গিফ্ট শপের ব্যবসা করুন 10 হাজার টাকায় | Gift shop business at 10 thousand rupees

গিফ্ট শপের ব্যবসা এখন প্রতিটা বাজারেই লক্ষ্য করা যায়। পৃথিবীতে খুব কম সংখ্যক মানুষ আছেন যারা কখনোই গিফ্ট শপ দোকানে যায়নি। জন্মদিন হোক কিংবা বিয়ে প্রতিটা অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার প্রবণতা শুধু ভারত-বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর সমস্ত দেশের ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে। গিফ্ট বা উপহার কথাটা শুনলেই যেকোনো বয়সের মানুষের মনের ভিতরে একটা ভালোলাগা তৈরি হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে কোনো নিমন্ত্রণ বাড়িতে যেতে হলে আপনাকে কোনো না কোনো উপহার কিনে নিয়ে যেতে হয়।

আর কারণ হোক অকারণে হোক গিফ্ট পেয়ে খুশি হয় না এইরকম মানুষের সংখ্যা দেখাই যায় না। তাছাড়া আমাদের কোন স্পেশাল মানুষকে খুশি করার জন্য আমাদের অবশ্যই উপহার দোকানে বা গিফটের দোকানে যেতেই হয়। তাই আপনি যদি গিফ্ট শপের ব্যবসা ব্যবসা শুরু করেন আপনার ব্যবসা অবশ্যই সফল হবে। ছোট বাচ্চা থেকে বয়স্ক মানুষ প্রতিটি বয়সের মানুষের জন্য আলাদা আলাদা ধরনের গিফ্ট এর প্রচলন রয়েছে।

বাংলাদেশ আবার মাতৃ দিবস এবং পিতৃ দিবস অনেক জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করে। আর এই মাতৃ দিবস পিতৃ দিবস ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাদের টিফিনের টাকা জমিয়ে বাবা-মায়ের জন্য উপহার কিনে নিয়ে যায়। আবার ভালোবাসা দিবস বন্ধু দিবস ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার প্রবণতা বাঙ্গালীদের মধ্যে খুবই লক্ষ্য করা যায়। তাই আপনি যদি গিফ্ট শপের ব্যবসা করেন অবশ্যই আপনার ব্যবসা উন্নতি করবে। তবে চলুন দেখে নেওয়া যাক এই ব্যবসা করার জন্য সমস্ত তথ্য গুলি।

Gift shop business
গিফ্ট শপের ব্যবসা

Table of Contents

গিফ্ট শপের ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? (How much does it cost to run a gift shop?)

গিফ্ট শপের ব্যবসা করার জন্য আপনার অল্প পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করেই এই ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। ব্যবসার শুরুতে আপনি 10 থেকে 15 হাজার টাকা বিনিয়োগ করে অল্প কিছু গিফ্ট এর সামগ্রী কিনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ব্যবসাটি যখন আপনি ভালোভাবে করতে পারবেন তখন ধীরে ধীরে টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে একটা দোকান করে ভালো করে গিফ্ট শপের ব্যবসা করতে হলে আপনাকে 1 লক্ষ টাকা থেকে 2 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তবে ব্যবসার শুরুতে 10 হাজার টাকার সামগ্রী কিনে ব্যবসাটি শুরু করুন। আর আপনি যদি গিফ্ট এর পাইকারি ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে 10 লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে হতে পারে।

গিফ্ট এর দোকান তৈরি করুন

গিফ্ট শপের ব্যবসা ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে শুরুতেই একটা দোকান তৈরি করতে হবে বা ভাড়া নিতে হবে। দোকান তৈরি করার পর দোকানের কালেকশনের দিকে আপনাকে বিশেষ করে নজর দিতে হবে, কারণ আপনাকে মনে রাখতে হবে ছোট বাচ্চাদের অন্নপ্রাশন থেকে বিবাহ বার্ষিকীর প্রাপ্ত বয়স্কদের সকল ধরনের উপহার যেন আপনার দোকানে থাকে। আপনাকে দোকানটি এমনভাবে সুসজ্জিত করে রাখতে হবে যাতে কোন মানুষ দোকানে এসে তার প্রয়োজনীয় জিনিস টা স্বাচ্ছন্দে খুঁজে পায় এবং তা কিনে নিয়ে যায়।

উপহারের দোকান ব্যবসা কোনজাগায় করা উচিত? (Where should the gift shop business be located?)

উপহারের দোকান ব্যবসা আপনাকে করতে হলে অবশ্যই আপনাকে জনবহুল বাজার এলাকাতে দোকান ঘর ভাড়া নিতে হবে বা তৈরি করতে হবে। কারণ জনবহুল এলাকা তে কাস্টমার পাওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি পরিমাণে থাকে। আপনি যদি প্রত্যয়ান্ত গ্রামাঞ্চলের মধ্যে গিফ্ট শপের ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসার শুরু থেকেই কাস্টমার অনেক কম থাকবে ফলে আপনার মানসিক মনোবল অনেকটাই ভেঙে পড়বে। তাই আপনাকে উপহারের দোকান তৈরি করার জন্য এমন একটা জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে অনেক বেশি মানুষের যাতায়াত রয়েছে এবং একটু বেশি শিক্ষিত সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। কারণ শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উপহার কেনার প্রবণতা এবং দেওয়ার প্রবণতা বেশি পরিমাণে থাকে।

অবশ্যই পড়ুন- চালের খোসা ও গমের খোসা দিয়ে ব্যবসা করুন 

গিফ্ট শপের ব্যবসাতে কি কি পণ্য রাখবেন?

গিফ্ট শপের ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে কাস্টমারের প্রয়োজনমতো ও চাহিদা মত বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন দামের পণ্য রাখতে হবে। তবে আপনি সচারাচর যেসকল উপহার বেশি পরিমাণে দেওয়া হয়ে থাকে সেই সকল উপহারের কালেকশন বেশি পরিমাণে রাখতে পারেন। যেমন-

উপহার সামগ্রী লিস্ট

  • ফটো ফ্রেম
  • মগ
  • টেবিল ক্লক বা ঘড়ি
  • হাত ঘড়ি
  • সো
  • শোপিস
  • পুতুল
  • চাবির রিং
  • খেলনা
  • গহনা
  • সাজগোজের জিনিস
  • রান্নার আসবাবপত্র
  • গ্রিটিং কার্ড
  • ডায়েরি
  • অফিস স্টেশনারি
  • দেওয়াল ঘড়ি
  • ফুলদানি
  • কফি মগ
  • মানিব্যাগ
  • লেডিস পার্স
  • পারফিউম ইত্যাদি

গিফ্ট এর পাইকারি মার্কেট কোথায় রয়েছে?

গিফ্ট শপের ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে প্রতিটি উপহার অল্প দামে কিনতে হবে। আর প্রতিটা গিফ্ট অল্প দামে কেনার জন্য আপনাকে আপনার এলাকার পাইকারি বাজারে যেতে হবে। কলকাতার বড় বাজার পাইকারি মার্কেট থেকে আপনি সমস্ত ধরনের গিফ্ট সামগ্রী কিনতে পারবেন খুব অল্প টাকায়।
আবার আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন তাহলে গুলিস্তান, নিউমার্কেট, কাটাবন, চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে আপনি খুব অল্প দামে সকল প্রকার গিফট সামগ্রী কিনতে পারবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট এবং অ্যামাজন ও আলিবাবা এই তিনটি বড় ওয়েবসাইট থেকে খুবই অল্প দামে বিভিন্ন গিফ্ট সামগ্রী কিনতে পারবেন।

Gift shop business
উপহারের দোকান ব্যবসা

বাজারে উপহার দোকানের চাহিদা কেমন?

উপহারের দোকান ব্যবসা আপনি যদি শুরু করেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন বাজারে এই উপহারের চাহিদা কতটা বেশি পরিমাণে রয়েছে। প্রতিটা বছরের প্রতিটা দিন কারো না কারো জন্মদিন কোন না কোন অনুষ্ঠান হয়েই থাকে। আর বাঙালীদের প্রতিটা অনুষ্ঠানেই প্রিয়জনের কাছে যাওয়ার জন্য কিংবা কারোর বাড়িতে যাওয়ার জন্য কিছু না কিছু উপহার কিনতেই হয়। বর্তমানে আবার অফিসে পদোন্নতি করা কিংবা কর্মচারীদের খুশি করার জন্য অফিসের বস কর্মচারীদের প্রতি মাসে বিভিন্ন উপহার প্রদান করেন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে গিফ্ট শপের ব্যবসা দ্রুততার সাথে উন্নতি করছে। আপনি যদি এই ব্যবসা এখনই শুরু করেন তাহলে আপনার ব্যবসা অবশ্যই উন্নতি করবে এবং আপনি অনেক বেশি পরিমাণে লাভবান হবেন।

উপহারের দোকান ব্যবসায় প্রতিটা উপহারের মূল্য নির্ধারণ কিভাবে করবেন?

উপহারের দোকান ব্যবসা করতে গেলে আপনার দোকানে থাকা প্রতিটা উপহারের নির্দিষ্ট উপযুক্ত মূল্য আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে। মূল্য নির্ধারণের জন্য আপনি সর্বপ্রথম আপনার আশেপাশের যেসকল উপহারের দোকান রয়েছে সেখানে তারা কেমন ভাবে মূল্য নির্ধারণ করছে প্রতিটা সামগ্রিক তা একবার যাচাই করে দেখতে পারেন। এরপর আপনি যেসব প্রোডাক্ট কিনেছেন তাকেনা দামের থেকে কিছুটা দাম বেশি রাখে অর্থাৎ আপনার লাভের পরিমাণ অল্প রেখে আপনি যদি সঠিক দাম নির্ধারণ করেন তাহলে কাস্টোমারের সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে যাবে।

আর যদি কোন বিক্রেতা ন্যায্য দাম না রেখে বেশি পরিমাণে দাম রাখা শুরু করে তাহলে ধীরে ধীরে কাস্টমার কমতে থাকবে আপনার ব্যবসাতে। কাস্টমার কি খুশি রাখার জন্য ন্যায্যদাম প্রতিটা প্রোডাক্টের অবশ্যই রাখতে হবে। আর কাস্টমার যদি খুশি থাকে তাহলে আপনার ব্যবসা ও দ্রুততার সাথে সফলতা অর্জন করবে।

নতুন গিফ্ট এর আপডেট রাখা

গিফ্ট শপের ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে সর্বদা নিত্যনতুন গিফটের আপডেট থাকতে হবে। এখনকার দিনে মানুষ একটা উপহার দ্বিতীয়বার কাউকে দিতে চায় না তাই প্রতিটা গিফ্ট কম্পানি তাদের তৈরী প্রতিটা প্রোডাক্ট মাঝেমধ্যেই পরিবর্তন করতে থাকে এবং নিত্য নতুন আপডেট করতে থাকে। আপনাকেও সর্বদা এই জিনিসটা মাথায় রেখে আপনার ব্যবসাতে যাতে সর্বদা নিত্য নতুন প্রোডাক্ট দোকানে রাখা যায় তার ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে। এর জন্য আপনি যখন কোন পাইকারি মার্কেট এ প্রোডাক্ট কিনতে যাবেন তখন সর্বদা একদম নতুন ধরনের প্রোডাক্ট গুলি কেনার চেষ্টা করবেন।
যেমন বলা যেতে পারে একটা সময় কফি মগ গিফট হিসাবে ভীষণভাবে প্রচলিত ছিল কিন্তু বর্তমানে তার পরিবর্তে ফটো ফ্রেম এবং অ্যালবামের প্রচলতা বেড়ে গেছে।

আরো পড়ুন- মপ তৈরির ব্যবসা করুন

গিফ্ট শপের ব্যবসার মার্কেটিং কিভাবে করা হয়? (How to market a gift shop business?)

গিফ্ট শপের ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে আপনার ব্যবসার মার্কেটিং এর দিকে বেশি পরিমাণে নজর দিতে হবে। প্রতিটা ব্যাবসায়ী তার ব্যবসা ভালোবাসার এবং স্বপ্নের, যেখানে লুকিয়ে থাকে কঠোর পরিশ্রম এবং বিভিন্ন ত্যাগ। তাই ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে ব্যবসার বিজ্ঞাপন বা প্রচার যদি বেশি পরিমাণে না বাড়ানো হয় তাহলে কাস্টোমারের সংখ্যাও কমে যাবে। তাই আপনি যদি অল্প পুজি নিয়ে গিফ্ট শপের ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি প্রচার হিসাবে আপনার পরিচিত লোকেদের মুখে মুখে আপনার দোকানে যাওয়ার কথা বলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। অর্থাৎ কেউ যদি কোন গিফট উপহার কিনবে বলে ভাবে তাহলে তাকে বলতে পারেন ,যে “ওই দোকানে চলে যান, আপনার প্রয়োজনীয় উপহারটি পেয়ে যাবেন”এইভাবে আপনি কিছুটা মুখে মুখে আপনার দোকানের নাম বলে ও প্রচার করতে পারেন।


আবার আপনি বর্তমানে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সাইট গুলি যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এই সব জায়গাতে একটা পেজ বানাতে পারেন বা চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। যেখানে আপনি প্রতিদিন নিত্যনতুন পোস্ট করবেন এবং ভিডিও আপলোড করবেন। প্রতিদিন পোস্ট করতে থাকলে ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে আপনার ব্যবসার প্রচার বাড়তে থাকবে এবং তারা অন্য কোনো দোকানে যাওয়ার পরিবর্তে আপনার দোকানে আসার চেষ্টা করবে। এছাড়াও আপনি বিজ্ঞাপন হিসাবে আপনি যে এলাকাতে দোকান তৈরি করেছেন তার আশেপাশের জায়গাকে বিভিন্ন রকম ভাবে পোস্টারিং করতে পারেন। আবার কিছু জনবহুল এলাকা তে আপনি ফ্লেক্স ছাপিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন আপনার দোকানের।

আপনি যদি সঠিক নিয়মে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন বা সফল হতে পারেন বিজ্ঞাপন দিয়ে তাহলে আপনার দোকানের লোকেশন নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না । কারন আপনার দোকান যে জায়গায় থাকুক না কেন প্রতিটা কাস্টমার আপনার দোকানে যাবার চেষ্টা করবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় উপহার গুলি কেনার চেষ্টা করবে। মনে রাখবেন বর্তমান বাজারে অনেক গিফ্ট শপের ব্যবসা চলছে তাই আপনি আপনার ব্যবসাকে আলাদা করে জনপ্রিয়তা লাভ করার জন্য বিজ্ঞাপন অবশ্যই দিতে হবে।

Gift shop
উপহারের দোকান

গিফ্ট শপের ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

আপনি যখন গিফ্ট শপের ব্যবসা শুরু করছেন তখন আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনার ব্যবসা করার পরে কোনো সরকারই আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। তাই সেই সরকারি আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য আপনাকে বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স বা অনুমতি পত্র জোগাড় করতে হবে। বর্তমানে প্রতিটা ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স নিয়ে থাকেন। তাই আপনাকেও আপনার ব্যবসা করার জন্য যেসকল লাইসেন্স গুলি নিতে হবে সরকারের কাছ থেকে সেগুলি হল-

  • ব্যাবসায়িক লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স
  • সংস্থার শংসাপত্র
  • ব্যবসায়িক পরিকল্পনা
  • জিএসটি লাইসেন্স
  • বীমা চুক্তি
  • বিক্রয় করার অনুমতি
  • দোকানের চুক্তিপত্র
  • LLC লাইসেন্স
  • বীমা পলিসি
  • এম্প্লয়ের সনাক্তকরণ নাম্বার
  • কসমেটিক লাইসেন্স

এখানে থাকা প্রতিটা লাইসেন্সই আপনি নেবার জন্য সরকারের দরজায় দরজায় আর ঘোড়ার প্রয়োজন আপনার পড়বে না কারণ বর্তমান সময়ে সকল প্রকার লাইসেন্স আপনি অনলাইনে এপ্লাই করে পেয়ে যাবেন। এইসকল লাইসেন্স সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য আপনি এই লিংকে দেখুন- ব্যবসায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স

প্রতিটা লাইসেন্স নেবার জন্য আপনাকে সরকারের কাছে 500 টাকা থেকে 2 হাজার টাকার মতো খরচ করতে হবে। যেহেতু আপনি সকল প্রকার লাইসেন্স অনলাইনে করতে পারবেন তাই আপনি নিচে চাইলেই নিজের ফোন থেকে অথবা আপনার বাড়ির কাছাকাছি কোন সাইবার ক্যাফে থেকে বানাতে পারবেন। আর আপনি যদি অনলাইনে করতে ঠিকভাবে না পারেন তাহলে আপনি আপনার নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস কিংবা বিডিও অফিস অথবা কর্পোরেশন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। কারণ সকল প্রকার লাইসেন্স এই সকল সরকারি অফিসের দ্বারাই আপনি পেতে পারবেন।

উপহারের দোকান ব্যবসায় কর্মচারী নিয়োগ

উপহারের দোকান ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে এক থেকে দুজন কর্মচারী অবশ্যই নিয়োগ করতে হবে। কারণ আপনি সর্বদা দোকান চালাতে পারবেন না, কারণ কোন প্রয়োজনবশত আপনাকে ছুটি করতে হলে দোকানটি বন্ধ করে ছুটি করতে হবে । তাছাড়া দোকানে যখন কাস্টমারের বেশি পরিমাণে থাকবে তখন প্রতিটা কাস্টমারকে দেখা এবং লক্ষ্য রাখার জন্য এবং তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী অল্প সময়ের মধ্যে তাদেরকে দেওয়ার জন্য একা থেকে ব্যবসা করতে গেলে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। তাই আপনি ব্যবসা করতে হলে একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করলে আপনার অনেক সুবিধা হবে। আবার পাইকারি বাজার থেকে প্রোডাক্ট গুলি কিনে আনার জন্য কর্মচারী রাখতে পারেন।

অনলাইনে গিফ্ট শপের ব্যবসা কিভাবে করা যায়?

বর্তমানে অনলাইন দুনিয়ার যুগে আপনি যদি আপনার ব্যবসা এখনো শুধুমাত্র দোকানের ওপরে ভরসা করে চলেন তাহলে আপনার ব্যবসায় লাভ অনেক কম হতে পারে। তাই গিফ্ট শপের ব্যবসা আপনি অনলাইনে ও করতে পারেন। অনলাইনে আপনার ব্যবসাটি করার জন্য ফেসবুক পেজ এবং ইনস্টাগ্রাম পেজ এর প্রয়োজন পড়বে। প্রতিদিন নিত্য নতুন প্রোডাক্ট আপনি যদি আপডেট দিতে থাকেন আপনার পেজে দেখবেন আপনার এইসকল পেজ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে অনেক কাস্টমার আপনার কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনবে।

এছাড়াও যেসকল ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো রয়েছে যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট ইত্যাদি সব ওয়েবসাইটে আপনি একটা করে বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে প্রত্যেকটা প্রোডাক্ট যথাযোগ্য দাম রেখে যদি পোস্ট করেন দেখবেন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট থেকেও আপনার অনেক প্রোডাক্ট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে অনলাইনে ঘরে বসেই অনেকেই উপহার সামগ্রীর ব্যবসা করছেন। আবার অনেক মানুষ দোকানে গিয়ে উপহার সামগ্রী কেনার পরিবর্তে অনলাইনে নিজের ফোনে অর্ডার করছে এবং তাদের বাড়িতে সেই সব প্রডাক চলে আসছে। তাই এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনি যদি আপনার ব্যবসাটি অনলাইনে করতে পারেন তাহলে আপনার লাভের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে।

অবশ্যই পড়ুন- একটা মেশিন দিয়ে 5টি ব্যবসা করুন

উপহারের দোকান ব্যবসার সুবিধা

উপহারের দোকান ব্যবসা বা গিফ্ট শপের ব্যবসা করলে অনেক সুবিধা আপনি পাবেন অন্য বাকি ব্যবসা গুলোর থেকে। কারণ বাকি সব ব্যবসাতে যেমন বেশি পরিমাণে পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় তেমন সেইসব ব্যবসাতে অনেক বেশি পরিমাণে খাটতে হয় আবার ঝুঁকির সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু উপহারের দোকান ব্যবসা করলে আপনার এই ঝুঁকির পরিমাণ অনেকটাই কম থাকবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কি কি সুবিধা পাওয়া যায় এই ব্যবসা থেকে-

  • উপহার সামগ্রীর ব্যবসা সারা বছরই সমানভাবে চলে।
  • কিছু কিছু সময় যেমন বিবাহের মরসুমে এই ব্যবসা অনেক বেশি পরিমাণে লাভ দিতে পারে।
  • যেহেতু উপহারসামগ্রী কৃত্তিম জিনিস দিয়ে তৈরি করা হয় তাই এর নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।
  • ওটা যদি বিক্রী না হয় তাহলেও সেই প্রোডাক্ট গুলি বদলে আপনি নতুন প্রোডাক্ট নিতে পারেন কোম্পানি থেকে।
  • আবার কোন প্রোডাক্ট যদি ভাঙাচোরা হয়ে থাকে তাহলেও সেই প্রোডাক্ট পাল্টানোর ব্যবস্থা থাকে।
  • অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায় এই ব্যবসাটা।
  • গিফট শপ এর ব্যবসার পাশাপাশি আপনি আইসক্রিম ও কোলডিংস রেখে বাড়তি আয়ের সুযোগ পেতে পারেন।

গিফ্ট শপের ব্যবসায় লাভ কত?

গিফ্ট শপের ব্যবসা যেমন অল্প পুজিতে শুরু করা যায় তেমন এই ব্যবসায় লাভের পরিমাণ অনেকটাই বেশি পরিমাণে থাকে। একটা প্রোডাক্ট আপনি পাইকারি বাজার থেকে কিনতে পারেন যা দামে তার থেকে বিক্রি করতে পারেন ডবল এরও বেশি দামে। অর্থাৎ প্রতিটা প্রোডাক্ট বিক্রি করে আপনার লাভ থাকতে পারে 35% থেকে 50% এর মত। একজন ছোট গিফ্ট ব্যবসায়ী প্রতিমাসে তার দোকান থেকে লাভ করতে পারে 25 থেকে 30 হাজার টাকা। আবার একজন বড় মাপের গিফ্ট ব্যবসায়ী প্রতিমাসে লাভ করতে পারেন 1 লক্ষ থেকে 3 লক্ষ টাকা। আপনি যেমন পুঁজি নিয়ে আর যেমন পদ্ধতিতে যে জায়গায় ব্যবসা করবেন তার ওপরে নির্ভর করবে আপনার ব্যবসার লাভের পরিমাণটা।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন FAQ

উপহারের দোকান ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: একটা দোকান বানানোর জন্য আপনাকে ন্যূনতম 10/10 ফুটের ঘরের প্রয়োজন পড়বে।

গিফ্ট শপের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: এই ব্যবসা শুরু করতে আপনাকে কমপক্ষে 25 হাজার টাকা থেকে 40 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

গিফট শপ এর ব্যবসা কোথায় করা যায়?

উত্তর: গিফট শপ এর ব্যবসা শহরাঞ্চলের দিকে বা জনবহুল জনপ্রিয় বাজারে শুরু করা যেতে পারে।

উপহারের দোকান ব্যবসায় আয় কত?

উত্তর: প্রতি মাসে 30 টাকা থেকে 40 হাজার টাকা ইনকাম করা যেতে পারে।

গিফ্ট শপের ব্যবসা করতে কতজন কর্মচারী লাগে?

উত্তর: 2 থেকে 3 জন কর্মচারী আপনার অবশ্যই লাগবে যদি আপনি বড় করে গিফ্ট শপের ব্যবসা করেন

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

পেরেক তৈরির ব্যবসা

ব্যবসা করে প্রতি দিন ইনকাম করুন 50000 টাকা

Leave a Comment