টিফিন পরিষেবার ব্যবসা শুরু করুন অল্প পুজিতে | Tiffin service business for 10 thousand rupees, Right Now

কর্মব্যস্ত ভারতে আপনি যদি টিফিন পরিষেবার ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসা অনেক লাভবান হবে। বর্তমানে ভারতে জোমাটো, সুইগীর মতো বিভিন্ন কোম্পানি এখন তাদের অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে খাবার হোম ডেলিভারির ব্যবসা করে কোটিপতি হচ্ছে। তবুও এখনো অনেক মানুষ রয়েছেন যারা রেস্টুরেন্টের খাবারের পরিবর্তে বাড়ির খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন। তাই আপনি খুব অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করতে পারেন টিফিন পরিষেবার ব্যবসা।

বাইরে থেকে খাবার নিয়ে খাওয়ার প্রবণতা এখন অনেক পরিবারের মধ্যেই বেড়ে গেছে। অফিসে কাজ করা প্রতিটা মানুষ বাড়ি ফেরার পরে আলাদা করে রান্না করার ইচ্ছা বর্তমানে না থাকার কারণে তারা সবাই বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করে খেতে পছন্দ করেন। তাই আপনিও সেই আধুনিকতার যুগে অন্য বেশ কিছু রেস্টুরেন্টের মতন নিজের বাড়িতে রান্না করে খাবার অনলাইনের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। বর্তমান ভারতে এমন অনেক রেস্টুরেন্ট আছে যাদের শুধুমাত্র রান্নাঘর আর store-room আছে। আপনিও খুব ছোট্ট করে নিজে থেকেই রান্না করে এইসব খাবার ডেলিভারি সাইটের সাথে বিজনেস পার্টনারশিপ নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

যেহেতু এখন মানুষেরা তাদের খাবার অনলাইনে অর্ডার করে তাই এখন অনেক রেস্টুরেন্টের ব্যবসা হয়ে গেছে অনেক সহজ এবং ঝামেলা মুক্ত। খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডেলিভারি ম্যান রা আপনার রেস্টুরেন্ট বা আপনার বাড়িতে থেকেই খাবার নিয়ে চলে যাবে কাস্টমারের কাছে।এই ব্যবসা করতে অনেক অল্প পরিমাণ যেমন নিজে খরচ হয় তেমন খুব দ্রুততার সাথে ব্যবসায় উন্নতি করা যায়। এখনকার দিনে ভারতে টিফিন পরিষেবার ব্যবসার ব্যাপকভাবে প্রসার ঘটছে। আর আপনি যদি এই ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনার জন্য সমস্ত ধরনের তথ্য নিয়ে হাজির এই পোস্টটি।

Tiffin service business
টিফিন পরিষেবার ব্যবসা

Table of Contents

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা কেন করবেন? (Why do tiffin service business?)

যেহেতু বর্তমান ভারতে টিফিন পরিষেবার ব্যবসা উন্নতি করছে তাই এই ব্যবসাটা করা একজন বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া এই ব্যবসাতে খুব অল্প পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়। আমরা সবাই জানি যে কোন ব্যবসা করতে গেলে প্রধান সমস্যা বা প্রধান বাধা হিসেবে দেখা যায় পুঁজি। সে ক্ষেত্রে খুব অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করলে আপনার কোনো ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না, আর এই ব্যবসাতে সফলতা অর্জন করতে পারবেন। আপনি শুধুমাত্র ভাল রান্না করতে পারলেই আপনি টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে পারবেন। তবে এই ব্যবসা করতে গেলে আপনি যেমন শুরুটা আপনার বাড়ি থেকেই করতে পারেন, তবে ব্যবসার উন্নতি করতে গেলে আপনাকে ভালো একটি জায়গা খুঁজে, একটা ঘর ভাড়া নিয়ে রান্না ঘর বানিয়ে সেখান থেকে ব্যবসা শুরু করতে হবে।

টিফিন পরিষেবার ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনাকে আলাদা করে কোনো বড় রেস্টুরেন্ট বানানোর প্রয়োজন নেই আপনার শুধুমাত্র একটা রান্নাঘর থাকলেই এই ব্যবসা করতে পারবেন। এছাড়াও এই ব্যবসা করার জন্য আপনার অনেক কর্মচারী প্রয়োজন পড়বে না। আপনাকে শুধু হেল্প করতে পারে এইরকম একজনকে দুজন কর্মচারী নিয়েই আপনি এই ব্যবসা আরামসে শুরু করতে পারেন।

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? (How much does it cost to run a tiffin service business?)

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করার জন্য আপনাকে ন্যূনতম 10 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। আপনি চাইলে আরো বড় করেও এই ব্যবসা করতে পারেন তার জন্য আপনাকে বেশি পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে। তবে ব্যবসার শুরুতে আপনাকে বলব অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে আগে ব্যবসাটি করে দেখুন। লাভ কেমন হচ্ছে, কেমন ভাবে আপনি করতে পারছেন তার ওপরে ভিত্তি করে আবার বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করুন। তবে টিফিন তৈরির ব্যবসা করতে যেমন অল্প পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় তেমন লাভের পরিমাণ দাও বিপরীতভাবে বেশি হয়ে থাকে। মাত্র 10 হাজার টাকা বিনিয়োগ করে আপনি যেমন এই ব্যবসা করতে পারছেন তেমন ধীরে ধীরে এই ব্যবসা থেকে রেস্টুরেন্ট কিংবা নিজস্ব বড় কোম্পানি করার একটা পথ ও তৈরি করতে পারেন।

অবশ্যই পড়ুন- ফুচকা তৈরির ব্যবসা করে 1 লক্ষ টাকা লাভ

টিফিন তৈরির ব্যবসায় কি ধরনের খাবার বিক্রি করবেন?

এই ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে প্রথমে ঠিক করতে হবে আপনি কি ধরনের খাবার বিক্রি করতে চান। আপনি যে শহরে বা যে এলাকাতে টিফিন ব্যবসা করছেন বা করবেন বলে ভাবছেন সেখানের মানুষের কি ধরনের খাবার পছন্দ বা কাদের জন্য আপনি খাবার তৈরি করছেন, তার ওপরে নির্ভর করবে আপনি কি ধরনের খাবার তৈরি করবেন সেটা। বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস, স্কুল-কলেজের ক্যান্টিন প্রত্যেকটা জায়গায় আলাদা আলাদা ধরনের খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকে তাই আপনাকে নির্বাচন করতে হবে আপনার মূলত কি ধরনের কাস্টমার নিয়ে ব্যবসা। এরপর আপনি ফাস্টফুড, চাইনিজ, থাই, ইতালিয়ান কিংবা আমাদের দেশীয় ভাত, মাছ, বিরিয়ানি ইত্যাদি খাবার আপনার রান্না ঘরে তৈরি করে কাস্টমারের কাছে হোম ডেলিভারির ব্যবসা বা টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে পারেন।

ব্যবসার শুরুতে একাধিক খাদ্যের মেনু না করে গ্রাহককে বুঝতে হবে আপনাকে, প্রথমে দুটো চারটে আইটেমের খাবার আপনার মেনুতে রাখুন। দেখুন কাস্টমাররা কি ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করছে তারপর ধীরে ধীরে খাবারের মেনু বাড়াতে থাকুন কিংবা খাবারের মেনু কে আপডেট করুন। তবে টিফিন পরিষেবার ব্যবসা যে এলাকাতে করতে চাইছেন সেই এলাকা অনুযায়ী আপনাকে সর্বদা খাবার তৈরি করতে হবে এটা মাথায় রেখেই ব্যবসাতে নামবেন।

কেমন জায়গায় রান্নাঘর ভাড়া নেবেন?

আপনি যে এলাকাতে ব্যবসা করতে চাইছেন সেই এলাকার কাছাকাছি অবশ্যই আপনাকে রান্না ঘর ভাড়া নিতে হবে, বা কোন একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা কি করতে হবে। যাতে করে খুব দ্রুততার সাথে কাস্টমারের অর্ডার করা খাবার আপনি পৌঁছে দিতে পারেন বা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারেন সেই দিকে অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে ভালো হচ্ছে কোন বড় কোম্পানির পাশে রান্না ঘর বানানো কিংবা স্কুল-কলেজ আছে বা জনবহুল অফিস পাড়াতে রান্না ঘর ভাড়া নেওয়া। এছাড়াও মনে রাখবেন যে জায়গাতে আপনি ব্যবসা করবেন সেই জায়গাটা যেন অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর হয়। কারণ খাবারের কোয়ালিটি এবং খাবারের মানের ওপর নির্ভর করবে আপনার পরবর্তী অর্ডার গুলো।

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করার জন্য অনেক বড় জায়গার প্রয়োজন পড়বে না। একটা ভালো বড় রান্নাঘর এবং তৈরি হওয়া খাবারগুলো রাখার মতো স্টোরেজ রুম থাকার মত জায়গা হলেই এই ব্যবসা করতে পারবেন। তবে সাধারণত 10/10 এর যদি কোন ঘর হয়ে থাকে তাহলে সেখানে নিঃসন্দেহে ভালোভাবে ব্যবসা করা যেতে পারে। তবে এই ব্যবসা যদি আপনি আরো বড় করে করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার অনেকটা বড় জায়গার প্রয়োজন পড়বে।

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে ব্যবসার শুরুতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই ব্যবসা করতে গেলে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় তাই আপনাকেও শুরুতেই নিয়ে নিতে হবে। এছাড়ও আরো বেশকিছু লাইসেন্স নিয়ে যদি আপনি এই ব্যবসা করেন তাহলে আপনি অনেক বড় আকারের ব্যবসা করার সমস্ত ধরনের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • পরিবেশ ছাড়পত্র
  • স্যানিটারি লাইসেন্স
  • ফায়ার লাইসেন্স
  • কৃষি উপকরণ সনদ
  • ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রেশন সার্টিফিকেট
  • FSSAI লাইসেন্স

এছাড়াও আপনাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে ভোটার কার্ড কিংবা আধার কার্ড অবশ্যই কাছে রাখতে হবে। এছাড়া আপনি যে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করবেন সেই দোকান ভাড়ার সকল কাগজপত্র এবং জায়গার দলিল এর জেরক্স আপনার কাছে অবশ্যই যেন থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে।

খাবারের অর্ডার নেয়ার ব্যবস্থা কেমন হবে?

ব্যবসার শুরুতেই আপনি যদি কোন কোম্পানি, কোন শপিং মার্কেট, অথবা কোন স্কুল-কলেজ ক্যান্টিন এর সাথে টাই আপ করেন তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে সেই ধরনের খাবার তৈরী করে ব্যবসা করতে পারবেন। এছাড়াও এখনকার দিনে অনলাইনে বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি সাইটের মাধ্যমে কিংবা নিজে কোন ওয়েবসাইট তৈরি করে তার মাধ্যমে কাস্টমারের কাছ থেকে খাবারের অর্ডার নিতে পারেন।

ফলে আপনাকে অনলাইনের সাথে সাথে অফলাইনেও খাবারের অর্ডার নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তার জন্য আপনি আপনার দোকানের সামনে বড় বড় কোনো ফ্লেক্স লাগিয়ে দিতে পারেন, যাতে কাস্টমারদের বোঝার সুবিধা হয় যে আপনি খাবারের অর্ডার নিয়ে হোম ডেলিভারি করে থাকেন। এছাড়া অনলাইনে অর্ডার নিতে হলে আপনাকে অনলাইনে টাকা নেবার ক্ষেত্রেও ভালো মানের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবসার শুরুতে আপনি যদি কাস্টমার দের কাছ থেকে একাই অর্ডার নিয়ে খাবার বানাতে চান তাহলে আপনার অনেক ঝামেলাও বাড়বে এবং খরচ বাড়বে। তাই ব্যবসা শুরুর দিকে আপনি ফুড ডেলিভারি কোম্পানির দাঁড়াই অর্ডার নিয়ে ব্যবসাটা শুরু করাই ভালো।

আরো পড়ুন- বায়িং হাউজ কি?

Food delivery business
ফুড ডেলিভারি ব্যবসা

ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় রান্নাঘর কেমন হওয়া দরকার?

ফুড ডেলিভারি ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে রান্নাঘর অবশ্যই ভালোভাবে বানাতে হবে। তাই একটা রান্নাঘরে কি কি জিনিস লাগে তা সম্পর্কে আপনার স্পষ্ট ধারণা থাকার প্রয়োজন। এর জন্য আপনি ইউটিউব এর সাহায্য নিতে পারেন। আবার আপনি যদি আগে থেকেই একটা ভালো রান্নাঘর করার সকল তথ্য জেনে থাকেন তাহলে আপনি এককভাবেই একটি রান্নাঘর ভালো ভাবে তৈরি করতে পারেন। তবে সাধারণত ভালো রান্নাঘর বানাতে গেলে রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস বা সরঞ্জাম আপনাকে কিনতে হবে। যেমন চিমনি, ফ্রিজার, ভালো ওভেন, গ্যাস, মাইক্রোওভেন ইত্যাদি। তাই ব্যবসার শুরুতে এই সকল জিনিসগুলি কেনা এবং একটা রান্নাঘর ভালো ভাবে বানাতে আপনাকে একটু বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে।

ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ফুড ডেলিভারি ব্যবসা করতে গেলে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হিসেবে যে সকল জিনিস গুলি আপনার প্রয়োজন পড়বে তা আপনি আপনার লোকাল মার্কেট থেকেই কিনতে পারেন। খাবার তৈরি করার জন্য আপনার বাড়িতে আপনি যেমন ধরনের বাজার করেন, ঠিক তেমনি বাজার আপনি আপনার লোকাল মার্কেট থেকে করে টিফিন পরিষেবার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে সমস্ত বাজার পাইকারি দামে কিনতে হবে এর জন্য আপনাকে প্রতিটি বাজারের পাইকারি মার্কেটে অবশ্যই যেতে হবে।

খাবার প্যাকেজিং কেমন হবে?

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাবার প্যাকেজিং। কারণ আপনি যেহেতু খাবারে হোম ডেলিভারির ব্যবসা করছেন তাই অবশ্যই সেই খাবারগুলো ভালো করে প্যাকেজিং করতে হবে। অনেক সময় কাস্টমার অনেক দূর দূরান্ত থেকে খাবারের অর্ডার করে অনলাইনে, সেই ক্ষেত্রে খাবারের প্যাকেজিং যদি ভাল না হয়ে থাকে তাহলে খাবার নষ্ট হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তাই খাবার প্যাকেজিং করার সময় ভালো করে যেমন খাবার প্যাকেজিং করবেন যেমন খাবারের প্যাকেজিং এর সাথেই প্লেট এবং চামচ যদি আপনি দিতে পারেন তাহলে কাস্টোমারের ভালো লাগবে। আর কাস্টমার খুশি হলে আপনার ব্যবসায় উন্নতি করবে। খাবার প্যাকেজিং করার জন্য আপনি প্লাস্টিকের বাটি ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে প্লাস্টিকের অনেক ধরনের বাটি আছে যা খাবার প্যাকেজিং করার জন্যই মূলত তৈরি হয়।

টিফিন পরিষেবার ব্যবসায়ী উপযুক্ত কর্মচারী নিয়োগ

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ব্যবসার শুরুতে কর্মচারী না নিলেও পরবর্তীকালে কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। ব্যবসার শুরুতে আপনি যেমন একা রান্না করে প্যাকেজিং করে কাস্টমারকে খুশি করছেন, তবে ধীরে ধীরে ব্যবসার উন্নতি ঘটবে একা করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে ভালো রাঁধুনি কিংবা রান্নায় হেল্প করা একাধিক কর্মচারীকে আপনাকে নিয়োগ করতে হবে। রাধুনী নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি দেখে নেবেন রাঁধুনি যেন সব ধরনের খাবার সুন্দর করে বানাতে পারে।

কারণ ভাল রান্না না হলে অর্ডার আসা কমতে থাকবে এতে আপনার ব্যবসার ক্ষতি হবে। এছাড়াও আপনাকে কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে কারণ অনেক সময় সেই কর্মচারীরাই অর্ডার সংগ্রহ করবে আর অর্ডার ডেলিভারি ক্ষেত্রেও তারা অনেক ভাবে হেল্প করবে। বর্তমানে প্রতিটা টিফিন পরিষেবার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাতে ডেলিভারি দেওয়ার জন্য একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করেন আবার রান্না করার জন্য একাধিক রাঁধুনি রাখেন।

অবশ্যই পড়ুন- পেন তৈরির ব্যবসা

পরিছন্নতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

এই ব্যবসা করতে গেলে পরিচ্ছন্নতার দিকে অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। রান্নাঘরের পরিছন্নতা যেমন আপনার ব্যবসাকে সুন্দর ভাবে করার ক্ষেত্রে পথ প্রশস্ত করবে তেমনি খাবার প্যাকেজিং করার সময় তার পরিছন্নতা ও আপনার ব্যবসার উন্নতি কে ঠিক করবে। তাই রান্না করার সময় বা রান্না হওয়ার পরে রান্নাঘর অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। আর খাবার প্যাকেজিং করার সময় প্রতিটা প্যাকেট অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে কাস্টমারের কাছে যাতে পৌঁছতে পারে সেই দিকটাই খেয়াল রাখবেন।

খাবার প্রস্তুত ও প্যাকেজিংয়ের স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিন মেনে চলতে হবে অবশ্যই আপনাকে। এছাড়া প্রতিটা কর্মচারীর মাথা এবং হাত যেন ঢাকা থাকে তার ব্যবস্থা ও আপনাকে করতে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে মাথার চুল খাবারে পড়ে খাবার নষ্ট করে দিতে পারে বা কাস্টমারের অপ্রিয় লাগতে পারে। তাই এই ধরনের ছোট ছোট জিনিস গুলো আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সমস্ত জিনিস রাখতে হবে।

খাবারের অর্ডারের হিসাব রাখা

ব্যবসা করতে গেলে সবচেয়ে প্রধান বিষয়বস্তু হিসেবে দেখা যায় হিসাব রাখা। আর আপনি যখন টিফিন পরিষেবার ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই প্রতিটা অর্ডারের হিসাব রাখা এবং টাকা-পয়সার হিসাব রাখা টাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে একজন কর্মচারী নিয়োগ করতে পারেন যার প্রধান কাজ হবে প্রতিটা অর্ডার সময়মতো ডেলিভারি হচ্ছে কিনা দেখা এবং অর্ডার থেকে আসা টাকার হিসাব রাখা।

অনেক সময় হয় অর্ডার আসার পরে ঠিকভাবে হিসাব রাখার জন্য একজনের অর্ডার অন্যজনের কাছে পৌঁছে যায় তাই এইসব ভুলভাল তিনি যাতে না ঘটে এর জন্য অবশ্যই আপনাকে ভালো করে আপনার ব্যবসার পরিধিটা বুঝতে হবে। কোনো কারণবশত যদি ভুল হয়ে যায় তখন প্রতিটা কাস্টমারের কাছে আপনাকে ভুল স্বীকার করতে হবে এবং দ্বিধাহীনভাবে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে গ্রাহককে। সেই জন্য অবশ্যই প্রতিটা খাবারের অর্ডার এর হিসাব রাখতে হবে এবং খাবার ডেলিভারির সময় তার হিসাব রাখতে হবে।

Kitchen in the food delivery business
ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় রান্নাঘর

টিফিন পরিষেবার ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে গেলে মার্কেটিং এর উপর আপনাকে বেশি জোর দিতে হবে। এমনভাবে মার্কেটিং আপনাকে করতে হবে যাতে প্রতিটা মানুষের মুখে মুখে আপনার দোকানের কথা বা আপনার রেস্টুরেন্টের কথা প্রচার হতে থাকে। এর জন্য আপনি সামাজিক যেসকল যোগাযোগ মাধ্যম অর্থাৎ ফেসবুক-ইউটিউব-গুগল ইনস্টাগ্রাম সমস্ত জায়গাতেই বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আবার আপনি চাইলে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে নিয়মিত আপনার তৈরি খাবারের ভিডিও আপলোড করতে পারেন এতে অনেক কাস্টমার বৃদ্ধি পায়।


আবার আপনি চাইলে বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় পোস্টারিং করতে পারেন মূলত আপনি যে এলাকাতে ব্যবসা করবেন সেই এলাকাতে পোস্টারিং করতে পারেন। আবার বড়-বড় ফ্লেক্স ছাপিয়ে বিভিন্ন জনবহুল এবং জনপ্রিয় এলাকাতে ফ্লেক্স গুলো লাগিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আপনার ফেসবুক পেজ তৈরি করে সেই পেজে নিত্যনতুন পোস্ট করে পোস্টগুলোকে বুস্ট করে জনগণ বা কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। এছাড়াও আপনি প্রতিটা কাস্টমারের রিভিউ নিতে পারেন, এবং তাদেরকে বলতে পারেন অর্ডার নেওয়ার পর তাদের কেমন লাগলো খাবার খেয়ে বা কেমন ধরনের খাবার হয়েছে এই সম্পর্কিত।

তারা যেন তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এবং যার যত বেশি শেয়ার হবে বা লাইক হবে তাকে সেই অনুযায়ী ছাড় দেওয়া হবে। এই ভাবে যদি আপনি আধুনিক নিয়মে এবং বিভিন্ন নিত্য নতুন পদ্ধতিতে আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন বাড়াতে পারেন বা ভালোভাবে মার্কেটিং করতে পারেন ততো বেশি পরিমাণে আপনার কাছে অর্ডার আসতে থাকবে। আর যত বেশি পরিমাণে অর্ডার আসতে থাকবে তত বেশি পরিমাণে আপনার লাভের অংক বা আপনার উপার্জিত টাকা ও বাড়তে থাকবে।

টিফিন পরিষেবার ব্যবসায় লাভ কত?

টিফিন পরিষেবার ব্যবসা করতে যেমন অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় তেমন এই ব্যবসায় লাভ হতে পারে সমস্ত কিছু খরচ বাদ দিয়ে 30% থেকে 45%। অর্থাৎ বলা যেতে পারে একজন কাস্টমারকে 100 টাকায় খাবার বিক্রি করে আপনার লাভ হবে 40 টাকা থেকে 50 টাকা। প্রতিদিন আপনার এই ব্যবসা করে লাভ হতে পারে 2000 টাকা থেকে 5 হাজার টাকা পর্যন্ত। একজন টিফিন পরিষেবা ব্যবসায়ীর মাসিক আয় 60 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকার বেশি হতে পারে। তবে ব্যবসার শুরুতে এত পরিমান লাভ নাও হতে পারে। আপনাকে ধৈর্যের সাথে নিত্য নতুন আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে হবে।

এছাড়া ব্যবসার শুরুতে অর্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা আসার কারণে লাভের পরিমাণ কম হতে পারে তবে এই ব্যবসা যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে করতে থাকেন তাহলে এই ব্যবসায় লাভ আপনার 1 লক্ষ টাকা প্রতি মাসে ছাড়িয়ে যেতে পারে। মনে রাখবেন আপনি যত বেশি পরিমাণে ফুড ডেলিভারি অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তত বেশি পরিমাণে অর্ডার আসতে থাকবে এবং তত বেশি পরিমাণে আপনার লাভ হবে। এছাড়াও আপনি কোন এলাকাতে ব্যবসা করছেন তার ওপরে নির্ভর করবে আপনার আয় এর পরিমাণ টা।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন F.A.Q

প্রশ্ন: টিফিন পরিষেবা ব্যবসা করতে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয়?

উত্তর: টিফিন পরিষেবা ব্যবসা করতে কম করে 10 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হয়।

প্রশ্ন: খাবারের হোম ডেলিভারির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: কম করে 10/10 ফুটের একটা রান্না হওয়ার তৈরি করে আপনাকে খাবারের হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশ্ন: টিফিন তৈরির ব্যবসা করতে কি ওয়েবসাইট প্রয়োজন?

উত্তর: Zomato,swiggy মত ফুড ডেলিভারি সাইটের মাধ্যমে আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে আপনি চাইলে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করেও টিফিন তৈরির ব্যবসা করতে পারেন।

প্রশ্ন: টিফিন পরিষেবার ব্যবসায় আয় কত?

উত্তর: টিফিন পরিষেবার ব্যবসায় প্রতিমাসের আয় হতে পারে 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকার মতো।

প্রশ্ন: টিফিন পরিষেবার ব্যবসা কোন এলাকায় করা উচিত?

উত্তর: অফিস পাড়া এলাকাতে ও জনবহুল শহর অঞ্চলের আপনি এই ব্যবসা করতে পারেন

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

পতঞ্জলি ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যাবসা

লিকুইড হ্যান্ড ওয়াশ তৈরি ব্যবসা

Leave a Comment