ছাতা তৈরির ব্যবসা | Succeed in the No. 1 umbrella making business

ছাতা তৈরির ব্যবসা করে কিছু অল্প সংখ্যক ব্যবসায়ী বিশাল কোটিপতি হয়েছেন। যেহেতু অল্প সংখ্যক ব্যবসায়ী ছাতা তৈরির ব্যবসা করেন তাই আপনার কাছে রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ এই ব্যবসা করার। ছাতা এমন একটা জিনিস যা গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা দুটো ঋতুতেই প্রতিটা মানুষ ব্যবহার করে থাকে। এ ছাড়াও অনেকে আছেন যারা বাড়ি থেকে এক পা বাড়ালেই ছাতা মাথায় দিয়ে হাঁটতে পছন্দ করেন। ছাতার চাহিদা বর্তমান বাজারে প্রচুর তাই আপনি যদি ছাতা তৈরির ব্যবসা করেন অবশ্যই আপনি সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন।

ছাতা তৈরিতে ব্যবসা করতে একটু বেশি পুঁজি খরচ হলেও লাভের পরিমাণ থাকে কোটি টাকার অংকে। আজকের নিবন্ধের তাই আমরা আলোচনা করব ছাতা তৈরির ব্যবসা কিভাবে করা যায় এবং ছাতা কিভাবে বানানো হয় আর কিভাবে ছাতার মার্কেটিং করা হয়। আপনিও ছাতা তৈরি যে ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই এই সকল কথাগুলো মনে রাখবেন এবং আপনার ব্যবসাকে আরো বড় করে তুলবেন। চলুন দেখা যাক ছাতা তৈরির ব্যবসা কিভাবে করা যায়।

umbrella types
ছাতার প্রকারভেদ

Table of Contents

ছাতা তৈরীর ব্যবসায় বিনিয়োগ কত করতে হয়?(How much to invest in umbrella making business?)

ছাতা তৈরীর ব্যবসা করতে একটু বেশি পরিমাণে বুঝি খরচ করতে হতে পারে। ছোট করে যদি আপনি ছাতা তৈরির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে ব্যবসার শুরুতে আপনার খরচ হবে প্রায় 10 লক্ষ টাকা থেকে 15 লক্ষ টাকার মতো। এই টাকার মধ্যে আপনি প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহ সমস্ত প্রকার মেশিন কিনতে পারবেন এবং ছাতা তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি আরো বেশি বুঝে নিয়ে বৃহৎ আকারের ছাতা তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ব্যবসা শুরু হয়ে যাবার পর আপনার দু-তিন লাখ টাকা খরচ পড়বে বাকি অন্যান্য মাসের কাঁচামাল গুলি কিনে ব্যবসা করতে। অর্থাৎ ব্যবসার শুরুতেই আপনার এই বেশি অঙ্কের টাকার প্রয়োজন পড়বে। আবার আপনি চাইলে মাত্র 5 লক্ষ টাকার বিনিময় ছাতা তৈরীর কারখানা থেকে ছাতা তৈরি করিয়ে নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। মানে আপনি চাইলে নিজে একটি কোম্পানি তৈরি করতে পারেন। আবার যে কোম্পানি রয়েছে সেই কোম্পানিকে অর্ডার দিয়ে ছাতা তৈরি করে ব্যবসা করতে পারেন।

ছাতা তৈরী করতে কি কি কাঁচামাল লাগে? (What raw material does it take to make an umbrella?)

ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ছাতা তৈরি প্রয়োজনীয় সকল কাঁচামাল সম্পর্কে জানতে হবে। ছাতার তৈরীর জন্য ব্যবহৃত কাঁচামাল গুলি হল-

  • ছাতার জন্য জলরোধী কাপড়
  • সুতো
  • ছাতার লোহার শিক
  • প্লাস্টিক হ্যান্ডেল
  • ছাতার হ্যান্ডেল পাইপ
  • ক্লিপ
  • সরু লোহার তার
  • বড় টেবিল
  • মোটা রাবার শিট

ছাতা তৈরীর কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ছাতা তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাঁচামাল আপনাকে কিনতে হলে বড় কোনো হোলসেল মার্কেট থেকে কিনতে হবে। তবে ছাতা তৈরি ব্যবসা করতে হলে আপনাকে সকল কাঁচামাল ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি অথবা বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করতে হবে। সাধারণত আমরা ছাতার যে কাপড়টা ব্যবহার করি সেই কাপড়টা চীন থেকে আমাদের দেশে আসে। তাই চীন থেকে সেই কাপড় আপনাকে আমদানি করে তবেই ছাতা তৈরির ব্যবসা শুরু করতে হবে।

এছাড়াও বাকি সকল ছাতার সরঞ্জাম যেকোনো হোলসেল মার্কেট থেকে প্রচুর পরিমাণে কিনলে অনেক অল্প রেটে আপনি কিনতে পারবেন। ছাতা তৈরীর কাপড় বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত কাঁচামাল কলকাতার বড় বাজার পাইকারি মার্কেট থেকে আপনি পেয়ে যাবেন। এছাড়াও ভারতের অনেক ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি আছে যারা ছাতার সকল সরঞ্জাম তৈরি করে থাকে, আপনি চাইলে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে সমস্ত সরঞ্জাম কিনে ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে পারেন।

ছাতা তৈরীর জন্য কি কি মেশিন লাগে? (What machines do you need to make umbrellas?)

ছাতা তৈরি ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই ছাতা বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল মেশিন আপনাকে কিনতে হবে। ছাতা বানানোর মেশিন গুলি হল-

  • পাওয়ার প্রেস মেশিন
  • আইলেট প্রেস মেশিন
  • সুইং মেশিন
  • কাটিং মেশিন
  • কাপড় কাটার ডাইস
  • কাঁচি
  • করাত

ছাতা তৈরীর মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে হলে যেমন আপনাকে ছাতা বানানোর মেশিন কিনতে হবে তেমন সেই মেশিন গুলি কেনার জন্য অবশ্যই আপনাকে মেশিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইন ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকে সকল প্রকার মেশিন কিনতে পারেন। মূলত ছাতা বানানোর মেশিন গুলি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তাই মেশিনের দাম একটু বেশি পড়ে যায়।

অবশ্যই পড়ুন- আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা

কিভাবে ছাতা তৈরি হয়?(How are umbrellas made?)

ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ছাতা বানানো শিখতে হবে। একটি ছাতা তৈরি করার পদ্ধতি গুলি হল-

  • প্রথমে ছাতার কাপড়ের রোল কিনেছেন সেই কাপড়ের রোলের দুই প্রান্ত সুন্দরভাবে সমান করে কাটতে হবে।
  • তারপর সমস্ত কাপড়টা একটা বড় টেবিলের ওপর লম্বালম্বি ভাবে একাধিকবার বিছিয়ে দিতে হবে।
  • তারপর সেই কাপড়ের ওপর ছাতার ভি আকৃতির ডাইস বসিয়ে কাপড় কাটতে হবে।
  • কাটা কাপড়গুলোকে এক এক করে সেলাই করতে হবে ছাতার আকারের।
  • সেলাই করার জন্য দর্জি মেশিনের ব্যবস্থা আপনাকে রাখতে হবে।
  • এরপর ছাতার লোহার শিক গুলিকে horizontal head farmer মেশিনের দ্বারা একত্রিত জুড়তে হবে।
  • ছাতার সিক গুলি জোড়া হয়ে গেলে তারমধ্য ছাতার হাতল লাগাতে হবে।
  • সর্বশেষ কাপড়টা সমস্ত শিকারপুর সুন্দর করে বিছিয়ে কোনগুলি হাতে সুচ সুতো নিয়ে সেলাই করে দিতে হবে। তারপর ছাতার ওপরে একটা ছোট্ট টুপি লাগিয়ে নিচে প্লাস্টিকের হাতলটা লাগাতে হবে।
  • ছাতা প্রস্তুত হয়ে যাবে।

ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনার একটু বড় জায়গার প্রয়োজন পড়বে। কারন ছাতা বানানোর সমস্ত প্রক্রিয়াটা বড় জায়গা হলে তবেই সম্ভব। ছাতা তৈরীর কারখানা টি অবশ্যই 150 বর্গমিটার জায়গায় নিয়ে যেন থাকে। কারণ ছাতার কারখানার ভেতরে একাধিক দর্জি মেশিন, একাধিক টেবিল এবং অনেক সংখ্যক কর্মচারী কাজ করে। আপনি চাইলে ছাতা তৈরি পণ্য কারখানা থেকে অর্ডার দিয়ে ছাতা তৈরি করে আপনি ব্যবসা করতে পারেন।

ছাতা তৈরীর কারখানা কেমন হবে?

ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে হলে আপনাকে ছাতা বানানোর একটি কারখানা বানাতে হবে। ছাতা তৈরীর কারখানা ইনডাসট্রিয়াল এরিয়া তে হতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনি চাইলে আপনার যে জায়গা পছন্দ সেখানে ছাতা তৈরীর কারখানা করতে পারেন। তবুও একটি কারখানা তৈরি করতে হলে যেন পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত থাকে এই দিকটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।


ছাতা তৈরির কারখানার ভেতরে একাধিক ডিভিশনে ভাগ করা থাকবে। যেমন কাটিং ডিপার্টমেন্ট, সেলাই ডিপার্টমেন্ট, জয়েন ডিপারমেন্ট ও আরো অনেক ডিপার্টমেন্ট আপনাকে ভাগ করতে হবে প্রয়োজন অনুসারে।
আপনার কাছে যদি একাধিক কর্মচারী থাকে তাহলে আপনি নিজে ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে করতে আবার অন্য কোম্পানির অর্ডার নিয়ে নিজের কারখানাতে সেই কোম্পানির ছাতা প্রস্তুত করতে পারেন। ছাতা তৈরি কারখানা তৈরি করলে অবশ্যই আপনাকে প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে কমপক্ষে 10 জন করে কর্মচারী নিযুক্ত করতে হবে।

Umbrella making factory
ছাতা তৈরীর কারখানা

ছাতা তৈরীর ব্যবসায় যোগ্য কর্মচারী নিয়োগ

ছাতা তৈরির ব্যবসা করলে অবশ্যই আপনাকে যোগ্য কর্মচারীদের আপনার কোম্পানিতে নিয়োগ করতে হবে। কারন ছাতা বানানো সকল প্রক্রিয়া জানা উপযুক্ত কর্মচারী ছাড়া আপনি ছাতা তৈরীর ব্যবসা করতে পারবেন না। এর জন্য অবশ্যই আপনাকে নতুন কর্মচারী নিয়োগ করলে তাকে বেশ কিছুদিন ট্রেনিং দিয়ে তবেই পার্মানেন্ট করুন। ছাতা তৈরি প্রতিটা কর্মচারী প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে কমপক্ষে যেন এক সপ্তাহ নির্ণয় এই দিকটা দেখবেন। বর্তমানে কলকাতায় দুই তিনটে ছাতার কোম্পানি থাকলেও যেহেতু ছাতার মার্কেট অনেক বড়, তাই আপনি ছাতা তৈরীর ব্যবসা শুরু করলে আপনিও একটি কারখানা করে ব্যবসা করতে পারেন। এবং উপযুক্ত কর্মচারী নিয়োগ করে আপনার ব্যবসার নাম বৃদ্ধি ঘটাতে পারেন।

আরো পড়ুন- ভেষজ আবির তৈরির ব্যবসা

ছাতা তৈরি ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স এর প্রয়োজন?

সাদা তৈরির ব্যবসা করতে অবশ্যই আপনাকে আপনার কোম্পানির নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়াও আপনাকে জিএসটি নাম্বার আপনার কোম্পানির নামে নিতে হবে। যে কোন ব্যবসা শুরু করতে গেলে সেই ব্যবসার জন্য সরকারের কাছে নাম নথিভুক্ত করার মাধ্যমেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়। আর বর্তমানে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সমস্যার সমাধানের জন্য GST নাম্বার ও আপনাকে নিতে হবে।
সকল প্রকার লাইসেন্স আপনি চাইলে অনলাইনে এপ্লাই করে পেয়ে যেতে পারেন এবং প্রতিটা লাইসেন্সের জন্য আপনাকে কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়াও সমস্ত লাইসেন্সের জন্য আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী কর্পোরেশন অথবা বিডিও অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

ছাতার প্যাকেজিং কিভাবে করা হয়?

ছাতা তৈরি ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্যাকেজিং এর ওপরে বেশি করে নজর দিতে হবে। ছাতা তৈরি হয়ে যাবার পর সেই ছাতাটি আপনি চাইলে আপনার কোম্পানির নাম লেখা কোন প্লাস্টিকের ছাতার মোড়কের ভেতরে ছাতাটি প্যাকেজিং করতে হবে। এছাড়াও ব্যবসার শুরুতে আপনি চাইলে বাজার থেকে কিনে আনা অল্প দামের প্লাস্টিকের মোড়কে ছাতা প্যাকেজিং করতে পারেন। ছাতা প্যাকেজিং হয়ে যাবার পর বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করে ফেলুন। মনে রাখবেন ছাতা প্যাকেজিংয়ের প্লাস্টিক গুলি যেন সুন্দর রংয়ের ও আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। কারন একটা বড় হিন্দি কথা রয়েছে “যো দিকতা হে, ওহী বিকতা হে”মানে যেটা যত সুন্দর দেখতে লাগে সেটাই বেশি তাড়াতাড়ি বিক্রি হয়।

ছাতা বিক্রির মার্কেটিং কিভাবে করা হয়?

ছাতা তৈরীর ব্যবসা করতে হলে আপনার কোম্পানিতে তৈরি হওয়া ছাতা গুলিকে অবশ্যই বাইরে বিক্রি করতে হবে। ছাতা বিক্রির জন্য আপনি বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। সেগুলি হল-

  • বিভিন্ন দোকানে দোকানে হোলসেল রেটে ছাতা বিক্রি করতে পারেন।
  • একাধিক ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে কথা বলে, আপনার কোম্পানি থেকে সরাসরি পাইকারি রেটে সেই ডিস্ট্রিবিউটরদের ছাড়া বিক্রি করতে পারেন।
  • ছাতা বড় পাইকারি হোলসেল বিক্রেতাকে বিক্রি করতে পারেন।
  • একাধিক সেলস পারসন কর্মচারী নিযুক্ত করে তাদের দ্বারা ছাতা বিক্রি করাতে পারেন।
  • অনলাইনে বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে ছাতা বিক্রি করতে পারেন। যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট ইত্যাদি।
  • এছাড়াম আপনার নিজস্ব কোম্পানির ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে ছাতা বিক্রি করতে পারেন।

বর্তমানে ছাতা বিক্রি করা খুব সহজ হয়ে গেছে কারণ এখন অনলাইন ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম আর ওয়েবসাইটের দুনিয়া তাই এই সকল ইন্টারনেটের সমস্ত ওয়েবসাইট গুলোতে আপনি চাইলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যেতে পারেন এবং ছাতা তৈরির ব্যবসা ও বড় করতে পারেন।

Umbrella making business
ছাতা তৈরির ব্যবসা

ছাতা তৈরির ব্যবসায় লাভ কত? (What is the profit of umbrella making business?)

ছাতা তৈরির ব্যবসা শুরু করতে যেমন বেশ কিছু পুঁজি আপনাকে খরচ করতে হয়। কেমন ছাতা তৈরীর ব্যবসায়ীদের লাভ হয় লক্ষাধিক টাকা প্রতি মাসে। একদম ছোট করে নতুন ছাতা তৈরির ব্যবসা করলে আপনার লাভ হবে প্রতি মাসে 10-15 লক্ষ টাকা। কারন প্রতিটা ছাতার পেছনে আপনি লাভ করবেন 30% থেকে 40%। আবার অন্যদিক থেকে বলা যায় একটা ছাতা বিক্রি করে ছাতা তৈরি কোম্পানির মালিকের লাভ থাকে 40 টাকা কমপক্ষে। একটা ছাতা ভিত্তি করে যদি 40 টাকা লাভ করে তাহলে প্রতিদিন 1 হাজার ছাতা বিক্রি করলে কত লাভ থাকতে পারে বুঝতেই পারছেন। প্রতিদিন কমপক্ষে 40 হাজার টাকা আয় করতে পারছেন ছাতা তৈরির ব্যবসা করে। এই কারণে ছাতা তৈরির ব্যবসা একটি লাভজনক বড় ব্যবসার মধ্যে অন্যতম।


বাংলাদেশ ভাঁজহীন ছাতার দাম 150 টাকা থেকে 550 টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবার বিদেশি ছাতার দাম 650 টাকা থেকে 1.5 হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু এই ছাতা তৈরি করতে কোম্পানির মালিকের করে খুব বেশি হলে 100 টাকা থেকে 200 টাকার মধ্যে। দামের তারতম্য মূলত ছাতার কাপড় কে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে এবং ছাতার ডিজাইনের ওপরে হয়ে থাকে।

অবশ্যই পড়ুন- কিভাবে ব্যবসা শুরু করব?

ছাতার পাইকারি ব্যবসা কিভাবে করা যায়?

আপনি যদি ভাবেন আপনার কাছে খুব অল্প পরিমাণে পুঁজি রয়েছে, সেই অল্প পরিমাণ পুঁজি দিয়ে আপনি ছোট করে ব্যবসা শুরু করবেন, তাহলে আপনি ছাতার পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
ছাতার পাইকারি ব্যবসা করতে হলে আপনার মূলধন মাত্র 5000 টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়।
পাইকারি ব্যবসা করতে হলে সরাসরি কোম্পানি থেকে আপনি খুব অল্প রেটে একাধিক ডিজাইনের ছাতা কিনে বাজারে অথবা দোকানে দোকানে পাইকারি দামে বিক্রি করতে পারেন । আবার আপনি নিজে একটি ছাতার দোকান তৈরি করে সেখান থেকে ছাতা বিক্রি করতে পারেন।

ছাতা তৈরির ব্যবসায় কিছু সমস্যা ও সমাধান।

ছাতা তৈরীর ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে ব্যবসার শুরুতে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। যেমন-

  • বাজারে থাকা বর্তমানের বড়ো বড়ো ছাতার কম্পানিরা আপনাকে প্রতিহত করতে পারে।
  • বাকি অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে আপনার তৈরি ছাতার যেন কোয়ালিটি একদম খারাপ না হয়।
  • ব্যবসার শুরুতে আপনার কোম্পানির সুনাম বৃদ্ধি করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ভালো কোয়ালিটির কাপড় এবং ভালো কোয়ালিটির ছাতা মার্কেটে বিক্রি করতে হবে।
  • বাকি অন্য বড় কোম্পানি থেকে অল্প লাভ রেখে ছাতা গুলি মার্কেটে বিক্রি করার ব্যবস্থা করুন।
  • উপযুক্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত কর্মচারী নিয়েই ছাতার তৈরির ব্যবসা শুরু করুন।
  • আপনার ব্যবসার সাথে জড়িত কর্মচারী এবং বাকি হোলসেলার দের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখুন, যাতে তারা আপনার ব্যবসা ছেড়ে কখনো কোথাও না যায়।

এছাড়াও আপনি ব্যবসা করতে করতে আরো নতুন নতুন অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবেন সেই সমস্ত সমস্যা ঠান্ডা মাথায় সমাধানের পথ বার করুন। এছাড়া সাহসিকতার সাথে আপনাকে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হবে এবং আপনার ব্যবসার উন্নতি সাধনের জন্য সমস্ত পন্থাকেই আপনাকে অবলম্বন করতে হবে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: ছাতা তৈরি ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ হয়?

উত্তর: ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে কমপক্ষে 15 থেকে 20 লক্ষ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে।

প্রশ্ন: ছাতা তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: কমপক্ষে 100 বর্গমিটার জায়গার প্রয়োজন ছাতা তৈরির ব্যবসা শুরু করতে গেলে অথবা কারখানা বানাতে গেলে।

প্রশ্ন: ছাতা তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: ছাতা তৈরীর ব্যবসায় লাভ হয় কমপক্ষে মাসে 10 লক্ষ টাকা।

প্রশ্ন: স্বচ্ছ ছাতার দাম কত?

উত্তর: স্বচ্ছ ছাতা বা ট্রান্সপারেন্ট ছাতার দাম 1.5 হাজার থেকে 2 হাজার টাকা পর্যন্ত

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

টুথপিক তৈরির ব্যবসা

১২ টি সেরা গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া

Leave a Comment