১২ টি সেরা গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া | Top 12 Rural Business Ideas | New Business Ideas -Kiran Jana

গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া বলতে আমরা ভারত ও বাংলাদেশে যারা থাকি তাদের কাছে নিজেদের দেশটি কৃষি প্রধান হওয়ার জন্য, ব্যবসা ও কৃষিভিত্তিক হওয়ার গুরুত্ব আছে। ছোটবেলা থেকে আমরা বই পড়ে আসছি যে ভারত একটি কৃষি প্রধান দেশ। এই ভারতের বহু মানুষের এখনো জীবিকার প্রধান মাধ্যম কৃষিকাজ। এবং পৃথিবীর যে দশটি কৃষিপ্রধান দেশ রয়েছে তার মধ্যে ভারত অবস্থান করে। ভারতীয় কৃষি বাজার এতটাই বেশি যে, ভারত নিজে নিজের দেশে কৃষিজ সামগ্রী বিক্রির পাশাপাশি বিদেশেও বিপুল পরিমাণে কৃষিজ সামগ্রী রপ্তানি করে থাকে। আমেরিকান এক রিপোর্টে দেখা গেছে 2020 সালে ভারতীয় কৃষি বাজার 56 বিলিয়ন ছিল। আর সেই কৃষি বাজার আগামী 2030 সালের মধ্যে 1 লক্ষ 50 হাজার বিলিয়ন হয়ে যাবে।

Table of Contents

কৃষি ব্যবসার আইডিয়া(Agribusiness Ideas)

আপনি যদি কৃষিকাজ বা এগ্রিকালচার এর ওপর আগ্রহ রাখেন তাহলে আপনি কৃষি ফিল্ড কে নিয়ে নিজের একটি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কৃষিকে নিয়ে ব্যবসা মানে এই নয় যে আপনাকে নিচে মাঠে গিয়ে চাষাবাদ করে ব্যবসা করতে হবে। বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানের উন্নতির পাশাপাশি কৃষিকাজেও অর্গানিক চাষাবাদ শুরু হয়েছে ভারতবর্ষে। তাই নিজে মাঠে কাজ না করেও কৃষি ব্যবসা শুরু করা যায়, এই নিয়ে আমি বেশকিছু কৃষি ব্যবসার আইডিয়া আপনাকে দেব। বর্তমানে যে কৃষি ব্যবসা গুলি দ্রুত বেড়ে উঠেছে এবং যার ভবিষ্যৎ আরো অনেক বেশি উজ্জ্বল সেইসব কৃষি ব্যবসা গুলি এখানে দেয়া হলো।

মাশরুম চাষ (Mushroom cultivation)

আমরা অনেকেই জানিনা মাশরুমের উপকারিতা, মাশরুম এমন একটা খাদ্য যা খাসির মাংস থেকে অনেক বেশি পুষ্টিকর। বর্তমান সময়ে মাশরুম চাষ ভারতে একটি ট্রেন্ডিং ব্যবসা হয়েছে, যা 2010 সাল থেকে প্রতি বছর 4 শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। আপনি যখন কোন রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাবেন তখন সেখানে যদি আপনি নিরামিষ খাবার অর্ডার করেন তাহলে অবশ্যই আপনি মাশরুম এবং পনিরের খাবার পেয়ে যাবেন। কারণ বর্তমান সময়ে ভারতবর্ষের সমস্ত রেস্টুরেন্টেই পনির সহ মাশরুমের বিভিন্ন আইটেম রান্না হয়। এছাড়াও ভারতের প্রচুর পরিবার রয়েছে যারা খাবার রুটিনে প্রতিদিনই মাশরুম টা রাখেন।

ভারতের সবচেয়ে বেশি বাটার মাশরুমের চাষ হয়, এছাড়াও ওয়েস্টার মাশরুম চাষ অনেক অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে হচ্ছে। মাশরুম চাষের জন্য আপনাকে কোন মাঠে চাষ করতে হয় না। আপনার যদি 10/12 ফুটের একটা ঘর থাকে সেই ঘরের ভেতরে আছি মাশরুম চাষ স্বাচ্ছন্দে করতে পারেন। কারণ মাশরুম চাষ কেবলমাত্র বদ্ধঘরে হয়ে থাকে। আবার অনেকে এখন মাশরুম চাষ খোলামেলা ঘরের মধ্যেও করে থাকছে যেখানে হাওয়া বাতাস সাথে চলাফেরা করতে পারে।
তাই আপনি কিভাবে মাশরুম চাষ করবেন এটা নিয়ে বিস্তারিত আরেকটি ব্লগ তৈরী করা যেতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অনুযায়ী মাশরুম চাষ বছরে ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাশরুম চাষের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

মাশরুম চাষ বর্তমানে চাষীরা শুধু সাত-আট মাস করে শান্ত হন না, তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে বছরের বারটি মাস মাশরুম চাষ করেন, ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে। তাই আপনিও যদি আপনার যে ঘরে মাশরুম চাষ করবেন ঠিক করেছেন, সেই ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে আপনিও বছরের ১২ মাস মাশরুম চাষ করতে পারবেন।

আপনি যদি মাশরুম চাষ করতে চান তাহলে আপনি মাশরুম চাষের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ভারত ও বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে এখন মাশরুম চাষ হচ্ছে। ভারতে যেমন অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড প্রভৃতি রাজ্যগুলিতে মাশরুম চাষ ব্যাপকহারে করছেন চাষীরা। এছাড়াও ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ও চাষিরা বর্তমান সময়ে মাশরুম চাষের দিকে উদ্যোগী হচ্ছেন। আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী বিডিও অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন এবং মাশরুম চাষের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

আর বাংলাদেশের প্রতিটা জেলাতেই এখন মাশরুম চাষ ব্যাপকহারে হচ্ছে। বাংলাদেশের জলবায়ু মাশরুম চাষের জন্য বর্তমান সময়ে উপযুক্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তাই আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন তাহলেও আপনি মাশরুম চাষ করতে পারেন এবং সেই মাশরুম বাইরে রপ্তানি করতে পারেন, এছাড়া আপনার দেশের প্রতিটি জেলাতে আপনি মাশরুম বিক্রি করে আপনার সংসার সহ আর্থিক উন্নতি ঘটাতে পারেন।
মাশরুম চাষ শেখার জন্য আপনাকে আপনার রাজ্যের যেকোনো এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি বা এগ্রিকালচার দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। প্রতিটি এগ্রিকালচার দপ্তর থেকে মাশরুম চাষের জন্য আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, এছাড়া আপনি যে সকল মাশরুম চাষি রয়েছে বর্তমান সময়ে তাদের কাছ থেকেও মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ ও মাশরুমের বীজ সংগ্রহ করতে পারেন।

Mushroom cultivation
মাশরুম চাষ

ফার্টিলাইজার ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসা এবং জৈব সারের ব্যবসা (Fertilizer distribution business and organic fertilizer business )

গ্রামবাংলা মানেই চাষবাস, আর চাষবাস মানেই ফার্টিলাইজার সারের দরকার। তাই গাছপালা ও ফসলের ভালো বৃদ্ধির জন্য যেসকল ফার্টিলাইজার সারের দরকার পড়ে তা যদি আপনি বড় বাজার থেকে কিনে নিয়ে আপনার গ্রামে চাষীদের বিক্রি করতে পারেন, তাহলেও আপনি অনেক বেশি পরিমাণে মুনাফা কামাতে পারবেন। আসলে বর্তমান সময়ে কেউ পেশাগতভাবে চাষবাস করুক বাবা গান করুক অথবা কেউ যদি শখের জন্য বাড়িতে গাছপালা লাগায় তাদের প্রত্যেকের গাছপালা এবং ফসলের জন্য সারের দরকার পড়ে।

আপনি যদি এমন কোন জায়গাতে বসবাস করেন যেখানে অনেক চাষী আছে এবং সেখানে চাষবাস হয় অথবা সেখানে বড় বড় নার্সারি রয়েছে তাহলে আপনি অবশ্যই ফার্টিলাইজার সারের অথবা জৈব সারের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসায় উন্নতি করবেন আপনি নিশ্চিত। আপনি খুচরা-পাইকারি যেভাবেই ব্যবসা করতে চান করতে পারেন, কারণ গ্রামাঞ্চলে ফাটিলাইজার এর বাজার কখনো খারাপ হয় না।
এছাড়া যদি আপনি জৈব সার শুধুমাত্র আপনার দোকানে নিয়ে এসে ব্যবসা করতে চান তাহলেও আপনি করতে পারেন। কারণ বর্তমান সময়ে মানুষজন জৈব সারের দিকে একটু বেশি পরিমাণে ভরসাশীল হচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র জৈব সার নিয়েও ব্যবসা করলে একজন মানুষ সফল হতে পারেন।

আপনাকে একটি দোকান বা ডিসট্রিবিউশন সেন্টার খোলার জন্য একটা যোগ্য জায়গা নির্বাচন করতে হবে। আপনাকে এমন একটি বাজারে এই দোকান খুলতে হবে যেখানে যেই এলাকাতে অনেক চাষির আনাগোনা রয়েছে অথবা যেখানে বড় বড় নার্সারি রয়েছে।
এছাড়া আপনাকে কোন ধরনের চাষের জন্য কি ধরনের সারের দরকার হয় এই বিষয়েও একটু রিসার্চ করতে হবে বা জানতে হবে। এইসব জানার পর আপনি চাইলেই যেকোনো জায়গায় এই ব্যবসা খুলে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারেন। এই ব্যবসা খোলার জন্য আপনার খরচ হবে 50 হাজার থেকে 1 লক্ষ টাকার মধ্যে। ফলে অল্প পুজি নিয়ে আপনি ফার্টিলাইজার সারের ব্যবসা করতে পারেন।

দেখুন নতুন ব্যবসা- বোতল ক্লিনিং ব্রাশ তৈরির ব্যবসা

ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির ব্যবসা (Vermi compost making business)

কারন আমরা সবাই জানি বর্তমান সময়ে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈবসার ও সমানতালে চাষীদের উপকৃত করে চলেছে। এবং চাষিদের মধ্যে জৈব সার ব্যবহারের প্রচলন বর্তমান সময়ে অনেক গুন বেড়ে গেছে রাসায়নিক সারের থেকে। তাই আপনি যদি জৈব সার বা ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি অনেক উপকৃত হবেন।
যেহেতু আমরা সবাই গ্রামে বাস করি তাই গ্রামের আশেপাশে প্রচুর পরিমাণে গাছপালা রয়েছে, এবং সেই গাছপালার ঝরে যাওয়া পাতা, গোবর এবং শাকসবজি থেকে বাদ দেওয়া অংশগুলি মাটিতে চাপা দিয়ে দিন, তারপর তার মধ্য কেঁচো অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া সেই খাবারগুলি কি খেয়ে যে মলত্যাগ করবে তার মধ্য দিয়েই তৈরি হবে ভার্মি কম্পোস্ট। এরপর কেঁচো গুলিকে বাদ দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট আলাদা করে নিয়ে আপনি প্যাকেটে ভর্তি করে সেগুলি বাজারে বিক্রি করতে পারেন।

প্রকৃতপক্ষে বলা যায় কেঁচো মাটির নিচের পাতা গোবর শাকসবজি গুলি খাবার পর যে বজ্র ত্যাগ করে সেটা মাটিতে মিশে যায় এবং সেই মাটি বর্তমান সময়ে ভার্মিকম্পোস্ট রূপে দেখা যায়।
তবে সঠিক উপায়ে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করার জন্য শুধুমাত্র গোবর প্রয়োগ করেই আপনি ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করতে পারেন। এর জন্য একটা প্লাস্টিকের অপর গোবর সুন্দরভাবে এক লাইন দিয়ে বিছিয়ে দিতে হবে, তারপর বেশ কিছু কিছু সেই গোবরের মধ্য ছেড়ে খড় দিয়ে গোটা চাপা দিয়ে দিতে হবে, এবং প্রতিদিন সেই গোবরে এক বালতি করে জল দিতে হবে। এইভাবে তিনমাস দেবার পর দেখা যাবে যে সেই গোবর আর গোবর এর আকারে নেই, সেটা জৈবসার অর্থাৎ ভার্মিকম্পোস্ট হয়ে গেছে।


এই ব্যবসাতে আপনার যে কি একদম নেই বললেই চলে হলে আপনি আর সময় নষ্ট না করে কোনো ভয় না পেয়ে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি এবং এর ব্যবসা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য বিস্তারিত ভাবে নিচে দেওয়া হবে। ভার্মি কম্পোস্ট এর ব্যবসা করার জন্য আপনার পুঁজি মাত্র 10 থেকে 15 হাজার টাকা লাগবে।

পোল্ট্রি ফার্মিং এর ব্যবসা(Poultry Farming Business)

গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া মধ্য পোল্ট্রি ফার্ম এর ব্যবসা আরেকটি অন্যতম ব্যবসা। আমরা সবাই জানি ডিম এবং মাংস কতটা আমাদের শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি দূর করে। তাই ছোটবেলা থেকে বাবা মা এবং পরবর্তীকালে ডাক্তাররাও আমাদের শরীরের পুষ্টির জন্য ডিম এবং মাংস খাবার জন্য বলেন। ভারতে পোল্ট্রি ফার্ম এর ব্যবসা একটি অন্যতম ব্যবসা। প্রত্যেকটা রাজ্যে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে উঠেছে। সারাবিশ্বে ভারত ডিম উৎপাদনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে এবং মাংস উৎপাদনে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। ভারত থেকে প্রতি বছর ডিম এবং মাংস প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি ছোট করে ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন তাহলে পোল্ট্রি ফার্ম এর ব্যবসা আপনি শুরু করতে পারেন।

পোল্ট্রি ফার্মিং এর ব্যবসা ছোট করে শুরু করতে হলে আপনার 50 হাজার থেকে 1 লক্ষ টাকার মতো বিনিয়োগ করতে হবে। আর আপনি যদি একটু বড় আকারের পোল্ট্রি ফার্মিং ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে আপনার 3 লক্ষ থেকে 10 লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে হতে পারে। পোল্ট্রি ফার্মিং ব্যবসার জন্য আপনার প্রথমে যেটা দরকার সেটা হলো একটি বড় ফাঁকা জমি যেখানে আপনি পোল্ট্রি ফার্ম করবেন। আপনার জায়গা এবং জমির পরিমাণ নির্ভর করবে আপনার ব্যবসাটি আপনি কেমন বড় করতে পারবেন তার ওপর।

পোল্ট্রি মুরগি রাখা থেকে শুরু করে দেশি মুরগি চাষ আপনি করতে পারেন। পোল্ট্রি ফার্মিং ব্যবসা করার জন্য আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে মুরগি গুলো যেন সুন্দরভাবে ফাঁকা জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে পারে ফার্ম এর ভেতরেই, এছাড়া মুরগীদের নিরাপত্তা, দেখাশোনা এবং নিয়মিত খাবার দেওয়া ও ফার্ম নিয়মিত পরিষ্কার করার প্রয়োজন পড়বে। আপনি চাইলে ছোট করে ব্যবসা শুরু করলে আপনি একাই এই কাজগুলো করতে পারবেন, কিন্তু একটু বড় হয়ে গেলে আপনার ব্যবসাটি তার জন্য আপনার শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। এরপর আপনাকে ঠিক করতে হবে যে আপনি কোন ধরনের পোল্ট্রি মুরগি পালন করবেন অর্থাৎ আপনি কি শুধুমাত্র ডিম উৎপাদন করতে চাইছেন, নাকি মাংস উৎপাদন করতে চাইছেন, তার ওপর নির্ভর করবে পোল্ট্রি মুরগি পালন।

আপনি যদি শুধু ডিমের জন্য পোল্ট্রি চাষ করতে চান তাহলে দেশী এবং বয়লার দুটো প্রজাতির পল্টি মুরগি আপনি আপনার ফার্মে রাখতে পারেন। আর আপনি যদি শুধুমাত্র মাংসের জন্য পোল্ট্রি চাষ করতে চান তাহলে বয়লার প্রজাতির মুরগি কুলি আপনি যদি আপনার ফার্মে রাখেন তাহলে বয়লার প্রজাতির মুরগি খুব দ্রুত বড় হয়ে যায়, ফলে মাংসের চাহিদা ও বাড়তে থাকবে মার্কেটে এবং আপনি সেই বুঝে পোল্টি মুরগি মার্কেটে বিক্রি করতে থাকবেন। ব্যবসার শুরুতে আপনি 2-3 রকমের পোল্ট্রি মুরগির পালন করতে পারেন।

Poultry Farming Business
পোল্ট্রি ফার্মিং এর ব্যবসা

যদি আপনি খুব বড় আকারের ব্যবসা করতে চান এবং আপনার মূলধন ও অনেক পরিমাণে রয়েছে তাহলে আপনি সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে আপনি বড় আকারের বাণিজ্যিক ফার্ম তৈরি করতে পারেন। এছাড়া মূলধনের জন্য ভারতে অনেক বাণিজ্যিক সংস্থা বা ব্যাংক রয়েছে যাদের কাছ থেকে আপনি অনেক বড় অংকের লোন পেয়ে যাবেন সেই লোন নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।
লাইসেন্সের জন্য আপনি আপনার নিকটবর্তী পশুপালন বিভাগ বা ANIMAL HUSBANDRY DEPARTMENT এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

পল্টি ফার্ম করলে তো শুধু হবেনা মার্কেটে বিক্রি করাটা ও প্রধান জিনিস হয়ে দাঁড়াবে । তাই আপনি আপনার নিকটবর্তী মার্কেট গুলি ক্ষুদ্র এবং পৃথিবী বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন তাদের মুরগি বিক্রি করুন। মনে রাখবেন পোল্ট্রি মুরগি চাষের সাথে সাথে মুরগীদের দেখভাল, মুরগীদের যত্ন, এবং মুরগীদের যে বিভিন্ন রকম রোগ হয়, সেই রোগের সমস্ত ওষুধ এবং তাদের দেখাশোনার জন্য যাবতীয় কাজ গুলি আপনাকে দায়িত্বের সাথে করতে হবে।

মৌমাছি পালনের ব্যবসা বা মধু উৎপাদনের ব্যবসা (Bee keeping business or honey production business)

গ্রামীণ ব্যবসার গুলির মধ্য মৌমাছি পালনের ব্যবসা বা মধু উৎপাদনের ব্যবসা একটি অন্যতম ব্যবসার মধ্যে একটি। ভারত তথা পৃথিবীর খুব কম সংখ্যক মানুষ আছে যারা মধু পছন্দ করেনা। কার্টুন পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ আছে যারা মধু ভীষণভাবে পছন্দ করে। কারণ মধুর পুষ্টিগুণ এবং খাবারের সাদ সমস্তকিছুই সব মানুষের অজানা নয়। ভারতে এবং বাংলাদেশ ছোট বাচ্চা থেকে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবাই মধু পছন্দ করে।

কথায় আছে ছোট বাচ্চা জন্মানোর পর থেকে তাদের মধু খেতে দিতে হয় কারণ মধু খেলে শারীরিক অনেক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর প্রধান কারণ মধুর পুষ্টিগুণ, এছাড়া মধু থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হয় এবং মধু মেডিকেল ও আয়ুর্বেদেও অনেক বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। সেই জন্য আপনি যদি মৌমাছি পালনের ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসা সবসময়ই লাভ দিতে থাকবে।

মৌমাছি পালনের জন্য খুব বেশি বড় জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। আপনি চাইলে আপনার বাড়ির ছাদে অথবা আপনার সামনের উঠোনে মৌমাছি পালন করতে পারেন। তবে গ্রামে থাকাকালীন আপনার সবচেয়ে সুবিধা হবে বাগানে, যেখানে সচরাচর মানুষজনের যাতায়াত নেই, এইরকম কোন স্থানে কিছু বাক্স তৈরি করে সেই বাক্স গুরি প্রতিস্থাপন করতে হবে সেই বাগানের মধ্যে, যার মধ্য মৌমাছি চাক তৈরি করে মধু উৎপাদন করবে। ভারতে অনেক মৌমাছি চাষ করেন এমন চাষী আছেন যারা তাদের মাঠে ফুল গাছের সাথে সাথে মৌমাছি পালন করে থাকে এতে মৌমাছিদের বাইরে ফুলের পরাগ এবং ফুলের মধু খুঁজতে যেতে হয় না। ফলে ফুল চার্জ টাও হয়ে যায় এবং মধু উৎপাদন হয়ে যায়।

কোন চাষ বাস করার জন্য যেমন বীজের প্রয়োজন হয়, সেই রকমই মৌমাছি প্রতিপালনের জন্য আপনার উন্নত প্রজাতির মৌমাছি দরকার পড়বে। এবং সেই উন্নত প্রজাতির মৌমাছি এনে তাদের আপনার তৈরি বাক্সের মধ্যে একটা জায়গায় রেখে দিতে হবে এরপর সেই মৌমাছি বাকি মৌমাছিদের জন্ম দেবে এবং তাঁর সাথে সাথে আরও অনেক মৌমাছি আপনার বাক্সের ভেতর প্রবেশ করবে। তারপর মৌচাক তৈরি করার পর আপনার বাক্স যখন ভর্তি হয়ে যাবে, তখন একবার দুবার চেক করে নেবেন যে মধু কতটা জমেছে বাক্সের মধ্যে। মধু অনেকটা জমে গেলে আপনি সেই মধুগুলি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে পারেন।

আপনাকে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে প্রথম মধু উৎপাদনের ব্যবসা শুরু করলে হয়তো খুব ভালো উৎপাদন করতে পারবেন না। প্রথম বছর আপনি কাজ করলে অনেক ভুল-ভ্রান্তি হবে এবং সেখান থেকে আপনি শিখতে পারবেন, পরের বছর থেকে আপনার অনেক বেশি পরিমাণে মধু উৎপাদন হবে। এবং আপনি যদি চান যে প্রথম বছর থেকেই ভালোভাবে মধু উৎপাদন করবেন তাহলে আপনার কি কোন মধু ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে মৌমাছি পালনের যাবতীয় জিনিস গুলি শিখে নিয়ে তবেই ব্যবসা শুরু করতে হবে।

দেখুন নতুন ব্যবসা- ফ্লোর ক্লিনিং ভাইপার তৈরির ব্যবসা

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ব্যবসা (Fish farming business using bioflock method)

গ্রামীণ ব্যবসার গুলির মধ্যে আরেকটি ব্যবসা হল বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ব্যবসা। আমরা সবাই জানি মাছ উৎপাদন হয় কেবলমাত্র পুকুর থেকে অথবা খাল-বিল থেকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে মাছ চাষের অনেক উন্নতি ঘটেছে। হলে এখন পুকুরে মাছ চাষের বদলে বড় বড় গুগোল প্লাস্টিকের ট্যাংক বাজার থেকে কিনে নিয়ে এসে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। বড় বড় প্লাস্টিকের জলের ট্যাংকের মধ্যে মাছ চাষের পদ্ধতি কেই বায়োফ্লক মাছ চাষ বলা হয়। পুকুরে মাছ চাষ করে যে পরিমাণ লাভ হয় তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণে লাভ পাওয়া যায় বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে।


আপনার বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে প্রথম বিনিয়োগ তাই একটু বেশি পরিমাণে হবে কিন্তু পরের বছর থেকে আপনার খুব অল্প টাকা দিয়ে মাছের চারা পোনা কিনে মাছের চাষ করলে অনেক বেশি পরিমাণে লাভ হবে। 34 ডায়ামিটারের জলের ট্যাংকের দাম 30 থেকে 50 হাজার টাকা হয়ে থাকে যা থেকে আপনি প্রতিবছর 1000 কেজি থেকে 1300 কেজির বেশি মাছ উৎপাদন করতে পারবেন।

তবে আপনার পুঁজি যেমন থাকবে সেই অনুযায়ী আপনার ট্যাংকের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। তবে একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গেলে 24 ঘন্টার ইলেকট্রিসিটির দরকার পড়বে। যদি আপনার গ্রামে ইলেকট্রিক মাঝে মাঝে চলে যায় তাহলে আপনাকে তার জন্য একটা আলাদা ইনভার্টার এর ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ইলেকট্রিক চলে যাওয়ার ফলে জলের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম নেবে তার ফলে আপনার মাছের ক্ষতি হতে পারে এর জন্য 24 ঘন্টাই ইলেকট্রিসিটির দরকার পড়ে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য।

আপনি যদি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করেন তাহলে প্রতি চার থেকে পাঁচ মাস অন্তর একেকটা ট্যাংক থেকে 20 থেকে 25 হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে লাভ করতে পারেন। আপনাকে শুধু খেয়াল রাখতে হবে আপনি যে এলাকাতে থাকেন সেই এলাকায় কি ধরনের মাছের জন্য আদর্শ, জানার পরে সেই ধরনের মাছ আপনাকে চাষ করতে হবে। তবে এই সমস্ত ব্যবসা শুরু করার আগে আপনি সঠিকভাবে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ জেনেনিন কোথাও থেকে, প্রশিক্ষণ নিন, এবং তারপরে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করুন।

মনে রাখবেন কোন জিনিসই আমরা যদি অল্প জ্ঞান নিয়ে শুরু করি তাহলে সেই জিনিসটা আমাদের ভালো হয়না। হলে নতুন করে কোন জিনিস তৈরি বা করার আগে সেই জিনিস সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান নিয়ে তারপর ব্যবসা শুরু করা উচিত।

Fish farming business using bioflock method
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ব্যবসা

দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের ব্যবসা (Milk and dairy products business)

গ্রামীণ ব্যবসার গুলির মধ্য একটি ব্যবসা হল দুগ্ধজাত দ্রব্য এর ব্যবসা।আমরা যেহেতু গ্রামে বাস করি তাই গ্রামে পশু পালন একটি নিত্য জিনিস। তাহলে আপনি যদি কয়েকটা গরু নিয়ে গরুর ফার্ম তৈরি করেন তাহলে সেখান থেকে যে পরিমাণে দুধ উৎপাদন হবে সেই দুধগুলো আপনি বিক্রি করে অনেক বেশি পরিমাণে লাভবান হতে পারেন। দুধ উৎপাদনের পর আপনি আপনার নিকটবর্তী মিষ্টি দোকান অথবা প্রতিবেশীদের বিক্রি করতে পারেন। আপনি দুধ উৎপাদনের পরিমাণ অনুযায়ী এবং চাহিদা অনুযায়ী গরুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন।

বর্তমান সময়ে শহরাঞ্চল গুলিতে দুধের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে আপনি যদি আপনার এলাকাতে একটি দুধের ফার্ম তৈরি করে দুধ উৎপাদন করেন এবং সেই দুধ থেকে দুগ্ধজাত দব্য, ছানা, পনির, ইত্যাদি জিনিস তৈরি করে শহরাঞ্চলের বাজারে বিক্রি করতে পারেন তাহলে আপনি প্রচুর পরিমাণে লাভবান হতে পারেন। যেমনভাবে আমুল, মাদার ডিয়ারি এবং অন্যান্য দুধের কোম্পানিগুলি বর্তমানে বড় বড় ব্যান্ড হয়ে গেছে তাদেরও ইতিহাস খুঁজলে পাবেন ছোট ছোট আকারের ব্যবসা করেই তারা আজ বড় হয়েছে। আপনিও ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করুন এবং সে ব্যবসায় ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকুন এবং সফল হতে থাকুন।

আরো পড়ুন- বিস্কুট তৈরির ব্যবসা

ফুল চাষের ব্যবসা (Floriculture business)

গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া গুলির মধ্য অন্যতম চাষের ব্যবসা হলো ফুল চাষের ব্যবসা। আপনার চাষের যে জমি আছে সেই জমিতে বর্তমানে সাধারণ ধান চাষ করে আপনি লাভবান হতে পারছেন না, তাহলে আপনি ফুল চাষ শুরু করতে পারেন। কারণ বছরের 12 মাসেই ফুলের চাহিদা থাকে। যেমন বিয়ে বাড়ি থেকে অন্নপ্রাশন, বিবাহবার্ষিকী থেকে জন্মদিনের অনুষ্ঠান, আবার সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, সমস্ত জায়গায় সমস্ত কিছুতে ফুলের চাহিদা সর্বদা অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।

আপনি যদি ফুল চাষ করেন সেই ফুল আপনি উৎপাদন করার পরেই মার্কেটে বিক্রির জন্য আপনাকে ভাবতে হবে না। এছাড়া আপনি চাইলে ফুলের দোকান খুলতে পারেন আপনার বাজারে সেই দোকান থেকেও সারাদিনের সমস্ত ফুল আপনি বিক্রি করে দিতে পারেন মানুষজনদের কাছে।

বর্তমান সময়ে ফুলের চাহিদা বড় বড় শহরের সাথে সাথে ছোট ছোট শহর এবং গ্রামাঞ্চলের বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই আপনি ফুল ই-কমার্স সাইট গুলোতে বিক্রি করতে পারেন। এখন অনেক ই-কমার্স সাইটে ফুল বিক্রি হচ্ছে। তাই আপনি ফুলের ব্যবসা করলে অনলাইন এবং অফলাইন দু’ধরনের পদ্ধতিতেই ব্যবসা করতে পারেন এবং সেই ব্যবসা থেকে লাভবান হতে পারেন।

সূর্যমুখী চাষের গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া (Sunflower Cultivation Business)

গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া গুলির মধ্যে আরেকটি ব্যবসা হল সূর্যমুখী চাষের ব্যবসা। বর্তমান সময়ে ধান চাষের পাশাপাশি প্রত্যেকটা এলাকাতেই একজন চাষী পেয়ে যাবেন যারা সূর্যমুখী চাষ করে থাকে। আপনার মনের ভেতর যদি একবারও প্রশ্ন না ওঠে যে এই এক-দুজন চাষী কেনই বা সূর্যমুখী চাষ করে? তাহলে আপনি অনেক মূর্খতার পরিচয় দিচ্ছেন। কারণ বর্তমান সময়ে আমরা সবাই জানি তেলের দাম অগ্নিমূল্য, সেই অগ্নিমূল্য তেলের বাজারে সূর্যমুখী দানা থেকে উৎপাদিত তেল বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন সেই সকল চাষী যারা সূর্যমুখী চাষ করছেন।


হলে আপনিও ধান চাষের পাশাপাশি আপনার জমিতে যদি বছরের একটা সিজেন সূর্যমুখী চাষ করেন, তাহলে আপনার সারা বছরের তেলের চাহিদা তো মিটবে, তার পাশাপাশি সেই তেল বিক্রি করে আপনি অনেক বেশি লাভবান হবেন। তেল উৎপাদনে সূর্যমুখী একটা অত্যন্ত লাভজনক ফসল এর মধ্যে পরে। সূর্যমুখী জন্মানোর জন্য 90 থেকে 100 কুড়ি দিনের সময় লাগে তারপর সেই সূর্যমুখী ফুল রোদে শুকনো হয়ে যাওয়ার পর তার দানা পিসাই করে তেল উৎপাদন হয়। বাজারে সূর্যমুখী তেলের ভীষণ চাহিদা রয়েছে এবং তা সরষের তেল এর থেকে অনেক বেশি। হলে আপনি চাইলে সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করতে পারেন আপনার মাঠে।

হলুদ চাষের গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া (Turmeric farming rural business idea)

বর্তমান সময়ে গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া গুলির মধ্যে হলুদ চাষের ব্যবসা একটি অন্যতম ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের নবাগত চাষীরা হলুদ চাষের ওপর বেশি করে নজর দিচ্ছেন। কারণ হলুদ ভারতে প্রতিটা মানুষের খাবার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এটা বহু যুগ যুগ ধরে। খাবারের পাশাপাশি হলুদ বর্তমান সময়ে মেডিসিন তৈরীর জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলির কাছে বৃহৎ চাহিদার সৃষ্টি করেছে। তাই আপনি যদি ধান চাষের সাথে সাথে হলুদ চাষ শুরু করেন তাহলেও আপনি অনেক বেশি পরিমাণে লাভবান হবেন সাধারণ ধান চাষের থেকে।

হলুদ চাষ করার জন্য হলুদের মূল আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে বাজার থেকে। তারপর সেই মূল গুলি মাটিতে বসানোর পাঁচ ছয় মাসের মধ্যেই হলুদ বিক্রি করতে পারবেন। শুধুমাত্র বর্ষাতে হলুদ চাষ করা যায় না। বর্ষাকাল বাদ দিয়ে বাকি সময়টা আপনি হলুদ চাষ করতে পারেন। যেহেতু ভারতবর্ষের মার্কেটে হলুদের চাহিদা ভীষণ বেশি পরিমাণে রয়েছে। তাই আপনি যদি হলুদ চাষ করেন তাহলে আপনার হলুদ ব্যবসায় ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই, উলটে এত বেশি পরিমাণে লাভবান হবেন যে আপনি অন্যান্য চাষ ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র হলুদ চাষ করতে থাকবেন।

ঝাঁটা তৈরির গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া (The idea of ​​a rural business of making brooms)

গ্রামীণ ব্যবসার আইডিয়া গুলির মধ্য আরো একটি ব্যবসা হলো ঝাঁটা তৈরির ব্যবসা। আমরা সবাই জানি ঘর পরিষ্কার করার জন্য ঝাঁটা কতটা দরকারি প্রতিটা মানুষের কাছে। আমরা যেহেতু গ্রামে থাকি তাই আমাদের ঝাটার অভাব হয় না কিন্তু যারা শহরে বাস করেন তারা একটা ঝাঁটা কেনার জন্য অনেক টাকা ব্যয় করেন। তাই আপনি যদি আপনার গ্রাম থেকে ঝাটা কাঠি কিনে নিয়ে ঝাঁটা বানিয়ে শহরে বিক্রি করেন তাহলে আপনি অনেক বেশি পরিমাণে লাভবান হবেন। ঝাঁটা তৈরীর ব্যবসা করার জন্য খুব বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় না এবং খুব বেশী বড় জায়গার দরকার পড়ে না। আপনি এক-দুজন ঝাঁটা বানানোর কারিগর কে নিয়ে ঘাটাঘাটি কিনে ঝাঁটার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ঝাঁটা বানানোর জন্য নারকেল পাতার থেকে পাওয়া কাঠি এবং সামান্য দড়ি লাগে। বর্তমান সময়ে ঝাটার কাঁচামাল গুলি ভারতের উত্তরপ্রদেশ, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ইত্যাদি বিভিন্ন রাজ্য থেকে পাওয়া যায়। এক একটা ঝাঁটা বাজারে বিক্রি করতে পারবেন 50 থেকে 60 টাকা পাইকারি দামে। আর সেই ঝাঁটা বানানোর জন্য আপনার সর্বোচ্চ খরচ হতে পারে 25 থেকে 30 টাকা। বুঝতেই পারছেন একটা ঝাঁটা বিক্রি করতে পারছেন ডবল এরও বেশি দামে। ফলে আপনি বুঝতেই পারছেন ঝাঁটার ব্যবসা করে আপনি কত বেশি লাভবান হতে পারেন। তাই এখনো ঘরে চুপচাপ বসে না থেকে অল্প অল্প পুঁজি লাগিয়ে ছোট ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন আপনার গ্রাম থেকেই।

যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। যত দ্রুত সম্ভব আমরা আপনাদের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। আমাদের এই পোষ্টে যদি কোন ভূল-ত্রূটি থেকে থাকে তাহলে জানাতে ভুলবেন না

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

মাছের আঁশের ব্যবসা

ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment