টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা | 10 হাজার টাকা লাগিয়ে মাসে 50 হাজার টাকা ইনকাম করুন | T-shirt printing business RIGHT NOW

বর্তমান সময়ে টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা অনেক চলনসই এবং যুগোপযোগী ব্যবসা। এই ব্যবসা করে আপনি খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং আপনার প্রোডাক্ট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে যাবে।

Table of Contents

টি শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ?

সবার প্রথমেই আমাদের মনে হয় যে ব্যবসা করতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়, কিন্তু না টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা করতে আপনার খরচ হবে খুবই কম টাকা।
15 হাজার টাকা খরচ করে আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন অতি সহজেই।

টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসায় কি কি কাঁচামাল লাগে?

প্রথমেই আমরা বুঝতে পারছি টি শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা করতে যেটা লাগে
১: টি-শার্ট বা গেঞ্জি
২: সাবলিমেশন পেপার
৩: সাবলিমেসন ইঙ্ক বা রং
এবারে মেশিন হলেই আপনার টি শার্ট তৈরি হয়ে যাবে আপনার মনের মত ডিজাইনের।

টি শার্ট প্রিন্ট করতে কি মেশিন লাগে?

টি-শার্ট প্রিন্ট করার জন্য আপনার লাগবে একটা কম্পিউটার তার সাথে প্রিন্টার মেসিন এবং হিট প্রেস মেশিন।

হিট প্রেস মেশিন
হিট প্রেস মেশিন

টি-শার্ট প্রিন্টিং মেশিনের দাম কত?

টি শার্ট প্রিন্টিং মেশিন মানে হিট প্রেস মেশিন যা হলেই আপনি কাস্টমাইজ টি শার্ট প্রিন্ট করতে পারবেন। এই হিট প্রেস মেশিনের দাম বর্তমানে 10 হাজার থেকে 12 হাজারের মধ্যে হয়ে থাকে।

টি শার্ট প্রিন্টিং মেশিন কোথায় পাওয়া যায়?

ভারতে থাকলে আপনি কলকাতা থেকে এই মিশিন সংগ্রহ করতে পারবেন। অথবা অ্যামাজন ফ্লিপকার্ট থেকেও আপনি অনলাইনে এই মেশিন কিনতে পারবেন এছাড়া যে সকল ব্যবসায়ীরা হিট প্রেস মেশিন বিক্রি করে থাকে সেই সকল ব্যবসায়ী এর ফোন নাম্বার আমি নিচে দিয়ে দিলাম।
বাংলাদেশের যে সকল বন্ধুরা আছেন তারা বাংলাদেশের কোথা থেকে এই মিশিন সংগ্রহ করবেন তার ফোন নাম্বার এবং ঠিকানা আমি নিচে দিয়ে দিলাম এই নাম্বারে ফোন করলে আপনি আপনার জানার সমস্ত তথ্যসহ মেশিন পেয়ে যাবেন।

■ হিট প্রেস মেশিন কিনতে যোগাযোগ করুন:-

◆ কলকাতায়::–

● Bengal Photo Studio 47 Lenin Sarani, Dharmatala, Kolkata-700013 Mob:- +918048954496

● Vision Media 16/1 Shyamacharan Dey Street, Near College Street Kolkata- 700073 Contact:- +918100280400

বাংলাদেশে::–

● Multi Function 5 in 1 Heat Press Machine Contact:- +88001819897559 +88001979897559

গেঞ্জি প্রিন্টিং ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

আপনার ঘরের সাইজে 10/12 ফুটের একটি ঘর হলেই আপনি এই ব্যবসা খুব সহজেই করতে পারবেন কারণ এই মেশিনগুলো আয়তন খুবই ছোট হয়ে থাকে একটা টেবিলের ওপরে এই মেশিনগুলো বসানো সম্ভব তাই খুব বেশি বড় জায়গার প্রয়োজন হয়না টি শার্ট প্রিন্টিং বা গেঞ্জি প্রিন্টিং ব্যবসা করার জন্য।

টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা
টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা

কিভাবে টি শার্ট প্রিন্টিং করা হয়?

প্রথমে কম্পিউটারে যে ডিজাইন বা লোগো প্রিন্ট করবেন তার একটি ডিজাইন তৈরি করে নিতে হবে ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেটর অ্যাপের মাধ্যমে।
এরপর ওই ডিজাইন কি নরমাল প্রিন্টের মেশিনে সাব্লিমেশন পেপার দেয়ার পরে প্রিন্ট করে নিতে হবে।
পেপারে প্রিন্ট হয়ে গেলে সাথে সাথে সেই পেপারটার গায়ে অল্প করে পাউডার লাগিয়ে নিতে হবে। সিট পেয়েছো মেশিনটা 200 ডিগ্রী টেম্পারেচারে দিয়ে সামান্য কিছুক্ষনের জন্য গরম হতে দিতে হবে।

এরপর যেই গেঞ্জিটা আপনি প্রিন্ট করবেন সেই টি শার্ট টা নিয়ে হিট প্রেস মেশিন এর মধ্য দিয়ে তার ওপরে ডিজাইন করা প্রিন্টিং পেপার টা সুন্দর ভাবে সমান করে বসিয়ে দিয়ে 10 সেকেন্ডের জন্য মেশিনটা চালিয়ে চাপ দিয়ে নিলেই অটোমেটিক প্রিন্ট হয়ে যাবে আপনার টি শার্টের ওপর সমস্ত ডিজাইন।
তারপর পেপারটা গেঞ্জি থেকে আস্তে আস্তে টেনে তুলে নিল এই দেখতে পাবেন সমস্ত ডিজাইন টা যেটা পেপারে ছিল সেটা উঠে এসেছে টি-শার্টের মধ্য।

টি শার্ট প্রিন্টিং মেশিন বাংলাদেশ দাম কত?

টি শার্ট প্রিন্টিং মেশিন বাংলাদেশ দাম হয়ে থাকে 10000 থেকে 15000 টাকার মধ্যে। এবং সেটি আপনি কোথা থেকে কিনবেন সমস্ত ইনফরমেশন আমি উপরে দিয়ে দিয়েছি যেখানটায় থেকে আপনি দেখলেই বুঝতে পারবেন কোথা থেকে মেশিন কিনবেন এবং সেই মেশিন দ্বারা কিভাবে টি শার্ট তৈরি করবেন সমস্ত ইনফরমেশন উপরে দেয়া আছে।

টি-শার্ট প্রিন্টিং বিজনেস করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

টি শার্ট প্রিন্টিং বিজনেস করতে আপনার লাগবে প্রথমেই একটি ট্রেড লাইসেন্স যা প্রতিটা ব্যবসায়ী ব্যবসা করার জন্য দরকার হয়।
এই ট্রেড লাইসেন্স আপনি নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অথবা শহরের কর্পোরেশন কিংবা বিডিও অফিস থেকে পেয়ে যাবেন। বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনে এপ্লাই করেও পাওয়া যাচ্ছে।

টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসায় কি ইন্সুরেন্স করতে হয়?

ব্যবসা করার সময় প্রতিটা কোম্পানি অথবা মানুষকেই ইন্সুরেন্স করতে হয় তার ব্যবসার জন্য কারণ কেউ বলতে পারে না কখন ব্যবসায়ী কোন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তাই ইন্সুরেন্স থাকাটা একজন ব্যবসায়ী ব্যবসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি একটি জিনিস।

টি শার্ট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

টি শার্ট মার্কেটিং করার জন্য সাধারণত দু’রকম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে একটি অনলাইন পদ্ধতি আরেকটি অফলাইন পদ্ধতি।

T-shirt অনলাইন মার্কেটিং কিভাবে করা হয়?

T-shirt অনলাইন মার্কেটিং করতে হলে প্রথমেই যেটা করা হয় যদি আপনার কোম্পানির নিজস্ব কোন ওয়েবসাইট থেকে সেই ওয়েবসাইটটি আপনি কাস্টমাইজ টি-শার্ট তৈরির যাবতীয় ইনফর্মেশন সহ ছবি সেখানে আপলোড করতে পারেন।
বর্তমানে জনপ্রিয় যে সকল ওয়েবসাইট আছে যেমন অ্যামাজন ফ্লিপকার্ট ইন্ডিয়ামার্ট এই সমস্ত ওয়েবসাইটে আবৃত্তি বিজনেস একাউন্ট করে তার মধ্য দিয়ে আপনার কোম্পানির তৈরি হওয়া কাস্টমাইজ টি-শার্ট এবং কাস্টমার যদি তার মনের মত ডিজাইন করতে চাই সেই ধরনের টি শার্ট কাস্টোমাইজ করে সেখানে আপলোড করতে পারেন।


এছাড়া বন্ধু-বান্ধবসহ পরিবারের সবার হেল্প নিয়ে তাদের ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে আপনার কোম্পানি ডিজাইন করা টি-শার্ট গুলি ছবিসহ ইনফরমেশন শেয়ার করতে পারেন এবং তাদের সকলকে শেয়ার করতে বলতে পারেন। এইসব এর মধ্য দিয়ে আপনার কোম্পানির যেমন অ্যাডভার্টাইজমেন্ট হয়ে যাবে এবং তার সাথে সাথে আপনার কোম্পানির সমস্ত টি-শার্ট এবং সমস্ত প্রোডাক্ট খুব সহজেই বিক্রি হয়ে যাবে।

অফলাইন টি শার্ট মার্কেটিং কিভাবে করা হয়?

অফলাইন টি শার্ট মার্কেটিং কোন পরিচিত বন্ধুবান্ধব অথবা দোকানদাররা আপনাকে যে সকল অর্ডার দিয়ে থাকে সেই অর্ডারগুলো আপনি নিয়ে ডিজাইন করে সেই সমস্ত দোকান এবং বন্ধু-বান্ধবদের সরাসরি গিয়ে টি-শার্ট গুলি বিক্রি করতে পারেন।
এছাড়া কিছু কিছু অকেশানে নিজেই বিভিন্ন কাস্টমাইজ ডিজাইন করে সেই সমস্ত টি-শার্ট গুলি নিকটবর্তী যে সকল জামাকাপড় দোকান রয়েছে সেই সকল দোকানে টি-শার্ট গুলি পাইকারি রেটে বিক্রি করতে পারেন।

কম দামে টি-শার্ট কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

খুব কম দামে টি-শার্ট কিনতে হলে আপনাকে যেতে হবে মঙ্গলা হাটে এই মঙ্গলে হাওড়ার একটি জায়গায় বসে যেখানে থেকে আপনি একসাথে কুড়িটা করে টি-শার্টের বান্ডিল থাকে সেই একটা একটা বান্ডিল কিনতে পারেন যাতে আপনার 1টি গেঞ্জির পিস পড়বে 20-30 টাকা করে।

অর্থাৎ মাত্র 30 টাকা দিয়ে একটি গেঞ্জি কিনে আপনি সেই গেঞ্জিটা কম করে 100 টাকা দামে পাইকারি রেটে বিক্রি করতে পারেন সমস্ত ডিজাইন করে।

দামে টি শার্ট
কম দামে টি-শার্ট

টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসায় লাভ কত?

টি শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা আপনার লাভ হয় 50%-70%। অর্থাৎ 30 টাকা টি-শার্টের খরচ, 3 টাকা সাবলিমেশন পেপার এর খরচ, প্রিন্টিং খরচ সহ লেবার খরচ 1.50 টাকা। সব মিলিয়ে একটা টি শার্ট তৈরি করতে খরচ হয় 35 টাকা। সেই টি-শার্ট টি বাজারে পাইকারি বিক্রি করা হয় কম করে 100 টাকা দামে। অর্থাৎ প্রতিটি টি-শার্ট থেকে আপনার লাভ হবে 70 টাকা। এই ব্যবসা করে আপনি মাসে কম করে 40 থেকে 50 হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন।

টি শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা করতে কি কি সমস্যা আসতে পারে?

টি শার্ট প্রিন্টিং ব্যাবসার শুরুতেই আপনার বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
১: আপনাকে মার্কেটিং খুব ভালোভাবে করতে হবে ।
২: কোয়ালিটির উপর এবং ডিজাইনের ওপর সুন্দর মেন্টেন করতে হবে।
৩: অন্য ব্যবসায়ীদের সাথে কম্পিটিশন করতে হলে সহজলভ্য দামে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করতে হবে।

এই ভাবে যদি আপনি ব্যবসা করেন তাহলে খুব সহজেই একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠতে পারবেন।।

আরো ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

ব্যবসা করে মাসে 50 হাজার টাকা

স্ক্রাবার তৈরির ব্যবসা

6 thoughts on “টি-শার্ট প্রিন্টিং ব্যবসা | 10 হাজার টাকা লাগিয়ে মাসে 50 হাজার টাকা ইনকাম করুন | T-shirt printing business RIGHT NOW”

Leave a Comment