বায়িং হাউজ কি?, কিভাবে গার্মেন্টস বায়িং হাউসের ব্যবসা করা যায়? | How to do Garment Buying House business?( No 1 Right Now )

গার্মেন্টস বায়িং হাউসের ব্যবসা করার স্বপ্ন অনেক মানুষ দেখেন। কিন্তু সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে আমরা অনেকেই ব্যবসা করতে পারিনা। তাই আপনি যদি গার্মেন্টস বায়িং হাউসের ব্যবসা করবেন বলে ভাবেন তাহলে সঠিক জ্ঞান অর্জন করে তবেই আপনি এই ব্যবসায় নামুন তানাহলে গার্মেন্টস বায়িং হাউস ব্যবসা আপনি করতে পারবেন না এবং আপনার লাভ হবে কি হবে না।

বর্তমানে গার্মেন্টসের ব্যবসা সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ একটি স্থান দখল করে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বর্তমানে গার্মেন্টস ব্যবসা খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

আমরা সবাই জানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার যতই খারাপ হোক না কেন মানুষ পোশাক-পরিচ্ছদ পড়ার ক্ষেত্রে কখনো দ্বিধাবোধ করে না, ফলে গার্মেন্টস বায়িং ব্যবসা বর্তমানে যেমন জনপ্রিয়তা লাভ করেছে তেমনি ভবিষ্যতেও ব্যাপক হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।

Garment Buying House business
গার্মেন্টস বায়িং হাউসের ব্যবসা

Table of Contents

বাইং হাউজ কি? | গার্মেন্টস বায়িং হাউস কি?,(What is a Garments Buying House?)

ইংরেজি Buying শব্দের অর্থ হলো কেনা, আর House শব্দের অর্থ হলো বাড়ি। সম্পূর্ণ বায়িং হাউস আমরা তাকেই বলি যেখানে কেনাকাটা হয় বা ক্রয় করার ঘর।

আবার বর্তমানে বায়িং হাউজ বলতে তাদের বলা হয় যারা বিভিন্ন ব্যক্তি অথবা কোম্পানি থেকে অর্ডার নিয়ে কোন জিনিস তৈরি করে থাকে এবং তাদেরকে সেই জিনিসটা রপ্তানি করে। এককথায় থার্ডপার্টি কোম্পানি হিসেবে বাইং হাউজ কাজ করে।

দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টের অর্ডার নিয়ে তারপর সেই অর্ডার গুলিকে দেশের বিভিন্ন কর্মচারীদের দ্বারা পোশাক-পরিচ্ছদ তৈরি করে আবার বিদেশে রপ্তানি করা গার্মেন্টসের কাজ।

আরও সম্পূর্ণ ধারণা পেতে হলে আমাদের বুঝতে হবে বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অর্ডার নিয়ে সেই অর্ডার গুলিকে কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করিয়ে আবার বিদেশে রপ্তানী করে এই বায়িং হাউস কম্পানি গুলি।

ফলে আপনি যদি গার্মেন্টস বায়িং হাউসের ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে গার্মেন্টস নাকি নিয়েও এই ব্যবসা করতে পারবেন এর জন্য যে জিনিসগুলো আপনার দরকার হবে তার সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য দেওয়া হল।

মার্চেন্ডাইজিং কি?(What is merchandising?)

আপনারা মূলত বুঝতে পেরেছেন যে বায়িং হাউস কি জিনিস, ফলে আপনাদের এটাও জানতে হবে মার্চেন্ডাইজিং কি বা কাকে বলে। সাধারণত যে সকল মানুষজন বায়িং হাউজ জাতীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বা জড়িত তাদের এককথায় মার্চেন্ডাইজার বলা হয়। আর সম্পূর্ণ এই ধরনের ব্যবসা কে মার্চেন্ডাইজিং ব্যবসা বলা হয়।

এই ধরনের ব্যবসা করার জন্য অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে আপনার প্রয়োজন পড়বে। তাই জন্য আপনি বা আমি কেউই মার্চেন্ডাইজার হিসেবে নিজেকে দাবী করতে পারব না কারণ এই ব্যবসা গুলি করার জন্য বেশকিছু দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে আমাদের।

আপনি যদি একজন সফল মার্চেন্ডাইজার হতে চান বা গার্মেন্টস বায়িং হাউজ ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে বেশ কিছু জিনিস জেনে রাখতে হবে এবং করতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- পেরেক তৈরির ব্যবসা

গার্মেন্টস বায়িং হাউস ব্যবসা কিভাবে করা যায়?

এখনকার সময়ে আর দশটা ব্যবসার মতো বায়িং হাউসের ব্যবসা খুবই জনপ্রিয় একটি ব্যবসা। বর্তমানে যে সকল মানুষজন গার্মেন্টস বায়িং হাউস ব্যবসা করছেন তারা সবাই বর্তমানে সফল ব্যবসায়ী।

সেই জন্য এখনকার দিনে তরুণ প্রজন্ম বায়িং হাউজ ব্যবসার প্রতি দারুন আগ্রহ প্রকাশ করছে এই ব্যবসা সম্পর্কিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে অনেকে। তবে গার্মেন্টস বায়িং হাউজ ব্যবসা করার জন্য আপনাকে অনেক ত্যাগ শ্রম দিতে হবে কেননা এই ব্যবসা করার জন্য অনেক শ্রম এবং অনেক বুদ্ধির প্রয়োজন পড়ে।

গার্মেন্টস বায়িং হাউজ ব্যবসা করতে যেসকল জিনিসগুলো আপনাকে মেনে চলতে হবে এবং মনে রাখতে হবে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়া যাক।

ইংরেজি ভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান-

বায়িং হাউজ ব্যবসার জন্য আপনাকে অবশ্যই ইংরেজি ভাষা জানতে হবে। কারণ আপনি দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন অর্ডার তবেই আনতে পারবেন যদি আপনি ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করে থাকেন। গার্মেন্টস পোশাক সামগ্রী যে সকল মানুষজন কিনবে (Buyer) তাদের সঙ্গে আপনি যদি ভালোভাবে কথা বলতে না পারেন তাহলে আপনি এই ব্যবসা কিভাবে করতে পারবেন বলুন, ইংরেজি ভাষা আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।

দেশীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাটা ও আপনার অত্যান্ত জরুরী একটি জিনিস। আপনি যদি কোন দেশের সংস্কৃতি বা প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন তাহলে সেই দেশের মানুষ জন কোন সময় বাকি ধরনের পোশাক পরিচ্ছদ পড়তে আগ্রহী সেই বিষয়ে আপনি কিভাবে বুঝতে পারবেন। এইজন্য আপনি যে দেশের সঙ্গে ব্যবসা করবেন সেই দেশের প্রকৃতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সামান্য হলেও জ্ঞান দরকার।

বায়িং হাউজ কোর্স-

বায়িং হাউসের ব্যবসা করার জন্য বর্তমান সময়ে ভারতের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কোর্স করিয়ে থাকে। আপনি চাইলে এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বায়িং হাউসের কোর্স করতে পারেন। আপনি যদি কোন কোর্স করে রাখেন তাহলে আপনার অনেক সুবিধা হবে গার্মেন্টস বায়িং হাউস ব্যবসা করার জন্য।

তবে অনেক মানুষজন আসেন যারা কোন কোড ছাড়াই ব্যবসা করছে এর মূল কারণ হলো এরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এই ব্যবসা করতে করতে। চলে আপনিও চাইলে যেকোন বায়িং হাউজ ব্যবসায়ীদের কাছে কাজ শিখতে পারেন দীর্ঘদিন কাজ করার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

মার্চেন্ডাইজিং কোর্স-

বায়িং হাউসের মুল কাজ আপনি জেনেছেন মার্চেন্ডাইজিং করা। হলে আপনি যদি কোন মার্চেন্ডাইজিং কোর্স করে এই ব্যবসা করতে পারেন তাহলে সত্যিই আপনি আর দশজন ব্যবসায়ী থেকে আলাদা এবং বড় মাপের ব্যবসায়ী হতে পারবেন। আপনি ইন্টারনেটে যদি খোঁজেন মার্চেন্ডাইজিং কোর্স কোথায় করা হয় বা কত খরচ হয় তাহলে আপনি অনেক কোম্পানি পেয়ে যাবেন বা অনেক ইন্সটিটিউশন পেয়ে যাবেন যারা আপনাকে খুব অল্প টাকায় মার্চেন্ডাইজিং কোর্স করাবে।

মার্চেন্ডাইজিং এর দু ধরনের কোর্স সাধারণত দেখা যায় একটা স্বল্পমেয়াদী আর একটি দীর্ঘমেয়াদী কোর্স। বর্তমানে মার্চেন্ডাইজিং কোর্স এর বাংলাদেশের দুটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হল- BKMEA,BGMEA।
ভারতের উল্লেখযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান হল-bada business।

তবে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কারিগরি বোর্ডের অধীনে ছোট ছোট কোর্স করানো হয়ে থাকে। এইসব স্বল্প মেয়াদী কোর্স গুলো আপনি করে ব্যবসা সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান পেয়ে যাবেন।

অভিজ্ঞতা অর্জন-

বায়িং হাউজ ব্যবসায় একটি কথা প্রচলিত আছে “অভিজ্ঞতাই আপনার সবথেকে বড় সম্পদ” । হলে বুঝতেই পারছেন এই ব্যবসা করার জন্য অবশ্যই আপনার অভিজ্ঞতার ওপর অনেক বেশি পরিমাণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসার শুরুতে আপনি যেমন অল্প অভিজ্ঞ থাকবেন তেমনি ব্যবসাও আপনার অল্পবিস্তর ভাবে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। আপনার যত অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকবে তত আপনার ব্যবসা ও বড় হতে থাকবে।

আপনার সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে বেশি বেশি করে মেলামেশা করা এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন জ্ঞান নেওয়া। যেকোনো ধরনের বড় ব্যবসায়ীরা তাদের সমকক্ষ বা তাদের থেকে বেশি বুদ্ধিমান মানুষের সাথে মেলামেশা করতে বেশি পছন্দ করেন।

কঠোর পরিশ্রমই হওয়া-

পরিশ্রম ছাড়া কোন কাজেই যেমন সফলতা অর্জন করা সম্ভব না তেমনি বায়িং হাউজ ব্যবসা করার জন্য পরিশ্রমই আপনাকে সফলতার দোরগোড়ায় নিয়ে যাবে। ব্যবসা শুরু থেকেই আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে আপনি যত কঠোর পরিশ্রম করবেন তত তাড়াতাড়ি আপনার ব্যবসা উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে। একটা সময় আপনার এই পরিশ্রমের ফল দেবে আপনার ব্যবসাকে বাকি ব্যবসা গুলি থেকে আলাদা করতে।

গার্মেন্টস বায়িং হাউস ব্যবসা শুরু করার জন্য কি কি করতে হয়?

গার্মেন্টস বায়িং হাউজ ব্যবসা করার জন্য আপনাকে যে সকল জিনিস গুলি করতে হবে সেগুলি হল-

ট্রেড লাইসেন্স

যে কোন ব্যবসা শুরু করার আগেই আপনার প্রয়োজন হবে ট্রেড লাইসেন্সের। হলে গার্মেন্টস বায়িং হাউস ব্যবসা করার জন্য আপনার ট্রেড লাইসেন্স এর দরকার পড়বে এবং এই লাইসেন্সও আপনি খুব সহজলভ্য উপায় পেয়ে যাবেন।

Garment Buying House Flow chart

অফিস ঘর

একটা ব্যবসার জন্য যেমন একটা করে অফিস লাগে। তেমনই বায়িং হাউসের ব্যবসার জন্য আপনার একটি অফিস লাগবে তার জন্য আপনাকে একটি ভালো উন্নত ঝগড়ায় একটি অফিস বানাতে হবে অথবা অফিস ভাড়া নিতে হবে।

কর্মচারী নিয়োগ

আপনার কাজ যেহেতু বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্ডার তোলা তাই আপনি সেই কাজ একা করতে পারবেন না সেইজন্য আপনার প্রয়োজন পড়বে অভিজ্ঞ, সৎ ও পরিশ্রমই কর্মচারী। এইসব কর্মচারীর কাজ থাকবে আপনার অবর্তমানে অথবা আপনার সাহচর্যে একাধিক কোম্পানি থেকে অর্ডার তোলা এবং সেই অর্ডার গুলিকে সময়মতো ডেলিভার করা।

আরো পড়ুন- কিভাবে ব্যবসা শুরু করব?

কিভাবে বায়িং হাউস লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন?

বর্তমানে বাংলাদেশ এবং ভারতের কয়েক হাজার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আবার বায়িং হাউসের সংখ্যাটাও অনেকটাই বেশি এই কম্পিটিশন মার্কেটে আপনি যদি সঠিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা না করতে পারেন তাহলে টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে যাবে।

তাই বাইং হাউজ ব্যবসা করার জন্য যে সকল লাইসেন্স লাগবে এবং সেইসব লাইসেন্স গুলো আপনি কিভাবে পাবেন সেগুলো সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দেওয়া হল।

  1. ট্রেড লাইসেন্স-ট্রেড লাইসেন্স আপনি আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস অথবা বিডিও অফিস কিংবা কর্পোরেশন অফিস থেকে পেয়ে যাবেন। বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনে এপ্লাই করে ও আপনি পেয়ে যেতে পারেন। লাইসেন্সের জন্য আপনার খরচ হবে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
  2. BGMEA-BGMEA হলো বাংলাদেশের গার্মেন্টসের সংগঠন। এই সংগঠনের প্রশংসাপত্র সদস্যপদ আপনাকে নিতে হবে।
  3. আপনি যে ঘর ভাড়া নেবেন সেই ঘরের আইনি কাগজপত্র আপনার থাকা দরকার।

আপনি যদি উপরের সমস্ত ধাপগুলি অনুসরণ করতে পারেন তাহলেই আপনি কয়েক মাসের মধ্যে সমস্ত ধরনের লাইসেন্স এবং সদস্যপদ পেয়ে যাবেন।

BGMEA সদস্যপদ কিভাবে পাওয়া যায়?

বি জি এম আই এর সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই গার্মেন্টসের ব্যবসা করতে হবে। বিজিএমআই এ হলো বাংলাদেশের গার্মেন্টসের সংগঠন এবং এই সংগঠনের আন্ডারে বাংলাদেশের সমস্ত গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা জড়িত আছেন।

BGMEA এর সদস্যপদ নিতে বা অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ পেতে আপনাকে 55 হাজার টাকা দিতে হবে এবং বাৎসরিক হিসাবে 25 হাজার টাকা দিতে হবে।

বিজিএমআই এর সঙ্গে যুক্ত হবার জন্য যে সকল ডকুমেন্ট আপনাকে দিতে হবে সেগুলি হল-

  • দু কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
  • আপনি যে ট্রেড লাইসেন্স করেছেন সেই ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি।
  • আপনার নাগরিকত্বের প্রমাণ পত্রের ছবি।
  • আপনি যে ঘর ভাড়া করেছেন সেই ঘর ভাড়া দলিলের ছবি।
  • সরকারি বিনিয়োগ বোর্ডের ওয়ার্ক পারমিট।
  • টিন সার্টিফিকেট এর জেরক্স।

এইসব জিনিস গুলি দিয়ে আপনি আবেদন করলে খুব সহজেই আপনি BGMEA এর সদস্যপদ পেয়ে যাবেন।

গার্মেন্টস বায়িং হাউস এর জন্য লাইসেন্স না থাকলে কি কি সমস্যায় পড়তে হবে?

আপনি যদি গার্মেন্টস বায়িং হাউসের ব্যবসার জন্য লাইসেন্স না নিয়ে থাকেন বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু লাইসেন্স পান নি, তারপরেও ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান, তাহলে আপনার যে সকল সমস্যাগুলির সম্মুখীন হতে হবে সেগুলি হল-

  1. আপনি খুব অল্প পরিমাণে ক্লায়েন্টের অর্ডার পাবেন। অথবা আপনাকে ক্লায়েন্টরা অর্ডার দিতে বিশ্বাস করবে না।
  2. আপনার যদি কোন কাগজপত্র না থাকে তাহলে আপনি অর্ডার পাবেন না উপরন্ত আপনার অন্যান্য অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
  3. বি জি এম আই এর সদস্য পদ না থাকলে বিজিএমআই আপনার ওপর আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।
  4. সরকারি ও নানান জটিলতার মধ্যে আপনাকে বারংবার পড়তে হতে পারে।

অবশ্যই পড়ুন- চালের পাইকারি ব্যবসা

বায়িং হাউজে চাকরি পাওয়ার উপায় কি?

বায়িং হাউজের চাকরির জন্য বহু চাকরিপ্রার্থী অপেক্ষা করে থাকে। যদি আপনি বায়িং হাউসের ব্যবসা করতে না পারেন তাহলে আপনি বায়িং হাউজের চাকরি করতে পারেন। এতে আপনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পয়সাও ইনকাম হবে।

প্রতিটা বায়িং হাউজ কোম্পানিতে অনেক পরিমানে কর্মচারী দরকার পড়ে এবং বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কর্মচারী ও তারা নিয়োগ করে থাকে। সেইসব ডিপারমেন্ট গুলি হল-

  1. মার্চেন্ডাইজিং এবং সোর্সিং
  2. একাউন্টিং
  3. কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপারমেন্ট
  4. এইচ আর
  5. শপিং ডিপার্টমেন্ট
  6. ডিজাইন ডিপার্টমেন্ট
  7. মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট
  8. ক্যাড ডিপার্টমেন্ট
  9. কমপ্লায়েন্স
  10. মার্চেন্ডাইজার

উপরে এই সব ডিপার্টমেন্ট গুলির মধ্যে যদি আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী কোন ডিপারমেন্ট পড়ে থাকে তাহলে আপনি আবেদন করতে পারেন বাইং হাউজ কোম্পানী গুলির সাথে। আপনি খুব সহজেই এইসব কোম্পানিতে চাকরি পেতে পারেন।
সবচেয়ে সহজ হলো আপনার যদি মার্চেন্ডাইজার এর জন্য কোন কোর্স করা থাকে তাহলে এক চান্সে আপনি চাকরি পেয়ে যাবেন।

Garment Buying House
গার্মেন্টস বায়িং হাউস

বায়িং হাউজে চাকরির যোগ্যতা কেমন লাগে?

একটা বাইং হাউজ কোম্পানিতে চাকরি করার জন্য অনেক ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মচারীর দরকার হয়। উপরে উল্লেখিত যে সকল ডিপার্টমেন্ট গুলি রয়েছে সেইসব ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ী আপনার যোগ্যতা থাকলে আপনি আবেদন করতে পারেন। সাধারণত প্রতিটা গার্মেন্টস বায়িং হাউজ কোম্পানিতে গ্রাজুয়েশন পাস ছেলে অবশ্যই দরকার। এছাড়া কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা এবং ভালো ইংরেজি বলতে পড়ার দক্ষতা সম্পন্ন ছেলে দরকার পড়ে।

এছাড়া যদি আপনার মার্চেন্ডাইজার কোর্স বা বায়িং হাউজ কোর্স করা থাকে তাহলেও আপনি আবেদন করতে পারেন এবং আপনাদের জন্যই চাকরির পথ প্রশস্ত করে দেবে আপনাদের কোর্স।

বায়িং হাউজে চাকরির বেতন কত?

বায়িং হাউসে চাকরি করার আগেই প্রতিটা মানুষের আগ্রহ প্রবল ভাবে থাকে যে বায়িং হাউজে চাকরি করলে তাদের বেতন কত হবে।

প্রতিটা বড় কোম্পানির মত বায়িং হাউস কম্পানি গুলিতেও দক্ষ ও অভিজ্ঞ মার্চেন্ডাইজার হতে পারলে আপনার বেতন মাসে 80 হাজার থেকে 1 লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আবার আপনার ন্যূনতম বেতন 15000 টাকা থেকে শুরু করে 30 হাজার টাকার মধ্য হতে পারে।
আপনি কেমন ধরনের পোস্টের কাজ করছেন এবং কি ধরনের কাজ করছেন তার ওপরে নির্ভর করবে আপনার বেতনের।

বায়িং হাউজ কোর্স (Buying house course)

বায়িং হাউজ কোর্স করার জন্য অনেক ইনস্টিটিউশন রয়েছে তবে খুব অল্প টাকায় বায়িং হাউসের কোর্স করতে হলে আপনাকে অবশ্যই দিতে হবে 4500 টাকা। এই কোর্স গুলো সাধারণত স্বল্প মেয়াদী কোর্স হয়ে থাকে। ঘুমিয়ে আদি কোর্স করতে হলে আপনাকে 15 থেকে কুড়ি হাজার টাকা দিতে হবে।

বায়িং হাউজ কোর্স জানা থাকলে আপনি জানতে পারবেন বায়ার কোথা থেকে পাবেন, কিভাবে বায়ারদের সঙ্গে ডিল করবেন, কীভাবে কাস্টিং করবেন, কিভাবে গার্মেন্টস এর ওপর ব্যবসা করতে পারবেন বা গার্মেন্টসের কি ধরনের উপকরণ লাগে এই সমস্ত কিছু এই কোর্সে আপনি জানতে পারবেন। ছাড়াও অনলাইনে বায়ারদের সাথে কথা বলার যাবতীয় কৌশল আপনাকে এই কোর্সের শেখানো হয়ে থাকে

বাংলাদেশ আপনি থাকলে ড্রিম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (01819 610 270) এই নাম্বারে ফোন করে যোগাযোগ করতে পারেন।

ভারতে থাকলে আপনি NSE INDIA এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও রয়েছে the Wall Street school, AIWMI,Imarticus.

পরিশেষে বলা যায় বায়িং হাউস ব্যবসা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করলেও যদি আপনি পরিশ্রমী এবং দারুন অভিজ্ঞ না হয়ে থাকেন তাহলে আপনি এই ব্যবসায় সফল হতে পারবেন না। এর জন্য আপনাকে উপযুক্ত ট্রেনিং এবং সাহচর্য প্রয়োজন পড়বে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

বায়িং হাউজ কি?

উত্তর: যেখানে কেনা বেচার কাজ হয় মূলত তাকেই বাইং হাউস বলে।

বাইং হাউজ জব পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা কত লাগে?

উত্তর: কম করে মাধ্যমিক পাস এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস হলে ভালো হয়।

বায়িং হাউসে চাকরির বেতন কত?

উত্তর: ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা ও বেতন হতে পারে।

গার্মেন্টস বায়িং হাউস ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 1 লক্ষ টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকা কমপক্ষে বিনিয়োগ করতে হয় গার্মেন্টস বাইং হাউস ব্যবসা করতে।

বায়িং হাউজে চাকরি পাওয়ার উপায় কি?

উত্তর: বায়িং হাউজ সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে এবং গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি থাকলে সবথেকে ভালো হয় বাইং হাউসে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে।

বায়িং হাউস ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: 1 লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে 10 লক্ষ টাকারও বেশি বাইং হাউস ব্যবসায় লাভ থাকতে পারে।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

ব্যবসা করুন মাত্র 600 টাকা দিয়ে

পারফিউম তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment