বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করুন | Fish farming by biofloc system, no 1 idea see now

বর্তমান সময়ে অল্প খরচ করে বেশি লাভের মাছ চাষ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হবে। এই আধুনিকতার যুগে আমরা হয়তো অনেকেই জানি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ আমাদের দেশে অনেক বেশি পরিমাণে এখন হচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি সঠিকভাবে বায়োফ্লক পদ্ধতি সম্পর্কে না জানেন তাহলে আপনি মাছ চাষ করে খুব বেশি লাভবান হতে পারবেন না। তাই আপনাদের জন্য বায়োফ্লক পদ্ধতি নিয়ে যাবতীয় তথ্য এখানে দেওয়া হল।বায়োফ্লক প্রযুক্তি

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ কেন করা হয়? (Why Biofloc Fish Farming?)

আমরা সবাই জানি মাছ সাধারণত পুকুরে চাষ করা হয়ে থাকে কিন্তু এটাও আমরা জানি যে পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য বড় পুকুরের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও নদীতে, খালে, বিলে আবার ট্যাংকে মাছ চাষ করা হচ্ছে।

Biofloc Technology Fish Farming
বায়োফ্লক প্রযুক্তি মাছ চাষ

পুকুরে মাছ চাষ:

পুকুরে মাছ চাষের জন্য একাধিক লোকের প্রয়োজন হয়। কারণ পুকুরে মাছ চাষ করলে মাছের দেখাশোনা করা এবং সমগ্র মাছ চাষটি করার জন্য একাধিক লোকের অবশ্যই প্রয়োজন পড়ে।এছাড়া পুকুরে মাছ চাষ করতে গেলে খরচ অনেকটা বেশি হয়, কারণ আপনার যদি নিজস্ব পুকুর না থাকে তাহলে আপনাকে পুকুর লিসেন নিতে হয় এবং তার জন্য একটা ভালো অংকের টাকা আপনাকে বিনিয়োগ করতে হয়। এরপর মাছ চাষ করতে গেলে মাছের খাবার থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য খরচ হিসেবে আপনাকে ভালো টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তাই উপরে মাছ চাষ করাটা অনেকটা ব্যয়বহুল আবার এই পুকুরে মাছ চাষ করলে খাবারের অপচয় হয়। অর্থাৎ আপনি মাছের জন্য যে খাবার দিচ্ছেন তা বেশিরভাগটাই নষ্ট হয়।

অবশ্যই পড়ুন- কোচিং সেন্টার খুলে প্রতি মাসে 50 হাজার টাকা আয়

নদীতে ও খালে মাছ চাষ:

বর্তমানে অনেক জায়গায় নদী এবং খালেতে খাচায় মাছ চাষ করছে অনেক মানুষ। যেহেতু নদী ও খালে প্রাকৃতিক জলবায়ু পাচ্ছে প্রতিটি মাছ তাই এখানে অ্যামোনিয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা যায় না। কিন্তু সবার পক্ষে নদী ও খালে মাছ চাষ করা সম্ভবও নয়, কারণ নদী ও খালের কাছাকাছি থাকা মানুষেরাই একমাত্র নদী ও খালে মাছ চাষ করতে পারে। কারোর বাড়ি যদি দূরে অবস্থিত হয় তাহলে তারা সেই জায়গা থেকে নদী ও খালের মাছ চাষ করে তাদের দেখভাল করতে অনেক সমস্যা হবে।

RAS পদ্ধতিতে মাছ চাষ:

RAS পদ্ধতিতে মাছ চাষ খুবই লাভজনক হয়ে থাকে। RAS পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গেলে আপনাকে সর্বপ্রথম একটি ইটের চৌবাছা বা বড় খাঁচা বানাতে হবে। তারপর তাতে বিভিন্ন জল নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি করে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মাছের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই কারণে RAS পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে বেশি ফলন পাওয়া যায় এবং বেশি লাভ হয়। কিন্তু ট্যাংকে আরএস পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ চাষ করতে গেলে আপনাকে খরচ করতে হবে অনেক বেশি। এর মেন্টেনেন্স খরচ অনেক বেশি হয়ে যায় তাই সবার পক্ষে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা সম্ভব হয় না।

যেহেতু বাকি সমস্ত পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে বেশি খরচ হয়, তাই সবাই বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার দিকে বেশি করে ঝুকছেন। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করেই করা যায় আবার প্রতি চার মাস অন্তর মাছ বিক্রি করে আপনি প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ভারত বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে এখন বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ওপর নতুন প্রজন্মের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আপনিও যদি সঠিকভাবে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করেন তাহলে আপনিও অন্য ব্যবসায়ীদের মতো ভালো টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

বায়োফ্লক প্রযুক্তি মাছ চাষ করতে কত টাকা খরচ? (How much does biofloc fish farming cost?)

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে অনেক অল্প টাকা বিনিয়োগ করলেই করা যায়। ব্যবসার শুরুতে আপনি একটা মাত্র ট্যাংক কিনে মাছ চাষ করতে পারেন। একটি টারপোলিন ট্যাঙ্ক কিনতে আপনার খরচ হবে 20 থেকে 25 হাজার টাকা। এছাড়া বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য প্রয়োজনীয় আরো কিছু সামগ্রী কিনতে আপনার খরচ হবে সর্বোচ্চ 15 হাজার টাকা। অর্থাৎ বলা যেতে পারে একটি ট্যাংক করতে আপনার খরচ হবে 40 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকার মতো। আপনি যখন বায়োফ্লক পদ্ধতিতে কাজ শুরু করবেন তখন একটি ট্যাংক দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীকালে আপনি আরও ট্রাঙ্ক বাড়িয়ে আপনার ব্যবসাকে বড় করে তুলতে পারেন।

টারপোলিন ট্যাঙ্ক কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

তারপোলিং ট্যাঙ্ক কিনতে হলে আপনাকে আসতে হবে কলকাতার বড় বাজারে অথবা আপনি পেয়ে যাবেন ইন্ডিয়া মার্ট ওয়েবসাইট থেকে। আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন তাহলে আপনাকে আসতে হবে ঢাকার কাঁটাবনে এইখান থেকে আপনি পেয়ে যাবেন খুবই অল্প দামে তারপরিন ট্যাংক। তবে বাংলাদেশে যদি বড় প্রজেক্ট তৈরি করেন আপনি তাহলে কাঁটাবন থেকে সমগ্র জিনিস পাবেন না এক্ষেত্রে আপনাকে কলকাতা থেকে সব জিনিস অর্ডার দিয়ে আমদানি করতে হবে।

কিভাবে বায়োফ্লক ট্যাঙ্ক বসাবেন?

বায়োফ্লক ট্যাঙ্ক সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে একটা তারপোলিং ট্যাংক আরেকটি সিমেন্টের ট্যাংক। সিমেন্টের ট্যাংক বসানো টা খুবই সহজ কারণ সিমেন্টের ট্যাংকে ইট দিয়ে গেঁথে বড় চৌবাচ্চা বানালেই হয়ে যায়। আর এই চৌবাচ্ছার জল নিকাশি ব্যবস্থা একটু ভালো করতে হবে এবং অক্সিজেন দেওয়ার মতো আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর আপনি যদি টারপলিন কিনে মাছ চাষ শুরু করেন সেক্ষেত্রে এই ট্যাংকের ভেতরে পাইপ লাগানোর জন্য আলাদা জায়গা করা থাকে তার দ্বারাই আপনি মাছ চাষ করতে পারবেন।

আবার আপনি বেশি সুরক্ষা পাওয়ার জন্য তারের একটি বেল্ট বানিয়ে নিতে পারেন তার ভেতরে বায়োফ্লক ট্যাংক বসিয়ে জল নিকাশি ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন পাইপ ও এয়ার পাম্প লাগিয়ে ভালোভাবে সুন্দর একটি ট্যাঙ্ক তৈরি করতে পারেন। এই সম্পর্কে আরো জানতে আপনি ইউটিউব দেখতে পারেন।

কিভাবে মাছের যত্ন নেওয়া যায়?

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গেলে আপনাকে মাছের যত্ন নেওয়া শিখতে হবে। যদিও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছের যত্ন নেওয়া খুবই সহজ ব্যাপার যা আপনি অল্প দিনের মধ্য প্রশিক্ষণ নিয়ে শিখতে পারেন।

  • একটি ট্যাংকে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ এর মাছ চাষ করার পর সেই মাছ গুলির উপর আপনাকে প্রতিদিন লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • মাছের গায়ে কোন ঘা হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে।
  • জলের পি এইচ লেভেল সব সময় ঠিক আছে কিনা তা দেখতে হবে। যদি PH লেভেল কম বা বেশি হয়ে যায় তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • জলে এমোনিয়ার মাত্রা বেড়ে গেলেই আপনাকে প্রোবায়োটিক দিয়ে জলের পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • সময়মতো আজকে নির্দিষ্ট পরিমাণের খাবার দিতে হবে।
  • সময় মত জল চেঞ্জ করতে হবে এবং ট্যাংক পরিষ্কার করতে হবে।

আরো পড়ুন- ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির ব্যবসা

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ট্রেনিং কোথায় দেওয়া হয়?

আপনি যদি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ট্রেনিং নিতে হবে। কারণ ট্রেনিং ছাড়া আপনি যদি মাছ চাষ শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনার বায়োফ্লক ট্যাংকে প্রচুর পরিমাণে মাছ মরবে এবং আপনার ব্যবসায় লসের সম্ভাবনা থাকবে। তাই বেশি মাছ বাঁচাতে হলে এবং সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গেলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে যে সকল মাছের ব্যবসায়ী আপনার এলাকায় আগে থেকে মাছ চাষ করছে তাদের কাছ থেকে সাময়িক ট্রেনিং নিতে পারেন। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ট্রেনিং দিয়ে থাকে তাদের কাছ থেকে আপনি ট্রেনিং নিতে পারেন।

এই ট্রেনিং নেওয়ার জন্য আপনি আপনার নিকটবর্তী বিডিও অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন, এবং বায়োফ্লক পদ্ধতিতে কোথায় মাছ চাষ হচ্ছে সেটা বিডিও থেকে জেনে সেখান থেকে নিজের উদ্যোগে ট্রেনিং নিতে পারেন। বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান যারা বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ট্রেনিং দিয়ে থাকে আপনি চাইলে ইন্টারনেটে একটু সার্চ করে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে ট্রেনিং নিতে পারেন। আপনি যদি ট্রেনিং নিয়ে তারপর মাছ চাষ শুরু করেন তাহলে আপনি যেটা শিখবেন জলের পিএইচ মাপা, মাছের খাবার দেওয়ার টাইম, মাছের যত্ন নেওয়া, এবং মাছ চাষ সম্পর্কিত আরো অনেক তথ্য।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ

সাধারণত বায়োফ্লক এর সর্বদাই এয়ার পাম্পের প্রয়োজন পড়ে কারণ যেহেতু একটি ট্যাংকে প্রচুর মাছ থাকে তাই অক্সিজেনের সমস্যার সর্বদা হয়। আর অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য আপনাকে সবসময়ই অক্সিজেন জলে পৌঁছানোর জন্য এয়ারপাম্প চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও একটি ট্যাংক এর জন্য আপনাকে বেশ কয়েক রকম জিনিস কিনতে হয়, এবং সেগুলি হল-

  • এয়ার পাম্প
  • এয়ার স্টর্ম
  • প্লাস্টিক পাইপ
  • TDS
  • PH মিটার
  • টেস্ট কিট
  • অ্যামোনিয়া
  • মাছের খাবার
Fish farming by biofloc system
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জলের গুনাগুন কেমন হবে?

ভাইয়ের শপ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গেলে জলের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হয় সবাইকে। কারণ একটি ট্যাংকের মধ্যে অল্প জলে প্রচুর মাছ থাকার কারণে জলের মধ্যে সারাক্ষণ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা আসতে থাকে। কখনো জলে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যায় আবার কখনো জলের ক্ষারের পরিমাণ কমে যায়, আবার জল নোংরা হয়ে যায়। তাই সব সময় জল ঠিক রাখার জন্য যে জিনিসগুলি জানতে হবে আপনাকে তা হল জল ঠিক রাখার উপায়-

  • জলের তাপমাত্রা 25° থেকে 30°মধ্য সর্বদা থাকতে হবে।
  • জলের রং যেন সব সময় হালকা সবুজ, বাদামী, ডিপ সবুজের মধ্যে থাকে।
  • জলের দধিভূত অক্সিজেনের পরিমাণ যেন সবসময় 7-8 mg/l হয়।
  • PH লেভেল যেনো 7.5 থেকে 8.5 মধ্যে থাকে।
  • ক্ষারত্বের পরিমাণ যেন 50 থেকে 120 mg/l এর মধ্যে থাকে।

অবশ্যই পড়ুন- মাছের আঁশের ব্যবসা করে হয়ে যান কোটিপতি

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে কি কি লাইসেন্স নিতে হয়?

আপনি যদি একটি ছোট আকারের বায়োফ্লক ব্যাংক তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে আলাদা কোন লাইসেন্স নিতে হবে না। আবার আপনি যদি গ্রামাঞ্চলের দিকে ছোট আকারের বা বড় আকারের মাছ চাষেও হয়ে থাকেন তাহলেও আপনাকে আলাদা করে লাইসেন্স নিতে হবে না। তবে আপনি যদি আপনার ব্যবসাটি বড় আকারের শুরু করতে চান এবং নিজে উদ্যোগে ট্রেনিং দেওয়া থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাছ রপ্তানি করা শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে একাধিক লাইসেন্স নিতে হবে।

প্রথমেই আপনাকে আপনার এলাকার ব্যবসা করার জন্য একটি ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এরপর আপনার ব্যবসায়ী যখন আপনি প্রতিমাসে 3-4 লক্ষ টাকা আয় করা শুরু করবেন তখন আপনাকে জিএসটি নাম্বার নিতে হবে। এছাড়াও আপনার শহরে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য সরকারি যদি কোন অনুমোদনপত্রের প্রয়োজন পড়ে তা নিতে হবে।

1 টা ট্যাংক থেকে কত টাকা আয় করা যায়?

বাওফল্ক পদ্ধতিতে মাছ চাষের শুরুটা আপনি যদি একটা ট্যাংক থেকেই শুরু করেন তাহলে আশা রাখা যায় আপনি ভবিষ্যতে এই রকম আরও দশটি ট্যাংক খুব সহজেই বানিয়ে ফেলবেন। আসলে একটি ট্যাংক থেকে অনেক টাকা আপনি উপার্জন করতে পারেন মাত্র কয়েকটি মাসের মধ্যে।


ধরা যাক আপনি 12000 কই পোনা ট্যাংকে ছেড়েছেন, শেষে দেখা যাবে 15% থেকে 20% কই পোনা মারা গেলেও 10 হাজার বড় কই মাছে পরিণত হবে।
চার মাস পর এক একটি কই মাছের ওজন হবে 150 থেকে 200 গ্রাম।
অর্থাৎ 10 হাজার কই মাছের ওজন হবে 10×150= 1500 কেজি।
ওই সময় যদি মাছের সর্ব কম দাম 100 টাকায়ও বিক্রি করেন তাহলেও আপনি 1 লক্ষ 50 হাজার টাকায় মাছ বিক্রি করতে পারছেন। এখানে আপনার লাভ হবে মোট বিনিয়োগের 50% থেকে 60%। অর্থাৎ বলা যেতে পারে চার মাসের মধ্যে আপনি লাভ করবেন কমপক্ষে 80 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা একটি মাত্র মাছের ট্যাঙ্ক থেকে।

এইরকম আপনি যদি 10 টি ট্যাংক বানাতে পারেন তাহলে আপনি প্রতি চার মাস ছাড়া 5 থেকে ছয় 6 টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বছরে যদি আপনি তিনবার মাছ চাষ করেন তাহলে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করবেন, তবে ও বছরের 2 বার মাছ চাষ করলেই আপনি প্রতিবারে 5-6 লাখ টাকা করে ইনকাম করতে পারবেন।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের সর্তকতা:

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা যেমন খুবই সহজ কাজ তেমন একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে আপনি অনেক ভাল ফল পাবেন। আর আপনি যদি সতর্কতা না মেনে অবুঝের মত মাছ চাষ করেন তাহলে আপনি অনেক টাকার ক্ষতির ও সম্মুখীন হতে পারেন। তাই আপনাকে যে জিনিসগুলি মাথায় রাখতে হবে তা হল-

  • জলের অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলেই প্রোবায়োটিক দিয়ে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ কন্ট্রোল করতে হবে।
  • পিএইচ লেভেল বেড়ে গেলেই তা অন্য কিছু ঔষধ ব্যবহার করে পিএইচ লেভেল কমাতে হবে।
  • মাছের গায়ে ঘা হলে তৎক্ষণাৎ তার যত্ন নিয়ে সারিয়ে তুলতে হবে বা ওই মাছটিকে আলাদা করতে হবে।
  • জলের উষ্ণতা সব সময় ঠিক আছে কিনা তা দেখতে হবে।
  • জলের অক্সিজেনের জন্য লাগানো পাম্প যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায় তা দ্রুত চালানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ইলেকট্রিক চলে গেলে যাতে কৃত্রিম অন্য কোন উপায়ে ইলেকট্রিকের দ্বারা পাম্প চালিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা সর্বদা ঠিক রাখা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • একটু পরিশ্রম করে মাছেদের যত্ন নিলেই চার মাসের মধ্যে অনেক টাকা উপার্জন আপনি করতে পারবেন

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

পারফিউম তৈরির ব্যবসা

মপ তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment