পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করুন 5 হাজার টাকায় | Papad making business Right now

প্রতিটা পরিবারেই প্রতিমাসে 200 গ্রাম থেকে 250 গ্রাম করে পাঁপড় লাগে। তাহলে বুঝতেই পারছেন পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করলে আপনি কতটা লাভবান হতে পারেন। তাছাড়া পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করার জন্য খুবই অল্প পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করলে হয়ে যায়। আবার আপনি যদি বৃহৎ আকারের পাপড় তৈরির কম্পানি শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে বেশ কিছু অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। হয়তো আপনি ভাবছেন কী পদ্ধতিতে ব্যবসা করলে আপনি উন্নতি করতে পারবেন আপনার ব্যবসায়। তাই আপনার জন্য পাঁপড় তৈরির ব্যবসা সম্বন্ধিত সকল তথ্য এখানে দেওয়া হলো।

এখানে আপনি সম্পুর্ন পোস্ট পড়লে বুঝতে পারবেন শুধু হাতে তৈরি পাঁপড় না মেশিনে তৈরি পাঁপড় বানাতে পারবেন। বর্তমানে দেখা গেছে মহিলারা বাড়ির কাজের পাশাপাশি সংসারে অর্থ উপার্জনের জন্য পাঁপড় তৈরির ব্যবসা শুরু করছেন। তাই ভীষণ সহজ পদ্ধতিতে অধিক লাভজনক ব্যবসা হিসেবে পাঁপড় তৈরির ব্যবসা সকল প্রকার মানুষই করতে পারেন।

Table of Contents

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন? (How to start a papad making business)

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম পাপড় তৈরির পদ্ধতি মার্কেটিং স্ট্রাটেজি এবং বাজার চাহিদা বুঝতে হবে। আপনি যদি ফুলটাইম সময় দিয়ে এই ব্যবসা করেন তাহলে আপনি অধিক মুনাফা কামাতে পারবেন। আবার আপনি অন্য কাজের পাশাপাশি পাঁপড় তৈরি করে যদি ব্যবসা করতে চান তাহলেও আপনি ভালোভাবে এক্সট্রা কিছু টাকা উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমানে আমাদের দেশে এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে পাঁপড় ব্যবহৃত হয় না। তাই জন্য দিনে দিনে পাঁপড় তৈরির ব্যবসা এতটা জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

Papad making business
পাঁপড় তৈরির ব্যবসা

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? (How Much Money Does a Papad Making Business Make?)

সাধারণত আপনি যদি ছোট করে পাঁপড় তৈরির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার মাত্র 5 হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আবার আপনি যদি পাঁপড় ব্যবসা একটু বেশি পরিমাণে বড় করতে চান তাহলে মেশিন কিনে পড়তে পারেন ব্যবসা তাতে আপনার খরচ হবে 20 থেকে 25 হাজার টাকা। আবার অটোমেটিক মেশিন কিনেও আপনি আরো বড় আকারের কোম্পানি তৈরি করে পাঁপড় ব্যবসা করতে পারেন।

পাঁপড় তৈরি করতে কি কি কাঁচামাল লাগে?

সাধারণত ভালো কোয়ালিটির পাঁপড় যদি আপনি তৈরি করে ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে উচ্চমানের প্রতিটা কাঁচামাল কিনতে হবে। আবার আপনি যদি পাঁপড় তৈরির ব্যবসা আর বাকি পাঁপড় ব্যবসায়ীদের মত সাধারণ কোয়ালিটির কাঁচামাল দিয়ে করেন তাহলেও আপনি করতে পারেন। পাঁপড় বানানোর জন্য যে সকল কাঁচামাল লাগে সেগুলি হল-

  • বিউলির ডালের আটা
  • মুগ ডালের গুঁড়ো
  • গোল মরিচ
  • হিং পাউডার
  • বেকিং সোডা
  • নুন
  • সাদা তেল
  • বেসন

পাঁপড় তৈরির কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে অল্প মূল্যে কাঁচামাল কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ আপনি যদি অল্প মূল্যে কাঁচামাল কেনেন তবেই আপনি বেশি পরিমাণে লাভ করতে পারবেন। আর অল্প মূল্যে কাঁচামাল কিনতে গেলে আপনাকে বড় কোন পাইকারি বাজারে মুদিখানা দোকানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। আপনি সকল প্রকার কাঁচামাল আপনার এলাকার বড় পাইকারি মুদিখানা দোকান থেকেও কিনতে পারেন, আবার কলকাতার বড় বাজার হোলসেল মার্কেট এর মত বড় মার্কেট থেকে একসাথে অনেক পরিমাণে আপনি কাঁচামাল কিনতে পারেন।

তবে আপনি যদি ছোট করে ব্যবসা শুরু করেন তাতে আপনার লোকাল মুদিখানা দোকান থেকেই বাজার করা আপনার পক্ষে সুবিধা জনক হবে। আর আপনি যদি বড় করে কারখানা তৈরি করে পাঁপড় ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে বড়বাজার হোলসেল মার্কেটের মত বড় বাজার থেকে বেশি পরিমাণে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে।

পাঁপড় ব্যবসায় পাঁপড় এর চাহিদা কেমন?

বর্তমানে আমরা সবাই জানি প্রতিটি পরিবারেই যেহেতু পাঁপড় খাই, আবার সেটা যদি বাঙালি পরিবার হয়ে থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই। ভারত কিংবা বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঁপড় খাদ্য হিসাবে প্রতিটা মানুষ ভীষণ ভালবাসে। যে কোন অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে মেলা, পূজা-পার্বণ প্রতিটা জায়গাতেই খেয়াল করলে দেখতে পাবেন পাঁপড় এর চাহিদা ব্যাপক পরিমাণে থাকে। ভারত থেকে ১২১টা দেশে বর্তমানে পাঁপড় রপ্তানি করা হয়ে থাকে। এক তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে 2020-2021 সালের মধ্যে ভারত শুধুমাত্র পাঁপড় বিক্রি করে 34 মিলিয়ন ডলার ইনকাম করেছে। এটা দেখে বুঝতেই পারছেন বর্তমানে পাঁপড় তৈরির ব্যবসা কতটা লাভজনক ব্যবসা।

অবশ্যই পড়ুন- ১০টি কম খরচে গ্রামের ব্যবসা করার উপায়

পাঁপড় বানানোর মেশিন কত ধরনের?

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে পাঁপড় বানানোর মেশিন সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখতে হবে। বর্তমানে পাঁপড় তৈরীর মেশিন তিন রকমের হয়ে থাকে।

  • পাঁপড় রোলিং মেশিন
  • ম্যানুয়াল পাঁপড় মেকিং মেশিন
  • অটোমেটিক পাঁপড় মেকিং মেশিন

পাঁপড় তৈরির মেশিনের দাম কত?

বর্তমানে পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে প্রতিদিন বেশি পরিমাণে পাঁপড় বানাতে হবে তাই আপনি যদি পাঁপড় তৈরির মেশিন কিনে ব্যবসা শুরু করেন তাতে আপনার ব্যবসার দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি হবে। পাঁপড় তৈরির মেশিন এর দাম বিভিন্ন রকমের হতে পারে বিভিন্ন কোম্পানি অনুসারে। সাধারণত আপনি পাঁপড় তৈরির মেশিন যে দামে পাবেন তা হল-

পাঁপড় রোলিং মেশিন11 হাজার টাকা থেকে 15 হাজার টাকা
ডো মেকিং মেশিন15 হাজার টাকা থেকে 20 হাজার টাকা
অটোমেটিক পাঁপড় মেকিং মেশিন80 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা

পাঁপড় তৈরির মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গে থেকে থাকেন তাহলে কলকাতা এবং হাওড়া এলাকায় একাধিক মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি রয়েছে যারা পাঁপড় তৈরির মেশিন বানিয়ে থাকেন। আপনাদের সুবিধার্থে এবং যোগাযোগের জন্য কোম্পানির নাম ও ফোন নাম্বার নিচে দেওয়া হল। আপনারা ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করে পাঁপড় তৈরির মেশিন কিনতে পারেন।
আর যারা বাংলাদেশে থাকেন তারা ঢাকার বিভিন্ন মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানির কাছে যোগাযোগ করতে পারেন। এবং বাংলাদেশে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আলিবাবা ওয়েবসাইট থেকে মেশিন কিনতে পারেন। তাছাড়া বাংলাদেশে যে সকল মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি পাপড় তৈরির মেশিন বানিয়ে থাকেন তাদের নাম ও ফোন নাম্বার নিচে দেওয়া হল। আপনারা চাইলে বাংলাদেশের এই কোম্পানি গুলির কাছ থেকে সরাসরি মেশিন কিনে ব্যবসা করতে পারেন।

কলকাতায়- Saha Enterprise & Engineering Kaliganj, Daspara Dist:- Nadia West Bengal PIN- 741150 Contact:- +919205080039

বাংলাদেশে- Kirtiraj Equipment Dhaka Bangladesh Contact:- +917436095897

papad making machine
পাঁপড় তৈরির মেশিন

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

সাধারণত আপনি যদি পাঁপড় হাতে তৈরি করে ব্যবসা করেন তাহলে আপনি আপনার ঘরের মধ্যেই এই ব্যবসার কাজ শুরু করতে পারেন। আর আপনি যদি একটু বড় করে পাঁপড় তৈরির ব্যবসার কাজ শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কমপক্ষে 80 থেকে 100 বর্গমিটার এর জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। আপনি চাইলে 10/10 ফুটের ঘরের ছোট মেশিন দিয়ে পাঁপড় তৈরির ব্যবসার কাজ শুরু করতে পারেন। আর আপনি যদি বড় করে পাঁপড় ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আরও বড় একটি জায়গার প্রয়োজন পড়বে, কারণ পাঁপড় তৈরি করা ছাড়াও তা শুকনো করার জন্য আলাদা জায়গার দরকার আছে।

আরো পড়ুন- ব্রয়লার মুরগির খামারের পরিকল্পনা

পাঁপড় তৈরির পদ্ধতি ( papad Method of making)

পাঁপড় তৈরি করা খুবই সহজ আপনি যদি ইউটিউব ভিডিও দেখেন কিংবা এখান থেকে পড়ে নিজে পাঁপড় বানাতে চান তাহলেই আপনি খুব সহজেই বানাতে পারবেন।

  • বিউলির ডালের আটা 2 কাপ নিন
  • মুগ ডালের গুঁড়ো 1 কাপ
  • গোলমরিচ এক চা চামচ
  • হিং পাউডার 1 চা চামচ
  • বেকিং সোডা অল্প পরিমাণে
  • লবণ স্বাদ অনুযায়ী
  • হাফ কাপ সাদা তেল,
  • সম্পূর্ণ মিশ্রণটি ভালো করে মাখান
  • তারপর ছোট ছোট লেচি কি করে বেলন বাড়ি বিয়ে দিয়ে বেলতে পারেন।
  • আবার পাঁপড় রোলিং মেশিনের সাহায্যে পাঁপড় বানাতে পারেন।
  • পাঁপড় তৈরি হয়ে গেলে রোদে শুকনো করতে দিন।
  • শুকনো হয়ে গেলে প্যাকেজিং করে বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করে ফেলুন।

এই পদ্ধতিতে আপনি যদি পাপড় বানান তাহলে খুব ভালো কোয়ালিটির পাঁপড় আপনি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন এবং আপনার বাজারেও পাপড়ের চাহিদা অধিক পরিমাণে হবে।
অটোমেটিক মেশিনের শুধুমাত্র আপনি মিশ্রণটি তৈরি করে দিয়ে দিলেই মেশিনের সাহায্যে একের পর এক পাঁপড় তৈরি হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে। ছাড়া অটোমেটিক মেশিনের দ্বারা দ্রুততার সাথে অধিক পরিমাণে পাঁপড় বানানো যায়। কিন্তু আপনার কাছে পুঁজি কম থাকলে বড় অটোমেটিক মেশিনের থেকে হাতেই তৈরি করুন পাঁপড় তৈরির কাজ। ব্যবসা করে আপনার যখন পুঁজি বাড়তে থাকবে তখন তা দিয়েই আপনি আপনার ব্যবসা বড় করতে পারেন।

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করার জন্য লোন কোথায় পাবেন?

বর্তমানে ভারত সরকার ব্যবসা করার জন্য প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই বিভিন্ন পরিমাণে লোন দিয়ে থাকে। আপনিও যদি সরকারি সাবসিটি লোন পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে আবেদন করতে হবে ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা‘ তে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা থেকে প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই লোন দেওয়া হয়ে থাকে। এখানে আপনি 25 লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন। আপনার ব্যবসা অনুযায়ী আপনাকে লোন দেবে সরকার। এছাড়াও আপনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের কাছ থেকে BSKP লোন পেতে পারেন 10 লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তাই আপনার ব্যবসা করার জন্য আপনার টাকার চিন্তা না করে লোন নিয়ে ব্যবসা করুন। এছাড়াও আপনি যদি একটু খোঁজখবর লাগান দেখতে পাবেন বিভিন্ন ভাবে সরকার ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন প্রকারের লোন দিয়ে থাকে।

অবশ্যই পড়ুন- অল্প পুজিতে ওষুধের ব্যবসার আইডিয়া

পাপড় তৈরির ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স এর প্রয়োজন?

যেহেতু আপনি খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ব্যবসা করছেন তাই অবশ্যই আপনাকে বেশ কয়েক প্রকার লাইসেন্স নিয়ে আপনার ব্যবসা শুরু করতে হবে। তবে আপনি যদি ছোট করে ব্যবসা শুরু করেন তার ক্ষেত্রে আপনার বিনা লাইসেন্সে এই ব্যবসার কাজ বেশ কয়েকবছর চালিয়ে যেতে পারেন। পাপড় তৈরির ব্যবসা করার জন্য যেসকল লাইসেন্সের আপনার প্রয়োজন হবে সেগুলি হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • FSSAI লাইসেন্স
  • ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন
  • MSME রেজিস্ট্রেশন
  • NOC সার্টিফিকেট
  • জিএসটি নাম্বার
  • কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট

প্রতিটা লাইসেন্স আপনি বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করেও পেতে পারেন। আবার আপনি চাইলে প্রতিটা লাইসেন্স আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও অফিস, কিংবা কর্পোরেশন অফিস থেকে আবেদন করে পেতে পারেন। লাইসেন্স গুলির জন্য আপনার সর্বমোট খরচ হতে পারে 2 হাজার টাকা থেকে 3000 টাকার মতো।

পাঁপড় ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে এটা অবশ্যই ভাবতে হবে যে তৈরি হওয়া পাঁপড় বাজারে কি পদ্ধতিতে বা কোথায় বিক্রি করলে আপনার বেশি পরিমাণে লাভ থাকবে। তাই আপনাকে এই ব্যবসা করতে গেলে সর্বপ্রথম মার্কেট রিসার্চ করার ভীষণ প্রয়োজন। মার্কেট রিসার্চ করলে আপনি যেমন জানতে পারবেন বর্তমানে মানুষের চাহিদা কেমন, মানুষ কোন ধরনের পাঁপড় বেশি পরিমাণে পছন্দ করে, এবং কোথায় বিক্রি করলে আপনার বেশি লাভ হবে। তবুও আপনি যে পদ্ধতি হলো অবলম্বন করে পাঁপড় এর মার্কেটিং করবেন তা হল-

  • আপনার নিকটবর্তী এলাকার প্রতিটা দোকানে দোকানে বিক্রি করতে পারেন।
  • বড় হোলসেলার এর কাছে বিক্রি করতে পারেন।
  • বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ডিস্ট্রিবিউটর তৈরি করে তাদের মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বড় করতে পারেন।
  • অনলাইনে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম পেজ তৈরি করে তার মধ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট এর মতো ওয়েবসাইটে বিজনেস অ্যাকাউন্ট করে অনলাইনে পাঁপড় বিক্রি করতে পারেন।
  • নিজস্ব ওয়েব সাইট তৈরি করে তার মধ্য দিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।
  • বিদেশে যেহেতু প্রচুর চাহিদা রয়েছে তাই বিদেশে বিক্রি করতে পারেন।
  • আপনার নিজের এলাকার বাড়ি বাড়িতে বিক্রি করতে পারেন।

পাঁপড় তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা যেমন অল্প পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করেই শুরু করা যায় যেমন এই ব্যবসাতে লাভের পরিমাণ আপনি 20% থেকে 25% পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ পাঁপড় তৈরি করতে মজুরি নিয়ে যদি খরচ হয় 1 হাজার টাকা তাহলে আপনি বাজারে বিক্রি করতে পারেন 1500 টাকায়। সাধারণত ছোট পাঁপড় ব্যবসায়ীর প্রতি মাসের ইনকাম 15 হাজার টাকা থেকে 25 হাজার টাকা হতে পারে। আবার বড় পাপড় ব্যবসায়ীর প্রতি মাসের ইনকাম 1 লক্ষ টাকা থেকে 3 লক্ষ টাকা হতে পারে। আপনি কি পদ্ধতিতে ব্যবসা করছেন এবং কতটা পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসা করছেন তার ওপরে নির্ভর করবে আপনার লাভের পরিমাণ টা। এই লাভ বছরের প্রতিটা মাসে কমবেশি হতে পারে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও F.A.Q

পাঁপড় তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 5 হাজার টাকা থেকে 10 হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে আপনি এই ব্যবসা করতে পারবেন। আমার 1 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেও পাঁপড় ব্যবসা করা যায়।

পাপড় তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: পাপড় তৈরির ব্যবসা করতে 100 বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন পড়ে। ছোট করে 10/10 ফুটের ঘরেও করা যায়।

কোথায় পাঁপড় ব্যবসা করা যায়?

উত্তর: আপনি গ্রামে থাকুন কিংবা শহরে আপনার এলাকাতেই আপনি এই ব্যবসা করতে পারবেন।

পাঁপড় তৈরির মেশিন এর দাম কত?

উত্তর: পাপড় রোলিং মেশিন সহ বিভিন্ন প্রকার মেশিন আপনি 15000 টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

পাঁপড় ব্যাবসায় লাভ কত?

উত্তর: 15000 টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা লাভ করতে পারেন এই ব্যবসা করে

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

 চালের পাইকারি ব্যবসা

১২ টি সেরা গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া

Leave a Comment