বাড়িতে চকলেট তৈরির ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয় করুন | How to be successful in the business of making chocolate

চকলেট এমন একটা জিনিস যা প্রতিটা মানুষের ভীষণ প্রিয়। তাই চকলেট তৈরির ব্যবসা করে আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারেন। ছোট বাচ্চা থেকে বয়স্ক প্রতিটা মানুষ এক টুকরো চকলেট দেখলেই খাবার জন্য অতি আগ্রহে বসে থাকে। বর্তমানের চকলেট কোম্পানিগুলি একের পর এক বিভিন্ন ফ্লেভারের চকলেট মার্কেটে নিয়ে আসার কারণে চকলেটের ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি ঘটছে। আপনি যদি আপনার বাড়িতে চকলেট তৈরি করে সেই চকলেট বাজারে বিক্রি করে ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আজকের এই প্রতিবেদনটি দেখুন।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা গেছে প্রতিবছর 225 হাজার টনেরও বেশি চকলেট বিক্রি হয়ে থাকে। ভারত কিংবা বাংলাদেশ প্রতিটা দেশেই চকলেটের ব্যবসা রমরমিয়ে করছেন একজন ব্যবসায়ী। আপনিও যদি চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই পড়ুন সমস্ত প্রতিবেদনটা।

Homemade chocolate making business
বাড়িতে চকলেট তৈরির ব্যবসা

Table of Contents

চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? (How much does it cost to run a chocolate business?)

চকলেট তৈরির ব্যবসা খুবই অল্প পুজিতে আপনি শুরু করতে পারেন। চকলেট তৈরির ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার সর্বনিম্ন 20 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হতে পারে। এছাড়াও আপনি চাইলে আরো বড় করে চকলেট তৈরির ব্যবসা কে বড় করতে হলে আপনার প্রিয় বেশি খরচা করতে হবে। বড় করে চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে হলে এক লক্ষ থেকে দু লক্ষ টাকার মতো খরচ হবে সমস্ত মেশিনপত্র কিনতে এবং এই ব্যবসা করতে। তবে যদিও আপনি অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন সেই অল্প পুঁজির মধ্য চকলেট তৈরি করার প্রয়োজনীয় সকল ছোট মেশিন গুলি কিনে শুরু করতে পারেন।

কিভাবে চকলেট তৈরির ব্যবসা করবেন?

বাড়িতে আপনি এবং পরিবারের বাকি সকল মহিলাদের নিয়ে আপনি চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে পারেন। পরিবারের মহিলারা যেমন প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন খাবার তৈরি করে খাওয়াতে ভালোবাসেন, তেমন চকলেট তৈরি করতেও তাদের অনেক বেশি ভালো লাগবে যখন সমস্ত প্রক্রিয়া টা শিখে যাবে। বর্তমানে মহিলারা যেমন ইউটিউব দেখে বিভিন্ন খাবারের রেসিপি দেখে রান্না করেন যেমন চকলেট তৈরি করা খুব সহজ এই পোষ্ট পড়লে বুঝতে পারবেন। চলুন দেখে নেয়া যাক চকলেট তৈরির ব্যবসা কিভাবে করবেন।

চকলেট তৈরির ব্যবসায় কি কি কাঁচামাল লাগে?(What are the raw materials used in making chocolate?)

চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কিনে তবেই এই ব্যবসা শুরু করতে হবে। আর চকলেট তৈরি করার জন্য যে সমস্ত কাজ আমার লাগবে সেগুলি হল-

  • চকলেটের ছাঁচ সিলিকনের তৈরি
  • স্প্যাটুলা
  • চকলেট প্যাক করার জন্য কাগজ
  • চকলেট রেপিং পেপার
  • চকলেট কম্পাউন্ড
  • চকো চিপস
  • বাদাম
  • বিভিন্ন স্বাদের ফ্লেভার
  • ফুড কালার
  • ট্রে

অবশ্যই পড়ুন- চায়ের কোনের ব্যবসা

চকলেট তৈরির কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

চকলেট তৈরি করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আপনি চাইলে অনলাইন ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলি থেকে পাইকারি রেটে কিনতে পারেন। আবার আপনি আপনার নিকটবর্তী বাজার থেকেও কিনতে পারেন। তবে খুব অল্প দামে চকলেট তৈরির কাঁচামাল কিনতে হলে অবশ্যই আপনাকে পাইকারি বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কলকাতায় পাইকারি বাজার বলতে বড় বাজার পাইকারি মার্কেট কে বলা হয়। আপনার বাড়ি যদি পশ্চিমবঙ্গের কোন প্রান্তে হয়ে থাকে আপনি কলকাতার বড় বাজার থেকে খুবই অল্প রেটে চকলেট তৈরির সকল কাঁচামাল এবং প্রয়োজনীয় মেশিন কিনতে পারেন।

বাংলাদেশে চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে সকল কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারেন। চকবাজার পাইকারি মার্কেট ঢাকার সবচেয়ে বড় চকলেটের পাইকারি মার্কেট। ঢাকা শহরের লালবাগে এই বৃহত্তম পাইকারি মার্কেট টি অবস্থিত। চকবাজার পাইকারি মার্কেট এ আপনি যেমন কাঁচামাল পাবেন তেমন চকলেট বানানোর পরে সেই চকলেট গুলো পাইকারি রেটে বিক্রি করতে পারবেন।

ভারতে কলকাতার বড় বাজার এবং নিউমার্কেট এলাকাতে সবচেয়ে বড় চকলেটের বাজার আপনি পেয়ে যাবেন এবং খুব স্বল্প মূল্যে ভালো মানের চকলেট পেয়ে যাবেন। আবার হাওড়ার কাটরা মার্কেট চকলেটের জন্য বিখ্যাত। কাট্টা মার্কেটের খুব অল্প মূল্যে চকলেটের ব্যবসা হয়ে থাকে। এছাড়াও মুম্বাইয়ের মার্কেট চকলেট পাইকারি বিক্রি জন্য সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত।

চকলেট তৈরি করতে কি কি মেশিন লাগে ? (What machines are needed to make chocolate.)

চকলেট তৈরির ব্যবসা শুরু করলে অবশ্যই আপনাকে প্রয়োজনীয় মেশিন গুলি কিনে তারপরে ব্যবসা শুরু করতে হবে। চকলেট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন গুলি হল-

  • মেল্টার মেশিন
  • মিক্সিং মেশিন
  • রেফ্রিজারেটর
  • ওয়েট মেশিন
  • প্যাকেট সিলিং মেশিন
Chocolate making machine
চকলেট তৈরির মেশিন

চকলেট তৈরির মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়? (Where can I buy a chocolate making machine?)

চকলেট তৈরির মেশিন আপনি যেকোন বড় মার্কেট থেকে পেয়ে যাবেন। যেহেতু আপনি চকলেট তৈরির ব্যবসা শুরু করতে চলেছেন তাই এই সকল মেশিন গুলো অবশ্যই আপনাকে কিনতে হবে। মেশিন কিনতে হলে অনলাইন ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলিতে অল্প দামে পেয়ে যেতে পারেন। যেমন ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট খুব অল্প দামে বিভিন্ন কোয়ালিটির মেশিন বিক্রি হয়ে থাকে।
আবার বিভিন্ন মেশিন ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি তাদের কাছ থেকেও সরাসরি মেশিন কিনতে পারেন। এছাড়া আপনার শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট থেকে মেশিন কিনতে পারেন।

আরো পড়ুন- হাওয়াই চপ্পল তৈরির ব্যবসা

বাংলাদেশের জনপ্রিয় পাইকারি মার্কেট

  • ফরেজ মেনশন বেগম বাজার
  • ভাই ভাই ম্যানশন, চকবাজার
  • সুলতান ম্যানশন, বেগম বাজার
  • গোল্ডেন সুপার মার্কেট, বেগম বাজার
  • হাসিনা মার্কেট, বেগম বাজার, চকবাজার

চকলেট ব্যবসায় বাজারে চাহিদা কেমন?

চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বাজার সম্পর্কে রিচার্জ করতে হবে। তবুও আমরা সকলেই জানি চকলেটের বাজার খুবই লাভজনক এবং ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল। ছোট বাচ্চা থেকে মহিলাদের সবচেয়ে বড় উইটনেস চকলেট। আবার বর্তমানের প্রতিটি জন্মদিনের পার্টি কিংবা ভালোবাসার মানুষকে উপহার দেওয়ার জন্য প্রত্যেকেই চকলেট কিনে থাকেন। তাই চকলেটের বাজার অনেক বেশি প্রগতিশীল। আপনি যদি চকলেট তৈরির ব্যবসা করেন অবশ্যই আপনি সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন। বর্তমানে চকলেট শিল্প শুধু দেশে নয় সারাবিশ্বে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর চকলেট এমন এমন নতুন নতুন আইটেম বাজারে লঞ্চ করছে যা প্রতিটা মানুষ না কিনে পারছে না। চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে এই ব্যবসার মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করতে হবে।

কিভাবে চকলেট তৈরি করা হয়?

চকলেট তৈরি করার জন্য অবশ্যই আপনাকে চকো চিপস গুলিকে একটি পাত্রে ঢেলে নিতে হবে। তারপর সমস্ত চকো চিপস গুলিকে মেলটিং মেশিনের সাহায্যে গরম করতে হবে। আপনি চাইলে মাইক্রো ওভেনে গরম করতে পারেন চকো চিপস গুলিকে। গরম করার ফলে জকোভিচ যখন গলে যাবে তখন তার ভেতরে বাদাম মিক্সার এগুলো করে ঢেলে দিতে হবে। স্বাদমতো চিনি দিতে হবে। আর সামান্য একটু লবণ মেশাতে পারেন। তারপর ভালো করে মিক্সড করার পর তরল চকলেট এর ভেতরে বিভিন্ন সেবার এবং ফুড কালার মেশাতে পারেন।

সম্পূর্ণ মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে সিলিকন ছাঁচের চকলেট মোল্ডে ঢেলে দিতে হবে। তারপর সিলিকনের চার্চটি ফ্রিজের ভেতরে 15 মিনিটের জন্য রেখে দিলে যখন বের করবেন তখন আপনার চকলেট প্রস্তুত হয়ে যাবে। তারপর সেই চকলেট গুলিকে রাপিং পেপার দিয়ে ভালো করে মুরে নিয়ে, চকলেটের প্লাস্টিকের ভেতরে ভরে সিলিং মেশিন এর সাহায্যে সিল করে দিতে হবে। আপনার চকলেট বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।

এছাড়াও আপনি চাইলে বর্তমানের ইউটিউব সবচেয়ে ভালো শিক্ষক যেকোনো রান্নাবান্না বা যেকোনো জিনিস তৈরি করার। তাই আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী ইউটিউব দেখেও চকলেট তৈরি করতে পারেন বাড়িতে। এই ভাবে শুরু করুন চকলেট তৈরির ব্যবসা বাড়িতে।

চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন

চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে খুব বেশি বড় জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। আপনি আপনার বাড়িতে একটি রুমের ভেতরই চকলেট তৈরি করে বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। হলে বলা যেতে পারে চকলেট তৈরি করার জন্য সবচেয়ে ছোট জায়গা হল আপনার রান্নাঘর। আর আপনি যদি বড় ব্র্যান্ডেড কোম্পানি তৈরি করতে চান বা ব্যবসার উন্নতি হতে হতে যদি আপনি বড় কোম্পানি তৈরি করেন তাহলে আপনাকে চকলেট তৈরি করার জন্য 100 বর্গমিটার এর একটি জায়গার প্রয়োজন পড়বে কারখানা বানাতে। এছাড়া আপনি আপনার ঘরের 10/12 ফুটের একটি জায়গার ঘর ঠিক করে ব্যবসা করতে পারেন।

চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে? (What is the license required to make chocolate business?)

প্রতিটা ব্যবসার মতোই চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বেশ কিছু লাইসেন্স নিতে হবে। সেইসব লাইসেন্স সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য আপনাকে দেওয়া হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন
  • FSSAI সার্টিফিকেট
  • GST নাম্বার

এইসব লাইসেন্স গুলি নিয়ে আপনি আপনার ব্যবসা সুন্দর ভাবে করতে পারেন। প্রতিটা লাইসেন্স আপনি অনলাইনে এপ্লাই করে পেয়ে যেতে পারেন, আবার আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস কিংবা বিডিও অফিস বা কর্পোরেশন অফিস থেকে যোগাযোগ করে পেয়ে যেতে পারেন। অনলাইনে এপ্লাই করতে হলে অবশ্যই সেই লাইসেন্স এর ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন আপনাকে করতে হবে। এছাড়া প্রতিটা লাইসেন্সের জন্য আপনার খরচ হবে 1 থেকে 2 হাজার টাকার মধ্যে।

Making chocolate
চকলেট তৈরি

চকলেট তৈরির ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে করা হয়?

চকলেট বানানোর পরে অবশ্যই সেটাকে আপনাকে মার্কেটে বিক্রি করতে হবে। আর বাজারে বিক্রি করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন ধরনের নিত্য নতুন স্ট্রাটেজি প্রয়োগ করতে হবে। চকলেট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর সেই চকলেট গুলিকে আপনি নিজে চাইলে বিভিন্ন দোকানে দোকানে বিক্রি করতে পারেন। আবার আপনি একাধিক সেলসম্যান আপনার ব্যবসাতে রাখতে পারেন। যাদের প্রধান কাজ হবে চকলেট তৈরি হয়ে যাবার পর দোকানে দোকানে পাইকারি বিক্রি করা এবং বড় বড় হোলসেলার কে চকলেট গুলো বিক্রি করা। এছাড়াও আপনাকে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় চকলেট রপ্তানি করার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিয়ে রপ্তানি করতে হতে পারে। আপনি আপনার ব্যবসাকে বড় করতে হলে অবশ্যই যতো বেশি পরিমাণে চকলেট বাজারে বিক্রি করতে পারবেন ততোই আপনি লাভবান হতে পারবেন।

চকলেট বিক্রি বৃদ্ধি করার জন্য আপনি অনলাইনে নিজের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে চকলেট বিক্রি করতে পারেন। আবার যেসকল ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে সেইসব ওয়েবসাইট এর নিজস্ব একটি বিজনেস একাউন্ট খুলে আপনার ব্যবসায়ী তৈরি প্রতিটি চকলেটের আলাদা আলাদা করে ছবি তুলে নির্দিষ্ট দাম রেখে পোস্ট করতে পারেন। অফলাইনে ব্যবসা করার এবং অনলাইনে ব্যবসা করার দুটো সম্পূর্ণ আলাদা রকমের জিনিস। তবে অনলাইনে ব্যবসা করলে লাভের পরিমাণ টা একটু বেশি পরিমাণে থাকে। কারণ ক্রেতারা সরাসরি আপনার কাছ থেকে চকলেট কিনবে তখন আর সেই সময় চকলেটের দাম রাখবেন সেই দামে তারা কিনবে, ফলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি বেড়ে যাবে।

এছাড়াও আপনি বড় বড় কিছু অর্ডার ধরতে পারেন যেমন জন্মদিনের পার্টি, অ্যানিভার্সারি পার্টি ইত্যাদি। এর জন্য আপনার লোকাল ক্যাটারার এর সঙ্গে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন যাতে ক্যাটারারদের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্ডার আপনার কাছে আসতে পারে।

চকলেট তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?

চকলেটের বাজার যেমন সব সময় ঊর্ধ্বমুখী থাকে তেমনি চকলেট ব্যবসায় লাভের পরিমাণটা অনেক বেশি। চকলেট তৈরির ব্যবসা করার পর আপনি নিজে বুঝতে পারবেন লাভ কত বেশি পরিমাণে আপনার থাকছে। সাধারণত একটি চকলেট বিক্রি করে আপনার লাভ থাকতে পারে 40% থেকে 50% এর মতো। আবার আপনি যদি সরাসরি অনলাইনে বিক্রি করেন তাহলে আপনার লাভ থাকবে এর থেকেও বেশি।

বলা যেতে পারে একটি চকলেট তৈরি করতে যদি আপনার 50 থেকে 60 টাকা খরচ হয়। সেই চকলেট বাজারে বিক্রি করতে পারবেন আপনি 100 থেকে 120 টাকা দামের মধ্যে। অর্থাৎ প্রতি টা চকলেট বিক্রি করে আপনার 50 থেকে 60 টাকার ওপরে লাভ থাকছে। একজন ছোট চকলেট ব্যবসায়ীর মাসিক আয় কমপক্ষে 50 হাজার টাকার বেশি হতে পারে। তবে লাভের পরিমাণ টা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনি কেমন ভাবে বিক্রি করতে পারছেন তার ওপর।

অবশ্যই পড়ুন- ডালিমের হোলসেল বিজনেস

চকলেট তৈরির ব্যবসায় কি কি সমস্যা আসতে পারে?

চকলেট তৈরির ব্যবসা তে ঝুঁকির পরিমাণ কম হলেও অল্প কিছু থেকেই যায়। সেইসব ঝুঁকিগুলো হল এবং তার সমাধান গুলি হল-

  • প্রতিদিনের তৈরি করা চকলেট প্রতিদিনই বাজারে বিক্রি করতে অবশ্যই হবে।
  • বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীরা আপনাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করতে পারে।
  • বাজারে বিক্রি হওয়া বাকি সব দামি চকলেট ব্র্যান্ড গুলোর থেকে আপনাকে অবশ্যই অল্প লাভ রেখে অল্প দামে বিক্রি করতে হবে।
  • চকলেটের ব্যবসা শুরু করার প্রথমে অবশ্যই আপনাকে লাইসেন্স নিয়ে নিতে হবে।
  • ব্যবসা শুরু করে আপনার সফলতা আসার সময় অনেক প্রতিবেশি কিংবা বন্ধুবান্ধব আপনাকে বিভিন্ন কুরুচিকর কথা বলে প্রতিহত করার চেষ্টা করতে পারে।
  • সাহসিকতার সাথে আপনাকে ব্যবসা পড়ে যেতে হবে এবং সফলতা অর্জন করতে হবে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন:

চকলেট তৈরি করতে কি কি মেশিন প্রয়োজন?

উত্তর: মেইলটার মেশিন, মিক্সি মেশিন, রেফ্রিজারেটর।

চকলেট তৈরির মেশিনের দাম কত?

উত্তর: চকলেট তৈরির মেশিনের দাম বিভিন্ন এলাকা বিবেচনায় আলাদা আলাদা হতে পারে। তবু চকলেট তৈরির মেশিন গুলির দাম হল-

ফিল্টার মেশিন- 30-50 হাজার টাকা।
মিক্সিং মেশিন- 2-5 হাজার টাকা।
রেফ্রিজারেটর (ফ্রিজ)- 8-12 হাজার টাকা।

চকলেট তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 20 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকার মধ্যে।

চকলেট তৈরি পাইকারি বাজার ঢাকাতে কোথায় আছে?

উত্তর: চকলেট তৈরির পাইকারি বাজার চকবাজার পাইকারি মার্কেট সবচেয়ে বড় বাংলাদেশের চকলেটের বাজার।

চকলেট কত রকমের ও কি কি?

উত্তর: চকলেট তিন রকমের হয়। ডার্ক চকলেট, সাদা চকলেট, মিল্ক চকলেট।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

ফলের জুসের ব্যবসা

মাছের আঁশের ব্যবসা করে হয়ে যান কোটিপতি

Leave a Comment