বাড়ির বউদের জন্য সেরা ১০টি ব্যবসার আইডিয়া | Top 10 great Business Ideas for Housewife

দিনে দিনে যেভাবে বাজার দর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই উপার্জন বেশি বেশি করে করতে হবে। বাড়ির বউদের শুধু বাড়ির কাজ করলেই চলবে না তাদের সংসার চালাতে হাত লাগাতে হবে। বর্তমানে মেয়েরা শিক্ষিত হওয়ার জন্য তাদের মধ্যেও কাজের প্রবণতা অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে তারা চাইলেও সব ধরনের কাজ করতে পারছে না কিংবা কাজই পাচ্ছে না। কারণ বর্তমানে অভিজ্ঞতার চেয়ে সার্টিফিকেট এবং জ্ঞানের চেয়ে অভিজ্ঞতাকে বেশি দরকারি বলে মনে করেন একদল মানুষ।

প্রতিটা সাধারন পরিবারের বাড়ির বউদের নিজেদেরও ইচ্ছা হয় কিছু করার সংসারে তাদের অবদান রাখার। কিন্তু বর্তমান সমাজের দিকে চেয়ে অনেকে পিছিয়ে আসেন। আবার অনেক বাড়ির বউরা যারা বাড়ির কাজ সেরে কিছু কাজ করতে যায় বাইরে পাড়া-প্রতিবেশীদের কুৎসা শুনে তারা আবার পিছপা হতে শুরু করে। আর সেই বাড়ির বউদের ইচ্ছাকে পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে আজকের এই পোস্ট।

বাড়ির বউদের জন্য দারুন দারুন দশটা উপযুক্ত ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে এই পোস্টটি তৈরি করা হলো। আপনারা মনোযোগ সহকারে এই পোস্টটি পড়বেন। পড়ার পর থেকে হয়তো আপনি আপনার স্বপ্নের ডানা মেলে আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারার একটা ধাপ এগিয়ে যাবেন।

Business for housewives
বাড়ির বউদের জন্য ব্যবসা

বাড়ির বউদের জন্য সেরা ১০টি বাড়ির ব্যবসার ধারণা (Top 10 Home Business Ideas for Housewives)

যদিও 10 টা মাত্র বাড়ির ব্যবসার আইডিয়া এখানে দেওয়া হয়েছে। আপনারা চাইলে আরো অনেক ধরনের ব্যবসা আছে যেগুলি আপনি বাড়িতে থেকেই করতে পারেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই 10 টি বাড়ির ব্যবসার আইডিয়া।

1.কেক তৈরির ব্যবসা (Cake making business)

বাড়ির বউদের জন্য আদর্শ একটি ব্যবসার মধ্যে কিক তৈরির ব্যবসা অন্যতম। কেক তৈরির ব্যবসা আপনারা আপনাদের বাড়িতে শুরু করতে পারেন। কেক তৈরির ব্যবসা করার জন্য খুব অল্প পুঁজি খরচ হবে।

কেক তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হিসেবে ময়দা, ডিম, ব্রেকিং পাউডার, ভ্যানিলা এসেন্স, ক্রিম, চকলেট ও বিভিন্ন কেক তৈরি উপাদান কিনতে হবে। সমস্ত প্রয়োজনীয় কাঁচামাল গুলি আপনি আপনার নিকটবর্তী বাজারের দোকান থেকে পেয়ে যাবেন। তারপর সেই সব কাঁচামাল নিয়ে এসে বাড়িতে কেক তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন আবার অনলাইনে কেকের মার্কেটিং করতে পারেন।

বর্তমানে জন্মদিন থেকে অ্যানিভার্সারি পালন সমস্ত কিছুতেই কেক কিনে থাকে প্রতিটা মানুষ। তাই বাড়ির বউদের জন্য কেক তৈরির ব্যবসা বাড়িতে থেকেই করতে পারেন। আপনার পরিচিত মানুষজনের আপনার কাছ থেকে কেক কিনবে, যখন তারা দেখবে বাড়িতেই তারা সুস্বাদু পুষ্টিকর কেক পেয়ে যাচ্ছে, বাজারের কেমিক্যাল দেওয়া কেকের থেকে বেশি ভালো।

কেক তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে কেক বানানো শিখতে হবে। আর কেক বানানো শেখার জন্য কিছু পেশাদার ইনস্টিটিউশন থেকে কেক বানানো শিখতে পারেন। অধবা যারা কেক তৈরি করে তাদের কাছে গিয়ে কেক বানানোর ট্রেনিং নিয়ে আপনিও ঘরে বসে কেক তৈরীর ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন এখন বিভিন্ন এলাকাতেই বাড়ির মহিলারা তাদের সংসার চালানোর সাথে সাথে কেক তৈরির ব্যবসা করছেন। এই জন্য কেক তৈরির ব্যবসা বাড়ির বউদের জন্য একটি আদর্শ ব্যবসা।

মাত্র 10 হাজার টাকারও কম বিনিয়োগ করে আপনি কেক তৈরির ব্যবসা করতে পারবেন আর একটা একটা কেক বানানোর পর হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন। তাই কেক বানানোর ব্যবসা অনেক লাভজনক একটি ব্যবসা। আপনার নিকট আত্মীয় এবং পরিবার, বন্ধু-বান্ধব সবাই যখন জানবে যে আপনি নিজেকে তৈরি করতে পারেন তখন তারা সবাই আপনার কাছ থেকে কেক কিনবে। ফলে আপনাকে আলাদা করে বাইরে বাজারে বাজারে গিয়ে কেক বিক্রি করতে হবে না। আবার কেক তৈরীর ব্যবসাকে আগেই নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনি অনলাইনে কেক ডেলিভারি এবং কেকের অর্ডার নিয়ে ব্যবসা করার দিকে নজর দিতে পারেন।

আরো পড়ুন- গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করে 10 লাখ টাকা আয়

2. হস্তশিল্পের ব্যবসা (Handicraft business)

বাড়ির বউদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ তম একটি ব্যবসা হলো হস্তশিল্পের ব্যবসা। যেহেতু এখনও গ্রামের অনেক পরিবারেই বাড়ির বউদের বাড়ির বাইরে কাজ করতে যাওয়ার অনুমতি নেই। তাই বাড়ির বউদের জন্য হস্তশিল্পের ব্যবসা উপযুক্ত একটি ব্যবসার উদাহরণ। আপনি যদি কোন নতুন নতুন কিছু জিনিস বানাতে পারেন বা বানানোর চেষ্টা করেন তাহলেও আপনি হস্তশিল্প ব্যবসা করতে পারেন।

হস্ত শিল্প ব্যবসা বহু ধরনের হয়ে থাকে যেমন বলা যেতে পারে-

  • কেক তৈরির ব্যবসা
  • ফুচকা তৈরির ব্যবসা
  • নকশি কাঁথা বানানোর ব্যবসা
  • পোড়া মাটির জিনিসপত্র
  • মাটির প্রদীপ
  • তেলে ভাজা তৈরি
  • কাগজের ফুল তৈরি
  • গলার হার কানের দুল বানানো
  • জুয়েলারি ব্যবসা ইত্যাদি

এইরকম আরো 50 রকমের হস্ত শিল্প ব্যবসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আপনি চাইলে হস্তশিল্প ব্যবসা সম্পর্কে যাবতীয় ধারণা এই পোস্ট পড়ে পেয়ে যাবেন। বাজারে কিনতে পাওয়া আর্টিফিশিয়াল জিনিসগুলোর থেকে হাতে তৈরি করা হস্তশিল্প চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আপনিও লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যখন বাজারে যাওয়া হয়, তখন বাজারে বিক্রি হওয়া হস্তশিল্প কারুকার্য করা জিনিস গুলি বেশি নজর কাড়ে আমাদের সকলের। এখন কার্ডের লোকেরা তাদের প্রিয়জনের কাছে রেডিমেড উপহারের বদলে হস্তনির্মিত উপহার উপস্থাপন করতে বেশি পছন্দ করে।

আপনি যদি শিল্প কারুকার্যে একটু সৃজনশীল হয়ে থাকেন তাহলে বাড়ির বউদের জন্য অবশ্যই একটি আদর্শ ব্যবসা হিসেবে হস্তশিল্পের ব্যবসা গুরুত্ব অর্জন করবে। গ্রাম বাংলার প্রতিটা মহিলাই কিছু না কিছু জিনিস বানাতে পারেন। তাই আপনিও যদি সেই রকম কিছু না কিছু জিনিস বানাতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি হস্তশিল্পের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনাকে শুধু একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে হস্তশিল্পের নির্মিত জিনিসটা বিশেষ করে সুন্দরভাবে প্যাকেজিং এবং ডিজাইন করে যদি বাজারে বিক্রি করতে পারেন তাহলে তার চাহিদা বাজারে প্রচুর বৃদ্ধি পাবে।

এখন বাড়ির বউদের জন্য অনেক সংস্থা বিভিন্ন ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে উপস্থিত হয়। যেমন মোমবাতি বানানো, বাড়ির সাজ সজ্জা বানানো, পেইন্টিং, গহনা বানানো এইসব সংস্থাগুলির কাছ থেকেও আপনি কাজ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তারপর আপনি চাইলে ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম এর একটি একটি পেজ তৈরি করে প্রতিদিনের প্রতিদিন তৈরি করা বিভিন্ন নিত্যনতুন হস্তশিল্প গুলির ছবি তুলে পোস্ট করতে পারেন। ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে অনলাইনের মাধ্যমে আপনার প্রচুর কাস্টমার তৈরি হয়ে যাবে ফলে আপনার হস্ত শিল্প গুলি দ্রুত বিক্রি হয়ে যাবে।

বিনিয়োগ-হস্তশিল্প ব্যবসায় বিনিয়োগ করার করার মতো পুঁজি একটা বাড়ির মহিলাদের অবশ্যই থাকে। কারণ হস্তশিল্পের জন্য মাত্র 500 টাকা থেকে 10 হাজার টাকার মধ্যে বিনিয়োগ করলেই হস্ত শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা জিনিস গুলি কিনতে পারবেন। আপনার তৈরি হস্তশিল্পের জিনিসগুলোর গুণমানের ওপর নির্ভর করবে আপনার লাভের পরিমাণ টা। বর্তমানে বাজারে বিক্রি হওয়া রেডিমেড পণ্যের থেকে হস্তশিল্প নির্মিত পণ্যের দাম অনেক বেশি হয়ে থাকে, ফলে উপার্জনও আপনি অনেক বেশি পরিমাণের করতে পারেন।

অবশ্যই পড়ুন- হস্তশিল্পের ব্যবসা করে প্রতিমাসে 50000 টাকার আয় করুন

3. ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবসা (Day Care Center Business)

বর্তমানে অনেক ফ্যামিলি আছে যেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করেন কিন্তু তাদের সন্তানদের দেখাশোনার জন্য তারা উপযুক্ত লোক পায়না। ডে কেয়ার সেন্টার ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা আপনি ঘরে থেকেই করতে পারেন। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেখাশোনা করার কাজটাই বর্তমানে ডে-কেয়ার সেন্টার নামে পরিচিত। আর বাড়ির মহিলাদের জন্য ঘরে থেকে বাচ্চাদের দেখাশোনা করে ইনকাম করার সহজ উপায় এই ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি করা।

বর্তমানে শহরের কিছু ব্যস্ত পরিবার যারা চাই তাদের বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে পারবে এইরকম কিছু মহিলা এবং সংস্থাকে। আপনি চাইলে আপনার বাড়িতেই ডে-কেয়ার সেন্টার খুলে বাচ্চাদের দেখাশোনা এবং পরিচালনা করার কাজ করতে পারেন। ঈদে আপনাকে বাইরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না আপনার বাড়িতে সেই সব পরিবারের মানুষজন তাদের বাচ্চাদের রেখে কাজে যাবে এবং ফেরার পথে আবার নিয়ে যাবে। আপনার কাজ হবে সেই সব শিশুর ন্যাপকিন, তোয়ালে, জামাকাপড় এইসব জিনিস পরিষ্কার রাখা এবং বাচ্চাদের সময়মতো খাওয়ানো ও তাদের যত্ন নেওয়া।

বিনিয়োগ-ডে কেয়ার সেন্টার তৈরি করতে আপনার খরচ হবে ন্যূনতম 10 হাজার থেকে 15000 টাকা। কারন একটা বাচ্চার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলি রাখা এবং ঘরটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জিনিসপত্র সব কেনার জন্য এই টাকাটা অবশ্যই খরচ হবে। এছাড়া ব্যবসার শুরুতে কিছু অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দেওয়ার জন্য এই টাকা খরচ হবে।

4. ক্যাটারিং ব্যবসা বা হোম ডেলিভারি ব্যবসা

শহরের ব্যস্ততা দুনিয়ায় কিছু মানুষজন আছেন যারা তাদের খাবারটা তৈরি করার সময় পায়না। কিন্তু তারা চাই বাড়ির তৈরি খাবার খেতে। তাই আপনি যদি খাবার তৈরি করে হোম ডেলিভারির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনি সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন। বাড়ির মহিলারা এমনিতেই তার বাড়িতে রান্না করে থাকেন, তাই তাদের জন্য আরেকটু বেশি করে রান্না করে সেই রান্না করা খাবার টা অন্য আর একটা মানুষকে বিক্রি করে যে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন তা দিয়ে আপনার সংসার খুব ভালোভাবে চলে যাবে।


বর্তমানে বাড়ির মহিলাদের জন্য একটি উপযুক্ত ব্যবসার আইডিয়া হলো ক্যাটারিং বা হোম ডেলিভারি ব্যবসা। আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন এমন অনেক কর্মব্যস্ত মানুষ আছে যারা তাদের প্রতিদিনের দুবেলা খাবার কিছু পরিবারের মহিলাদের কাছ থেকেই কিনে থাকেন। কারণ তারা কোন রেস্তোরাঁর তৈরি করা খাবার বা জাঙ্ক ফুড খাবার থেকে ঘরের তৈরি করা খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন।

তাই আপনার কাজ হবে প্রতিদিন বাজার করে ঘরোয়া খাবার তৈরি করে টিফিন বক্স ভোরে সেইসব মানুষজনদের বাড়িতে হোম ডেলিভারি দিয়ে উপার্জন করা। আর এই ব্যবসা করতে আপনার খুব অল্প টাকায় খরচ হবে।

বিনিয়োগ- ক্যাটারিং বা হোম ডেলিভারি ব্যবসা করতে আপনার খরচ হবে 1 হাজার টাকা থেকে 2 হাজার টাকার মধ্যে। কারণ প্রতিদিনের বাজার হাট করার জন্য এই অল্প টাকা তো আপনার খরচ এমনিতেই করতে হবে। বাড়ির মহিলাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবসা গুলির মধ্যে খাবার তৈরি করে হোম ডেলিভারির ব্যবসা অন্যতম।

5. পোষা প্রাণী দেখাশোনার ব্যবসা (Pet care business)

বর্তমানে অনেক পরিবারেই বিভিন্ন পোষা প্রাণী পালন করেন। যেমন প্রায়ই দেখা যাবে প্রত্যেকটা পরিবারের মধ্যেই কুকুর-বেড়াল, বিভিন্ন পাখি পোষার প্রবণতা থাকে।
কিন্তু প্রতিদিন এই কর্মব্যস্ত দুনিয়াতে কাজ করার জন্য তারা তাদের সেই পোষা প্রাণী কে ঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে না, কিংবা তারা যখন অফিসে যায় সেই পোষা প্রাণী টি দেখাশোনার জন্য উপযুক্ত লোক পায়না। আপনি যদি একটি পেট কেয়ার ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনি লাভবান হবেন।

আপনার যদি পোষা প্রাণী ভালো লাগে, পোষ্য প্রাণীকে আদর করতে ইচ্ছা করে তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য উপযুক্ত পোষা প্রাণীর দেখাশোনার ব্যবসাটি। বাড়ির মহিলাদের জন্য ঘরে থেকে পোষা প্রাণী দেখাশোনা করার কাজ খুবই উপযুক্ত একটি কাজ। কারণ এই কাজ করে তারা অনেক বেশি পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, এবং তার সাথে সাথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাদের সংসার ও সুন্দর ভাবে চলতে পারে।
আপনার কাজ হবে শুধুমাত্র সেই পোষ্য প্রাণীগুলি কে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, তাদের সময় মত খাবার দেওয়া এবং যত্ন নেওয়া। এইভাবে আপনি প্রসাদ প্রাণী দেখাশোনার ব্যবসা করতে পারেন।

বিনিয়োগ- পোষা প্রাণীর দেখাশোনার ব্যবসা করার জন্য আপনার খরচ হবে 10 হাজার থেকে কুড়ি হাজার টাকার মতো। বাড়ির মহিলাদের জন্য ঘরে থেকে এত ভাল একটি ব্যবসার আইডিয়া সহজে পাওয়া যাবে না। আপনার এই কারণে এই ব্যবসা করতে টাকার প্রয়োজন পড়বে কারন এই সব পোষা প্রাণীদের প্রয়োজনীয় খাবার কেনা এবং তাদের প্রসাধনীর জন্য কিছু জিনিসপত্র কিনতে খরচ পড়বে। লাভের পরিমাণ টা নির্ভর করবে প্রতি মাসে কতগুলো পোষা প্রাণীর যত্ন-আত্তি নিতে পারেন তার ওপর।

Cake making business
কেক তৈরির ব্যবসা

6. ইউটিউব চ্যানেল তৈরি (YouTube channel created)

বাড়ির মহিলাদের জন্য ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে ইউটিউবে কাজ করে টাকা ইনকাম করার দারুন সুযোগ রয়েছে। আপনি চাইলেই ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে কোন একটি নির্দিষ্ট কনটেন্ট নিয়ে ভিডিও আপলোড করতে পারেন। অথবা আপনি চাইলে প্রতিদিন যা কাজ করেন সেইগুলোই ভিডিও করে যদি ইউটিউবে ছাড়েন দেখবেন সেটা দেখার জন্য অনেক ভিউয়ার্স তৈরি হয়ে যাবে ফলে ইউটিউব থেকেও আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানের আপনি ইউটিউব খুললেই দেখতে পাবেন বাড়ির মহিলারা তাঁদের বাড়িতে কাজ করা নিত্যদিনের কাজ গুলি ভিডিও করে ইউটিউবে ছাড়েন ফলে অনেক বড় হয় এবং তার ফলে তারা অনেক টাকা ইনকাম করেন।

এছাড়া আপনি যদি কোন কিছু তৈরি করতে ভালোবাসেন বা কোন কমেডি, কোন রোস্টিং ভিডিও, কিংবা আপনি যেকোন নিসের ওপরে ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। বর্তমানে মহিলাদের তৈরি ইউটিউব চ্যানেল গুলি দ্রুত মনিটাইজ হয়ে যায় ফলে প্রচুর ভিউয়ার্স পায়। নিত্যদিনের কাজ করার সাথে সাথে বিভিন্ন প্রচারমূলক ভিডিও বানিয়ে আপনি ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ এসে গিয়ে ইউটিউব এর সাথে সাথে ফেসবুকেও রমরমিয়ে টাকা ইনকাম করা যায় ভিডিও আপলোড করে। আপনি চাইলে ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারেন। আর ইউটিউব কিংবা ফেসবুক চ্যানেল করে ভিডিও আপলোড করে কাজে আপনার আলাদা করে কোনো অর্থ প্রয়োজন পড়বে না উপরন্ত আপনি লাভ করতে পারেন প্রতি মাসে 1 লক্ষ টাকার বেশি।

অবশ্যই পড়ুন- হাওয়াই চপ্পল তৈরির ব্যবসা

7. ব্লগিং করে টাকা ইনকাম

আপনার যদি লেখার ইচ্ছা থাকে। বাড়ির কাজ করার পর কিছু লেখালেখি করতে ভালো লাগে তাহলে আপনার জন্য অবশ্যই আদর্শ ব্যবসা হিসেবে ব্লগিং যোগ্যতম। ব্লগিং হলো এমন একটি জিনিস যা আমরা খাতা পেন্সিল এর বদলে অনলাইনে ইন্টারনেটের ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে লিখে থাকি। আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয়ের উপরে লিখতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি ব্লগিং করতে পারেন।

বাড়ির বউদের জন্য ঘরে বসে শুধুমাত্র লিখে টাকা ইনকাম করার এত সুন্দর সুযোগ আর বেশি নেই। ব্লগিং করতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার ফোনে অথবা কম্পিউটার এর দ্বারা একটি ইন্টারনেট ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে সেই ওয়েবসাইটের মধ্যে আপনি কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয় কে নিয়ে বিস্তারিত একের পর এক পোস্ট লিখতে পারেন। আপনার পোষ্ট যত বেশি লোক দেখবে এবং পড়বে তত বেশি করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন গুগল থেকে। বর্তমানে ব্লগিং করে প্রচুর মানুষ অর্থ উপার্জন করছেন।

8. ডিজিটাল মার্কেটিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটিং এর যুগে প্রতিটা ব্যবসায়ী ডিজিটালি হয়ে গেছে। বাড়ির মহিলাদের জন্য সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগ হলো ডিজিটাল মার্কেটিং ও আফিলিয়েট মার্কেটিং করা। আগে জানতে হবে ডিজিটাল মার্কেটিং কি?
ডিজিটাল মার্কেটিং হল যখন কোন পণ্য আমরা ইন্টারনেটের ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলি তারা বিক্রয় করে থাকি এই প্রক্রিয়াটা কি ডিজিটাল মার্কেটিং বলা হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এর মতো ওয়েবসাইট দ্বারা হয়ে থাকে।


এফিলিয়েট মার্কেটিং মানে যখন কোন কোম্পানির কোন পণ্য আমরা বিক্রয় করে থাকি ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্য দিয়ে তাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। মানে কোন কোম্পানি কোন একটি প্রোডাক্ট তৈরি করেছে সেই প্রোডাক্টটা আমরা whatsapp-এ আমাদের পরিচিত বন্ধুবান্ধব কাস্টমারদের বিক্রি করছি এবং বিক্রি করলে সেই কোম্পানি আমাদের কমিশন দেবে প্রোডাক্ট বিক্রি করার ওপর এই পদ্ধতিটা কি এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।

বর্তমানে বাড়ির বউদের জন্য আদর্শ ব্যবসা হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবসা অন্যতম। ইউটিউব চ্যানেল খুলে অথবা ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম গ্রুপ তৈরি করে বিভিন্ন প্রচারমূলক ভিডিওর মাধ্যমে আকর্ষণীয় বর্ণনা দিয়ে পণ্য বিক্রি করার পদ্ধতি তাকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়। মহিলারা মহিলাদের ব্যবহৃত পণ্য গুলিকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। এতে আপনার কোন অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়না। কোম্পানি তার প্রোডাক্ট আপনাকে দেবে ডিজিটালি ভাবে, ইন্টারনেট এর মধ্য দিয়েই তার প্রোডাক্টগুলো কে মানুষের মধ্যে বিক্রি করতে হবে আপনাকে। এবারে আপনি মোটামুটি স্পষ্ট ধারণা পেয়ে গেছেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে।

অবশ্যই পড়ুন-  কিভাবে গার্মেন্টস বায়িং হাউসের ব্যবসা করা যায়?

Online tutoring
অনলাইন টিউটরিং

9. অনলাইন টিউটরিং

বর্তমানে বাড়ির প্রতিটা মহিলাই কম বেশি শিক্ষিত। শিক্ষা অর্জন করে যদি শুধুমাত্র ঘর এই সংসার দেখাশোনা করতে হয় তাহলে অনেকেরই ভালো লাগেনা। অনেকে আবার বাচ্চাদের পড়াতে ভীষণ ভালোবাসেন। যদি আপনারও এইরকম বাচ্চাদের পড়াতে ভালো লাগে তাহলে আপনি অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে অনলাইনে টিউটরিং করতে পারেন। ঘরে বসে বাড়ির বউ এদের জন্য এত সুন্দর একটি ব্যবসার আইডিয়া যা হয়ত আপনি কখনো ভাবতে পারেননি। অনলাইনে ফেসবুকে আপনাকে একটা দুটো পোস্ট করতে হবে যে আখি টিউশন পড়াতে চান এই বিষয়ে।

দেখবেন ফেসবুক থেকে অনেকই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে টিউশন পড়ার জন্য অথবা তাদের বাচ্চাদের টিউশন পড়ানোর জন্য। তারপরে আপনি অনলাইনে গুগোল মিনিট অথবা হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে টিউশন পড়াতে পারেন ঘরে বসেই। পড়ানোর শুরুর দিকে আপনি ছোট বাচ্চাদের ক্লাস নেয়া শুরু করতে পারেন পরবর্তীকালে আপনি বড়দের ও টিউশন পড়াতে পারেন। এরপর যখন আপনার পড়ানোর অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং আপনার নামও বাড়বে তখন আপনি চাইলে বিভিন্ন কোর্স করে একেকটি প্যাকেজ তৈরি করতে পারেন যা অনলাইন প্লাটফর্মে অনলাইন টিউটরিং হিসেবে দারুণভাবে বিক্রি হবে।

বিনিয়োগ-অনলাইন টিউশন পড়াতে গেলে অবশ্যই আপনাকে আপনার একটি ভালো ফোন কিনতে হবে এবং ভালো দামি হেডফোন কিংবা মাইক্রোফোন লাগাতে হবে যাতে সাউন্ড এর কোনো সমস্যা না হয়।

10. বিউটি পার্লারের ব্যবসা

অনেক মহিলা আছে যারা নিজেরা সাজতে ও সাজাতে পছন্দ করেন। এমনিতেই মহিলারা সৌন্দর্য ত্বকের যত্ন নিতে ছেলেদের থেকে অনেক বেশি পছন্দ করে। প্রতিটা মহিলাই সৌন্দর্য সচেতনতা সম্পর্কে কমবেশি জেনে থাকেন। আবার অনেকে মেকআপ করার সাথে সাথে নিজেরা একে অপর বন্ধুবান্ধবকে মেকআপ করে দিতে পছন্দ করে।
আপনাকে প্রথমেই একটি বিউটি পার্লারে গিয়ে কোর্স করে আসতে হবে।

তারপরে আপনি চাইলে আপনার বাড়িতে বসেই আপনার এলাকার মেয়ে বৌ দের সাজিয়ে চুল বেঁধে বিউটি পার্লারের কাজ বাড়িতেই শুরু করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে সাজাতে গিয়ে ও আধুনিক অনেক টাকা ইনকাম করতে পারেন। বাড়ির বউদের জন্য বাড়িতে থেকে ব্যবসা করার আইডিয়া গুলির মধ্য বিউটি পার্লার ব্যবসা অন্যতম। আপনি চাইলে পরবর্তীকালে বিউটি পার্লারের কোর্স ক্লাস নিজের বাড়িতেই শুরু করতে পারেন এতে অনেক বেশি পরিমানে আয় হবে আপনার।

বিনিয়োগ- বিউটি পার্লারের ব্যবসা শুরু করতে গেলে আপনার ন্যূনতম কুড়ি থেকে ত্রিশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। প্রতিমাসে আপনি যে পরিমাণে ক্লায়েন্টকে মেকআপ করাবেন তার ওপরে আপনার লাভ নির্ধারিত হবে।

সর্বশেষে বলা যায় নিজের সংসারকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করার জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজন কি কাজ করার প্রয়োজন বর্তমান সময়ে। তাই বাড়ির বউদের শুধুমাত্র ঘরের রান্নাবান্নার সংসার চালানো ছাড়াও বাইরে বেরিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ যা তারা পারেন সেগুলো নিজে উদ্যোগী হয়ে করা উচিত। আপনি আপনার লক্ষ্যে এগিয়ে চলুন শত বাধা ছিন্ন করে আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণ করুন

আমাদের এই এই পোষ্টে যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে জানাতে ভুলবেন না । আর যদি কোন হেলপ লাগে তাহলে ও জানাতে ভুলবেন না।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

প্লাস্টিক আইটেমের পাইকারি ব্যবসা

স্ক্রাবার তৈরির ব্যবসা

চালের খোসা ও গমের খোসা দিয়ে ব্যবসা করুন লাভ 3 লাখ টাকা প্রতি মাসে

1 thought on “বাড়ির বউদের জন্য সেরা ১০টি ব্যবসার আইডিয়া | Top 10 great Business Ideas for Housewife”

Leave a Comment