ফলের জুসের ব্যবসা | খুব কম টাকা লাগিয়ে প্রতি মাসে 1 লাখ টাকা লাভ | Fruit juice business RIGHT NOW

ফলের জুসের ব্যবসা একদম ইউনিক আইডিয়া বর্তমান সময়ের জন্য। কারণ এই সময় মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের কোলড্রিংকস পাওয়া গেলেও ফলের জুসের মার্কেট এটা এখনো পর্যন্ত খুব কম পরিমাণে রয়েছে বাজারে।

এবং এই ব্যবসাটি করার পরে আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন, আপনাদের ঘর থেকে মাল কিনে নিয়ে যাবে ব্যবসায়ীরা। এতটাই বেশি পরিমাণ এর ডিমান্ড এই ফলের জুস ব্যবসায় বা জুস বার তৈরীর ব্যবসায়

Table of Contents

স্বল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করার উপায় | Fruit juice ব্যবসা

কি উপায়ে আপনারা এই জুস বার তৈরির ব্যবসা শুরু করবেন এবং খুব অল্প পরিমাণে টাকা ইনভেস্ট করে কিভাবে প্রতি মাসে 30-40 হাজার টাকা ইনকাম করবেন তা আপনারা নিজেরাই দেখুন।

ফলের জুসের ব্যবসা
ফলের জুসের ব্যবসা

ফলের জুসের ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ হয়

মাত্র 13 হাজার টাকা খরচ করে আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ফলের জুসের ব্যবসা শুরুর যেহেতু আপনি অল্প পুঁজি দিয়ে করবেন তেমন ইনকাম করবেন প্রতি মাসে 30 থেকে 40 হাজার টাকা
আবার আপনি যদি একটু বেশি পরিমাণ পুঁজি দিয়ে ব্যবসাটি শুরু করেন তাহলে প্রতি মাসে 1 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।

ফলের জুস ব্যবসায় কাঁচামাল কি কি লাগে?( Foler juice babsai kachamal)

ফলের জুসের ব্যবসায় মূল কাঁচামাল লাগে জুস ফ্লেভার।
১: বিভিন্ন ফলের জুস ফ্লেভার
২: প্রিমিক্স পাউডার
৩: চিনি
৪: জুস প্যাকেজিং প্যাকেট/ জুসের বোতল

জুস তৈরির কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়

ফলের জুস তৈরির কাঁচামাল গুলি আপনি আপনার নিকটবর্তী যেকোনো বড় মার্কেট থেকে পেয়ে যাবেন যদি আপনি দক্ষিণবঙ্গে থাকেন তাহলে কলকাতার সবচেয়ে বড় মার্কেট বড় বাজার সেখান থেকে আপনি পেয়ে যাবেন সমস্ত কাঁচামাল খুবই সস্তা দামে। উত্তরবঙ্গে থাকলে আপনি শিলিগুড়িতে খুব সস্তা দামে সমস্ত ধরনের কাঁচামাল পেয়ে যাবেন।
আর যদি আপনি বাংলাদেশে থাকেন তাহলে চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে খুবই অল্প দামে কাঁচামাল আপনারা পেয়ে যাবেন।
যেখান থেকে মেশিন কিনে বেন সেখান থেকেই সমস্ত কাঁচামাল পেয়ে যাবেন আপনারা।

ফলের জুস তৈরির মেশিন কোথায় থেকে কিনবেন

ফলের জুস বানানোর মেশিন আপনি যে কয়েকটা জায়গা থেকে খুব অল্প দামে পেয়ে যাবেন। সেই সকল জায়গার আমি নাম ফোন নাম্বার নিচে দিয়ে দিলাম। এই যোগাযোগ ফোন নাম্বারে আপনারা ফোন করলেই অনলাইনে অর্ডার দিতে পারেন ফলের জুস তৈরির মেশিন । আপনার ঘরে সরাসরি মেশিন দিয়ে যাবে কম্পানি।

যোগাযোগ নাম্বার- 9825203285/8657788265/7304888367

এছাড়া আপনি যদি চান আপনি নিজের সরাসরি কোম্পানিতে কি এ কাজটি শিখে নিজে থেকে মেশিন কিনে এবং সমস্ত কাঁচামাল সেই কোম্পানি থেকেই কিনে নিয়ে আসতে পারেন।

ফলের জুসের ব্যবসা

ফলের জুস কিভাবে বানাতে হয়?

ফলের জুস বানানোর প্রসেস খুবই সহজ প্রসেস। বাড়ির ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে একদম বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত খুব সহজেই চাইলে ফলের জুস বানাতে পারবে।
যে কোম্পানি থেকে আপনি আপনার মেশিনটি কিনবেন সেই কোম্পানি আপনাকে ফলের জুস বানানোর পদ্ধতি শিখিয়ে দেবে। এবং আপনি যদি চান আপনি নিজে থেকে আমার এই প্রতিবেদনটি পুরোটা পড়ার পরে আপনি কারোর কাছে না শিখেও নিজেই বানাতে পারবেন ফলের জুস এবং তৈরি করে ফেলবেন একটি সফল কোম্পানি।তাই আর দেরি না করে আমার এই পুরো প্রতিবেদনটি পড়ুন এবং শিখে নিন কিভাবে খুব কম টাকা খরচ করে আপনি একটি সফল ব্যবসা তৈরি করবেন। এবং সেই ব্যবসা আপনাকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করে দেবে।

অরেঞ্জ জুস তৈরির রেসিপি:

আপনি যখন বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করবেন তখন সেখান থেকে আপনাকে কিনতে হবে অরেঞ্জ জুস ফ্লেভার। তারপর অরেঞ্জ জুস ফ্লেভার টি একটা বালতিতে 10 লিটার জল নিয়ে সেই ফ্ল্যাটেই ঢেলে দেই 500 গ্রামের ফ্লেভার থেকে 50 লিটার অরেঞ্জ জুস আপনি তৈরি করতে পারবেন। তারপর সেই বালতিতে 5 কেজি চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়তে থাকুন, যতক্ষন পর্যন্ত চিনি না সম্পূর্ণ গলে না যায় ওই রসভর্তি জলেতে।


চিনি সম্পূর্ণ গলে গেলে অন্য একটি পাত্রে 5 লিটার শুধু পরিষ্কার জল নিন এরপর ওই পরিষ্কার জলে আগের মিশ্রন হওয়া জলটি থেকে 1 লিটার রস তুলে নিয়ে 5 লিটার জলে মিশিয়ে দিন। তারপর আরো কিছুক্ষণ নাড়ার পরে সেটা মেশিন এর ভেতর 3 এবং মেশিন অন করে আপনি যে পরিমাণ প্যাকেজিং করবেন সেই প্যাকেজিং প্যাকেটটি ধরার সাথে সাথে এটি ভর্তি হয়ে যাবে। এবং তারপর সেই প্যাকেটটা নিয়ে এল সিলিং মেশিন দ্বারা সিল করে আপনার প্রোডাক্ট তৈরি করে ফেলুন।

আনারসের জুস তৈরির উপায়:


বাজার থেকে কিনে আনা আনারস ফ্লেভার 10 লিটার জলে মিশিয়ে দিন এবং তার সাথেই আনারস ফ্লেভারের প্রিমিক্স পাউডার একই সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর 5 কেজি চিনি এই জলে মিশিয়ে মিশ্রণটি নাড়তে থাকুন যতক্ষন পর্যন্ত চিনি না সম্পূর্ণ গলে না যায়।
চিনি সম্পূর্ণ গলে গেলে অন্য আরেকটি পাত্রে 5 লিটার জল নিন।
এই জলে আগের মিশ্রিত রসের বালতি থেকে 1 লিটার রস তুলে নিয়ে মিশিয়ে দিন এবং এই মিশ্রণটি মেশিন এর ভেতর দিয়ে দিন তারপর মেশিন অন করে যে প্যাকেজিং প্যাকেট অথবা যে বোতলে ভরবেন সেই বোতলটি ধরুন এবং মেশিন অন করে দিলেই আপনার বোতলটি ভর্তি হয়ে যাবে তারপর সেই বোতলটা সিল করে আপনি আপনার মার্কেটে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করে ফেলুন।

পেয়ারার জুস, আপেল জুস, আনারস, ডালিমের জুস ,লেবুর জুস বানানোর উপায়

এইরকম যত ধরনের ফল হয় সমস্ত ফলের জুস ফ্লেভার আপনি বাজার থেকে কিনতে পারবেন সেই সমস্ত ফ্লেভার কি নেই এই ব্যবসাটি করতে হবে। এবং এই সকল ফলের জুস বানানোর উপায় একই পদ্ধতিতে করতে হয়।

জুস বার ব্যবসা
জুস বার ব্যবসা

জুস বার ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার দরকার?

ফলের জুসের ব্যবসা অথবা জুস বার তৈরির ব্যবসা করতে আপনার 10/10 এর এক কামরা ছোট ঘর হলেও এই ব্যবসাটা নিঃসন্দেহে করতে পারবেন।
কারণ এই ব্যবসাটি করার জন্য বেশি জায়গার দরকার হয় না শুধুমাত্র একটু বুদ্ধি খাটিয়ে ব্যবসাটি করলেই আপনার বাড়ি থেকে যেকোন ব্যবসায়ী/কম্পানি সবাই মাল কিনে নিয়ে যাবে আপনার কাছ থেকে।

জুস তৈরি মেশিনে কেমন ইলেকট্রিক লাগে?

ফলের জুস তৈরির মেশিন আপনি আপনার বাড়ি টু-টোয়েন্টি ইলেকট্রিক থেকেই চালাতে পারবেন।
তবে আপনার ব্যবসাটি যখন একটু বড় হয়ে যাবে তখন আপনাকে আপনার বিজনেসের জন্য একটা ইলেকট্রিক দরখাস্ত করতে হতে পারে যাতে আপনার মেশিনটি আলাদা করে মিটারের চালানো যায়।।
ইলেকট্রিক বিল একটা মেশিন থেকে প্রতিমাসে 2000 টাকার মতো আসতে পারে।

ফলের জুস তৈরির ব্যবসা করতে কি লাইসেন্স লাগে?

যেহেতু এটা একটা খাবার জিনিস এবং খাবার প্রোডাক্ট তাই আপনাকে প্রথমেই ফুড সেফটি লাইসেন্স নিতে হবে।
এরপর আপনার ব্যবসা করার জন্য একটা ট্রেড লাইসেন্স দরকার। আপনি যখন প্রতি মাসে দু লক্ষ থেকে চার লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন তখন আপনাকে GST লাইসেন্স নিতে হতে পারে।

fruit জুস ব্যবসায় ইন্সুরেন্স করাটা কতটা দরকার?

যে কোন ব্যবসা করতে গেলে ইন্সুরেন্স করাটা অত্যান্ত জরুরী। কারণ যদি কোনো কারণে ব্যবসায় কোন ক্ষতির সম্ভাবনা হয় সেখানে ইন্সুরেন্স থাকলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় । কিন্তু যদি আপনার কোন ইন্সুরেন্স না করা থাকে তাহলে ব্যবসায়ী কোন হঠাৎ খুব ক্ষতি হয়ে গেলে আপনার সেই ক্ষতিটা কোনভাবেই আপনি মেকআপ করে উঠতে পারবেন না। তার জন্য প্রতিটা ব্যবসা করতে গেলে প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসার জন্য একটা ইন্সুরেন্স করে নিতে হয়।

ফলের জুসের
ফলের জুসের মার্কেটিং

ফলের জুসের মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

ফলের জুস মার্কেটিং করাটা খুবই সহজ উপায়ে কারণ বাজারে অন্য সকল পানীয় পাওয়া গেলেও ফলের জুসের বাজার বিশাল বড় এখনো বাজারে ফলের জুস খুব বেশি বিক্রি হয় না, খুব বেশি কোম্পানি বিক্রি করে না, তাই আপনি যদি এই সুযোগে এই ব্যবসাটি করতে পারেন যেকোনো ব্যবসায়ী আপনার কাছ থেকে আপনার প্রোডাক্ট কিনে নেবে।

তাই আপনার ব্যবসার শুরুতে প্রথমে আপনার লোকাল যে দোকান গুলো রয়েছে সেই দোকানে গিয়ে আপনি আপনার প্রোডাক্ট দেখান এবং তাদেরকে দোকানের শো করার জন্য একটি শো কাড দিন যাতে আপনার প্রোডাক্ট গুলো সাজিয়ে তারা রাখবে। এরপর আপনি যদি দামটা কিছুটা কম রাখতে পারেন দেখবেন প্রতিটা ব্যবসায়ী আপনার বাড়ি থেকে এসে আপনার প্রোডাক্ট গুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছে এবং আপনি যোগান দিতে পারবেন না এই রকম পরিস্থিতি ও হতে পারে। তাই ফলের জুস মার্কেটিং খুব সহজেই আপনি করতে পারবেন।

ফলের জুসের প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়

বিভিন্ন ফলের ছবি দেওয়া আলাদা আলাদা জুসের প্যাকেট পাওয়া যায় 100 গ্রামের এবং 200 গ্রামের। আপনি চাইলে আপনার কোম্পানির নাম লোগো দেয়া প্লাস্টিক প্যাকেট জুসের তৈরি করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন আয়তনের এবং ডিজাইনের 200 গ্রাম ও 500 গ্রামের প্লাস্টিক বোতল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এই প্লাস্টিক বোতল গুলোর গায়ে প্লাস্টিকের লেভেল লাগানোর জন্য প্লাস্টিকের স্টিকার আপনি তৈরি করা আপনার কোম্পানির নামের এই স্টিকার তৈরি হয়ে গেলে এই বোতলের গায়ে লাগিয়ে দিন এবং সুন্দর করে প্রোডাক্ট গুলো ভালোভাবে ভর্তি করে সাজিয়ে বিক্রি করতে হয়।

স্বল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করার উপায়
ফলের জুসের প্যাকেজিং

ফলের জুসের ব্যবসায় কত লাভ? | জুস বার ব্যবসায় কত টাকা লাভ?

একটা প্লাস্টিকের প্যাকেট যার দাম পড়ে 55 পয়সা এবং সম্পূর্ণ জুস ভর্তি করার পর আপনার লেবার চার্জ, ইলেকট্রিক বিল সঙ্গে একটা জুসের 100 গ্রামের ভর্তি প্যাকেটে খরচ হয় 1 টাকা 80 পয়সা। ধরে নিয়ে যাচ্ছে 100 গ্রাম প্যাকেট তৈরিতে খরচা হচ্ছে 2 টাকা। পাইকারি রেটে আপনি বিক্রি করতে পারবেন 5 টাকা থেকে 7 টাকার মধ্যে। কারণ এই 100 গ্রাম এর প্যাকেট দোকানে কিনতে পাওয়া যায় 10 টাকা দামের। অর্থাৎ 2 টাকা খরচ করে 5 টাকায় বিক্রি করলেও 3 টাকা লাভ প্রতি প্যাকেটে। প্রতিদিন এইভাবে হাজার প্যাকেট বিক্রি করতে পারলেই 3000 টাকা লাভ।

কিন্তু এক দিনে আট ঘন্টা কাজ করলে একটা মেশিন থেকে আপনি দুই হাজার প্যাকেট তৈরি করতে পারবেন একা একা কাজ করে। অর্থাৎ আপনি ব্যবসার শুরুতেই কম করে মাসে 40-50 হাজার টাকা ইনকাম করবেন একা কাজ করে।
পরে আপনি চাইলে ব্যবসা আরো বড় করার জন্য লেবার নিতে পারেন এবং ব্যবসার বড় হয়ে গেলে আপনি প্রতিমাসে লাখ টাকাও ইনকাম করতে পারবেন।

জুস ব্যবসা করতে গেলে কি কি প্রবলেম আসতে পারে?

যে কোন ব্যবসা শুরু করলে নতুন নতুন নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তেমন জুসের ব্যবসা শুরু করলে আপনাকে হয়তো কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
যেমন এই ব্যবসার শুরুতে আপনার প্রোডাক্টের কোয়ালিটি আপনাকে মেন্টেন অবশ্যই করতে হবে যদি আপনি কোয়ালিটি মেইনটেইন না করেন তাহলে আপনি মার্কেটে দাঁড়াতে পারবেন না অর্থাৎ আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন না।
দাম অর্থাৎ লাভ কম রেখে আপনাকে শুরুতে প্রোডাক্ট বিক্রি করতে হবে পরে আপনি রেট বাড়াতে পারেন।
বড় বড় কোম্পানির সাথে কম্পিটিশন করতে গেলে আপনাকে রেট কম রাখা এবং কোয়ালিটি মেইনটেইন করার ওপর অবশ্যই জোর দিতে হবে।

অল্প টাকার কিছু ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

বিনা পুঁজিতে আয় করুন 1 লক্ষ টাকা

মশলা ব্যবসা 

9 thoughts on “ফলের জুসের ব্যবসা | খুব কম টাকা লাগিয়ে প্রতি মাসে 1 লাখ টাকা লাভ | Fruit juice business RIGHT NOW”

Leave a Comment