ফলের ব্যবসা করুন অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে | Fruit business is now 50 thousand rupees , Wow

আমরা সবাই জানি প্রতিটা পরিবারে ছোট বড় সকলেই ফল খেতে ভালোবাসে। ফল মানুষ এমনি এমনি খায় না শরীরের উপকারের জন্যও ফল খাওয়া হয়। যেভাবে প্রতিটা জিনিসের দাম হুহু করে বাড়ছে তাই ফলের বাজারও খুব বেড়ে গেছে বর্তমান সময়ে। তবুও স্বাস্থ্য সচেতন মানুষরা ফল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখেন। আপনি যদি ফলের ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনি এই ব্যবসা থেকে ভালো টাকা উপার্জন করতে পারবেন। ফলের ব্যবসা যেমন অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে শুরু করা যায়, তেমন এই ব্যবসায় যে টাকা বিনিয়োগ করবেন সমপরিমাণ টাকা আপনি প্রতি মাসেও ইনকাম করতে পারেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই ব্যবসা করার জন্য কি কি নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং কিভাবে আপনার ব্যবসা সফল করবেন।

Table of Contents

ফলের খুচরো ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়?

ফলের খুচরা ব্যবসা করতে গেলে খুবই অল্প পরিমাণ পুঁজিবি নিয়োগ করতে হয় এবং এই ব্যবসা খুব সহজেই আপনি আপনার এলাকার যেকোনো জায়গায় করতে পারেন। যেহেতু ফল প্রতিটি মানুষকে খেয়ে থাকে তাই এই ব্যবসা খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা। ভারত বাংলাদেশ প্রতিটি দেশের মানুষ ফল খুবই পছন্দ করে। কাঁচা ফল যেমন খাওয়া হয় তেমন পাকা ফল খাওয়া হয় আবার ফল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রান্না ও ওষুধ তৈরি হয়। তাই জন্য দিনে দিনে এই ব্যবসা এতটা জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

এই ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে প্রথমে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে বেশি লোকের যাতায়াত রয়েছে অর্থাৎ বাজার এলাকা বা জনবহুল রাস্তার মোড়ের ধারে। আর আপনাকে জানতে হবে ফল কোথা থেকে অল্প দামে কিনতে পারবেন এবং কাস্টমারকে কিভাবে সেই ফল বিক্রি করতে হয়। তাই আজকের এই পোস্টে ফলের ব্যবসা সম্বন্ধিত যাবতীয় তথ্য দেওয়া হল যা আপনার ব্যবসা করার জন্য অনেকটাই সুবিধা করতে পারে।

কি ধরনের ফল বাজারে বিক্রি হয়?

এই ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে এটা বুঝতে হবে আপনি যে এলাকাতে ব্যবসা করছেন সেই এলাকার মানুষজন কি ধরনের ফল বেশি পছন্দ করে তার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে বাজার থেকে পাইকারি দরে ফল কিনে আনতে হবে। সাধারণত প্রতিটি জাগার মানুষ কিছু ধরনের ফল অবশ্যই পছন্দ করে আবার কিছু নতুন ফল যার দাম একটু বেশি তা শুধুমাত্র অবস্থা বর্ণ কিছু মানুষই খেয়ে থাকে তাই আপনার এলাকার বেশি বিক্রি হওয়া ফলগুলি আপনাকে কিনতে হবে এবং কিছু দামি ফলও আপনার কাছে রাখতে হবে। সাধারণত বাজারে যে ধরনের ফল বিক্রি হয় তা হল-

  • আপেল
  • লেবু (মুসাম্বি লেবু ও কমলালেবু)
  • আঙুর
  • নাশপাতি
  • আখরোট
  • পেয়ারা
  • আখ
  • পানিফল
  • জাম
  • কাঁঠাল
  • ড্রাগন ফুট
  • আমলকি
  • খেজুর
  • বাতাবি লেবু
  • আম
  • পাকা পেঁপে
  • তরমুজ ইত্যাদি
Wholesale trade of fruits
ফলের পাইকারি ব্যবসা

কিভাবে খুচরো ফলের ব্যবসা করবেন?

খুচরা ফলের ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনার এলাকার বাজারের মধ্যে অথবা রাস্তার মোড়ের ধারে ছোট চালা করে দোকান ঘর তৈরি করতে পারেন। আবার আপনি এই এলাকাগুলোতে ছোট দোকান ঘর ভাড়া নিয়েও ব্যবসা করতে পারেন। দোকানের সামনে ফল রাখার জন্য কাঠের সেলফ তৈরি করতে পারেন। আবার ছোট বড় বিভিন্ন ঝুড়িতে ফল সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পারেন। আধুনিক নিয়মে এই ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে আপনার ব্যবসার জন্য বেশ কয়েকটি ফ্লেক্স ছাপাতে হবে, যাতে বিভিন্ন ফলের ছবিসহ দাম দেওয়া থাকবে। যাতে কাস্টমার এসে সেই ফলের দাম নিয়ে যাচা যাচি না করতে পারে। কাস্টমারের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার এবং পরিষেবা আপনি যদি ভালোভাবে দিতে পারেন তাহলে খুব সহজেই আপনি খুচরো ফলের ব্যবসা করতে পারবেন।

অবশ্যই পড়ুন- খুব কম টাকা লাগিয়ে প্রতি মাসে 1 লাখ টাকা লাভ

ফলের পাইকারি ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়?

আপনি যদি ফলের পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটু বেশি পরিমাণের টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এই ব্যবসায়। ফলের পাইকারি ব্যবসা খুবই লাভজনক ব্যবসা কারণ আপনি ফল কিনে আনবেন সরাসরি চাষীদের কাছ থেকে কিংবা ফলের মান্ডি থেকে। বিভিন্ন জাগার ফলের মান্ডিতে ফলের প্রতি কেজির দাম পড়বে 10 টাকা থেকে 15 টাকা। সেই ফল আপনি খুচরা ফলের বিক্রেতাদের বিক্রি করবেন আরো 10-20 টাকা বেশি লাভ রেখে। অর্থাৎ যদি ফলের মান্ডি থেকে আপেল আপনি 30 টাকা কেজি ধরে কেনেন তাহলে সেই ফল খুচরো বিক্রেতাদের 50 টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারবেন।

সাধারণত ফলের মান্ডি থেকে ফল কিনতে গেলে আপনাকে একসাথে অনেক ফল কিনতে হবে এবং অনেক সময় নিলামে যে দাম উঠবে তার ওপর ভিত্তি করে ফল কিনতে হবে। ফলের পাইকারি ব্যবসা করার জন্য আপনাকে যেতে হবে ফলের বিভিন্ন মান্ডি ও ফল চাষের এলাকাতে। পাইকারি দরে ফল কিনে নিয়ে এসে আপনি আপনার এলাকার সকল খুচরো ফলের ব্যবসায়ীকে এই ফল বিক্রি করবেন নির্দিষ্ট কোনো দামে। খুচরো ফলের ব্যবসায় যেমন লাভ থাকে তার থেকেও বেশি লাভ থাকে ফলের পাইকারি ব্যবসা করে। ডালিমের পাইকারি ব্যবসার সম্বন্ধে একটি পোস্ট আগে থেকেই আছে আপনারা চাইলে দেখতে পারেন এবং ডালিমের পাইকারি ব্যবসা করে লাখপতি হওয়ার আইডিয়াটা ও জেনে নিতে পারেন- ডালিমের হোলসেল বিজনেস

ফলের পাইকারি বাজার কোথায়?

বিভিন্ন ফলের বিভিন্ন ধরনের পাইকারি বাজার রয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি আম কিনতে চান তাহলে আমের জন্য আলাদা পাইকারি বাজার রয়েছে, ডালিম কিনতে হলে তার জন্য আলাদা পাইকারি বাজার রয়েছে, আবার আপেল কেনার জন্য আলাদা পাইকারি বাজার রয়েছে, এই ধরনের বিভিন্ন ফলের জন্য আলাদা আলাদা পাইকারি বাজার তৈরি করা রয়েছে। সাধারণত যে এলাকায় যে ধরনের ফলের চাষ বেশি হয় সেই এলাকার মধ্য গড়ে ওঠে ফলের এই ধরনের মান্ডি ও পাইকারি বাজার। তাই আপনি যখন ফলের পাইকারি ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনাকে যেতে হবে এইসব ফলের মান্ডি গুলিতে। আপনাদের সুবিধার জন্য ভারতের বিভিন্ন ফলের মান্ডি ও বাংলাদেশের ফলের পাইকারি বাজারের যোগাযোগ নাম্বারও এড্রেস দেওয়া হল।

ভারতের ফলের পাইকারি বাজার:

  • Mechhua Fruit Market– Raja Katra, Jorasanko, Kolkata, West Bengal 700007
  • Abs fruit– 7/1ram lochan malik Street machua mandi kolkata, Kolkata, West Bengal 700007
  • Azadpur Mandi– Azadpur new sabji mandi Shop no. B-724, Delhi
  • Shree Shyam Mandi– Vatika India Next, Sector 82, Gurugram, Haryana 122012
  • Fruit Mandi– Neighborhood in Jodhpur, Rajasthan
  • Azadpur Fruit Market– Ashok Vihar, Block C, Lal Bagh, Model Town, New Delhi, Delhi 110009
  • Fruit Market– JC43+V8F, Block A, Bangur Avenue, Kolkata, West Bengal 700089

ফলের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয়?

এই ব্যবসা করার জন্য খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করেই শুরু করা যায়। আপনি যদি খুচরা ফল ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি মাত্র 50 হাজার টাকার বিনিয়োগ করে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে আপনি যদি একাধিক জায়গাতে ফলের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে আর একটু টাকা বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। একটা ফলের দোকান তৈরি করতে সাধারণত 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করেই ব্যবসার কাজ করা যায়।

আর আপনি যদি ফলের পাইকারি ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে 1 লক্ষ টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকার মত বিনিয়োগ করতে হবে এই ব্যবসায়। কারণ ফলের পাইকারি ব্যবসায়ীদের একসাথে কুইন্টাল কুইন্টাল ফল কিনতে হয় ফলের মান্ডিগুলি থেকে। একসাথে যেহেতু কুইন্টাল কুইন্টাল ফল কিনতে হচ্ছে তার জন্য কয়েক লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। যদিও এই পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তাদের বিনিয়োগের টাকার তিনগুণ ইনকাম করে নেন।

আরো পড়ুন- কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ তথ্য

ফলের দোকান দিয়ে ব্যবসা করুন (Trade with the fruit shop)

ফল ব্যবসা করাটা খুবই সহজ কাজ, এই ব্যবসা থেকে প্রচুর টাকা লাভ হয় তাও আপনারা খুব ভালোভাবেই জানেন। অনেক ফলের ব্যবসায়ী আছেন যারা ভ্যানেতে ফল বিক্রি করে। এই ব্যবসায়ীরা ধ্যানের ওপর ফল সাজিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফল বিক্রি করে থাকেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা ঝুরিতে করে ফল নিয়ে ট্রেনে বাসে উঠে বিক্রি করেন। তবে আপনি যদি ফলের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি এই সকল খুচরা ফল ব্যবসায়ির থেকে বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

ফলের দোকান দেওয়া খুবই সহজ কারণ আপনি একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন আপনার এলাকার প্রতিটা বাজার এবং রাস্তার মোড় গুলিতে একাধিক ফলের দোকান রয়েছে। তাই আপনাকে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করতে হবে যে এলাকায় ফলের দোকানের সংখ্যা খুবই কম এবং ফলের দাম অনেক বেশি। এইরকম জায়গা নির্বাচন করে আপনাকে ফলের দোকান দিতে হবে এবং অন্য ফলের ব্যবসায়ীদের থেকে অল্প টাকায় ফল বিক্রি করতে হবে। এইভাবে ব্যবসা করলে আপনি খুব দ্রুততার সাথে অনেক কাস্টমার পেয়ে যাবেন এবং আপনার ব্যবসায় প্রচুর উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমানে ছোট বড় ফলের দোকানগুলি প্রতি মাসে প্রচুর টাকা উপার্জন করেন।

আধুনিক পদ্ধতিতে ফলের ব্যবসা (Fruit Trading in Modern Mode)

যেহেতু বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগ তাই আপনিও ফল ব্যবসা আধুনিক পদ্ধতিতে করলে বেশি লাভবান হতে পারবেন। এই আধুনিক পদ্ধতিতে ফল ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে এবং অ্যাপ বানাতে হবে। এই অ্যাপ আর ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন আপনি যে এলাকায় ব্যবসা করবেন সেই এলাকার মধ্য ব্যাপকভাবে করতে হবে। মানুষের কাছে যখন আপনার ফলের ব্যবসা পরিচিতি লাভ করবে তখন আপনি অনলাইনে ফল হোম ডেলিভারি দেওয়ার কাজ করতে পারেন।

ফল হোম ডেলিভারি দিলে অনেক মানুষ আছেন যারা বাড়িতে বসেই ফল কিনতে পারবে এবং ফলের দোকানে বিক্রি যা হচ্ছে তার থেকেও বেশি আপনি অনলাইনে ইনকাম করা শুরু করবেন। ফলের হোম ডেলিভারি ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে একজন কিংবা দুইজন ডেলিভারি বয় হিসেবে কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। এইভাবে খুচরো ফল ব্যবসা কেউ একটি বড় আকারের ব্যবসায় রূপান্তরিত করতে পারেন আপনি। একটু বুদ্ধি খরচ করে আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে যদি আপনার পুরনো ব্যবসাকে বড় করতে চান তাহলে অবশ্যই এই জিনিস করতে পারেন। আপনি যদি ভাবেন কোন অ্যাপ বা ওয়েবসাইট না তৈরি করে ব্যবসাটি ফোন কলের মধ্য দিয়ে করবেন তাহলেও করতে পারেন।

এর জন্য আপনি পোস্টার ছাপাতে পারেন যে ‘এক কলে ফল বাড়িতে’এই ধরনের কোটেশন ব্যবহার করে ফোন নাম্বার দিয়ে। মানুষ যখন বুঝবে যে তারা বাজারে গিয়ে ফল না কিনেও শুধুমাত্র ফোন করে অর্ডার দিলেই তাদের বাড়িতে ফল এসে পৌঁছে যাবে তখন তারা এই পদ্ধতি বেশি ব্যবহার করবে। বর্তমানে আপনি লক্ষ্য করবেন বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি সাইট এই পদ্ধতিতেই ব্যবসা করছে। আপনিও আপনার ব্যবসাকে আধুনিক পদ্ধতিতে করুন এবং দ্রুততার সাথে ব্যবসার উন্নতি করুন।

fruit shop
ফলের দোকান

ফলের ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্সের প্রয়োজন? (What license is required to trade fruit?)

আপনি যদি ছোট খুচরো ফলের বিক্রেতা হন তাহলে আপনাকে কোন লাইসেন্স নিতে হবে না। কারণ ছোট বিক্রেতাদের আইনি জটিলতা অনেক কম হয় বড় বিক্রেতাদের থেকে। তবুও আপনি চাইলে একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে রাখতে পারেন। তবে আপনি যদি ফলের পাইকারি বিক্রেতা হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে দুই একটি লাইসেন্স নিতে হবে। আবার আপনি যদি ফলের ব্যবসাকে খুব বড় আকারের করতে চান তাহলেও আপনাকে বেশ কয়েকটি লাইসেন্স নিতে হবে।

সাধারণত এই ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স এবং যে বাজারে ব্যবসা করছেন তাদের অনুমোদন পত্র হলেই চলে যায়। এছাড়া আপনার ব্যবসায়ী যদি দুই তিন লাখ টাকা ইনকাম করা শুরু করেন তাহলে আপনাকে জিএসটি নাম্বার নিতে হবে। এই জিএসটি নাম্বার শুধুমাত্র ফলের পাইকারি বিক্রেতাদের জন্য বেশি করে বৈধ। এছাড়া আপনি যে দেশের নাগরিক তার জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র থাকলেই আপনি খুব সহজেই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন বিনা আইনি জটিলতায়।

অবশ্যই পড়ুন- 1 হাজার টাকায় ভিনিগার তৈরির ব্যবসা করুন

কিভাবে ফলের ব্যবসার মার্কেটিং করবেন? (How to market a fruit business?)

আপনি একজন ফলের বিক্রেতা হিসাবে জানেন যে বাজারে আরও অনেক ফলের বিক্রেতা রয়েছে তাই ফলের ব্যবসায় বেশি লাভ করতে হলে সঠিক মার্কেটিং করতে হয়। ফলের মার্কেটিং করার জন্য আপনি পুরনো কিছু পদ্ধতির সাথে সাথে নতুন আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ যে পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্যবসার উন্নতি করতে পারবেন তা হল-

  • যে এলাকায় ব্যবসা করছেন সেই এলাকার আশেপাশে আপনার ব্যবসার নামের ছোট বড় পোস্টারিং করুন এবং মানুষকে জানান আপনি অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে কম দামে ভালো ফল বিক্রি করেন।
  • যে এলাকায় ব্যবসা করছেন সেই এলাকার বাজার এলাকাতে বা রাস্তার মোড় গুলিতে বড় বড় ফ্লেক্স ঝাপিয়ে লাগাতে পারেন এবং এতে অনেক ভালো বিজ্ঞাপন হয়ে যায় আপনার ব্যবসার জন্য।
  • প্রতিটি কাস্টমারের সঙ্গে ভালো ব্যবহার রাখুন এবং তার মধ্য দিয়ে সেল্ফ মার্কেটিং করুন।
  • আপনি যে এলাকায় ব্যবসা করছেন সেই এলাকার মধ্যে ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবের দ্বারা অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন অনলাইনে। যেহেতু বর্তমান সময়ের মানুষেরা বেশি অনলাইনের ওপর নির্ভরশীল তাই অনলাইনে আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিলে দ্রুততার সাথে মানুষের কাছে পরিচিত লাভ করবে আপনার দোকানটি এবং তারা বেশি করে আপনার কাছ থেকেই ফল কেনার চেষ্টা করবে।
  • ফলের হোম ডেলিভারি যে আপনি করেন তা মানুষকে জানানোর জন্য আপনি ব্যবসার শুরুতে গাড়িতে মাইক লাগিয়ে এলাকায় এলাকায় মাইকিং প্রচার করতে পারেন।

ফলের ব্যবসায় লাভ কত? (What is the profit in the fruit business?)

আপনি যদি ভালোভাবে ফলের ব্যবসা করতে চান তাহলে এই ব্যবসা থেকে আপনি প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারবেন। বোঝার সুবিধার জন্য বলা যেতে পারে যদি আপনি ফলের ব্যবসায় 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন তাহলে আপনি প্রতি মাসে ব্যবসা করে 30 থেকে 40 হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন। শুনে হয়তো একটু অবাক হতে পারেন কারণ 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কি করে প্রতি মাসে 30 হাজার টাকা লাভ করা যায় তাহলে বলছি শুনুন, 60 টাকা কিজি দারে পাইকারি আপেল কিনে আপনি 100 টাকা থেকে 120 টাকা দামের মধ্যে কাস্টমারকে বিক্রি করতে পারেন। বাংলাদেশে তো আবার 100 টাকা কেজি আপেল কিনে 160 টাকায় বিক্রি করা হয়।

যেহেতু বাংলাদেশে আপেল চাষ হয় না তাই তাদেরকে আপেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, এই কারণে নামটা একটু বেশি হয়। তবে যে কোন ছোট ফলের ব্যবসায়ী প্রতি মাসে 30 থেকে 40 হাজার টাকা উপার্জন খুব সহজেই করতে পারেন এই ব্যবসায়। ফলের পাইকারি ব্যবসায়ী প্রতি মাসে 2 লাখ থেকে 5 লাখ টাকাও আয় করতে পারেন। ফলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা যেমন ফল কেনার জন্য অনেক টাকা বিনিয়োগ করে তেমনি ফল খুচরো দোকানদারদের বিক্রি করে তিনগুণ হারে লাভ করে।

ফল বিক্রি তে সতর্কতা

আপনি যদি একজন ফলের ব্যবসায়ী হন বা হতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে ফলের ব্যবসা করার বিভিন্ন সমস্যা ও সতর্কতা গুলি। কারণ এই ব্যবসা করতে গেলে কিছু সমস্যা আসবে এবং তা সমাধান করেই আপনাকে ব্যবসা করতে হবে। তাই ফলের ব্যবসার জন্য যে সকল সমস্যা আপনার আসতে পারে তা হল-

  • আপনি যে ফল বিক্রি করছেন তার চাহিদা কেমন আছে। যদি ফলের চাহিদা কম থাকে তাহলে ফল অল্প তুলতে হবে।
  • ফল যেহেতু বেশিদিন থাকে না তাই টাটকা ফল বিক্রি করতে না পারলে আপনার ফলের দাম কমে যাবে।
  • ফল খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় তাই ফলকে সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে এবং ফলের গায়ে জল বসতে দেওয়া চলবে না।
  • ভালো ফল এবং খারাপ ফল কে আলাদা আলাদা ভাবে বিক্রি করতে হবে তা না হলে ভালো ফলের দাম ও খারাপ ফলের মতোই কমে যাবে।
  • আপনার ব্যবসার সাথে যুদ্ধ কর্মচারীদের দক্ষতা এবং সততা বুঝে আপনাকে নিয়োগ করতে হবে।
  • ক্রেতার সঙ্গে সর্বদা আপনাকে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং তাকে খুশি করার জন্য দরকার বুঝে দাম অল্প কমাতে হবে

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

ফলের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 30 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা।

ফলের পাইকারি ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 2 লক্ষ টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকা পাইকারি ফলের ব্যবসা করতে লাগে।

ফলের দোকানের আয়তন কত হওয়া উচিত?

উত্তর: 6/10 ফুট বা 6/6 ফুট দোকানের আয়তন হলেই যথেষ্ট।

ফলের ব্যবসা কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: গ্রাম কিংবা শহরের যে কোন জায়গায় ফলের ব্যবসা করা যায়, তবে ফলের ব্যবসা করতে গেলে বাজার এলাকা বা রাস্তার মোড় হলে সবথেকে ভালো।

ফলের ব্যবসায় লাভ কেমন?

উত্তর: 30 হাজার টাকা থেকে 40 হাজার টাকা একজন ছোট ফলের ব্যবসায়ী প্রতি মাসে লাভ করতে পারে। আবার একজন বড় ফলের ব্যবসায়ী 2 লাখ টাকা থেকে 10 লাখ টাকাও ইনকাম করতে পারেন প্রতি মাসে।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

ন্যাপথালিন বল তৈরির ব্যবসা

বাড়িতে চকলেট তৈরির ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয়

Leave a Comment