বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করে প্রতিমাসে 5 লক্ষ টাকা আয় করুন | Advertising agency business is now simple ,Wow

বর্তমানে প্রায় প্রতিটা ব্যবসার কোম্পানি তাদের ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞাপন এজেন্সির দ্বারস্থ হন। তাই এই অনলাইন আধুনিকতার যুগে আপনিও যদি একটি বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা শুরু করেন আপনি এই ব্যবসা থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমান বিজ্ঞাপনময় পৃথিবীতে প্রায় প্রতিটা গ্রাহকে আকৃষ্ট করার মতো সুন্দর সুন্দর বিজ্ঞাপন তৈরি করছেন তাই প্রতিটি বিজ্ঞাপন এজেন্সি। তাই আপনিও যখন বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনাকেও ক্রিয়েটিভ হতে হবে এবং ক্রিয়েটিভ মানুষদের নিয়ে কাজ করাতে হবে।

বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা সর্বদা থেকেই যাবে। কারণ যতদিন পর্যন্ত উৎপাদন হবে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার জন্য বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন পড়বে। তাই বিজ্ঞাপন এজেন্সি গুলি রমরমিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও করবে। আপনার কাছে সুবর্ণ সুযোগ এখন অনলাইন ইন্টারনেটের যুগে আপনি খুব সহজেই বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করতে পারবেন। যে পদ্ধতিতে আপনি ব্যবসা করলে সফল একজন ব্যবসায়ী হতে পারবেন তা সম্পর্কিত সকল তথ্য এখানে দেওয়া হলো।

Table of Contents

কিভাবে বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা শুরু করা যায়? (How to start an advertising agency business?)

আপনি যদি আগে কোন বিজ্ঞাপন এজেন্সির তে কাজ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি খুব ভালোভাবে জানবেন কি পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়। আর আপনি যদি কাজ নাও করে থাকেন বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে আপনি খুব সহজেই সকল তথ্য পেয়ে যাবেন একটা বিজ্ঞাপন এজেন্সী কি পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন তৈরি করে এবং তা মার্কেটে সেল করে। এই আধুনিকতার যুগে প্রতিটা কোম্পানি তার ছোট থেকে বড় সকল প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এজেন্সির শরণাপন্ন হয়।

আর প্রতিটা বিজ্ঞাপন এজেন্সি বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন অনুযায়ী বিভিন্ন রকম টাকা চার্জ করে। যদিও বর্তমান বিজ্ঞাপন এজেন্সি ব্যবসার এক কম্পিটিশন মার্কেট চলছে, তবুও আপনি যদি অন্য বাকি ব্যবসায়ীদের থেকে অল্প টাকা চার্জ করেন প্রতি বিজ্ঞাপনে এবং আপনার প্রতি বিজ্ঞাপন যদি ক্রিয়েটিভ হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি এই ব্যবসার লাইনে অনেক এগিয়ে যাবেন বাকি ব্যবসায়ীদের থেকে। বিজ্ঞাপন তৈরি করা যেমন খুবই সহজ তেমন একটি বিজ্ঞাপন বিক্রি করাও খুবই সহজ।

Advertising agency
বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা

বিজ্ঞাপন সংস্থা তৈরি করতে কত টাকা লাগে?

সাধারণত আপনি যখন বিজ্ঞাপন সংস্থার ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনার ব্যবসার জন্য আপনাকে কয়েকটি জিনিস অবশ্যই কিনতে হবে এবং তার জন্য আপনাকে ন্যূনতম কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। যেকোনো ব্যবসায় সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম কিনতে হয়, তাই আপনার বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করার ক্ষেত্রেও আপনাকে ব্যবসার প্রয়োজনে কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। বর্তমানে আপনি যদি ছোট একটি বিজ্ঞাপন এজেন্সি শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনীয় কম্পিউটার, অফিস, প্রিন্টার এবং এজেন্সির ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম 1 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

ছোট করে ব্যবসা করতে গেলেও আপনার 1 লক্ষ টাকার কমে ব্যবসা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আর আপনি যদি একটি বড় অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি শুরু করেন তাহলে কমপক্ষে 10 লক্ষ টাকা থেকে 20 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। বড় বিজ্ঞাপন সংস্থা গুলিতে একাধিক কম্পিউটার, ডিজাইনার এবং একাধিক কর্মচারী থাকার কারণে বেশি টাকা বিনিয়োগ করার প্রয়োজন পড়ে।

বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করতে কি কি জিনিসের প্রয়োজন?

একটি বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করতে যে সকল জিনিসের প্রয়োজন পড়ে তা হল-

  • গ্রাহকের সাথে দেখা করার জন্য একটি ভালো অফিস।
  • কাজ করার জন্য ভালো কম্পিউটার
  • বিজ্ঞাপন ছাপানোর জন্য প্রিন্টার
  • কম্পিউটারে কাজ করার ইন্টারনেট
  • আপনার কোম্পানির একটি ওয়েবসাইট
  • একাধিক ক্রিয়েটিভ কর্মচারী

এডভেটাইজিং এজেন্সির অফিস তৈরি করুন।

আপনি যখন অ্যাডভাটাইজিং এজেন্সির ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনার ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য একটি অফিস নির্মাণ করতে হবে। বিভিন্ন কোম্পানি আপনার সাথে দেখা করার জন্য বা আপনার কোম্পানিতে অর্ডার দেওয়ার জন্য যখন আসবে তখন ভালো অফিস থাকা আপনার ব্যবসার জন্য ভালো হবে। ফলে এমন একটি জায়গায় আপনাকে অফিস নির্মাণ করতে হবে যা রাস্তার ধারে হতে হবে এবং জনবহুল এলাকার মধ্যে হতে হবে। জনবহুল এলাকার মধ্যে অফিস হলে অনেক মানুষের মুখে মুখে আপনার অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির বিজ্ঞাপন হয়ে যাবে।

আবার পথ চলতি অনেক মানুষ অফিস দেখে তাদের কোম্পানিতে বলে তাদের কোম্পানির অর্ডার সব আপনার কোম্পানির কাছ থেকে করাবে। তবে ব্যবসার শুরুতে যদি আপনার অফিস তৈরি করার ক্ষেত্রে টাকা সমস্যা হয়, তাহলে আপনি একটি ঘর ভাড়া নিয়ে অফিস তৈরি করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করার ক্ষেত্রে একটি অফিস থাকা বাধ্যতামূলক।

অবশ্যই পড়ুন- মুড়ি ভাজার ব্যবসা করে প্রতিদিন 3000 টাকা

কিভাবে বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে কাজ হয়?

বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে জানতে হবে কি পদ্ধতিতে প্রতিটি বিজ্ঞাপন এজেন্সি কাজ করে থাকে। বর্তমানে প্রতিটি বিজ্ঞাপন এজেন্সি অফলাইনে অর্ডার নেওয়ার সাথে সাথে অনলাইনেও অর্ডার নিয়ে কাজ করেন। এজেন্সিতে আসা প্রতিটি গ্রাহক কোনো না কোনো পণ্য বা কোনো না কোনো সংস্থানের বিজ্ঞাপনের জন্য আসেন। বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে আসার পরে তাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী তারা কিছু জিনিস বিজ্ঞাপনে এজেন্সি কে জানাই। আর প্রতিটি বিজ্ঞাপন এজেন্সি গ্রাহকের বর্ণিত প্রোডাক্ট বা সংস্থা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন তৈরি করে। মনে রাখবেন প্রতিটা বিজ্ঞাপন যেন আলাদা আলাদা ধরনের হয়ে থাকে।

যে প্রোডাক্ট কে নিয়ে বিজ্ঞাপন বানাবেন সেই প্রোডাক্টের ঝলক যেন আপনার বিজ্ঞাপনের লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনারের পাশাপাশি একাধিক ক্রিয়েটিভ মানুষজনদের কর্মচারী হিসেবে ব্যবসায় নিয়োগ করান। বিভিন্ন ডিজাইনারের কাজ হয় গ্রাহকের বর্ণিত প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনের নিত্যনতুন ডিজাইন তৈরি করা। এই বিজ্ঞাপনগুলি ফ্লেক্স আকারে গ্রাহক চাইতে পারে আবার পোস্টার আকারে কিংবা ভিডিও আকারে গ্রাহককে বিক্রি করতে পারেন। গ্রাহক যেমনভাবে চাইবে তার বিজ্ঞাপন তেমনভাবেই তৈরি করে দেওয়া একটি বিজ্ঞাপন এজেন্সির কাজ। বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ মানুষজনদের আলাদা আলাদা করে বসার জায়গা এবং আলাদা কম্পিউটারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে ফটোগ্রাফারের ও প্রয়োজন পড়ে।

যেমন বিভিন্ন ক্রিয়াটার অ্যাডভার্টাইজমেন্ট তৈরি করেন তেমনি ফটোগ্রাফারদের কাজ গ্রাহকের বর্ণিত প্রোডাক্ট ও সংস্থার একাধিক ছবি ও ভিডিওগ্রাফি করা। যদি গ্রাহক চাই ভিডিওর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে তাহলে ভিডিও এডিট করার জন্য আপনাকে একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। আমরা যে সকল বিজ্ঞাপন টিভিতে দেখি বা ফোনে দেখি, সেই ধরনের বিজ্ঞাপন তৈরি করার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়েটিভ ডিজাইনারের প্রয়োজন পড়ে। আপনি যদি ছোট করে একক ভাবে একটি অ্যাড এজেন্সির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনাকে ডিজাইন করার অভিজ্ঞতা এবং ভিডিওগ্রাফি তৈরি করার অভিজ্ঞতা আগে থেকেই থাকতে হবে। আর আপনার যদি বিভিন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইনের এবং ভিডিও এডিট এর পাশাপাশি আরও কিছু দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি একজন সফল ভাবে বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসায়ী হতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন সংস্থা কি কি কাজ করে

আপনি যদি বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এটাও জানতে হবে যে একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা কি কি কাজ করে। বর্তমানে ছোট বড় সকল বিজ্ঞাপন সংস্থা ব্যানার তৈরি,পোস্টার ডিজাইন, ও বিভিন্ন লিফলেট মুদ্রণের পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ছবি তোলা এবং ভিডিও আকারে বিজ্ঞাপন তৈরি করার কাজ করে। এর পাশাপাশি একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা একটা প্রোডাক্ট কাস্টমার কে বিক্রি করার জন্য যাবতীয় ক্রিয়া কলা বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করে। বিজ্ঞাপন সংস্থায় যে সকল কাজ হয়ে থাকে তা হল-

  • নতুনত্ব বিজ্ঞাপন তৈরি করা যা আগে কখনো কোন মানুষ দেখেনি।
  • পুরনো আমলের পোস্টার ডিজাইনের পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে আকর্ষণীয় পোস্টার তৈরি করা।
  • ছোট বড় বিভিন্ন আকারে নিত্যনতুন ডিজাইনের ব্যানার তৈরি করা।
  • বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট আধুনিকতার মোড়কে ক্রিয়েটিভ ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবি তুলে বিজ্ঞাপনের জন্য প্রস্তুত করা।
  • বিভিন্ন প্রোডাক্ট কে নিয়ে একাধিক ক্রিয়েটিভ আর্টিস্টকে দিয়ে অভিনয় করিয়ে বিজ্ঞাপনের রূপ দেওয়া।
  • ক্রিয়েটিভ সেলিব্রেটিদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন তৈরি করা।
  • বিভিন্ন বয়সের গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে আলাদা আলাদা আধুনিকতার বিজ্ঞাপন তৈরি করা।
  • যে সকল মানুষ বিজ্ঞাপনের অর্থ বুঝতে পারেনা তাদের জন্য ক্রিয়েটিভ পরিচালকরা বোঝার মত সহজলভ্য বিশ্বাসযোগ্য বিজ্ঞাপন তৈরি করেন।

আরো পড়ুন- সেলোটেপ তৈরীর ব্যবসায় এখন প্রচুর টাকা ইনকাম

অ্যাড এজেন্সির কাজের ধরন

বিভিন্ন অ্যাড এজেন্সি বিভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে থাকলেও তাদের মধ্য সামঞ্জস্যতা সর্বদাই লক্ষ্য করা যায়। আপনি যখন বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে খেয়াল করতে হবে বাকি বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি কি পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। যে কোন ব্যবসা করার আগে আপনার কি এমন মার্কেট রিসার্চ করতে হয় তেমনি আপনার ব্যবসা করার ক্ষেত্রেও আগে এই ধরনের ছোট ছোট জিনিস লক্ষ্য করতে হবে। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে অ্যাড এজেন্সি গুলি কাজ করে তা হল-

  • সাধারণ বিজ্ঞাপন পরিষেবা: বিভিন্ন গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী চাহিদা বুঝে কাস্টমারকে খুশি করার জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়।
  • বহিরঙ্গন বিজ্ঞাপন: বহিরঙ্গন বিজ্ঞাপন বলতে যে সকল বিজ্ঞাপনগুলি রাস্তার ধারে, ব্রিজের উপরে বা ক্যারেজোয়ের ওপরের ব্যানার হিসেবে তৈরি হয়। এছাড়া বাড়ির দেওয়ালের ও পাশাপাশি ছাদ বারান্দার সাইনবোর্ড এর অন্তর্ভুক্ত।
  • পলিগ্রাফি: পলিগ্রাফি বিজ্ঞাপন মূলত লিফলেট, কোম্পানির লোগো, মূল্য ট্যাগ, বিভিন্ন ধরনের পোস্টার মেনু, খাদ্য তালিকা এই ধরনের জিনিসগুলিকে বলা হয়।
  • মিডিয়া প্রচার: বিভিন্ন পত্রপত্রিকার বিজ্ঞাপন, রেডিও ও সংবাদ মাধ্যমের বিজ্ঞাপন মিডিয়া প্রচারের অন্তর্ভুক্ত।
  • ইন্টারনেট বিজ্ঞাপন: সাধারণত ইন্টারনেট বিজ্ঞাপন বলতে যে বিজ্ঞাপনগুলি আমরা ফোনে বা কম্পিউটারে দেখে থাকি যা ইউটিউব ভিডিও দেখতে দেখতে আসে কিংবা কোন কিছু ব্লক পড়ার ক্ষেত্রে ওপরেও নিচে দেখা যায় তা ইন্টারনেট বিজ্ঞাপন হিসেবে পরিচিত।
  • পরোক্ষ বিজ্ঞাপন: পরোক্ষ বিজ্ঞাপন বলতে বিভিন্ন চিত্র ও ডিজাইনের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করাকে বোঝায়, এই বিজ্ঞাপনগুলি মূলত টি শার্ট, কফি মগ বা পেন এই জাতীয় জিনিসের উপর ডিজাইনের ওপরে করা হয়। আবার ব্যবসায়িক কার্ড, নোটবুক, ডাইরির ওপরেও তৈরি করা হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন সংস্থার ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স এর প্রয়োজন?

আপনি যখন একটি বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা শুরু করবেন তখন ব্যবসার শুরুতেই আপনাকে কয়েকটা লাইসেন্স বা অনুমোদন পত্র নিতে হবে। যখন আপনি ছোট করে এককভাবে বিজ্ঞাপন সংস্থার ব্যবসা শুরু করবেন তখন আইনি জটিলতার সম্মুখীন আপনি হবেন না। তবে ব্যবসা যত বড় হতে থাকবে তত বিভিন্ন আইনি জটিলতা আপনার ব্যবসার দিকে এগিয়ে আসবে। তাই সব আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করতে যেসব লাইসেন্স অবশ্যই আপনার প্রয়োজন তা হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • জি এস টি নাম্বার
  • কারেন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
  • LLC লাইসেন্স
  • IP রেজিস্ট্রেশন
Advertising agency business
Advertising agency

বিজ্ঞাপন এজেন্সি কিভাবে অর্থ উপার্জন করে?

বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে আসা প্রতিটা গ্রাহক তাদের পণ্য কিংবা সংস্থার বিজ্ঞাপনের জন্য এসে থাকে। প্রতিটা গ্রাহকের সাথে বিজ্ঞাপন এজেন্সি একটি চুক্তি তৈরি করেন। এই চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই কোম্পানির সকল বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন এজেন্সি করতে পারে। এবং প্রতিটি গ্রাহকের প্রত্যেক বিজ্ঞাপনের পরিমাণ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয় এবং এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন এজেন্সি অর্থ উপার্জন করে। মনে রাখবেন বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনার কাছে আসার গ্রাহকের সাথে একটি চুক্তিপত্র তৈরি করে নেবেন।

কারন চুক্তিপত্র তৈরি করা থাকলে গ্রাহক না চাওয়া সত্ত্বেও আপনারকে দিয়েই সকল বিজ্ঞাপন তৈরি করতে হবে। কারণ হতেই পারে কোন বিজ্ঞাপন তৈরির পরে গ্রাহকের অপছন্দ হয়, সে অন্য কোন এজেন্সিতে চলে যায় আর আপনার কাজের টাকা না দিয়ে। তাই সঠিকভাবে উপার্জন করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে গ্রাহকের সাথে একটি চুক্তিপত্র তৈরি করতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সফল হওয়ার চাবিকাঠি

বিজ্ঞাপন সংস্থায় কিভাবে চাকরি পাওয়া যায়?

বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থা কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিভিন্ন ধরনের নিয়ম লাঘূ করে। তবে আপনি যদি ক্রিয়েটিভ হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য বিজ্ঞাপন সংস্থার কাজ নিশ্চিত। যদিও বর্তমানে শুধু ক্রিয়েটিভিটি থাকলে হয় না, ক্রিয়েটিভিটির বহির প্রকাশ করা জানতে হয়। আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন ভালোভাবে জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপন সংস্থায় চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন।আপনি যদি ভিডিও এডিট বা VFX এর কাজ জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি এখনই আবেদন করুন বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলিতে। বর্তমানে প্রতিটি বিজ্ঞাপন সংস্থা ভিডিও এডিট করার জন্য একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করছে। এছাড়াও ভালো ক্যামেরাম্যান নিয়োগ করা হয় বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলিতে।

বাংলাদেশ শীর্ষ 10 বিজ্ঞাপন সংস্থা ( Top 10 Bangladesh Advertising Agency)

  1. NBY IT  SOLUTION
  2. Grey AD
  3. TABWA
  4. Ogilvy Noor
  5. Brand Vent
  6. Expressions
  7. Spellbound
  8. ZANALA Bangladesh
  9. McCann Ad Agency
  10. Maxima Ad Agency

বিজ্ঞাপন সংস্থার মার্কেটিং কিভাবে করা হয়?

আপনি যদি একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা খোলেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আপনার বিজ্ঞাপন সংস্থার উন্নতির জন্য এবং বেশি গ্রাহক ও বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য আপনাকেও বিজ্ঞাপন দিতে হবে। শুনে একটু অবাক লাগলেও বিজ্ঞাপন সংস্থাকেও নিজের বিজ্ঞাপনের জন্য বিজ্ঞাপন দিতে হয়। যেকোনো ব্যবসার বৃদ্ধি এবং লাভের পেছনে বিজ্ঞাপনের ভূমিকা অনেক থাকে তাই আপনিও বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসার জন্য যে পদ্ধতিতে মার্কেটিং করলে উন্নতি করতে পারবেন তা হল-

  • যে এলাকায় বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা শুরু করছেন সেই এলাকার আশেপাশে ভিন্ন জনবহুল রাস্তার মোড় গুলিতে বড় বড় ব্যানার দিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • রাস্তার ধারে বীজের প্রতিটা পিলারে আপনার কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • প্রতিটি উৎপাদক কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে মেইল আইডি নিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করে সংযোগ স্থাপন করে অর্ডার নিতে পারেন।
  • ইউটিউব,ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এ পেজ তৈরি করে এখানে বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট করে ফলোয়ার বাড়িয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • ইউটিউব, ফেসবুক ও instagram এ অল্প টাকায় ইন্টারনেটের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইটের মধ্যে আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম যেমন ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ক্রেতাদের সাথে কথা বলে আকৃষ্ট করে, আপনার এজেন্সির মধ্য দিয়ে তাদের বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসায় লাভ কত?

যেকোনো ব্যবসা করতে গেলে আমাদের সবচেয়ে প্রথমে যেমন ব্যবসার বিনিয়োগের কথা মনে পড়ে, তেমন ব্যবসা থেকে লাভের কথাও আমাদের তারপরেই মনে পড়ে। বিজ্ঞাপন সংস্থার ব্যবসাতে বিনিয়োগ যেমন অল্প থাকে তেমন ব্যবসাতে লাভ হয় অফুরন্ত। বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন অনুযায়ী আপনি মূল্য নিতে পারেন। আপনি যদি এককভাবে বিজ্ঞাপন সংস্থার ব্যবসা করেন তাহলে আপনি প্রতিমাসে 2 থেকে 3 লক্ষ টাকা ভালোভাবে আয় করতে পারবেন।

আর আপনি যদি একটি বিজ্ঞাপন এজেন্সি তৈরি করেন সেক্ষেত্রে আপনার বড় কোম্পানি হলে আর বেশি বেশি অর্ডার পেয়ে কাজ করলে প্রতি মাসে 10 লক্ষ টাকা থেকে 50 লক্ষ টাকাও ইনকাম করা সম্ভব। বর্তমানের ছোট বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি প্রতি মাসে 10 লক্ষ টাকা থেকে 20 লক্ষ টাকা আয় করে। আর খুব বড় বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি প্রতি মাসে 5 কোটি থেকে 10 কোটি টাকা আয় করে থাকে

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 1 লাখ টাকা দিয়ে ছোট করে ব্যবসা করা যায় আবার 10 থেকে 20 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে বড় করে ব্যবসা করা যায়।

এডভার্টাইজিং এজেন্সি কোথায় করা যায়?

উত্তর: যেকোনো শহরাঞ্চলে বা মূল শহরে এডভাটাইজিং এজেন্সি খোলা যায়।

অ্যাড এজেন্সির অফিস করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: 10/10 ফুটের জাগায় সুন্দর ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা অফিস করা যায়।

এডভার্টাইজিং এজেন্সির জন্ম কোথায়?

উত্তর: লন্ডনে, ১৭৮৬ সালে অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির জন্ম হয়।

প্রথম ভারতীয় এডভার্টাইজিং এজেন্সির নাম কি?

উত্তর: দ্য ন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং সার্ভিস”।

বিজ্ঞাপন এজেন্সির ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: প্রতিমাসে 10 লক্ষ টাকা থেকে 50 লক্ষ টাকা আয়।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

স্ক্রাবার তৈরির ব্যবসা

চায়ের কোনের ব্যবসা

Leave a Comment