চাউমিন তৈরির ব্যবসা | নুডলস তৈরির ব্যবসা | The No. 1 successful business in making noodles

চাউমিন তৈরির ব্যবসা করে বর্তমানে অনেক ছোট ছোট ব্যবসায়ী সফলতার সাথে ব্যবসা করে চলেছেন। আপনিও যদি নুডলস তৈরির ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য আমাদের এই পোস্ট। আমরা সবাই জানি ভারত তথা সারা পৃথিবীতে চাউমিন বা নুডলস এর জনপ্রিয়তা কতটা বেশি। শুধু স্ট্রিটফুড নয় বর্তমানে চাওমিন আমাদের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রান্না হয়ে থাকে। তাই জন্য চাউমিন তৈরির ব্যবসা এতটা জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বাজারে পাওয়া যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চাওমিন এর সাথে সাথে ছোট ব্র্যান্ডের চাওমিন বিক্রি হয়ে থাকে। চলুন দেখে নেওয়া যাক চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে আপনাকে কি কি জিনিস মাথায় রাখতে হবে।

noodles making business
নুডলস তৈরির ব্যবসা

Table of Contents

চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে আপনাকে অনেক টাকা বিনিয়োগ করার কোন প্রয়োজন নেই। চাউমিন তৈরীর ব্যবসার জন্য নূন্যতম 30 থেকে 40 হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে এই ব্যবসা আরামসে করতে পারেন। তবে এই 30000 টাকার মধ্যে আপনি প্রথমে মেশিন এবং কাঁচামাল দুটোই কিনবেন। একবার ব্যবসা শুরু হয়ে গেলে চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে মাত্র 2 থেকে 5 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে প্রতি মাসে। মাত্র এই কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে আপনি চাউমিন তৈরির ব্যবসা করে হাজার হাজার টাকা প্রতি মাসে ইনকাম করতে পারবেন।

তবে নুডলস তৈরির ব্যবসা করতে যেমন অল্প টাকা বিনিয়োগ করতে হয়, তেমন লাভের পরিমাণটা অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। আপনার কাছে যেমন পুঁজি আছে আপনি সেই রকম ভাবে ব্যবসাটি করবেন। ছোট করে ব্যবসা করতে হলে এই টাকা লাগছে, আর আপনার কাছে যদি অনেক টাকা থেকে থাকে এবং আপনি যদি খুব বড় আকারের নুডলস তৈরির ব্যবসা করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনি অনেক বড় একটি কোম্পানি তৈরি করে চাউমিন তৈরির ব্যবসা বা নুডুলস তৈরির ব্যবসা করতে পারেন।

নুডুলস তৈরির জন্য কি কি কাঁচামাল লাগে?

নুডলস তৈরির ব্যবসা বা চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে। চাউমিন তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় যেসকল কাঁচামাল লাগে সেগুলি হল-

  • ময়দা
  • সুজি
  • জল
  • লবণ
  • স্টার্চ
  • রিফাইন তেল

চাউমিন তৈরির কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

চাউমিন তৈরীর কাঁচামাল কেনার জন্য অবশ্যই আপনি আপনার নিকটবর্তী পাইকারি মার্কেট এর যোগাযোগ করবেন। আপনি চাইলে আপনার বাড়ির কাছের যেকোন মুদিখানা দোকান থেকে এই সকল কাঁচামাল কিনতে পারেন। তবে লোকাল মুদিখানা দোকান থেকে যদি আপনি বাজার করেন তাহলে খরচটা একটু বেশি পরিমাণে হয়ে গিয়ে থাকে। তাই জন্য আপনি যদি বড় কোন হোলসেল পাইকারি মার্কেট থেকে সমস্ত কাঁচামাল কেনেন তাহলে অনেক অল্প দামে সমস্ত কাঁচামাল কিনতে পারবেন এবং চাউমিন তৈরির ব্যবসা ও সুন্দরভাবে করতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বড় বাজারে সবচেয়ে বড় হোলসেল মার্কেট রয়েছে মুদিখানা দোকানের। ওখান থেকে আপনি সমস্ত কাঁচামাল খুব কম দামে কিনতে পারেন। আবার বাংলাদেশের ঢাকার চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে সকল কাঁচামাল কিনতে পারেন। চকবাজার পাইকারি মার্কেট এ খুব অল্প দামে বাংলাদেশ থাকা প্রতিটা মানুষ পাইকারি রেটে জিনিসপত্র কিনে থাকেন।তাই আপনিও যদি চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে পাইকারি রেটে সকল কাঁচামাল কিনুন।

নুডলস তৈরির জন্য কি কি মেশিন লাগে? (What machines do you need to make noodles?)

নুডুলস বা চাওমিন তৈরি করার মেশিন খুব একটি বড় হয় না, মেশিনের আয়তন ছোট হয়ে থাকে। সাধারণত চাউমিন তৈরির মেশিন দুই ধরনের হয়। একটা মেশিন ইলেকট্রিকে চলে এবং অটোমেটিক নুডলস বার হতে থাকে। আরেকটা হ্যান্ড প্রেস মেশিন, এই মেশিন হাতে ঘুরিয়ে চাউমিন তৈরি করতে হয়। বাংলাদেশের প্রতিটা ভাই-বোনেরা সবাই জানেন যে কিভাবে শিমুই তৈরি করতে হয়। ঠিক একই ধরনের মেশিনের সাহায্যে আপনি চাউমিন বানাতে পারেন। বলা যেতে পারে দুই প্রকার মেশিন যা-

  • অটোমেটিক নুডলস মেকিং মেশিন
  • হাতে ঘোরানো নুডুলস মেকিং মেশিন

অবশ্যই পড়ুন- কাগজের প্লেট তৈরির ব্যবসা

চাউমিন তৈরির মেশিনের দাম কত?

চাউমিন তৈরির মেশিন দু’ধরনের হওয়ার জন্য এর দাম দুই রকমের হয়ে থাকে। অটোমেটিক ইলেকট্রিক মেশিন এর দাম 35 হাজার টাকা থেকে 40 হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। হাতে ঘুরানো ছোট্ট মেশিনের দাম 5000 থেকে 10000 টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এছাড়াও এইসব মেশিন গুলি আপনি যে এলাকা থেকে কিনবেন সেই এলাকা অনুযায়ী দামের বিভিন্ন তারতম্য ঘটতে পারে। যেমন ভারতে এই মেশিন গুলোর দাম বর্তমানে যা বাংলাদেশে তার থেকে বেশি দাম হতে পারে।

চাউমিন তৈরির মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে গেলে চাউমিন তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন আপনাকে অল্প দামে কিনতে হবে। আপনি চাইলে অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকে অল্প রেটে চাউমিন তৈরীর মেশিন কিনতে পারেন। আবার বিভিন্ন মেশিন মেনুফেকচার কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি কথা বলে অল্প দামে মেশিন কিনতে পারেন। চাউমিন তৈরীর ব্যবসার জন্য যে মেশিন লাগে সেই মেশিন তৈরি করছে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি। যেমন পশ্চিমবঙ্গের, সাহা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং স্বর্ণাভ ইন্ডাস্ট্রিজ খুবই অল্প দামে মেশিন তৈরি করে থাকে।

Chaumin making machine
চাউমিন তৈরির মেশিন

কিভাবে চাউমিন তৈরি করা হয়? (How to make Chaumin)

চাউমিন তৈরি করার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

  • প্রথমে শুকনো ময়দার সাথে সুজি, স্টার্চ, তেল এবং নুন সুন্দর করে মেশাতে হবে।
  • মিশ্রণটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর হালকা উষ্ণ গরম জল দিয়ে মাটি সুন্দর করে মাখাতে হবে।
  • মাখানো হয়ে যাবার পর সকল মিশ্রণটি 15 মিনিটের জন্য চাপা দিয়ে রেখে দিতে হবে।
  • এরপর চাউমিন বানানোর মেশিনের মধ্যে মিশ্রিত ময়দা টি দিয়ে দিতে হবে।
  • এরপর মেশিন চালিয়ে দিলে সুন্দরভাবে নুডুলস বা চাওমিন বিভিন্ন আকারের ডাইস এর মাধ্যমে যেমন সাইজের চাইবেন তেমন আকারের বার হতে থাকবে।
  • এরপর সমস্ত চাওমিন টা নিয়ে আপনাকে একটি দড়িতে শুকনো করতে দিতে হবে, বা কোন প্লাস্টিকের উপরে বিছিয়ে শুকনো করতে দিতে হবে।
  • শুকনো হয়ে যাবার পর চাওমিন প্রস্তুত হয়ে যাবে।

চাউমিন তৈরির মেশিন দিয়ে সিমুই ও তৈরি করতে পারেন। শুধুমাত্র ডাইস টি বদলে আপনার পছন্দমত নুডুলস তৈরি করা যায়। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন একটা মেশিন দিয়ে একই পদ্ধতিতে চাউমিন ও সিমুই দুটোই বানানো যায়।

চাওমিন কিভাবে প্যাকেজিং করবেন?

চাওমিন বিক্রি করতে হলে অবশ্যই চাওমিন কে প্যাকেজিং করতে হবে। এর জন্য আপনি বাজার থেকে সাদা প্লাস্টিক কিনে নিয়ে ব্যবসার শুরুতে চালাতে পারেন। পরবর্তীকালে আপনার কোম্পানির নাম লোগো দেওয়া প্লাস্টিক বানিয়ে তার ভেতরে সেগুলো ওজন করে মেপে, সিল করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। চাওমিনের প্লাস্টিক কি যত সুন্দর দেখতে হবে ততই গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং তত বেশি পরিমাণে আপনার চাওমিন বিক্রি হবে। এই পদ্ধতিতে যদি আপনি চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে পারেন তাহলে আপনি সত্যিই সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন। প্যাকেটের পেছনে অবশ্যই দাম নির্ধারিত করবেন ।যাতে আপনার তৈরি চাওমিন দোকানদার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারে। যেমন বাজারে বর্তমানে বিক্রি হয় পাঁচ টাকা থেকে কুড়ি টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্যাকেট যার ভেতরে চাওমিন বা নুডলস থাকে।

আরো পড়ুন- বিনা পুঁজিতে মাসে আয় করুন 1 লক্ষ টাকা

চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

চাউমিন তৈরির ব্যবসা শুরু করতে হলে অবশ্যই আপনাকে জায়গার কথা মাথায় রাখতে হবে। চাউমিন তৈরীর মেশিন যেহেতু ছোট আকৃতির হয়ে থাকে তাই এটি বসানোর জন্য খুব বেশি বড় জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। আপনি চাইলে আপনার ঘরের দাবাতে মেশিন বসিয়ে চাউমিন তৈরীর ব্যবসা করতে পারেন। আবার 10/12 ফুটের একটি ঘরে নিয়ে তার ভেতরে মেশিন বসিয়ে চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে পারেন।

নুডুলস তৈরির ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

নুডুলস তৈরির ব্যবসা করতে বেশকিছু লাইসেন্স আপনাকে নিতে হবে। কারন প্রতিটা ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে গেলে লাইসেন্স এর দরকার ভীষণভাবে পরে।

ট্রেড লাইসেন্স-যেকোনো ব্যবসায় করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স মানে সরকারের কাছে আপনার ব্যবসার তথ্য থাকা।
FSSAI লাইসেন্স-যেহেতু আপনি খাবারের জিনিস নিয়ে ব্যবসা করছেন তাই অবশ্যই আপনাকে FSSAI লাইসেন্স নিতে হবে। যে কোন খাদ্য ও পানীয় জিনিসের ব্যবসাতে FSSAI লাইসেন্স অত্যান্ত জরুরী।
GST লাইসেন্স-যখন আপনার ব্যবসাতে আপনি প্রতিমাসে দু’লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে GST নাম্বার নিতে হবে।
বিজনেস লাইসেন্স-ট্রেড লাইসেন্স যেমন সরকারের কাছে ব্যবসার তথ্য রাখা একটি লাইসেন্স। তেমনি MSME একটি সরকারি ব্যাংক বিজনেস অর্গানাইজেশন এই সংস্থা তে আপনার ব্যবসার জন্য একটি বিজনেস লাইসেন্স নিতে হবে।

তবে সমস্ত লাইসেন্সই আপনি ব্যবসা শুরু করার আগেও নিতে পারেন আবার পরেও নিতে পারেন। একদম ছোট করে ব্যবসা করতে হলে আপনি প্রয়োজনে কোনো লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করতে পারেন। তবে ধীরে ধীরে ব্যবসা যত বড় হতে থাকবে তত আইনি জটিলতার সম্মুখীন আপনাকে হলেও হতে পারে। তাই সেই সকল আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এইসব লাইসেন্স গুলি আপনাকে নিতে হবে।
এই সমস্ত লাইসেন্স আপনি চাইলে বর্তমানে অনলাইনে এপ্লাই করে নিতে পারেন। আবার আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস কিংবা কর্পোরেশন অফিস থেকে যোগাযোগ করে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতিটি লাইসেন্স নেয়ার জন্য আপনার খরচ হবে দুই থেকে তিন হাজার টাকার মতো।

Chaomin making business
চাওমিন তৈরির ব্যবসা

চাওমিন তৈরির ব্যবসা মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

চাউমিন তৈরি হয়ে যাবার পর সেই চাওমিন গুলিকে অবশ্যই আপনাকে মার্কেটে বিক্রি করতে হবে। তা না হলে আপনি চাউমিন তৈরির ব্যবসা করে সফল হতে পারবেন না। চাওমিন এর মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে এই সকল পদ্ধতি অবলম্বন করতে হতে পারে-

আপনি দোকানে দোকানে গিয়ে চাওমিন এর প্যাকেট বিক্রি করতে পারেন।
একজন কিংবা একাধিক সেলস পারসন রেখে, তাদের মারফত চাওমিন বিক্রি করতে পারেন।
বিভিন্ন সংবাদপত্র, মাসিক পত্রিকা বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
বাজারের মোড়ে মোড়ে ফ্লিক্স লাগিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, গুগোল, ইউটিউব এ সমস্ত ইন্টারনেটের সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিতে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
বাজারের বড় পাইকারি মার্কেট এগিয়ে পাইকারি রেটে বিক্রি করতে পারেন।
গ্রামের মুদিখানা দোকান গুলোতে হোলসেল রেটে চাওমিন বিক্রি করতে পারেন।

এছাড়াও আপনি আরো কত উপায়ে চাওমিন বিক্রি করতে পারেনি সে সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত ভাবতে হবে। শুধু মাথায় রাখবেন চাউমিন তৈরি হয়ে যাবার পর সেটা যদি আপনি মার্কেটে সঠিক সময়ের মধ্যে বিক্রি করতে না পারেন তাহলে আপনাকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। ত্বকের সফলভাবে চাওমিন তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই তৈরি হওয়া চাওমিন গুলিকে যথাসময়ে মার্কেটে বিক্রি করতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- একটা মেশিন দিয়ে 5টি ব্যবসা

চাউমিন তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

চাউমিন তৈরীর ব্যবসাতে লাভ হয় অনেক বেশি পরিমাণে। তবে আপনি মার্কেটে কেমন দামে বিক্রি করতে পারছেন তার ওপর নির্ভর করবে সম্পূর্ণ লাভ। আপনি প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘন্টা মেশিন চালিয়ে 5 থেকে 7 হাজার টাকা আয় করতে পারেন। অর্থাৎ বলা যেতে পারে প্রতিমাসে আপনি 2 লক্ষ টাকার উপরে আয় করতে পারেন। শুনে হয়তো আপনার অবাক লাগবে এত ছোট্ট একটা অল্প দামের মেশিন কিনে কি করে দু লক্ষ টাকা আয় হতে পারে। এই আয় করা সম্ভব যদি আপনি প্রতিদিন সঠিকভাবে সমস্ত চাওমিন বাজারে বিক্রি করতে পারেন তারপর। তাই জন্য চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সব ধরনের স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করে এই ব্যবসা করতে হবে।

চাউমিন তৈরির ব্যবসা তে কি কি সমস্যা আসতে পারে?

চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে হলে আপনাকে হয়তো অনেক সমস্যার সম্মুখীন হলেও হতে পারে। আপনি যেহেতু প্রথম এই ব্যবসাটি করছেন তাই ব্যবসার শুরুতে পুরনো অন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনেক অসহযোগিতা পেতে পারেন।
তাই জন্য আপনাকে বাজারে বিক্রি হওয়া বাকি অন্য কোম্পানিগুলির চাওমিন এর থেকে অল্প লাভ রেখে আপনার তৈরি চাওমিন বাজারে বিক্রি করতে হবে। ব্যবসার শুরুতে সঠিকভাবে মার্কেটিং না করতে পারলেও আপনাকে মার্কেটিং টা সুন্দর করে শিখে নিয়ে চাউমিন তৈরীর ব্যবসা করতে হবে। এছাড়াও আপনাকে সাহসিকতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

চাউমিন তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: জায়গা ছোট হলেও কোনো সমস্যা নেই, তবে 10/12 ফুটের জায়গা অবশ্যই প্রয়োজন।

চাউমিন তৈরির মেশিনের দাম কত?

উত্তর: চাউমিন তৈরি মেশিনের দাম হল-

মিক্সার মেশিন দাম পড়বে 15 হাজার টাকা।
নুডলস তৈরির মেশিনের দাম পড়বে 35 হাজার টাকা।
ব্য়লার মেশিনের দাম পড়বে 8 হাজার টাকা।
ড্রায়ার মেশিন এর দাম পড়বে 5 হাজার টাকা।
প্যাকেজিং সিলিং মেশিন এর দাম পড়বে 1000 টাকা।
এছাড়া ওজন মেশিন এর দাম পড়বে 2 হাজার টাকা।

চাউমিন তৈরীর ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: চাউমিন তৈরির ব্যবসায় লাভ সর্বনিম্ন 50000 টাকা, সর্বোচ্চ দু’লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা

চাওমিন কোথায় বিক্রি করা যায়?

উত্তর: চাওমিন বিক্রির জন্য আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী বাজার অথবা হোলসেল মার্কেট এ যোগাযোগ করতে পারেন।

পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুবান্ধবের কাছে শেয়ার করবেন। এই রকম আরো অনেক ব্যবসার আইডিয়া পেতে অবশ্যই আমাদের এই ব্যবসার আইডিয়া ব্লকটি ফলো করবেন। আর যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

মোবাইল সিকিউরিটি ব্যবসা

ইলেকট্রিক সাইকেলের ডিলারশিপ ব্যবসা

Leave a Comment