বেকারি ব্যবসা শুরু করুন | Become a Successful Entrepreneur in Bakery Business 1

বেকারি ব্যবসা শুধু এখন নয় বহু প্রাচীন সময় থেকে চলে আসছে। বেকারি ব্যবসা তে যারা সঠিক বিজনেস প্ল্যান তৈরি করে ব্যবসা করেন তারাই একমাত্র সফল ব্যবসায়ী হতে পেরেছেন। আপনিও যদি বেকারি ব্যবসা করে সফল ব্যবসায়ী হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে বেশ কিছু বিজনেস প্ল্যান ও আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে হবে। আপনি চাইলে আপনার নিজের নামের কোন ব্যান্ড খুলে ব্যবসা করতে পারেন। বেকারি ব্যবসার লাভের দিক থেকে অত্যন্ত বেশি মুনাফা আপনাকে কামিয়ে দেবে।

বেকারি ব্যবসা তো বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী করে থাকছে কিন্তু এই ব্যবসার সবচেয়ে মূল সমস্যা হচ্ছে পণ্য বিক্রি করা। প্রতিদিন যে পরিমাণে বিস্কুট, কেক, পাউরুটি আরো বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্য তৈরি হবে তা প্রতিদিনের প্রতিদিনই বিক্রি করতে হবে। তাই ব্যবসা করার যাবতীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে আমাদের এই পোস্ট তৈরী করা হলো।

আপনারা সবাই জানেন বর্তমান দিনে মানুষের খাদ্যাভাসের পরিবর্তনের কারণে বেকারি ব্যবসা দিনে দিনে প্রসারিত হচ্ছে। একটি মানুষের প্রতিদিনের রুটিনে এখন বেকারি পণ্য অর্থাৎ বিস্কুট, কেক, পাউরুটি কিছু না কিছু জিনিস থেকেই যায়।

তাই সমস্ত মানুষের চাহিদা মেটানোর মতো দেশে যে সকল কোম্পানিগুলো রয়েছে তাদেরকে টেক্কা দেওয়ার মত নতুন নতুন বিজনেস মডেল আপনাকে ভাবতে হবে। আর সেই সমস্ত বিজনেস মডেল গুলি নিয়ে আজকের আমাদের এই পোস্ট। আপনি যদি সমস্ত তথ্য গুলি বিচার করে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি হবেন বেকারি ব্যবসার সফল ব্যবসায়ী।

Bakery Business
বেকারি ব্যবসা

Table of Contents

বেকারি ব্যবসা কেন করবেন?

বেকারি ব্যবসা করতে হলে আপনার খুব অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে এই ব্যবসাটি করতে পারেন। বেকারির পণ্যের চাহিদা বাজারে প্রচুর। সেই অনুযায়ী বেকারি পণ্যের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বেকারি ব্যবসার ও উন্নতির এবং ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হচ্ছে। বর্তমানে চায়ের দোকান থেকে মুদিখানা দোকান, স্টেশনারি দোকান থেকে বড় শপিং মল প্রতিটা জায়গাতে বেকারি পণ্যগুলি বিক্রি হয়ে থাকে।

অন্য যত বেশি পরিমাণে বিক্রি হয় ততো বেশি পরিমাণে মুনাফাও কামানো যায়। আর বেকারি ব্যবসা করলে আপনার ঝুঁকির পরিমাণ কম থাকবে। এই ব্যবসা করার জন্য প্রচুর কর্মচারীর প্রয়োজন পড়বে না।

বেকারি ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে? (How much does it cost to start a bakery business?)

বেকারি ব্যবসা আপনি কেমন ভাবে করতে চাইছেন তার ওপর নির্ভর করবে পুঁজির পরিমাণটা। সাধারণত যদি আপনি খুব ছোট করে বেকারি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার পুঁজি লাগবে 80 হাজার থেকে 1 লক্ষ টাকার মতো। একটু মাঝারি ধরনের বেকারি কম্পানি তৈরি করতে আপনার সব মিলিয়ে খরচ পড়বে 2 লাখ থেকে 4 লক্ষ টাকার মতো। আর আপনি যদি বড় করে বেকারি কারখানা তৈরি করতে চান তাহলে আপনার খরচ হবে 3 লাখ থেকে 5 লাখ টাকার মতো।

আসলে বেশিরভাগ মানুষেরই যে কোন ব্যবসা শুরু করার আগে মনের ভেতরে প্রথম যে প্রশ্নটা আসে সেটি হচ্ছে ব্যবসা শুরু করতে কত পুঁজি লাগবে। সেই রকম বেকারি ব্যবসা করতে খুব অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায়। বেকারি ব্যবসা করার জন্য অবশ্যই আপনাকে একটি কারখানা তৈরি করতে হবে অথবা কোন কারখানার মত সাইজের একটি ঘর ভাড়া নিতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করে মাসে 50 হাজার টাকা

কিভাবে বেকারি কারখানা তৈরি করা যায়?

বেকারি কারখানা তৈরি করতে হলে অবশ্যই আপনাকে একটি ঘর ভাড়া নিতে হবে, অথবা একটি বড় কারখানা তৈরি করতে হবে। আপনি চাইলে ছোট করে ও কারখানা তৈরি করতে পারেন। বেকারি কারখানা বানানোর জন্য অবশ্যই আপনাকে একটি কারখানার ভেতরে স্টিম চিমনি বা বেকারি তৈরি করার ওভেন তৈরি করতে হবে। বর্তমানে অনেক কোম্পানি ওভেন তৈরি করে আপনি চাইলে এই সব কোম্পানির ওভেন কিনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কারখানার এক-তৃতীয়াংশ ওভেন করতে চলে যায় তাহলে বাকি দুই-তৃতীয়াংশ জায়গাতে বেকারি পণ্য গুলি তৈরি করা ও প্যাকেজিং করার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

বেকারি কারখানা তৈরি করতে হলে অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখতে হবে কারখানাটি যেন কোনভাবে জলীয় পদার্থ বা জলের সংস্পর্শে বেশি না আসে। কারখানাতে যেন বৃষ্টি হলে বা শীতের সময় বেশি জলীয় পদার্থ প্রবেশ না করতে পারে। বৃষ্টির সময় জলের ছাট যদি কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে তাহলে কারখানায় থাকা কেক-বিস্কুট অথবা পাউরুটি গুলি খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বেকারি ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন? (How much space do you need to run a bakery business?)

বেকারি ব্যবসা করতে আপনার 10/20 ফুটের জায়গার প্রয়োজন পড়বে। আপনি চাইলে আরো বড় জায়গাতেও কারখানা তৈরি করে ব্যবসা করতে পারেন। বেকারি ব্যবসা করতে হলে একটু বড়োসড়ো জায়গার এই কারণে প্রয়োজন কারণ কাঁচামাল রাখা, তৈরি হয়ে যাওয়া প্রোডাক্ট গুলি রাখা এবং তৈরি করার জন্য কিছুটা জায়গার প্রয়োজন পড়ে।

বেকারি ব্যবসার তৈরি করতে গেলে আপনার পুঁজি অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করতে পারে না অর্থাৎ আপনার পুঁজি যদি বেশি থাকে তাহলে বড়োসড়ো কারখানা তৈরি করতে পারেন আপনার পুঁজি যদি কম থাকে তাহলে মাঝারি কারখানা তৈরি করে বেকারি ব্যবসা করতে পারেন। তবে বেকারি কারখানা অবশ্যই আপনাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

Bakery business machines
বেকারি ব্যবসার মেশিন

বেকারি ব্যবসা কোন জাগায় করা যায়?

বেকারি ব্যবসা শুরু করার জন্য আদর্শ জায়গা হল বড় কোন বাজারের জমজমাট এলাকা, অথবা শহরের জমজমাট স্থান। আপনি যদি গ্রামে থেকে বেকারি ব্যবসা করবেন ভাবেন তাহলে অবশ্যই আপনার গ্রামাঞ্চলের যেখানে জমজমাট এলাকা থাকবে সেখানেই আপনি একটি ঘর ভাড়া নিয়ে অথবা জায়গা থাকলে সেই জায়গাতে কোম্পানি তৈরি করে ব্যবসা করতে পারেন।
আপনার কারখানাটি এমন জায়গায় তৈরি করবেন যেখান থেকে আপনার বাড়ি যাতায়াত করার সময় কম লাগে, বড় গাড়ি আপনার কোম্পানিতে ঢুকতে পারে বেরোতে পারে এই রকম একটি জায়গা নির্বাচন করবেন।
আপনি চাইলে শহরের জনবহুল এলাকাতে বেকারি কারখানা ভাড়া নিয়ে বেকারি ব্যবসা করতে পারেন। শহরে থেকে ব্যবসা করলে আপনার সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে কম দামে পেয়ে যাবেন এবং উৎপাদিত পণ্যগুলি আপনি প্রতিদিন বিক্রি করে দিতে পারবেন।

বেকারি ব্যবসা করতে কি কি কাঁচামাল লাগে? (What are the raw materials required to run a bakery business?)

বেকারি প্রোডাক্ট গুলি তৈরি করার জন্য যেসব কাঁচামাল আপনার লাগবে সেগুলি হল-

ময়দা
চিনি
তেল
ডালডা
মাখন
ব্রেকিং পাউডার
ব্রেকিং সোডা
কস্টিক পাউডার
কনফ্লাওয়ার পাউডার
সামান্য কিছু ফুড কালার

এইসব কাঁচামাল গুলি নিয়ে আপনি একটি বেকারি কোম্পানি তৈরি করতে পারেন। যেকোনো বেকারি কোম্পানি এইসব কাঁচামাল গুলি দিয়েই তাদের সমস্ত প্রোডাক্ট তৈরি করে থাকেন।

বেকারি ব্যবসায় কাঁচামাল গুলি অল্প দামে কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ভিকারি ব্যবসায়ী কাঁচামাল গুলি আপনি খুব অল্প দামে পেয়ে যাবেন পশ্চিমবঙ্গের বড়বাজার হোলসেল মার্কেট থেকে। বাংলাদেশ থেকে থাকে আপনি চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে হোলসেল দামে সমস্ত কাঁচামাল পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী লোকাল কোন মুদিখানা দোকানে অর্ডার দিয়ে হোলসেল রেটে সমস্ত কাঁচামাল কিনতে পারেন।
আবার আপনি চাইলে সরাসরি ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি থেকে হোলসেল রেটে একটু বেশি পরিমাণে সমস্ত কাঁচামাল কিনতে পারেন।

আরো দেখুন- কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়?

কি কি বেকারি পণ্য তৈরি হয়?

ভিকারি পণ্যের তালিকা তৈরি করতে হলে আপনাকে বেকারি পণ্যগুলি সম্পর্কে অবশ্যই অল্প কিছু ধারণা রাখতে হবে। কারণ বর্তমান সময়ে বেকারি পর্নের তালিকা অনেক বড় হয়ে গেছে কারন প্রতিটা পণ্য আলাদা আলাদা টেস্ট এবং সাব ডিভিশনে বিভক্ত করেছে বেকারি ব্যবসায়ীরা। বেকারি পণ্যের তালিকা-

  • বিস্কুট
  • পাউরুটি
  • কেক
  • প্যাটিস
  • চানাচুর
  • টোস্ট
  • কুকিজ ইত্যাদি

বিকারী পণ্য গুলির মধ্যে সাধারণত এইসব পণ্যগুলি ক তৈরি করে থাকে কম্পানি গুলি। আবার প্রতিটা পর্নো আলাদা আলাদাভাবে ডিজাইন এর মধ্য দিয়ে আলাদা আলাদা প্রোডাক্ট হিসেবে বিক্রি করে থাকে, যেমন বিস্কুট 30 থেকে 40 রকমের হয়ে থাকে। চানাচুর 8 থেকে 10 রকমের হয়ে থাকে। কেক 30 থেকে 40 রকমের হয়ে থাকে। পাউরুটি 10 থেকে 15 রকমের হয়ে থাকে। টোস্ট 8 থেকে 10 রকমের হয়ে থাকে।
এইরকম প্রতিটা প্রোডাক্টটি ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন এবং টেস্টের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ভাবে বিক্রি করা হয়।

বেকারি ব্যবসা শুরু করার জন্য কি কি মেশিন লাগে? (What machines do you need to start a bakery business?)

একটা বেকারি কারখানা তৈরি করতে হলে আর বেকারির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বিভিন্ন ধরনের মেশিন এর দরকার পড়বে। আর সেইসব মেশিন গুলি হলো –

  • মিক্সচার মেশিন
  • পাতা মেশিন বা কুকিজ মেশিন (বিস্কুট তৈরি করার জন্য)
  • বিশেষ ধরনের টেবিল
  • ওভেন
  • ডো মেকিং মেশিন
  • বিভিন্ন ধরনের ডাইস
  • প্যাকেজিং মেশিন
  • ওয়েট মেশিন

এইসব মেশিন গুলো নিয়েই প্রতিটা বেকারি ব্যবসায়ী তাদের কারখানায় বেকারি পণ্যগুলি তৈরি করে থাকেন। মেশিন ছাড়াও হাতে আগেকার দিনে সমস্ত বেকারি পণ্য তৈরি করা হতো কিন্তু বর্তমান সময়ে সুন্দরতা এবং সুস্বাস্থ্য কর খাবার তৈরি করার জন্য মেশিনের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ইলেকট্রিক ওভেন অটোমেটিক হয়ে থাকে আবার নির্দিষ্ট তাপমাত্রা সেট করার পদ্ধতিও থাকে। ডাইস মেশিন এর সাহায্যে বিস্কুটকে আরো বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করা হয়ে থাকে। এছাড়াও আপনার অবশ্যই বিভিন্ন ডিজাইনের কাগজ ও ছুরি দরকার বেকারি ব্যবসা তৈরি করার জন্য।

How to make a bakery factory
কিভাবে বেকারি কারখানা তৈরি করা যায়?

বেকারি ব্যবসার মেশিনের দাম কত?

বেকারি ব্যবসায় ব্যবহৃত মেশিন গুলির দাম নির্ধারিত হয় কোম্পানি এবং জায়গা বিবেচনা করে। আবার মেশিন গুলির কোয়ালিটির ওপরেও দাম নির্ধারিত হয়। মেশিন অটোমেটিক এবং হ্যান্ড মেড হয়ে থাকে ফলে তার উপরেও দাম নির্ধারিত হয়ে থাকে। তবুও সাধারণত ব্যবহার উপযুক্ত মেশিন গুলির দাম হল-

মিক্সচার মেশিন50 হাজার টাকা
কুকিজ মেশিন (বিস্কুট তৈরি করার জন্য)2.3 লাখ টাকা
বিশেষ ধরনের টেবিল1 হাজার টাকা
প্যাকেজিং মেশিন1 লাখ টাকা
ডো মেকিং মেশিন20 হাজার টাকা
ওভেন50 হাজার টাকা
বিভিন্ন ধরনের ডাইস2-3 হাজার টাকা
ওয়েট মেশিন1 হাজার টাকা
কাগজ ও ছুরি 500 টাকা

কিভাবে বেকারি ব্যবসা শুরু করবেন?

বেকারি ব্যবসা শুরু করার জন্য অবশ্যই আপনাকে মার্কেট সম্পর্কে কিছু গবেষণা করে তবেই ব্যবসা শুরু করা উচিত। অর্থাৎ আপনি যে অঞ্চল কে ভিত্তি করে ব্যবসাটি করতে চাইছেন সেই অঞ্চলের আশেপাশে কোন বেকারি প্রতিষ্ঠান আছে কিনা, যদি থেকে থাকে তারা যেভাবে মার্কেট করছে তাদের থেকে ভালো করে মার্কেটিং আপনি করতে পারবেন কিনা, বাকি পদ্ধতিতে ব্যবসা করলে আপনি বাকি অন্যান্য ব্যবসায়ী থেকে আলাদা ভাবে ব্যবসা করে উন্নতি লাভ করতে পারবেন, এইসব সম্পর্কে অবশ্যই কিছু গবেষণা করে আপনার ব্যবসা করা উচিত।

ব্যবসা শুরু করার আগে আপনি ভয় পেয়ে গেলে কোনোভাবেই ব্যবসা করতে পারবেন না। তাই আশপাশে যদিও কোনো বেকারি ব্যবসায়ী থেকে থাকেন তবুও আপনাকে একটি বেকারি কোম্পানি করে আধুনিক পদ্ধতি মেনে সুন্দর প্লানিং করে ব্যবসা করলে সবার থেকে আলাদা আপনি ব্যবসা করতে পারবেন, এবং আপনি নিজে বিশাল বড় মার্কেট ধরতে পারবেন।
বেকারি ব্যবসা শুরু করার জন্য অবশ্যই আপনার একটি কারখানার দরকার পড়বে, আপনার দরকার পড়বে যোগ্য সুদক্ষ কর্মচারী, আপনার প্রয়োজন পড়বে আধুনিক ও উন্নত মানের মেশিন, আপনার দরকার লাগবে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা যার দ্বারা আপনি খুব সহজে মার্কেটিং করতে পারবেন।

এছাড়াও বেকারি ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ডেলিভারির জন্য দুই-তিনটি ভ্যান কিনতে হবে, এবং লোক নিয়োগ করতে হবে, যারা প্রতিদিন সমস্ত পণ্যগুলি দোকানে দোকানে সাপ্লাই করতে পারে। আপনাকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে প্রতিদিনের তৈরি প্রোডাক্ট গুলি প্রতিদিনই যেন বিক্রি করা হয়ে থাকে। এর জন্য শুরুর দিকে অল্প অল্প প্রোডাক্ট তৈরি করে মার্কেট চাহিদাটা বসে আস্তে আস্তে প্রোডাক্ট তৈরীর পরিমাণ বাড়াতে থাকুন, তাহলে প্রোডাক্ট পরেও থাকবে না, নষ্ট হবে না এবং প্রতিদিনের জিনিস প্রতিদিন বিক্রি হয়ে যাবে।

বেকারি ব্যবসা শুরু করতে হলে কি কি লাইসেন্স এর প্রয়োজন হয়? (License required for bakery business)

বেকারি ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কয়েকটি লাইসেন্স নিয়ে তবে ব্যবসা শুরু করতে হবে। আপনি চাইলে ব্যবসার শুরুতে কোন লাইসেন্স বা কাগজপত্র না তৈরি করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন, তবে ব্যবসা শুরু করার পরে পরেই আপনাকে একে একে প্রতিটা লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
বেকারি ব্যবসা শুরু করতে হলে যে সকল লাইসেন্স গুলি লাগে সেগুলি হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • জিএসটি সার্টিফিকেট (GST)
  • ফুড লাইসেন্স (FSSAI)

এইসব লাইসেন্স করলে আপনি চাইলে কর্পোরেশন কিংবা বিডিও অফিস থেকে পেয়ে যেতে পারেন। আমার বর্তমানে অনলাইনে এপ্লাই করে ও সমস্ত লাইসেন্স পাওয়া যায়।

বেকারি পণ্যের মার্কেটিং কিভাবে করা হয়?

বেকারি ব্যবসায় সফলতা তখনি আসে যখন প্রতিদিনের তৈরি প্রোডাক্ট গুলি প্রতিদিন মার্কেটে বিক্রি করা যায়। তাই জন্য আপনাকে অবশ্যই দু-তিনজন সুদক্ষ কর্মচারীকে কাজে লাগাতে হবে যারা প্রতিদিনের তৈরি পণ্যগুলি গাড়িতে করে নিয়ে প্রতিটা দোকানে দোকানে, শপিংমলে অথবা হাসপাতলে গিয়ে বিক্রি করে আসতে পারে। মার্কেটিং টা বুঝতে হলে অবশ্যই আপনাকে বর্তমানের ব্যবসায়ীরা কি পদ্ধতিতে মার্কেটিং করছে সেটা বুঝতে হবে। বাকি ব্যবসায়ীদের থেকে দামি কিছুটা কম রেখে অর্থাৎ আপনার লাভের পরিমাণ টা একটু কম রেখে যদি আপনি মার্কেটিং করতে পারেন তাহলে প্রতিদিনের প্রোডাক্ট গুলি প্রতিদিন বিক্রি হয়ে যাবে।

এছাড়াও বর্তমানের আধুনিক ইন্টারনেটের যুগে আপনি চাইলে অনলাইন পদ্ধতিতেও বিক্রি করতে পারেন সমস্ত প্রোডাক্ট গুলি। এছাড়াও আপনি অনলাইনে মার্কেটিং করতে পারেন অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এর দ্বারা। আপনি গুগল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব প্রভৃতি জায়গাতে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করতে পারেন আপনার কোম্পানির। যাতে মানুষ জেনে আপনার কোম্পানিকে এবং এর ফলে প্রচুর পরিমাণে কাস্টমার আপনার তৈরি হয়ে যাবে ও প্রচুর পরিমাণে প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন।

আপনি চাইলেই এলাকায় এলাকায় পোস্টারিং করতে পারেন অথবা ফ্লেগ লাগাতে পারেন আপনার কোম্পানির নামের। এবং গাড়িতে মাইক লাগিয়ে গ্রামে গ্রামে শহরের গলিতে গলিতে প্রচার করতে পারেন। এইসব বিভিন্ন পদ্ধতি আপনি যদি অবলম্বন করেন তাহলে খুব দ্রুত আপনার ব্যবসায় সফলতা আসবে। আর এইসব পদ্ধতিগুলো না অবলম্বন করে আপনি ব্যবসা করতে চাইলে ধীরে ধীরে আপনার ব্যবসার উন্নতি হবে।

অবশ্যই পড়ুন- আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা 1 লক্ষ টাকা লাভ

বেকারি প্রশিক্ষণ পাওয়ার উপায়

যে কোন ব্যবসা শুরু করতে হলে সেই ব্যবসা সম্পর্কে জানতে হয় তারপরে সেই ব্যবসা করতে হয়। বেকারি ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে এই ব্যবসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া আপনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুদক্ষ কর্মচারীদের নিয়োগ করে বেকারি ব্যবসা করতে পারেন। সুদক্ষ কর্মচারী নিয়োগের আগে অবশ্যই আপনি দেখবেন সেই কর্মচারী যেন অন্য কোন কারখানায় হাতে কলমে কাজ শিখে থাকে অথবা আগে কোথাও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মচারী হয়ে থাকে। বেকারিতে তৈরি কেক, পাউরুটি, বিস্কুট ইত্যাদি প্রোডাক্ট গুলি তৈরীর পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। বিস্কুট তৈরি ব্যবসা বা বিস্কুট তৈরির পদ্ধতি গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আর একটি পোস্টে করা আছে।

এইরকম প্রতিটা প্রোডাক্ট তৈরি করার জন্য আলাদা আলাদা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। আবার বর্তমানের কিছু অটোমেটিক মেশিন যার মধ্য কাঁচামাল গুলি সুন্দর করে মাখিয়ে দিয়ে দিলেই তারা অটোমেটিক প্রোডাক্ট তৈরি করতে থাকে।
আপনি চাইলে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ভারতে আপনি Bakery and Pastry- vocational training centre, উৎকর্ষ বাংলা এইসব সংস্থাগুলি থেকে ট্রেনিং নিতে পারেন। বাংলাদেশ থাকলে আপনি বাংলাদেশ হোটেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এর দ্বারা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। আরো বহু কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। আপনি গুগল খুলে ইন্টারনেটে সার্চ করলে এই রকম প্রচুর প্রতিষ্ঠান পেয়ে যাবেন।

বেকারি ব্যবসায় লাভ কত? (What is the profit of bakery business?)

বেকারি ব্যবসায় লাভ সাধারণত 30% থেকে 40% হয়ে থাকে। অর্থাৎ বলা যেতে পারে 1 কেজি বিস্কুট তৈরি করতে খরচ হবে 800 টাকা, সেই এক কেজি বিস্কুট বিক্রি করতে পারবেন 2000 টাকা দামে। আবার 18 পাউন্ড কেক বানাতে খরচা হবে 1 হাজার টাকার মতো সেই কেক বিক্রি করতে পারবেন 3000 টাকা দামে। একটি মাঝারি মাপের বেকারি কারখানা থেকে আপনি সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে 40 হাজার থেকে 50 হাজার টাকা আয় করতে পারেন। আবার ব্যবসা ঠিকভাবে করতে পারলে এই টাকার সংখ্যাটাও বাড়তে পারে।

বেকারি ব্যবসা করতে গেলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?

বেকারি ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল গুলি যেন কোনভাবে নষ্ট না হয়।
বৃষ্টির জল অথবা কোন জলীয় পদার্থর কারণে প্রোডাক্ট নষ্ট হতে পারে।
প্রতিদিনের তৈরি জিনিস প্রতিদিন বিক্রি করলে প্রোডাক্ট এর কোয়ালিটি ভালো থাকে।
বাকি অন্যান্য কোম্পানিগুলির তৈরি প্রোডাক্ট এর থেকে আপনার তৈরি প্রোডাক্ট এর কোয়ালিটি যেন কম না হয়।
প্রথমের দিকে লাভ কম রেখে অল্প দামে প্রোডাক্ট গুলি বিক্রি করতে শিখুন।

সুন্দর মার্কেটিং করতে পারার সুদক্ষ কর্মচারীদের নিয়োগ করতে হবে।
বাকি বড় বড় ব্যবসায়ীরা আপনাকে পেছনে ফেলার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করতে পারে এই সব প্রচেষ্টা গুলি দেখে আপনি ভয় ব্যবসা ছেড়ে পালালেন হবে না, সাহসিকতার সাথে ব্যবসা করতে হবে।

আমাদের এই পোষ্টে যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই জানাবেন আর কেমন লাগলো সেটাও জানাতে ভুলবেন না

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

বাটার পেপার রোল এর ব্যবসা

হাওয়াই চপ্পল তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment