বইয়ের দোকান ব্যবসা | Book Store Business Successfully ,1 Now

Table of Contents

অফলাইনে বইয়ের ব্যবসা:

বইয়ের দোকান ব্যবসা বর্তমান সময়ে অনেক লাভবান একটি ব্যবসা। আমরা সবাই জানি শিক্ষা কতটা গুরুত্ব সমগ্র জীবনে। সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য শিক্ষিত হওয়া অত্যান্ত দরকার। আর শিক্ষিত জনসমাজকে গড়ার জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা এবং বই পড়া খুবই প্রয়োজনীয়। তবে বর্তমান সময়ে ডিজিটাল বই বা পুস্তকের প্রসার লাভ করলেও এখনো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বই পড়ার প্রচলিত রয়েছে। মানুষ মোবাইল ট্যাব ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিনে পড়ার থেকে বেশি পছন্দ করেন বই পড়তে। আর সেই বই নিয়ে যদি আপনি ব্যবসা করেন অর্থাৎ আপনি যদি বইয়ের দোকান ব্যবসা শুরু করেন, তাহলে আপনার প্রতি মাসে যা ইনকাম হবে তাতে শুধু আপনার সংসার না আপনার সারা জীবনটা কাটাতে পারবেন।

আমাদের দেশের সব জায়গাতেই কমবেশি বইয়ের দোকান রয়েছে। তবে কলকাতার কলেজস্ট্রিট অঞ্চলকে বইপাড়া হিসাবে ডাকা হয়ে থাকে। কারণ কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে 2-3 হাজারেরও বেশি বইয়ের দোকান রয়েছে। তাহলে একবার ভেবে দেখুন এত বইয়ের দোকান থাকা সত্বেও প্রতিটা বইয়ের দোকান ব্যবসায়ীর প্রতি মাসের ইনকাম একজন সরকারি চাকরিজীবীর ইনকামের বেশি হয়ে থাকে। চলুন দেখে নেওয়া যাক বইয়ের দোকান ব্যবসা কিভাবে করলে সফলতা অর্জন করা যায়।

বইয়ের দোকান ব্যবসা কিভাবে শুরু করতে হয়?

বইয়ের দোকান ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে গ্রাহকের চাহিদা বুঝে দোকানে বই রাখতে হবে। যেমন ধরুন কোন সময় যদি কোন পরীক্ষা থাকে তাহলে সেই পরীক্ষাসংক্রান্ত বেশি বেশি বই আপনার দোকানে রাখতে হবে। আবার কোন সময় কোন বই যদি বেশি বিখ্যাত হয়ে ওঠে তখন সেই বইয়ের ও অনেক কপি আপনার দোকানে রাখতে হবে। আপনি কি ধরনের বই নিয়ে ব্যবসা করবেন তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী। এছাড়াও আপনি যে ধরনের বই নিয়ে ব্যবসা করবেন তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনি যে স্থানে ব্যবসা করছেন তার পরিবেশ অনুযায়ী।

তবে বইয়ের দোকান ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে সর্বপ্রথম স্কুল কলেজ-ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি কোন একটি স্থানে দোকান ভাড়া নিতে হবে। তারপর সেই স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির পাঠরত পাঠ্য বিষয় গুলির ওপর সমস্ত রকমের বই আপনার দোকানে রাখতে হবে। এছাড়াও আপনাকে পড়াশোনার আনুষাঙ্গিক সমস্ত জিনিস আপনার দোকানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে অনেকেই দোকান না করে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা করছেন। আপনি যদি অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বইয়ের ব্যবসা করেন তাহলে আপনাকে আলাদা করে কোন দোকান ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। তবে বই অনলাইনে বিক্রি করতে হলে আপনাকে বেশ কিছু কর্মী নিয়োগ করতে হবে যারা হোম ডেলিভারী দিতে আপনাকে সাহায্য করবে এবং বই কেনা-বেচা তেও সাহায্য করবে।

Bookstore business
বইয়ের দোকান ব্যবসা

বইয়ের দোকান ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

বইয়ের দোকান ব্যবসা করতে গেলে সর্বপ্রথম ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স ভারতে থাকলে আপনি যে রাজ্যে ব্যবসা করবেন সেই রাজ্যের ট্রেড লাইসেন্স নেবেন। আর আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন তাহলে বাংলাদেশে এক প্রকারই ট্রেড লাইসেন্স হয়ে থাকে তাই সেই ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আপনাকে ব্যবসা শুরু করতে হবে। তবে প্রত্যেকটা ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসা শুরু করতে হলে এই লাইসেন্স নিয়েই শুরু করতে হয়।
আপনি যেহেতু বইয়ের ব্যবসা করছেন তাই অবশ্যই আপনাকে ভারত পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি ভুক্ত লাইসেন্স নিতে হবে। এই লাইসেন্স মূলত বইয়ের দোকান ব্যবসায়ীদের বা বই প্রকাশক কোম্পানিকে নিতে হয়ে থাকে।

লাইসেন্সের জন্য আপনাকে সরকারের দরজায় দরজায় আর ঘোড়ার প্রয়োজন নেই কারণ এখন সমস্ত লাইসেন্স অনলাইনে এপ্লাই করলেই পাওয়া যায়। ফিল্ড লাইসেন্স নেয়ার জন্য আপনার সর্বোচ্চ 700 টাকা খরচ হবে। আর বাকি সকল লাইসেন্সগুলো করার জন্য আপনার 1 থেকে 1.5 হাজার টাকা খরচ পড়বে।

অবশ্যই পড়ুন- মাছের আঁশের ব্যবসা করে হয়ে যান কোটিপতি!

বইয়ের দোকান কোথায় তৈরি হওয়া উচিত?

আপনি যেহেতু বইয়ের ব্যবসা করছেন তাই বইয়ের দোকান এমন একটি জায়গাতে আপনাকে করতে হবে যেখানে পড়াশোনার মানুষের সংখ্যা বেশি থাকে। প্রতিটা বইয়ের দোকান ব্যবসায়ী তাই জন্য এমন একটি জায়গা নির্বাচন করেন যেখানে তাদের বইয়ের বিক্রি বেশি হতে পারে। আপনি তাই বইয়ের দোকান তৈরি করার জন্য স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি কিংবা কোনো কোচিং সেন্টারের পাশে তৈরি করতে পারেন। কারণ এই সমস্ত জায়গাতে ছাত্র-ছাত্রী বেশি থাকে আর ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার ওপরে বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে।

আপনি যদি বইয়ের পাইকারি ব্যবসা করেন তাহলে আপনার এইরকম কোন জায়গাতে দোকান না করে যেকোনো জায়গাতেই দোকান করতে পারেন। তবে পাইকারি ব্যবসা করতে হলে প্রতিটা বইয়ের দোকান ব্যবসায়ীদের কাছে আপনাকে যেতে হবে এবং আপনার কাছ থেকে বই কেনার জন্য তাদেরকে বঝাতে হবে। এছাড়াও এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে পড়াশোনার আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেশি থাকে যেমন কোন লাইব্রেরী কিংবা কোন জাঁকজমকপূর্ণ আড্ডা দেবার জায়গা। এমন কোন একটি স্থান নির্বাচন করে আপনাকে দোকান তৈরি করতে হবে।

বই দোকান এর আয়তন কেমন হবে?

বইয়ের দোকান ব্যবসা করতে হলে আপনাকে দোকানের আয়তন এর ওপরে নজর দিতে হবে। যদিও বইয়ের দোকান ব্যবসা করতে দোকানের আয়তন অতটা গুরুত্ব পুণ্য থাকে না যতটা গুরুত্বপূর্ণ দোকানে থাকা বিভিন্ন ধরনের বইয়ের ওপর থাকে। আপনি যদি কলেজ স্ট্রিটে আসেন তাহলে দেখতে পাবেন ছোট ছোট গুমটি করে বই ব্যবসা করছেন কয়েক হাজার বই ব্যবসায়ী। তবে আপনার কাছে যেমন পুঁজি থাকবে সেই অনুযায়ী বিনিয়োগ করে আপনি বইয়ের দোকানের আয়তন তৈরি করবেন। অর্থাৎ আপনার কাছে বেশি বুজি থাকলে আপনি বড় দোকান ভাড়া নিতে পারেন আবার কম পুঁজি থাকলে ছোট দোকান দিয়েও বইয়ের ব্যবসা করতে পারেন। তবে 10/5 ফুটের ঘর হলে খুব ভালোভাবে আপনি বইয়ের দোকান তৈরি করতে পারবেন।

বই দোকান ডেকোরেশন কেমন হবে?

বই ব্যবসা করতে হলে বইয়ের দোকান ডেকোরেশন এর ওপর আপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। যে কোন ব্যবসার খেতেই দোকান ডেকোরেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি কিভাবে আপনার ব্যবসা পরিচালনা করবেন তার অনেকটাই নির্ভর করবে দোকান ডেকোরেশন এর ওপর। যেমন একটা বইয়ের দোকান ভালো ভাবে ডেকোরেশন করার জন্য দেওয়ালে একাধিক সেল্ফ থাকতে হবে। প্রতিটা সেল্ফ এর তাকে বই সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে হবে। বিভিন্ন ক্লাব বা বিভিন্ন ক্যাটাগরির বই আলাদা আলাদা ভাবে সাজাতে হবে। এছাড়াও দোকানে পড়াশোনার আনুষাঙ্গিক সামগ্রী যেমন পেন খাতা পেন্সিল রং ইত্যাদি জিনিস দিয়ে ভালো করে সাজাতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে বই দোকান আকর্ষিত করার জন্য বাইরে বইয়ের দোকানের নাম সহ বিভিন্ন ফ্লেক্স লাগাতে পারেন।

বইয়ের ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

বইয়ের ব্যবসা করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসায় নামতে হবে। বই কেনা থেকে শুরু করে দোকান ঘর ভাড়া এবং দোকান ডেকোরেশন এর সমস্ত খরচ হিসাবে এই টাকা আপনার শুরুতে খরচা হবে। তবে আপনি যদি ছোট করে বইয়ের দোকান ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি 30 থেকে 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসা করতে পারবেন। তবে আপনাকে বলব ভালোভাবে বই ব্যবসা শুরু করুন আর 50 থেকে 1 লক্ষ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যবসাটি আকর্ষণীয় করে তুলুন।

বইয়ের ব্যবসায় কোথায় থেকে বই কিনবেন?

কলকাতার কলেজস্ট্রিট বইপাড়া :

বই দোকানের ব্যবসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই অল্প দামে বই কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। তার জন্য আপনি এই ব্যবসা শুরু করার আগে একবার মার্কেট রিসার্চ করতে পারেন। তবে আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গে থাকেন তাহলে আপনি অবশ্যই জানবেন বই সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যায় কলকাতার কলেজস্ট্রিট অঞ্চলে। পশ্চিমবঙ্গের থাকা প্রতিটা বাচ্চা ছেলে পর্যন্ত কলকাতার কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া কে খুব ভালোভাবেই চেনে। এই কলেজস্ট্রিট অঞ্চল থেকে আপনি পুরাতন বই নতুন বই দেশি-বিদেশি সমস্ত ধরনের বই পেয়ে যাবেন।

কলকাতা ইউনিভার্সিটির দুই সাইডে রয়েছে কলকাতার এই বই বাজার। এখান থেকে আপনি নার্সারি থেকে পিএইচডি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি সমস্ত ধরনের সবরকম ভাষার বই পাবেন। এছাড়াও এই অঞ্চলে রয়েছে একাধিক প্রকাশনা কোম্পানি। আপনি চাইলে প্রতিটি প্রকাশনা কোম্পানির কাছে সরাসরি ডিলারশিপ নিতে পারেন এবং সেখান থেকে খুবই অল্প মূল্যে প্রতিটি বই কিনতে পারেন। প্রতিটা বই এই অঞ্চল থেকে আপনি যদি কেনেন তাহলে আপনাকে প্রতিটা দোকান বা প্রকাশনা কোম্পানি থেকে 60 থেকে 70 শতাংশ ডিসকাউন্ট দেবে। কলকাতার এই কলেজস্ট্রিট অঞ্চলে আপনি পেয়ে যাবেন কোন বড় বড় পরীক্ষার অর্থাৎ কম্পিটিটিভ এক্সামের বইসহ ইউপিএসসি, ডব্লিউবিসিএস, ক্যাট, ম্যাট ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বই।

আবার কলকাতার নতুন বই বাজারে আপনি পেয়ে যাবেন ভারত-বাংলাদেশ এবং সমস্ত পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন ধরনের বই। এই অঞ্চলে গল্প-উপন্যাস বিজ্ঞান ইতিহাস ভূগোল ভাষাবিজ্ঞান ইত্যাদি ধরনের বিভিন্ন রকমের বই পাবেন। এছাড়াও আপনি এই এলাকা থেকে সমস্ত পশ্চিমবঙ্গের ইউনিভার্সিটির প্রচলিত প্রতিটা বই এবং নোটস খুব অল্প মূল্যে পাবেন। আপনি যদি কমপ্লিটেড এক্সাম দিতে চান তাহলে আপনি এই অঞ্চল থেকে এসে আপনার প্রয়োজনীয় বই কিনতে পারেন। এই কলেজস্ট্রিট অঞ্চলে শুধুমাত্র পাইকারি দামে বই বিক্রি করা হয় না, খুচরো বই বিক্রি করা হয় তাতেও অনেক ছাড় দেওয়া হয়ে থাকে। আবার এখান থেকেই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার সারা বছরের ব্যবহার করার নোট বই বা খাতা, পেন, পেন্সিল, রাবার সবই পাইকারি দামে।

আরো পড়ুন- ডালিমের হোলসেল বিজনেস

College Street Boipara

বাংলাবাজার

বাংলাদেশের ঢাকার ডাকঘরের উল্টো দিকে অবস্থিত বাংলা বাজার। এই বাংলাবাজারে শুধু বইয়ের দোকান নয় বই ছাপানোর প্রকাশনী ও রয়েছে অসংখ্য। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে থাকেন তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে আদর্শ তম বই কেনার জায়গা হল এই বাংলা বাজার। বই দোকানের ব্যবসা করতে হলে আপনি এই অঞ্চলে এসে পাইকারি দামে বই কিনতে পারেন প্রতিটা বইয়ের পেছনে আপনাকে 30% থেকে 50% ছাড় দেওয়া হতে পারে। এছাড়া আপনি যদি সরাসরি প্রকাশনা কোম্পানির কাছ থেকে বই কিনে ব্যবসা করতে চান তাহলে আরও অনেক বেশি পরিমাণে ছাড় পেতে পারেন।

বইয়ের ব্যবসায়ী কর্মচারী নিয়োগ

বইয়ের দোকান ব্যবসা করলে আপনাকে আলাদা করে কোন কর্মচারী না নিয়োগ করেও এই ব্যবসা করা যায়। আপনার যদি ছোট কোন দোকান থাকে তাহলে আপনি চাইলে একাই ব্যবসা করতে পারেন তবে কর্মচারী যদি আপনার দোকানে থাকে তাহলে আপনার সুবিধা হবে অনেক বেশি। যেমন কর্মচারী থাকলে সেই কর্মচারীকে দিয়ে আপনি মার্কেট থেকে বই কিনে আনতে পারেন। আবার যদি কোনো অনলাইন ডেলিভারির ব্যাপার থাকে তাহলে সেই কর্মচারীকে দিয়েই বই ডেলিভারি পাঠাতে পারেন। আবার দোকানে যখন ভিড় থাকবে বা কোনো কারণবশত আপনি অনুপস্থিত থাকবেন, তখন সেই কর্মচারীকে দিয়ে এ দোকান পরিচালনা করতে পারবেন।

অনলাইনে বই দোকান ব্যবসা:

বর্তমানে অনেক উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাথে সাথে অনেক উন্নত মানের কোচিং সেন্টার করোনার পর থেকে তাদের পড়াশোনা অনলাইনেই করাচ্ছে। অনলাইনে পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে বইগুলো পিডিএফ আকারে বিভিন্ন সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আবার অনেকে বাইরে দোকানে গিয়ে বই না কিনে অনলাইনের মাধ্যমেই বই কিনছে। তাই আপনি যদি আপনার ব্যবসাকে অনলাইনের মধ্য দিয়ে শুরু করতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসা অনেক দ্রুততার সাথে উন্নতি করতে পারে।

অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা কিভাবে করা হয়?

অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে একটা ওয়েবসাইট প্রথমে বানাতে হবে। সেই ওয়েবসাইটে প্রতিটা বইয়ের পিডিএফ কপি পোস্ট করতে হবে। এবং ওয়েবসাইট থেকে পড়ার জন্য আপনি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের চার্জ ধার্য করতে পারেন। তারপর আপনাকে সেই ওয়েবসাইটের প্রমোশন করতে হবে বা বিজ্ঞাপন দিতে হবে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক দের কাছে। যত দ্রুত তার সাথে আপনার ওয়েবসাইটটি মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে ততো বেশি তারা আপনার ওয়েবসাইট থেকে বই পড়া শুরু করবে এবং ততো বেশি পরিমাণে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এই অনলাইনের ওয়েবসাইটের ধারা বইয়ের ব্যবসাটি দীর্ঘমেয়াদী প্রসেস কিন্তু এই ব্যবসাতে লাভের পরিমাণ হয় অনেক বেশি। এইরকম একটা জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো কিন্ডেল।

ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রাম পেজ খুলুন

আপনি অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা করতে গেলে সর্বপ্রথম ফেইসবুক এ একটি পেজ খুলুন এবং ইনস্টাগ্রামে একটি পেজ খুলুন। তারপর নিয়মিত সেই পেজে পড়াশোনা সংক্রান্ত বা বই সংক্রান্ত পোস্ট করতে থাকুন। দেখবেন ধীরে ধীরে এই পেজগুলোতে অনেক হলো আর বেড়ে যাবে এবং তার মধ্য দিয়েই আপনি আপনার অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করুন এবং খুব দ্রুততার সাথে বইয়ের দোকান ব্যবসা অনলাইনেই শুরু করুন। আমরা সকলেই জানি বাংলাদেশ কিংবা ভারত দুটো জায়গাতেই ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম নতুন প্রজন্মের কাছে কতটা জনপ্রিয়। তাই সবসময় খেয়াল করতে হবে জনপ্রিয় জিনিসগুলোর ওপরেই যদি আপনি আপনার ব্যবসার সূচনা করেন তাহলে খুব দ্রুততার সাথে ব্যবসার উন্নতি ঘটতে পারে।

অনলাইন বইয়ের ব্যবসার জন্য কর্মচারী নিয়োগ

অনলাইনে বইয়ের ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। তবে ব্যবসার শুরুটা আপনি তিনজন কর্মচারীকে দিয়ে করতে পারেন। একজনের দায়িত্ব থাকবে শুধুমাত্র ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম এ বিভিন্ন পোস্ট করা এবং ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম থেকে বইয়ের অর্ডার সংগ্রহ করা। আর একজনের কাজ থাকবে প্রকাশনা থেকে বইগুলি সংগ্রহ করে নিয়ে আসা বা অন্যকোন পাইকারি বইয়ের দোকান থেকে বই সংগ্রহ করে নিয়ে আসা।

আর একজনের দায়িত্ব থাকবে সেই বইগুলো সুন্দর করে প্যাকেজিং করে পোস্ট অফিস বা কুরিয়ার এর সাহায্যে গ্রাহকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া। এছাড়াও আপনি চাইলে আপনার এলাকার মধ্যে আপনি নিজেই হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা চালু করতে পারেন । এই ভাবে যদি আপনি আপনার ব্যবসা শুরু করেন তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার ব্যবসা মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করবে এবং এই তিনজন কর্মচারী থেকে কখন যে শতাধিক কর্মচারী নিয়ে আপনি আপনার ব্যবসা করছেন তা আপনি নিজেই বুঝে উঠতে পারবেন না।

বই সরবরাহের ব্যবস্থা

অনলাইনে বইয়ের দোকান ব্যবসা আপনি যদি শুরু করেন বা বইয়ের ব্যবসা যদি শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে অর্ডার করা প্রতিটা বই কাস্টমারের কাছে ডেলিভারি করার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য আপনার কোম্পানিকে এমন কিছু ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে যাতে কাস্টমারের কাছে 3 থেকে 10 দিনের মধ্যে অর্ডার করা বই পৌঁছে যায়। তার জন্য আপনাকে সরকারি ছুটি, কিংবা কোনো কারণবশত প্রকাশনার অফিস বন্ধ, বা অন্য কোনো কারণবশত কোরিয়ার অফিস বন্ধ, এইসব জিনিসগুলো মাথায় রেখে আপনার ডেলিভারি ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। আপনি বইয়ের অর্ডারে টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে তিন ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

  • ক্যাশ অন ডেলিভারি
  • নেট ব্যাঙ্কিং
  • অগ্রিম বুকিং

অবশ্যই পড়ুন- অল্প পুজিতে ওষুধের ব্যবসার আইডিয়া

পুরাতন বইয়ের ব্যবসা

এখনকার দিনে অনেকেই আছেন যারা একটা বই পড়ার পর সেই বইটা বিক্রি করে দেয় আবার বই দোকানেই। আর একদল মানুষ আছেন যারা নতুন বই কেনার পরিবর্তে এই ধরনের পুরনো বই কিনতে বেশি পছন্দ করেন। পুরানো বই কিনলে দামে অনেকটা কম হয় ফলে কাস্টমারের কিছুটা লাভ থাকে। আর আপনি যদি এই পুরাতন বই সংগ্রহ করে কাস্টমারকে বিক্রি করতে পারেন তাহলেও আপনার পুরাতন বই বিক্রি করে লাভের পরিমাণ টা নতুন বইয়ের মতন হতে পারে।

আপনাদের অনেকেই রয়েছেন যারা পুরাতন বই নিয়ে ব্যবসা করতে চান। এই পুরাতন বই সংগ্রহ করার জন্য অনেক মানুষ আছে যারা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে পুরাতন বই কেনেন। এই পুরাতন বই কেজি দরে অনেকে যারা কিনে থাকে তাদের কাছ থেকে আপনি কিনে নিয়ে অর্ধেক দামে বিক্রি করে অনেক বেশি পরিমাণে লাভবান হতে পারেন। তবে পুরাতন বইয়ের ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে বইয়ের দোকান আগে থেকেই তৈরি করতে হবে কারণ পুরাতন বই সাধারণত দোকান থেকে কিনতে বেশি পছন্দ করেন মানুষেরা।

Old book business
পুরাতন বইয়ের ব্যবসা

বইয়ের দোকান ব্যবসায় লাভ কত?

সাধারণত আপনি যদি কোনো প্রকাশনা থেকে সরাসরি বই কিনে ব্যবসা করেন তাহলে সেই প্রকাশনা কোম্পানিগুলি আপনাকে 40 থেকে 60 শতাংশ কমিশনের বই দিতে পারে। আর আপনি যদি কোন বইয়ের হোলসেলার দোকান থেকে বই কিনে ব্যবসা করেন তাহলে আপনাকে সেই বই দোকান বিক্রেতা 40% থেকে 50% কমিশন দেবে। আর আপনি সেই বই বিক্রি করে কাস্টমার এর কাছ থেকে অনেক বেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

বলা যেতে পারে এক কথাতে একটা বই বিক্রি করলে আপনার লাভ থাকতে পারে 50 টাকা থেকে 500 টাকা পর্যন্ত। বইয়ের দামের ওপর নির্ভর করবে আপনার লাভের পরিমাণ টা। যত দামি বই আপনি বিক্রি করতে পারবেন লাভের পরিমাণটাও ততো বেশি পরিমাণে থাকবে। একজন বইয়ের ব্যবসায়ীর প্রতি মাসের ইনকাম 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা ও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এই লাভের পরিমাণ টা নির্ভর করবে কোন জায়গাতে এবং কী ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে ব্যবসা করছেন সেই ব্যবসায়ী তার ওপর।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: বইয়ের দোকান ব্যবসা করতে কত পুঁজি লাগে?

উত্তর: 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা ন্যূনতম পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় বইয়ের দোকান ব্যবসা করতে গেলে।

প্রশ্ন: বইয়ের দোকান তৈরি করতে কত বড় জায়গা লাগে?

উত্তর: কম করে 5/10 ফুটের একটা ঘর হলেই আপনি বইয়ের দোকান ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

প্রশ্ন: বাংলাবাজার বই মার্কেট কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: বাংলাবাজার বই মার্কেট ঢাকার ডাকঘরের উল্টোদিকেই অবস্থিত।

প্রশ্ন: পুরাতন বই কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: পুরাতন বই কেনার জন্য আপনি যেকোনো বই মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে খোঁজ করতে পারেন। প্রতিটা বইয়ের মার্কেট এই একাধিক পুরাতন বই এর দোকান থেকে।

প্রশ্ন: বইয়ের দোকান ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: বইয়ের দোকান ব্যবসায় লাভ হয় ন্যূনতম 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা পর্যন্ত

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

১০ টি অনলাইন ইনকাম করার উপায়

জুতার ব্যবসা করার আইডিয়া

Leave a Comment