বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করে মাসে 50 হাজার টাকা ইনকাম করুন Biscuit making business RIGHT NOW

বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করে আপনি মাসে কম করে 50 হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন। বিজনেস যখন বড় হয়ে যাবে এবং বিজনেস যদি আপনি বড় করে করেন তাহলে মাসের লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করতে পারেন আর এই মিশনের সারা বছর চলবে এবং ছোট থেকে বড় সবাই খাবে তাই ব্যবসায় কোন লস নেই।

Table of Contents

বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করতে আপনার 6-10 হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আবার 25-30 হাজার টাকা খরচা করে ও ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

বিস্কুট তৈরির ব্যবসা
বিস্কুট তৈরির ব্যবসা

কম পুঁজিতে নতুন ব্যবসার আইডিয়া বিস্কুট ব্যবসা

কম পুঁজি খরচ করে যে সকল ব্যবসা আমরা করতে পারি তার মধ্য বিস্কুট তৈরির ব্যবসা অন্যতম। এই ব্যবসা যেমন খুব অল্প টাকা খরচ করে করা যায় আবার একটু বেশি পরিমাণে টাকা খরচ করে এইটা অনেক বড় লেভেল পর্যন্ত করা যায়।
কিন্তু কিভাবে আপনি ছোট থেকে বড় লেভেল পর্যন্ত ব্যবসা করবেন তার সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য দেয়া হলো আপনি এই সহজ-সরল তথ্য এবং সহজ সরল পদ্ধতিতে যদি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে খুব তাড়াতাড়ি ছোট্ট একটু ব্যবসা থেকে বৃহৎ ব্যবসায় পদার্পন করবেন। চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে আপনি ছোট থেকে ব্যবসাটি বড় করবেন এবং এই বিস্কুট তৈরির ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন।

বিস্কুট তৈরি করতে কি কি কাঁচামাল লাগে?

বিস্কুট তৈরি করতে খুব বেশি কাঁচামাল প্রয়োজন হয় না এবং যে কাঁচামাল গুলি লাগে তা খুব সহজলভ্য। চলুন দেখা যাক বিস্কুট তৈরিতে কি কি কাঁচামাল দরকার হয়।

বিস্কুট তৈরির উপাদান

1 কেজি বিস্কুট বানানোর ফর্মুলা-

১: ময়দা -500 গ্রাম
২: চিনি -250 গ্রাম
৩: ডিম -1 টি
৪: লবণ -10 গ্রাম
৫: বেকিং পাউডার -15 গ্রাম
৬: দুধ -150 গ্রাম

এই ফর্মুলাটা মূলত খুব ভালো কোয়ালিটির হেলদি বিস্কুট তৈরির। আপনারা যদি নরমালি বেকারিতে যেসকল বিস্কুট পাওয়া যায় সেই ধরণের বিস্কুট করতে চান তাহলে এইখানে থাকা দুধ বাদ দিতে পারেন।

বিস্কুট তৈরির কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

বিস্কুট তৈরির সমস্ত কাঁচামালই আপনি আপনার পাড়ার দোকান থেকে কিনতে পারেন , বা বাজারের যে পাইকারি দোকান থাকে সেই পাইকারি দোকান থেকে কিনতে পারেন।
আপনারা ব্যবসা করতে চাইলে আমি রেকমেন্ট করব বড় পাইকারি দোকান থেকে বেশি পরিমাণে এই সকল কাঁচামাল কেনার তাহলে দামটা অনেকটা কম হয়।
চাইলে আপনারা বড়বাজার থেকে সরাসরি দু বস্তা , তিন বস্তা করে প্রতিটা মাল কিনে নিতে পারেন তাহলে দাম অনেক কম হয়ে যাবে।

বিস্কুট তৈরির ব্যবসা
বিস্কুট তৈরির ব্যবসা

বিস্কুট তৈরি করতে কি ধরনের মেশিন লাগে?

বিস্কুট তৈরি করতে অনেক রকমের মেশিন ব্যবহার হয়ে থাকে। ছোট্ট করে ব্যবসা শুরু করার জন্য যে মেশিনটি লাগে সেটা হ্যান্ড মেড বিস্কুট মেকিং মেশিন। এই মেশিনটার দাম পড়ে দুই তিন হাজার টাকার মতো।

ডো মিক্সার মেশিন-

এই মেশিনে ময়লা মূলত মাখানো হয় আপনারা চাইলে হাত দিয়ে ময়দা মাখাতে পারেন কিন্তু ব্যবসায় যখন প্রচুর পরিমাণে সাপ্লাই বাড়বে তখন হাত দিয়ে মাখানো সময় পাবেন না তখন আপনাদের ডো মিক্সার মেশিন কিনতে হবে।

অটোমেটিক কুকিজ মেকিং মেশিন-

এই মেশিনে আপনারা ময়দা মাখানোর পরে সেই ময়দা দিয়ে দিলে অটোমেটিক এই মেশিন দ্বারা বিস্কুট তৈরি করে নিচে প্লেটে পড়বে তারপর সেই প্লেট গুলি সরালেই আপনারা বিস্কুট পেয়ে যাবেন।
একদিনে এই মেশিন থেকে আপনারা কুড়ি হাজার বিস্কুট তৈরি করতে পারবেন।

রোটারি ওভেন মেশিন-

রোটারি ওভেন মেশিন এমন একটি মেশিন যেখানে বিস্কুট দেবার পরে আর বিস্কুট কে আলাদা করে উল্টাতে হয় না অটোমেটিক বিস্কুট পাল্টাতে থাকে এবং তার দুপাট্টা গরম হয়ে সুন্দরভাবে ফুলে ওঠে। ওভেন মেশিন মানে বুঝতেই পারছেন এটা বিস্কুট কে গরম করে মুচমুচে তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে যা ইলেকট্রিক চলে।

মাইক্রোওয়েভ মেশিন-

ব্যবসা শুরুতে আপনারা মাইক্রোওয়েভ কিনেও বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করতে পারেন। শুধুমাত্র মাইক্রোওয়েভে সমস্যা একটাই যে একবার আপনাকে বিস্কুট গুলোকে উল্টে দিতে হবে যাতে পেছনের অংশটা গরম হতে পারে এ ছাড়া আর কোন সমস্যা নেই মাইক্রোওয়েভে।

বিস্কুট তৈরির মেশিনের দাম কত?

•হ্যান্ড মেড কুকিজ মেকিং মেশিন- 450-500 টাকা
• ডো মিক্সার মেশিন-15-20 হাজার টাকা।
• অটোমেটিক কুকিজ মেকিং মেশিন- 50-80 হাজার টাকা।
• রোটারি ওভেন মেশিন- 15 হাজার টাকা।
• মাইক্রোওয়েভ- 4-5 হাজার টাকা

মানে বুঝতেই পারছেন মাত্র 400- 500 টাকা দিয়ে একটা মেশিন কিনে আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ছোট মেশিন দিয়ে ব্যবসা

বুঝতেই পারছেন 400 থেকে 500 টাকার মধ্যে যখন আপনি মেশিন কিনতে পারছেন মানে এই ছোট্ট মেশিন দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারছেন তাহলে আপনার ব্যবসাটা কিভাবে অল্প টাকায় করতে হবে এটা ওর ধারণা আপনার মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে । তাই এই অল্প টাকা দিয়েই মেশিন কিনে ব্যবসা শুরুতে ব্যবসা করুন রমরমিয়ে । বিস্কুট তৈরির ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা সারাবছর শুধু নয় সারা জীবন আপনি এবং আপনার ভবিষ্যৎ এই ব্যবসা করতে পারবে।

অটোমেটিক কুকিজ মেকিং মেশিন
অটোমেটিক কুকিজ মেকিং মেশিন

বিস্কুট তৈরির মেশিন কোথায় পাওয়া যায়?

বিস্কুট তৈরির মেশিন আপনি অনলাইন যে সাইট আছে সেখান থেকে কিনতে পারবেন হ্যান্ড মেড মেশিন গুলি যেগুলির দাম 400 টাকা। ভারতে থাকলে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এগুলি থেকে আপনাকে কিনতে পারেন । বাংলাদেশ থাকলেও অ্যামাজন থেকে কিনতে পারেন এই মেশিন।

এ ছাড়া বাকি বড় মেশিন গুলি আপনারা কোথা থেকে কিনবেন তার ফোন নাম্বার আমি দিয়ে দিলাম নিচে এই ফোন নাম্বারে ফোন করে আপনি বিস্কুট তৈরির যাবতীয় উপকরণ এবং যাবতীয় ডাইস সমস্তটাই কিনতে পারবেন এই কোম্পানির কাছ থেকে।
01879976968 / 01865125940 এই ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে সবকিছু মেশিনসহ ইনফর্মেশন পেয়ে যাবেন।

বিস্কুট তৈরির কারখানা খুলুন

আপনি ব্যবসার শুরুতে ঘরেতে বিস্কুট তৈরি করলেও পরবর্তীকালে বিস্কুট তৈরির কারখানা তৈরি করুন যেখানে প্রচুর পরিমাণে বিস্কুট তৈরি করুন এবং সেই বিস্কুট বাজারে বিক্রি করুন। ব্যবসার শুরুতে আপনি বুঝতেই পারবেন বিস্কুটের চাহিদা কত বেশি বাজারের তাই আপনার বিস্কুটের যদি কোয়ালিটি আর টেস্ট অন্য বিস্কুট কোম্পানি গুলোর বিস্কুট গুলোর থেকে উন্নত করতে পারেন তাহলে আপনি বিস্কুট বাজারে একাই রাজ করবেন।

বেকারি মেশিন এর দাম কত?

বেকারি মেশিন বলতে আমরা মূলত এই বিস্কুট তৈরির মেশিন ওগুলোই ব্যবহার করে থাকি। বিস্কুট তৈরির মেশিন গুলোর যেসকল দাম হয়ে থাকে যেগুলি 400-500 টাকা থেকে শুরু হয়।আর কুড়ি 30 হাজার টাকার মধ্যে ফুল সেটাপ তৈরি করে নেয়া যায়।

বিস্কুট কত রকমের হয়?

বিস্কুট বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে তার মধ্যে যে সকল বিস্কুট গুলি বাজারে বেশি পাওয়া যায় এবং যা আমরা সাধারণত খেয়ে থাকি তার একটি লিস্ট দেয়া হল।

১: নর্মাল বিস্কুট
২: সুগার ফ্রি বিস্কুট
৩: বাটার বিস্কুট
৪: কোকোনাট বিস্কুট
৫: চকলেট বিস্কুট
৬: বিভিন্ন রকম ফ্লেভারের বিস্কুট
৭: ক্রিম ক্রেকার বিস্কুট
৮: চা খাওয়ার জন্য বেকারি বিস্কুট
৯: চকলেট মোল্ড বিস্কুট
১০: বাদাম বিস্কুট

বিস্কুট তৈরির রেসিপি ( Biscuit toirir Recipe )

বিস্কুট কিভাবে তৈরি করবেন তার সহজলভ্য আইডিয়াটি দেয়া হলো


প্রথমে 500 গ্রাম ময়দা একটি পাত্রে নিয়ে নিন। তার মধ্যে 250 গ্রাম চিনি দিতে হবে। এরপর একটা ডিম ভেঙে ওর মধ্যে মিশিয়ে নাড়ুন।
মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে তার মধ্য স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিন অর্থাৎ দশ গ্রামের মত লবন দিন।
একইসাথে ব্রেকিং পাউডার 15 গ্রাম দিয়ে 150 গ্রাম দুধ দিয়ে ময়দা কি ভালো করে মাখিয়ে ফেলুন।
এরপর যদি আপনি কোন ফ্লেবার অ্যাড করতে চান তাহলে সেই ফ্লেভার এড করতে পারেন। যেমন কোকোনাট বিস্কুট করতে চাইলে নারকেল অ্যাড করতে হবে। বাদাম বিস্কুট করতে চাইলে বাদাম অ্যাড করতে হবে। অথবা চকলেট বিস্কুট তৈরি করতে চাইলে তার সঙ্গে চকলেট অ্যাড করে তারপরে মিশ্রণটি তৈরি করবেন।

সুন্দর করে ময়দা টি মাখানো হয়ে গেলে বিস্কুটের আয়তনের গোল অথবা চারকোনা সেবের লেচি কেটে সাইটে রাখুন।

যদি আপনি মেশিন ব্যবহার করেন তাহলে সমস্ত মিশ্রণটি মেশিনের দিয়ে মেশিন চালিয়ে দিলেই মেশিন অটোমেটিক বিস্কুটের ছাড়ছে ডাইসে যেমনভাবে বিস্কুট ডিজাইন করা রয়েছে সেই ধরনের ডিজাইন করা বিস্কুট এনে রাখবে।

বাজার থেকে কিনে আনা হ্যান্ড মেড ছোট মেশিন দিয়ে বিস্কুট এর ডিজাইন করা ডাইস লাগিয়ে বিস্কুট তৈরি করতে পারবেন।

এরপরে ওই ময়দার তৈরি বিস্কুট গুলি মাইক্রোওয়েভে ঢুকিয়ে দিন সুন্দর করে সাজিয়ে।
পনেরো-কুড়ি মিনিটের মধ্যে মাইক্রোওয়েভ ভেতরে বিস্কুট তৈরি হয়ে যাবে। তারপর বিস্কুট গুলি একবার উল্টে 5 মিনিট রেখে বের করে আনুন দেখবেন অনেক মচমচে, বাজারে যেমন বিক্রি হয় সেই ধরনের সুন্দর টেস্টি বিস্কুট আপনি ঘরেই তৈরি করে ফেলেছেন।

রোটারি ওভেন মেশিন
রোটারি ওভেন মেশিন

বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন হয়?

ব্যবসার শুরুতে আপনার 10/12 ফুটের এক কামরা ঘর হলেই অথবা আপনার কিচেন হলেই বিস্কুট তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।
কিন্তু ব্যবসা যত বড় হবে ততো আপনার জায়গাটা ছোট হবে অর্থাৎ আপনি যে জায়গাতে ব্যবসা শুরু করেছেন সেই জায়গাটা ও ছোট হয়ে যাবে তাই ব্যবসা যখন বড় হবে তখন ব্যবসার জন্য আলাদা একটু বড় ঘরের দরকার হবে।

বিস্কুট তৈরির ব্যবসায় কি কি লাইসেন্স লাগে?

ব্যবসার শুরুতেই আপনাকে একটা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে নিতে হবে। যা আপনি এখন অনলাইনে এপ্লাই করলেই পেয়ে যাবেন । এছাড়াও আপনি চাইলে পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস অথবা কর্পোরেশনের যোগাযোগ করলে ট্রেড লাইসেন্স তারা করে দেবে।
বিস্কুট যেহেতু খাবার জিনিস তাই আপনাকে একটা ফুড লাইসেন্স করতে হবে।
পরে ব্যবসায় যখন আপনার মাসে দু লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন তখন GST লাইসেন্স লাগবে।

বিস্কুট ব্যবসায় ইনসিওরেন্স কি করতে হয়?

যে কোন ব্যবসা করার সময় আপনার ব্যবসায় কোম্পানির নামে ইন্সুরেন্স করাটা দরকার। কারণ কেউই বলতে পারে না ব্যবসায় কখন লাভ এবং কখন লস হয় এবং ব্যবসায় কখন বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
তাই আপনার যদি ইনসিওরেন্স করা থাকে তাহলে সেই ক্ষতির হাত থেকে ইন্সুরেন্স আপনাকে বাঁচাতে পারে।

বিস্কুটের প্যাকেজিং কিভাবে করতে হয়?

বাজারে যে সকল বেকারি বিস্কুট গুলো আমরা দেখি তারা সাধারণত ট্রান্সপারেন্ট প্লাস্টিক দিয়ে বিস্কুট প্যাকিং করে থাকেন।
তাই আপনি চাইলে ব্যবসার শুরুতে ট্রান্সপারেন্ট প্লাস্টিক দিয়ে বিস্কুট প্যাকেজিং করতে পারেন। এবং প্রতিটা প্যাকেজিং এর ভেতরে আপনার কোম্পানির নাম এবং বিস্কুটের সুন্দর ছবি এবং ডিজাইন লাগানো একটি করে কাগজ যেখানে আপনার কোম্পানির ঠিকানা সবকিছুই থাকবে, এরকম কাগজ ভেতরে ভরে তারপরে প্যাকেজিং করুন । যাতে যারা প্যাকেট কিনবে তারা খুব সহজেই আপনার কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং এতে আপনার সেল অনেক বাড়বে।

তবে পরে আপনার কোম্পানি যখন বড় হবে তখন আপনার কোম্পানির নাম এবং ছবি লাগানো সমস্তটাই প্লাস্টিকের উপরে করবেন এবং সুন্দর কালারফুল ডিজাইনের ক্লাসিক তৈরি করবেন যাতে কাস্টমার এক দেখাতেই আপনার কোম্পানির স্কুটি কিনতে চাই বাজার থেকে।

বিস্কুটের মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

বিস্কুটের মার্কেটিং আপনি দু’রকম পদ্ধতিতে করতে পারেন। যেহেতু এখন অনেক উন্নত সময় এবং কম্পিটিশন মার্কেট হয়ে গেছে তাই আপনাকে দু’রকম পদ্ধতিতেই মার্কেটিং করতে হবে। একটা অফলাইন পদ্ধতি আর একটা অনলাইন পদ্ধতি।

অফলাইন মার্কেটিং-

বাজারে বাজারে প্রতিটা দোকানে আপনি যান এবং সেখানে আপনার তৈরি বিস্কুট দিন। অথবা কিছু কিছু ডিস্ট্রিবিউটার এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন, যাদেরকে আপনি আপনার কোম্পানির বিস্কুট বিক্রি করতে পারবেন। সেই ডিস্ট্রিবিউটররা প্রথমে আপনার কোম্পানির কাছ থেকে যদি বেশি প্রফিট পায় অর্থাৎ আপনাকে অল্প লাভ রেখে ডিস্ট্রিবিউটরদের মালগুলো দিতে হবে পাইকারি রেটে, তাহলে আপনার বাড়ি অথবা আপনার কোম্পানি থেকেই ডিস্ট্রিবিউটররা বিস্কুট কিনে নিয়ে যাবে।

এছাড়া আপনি কিছু ফ্লেক্স ছাপাতে পারেন বিস্কুটের এবং কোম্পানির নাম দিয়ে যা প্রতিটি বাজারে একটি করে লাগিয়ে দিন। এতে মানুষজনের নজর কাড়বে আপনার কোম্পানি এবং বিস্কুটটা তাহলে তাড়াতাড়ি আপনার কোম্পানি একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়ে যেতে পারে।

অনলাইন মার্কেটিং-

অনলাইন অনেক সাইট রয়েছে যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট , সবসি এই রকম অনেক অনলাইন সাইট এ আপনি আপনার কোম্পানির বিস্কুট গুলি বিক্রি করতে পারেন। তার জন্য শুধুমাত্র আপনাকে এই সমস্ত অনলাইন সাইটগুলিতে একটা করে বিজনেস একাউন্ট খুলতে হবে, যেখানে আপনি বিস্কুট গুলি বিক্রি করবেন।
অনলাইনে এখন বিজনেস খুব ভালো করা যায় এবং দ্রুত গ্রোথ করা যায়।

বিস্কুট তৈরির ব্যবসায় কত টাকা লাভ?

বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করতে আপনার খরচ হয় যেমন অল্প টাকা লাভ হয় কিন্তু তার তিনগুণ।
অর্থাৎ প্রতি প্যাকেট বিস্কুট তৈরিতে আপনার খরচ হয় মাত্র 3 টাকা। আর সেই 3 টাকার বিস্কুট আপনি বিক্রি করতে পারেন পাইকারি 7 টাকা থেকে 8 টাকা দামের মধ্যে। যা বাজারে খুচরা কিনতে পাওয়া যায় 10 টাকা অথবা 15 টাকা দামের মধ্যে। বড় এক প্যাকেট বিস্কুট তৈরি করতে আপনার খরচ হয় 12 টাকা। সেই 12 টাকার বিস্কুট বাজারে পাইকারি বিক্রি করতে পারেন 20-25 টাকা দামে।


মানে বুঝতেই পারছেন আপনি কত অল্প টাকা ইনভেস্ট করে কত টাকা লাভ করতে পারেন এই ব্যবসা ছোট করে শুরু করলে প্রতিমাসে আপনি 30 থেকে 40 হাজার টাকা ইনকাম করবেন। একটু বড় করে ব্যবসা শুরু করলে আপনি মাসে 1 লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন।
আর যখন ব্যবসা আপনার পরিচিতি বাড়বে এবং সেল বাড়বে তখন আপনি মাসে 3 থেকে 4 লক্ষ টাকা এই বিস্কুট তৈরির ব্যবসা থেকে লাভ করতে পারবেন

বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করতে গেলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে?

যে কোন ব্যবসা শুরু করলে প্রথমে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাই এই ব্যবসার শুরুতেই আপনাকে হয়তো কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। আপনি যদি ব্যবসায় শুরুতে লাভ বেশি রেখে ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনি বাজারে ব্যবসা করতে পারবেন না। তাই ব্যবসার শুরুতে আপনাকে লাভ কম রেখে ছেলে বেশি জোর দিতে হবে তাহলে ব্যবসা করতে পারবেন।

বাজারে অনেক নামিদামি কোম্পানির বিস্কুট পাওয়া যায়। সেখানে আপনার বিস্কুটের কোয়ালিটি এবং টেস্ট যদি ভালো না হয় তাহলে সেই সকল কোম্পানির থেকে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। এবং ব্যবসায় উন্নতি করতে পারবেন না তাই ব্যবসার শুরুতে আপনাকে টেস্ট এবং কোয়ালিটি দুটো জিনিসের ওপরেই বেশি করে নজর দিতে হবে।
আর ব্যবসায়ী সেলের দিকটা একটু বেশি করে নজর রাখবেন যত বেশি পরিমাণে সেল করতে পারবেন তত বেশি পরিমাণে আপনি ব্যবসায় উন্নতি করতে পারবেন।

খুবই অল্প টাকায় আরো ব্যবসার আইডিয়া পেতে দেখুন

সম্পূর্ণ নতুন ব্যবসা , চায়ের কোনের ব্যবসা

9 thoughts on “বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করে মাসে 50 হাজার টাকা ইনকাম করুন Biscuit making business RIGHT NOW”

Leave a Comment