জেলি তৈরির ব্যবসা করুন 5 হাজার টাকায় | Jelly making business right now

ছোট বাচ্চা থেকে বড়দের অনেকেই জেলি খেতে ভীষণ ভালোবাসেন। তাই পাড়ার মুদিখানা দোকান থেকে শহরের শপিংমল সব জায়গাতেই জেলির বিক্রি অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। আপনি যদি জেলি তৈরির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে এই ব্যবসা থেকে অনেক টাকা উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে জেলি তৈরির ব্যবসা খুবই অল্প পুঁজির ব্যবসা। তাই কম টাকা বিনিয়োগ করে আপনি শুরু করতে পারেন জেলি ব্যবসা। আজকের এই পোস্টে জেলি তৈরির পদ্ধতি এবং ব্যবসার নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আপনি যদি সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে আপনিও খুব ছোট আকারের ব্যবসা থেকে বড় করে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাবেন। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক জেলি তৈরির ব্যবসা সম্বন্ধিত যাবতীয় তথ্য।

Table of Contents

কিভাবে জেলি তৈরির ব্যবসা করা যায়? (How to start a jelly making business?)

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে সর্বপ্রথম জেলি তৈরি করার পদ্ধতি জানতে হবে। এরপর দেখতে হবে বর্তমান মার্কেট চাহিদা কেমন রয়েছে ও কোথা থেকে কাঁচামাল কম দামে কিনবেন এবং কোন মার্কেটে বিক্রি করবেন। সম্পূর্ণ মার্কেট রিসার্চ কমপ্লিট হলে আপনি খুবই অল্প টাকা বিনিয়োগ করে জেলি তৈরির ব্যবসা করতে পারেন এর জন্য খুব বেশি মেশিনের প্রয়োজন হয় না। তাই জেলি তৈরির ব্যবসা করতে খুব অল্প পুঁজি বিনিয়োগ লাগে।

অবশ্যই পড়ুন- আচার তৈরির ব্যবসা

জেলি তৈরির কাঁচামাল কি কি? (What are the raw materials for making jelly?)

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে জানতে হবে জেলি তৈরির কাঁচামাল সম্পর্কে। বর্তমানে ইউটিউব দেখে ও আপনি জিলি তৈরির পদ্ধতি ও কাঁচামাল সম্পর্কে সাধারণ আইডিয়া পেতে পারেন। জেলি তৈরি করার কাঁচামাল গুলি হল-

  • আগার আগার পাউডার
  • চিনি
  • ফুড কালার
  • লেবু
  • প্রিজারভেটিভ পাউডার
  • ফ্লেভার
  • জল
Jelly making
জেলি তৈরি

জেলি তৈরির কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়? (Where to buy raw materials for making jelly?)

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে গেলে জানতে হবে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ে জেলি তৈরির প্রায় সব ধরনের কাঁচামাল আপনার এলাকার বড় পাইকারি মুদিখানা দোকানেই কিনতে পাবেন। তবে আপনি যদি বড় আকারের ব্যবসা শুরু করতে চান সেক্ষেত্রে এলাকার বড় মুদিখানা দোকান থেকে কেনার পরিবর্তে সরাসরি কলকাতার বড়বাজার পাইকারি মার্কেট থেকে সব ধরনের কাঁচামাল কিনে নিয়ে এসে ব্যবসা করতে পারেন। কলকাতার বড়বাজার এবং বাংলাদেশের চকবাজার হল দেশের সবথেকে বড় পাইকারি মার্কেট গুলির মধ্যে অন্যতম মার্কেট। তাই এই মার্কেট গুলিতে খুব অল্প মূল্যের সমস্ত ধরনের কাঁচামাল পাওয়া যায়। বড় ব্যবসা করতে গেলে সরাসরি এই ধরনের বড় পাইকারি বাজার থেকেই সকল প্রকার কাঁচামাল কিনে নিয়ে এসে ব্যবসা করা প্রতিটি ব্যবসায়ীর অন্যতম কর্তব্য।

জেলি তৈরির মেশিন কি লাগে? (What is a jelly making machine?)

জেলি তৈরির ব্যবসা ছোট আকারের শুরু করতে হলে আপনাকে একটি মেশিন কিনে এই ব্যবসা করতে হবে। জেলি প্যাকেট কিংবা জেলি টিউব সিল করার জন্য সিল প্যাকিং মেশিন কিনতে হবে। তাই জেলির ব্যবসা ছোট আকারের করতে গেলেও আপনাকে জেলি প্যাকিং মেশিন হিসেবে যেকোনো প্যাকেট সিলিং মেশিন অথবা স্ক্রাবার প্যাকিংয়ের হট সিলিং মেশিন কিনতে হবে। আর আপনি যদি বড় করে ব্যবসা করেন সে ক্ষেত্রে অটোমেটিক জেলি মেকিং মেশিন কিনতে পারেন।

  • Call 8386010880 or 8963843602 (India)
  • চকবাজার, ঢাকা। 01741410941, 01601435435, 01601436436, 01601437437

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গা লাগে? (How much space is needed to make jelly?)

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই জানতে হবে এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার পরিমাণ সম্পর্কে। আপনি যদি ছোট আকারের জেলি তৈরীর ব্যবসা শুরু করেন সে ক্ষেত্রে আপনার বাড়ির যে কোন একটি ঘর থেকেই এর কাজ শুরু করতে পারেন। অর্থাৎ এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা হিসেবে 10/10 একটি রুম হলেই যথেষ্ট। তবে জেলি তৈরির ব্যবসা বড় আকারে করার ক্ষেত্রে একটি বড় কারখানার প্রয়োজন পড়ে যা 500 স্কয়ার ফিটের মধ্যে হলে সবথেকে ভালো হয়। তবে ব্যবসার শুরুটা আপনি আপনার বাড়ি থেকেই করতে পারেন তাই, আলাদা করে বড়সড়ো জায়গার প্রয়োজন পড়বে না।

জেলি তৈরির পদ্ধতি (Jelly making method)

যেকোনো ধরনের জেলি তৈরি করতে প্রায় একই ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। আর আপনি যদি জেলি তৈরির ব্যবসা করতে চান সেই ক্ষেত্রে আপনাকে তো অবশ্যই জানতে হবে জেলি তৈরি করা কিভাবে হয় তা সম্পর্কে। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক জেলি কিভাবে তৈরি হয় সে পদ্ধতিটি।

  • এক মগ জলে 3 থেকে 4 চামচ আগার আগার পাউডার ভালো করে মেশাতে হবে।
  • পরিমাণ মতো স্বাদ অনুযায়ী চিনি মেশাতে হবে সেই জলের ভেতর।
  • সামান্য পরিমাণ ফুড কালার এবং ফ্লেভার মেশাতে হবে সেই জলের ভেতর।
  • মিশ্রণটি ভালো করে গুলে নেবার পরে খুবই অল্প পরিমান অর্থাৎ হাফ চামচ প্রিজারভেটিভ মেশাতে পারেন (ব্যবসার জন্য প্রিজারভেটিভ মেশানো অত্যান্ত জরুরী)
  • মিশ্রণটি গ্যাসে ভালো করে গরম করতে হবে যখন জল ফুটতে থাকবে তখন তা নামিয়ে নিতে হবে।
  • মিশ্রণটি ঠান্ডা করার জন্য পাখার নিচে অথবা ফ্রিজে রেখে দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জেলি তৈরি হয়ে যাবে।
  • জেলি তৈরি করার পর তা ছোট ছোট প্যাকেট অথবা বাজারে যে ধরনের জেলির প্লাস্টিক পাওয়া যায় তা কিনে নিয়ে এসে তাতে ভর্তি করে সিল করে বাজারে বিক্রি করতে হবে।

কোন ফলের জেলি তৈরি করতে গেলে সেই ফলটির রস আগে বার করে নিতে হবে এবং তা ফ্লেভার হিসেবে মিশিয়ে দিতে হবে আগার আগার পাউডার, চিনি মিশ্রিত জলের মধ্য। তারপর কিছুক্ষণ রেখে দিলেই তা জমে জেলিতে পরিণত হবে।

আরো পড়ুন- সিমেন্টের ডিলারশিপ ব্যবসা শুরু করুন

জেলি কত ধরনের হয়? (How many types of jelly are there?)

বর্তমান সময়ে প্রায় 15 থেকে 20 ধরনের জেলি তৈরি করা হয় মার্কেটে বিক্রির জন্য। তবু বর্তমানে প্রচলিত জেলি গুলি হল-

  • পাকা আমের জেলি
  • কমলালেবুর জেলি
  • লিচুর জেলি
  • কাঁচা আমের টক মিষ্টি জেলি
  • টক মিষ্টি জেলি
  • কমলা জেলি
  • তরমুজ জেলি
  • পেয়ারা জেলি

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্সের প্রয়োজন? (What license is required to make jelly?)

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে আপনাকে বেশ কয়েকটি লাইসেন্স নিতে হবে। যেহেতু জেলি খাবারের মধ্যে পড়ে তাই ফুট দপ্তরের লাইসেন্স অবশ্যই নিতে হবে। এছাড়াও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আরও যে লাইসেন্স গুলির প্রয়োজন পড়বে তা হলো-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • FSSAI লাইসেন্স
  • GST নাম্বার
  • BSTI লাইসেন্স (বাংলাদেশ প্রযোজ্য)
  • ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার
  • নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র

এই সমস্ত লাইসেন্স আপনি নিতে পারেন বর্তমানে অনলাইনে এপ্লাই করে অথবা আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস ও বিডিও অফিসে যোগাযোগ করে। তবে যেহেতু অনলাইনেই লাইসেন্স পাওয়া যায় তাই অনলাইনে আবেদন করে সকল প্রকার লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। আপনার এলাকাতে যদি আরও অন্য ধরনের লাইসেন্সের প্রয়োজন পরে তা জানার জন্য আপনি অবশ্যই আপনার বিডিও অফিসে যোগাযোগ করবেন।

অবশ্যই পড়ুন- সরিষার তেলের ডিলারশিপ ব্যবসা

জ্যাম জেলির মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

জ্যাম জেলির মার্কেটিং করতে খুব বেশি ভাবতে হবে না আপনাকে। কারণ এর বর্তমান মার্কেট চাহিদা এত বেশি পরিমাণে রয়েছে যে আপনি যেকোন মুদিখানা দোকান থেকে শুরু করে খাবারের দোকানে গিয়ে খোঁজ করলেই জ্যাম জেলি পেয়ে যাবেন। তবুও জেলি তৈরির ব্যবসা করতে হলে আপনাকে মার্কেটিং এর উপর একটু জোর দিতে হবে। কারণ বর্তমান সময়ে বড় বড় কোম্পানিগুলি তাদের নিজস্ব মার্কেট তৈরি করে ফেলার কারণে বর্তমান বাজারে তাদের প্রোডাক্টের চাহিদা বেশি রয়েছে। তাই বড় কোম্পানিগুলির মত মার্কেটিং করতে হলে আপনি যে পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করতে পারেন তা হল-

  • তৈরি করা জেলি আপনার এলাকার প্রতিটি মুদিখানা দোকানে বিক্রি করতে পারেন।
  • জেলি বিক্রি করার জন্য আপনি বড় বড় পাইকারি দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন এবং সেই পাইকারি দোকানে পাইকারি রেটে বিক্রি করতে পারেন।
  • আপনার এলাকার বড় পাইকারি বাজারে জেলি বিক্রি করা যেতে পারে।
  • শহরের সকল শপিংমলে জেলি বিক্রি করতে পারেন।
  • বিভিন্ন এলাকাতে একাধিক ডিস্ট্রিবিউটার তৈরি করে তাদের মারফত যে বিক্রি করতে পারেন।
  • বিভিন্ন এলাকাতে একাধিক সেলসম্যান নিযুক্ত করে প্রতিটি দোকানে দোকানে বিক্রি করার জন্য আপনি মার্কেটিং করতে পারেন।
  • জেলির বিক্রি বাড়াতে বিজ্ঞাপন হিসেবে স্কুল-কলেজের গেটের সামনে বড় বড় ফ্লেক্স ঝাপিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • ইউটিউবে বাচ্চারা যে কার্টুনের চ্যানেল দেখে সেই চ্যানেলের মধ্য অল্প টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • জনবহুল এলাকাও বাজার এলাকাতে ফ্লেক্স ছাপিয়ে আপনার কোম্পানির তৈরি প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
Method of making jelly
জেলি তৈরির পদ্ধতি

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? (How much money does it take to make jelly?)

খুবই অল্প টাকা বিনিয়োগ করে জেলি তৈরির ব্যবসা করা যায়। মাত্র 3 থেকে 5 হাজার টাকা বিনিয়োগ করেই আপনি শুরু করতে পারেন ছোট আকারের জেলি তৈরীর ব্যবসা। তবে আপনি যদি কমার্শিয়ালি ভাবে বড় আকারের ব্যবসা করতে চান সে ক্ষেত্রে কমপক্ষে 25 থেকে 30 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এই ব্যবসাতে। তবে ব্যবসার শুরুতেই একসাথেই 25-30 হাজার টাকা বিনিয়োগ না করে অল্প টাকা বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে আপনি ব্যবসাটি করে দেখুন। ব্যবসাতে যখন লাভবান হতে থাকবেন তখন আপনি আরো টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসাটিকেই বড় করে তোলার চেষ্টা করুন। বর্তমানে প্রায় সব ব্যবসায়ী ছোট আকারের ব্যবসা থেকে বড় আকারের ব্যবসাতে রূপান্তরিত করেছেন।

জেলি তৈরির ব্যবসাতে লাভ কত? (How much is the profit in jelly making business?)

জেলি তৈরির ব্যবসায় লাভ হতে পারে অনেক টাকা, শুধু নির্ভর করবে আপনার মার্কেটিং স্ট্যাটাস এর ওপর। বাজারে বিক্রি হওয়া 5 টাকার জেলীর প্যাকেট তৈরি করতে খরচ হয় 1 টাকা। প্রতিদিন আপনি কমপক্ষে 5 হাজার প্যাকেট জেলি তৈরি করতে পারবেন। এবং প্রতিদিনের তৈরি করা জেলি যদি বাজারে বিক্রি করতে পারেন তাহলে প্রতিদিনই 5000 টাকার বেশি লাভ করতে পারবেন। বর্তমানে একজন ছোট জেলি তৈরীর ব্যবসায়ী প্রতি মাসে 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকারও বেশি উপার্জন করেন। তবে ব্যবসার শুরুতেই এত বেশি পরিমাণে লাভ আপনার না থাকলেও প্রতিদিন 2 হাজার টাকা অবশ্যই আপনি জেলি তৈরি করে লাভ করতে পারেন।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 5 থেকে 10 হাজার টাকা জেলি তৈরির ব্যবসা করতে লাগে।

জেলি খাওয়ার উপকারিতা কি কি?

উত্তর: শিশুদের অনেকেই ফল খেতে পছন্দ করো না তারা জেলি খেতে পছন্দ করে। আর জেলির মধ্যে থাকা ফল সব সময় শরীরের অনেক উপকারে লাগে। তাই জেলি খাওয়ার উপকারিতা অনেক।

জেলি পাউডারের দাম কত?

উত্তর: জেলি পাউডার বা আগার আগার পাউডার প্রতি প্যাকেটের দাম 50 থেকে 50 টাকা। আগার আগার পাউডার প্রতি কেজির দাম 700 টাকা করে।

জেলি তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গা লাগে?

উত্তর: 10/10 ফুটের একটি ঘর হলেই জেলি তৈরি করার কাজ করা যায়।

জ্যাম জেলি তৈরি করতে প্রধান উপাদান কি লাগে?

উত্তর: জ্যাম জেলি তৈরি করতে প্রধান উপাদান হিসেবে ফলের জুস এবং আগার আগার পাউডারের প্রয়োজন।

জেলি তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: প্রতিদিন কমপক্ষে 2 হাজার টাকা থেকে 10 হাজার টাকা ও উপার্জন করা যায়। এই ব্যবসায় লাভ হতে পারে প্রতি মাসে 1 লক্ষ টাকার বেশি

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

মিষ্টির ব্যবসা শুরু করুন

কাজু ও কিসমিস এর হোলসেল ব্যবসা

Leave a Comment