বুটিক ব্যবসা শুরু করুন অল্প পুঁজিতে | Start a boutique business for Rs 1 lakh, Right Now

বুটিক ব্যবসা এবং টেলারিং ব্যবসা দুটোই কিছুটা একই রকম হলেও ভিন্নতা রয়েছে অনেক ভাবে। সাধারণত বর্তমান সময়ে প্রতিটা মানুষের চাহিদা বদলাচ্ছে। তাই জন্য পোশাক পরিচ্ছদের মধ্যেও এই চাহিদার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। মানুষ প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক পড়তে বেশি পছন্দ করছে। তাই জন্য ধীরে ধীরে বুটিং ব্যবসার ও চাহিদা জনপ্রিয়তা লাভ করছে। আপনি যদি ঘরে থেকে অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করবেন বলে ভাবেন তাহলে আপনার জন্য অবশ্যই বুটিক ব্যবসা লাভজনক একটি ব্যবসার উদাহরণ হতে পারে। বর্তমান সময়ে ছেলেদের পাশাপাশি বাড়ির কাজ করতে করতে বাড়ির মহিলারাও বুটিক ব্যবসায়ী অঙ্গাঙ্গেভাবে জড়িত হয়ে পড়ছে।

আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন বর্তমান সময়ে আপনার আশেপাশে যে সকল বুটিক ব্যবসা চলছে তার বেশিরভাগটাই কোন না কোন মহিলা দ্বারা পরিচালিত। আসলে বুটিক ব্যবসা খুবই সহজ-সরল একটি ব্যবসা যা আপনি অল্প কিছু জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়েই শুরু করতে পারবেন এবং বাকি অন্য কাজের সাথে সাথেই এই ব্যবসা করতে পারবেন। আবার আপনি যদি ফুল টাইম এই ব্যবসাতে সময় দেন তাহলে বুটিক ব্যবসা থেকে আপনি প্রচুর পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

বুটিক ব্যবসা করতে গেলে পোশাক ডিজাইনের ওপরে আপনার সামান্যতম জ্ঞান থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বুটিক ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে জানতে হবে ভারতীয় পোশাক পরিচ্ছদের পাশাপাশি বিদেশী পোশাকের ডিজাইন এবং আধুনিক এর সাথে সাথে পুরনো ডিজাইনের এক মিশ্রণ। বর্তমানে ক্রেতারা এমন কোন পোশাক পছন্দ করেন যা বর্তমান বাজারে সচরাচর দেখতে পাওয়া যায় না। তাই আপনাকে বিভিন্ন রকমের পোশাকের মিশ্রণ ঘটিয়ে এক নতুন পোশাক উদ্ভব ঘটাতে হবে। ক্রেতারা সবসময় ফ্যাশান সচেতন বুটিক বিক্রেতার কাছ থেকেই পোশাক কেনা এবং তৈরি করতে বেশি পছন্দ করেন তাই অবশ্যই আপনাকে পোশাক পরিচ্ছদ সম্পর্কে বিস্তীর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আপনি যদি বুটিক ব্যবসা করবেন বলে মনস্থির করেই থাকেন তাহলে আপনার সুবিধার্থে আপনার প্রয়োজনীয় সকল প্রকার তথ্য এই পোস্টে দেয়া হলো।

boutique business
বুটিক ব্যবসা

Table of Contents

বুটিক ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

যে কোন ব্যবসা শুরু করতে গেলেই আমাদের সর্বপ্রথম মাথায় আসে ব্যবসায় কত টাকা লাগবে। বর্তমানে বুটিক ব্যবসা ছোট করে শুরু করতে গেলে আপনাকে নূন্যতম 10 থেকে 15 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ বুটিকের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এবং ভালো মানের কয়েক রকমের কাপড় কিনতে আপনাকে এই অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। আর আপনি যদি বড় করে বুটিক ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে 1 লক্ষ টাকার মতো পুঁজি নিয়ে ব্যবসায় নামতে হবে। তবে বেশি বুঝি বিনিয়োগ না করে ব্যবসার শুরুতে আপনি অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসা করে দেখুন, পরবর্তীকালে আপনি বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করবেন।

বুটিক ব্যবসা করতে কি কি সরঞ্জামের লাগে?

প্রয়োজনীয় অল্প কিছু সরঞ্জাম কিনে শুরু করতে পারেন বুটিক ব্যবসা। বুটিকের কাজ করার জন্য আপনাকে যে সকল সরঞ্জাম অবশ্যই কিনতে হবে সেগুলি হল-

  • সুচ-সুতো
  • কাঁচি
  • সেলাই মেশিন
  • স্কেল
  • ফিতা
  • কাঠের ডাইস
  • বিভিন্ন কালারের রং

বুটিক ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়?

বুটিক ব্যবসা করতে গেলে আপনাদের অবশ্যই বেশ কয়েক রকম জিনিসের ওপর বিশেষ করে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বিগ ব্যবসা ভালোভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে যদি আপনি করতে না পারেন তাহলে আপনি অনেক সমস্যার মধ্যে পড়বেন এবং আপনার ব্যবসায়ী ও সঠিক লাভ আসবে না। তাই আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে গেলে যে 4 টি প্রধান জিনিস আপনাকে মনে রাখতে হবে সেগুলি হল-

  • পোশাক ডিজাইনের জ্ঞান
  • পোশাকের আনুষাঙ্গিক উপকরণ
  • বুটিকের অবস্থান ও নাম নির্ণয়
  • বুটিকের মার্কেটিং ও সেলস

অবশ্যই পড়ুন- চানাচুর তৈরির ব্যবসা করে মাসে 1 লাখ টাকা আয়

পোশাক ডিজাইনের জ্ঞান

বুটিক ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাদের পোশাক ডিজাইনের ওপর মৌলিক জ্ঞান থাকতে হবে। আপনি এই পোশাক ডিজাইন শিখতে পারেন অনলাইনের মাধ্যমে অথবা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে। বর্তমানে এইরকম প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও অনেক বেশি রয়েছে যা আপনার এলাকাতেই আপনি পেয়ে যাবেন। আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে মেয়েদের শাড়ি, কুর্তি, লেহেঙ্গা থেকে ছেলেদের জিন্স, শার্ট, টি-শার্ট, কোর্টের ডিজাইন। এছাড়াও আপনাকে পোশাকের বিভিন্ন ধরনের কাট জানতে হবে। বর্তমানে যে সকল পোশাকের ও ব্লাউজের কাট জনপ্রিয়তা লাভ করছে তা হল-

  • প্রিন্সেস কার্ট
  • সুইটহার্ট কাট
  • চোলি কাট
  • হালটার কাট
  • বোম্বে কাট
  • জিগজ্যাক কাট
  • অফ-সোল্ডার কাট
  • উইন্ডো ওপেন কাট
  • এমব্রয়ডারি
  • কাঁথা স্টিচ সেলাই
  • বাঁধেনি সেলাই
  • বাটিক
  • জারি
  • ফেব্রিক এর কাজ

পোশাকের আনুষাঙ্গিক উপকরণ

বুটিক ব্যবসায় সবথেকে প্রথমে আপনাকে পোশাক বা কাপড় সম্পর্কে পরিচিত হতে হবে। বর্তমানে বাজারে বহু ধরনের কাপড় পাওয়া যায় যেমন ফেব্রিক, কটন, সিল্ক, জর্জেট, নেট ইত্যাদি।
আপনাকে সকল প্রকার কাপড় দেখেই চিনতে হবে এবং সেই কাপড়ের সঙ্গে কোন কাপড়ের মিশ্রণ ঘটালে আরো সুন্দর হবে সেটা আপনাকে বুঝতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন পোশাকে ডিজাইন করার জন্য বোতাম, হুক, জিপ, দড়ি, স্টোন, কাঁচ, সুতো, আরো বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম আপনার দোকানে রাখতে হবে।

বুটিকের অবস্থান ও নাম নির্ণয়

বুটিক ব্যবসা করতে গেলে বুটিকের অবস্থান অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস এবং বুটিকের নাম নির্ণায়ক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সর্বপ্রথম আপনাকে এমন একটি নাম নির্বাচন করতে হবে আপনার ব্যবসার জন্য যা প্রতিটা মানুষের খুব সহজেই মনে থাকে। এরপর আপনাকে এমন জায়গায় বুটিক ব্যবসা শুরু করতে হবে যেখান থেকে আপনি অনলাইনে মাল ডেলিভারি দিতে পারবেন। আবার বিভিন্ন অর্ডার নিতে পারবেন।

এছাড়াও যদি কোন কাস্টমার সরাসরি দোকানে আসে তারাও আসতে পারবে এমন একটি লোকেশনে আপনাকে ব্যবসা শুরু করতে হবে। তবে ব্যবসার শুরুতেই আপনি আপনার বাড়ি থেকে ব্যবসার কাজ পরিচালনা করতে পারেন। তবে ভালোভাবে বুটিক ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করতে হবে যা রাস্তার ধারে এবং জনবহুল এলাকার মধ্যে পড়ে।

অল্প দামে কাপড় কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

বুটিক ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে অল্প দামে বিভিন্ন ধরনের কাপড় কিনতে হবে এর জন্য আপনি আপনার এলাকার পাইকারি বাজারে যোগাযোগ করতে পারেন। যারা কলকাতায় থাকেন বা পশ্চিমবঙ্গে থাকেন তারা বড়বাজার খিদিরপুর এবং হাওড়াতে যে সকল বড় বড় পাইকারি বাজার রয়েছে সেখান থেকে আপনারা ভীষণ অল্প দামে সকল কাঁচামাল এবং কাপড় কিনতে পারবেন। বাংলাদেশে যারা থাকেন তারা চকবাজার পাইকারি মার্কেটে থেকে সকল প্রকার কাঁচামাল ও কাপড় অল্প মূল্যে কিনতে পারবেন।

আরো পড়ুন- লবণের ব্যবসা শুরু করুন মাত্র 10 হাজার

বুটিকের প্রশিক্ষণ কোথায় করা যায়?

বর্তমানে বুটিক ব্যবসা করতে গেলে প্রশিক্ষণ নেওয়া ভীষণ প্রয়োজনীয়। এবং বুটিক প্রশিক্ষণ নেবার জন্য আপনাকে ন্যূনতম 1হাজার টাকা থেকে 5 হাজার টাকা বিনিয়োগ করে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। কারণ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কোর্স ফি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।


সাধারণত বুটিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য আপনি আপনার এলাকার বিভিন্ন বুটিক অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এর জন্য আপনি অনলাইনে গুগলে সার্চ করতে পারেন আপনার এলাকার বুটিক কেন্দ্র কোথায় আছে। কলকাতায় একাধিক বুটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। ঠিক তেমনই বাংলাদেশেও অনেক বুটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। আপনাদের সুবিধার্থে বেশ কিছু বুটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা দেওয়া হল-

বাংলাদেশের বুটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-

  • রসিক নকশা কেন্দ্র, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন, ১৩৭- ১৩৮, ঢাকা-১০০০। ফোন নাম্বার-৯৫৫৩১১২
  • বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, ৪ নাটক সরণি, বেইলি রোড, ঢাকা। ফোন নাম্বার-৯৩৩৭০৫০
  • প্রতিবেশী ট্রেনিং সেন্টার, সেকশন-৬, ব্লক-টি, রোড-৩৫, মিরপুর, ফোন নাম্বার-৮০৫৯৭৬১, ০১৭১১৯৪৫৬২০
  • ঘরকন্যা,৬৯ ডলফিন গলি, কলাবাগান, ঢাকা। ফোন নাম্বার-৮১২২৮৫৬, ৯১২১৬৪৯

অনলাইনে বুটিক ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়?

বর্তমানে বুটিক ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে অনলাইনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। কারণ প্রতিটা ব্যবসা এখন যেভাবে অনলাইনে বিস্তার লাভ করছে তার ওপর লক্ষ্য করে আপনার ব্যবসা কেউ অনলাইনে নিয়ে আসুন। তাছাড়া বাড়ির মহিলাদের জন্য অনলাইনে বুটিক ব্যবসা করা খুবই সহজ কাজ একটু কয়েকটা জিনিস শিখলেই আপনিও করতে পারবেন। অনলাইনে ব্যবসা করলে পরিশ্রম অনেক কম লাগে আর টাকাও বেশি ইনকাম করা যায়। অনলাইনে বুটিক ব্যবসা করতে গেলে যে জিনিসগুলি আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে সেগুলি হল-

Online boutique business
অনলাইনে বুটিক ব্যবসা

বিজনেস প্ল্যান তৈরি করা-

যেকোনো ব্যবসা ও কাজ করতে গেলে প্ল্যানিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আপনিও যখন ব্যবসা শুরু করবেন তার আগেই আপনাকে একটি বিজনেস প্ল্যান তৈরি করে নিতে হবে। এই বিজনেস প্ল্যান এর মধ্যে যেমন আপনাকে রাখতে হবে কোথা থেকে আপনি কাঁচামাল কিনবেন কিভাবে তা বিক্রি করবেন এবং কিভাবে কাস্টমারকে বেশি পরিমাণে আকৃষ্ট করবেন এই সকল তথ্যগুলি। এছাড়াও আপনাকে খেয়াল করতে হবে যে আপনি যে এলাকাতে ব্যবসা করতে যাচ্ছেন সেই এলাকায় বুটিক ব্যবসার চাহিদা কতটা রয়েছে। আবার যদি আপনি অনলাইনে ব্যবসা করেন তাহলে মাল ডেলিভারি কিভাবে করবেন কিভাবে কাস্টমারের কাছ থেকে অর্ডার নেবেন এই সকল তথ্য গুলি বিজনেস প্ল্যানিংয়ে অবশ্যই আপনাকে রাখতে হবে।

ডেলিভারি সার্ভিসের ব্যবস্থা

আপনি যখন কাস্টমারের কাছ থেকে অর্ডার নেবেন এবং অর্ডার নেওয়ার পরে পোশাক তৈরি করবেন, তারপরে সেই পোশাক ডেলিভারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আপনাকে নিতে হবে। বর্তমানে আপনি বিভিন্ন ই ডেলিভারি সাইটগুলিতে বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে ডেলিভারির কাজ করতে পারেন। আপনার তৈরি করা পোশাক কাস্টমারকে ডেলিভারি করার জন্য আপনি আপনার নিকটবর্তী ডেলিভারি কোম্পানি গুলির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আবার আপনি চাইলে নিজস্ব ডেলিভারি ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেন। তবে ব্যবসার শুরুতে নিজস্ব ডেলিভারি ব্যবস্থা বা কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবস্থা শুরু করার সমস্যা হতে পারে। তাই আপনি কুরিয়ার সার্ভিস সম্পর্কে জানতে হলে এই লিঙ্কে দেখুন- কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা

বুটিক দোকানে কর্মচারী নিয়োগ

বুটিক ব্যবসা করতে গেলে আপনার বুটিক দোকানে অবশ্যই কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। এই কর্মচারীদের অবশ্যই আপনাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তারপরে কাজে নিয়োগ করতে হবে। প্রতিটা কর্মচারীর আলাদা আলাদা কাজ থাকবে কেউ বুটিকের কাজ করবে, কেউ আবার ডেলিভারির কাজ করবে, আবার কেউ সমগ্র বুটির দোকান পরিচালনা করবে। একার পক্ষে বুটিক দোকান পরিচালনা করা সম্ভব নয় তাই প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসা বড় করার জন্য একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করতে হয়। আপনিও যখন ব্যবসা করবেন তখন আপনার ব্যবসার পরিধি অনুযায়ী আপনাকে বুঝে কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। এই কর্মচারীদের বেতন হিসেবে আপনি 5 থেকে 10 হাজার টাকার প্রতি মাসে নির্ধারণ করতে পারেন।

অনলাইন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী স্টোর রুম তৈরি করুন

আপনি বুটিকের দোকান করুন কিংবা গার্মেন্টস ব্যবসা করুন যাই করুন না কেন আপনাকে স্টোর রুম তৈরি করতে হবে। এই স্টোররুমে আপনার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল থেকে সকল বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক, কাপড় ইত্যাদি জিনিস রাখতে হবে স্টোর করে। অনলাইনে বুটিক ব্যবসা করলেও স্টোরডুমের প্রয়োজনীয়তা প্রতিটা ব্যবসায়ীরই পড়ে। তাই স্টোররুম হিসাবে আপনাকে নূন্যতম 10/10 ফুটের একটি ঘর নির্বাচন করতে হবে।

সঠিক দাম নির্বাচন

আপনি যখন অনলাইনে বুটিকের কাজ শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে সঠিক দাম নির্ধারণ করতে হবে প্রতিটা পোশাকের ওপর। আপনি যদি উল্টোপাল্টা দাম নিতে শুরু করেন তাহলে কাস্টমারের সংখ্যা কমতে কমতে একেবারে তলা নিতে পৌঁছবে। তাই প্রতিটা ডিজাইনের পোশাক অনুযায়ী আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট সঠিক দাম আপনাকে আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখতে হবে। এবং চেষ্টা করবেন বাজারে থাকা প্রতিটা বুটিক ব্যবসায়ীদের থেকে আপনার কাছে যেন দামটা কম হয়ে থাকে। আপনার কাছে কম দামে ভালো মাল পাওয়া গেলে প্রতিটা কাস্টমার আপনার কাছে আসবে এবং অল্প লাভ রাখতে রাখতে আপনি প্রচুর পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

অবশ্যই পড়ুন- কেটে ফেলে কলা গাছ থেকে মাসে 1 লাখ টাকা আয়

বুটিক ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্সের প্রয়োজন?

সাধারণত প্রতিটা ব্যবসার জন্য যেমন বিভিন্ন প্রকার লাইসেন্স নিতে হয় তেমনি আপনি যখন দুটি ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনাকেও কয়েক রকমের লাইসেন্স নিতে হবে। তবে ব্যবসার শুরুতেই আপনি বিনা লাইসেন্সে কাজ শুরু করতে পারেন যখন আপনার ব্যবসা জনপ্রিয়তা লাভ করবে তখন ধীরেসুসতে আপনি একের পর এক লাইসেন্স নিয়ে নেবেন। এই ব্যবসার জন্য আপনার যে সকল লাইসেন্স নিতে হবে সেগুলি হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট
  • জি এস টি নাম্বার
  • অনলাইন টার্ম এন্ড পলিসি লাইসেন্স
  • আমদানি রপ্তানি নাম্বার
  • কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট
  • নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র

সকল প্রকার লাইসেন্স আপনি চাইলে অনলাইনে নিতে পারেন আবার বিভিন্ন লাইসেন্সের জন্য আলাদা আলাদা দপ্তরে গিয়েও পেতে পারেন। এই সকল লাইসেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনি দেখতে পারেন এই লিংকে-

বুটিক ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

যেকোনো ব্যবসা করতে গেলে মার্কেটিং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনাকেও আপনার ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি ঘটানোর জন্য মার্কেটিং এর উপরে বিশেষ জোর দিতে হবে। আপনি যত ভালোভাবে যত আধুনিক পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতে পারবেন তত বেশি পরিমাণে আপনার ব্যবসার লাভ হবে এবং বেশি পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। যে পদ্ধতিতে আপনি মার্কেটিং করতে পারবেন সেগুলি হল-

  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে একটা করে পেজ ও অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। প্রতিদিন ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে নিত্যনতুন পোস্টের আপডেট দিতে থাকুন। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই আপনার পেজ এবং অ্যাকাউন্ট জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং প্রচুর পরিমাণে কাস্টমার আপনাকে ফলো করবে এবং অর্ডার দিতে থাকবে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী। কিভাবে আপনি অনলাইনে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে আপনার ব্যবসাকে বড় করতে পারেন।
  • নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। আপনার ব্যবসার জন্য আপনাকে একটা ডোমিন নিতে হবে এবং ওয়েবসাইট বানাতে হবে আপনার কোম্পানির বা বুটিক দোকানের নামে। নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে যেকোনো ব্যবসা অনেক দ্রুততার সাথে বাড়তে পারে। এই ওয়েবসাইটে আপনি আপনার তৈরি করা পোশাকের ছবি পোস্ট করুন এবং বিভিন্ন ব্লক তৈরি করুন দেখবেন এই ওয়েবসাইট থেকেও প্রচুর পরিমাণে কাস্টমারের আপনাকে অর্ডার দেবে এবং আপনার ব্যবসা দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি করবে।
  • অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, আলিবাবা এই ধরনের ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলিতে একটা করে বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে তৈরি করা ডিজাইনিং বুটিক পোশাকগুলি আপনি ছবি তুলে পোস্ট করতে পারেন। amazon, indiamart এর মত ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকেও প্রচুর পরিমাণে কাস্টমার সরাসরি কিনে নেবে আপনার ডিজাইন করা পোশাক।
  • Whatsapp মার্কেটিং করেও আপনি আপনার বুটিক দোকানের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • ইউটিউব, গুগলে আপনি এডভার্টাইজমেন্ট চালু করতে পারেন এবং প্রতিটা কাস্টমার টার্গেট করে প্রচার করতে পারেন।
  • আপনার এলাকার লোকাল ম্যাগাজিন ও পত্রপত্রিকায় আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারেন আপনার দোকানের এবং আপনার ব্যবসার।
  • বিভিন্ন জনপ্রিয় জনবহুল মোড় গুলিতে flex লাগিয়ে প্রচার বাড়াতে পারেন।
  • বিভিন্ন বিউটি পার্লার স্কুল কলেজের গেটের বাইরে পোস্টার লাগিয়ে ও বিভিন্ন সুন্দর ডিজাইনের ফ্লেক্স লাগিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারেন।
  • নিত্যনতুন অফার চালু করে আপনার ব্যবসায়ী কাস্টমারের আকর্ষণ বাড়াতে পারেন এতে পুরনো কাস্টমাররাই বেশি বেশি করে আপনার কাছে আসবে এবং নিত্য নতুন পোশাকের অর্ডার দিতে থাকবে।
  • লিফলেট ছাপিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়িতে প্রচার করতে পারেন পেপার বিক্রেতার মাধ্যমে।

বুটিক ব্যবসায় লাভ কত?

সাধারণত বুটিক ব্যবসা আপনি যে পরিমাণ করে শুরু করবেন লাভের পরিমাণও সেই পরিমাণে পাবেন। অর্থাৎ আপনি যখন অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করছেন তখন আপনার প্রতি মাসের লাভ হতে পারে 10 থেকে 15 হাজার টাকা। আবার আপনি যখন এক লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ করে বড় করে শুরু করছেন ব্যবসা তখন আপনার প্রতি মাসের আয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে 30 থেকে 40 হাজার টাকায়

তবে ব্যবসার লাভ নির্ধারণ করবে আপনি কি পদ্ধতিতে ব্যবসা করছেন এবং কোন জায়গায় ব্যবসা করছেন তার ওপর একজন ছোট ব্যবসায়ী ও প্রতি মাসে 30 হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন শুধুমাত্র মার্কেটিং এবং প্রোডাক্টের কোয়ালিটির ওপর জোর দিয়ে। তাই আপনাকে সব সময় আপনার ব্যবসার মার্কেটিং এর উপরে বিশেষ জোর দিতে হবে এবং প্রতিটা তৈরি হওয়া পোশাক যেন সুন্দর হয় তার দিকেও নজর দিতে হবে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও F.A.Q.

বুটিক কাকে বলে?

উত্তর: বাজারে পাওয়া বিভিন্ন পোশাকের ওপর আলাদা কাপড় যুক্ত করে বা এমব্রয়ডারির কাজ করে নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি কে বুটিক বলা হয়।

বুটিক ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: ব্যবসা শুরু করতে 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হয় এবং বড় করে শুরু করতে 1 থেকে 5 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ।

বুটিক দোকান তৈরি করতে কত বড় জায়গা লাগে?

উত্তর:10/10 ফুটের একটা ঘর হলেই বুটিক দোকান তৈরি করা যায়।

বুটিক হাউস কোথায় তৈরি করা যায়?

উত্তর: গ্রাম কিংবা শহর যে কোন জায়গাতেই আপনি বুটিক হাউস তৈরি করতে পারেন। শুধুমাত্র দেখতে হবে যে সেই এলাকায় বুটিকের চাহিদা কেমন আছে।

প্রশ্ন:

প্রশ্ন:

প্রশ্ন:

প্রশ্ন:

প্রশ্ন:

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

অল্প পুজিতে ক্যাটারিং ব্যবসা

কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ তথ্য

Leave a Comment