব্যবসার ব্যবসায়িক উন্নয়ন করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এই সমস্ত জিনিসগুলির ওপর নিজস্ব দক্ষতা তৈরি করতে হবে।

বিক্রয় করার দক্ষতা

আপনি যখন কোন প্রোডাক্ট বিক্রি করতে চাইবেন তা কি পদ্ধতিতে বিক্রি করলে খুব সহজেই কাস্টমার কিনবে এবং তা কাস্টমারের মন পছন্দ হবে তা বোঝার জন্যেও আপনাকে বিক্রয় করার দক্ষতার প্রয়োজন পড়বে। বিক্রয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আপনাকে আগে থেকে মার্কেট এনালাইসিস করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মনের মত প্রোডাক্ট তৈরি করতে হবে অথবা প্যাকেজিংয়ের মোড়কে ভরে সাধারণ প্রোডাক্ট কেউ অতি সাধারণ গড়ে তুলতে হবে। যদি আপনি নিজেও উদ্যোগে ব্যবসায়িক উন্নতি করতে অসক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে অভিজ্ঞ বিজনেস ডেভেলপার নিয়োগ করতে হবে।

ব্যবসার উন্নতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার ভূমিকা

ব্যবসায়িক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশেষ ভূমিকা পালন করে একটি ব্যবসা বড় করার পেছনে। এই কারণে আপনি লক্ষ্য করবেন প্রতিটি বড় কোম্পানি গড়ে উঠেছে বড় রাস্তার ধারে।তাই আপনাকেও আপনার ব্যবসা শুরুর আগে রাস্তার ধারের কোন জায়গা নির্বাচন করে ব্যবসার কাজ শুরু করতে হবে। কারণ কাঁচামাল আমদানি থেকে তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট রপ্তানি করার ক্ষেত্রে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় আপনার ব্যবসার উন্নয়নের বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা আপনার ব্যবসাতে যাতে খুব বেশি সমস্যা না তৈরি করতে পারে তার জন্য আপনি নিজস্ব গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেন। যখন কোন কাঁচামাল কিনে আনবেন তখন নিজেও গাড়িতেই কিনে আনার ব্যবস্থা করতে পারেন আবার তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য নির্দিষ্ট গন্তব্য স্থানে দিয়ে আসার জন্য নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যবসায়িক উন্নয়নে ব্যবসায়িক বুদ্ধির ভূমিকা (Role of Networking in Business Development)

যেকোনো ব্যবসায়িক উন্নয়ন নির্ভর করে বিশেষ ব্যবসায়িক বুদ্ধির জন্য। অর্থাৎ কোন সময় কোন জিনিসটা ব্যবসার জন্য উপযুক্ত আবার কোন জিনিসটা উপযুক্ত নয় তা নির্বাচন করে ব্যবসার উন্নয়নের পথকে সুপ্রশস্ত করার ব্যবসায়িক বুদ্ধি না থাকলে ব্যবসায়িক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই ব্যবসা করার আগে বাজার পুঙ্খানুপুঙ্ উপলব্ধি করে ব্যবসায়িক দক্ষতার সাথে ব্যবসার প্রয়োজনে যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সঠিক ক্ষমতায় আপনাকে একজন সফল ব্যবসায়ী করতে সক্ষম করবে। এর জন্য আপনাকে মার্কেট এনালাইসিস করতে হবে ডাটা সংগ্রহ করতে হবে এবং ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন লিটারেচার পড়ে অভিজ্ঞতা বাড়াতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- মহিলাদের জন্য ঘরে বসে ব্যবসা করার সেরা ১৩ টি আইডিয়া

ব্যবসায়িক উন্নয়নে বিশ্লেষণার ভূমিকা

যেকোনো ব্যবসায়িক উন্নয়নে আপনার সময় সাপেক্ষে প্রতিটি জিনিস বিশ্লেষণের দক্ষতা নির্ভর করবে আপনার ব্যবসা বড় করার পেছনে। অর্থাৎ ব্যবসা করতে করতে যদি কখনো কোন সমস্যা আসে সেই সমস্যা কেন এসেছে এবং কি করলে তার সমাধান হবে তার বিশ্লেষণ করার ক্ষমতার মধ্য দিয়ে আপনি আপনার ব্যবসা কে বড় করতে পারবেন। আপনিও ভালোভাবেই জানেন প্রতিটা ব্যবসা করতে গেলে বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয় ব্যবসায় লাভও থাকে লস থাকে, আর যখন অতিরিক্ত লাভ হয় তখন যেমন মার্কেট বুঝে ব্যবসাকে আরও লাভের দিকে নিয়ে যেতে হয়।

তেমন যখন ব্যবসায় লস হয় সেই লসটি কেন হল তা বুঝে ব্যবসা কে আবার ওপরে তোলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। তাই এইরকম পরিস্থিতিতে আপনার বিশ্লেষণী দক্ষতা একটি ব্যবসা সুদীর্ঘ পথকে প্রশস্ত করতে অনেক সাহায্য করবে।

ব্যবসার উন্নয়নে ব্যবসা পরিচালনা করার দক্ষতা (Business Management Skills in Business Development)

যেকোনো ব্যবসার উন্নয়ন নির্ভর করে সমগ্র ব্যবসা পরিচালন করার ক্ষমতা থাকার উপর। আপনি চেষ্টা করবেন সব সময় আপনার ব্যবসার নিজ তালার কর্মী থেকে একদম উপরস্থলার কর্মীদের পুঙ্খানুপুঙ্খন ভাবে পরিচালন করার মধ্য দিয়ে নিজস্ব দক্ষতা দেখানো। যে কোন ব্যবসার উন্নয়ন নির্ভর করে যদি ব্যবসার সর্ব শীর্ষ মালিক ব্যবসার নিচুস্তলায় কি হচ্ছে না হচ্ছে জেনে ব্যবসার বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।

কারণ সবার পক্ষে সমগ্র ব্যবসা পরিচালনা করার দক্ষতা থাকে না তাই আগে আপনাকে আপনার সমস্ত কর্মচারীদের পরিচালনা করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে, তারপর সমস্ত ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা শিখতে হবে। কোথা থেকে কাঁচামাল কেনা হচ্ছে কোথায় প্রোডাক্ট বিক্রি হচ্ছে এবং যে কর্মচারীরা কাজ করছে তারা ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা সম্পূর্ণ আপনাকে ভালো করে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং তাদেরকে পরিচালনা করার জন্য যথাসাধ্য তাৎক্ষণিক বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে হবে।

ব্যবসার উন্নয়ন পর্যায়ে কি কি?

যে কোন ব্যবসার উন্নয়ন সাধারণত চারটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়ে থাকে। সেটা ছোট ব্যবসা হোক আর বহুজাতিক বড় ব্যবসা। আসলে যে কোন ব্যবসায় ছোট থেকে বড় হয় তাই 4 ভাগে ব্যবসা কে ভাগ করা হয়।

  1. স্টার্টআপ (small cap company) ছোট কোম্পানি
  2. বৃদ্ধির পর্যায় (mid cap company) মধ্যস্থ ছোট কোম্পানি
  3. পরিপক্কতার পর্যায় (বড় কোম্পানি)
  4. প্রত্যাখ্যান পর্যায়(large capital company) মাল্টিন্যাশনাল বড় কোম্পানি

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

ব্যবসার উন্নয়নের চাবিকাঠি কি?

উত্তর: যেকোনো ব্যবসার উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি, ব্যবসার বৃদ্ধি।

বিজনেস ডেভেলাপারের কাজ কি?

উত্তর: ব্যবসার উন্নতি সাধন একজন বিজনেস ডেভেলপারের প্রধান কাজ।

ব্যবসায়িক উন্নয়নের প্রধান কৌশল কি?

উত্তর: ব্যবসার ক্ষতি কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোই প্রধান কৌশল থাকে প্রতিটি ব্যবসার।

কি করে বিজনেস ডেভেলপার হওয়া যায়?

উত্তর: পড়াশোনা করে এবং নিজেও কাজের মধ্য থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে বিজনেস ডেভেলপার হওয়া যায়।

ব্যবসার উন্নয়ন প্রক্রিয়া কি?

উত্তর: ছোট স্টাটাপ স্টিক্স থেকে নবায়ন বা প্রত্যাখ্যান পর্যায়ে পর্যন্ত ব্যবসার বৃদ্ধিকে ব্যবসার উন্নয়ন হিসেবে ধরা হয়

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

মাছ চাষের ব্যবসা

কোচিং সেন্টার খুলে প্রতি মাসে 50 হাজার টাকা আয়

Leave a Comment