ফেলে দেওয়া জামা কাপড় থেকে 1 লক্ষ টাকা আয় | টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা | Textile recycling business, Right Now

আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই পুরানো জামা কাপড় পাওয়াই যায়। প্রায় প্রতিটা পরিবারই সেই পুরানো জামা কাপড় ফেলে দেয় কিংবা নষ্ট করে ফেলে। আপনি যদি এই পুরানো জামা কাপড় নিয়ে টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। হ্যাঁ বন্ধুরা বর্তমানে এই পুরানো জামা কাপড় দিয়েই চলছে এক ব্যবসা যা রমরমিয়ে বাজার দখল করে রেখেছে। টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা শুধু পুরানো জামা কাপড় থেকেই করা সম্ভব। তবে আপনাদের মনে হয়তো অনেক সন্দেহ জমছে যে কিভাবে পুরানো জামা কাপড় থেকে ব্যবসা করা সম্ভব। তাহলে আপনাদের জন্য টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা সম্পূর্ণ তথ্য এখানে দেওয়া হলো।

Table of Contents

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়? (How to start a textile recycling business?)

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে প্রতিটা পরিবার থেকে সংগ্রহ করতে হবে পুরানো জামা কাপড় কিংবা বাজার থেকে কিনতে হবে সেই পুরানো জামা কাপড় গুলি। তারপর পুরানো জামা কাপড় থেকে রিসাইকেলিং করে বার করতে হবে কটন উল যা আপনি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন চড়া দামে। বর্তমানে টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা শুধু ভারতে না বাংলাদেশের বহু ব্যবসায়ী পরে সফলতা অর্জন করছে। আপনিও যদি সঠিক গাইডলাইন মেনে ব্যবসাটি করতে পারেন তাহলে আপনি সফল হবেন।

বর্তমানে এই ব্যবসা এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যে এই ব্যবসা করার প্রতিটা ব্যবসায়ী প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করছেন শুধুমাত্র পুরানো জামা কাপড় দিয়ে ব্যবসা করে। পুরানো জামা কাপড় থেকে যে কটন উল আপনি তৈরি করছেন সেই কটন উল এর বাজার চাহিদা প্রচুর থাকে যা আপনি নিজেও কল্পনা করতে পারবেন না। তৈরি হওয়া কটন উল শুধু একটা কোম্পানি না একাধিক কোম্পানি বা দোকান রয়েছে যারা খুব চড়া মূল্যে কিনবে আপনার কাছ থেকে।

Textile recycling business
টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা

পুরানো জামা কাপড় কোথায় থেকে কিনবেন?

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে পুরানো জামা কাপড় কিনতে হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন পুরানো জামা কাপড় কেনার জন্য আপনাকে বিভিন্ন মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরতে হবে। কিন্তু না বন্ধু পুরানো জামা কাপড় আপনি এখন কিনতে পারেন একসাথে অনেক পরিমানে অনলাইন কিংবা কিছু পাইকারি দোকানে। আপনি যখন এই ব্যবসা করবেন তখন যদি একটু খোঁজখবর নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করেন তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার এলাকাতেই এমন বেশ কিছু দোকান রয়েছে যারা এই ধরনের পুরানো জামা কাপড় ফেরি করে বাড়ি বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে আসে।

আপনি চাইলে সেইসব দোকান থেকে একসাথে অনেক পরিমাণে পুরানো জামা কাপড় কিনতে পারেন প্রতিদিন। আবার আপনি চাইলে অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট এ গিয়ে একসাথে পুরানো জামা কাপড় মাত্র 20 থেকে 30 টাকা প্রতি কেজি দরে কিনতে পারেন। এইরকম ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট এর অনেক কোম্পানি বা অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা পুরানো জামা কাপড় একসাথে অনেক পরিমাণে বিক্রি করে থাকে। যেহেতু এখন অনলাইনের যুগ তাই আপনার কাছে সবচেয়ে বড় সুযোগ এটাই। আপনি বাজারের পাইকারি দোকান থেকে যেমন কিনতে পারছেন তেমন অনলাইন থেকেও পুরানো জামা কাপড় একসাথে অনেক পরিমাণে 20 থেকে 30 টাকা কেজি দামে কিনে ব্যবসাটি শুরু করতে পারছেন।

  • কলকাতার গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের পাশে পুরাতন কাপড়ের বাজার
  • ঢাকার বেগম বাজার পুরাতন মার্কেট

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে কি কি মেশিন লাগে?

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে মেশিন কিনতে হবে। মেশিনের সাহায্যে পুরানো জামা কাপড় গুলো রিসাইকেলিং করে কটন উল তৈরি করা হয়। আপনি যদি চান একটা মেশিন কি নেই সমস্ত পুরানো জামা কাপড় একসাথে কটন উল বানাতে পারেন। তবে প্রোডাকশন বাড়াতে গেলে আপনাকে একাধিক মেশিন কিনে ব্যবসা করার প্রয়োজন পড়বে। বর্তমানে যে মেশিন কটন উল তৈরি করে তাকে বলা হয় টেক্সটাইল রিসাইক্লিং মেশিন। এছাড়াও আরও যে সকল মেশিন দিয়ে আপনি এই ব্যবসা করতে পারবেন সেগুলি হল-

  • টেক্সটাইল সুইটিং মেশিন
  • ফাইবার ফোল্ডিং মেশিন
  • ওয়াশিং মেশিন

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং মেশিনের দাম কত?

টেক্সটাইলে রিসাইক্লিং মেশিন3.5 লাখ থেকে 4.5 লাখ টাকা
টেক্সটাইল সুইটিং মেশিন2.5 লাখ টাকা
ফাইবার ফোল্ডিং মেশিন1.5 লাখ টাকা
ওয়াশিং মেশিন1 লাখ টাকা
রিসাইকেলিং মেশিনের দাম

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে অল্প দামে মেশিন কেনার দিকে খেয়াল করতে হবে। আর অল্প দামে আপনি মেশিন পাবেন আপনার এলাকাতেই তৈরি হওয়া মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানির কাছ থেকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য যেসকল রাজ্যে মেশিন ম্যানুফ্যাকচার হয়ে থাকে সেই সব কোম্পানির নাম সহ ফোন নাম্বার দিয়ে দেওয়া হল, আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে তাদের কাছে যোগাযোগ করে মেশিন কিনতে পারেন। আর বাংলাদেশে যারা রয়েছেন তারাও চাইলে ফোন করে মেশিন অর্ডার দিয়ে আপনার দেশে নিজে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। মনে রাখবেন একাধিক মেশিন ম্যানুফেকচার কোম্পানির সাথে কথা বলে দাম বুঝে মেশিন কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বাংলাদেশের ঢাকাতে বেশকিছু মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি রয়েছে আপনারা চাইলে সেই সকল কোম্পানির সাথে ও কথা বলতে পারেন।

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করার জন্য অবশ্যই আপনাকে বেশ বড় একটা জায়গার প্রয়োজন পড়বে। কারণ শুধুমাত্র মেশিন লাগিয়ে আর ব্যবসা করা নয় কাঁচামাল রাখা এবং তৈরি হওয়া প্রোডাক্টগুলো রাখার মত বড় গোডাউনের ও প্রয়োজন পড়বে। তাই জন্য আপনি যখন এই ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে কমপক্ষে 1000 বর্গফুট পরিমাণ জায়গার দরকার পড়বে। এই 1000 বর্গফুট জায়গার মধ্যে আপনি মেশিন রেখে খুব ভালোভাবেই ব্যবসা করতে পারবেন। আপনার কাছে যদি জায়গার পরিমান ছোট হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই এমন কোন জায়গা ভাড়া নিতে হবে যেখানে আপনি খুব ভালোভাবে ব্যবসাটি করতে পারবেন।

অবশ্যই পড়ুন- কিভাবে গার্মেন্টস বায়িং হাউসের ব্যবসা করা যায়

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং ট্রেনিং কোথায় পাওয়া যায়?

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে উপযুক্ত ট্রেনিং নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করতে হবে। হয়তো এই ব্যবসাতে আপনার কর্মচারীরাই সমস্ত কাজটা করবে কিন্তু তবুও আপনাকে সকল প্রকার কাজের তথ্য রাখার জন্য নিজেকেও ট্রেনিং নিতে হবে। ট্রেনিং নেবার জন্য আপনি আপনার এলাকার সরকারি কর্ম সংস্থান প্রকল্পের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। বর্তমানে প্রতিটা সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পের বিভিন্ন ধরনের কাজে ট্রেনিং দিয়ে থাকে সেখানে টেক্সটাইলের রিসাইকেলিং এরও ট্রেনিং দেয়া হয়ে থাকে।

এছাড়াও আপনি যেখান থেকে মেশিন কিনবেন সেখানেই আপনাকে আলাদা করে ট্রেনিং দিয়ে দেওয়া হবে। আপনি চাইলে মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানির কাছ থেকে ট্রেনিং সহ উপযুক্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত শ্রমিক পেয়ে যাবেন। আবার আপনি চাইলে যে সকল শ্রমিককে আপনি আপনার কারখানাতে কাজে লাগাতে চাইছেন তাদেরকে নিয়ে গিয়ে সেই মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানির কাছ থেকে ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে আসতে পারেন।

Textile recycling machine
টেক্সটাইল রিসাইক্লিং মেশিন

উপযুক্ত শ্রমিক নিয়োগ

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে উপযুক্ত শ্রমিক নিয়োগ করতে হবে। উপযুক্ত শ্রমিক বলতে যে শ্রমিক সকল প্রকার ট্রেনিংপ্রাপ্ত এবং কর্মদক্ষতায় বাকি অন্য শ্রমিকের থেকে উন্নত, এই ধরনের কর্মচারী আপনাকে নিয়োগ করতে হবে। উপযুক্ত কর্মচারী যদি আপনি আপনার ব্যবসায় না নিয়োগ করেন তাহলে আপনার একার পক্ষে এই সম্পূর্ণ ব্যবসা পরিচালনা করা একেবারেই সম্ভব নয়। তাই আপনাকে কমপক্ষে 5 থেকে 10 জন দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন পড়বে। মনে রাখবেন প্রতিটা শ্রমিককে অবশ্যই ট্রেনিং দিয়ে আপনাকে কাজে নিয়োগ করতে হবে।

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসায় ইলেকট্রিক কেমন লাগে?

এই ব্যবসা শুরু করতে গেলে অবশ্যই আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলেকট্রিসিটির প্রয়োজন পড়বে। তাই ব্যবসা শুরুর আগেই আপনাকে ইলেকট্রিক দপ্তরে কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক মূলত প্রতিটা ব্যবসায়ীকে ব্যবসার কাজের জন্য নিতে হয়। যেহেতু আপনার প্রতিটা মেশিন ইলেকট্রিক এ চলে তাই ইলেকট্রিক সরবরাহ যেন ভালো থাকে তার দিকে আপনাকে খেয়াল দিতে হবে। যে এলাকাতে আপনি ব্যবসাটি করছেন সেখানে যদি ইলেকট্রিক মাঝেমধ্যে চলে যায়, তাহলে আপনাকে জেনারেটর কিনতে হবে। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে আপনার ব্যবসায় যেন কোন রকম ত্রুটি না থাকে তাই ইলেকট্রিসিটির কারণে মেশিন বন্ধ হয়ে কাজ বন্ধ হয়ে থাকলে আপনারই লস হবে, তার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো পড়ুন- ন্যাপথালিন বল তৈরির ব্যবসা

ফেব্রিক রিসাইকেলিং ব্যবসা কোন জায়গায় করা যায়?

ফেব্রিক রিসাইকেলিং ব্যবসা করার জন্য উপযুক্ত জায়গা বলতে যে কোন জায়গাকে বলা যেতে পারে। আপনার বাড়ির শহরাঞ্চলে হোক কিংবা গ্রামাঞ্চলে যেখানেই আপনি থাকুন না কেন আপনার বাড়ির কাছাকাছি কোন একটি জায়গায় আপনি এই ব্যবসা খুব ভালোভাবেই করতে পারেন। তবুও ব্যবসা করার আগে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেখানে আপনি কারখানাটি তৈরি করছেন সেখান থেকে যেন যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত থাকে। যাতায়াত ব্যবস্থা যদি উন্নত না থাকে তাহলে আপনাকে কাঁচামাল আনা বা তৈরি হওয়া প্রোডাক্ট গুলি বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে।

কিভাবে টেক্সটাইল রিসাইকেলিং করা হয়?

টেক্সটাইলে রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে যে সকল পদ্ধতি গুলো মেনে ব্যবসাটি করতে হবে সেগুলি হল-

  • প্রথমে পুরনো জামা কাপড় গুলো থেকে বোতাম, চেন এই ধরনের শক্ত জিনিস গুলো কেটে বার করতে হবে।
  • প্রতিটা জামা কাপড়ের টুকরো গুলো মেশিনের মধ্যে দিতে হবে।
  • মেশিন চালিয়ে দিলে একই সাথে মেশিন থেকে কটন উল তৈরি হতে থাকবে।
  • টেক্সটাইল সুইটিং মেশিনের মধ্যে যখন আপনি জামা কাপড়ের টুকরো গুলো দেবেন তখন সুইটিং মেশিন জামাকাপড়ের টুকরোগুলোকে কটন উলে পরিণত করার আগের অবস্থায় নিয়ে যাবে।
  • তারপর ফাইবার ফ্লোটিং মেশিন দিয়ে কটন উল পরিণত করা হবে।
  • সমস্ত কটন উল গুলোকে ওয়াশিং মেশিনের সাহায্যে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • তৈরি হওয়া কটন উল বাজারে বিক্রি করার জন্য বড় বড় বস্তা তে ওজন অনুযায়ী ভর্তি করতে হবে।

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

প্রতিটা ব্যবসার মত আপনিও যখন টেক্সটাইল রিসাইক্লিং ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়াও আপনি যেহেতু কারখানা তৈরি করছেন তার জন্য আপনাকে সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। আরো অনেক রকমেরই লাইসেন্স লাগবে আপনার ব্যবসার জন্য স্থায়ী সকল প্রকার লাইসেন্সের জন্য আপনি দেখতে পারেন এই লিংকে- ব্যবসায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স

জিএসটি নাম্বার আপনাকে নিতে হবে টাকা-পয়সার লেনদেন করার জন্য। যেহেতু এই ব্যবসা আপনি রপ্তানি এবং আমদানি করবেন তাই অবশ্যই আপনাকে আমদানি-রপ্তানি নাম্বার নিতে হবে। সকল প্রকার লাইসেন্স আপনি যেমন আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস অথবা বিডিও অফিস কিংবা কর্পোরেশন অফিস থেকে পেয়ে যাবেন, ঠিক তেমনি আপনি চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে সকল প্রকার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কর্মচারী নিয়োগ করার জন্যেও আপনার সরকারি লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে।

কটন উল কোথায় বিক্রি করতে পারবেন?

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসাতে তৈরি হওয়া কটন উল গুলো বিক্রি করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মার্কেট আপনার কাছে খোলা রয়েছে। বর্তমানে এই কটন উল এর মার্কেট এতটাই বড় যে আপনি প্রতিমাসে তৈরি করেও দিয়ে দিতে পারবেন না। তবুও যে সকল জায়গায় আপনি এই কটন উল বিক্রি করতে পারবেন সেগুলি হল-

  • ম্যাট্রেস ইন্ডাস্ট্রি
  • সোফা টেবিল তৈরির কম্পানি
  • ব্ল্যাঙ্কেট কম্পানি
  • নরম খেলনা বা টেডি বিয়ার তৈরি করার কোম্পানি
  • দড়ি তৈরি করার কোম্পানি
  • বালিশ তৈরীর কোম্পানি

ম্যাট্রেস কম্পানি গুলি এতটাই বড় যে প্রতি মাসে তৈরি হওয়া সকল প্রকার কটন উল আপনি একটা কিংবা একাধিক ম্যাট্রেস কোম্পানিতে দিয়ে দিতে পারবেন না। কারন প্রতিটা ম্যাট্রেস কোম্পানির চাহিদা প্রচুর পরিমাণে থাকে। এছাড়াও আপনার এলাকায় যে সকল ফার্নিচারের দোকান রয়েছে যারা সোফা তৈরি করে তাদেরকেও আপনি বিক্রি করতে পারেন এই কটন উল। এছাড়াও আপনার এলাকাতে যেসকল বালিশ লেপ এই ধরনের তৈরি করার কোম্পানি রয়েছে তাদের কেউ আপনি বিক্রি করতে পারেন। আর টেডি বিয়ার জাতীয় যে সকল কোম্পানির রয়েছে সেখানেও প্রচুর পরিমাণে কটন উল এর প্রয়োজন পড়ে।

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

আপনার কোম্পানিতে তৈরি হওয়া টেক্সটাইল রিসাইকেলিং কটন উল বাজারে বিক্রি করার জন্য আপনাকে প্রথমে মারকেটিং টা ভালো করে করতে হবে। আর মার্কেটিং ভালোভাবে করতে গেলে আপনাকে প্রতিটা কম্পানি কাছে নিজে কিংবা প্রতিনিধি পাঠাতে হবে। যেসব কোম্পানিতে কটন উল এর প্রয়োজন পড়ে সমস্ত কোম্পানিতে আপনাকে একবার করে গিয়ে জানাতে হবে যে আপনি কটন উল তৈরি করেন এবং অল্প মূল্যে কটন উল আপনি তাদের সরবরাহ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়া সাইট গুলি যেমন ফেসবুক গুগোল ইউটিউব এ বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। যে সকল কোম্পানির প্রয়োজন পড়বে তারা বিজ্ঞাপন দেখে সরাসরি আপনার কাছে যোগাযোগ করবে। তবে শুধু বিজ্ঞাপনের ওপর ভরসা না করে প্রতিটা কোম্পানিতে গিয়ে জানিয়ে ব্যবসা করা ভালো হবে।

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

অন্য ব্যবসার মতো এই ব্যবসা শুরু করতে আপনাকে একটু বেশি পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে। যেহেতু রিসাইক্লিং ব্যবসাতে একাধিক দামি দামি মেশিন কিনতে হচ্ছে তাই ব্যবসার শুরুতে আপনাকে 4 থেকে 5 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। আপনি যদি আরো বড় আকারের ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে 10 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তবে ব্যবসা শুরুর দিকে আপনি ছোট করে 4-5 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসাটি শুরু করুন। ব্যবসায় যখন আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে লাভ দেখবেন এবং লাভবান হবেন তখনই আপনি আরো ইনভেস্ট করে ব্যবসাটি বড় করে তুলুন।

অবশ্যই পড়ুন- বইয়ের দোকান ব্যবসা

রিসাইকেলিং ব্যবসায় লাভ কত?

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা তে লাভের পরিমাণ অনেকটাই হয়ে থাকে। কারণ আপনি কাঁচামাল 20 টাকা থেকে 30 টাকা কেজি দরে কিনছেন, আর তৈরি হওয়া কটন উল গুলো বিক্রি করতে পারছেন 90 থেকে 100 টাকা পাইকারি দামে। একজন নতুন রিসাইকেলিং ব্যবসায়ীর প্রতিমাসের আয় 50 হাজার টাকা থেকে 80 হাজার টাকা হতে পারে। আর একজন বড় মাপের রিসাইকেলিং ব্যবসায়ীর প্রতিমাসের হাই 2 লক্ষ টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকা হতে পারে।

ব্যবসার শুরুতে আপনি যেমন অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসাটি শুরু করার চেষ্টা করছেন তেমন লাভের পরিমাণ টা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তবে ব্যবসাটা যখন চলতে থাকবে এবং আপনার পরিচিতি বাড়তে থাকবে ততবেশি পরিমাণে আপনার আয় বেড়ে যাবে। ধৈর্য্য রাখুন মনের ওপর জোর রাখুন আর সব রকম বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে সুন্দর করে ব্যবসাটি পরিচালনা করুন।

পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়?

পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করছে কারণ পুরাতন কাপড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন প্রোডাক্ট। যার কারণে পুরাতন কাপড়ের আমদানি শুল্কের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরাতন কাপড়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য আগে যে লাইসেন্স 3000 টাকায় পাওয়া যেত তা এখন 6000 টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি তথ্যে দেখা গেছে পুরাতন কাপড়ের ব্যবহার 40 শতাংশ থেকে বেড়ে 60 শতাংশ হয়ে গেছে। আর পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায় লোকসান অনেক কম হয়ে গেছে।

বর্তমানে বেশ কিছু ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরানো কাপড় কিনে এনে গুদাম ভর্তি করে রাখে মে আগস্ট মাসের মধ্যে। আর সেই পুরানো কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় নিত্যনতুন জিনিসপত্র। টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসার জন্য যেহেতু পুরাতন কাপড়ের প্রয়োজন পড়ে, তাই পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায়ীরা সকল কাপড় এইসকল টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসায়ীকে বিক্রি করে থাকে। বর্তমানে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায়ীরা চীন,আমেরিকা, জার্মান, জাপান, তাইওয়ান, কোরিয়া থেকে পুরাতন কাপড় আমদানি করে থাকে।

পুরাতন কাপড়ের বাজার কোথায়?, রিসাইকেলিং কাপড়ের ব্যবসা কোথায়?

কলকাতার গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের পাশে সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে যায় পুরাতন কাপড়ের বাজার। এখানে সেই সকল কাপড় আপনি পেয়ে যাবেন যা রিসাইকেলিং করা অবস্থাতেই থাকে এবং এই কাপড় গুলো আপনি পাইকারি মার্কেট এর কিংবা খুচরো মার্কেটে হোলসেল দামে বিক্রি করতে পারেন। আবার রিসাইকেলিং ব্যবসার জন্য এখানে আপনি অল্প মূল্যে প্রচুর পরিমাণে পুরানো জামা কাপড় দিয়ে যাবেন।


এছাড়াও ক্যানিং পুরাতন বাজার থেকে আপনি অনেক পুরাতন জামাকাপড় অল্প মূল্যে কিনতে পারবেন। ক্যানিং পুরাতন বাজারে শুধু শাড়ি জামা কাপড় না জিন্সের প্যান্ট খুব অল্প মূল্যে পুরানো কেনা যায়।
বাংলাদেশের পুরাতন জামা কাপড় কেনার জন্য যে মার্কেট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সেটা হল-ঢাকার বেগম বাজার পুরাতন মার্কেট। ঢাকার বেগম বাজার পুরাতন মার্কেটে এমন বহু দোকান রয়েছে যারা ফেরি করে জামা কাপড় সংগ্রহ করেন এবং সেই জামা কাপড়গুলো খুব অল্প মূল্যে বিক্রি করেন।

ব্যবসা সম্বন্ধিত যেকোনো সমস্যার সমাধানের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এই পোষ্টে যদি কোন ভুল-ভ্রান্তি থেকে থাকে তার জন্য আপনি নিজে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। আর সকল পোষ্ট পড়ে আপনার কেমন লাগলো তা জানাতে কমেন্ট করুন এবং আমাদের এই ওয়েবসাইটটা সেভ করে রাখুন। আরো নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া ও আপনি পেয়ে যাবেন আমাদের এই ওয়েবসাইটে। যদি কোন ব্যবসার আইডিয়া আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে বন্ধুদের শেয়ার করুন এবং তাদেরও ব্যবসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা শুরু করতে কত পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়?

উত্তর: 5 লক্ষ টাকা থেকে 6 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এই ব্যবসা করতে গেলে।

রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: রিসাইকেলিং ব্যবসা করতে 1000 বর্গফুট জায়গা কমপক্ষে প্রয়োজন পড়বে।

পুরানো জামা কাপড় কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

উত্তর: যেকোনো বড় পাইকারি মার্কেট কিংবা পুরানো জামা কাপড়ের মার্কেট থেকে কিনতে পাওয়া যাবে। অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পুরানো জামা কাপড় বিক্রি হয়ে থাকে।

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসা কোন জায়গায় করা যায়?

উত্তর: গ্রাম কিংবা শহর যেকোনো জায়গাতেই আপনি এই ব্যবসা করতে পারেন শুধু খেয়াল রাখবেন যাতায়াত ব্যবস্থা জানো উন্নত থাকে।

টেক্সটাইল রিসাইকেলিং ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: প্রতিমাসে আয় 50 হাজার টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকা হতে পারে

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

CCTV ক্যামেরার ব্যবসা

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়

Leave a Comment