টুথপিক তৈরির ব্যবসা করে প্রতি দিন ইনকাম করুন 50000 টাকা | Toothpick Making Business ,WOW New Business Ideas

টুথপিক তৈরির ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা আমরা গ্রামে থাকা মানুষজন সবাই শুরু করতে পারি। কারণ বাংলার গ্রামে গ্রামে বাঁশ এর অভাব হয় না। আর বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানসম্মত এবং পরিবেশ সচেতন মানুষজন সবাই প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে তৈরি টুথপিক ব্যবহার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন। তাই আপনিও চাইলে বাঁশ দিয়ে তৈরি টুথপিক তৈরি করতে পারেন আপনার বাড়িতে।

Table of Contents

বাঁশের টুথপিক তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ হয়?(How much does it cost to run a bamboo toothpick business?)

বাঁশের টুথপিক তৈরির ব্যবসা করতে আপনার সর্বমোট খরচ হবে সাড়ে তিন লক্ষ থেকে চার লক্ষ টাকার মধ্যে। কারণ যে সকল মেশিন আপনি ব্যবহার করবেন টুথপিক তৈরি করার জন্য সেইসব মেশিন গুলির দাম একটু বেশি হয়ে থাকে। তাই আপনার টুথপিক তৈরির ব্যবসা করার জন্য 3.7 লক্ষ টাকার প্রয়োজন।

bamboo toothpick business
বাঁশের টুথপিক

প্লাস্টিকের টুথপিক তৈরির ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়? (How to start a plastic toothpick making business?)

প্লাস্টিকের টুথপিক তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আগে আপনাকে টুথপিক তৈরীর মেশিন কিনতে হবে এবং প্লাস্টিক দানা কিনতে হবে টুথপিক বানানোর জন্য। তবে বর্তমান বাজারে প্লাস্টিক টুথপিকের চাহিদা অনেক বেশি থাকার কারণে এই ব্যবসাতে অনেক লাভবান হতে পারেন আপনি। আর বাঁশের টুথপিক তৈরির ব্যবসা যদি করেন সেক্ষেত্রে খরচ বেশি হলেও লাভ অনেক বেশি থাকে প্লাস্টিক টুথপিকের থেকে। তাই ব্যবসায় নামার আগে আগে ভালো করে মার্কেট রিসার্চ করুন দেখুন বর্তমান বাজারে কিসের চাহিদা সবথেকে বেশি এবং কোন প্রোডাক্টের দাম কেমন। এরপর আরো ভালো ভাবে মার্কেট রিসার্চ করে আপনি নিজে উদ্যোগে শুরু করতে পারেন প্লাস্টিক টুথপিক তৈরির ব্যবসা।

টুথপিক তৈরির ব্যবসা করতে কি কি কাঁচামাল দরকার?

টুথপিক তৈরির ব্যবসার জন্য কাঁচামাল হিসেবে বাঁশ দরকার হয়। তাই শুধুমাত্র বাঁশ যোগাড় করতে পারলেই আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এছাড়া দরকার প্লাস্টিকের বাক্স টুথপিক তৈরি হয়ে যাওয়ার পর ভরার জন্য।

টুথপিক তৈরির জন্য কাঁচামাল কোথায় পাওয়া যায়?

বাংলার গ্রামে গ্রামে প্রতিটা জায়গাতেই বাঁশঝাড় দেখতে পাওয়া যায় । তাই আপনি যেখানেই ব্যবসা করুন না কেন গ্রামবাংলা থেকে বাঁশ আপনাকে কিনে আনতে হবে। বর্তমান সময়ে একটা বাঁশের দাম যাচ্ছে 200 টাকা থেকে 300 টাকার মধ্যে।

টুথপিক তৈরীর মেশিন কি কি লাগে?(What does a toothpick making machine cost?)

টুথপিক তৈরি করার জন্য প্রথমেই আপনার দরকার যে সকল মেশিন তার নাম হলো-
বাম্বু স্লাইস মেশিন, স্টিক ফর্মিং মেশিন, শর্ট স্টিক কাটিং মেশিন, স্টিক পলিশিং মেশিন, স্টিক সর্টিং মেশিন, স্টিক সারপিং মেশিন।
এইসব মেশিন গুলি হলে আপনি বাঁশের দাঁতে দেওয়ার কাঠি তৈরী করতে পারবেন।

bamboo toothpick making machine
বাঁশের টুথপিক তৈরির মেশিনে

বাঁশের টুথপিক তৈরির মেশিনের দাম কত?(What is the price of bamboo toothpick making machine?)

বাম্বু স্লাইস মেশিনbamboo slice machine32 হাজার টাকা
স্টিক ফর্মিং মেশিনbamboo Stick forming machine68 হাজার টাকা
শর্ট স্টিক কাটিং মেশিনbamboo Short stick cutting machine52 হাজার টাকা
স্টিক পলিশিং মেশিনbamboo Stick Polishing Machine75 হাজার টাকা
স্টিক সর্টিং মেশিনbamboo Stick sorting machine55 হাজার টাকা
স্টিক সার্ফিং মেশিনBamboo Stick Surfing Machine88 হাজার টাকা
টুথপিক তৈরির মেশিনের দাম

বাঁশের টুথপিক তৈরির মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?(Where can I buy a bamboo toothpick making machine?)

টুথপিক তৈরীর মেশিন গুলি সাধারণত চীন দেশের হয়ে থাকত আগেকার দিনে। কারণ চীন থেকে তৈরি হয়ে আসতো টুথপিক গুলি। বর্তমান সময়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন মেশিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি টুথপিক তৈরীর মেশিন তৈরি করে থাকে। তাই আপনারা চাইলে সেইসব কোম্পানি থেকে সরাসরি টুথপিক তৈরীর মেশিন কিনতে পারেন অথবা ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকে টুথপিক তৈরির যাবতীয় মেশিন এবং সরঞ্জাম কিনতে পারেন। ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট এ ঢুকে আপনারা যদি একটি কোম্পানির কাছ থেকে সব ধরনের মেশিন কেনেন তাহলে অনেক কম দামে সব মেশিন গুলো আপনারা পাবেন।

দাঁত খিলানি তৈরির ব্যবসা করার জন্য কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

দাঁত খিলানি বা টুথপিক তৈরির ব্যবসা করার জন্য মিনিমাম 100 স্কয়ার ফিটের জায়গার প্রয়োজন। কারণ পাঁচটা মেশিন সহ কাঁচামাল আপনার কোম্পানির মধ্যে রাখতে গেলে একটু তো বড় জায়গার দরকার পরবে, তাই জন্য 100 স্কয়ার ফিটের জায়গা হলেই আপনি সমস্ত মেশিনগুলো বসিয়ে খুব সুন্দর ভাবে টুথপিক তৈরির ব্যবসা করে যেতে পারবেন।

টুথপিক তৈরীর ব্যবসার জন্য কি ধরনের ইলেকট্রিক দরকার?

টুথপিক তৈরীর কিছু মেশিন 220 ভোল্ট এর চলবে। আবার কিছু মেশিন 440 ভল্টে চলবে। আরে ব্যবসা শুরু করার সময় ইলেকট্রিক অফিসে একটি দরখাস্ত দেবেন কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক নেয়ার জন্য। কারণ বর্তমান সময়ে কোন কোম্পানি করতে হলে কমার্শিয়াল ইলেকট্রিক এর দরকার পড়ে। আর সমস্ত মেশিন বলি আপনি 440 ভল্টে চালাবে ।

আরো পড়ুন নতুন ব্যবসা- ব্যবসা করুন মাত্র 600 টাকা দিয়ে

বাঁশের টুথপিক কিভাবে তৈরি হয়?(How is a bamboo toothpick made?)

একটা বাঁশ নিয়ে তার গাটগুলি ছুলে ফেলতে হবে। তারপর বাঁশটা টুকরো টুকরো করতে হবে। বাঁশ টুকরো করার জন্য বাম্বু স্লাইস মেশিন ব্যবহার করতে পারেন। টুকরো হয়ে যাওয়া বাঁশের টুকরোগুলি স্টিক ফার্মিং মেশিন এর মধ্য দিয়ে আরো পাতলা করে কাঠি বের করতে হবে। তারপর কাটি গুলি সমান করে কাটার জন্য শর্ট স্টিক কাটিং মেশিন দিয়ে সমান করে কেটে নিতে হবে টুথপিক তৈরীর সাইজের কাঠি গুলিকে। এরপর সমস্ত কাঠি গুলি স্টিক পলিশিং মেশিন এর মধ্য দিয়ে সুন্দর করে পলিশ করতে হবে যাতে টুথপিক গুলো চকচকে এবং পরিষ্কার হয়ে যায়।

পলিশ হয়ে যাবার পর স্টিক সর্টিং মেশিন দ্বারা খারাপ কাটে গুলিকে বেছে আলাদা করে নিতে হবে। এরপর ভালো টুথপিক কাটি গুলিকে স্টিক সার্ফিং মেশিন দ্বারা একটু ছুঁচালো করতে হবে যাতে টুথপিক গুলির একটি প্রান্ত সূচালো হয়। তারপর সমস্ত টুথপিক গুলিকে আলাদা করে রেখে দিন বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করে ফেলুন বাক্স ভর্তি করে। প্রতিটা বাক্সে পঞ্চাশটি কিংবা একটু বড় বাক্স হলে 100 টি করে রাখবেন।

টুথপিক তৈরীর ব্যবসার জন্য কি কি লাইসেন্স এর দরকার হয়?

টুথপিক তৈরির ব্যবসা সময় আপনাকে অবশ্যই NOC লাইসেন্স বা NOC সার্টিফিকেট তৈরি করতে হবে।
বাকি সব ব্যবসার মতো ব্যবসার শুরুতেই একটা ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। আপনার ব্যবসায় যখন প্রতি মাসে দু লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা আপনি ইনকাম করতে থাকবেন তখন আপনাকে একটি GST লাইসেন্স নিতে হবে।
সমস্ত প্রকার লাইসেন্সই আপনি আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও অফিস কিংবা কর্পোরেশন অফিসে যোগাযোগ করে পেয়ে যাবেন। এছাড়া বর্তমান সময়ে অনলাইনে এপ্লাই করে ও সমস্ত প্রকার লাইসেন্স তৈরি করা সম্ভব তাই আপনারা চাইলে যেকোন মোবাইল থেকে অথবা সাইবার ক্যাফেতে বসে অনলাইন সমস্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে দিন ব্যবসা শুরুর সাথে সাথেই।

আরো পড়ুন নতুন ব্যবসা- পেপার কাপ তৈরির ব্যবসা

টুথপিক প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়?

বাঁশের টুথপিক গুলি আপনি যে ধরনের বাক্স কিনে এনেছেন বাজার থেকে সেই বাক্সটার ভেতরে 50-100 টা করে আলাদা করে নিতে হবে। তারপর বাক্সের গায়ে আপনার কোম্পানির নাম, লোগো, ফোন নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেস দেয়া স্টিকার লাগিয়ে দিতে হবে। যাতে যদি কোন কাস্টমার কেনে আপনার তৈরি টুথপিক সে জানতে পারে আপনি কে এবং কোথা থেকে টুথপিক তৈরি হয়েছে তারপরে কোম্পানির নাম ফোন নাম্বারে ফোন করে সে চাইলে আরও বেশি করে টুথপিক অর্ডার দিতে পারে।

টুথপিক তৈরির ব্যবসা
টুথপিক প্যাকেজিং

দাঁতে দেবার কাঠির মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

দাঁতে দেবার কাঠের ব্যবসা বা টুথপিক তৈরি হয়ে যাবার পর তা মারকেটিং টা খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। প্রতিটা প্রোডাক্ট তৈরি হয়ে যাবার পর সেটি যদি বাজারে বিক্রি করতে আপনি পারেন তবেই আপনি হবেন সফল ব্যবসায়ী। তার জন্য আপনাকে জানতে হবে আপনার তৈরি করা প্রোডাক্টটি আপনি কোথায় কোথায় বিক্রি করতে পারেন এবং কিভাবে করতে পারেন। টুথপিক তৈরি হয়ে যাবার পর আপনি চাইলে প্রতিটা লোকাল দোকানে এবং পাইকারি দোকানদারদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের টুথপিক বিক্রি করতে পারেন। কলকাতা বড়বাজার হোলসেল মার্কেট হোলসেল দোকানদারদের টুথপিক বিক্রি করতে পারেন। আশেপাশের রেস্টুরেন্ট হোটেল গুলিতে টুথপিক আপনি বিক্রি করতে পারেন। বিভিন্ন ক্যাটারার দের কাছে আপনি টুথপিক বিক্রি করতে পারেন।

বাঁশের টুথপিক তৈরীর ব্যবসায় লাভ কত?(What is the profit of bamboo toothpick making business?)

প্রতিদিন একটা মেশিন থেকে 7 হাজার টাকার বাঁশ দিয়ে কাঠি তৈরী করতে পারবেন।7 হাজার টাকার বাঁশ, বারোশো টাকার ইলেকট্রিক সিটি খরচা, মজুরদের মজুরি 1000 টাকা আনুষাঙ্গিক খরচ আরো 1000 টাকা। সবমিলিয়ে ধরা হলো প্রতিদিন আপনার 10 হাজার টাকার মতো খরচ হচ্ছে দাঁতে দেওয়ার কাঠি বানানোর জন্য। আর প্রতিদিন আপনার 4 লক্ষ করে কাঠি তৈরী হবে। একশোটা করেও একটা বাক্সে ভর্তি করলে, 4000 বাক্স আপনি প্রতিদিন তৈরি করতে পারবেন। প্রতিদিন আপনি চার লক্ষ কাঠি 60 হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। তৈরি করার 10000 টাকা বাদ দিলে প্রতিদিন আপনি 50 হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন টুথপিক ব্যবসা থেকে।

টুথপিক তৈরির ব্যবসা পড়তে গেলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে?

টুথপিক তৈরির ব্যবসা করার সময় আপনার শুরুর দিকে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
তাই ব্যবসার শুরুতে আপনাকে প্রথমের দিকে লাভ কম রেখে টুথপিক গুলি বাজারে বিক্রি করতে হবে যাতে মার্কেটটা ধরা যায় সেই লক্ষ্যে।
আপনি যে টুথপিক তৈরি করছেন তার কোয়ালিটি, বাজারে বিক্রি হওয়া বাকি সব টুথপিকের কোয়ালিটির থেকে যেন কোন অংশে খারাপ না হয়, এই দিকে বিশেষ করে নজর দিতে হবে।


সবচেয়ে বেশি সমস্যার যেটা সেটা হচ্ছে মার্কেটিং করার সমস্যা। সবাই সমানভাবে মার্কেটিং করতে পারে না তাই আপনি যদি সঠিকভাবে মার্কেটিং না করতে পারেন তাহলে আপনি সঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারবেন না এবং আপনার লাভ প্রতিদিন 50 হাজার টাকা নাও হতে পারে। আপনি ভালভাবে মার্কেটিং করতে পারলে প্রতিদিন 50000 কেন প্রতিদিন 1 লক্ষ টাকার ও মার্কেটিং আপনি করতে পারবেন। তাই মার্কেটিং এর ওপরে একটু বেশি করেই জোর দিতে হবে আপনাকে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

টুথপিক তৈরি করার ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 3 লক্ষ টাকা থেকে 4 লক্ষ টাকা খরচ টুথপিক তৈরির ব্যবসা করতে।

প্লাস্টিক টুথপিক তৈরির মেশিন এর দাম কত?

উত্তর: প্লাস্টিক টুথপিক তৈরির মেশিনের দাম 1 লক্ষ টাকা থেকে 2 লক্ষ টাকার মধ্যে।

টুথপিক তৈরির ব্যবসা কোথায় করা যায়?

উত্তর: গ্রাম কিংবা শহর যে কোন জায়গাতেই আপনি টুথপিক তৈরির ব্যবসা করতে পারেন।

দাঁতে দেওয়ার কাঠিতে দাঁত পরিষ্কার করলে কি ক্ষতি হয়?

উত্তর: নিয়মিত দাঁতে কাঠি দিয়ে পরিষ্কার করলে দাঁত ফাঁকা হয়ে যায় এবং খাদ্যবস্তু আটকে যায়।

টুথপিক তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: টুথ পিক তৈরির ব্যবসায় প্রতি মাসে 50000 টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকারও বেশি লাভ করা সম্ভব।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

চিপস তৈরির ব্যবসা 1 লক্ষ টাকা লাভ

পানীয় জলের ব্যবসা

Leave a Comment