কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়? | 5 Tips To Run Courier Service Business Success

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা বর্তমানে তো রমরমিয়ে চলছে আর ভবিষ্যতেও চলবে । আমরা সবাই জানি করোনার পর থেকে মানুষ বাজার থেকে কোন জিনিস কিনে আনার জন্য অনলাইনে ওপর ভরসা করে।
বর্তমানে হোম ডেলিভারির যুগে ঘরে বসেই মানুষ সমস্ত জিনিস হোম ডেলিভারির মধ্য দিয়ে পেয়ে যাচ্ছে ফলে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা দিনে দিনে জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

যখন মানুষের কোন পণ্য অথবা কোন ডকুমেন্ট আপনি পৌঁছে দেন তার কাছে এবং এর বিনিময় অর্থ গ্রহণ করেন তখন সেই ব্যবসাটাকে বলা হয় কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা। এখনের সময় কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসার জন্য মানুষ খুব সহজেই কোন জিনিস যেমন কিনতে পারে, তেমন কোন জিনিস সরবরাহ করার জন্য খুব দ্রুততার সাথে সম্ভব হয়।

Courier Service Business
কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা

Table of Contents

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা কিভাবে করা যায়?

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করার জন্য অল্প কিছু জ্ঞান থাকলেই এই ব্যবসা শুরু করা যায়। কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করার জন্য যেসকল জিনিসগুলি আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে সেগুলি সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা করা হলো।

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসার জন্য সুযোগ্য স্থান নির্বাচন

আপনি যেহেতু কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করে লাভবান হতে চাইছেন, এবং এই ব্যবসায় উন্নতি করতে চাইছেন, তার জন্য আপনাকে অবশ্যই একটা সুন্দর সুযোগ্য স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে আপনি ব্যবসাটি করবেন। সুযোগ্য স্থানগুলোতে যেখানে গ্রাহকদের সংখ্যা অনেক বেশি এবং গ্রাহকরা খুব সহজেই আপনার কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে আসতে পারবে।

এর জন্য আপনাকে রাস্তার পাশে জনবহুল এলাকা অথবা শহরাঞ্চলে ব্যবসার জন্য ঘর নিতে হবে। এই ঘরটা কি আপনি অফিস করে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করতে পারবেন। আপনি যদি সঠিক স্থানে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করেন তবেই আপনার ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং বেশি পরিমাণে লাভ করতে পারবেন।

কুরিয়ার সার্ভিস অফিস তৈরি করার জন্য বড় কোন শপিংমল, অথবা পার্ক, কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ বাজারের মধ্যে অথবা হসপিটাল এর কাছাকাছি, যেখানে মানুষজনের প্রচুর ভিড় থাকে অথবা খুব সহজেই আপনি পেয়ে যাবেন এইরকম স্থান খুঁজে অফিস তৈরি করতে হবে।

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করার জন্য কি কি লাইসেন্স লাগে (What are the licenses required for doing courier service business)

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করতে হলে প্রথমেই আপনাকে সরকারের কাছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। লাইসেন্স পেলেই তবে আপনি আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। তাই আপনি যখন থেকে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসার জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করবেন তখন অবশ্যই লাইসেন্সের কথা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।
বর্তমানে ভারত কিংবা বাংলাদেশ যেখানেই থাকুন না কেন কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসার জন্য আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স না নিয়ে আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না । তাই ব্যবসা শুরুর আগেই ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তবে ব্যবসা শুরু করুন।

কুরিয়ার ডেলিভারি বয় বা কর্মচারী নিয়োগ (Courier Delivery Boy or Staff Recruitment)

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে উপযুক্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। এই কারণে বিশ্বস্ত কর্মচারী নিয়োগ দরকার কারণ কাস্টমার বিভিন্ন ধরনের অর্ডার করবে জিনিসপত্র সেইসব দামী দামী জিনিসপত্র যেন সরাসরি কাস্টমারের কাছে পৌঁছে যায় এই জিনিসগুলি একজন বিশ্বস্ত কর্মচারীর দ্বারাই আপনাকে ডেলিভারি করতে হবে। যে কোন কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসার জন্য ডেলিভারি বয় হিসেবে একাধিক কর্মচারীকে আপনাকে নিয়োগ করতে হবে। নিয়োগ করার আগে আপনাকে দেখে নিতে হবে কর্মচারীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে এই জিনিস গুলি-

  1. জিনিসপত্রের সুরক্ষা
  2. দ্রুত ফাস্ট ডেলিভারি
  3. দামি না কম দামি যেকোনো জিনিসপত্র চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করা
  4. আপনার ব্যবসার সুনাম জড়িত থাকবে এই সবের অপর।

এমন কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মচারী আপনার ব্যবসায় যদি আপনি রাখতে পারেন তাহলে খুব দ্রুততার সাথে আপনার উন্নতি সম্ভব। আর আপনার ব্যবসায়ী যদি বিশ্বাসযোগ্য কর্মচারী না থাকে তাহলে কাস্টমারদের বিভিন্ন কমপ্লেন আপনার আসতে থাকবে এবং ধীরে ধীরে আপনি অর্ডার পাবেন না ফলে আপনার ব্যবসার অবনতি হতে থাকবে।

অবশ্যই পড়ুন- ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করুন

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করার জন্য কত টাকা পুজি লাগে? (How much does it cost to run a courier service business?)

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করার জন্য আপনাকে অল্প হলেও 1 থেকে 2 লক্ষ টাকার মতো পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে। কারণ এই ব্যবসা শুরু করতে হলে যেসকল জিনিসগুলি আপনার অবশ্যই দরকার হবে সেগুলি হল-

  1. একটি দোকান ভাড়া নেওয়া
  2. অফিস ঘরটি সুন্দর করে সাজানো
  3. একাধিক কর্মচারী নিয়োগ
  4. ট্রেড লাইসেন্সের জন্য খরচ
  5. ও কিছু অন্যান্য খরচ

যেহেতু ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনার এই সব খরচ গুলি অবশ্যই করতে হবে, তার জন্য আপনার 1-2 লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। সেই জন্য কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে এই অল্প পুঁজির ব্যবস্থা করেই এই ব্যবসায় নামতে হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য ডেলিভারির সুবিধা রাখা

শুধুমাত্র দেশের মধ্য অথবা আপনার জেলার মধ্য কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসা করে আপনি উন্নতি লাভ করতে পারবেন না। বেশি পরিমাণে উন্নতি লাভ করার জন্য আপনাকে দেশ থেকে বিদেশেও পণ্য রপ্তানি অথবা আমদানির সুবিধা আপনার কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসার মধ্যে যুক্ত করতে হবে। যাতে মানুষ আন্তর্জাতিক কুরিয়ার আপনার কোম্পানির মধ্য দিয়ে করতে পারে বা আনতে পারে তার ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবসা করতে হলে আপনাকে আন্তর্জাতিক বড় বড় কুরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। সেইসব বড় কুরিয়ার কোম্পানি সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেই তবে আপনি আন্তর্জাতিকভাবে কোন কুরিয়ার আনতে পারবেন বা রপ্তানি করতে পারবেন।

Courier service franchise business
কুরিয়ার সার্ভিস ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা

কুরিয়ার সার্ভিস ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা (Courier service franchise business)

আপনি চাইলে নামিদামি বড় কোম্পানির কাছ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। বড় নামিদামি কোম্পানির কাছ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে হলে আপনাকে যে সকল জিনিসগুলি খেয়াল রাখতে হবে সেগুলি হল-

  1. রাস্তার পাশে এবং শহরের মধ্য অফিস ঘর নির্মাণ অথবা ভাড়া নেওয়া।
  2. আপনার নাগরিকত্বের প্রমাণ কোম্পানিকে দিতে হবে।
  3. কোম্পানিতে 1.5 লক্ষ থেকে 2 লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করতে হবে।
  4. ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে
  5. সঠিক উপযুক্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে।

আপনি যদি কোনো বড় কোন কোম্পানি থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে চান তাহলে সেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদেরকে আবেদন করতে পারেন ফ্র্যাঞ্চাইজি জন্য।

অথবা আপনি চাইলে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করে নিজে ফ্র্যাঞ্চাইজি সেল করতে পারেন বিভিন্ন এলাকার মানুষদের। এতে আপনার কোম্পানি দ্রুত বড় হবে এবং মানুষের মধ্যে পরিচিত হবে।

আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দেওয়া

আপনি যখন কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করবেন তার পরেই আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন আপনাকে দিতে হবে যাতে মানুষের মধ্যেও সুপরিচিত হয় এবং দ্রুত আপনার কোম্পানি বড় হয়। বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আপনি এলাকায় এলাকায় বিভিন্ন ফ্লেক্স ছাপিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। অটো কিংবা টোটো তে মাইক লাগিয়ে এলাকায় এলাকায় প্রচার করতে পারেন। বর্তমানের অনলাইন যুগেই ইউটিউব ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম গুগোল এইসব এর মাধ্যমে আপনি অ্যাডভার্টাইজ করতে পারেন।

আপনি যত দ্রুত তার সাথে আপনার ব্যবসাকে বাড়াতে চাইবেন তত বেশি বেশি করে আপনার কোম্পানির বিজ্ঞাপন আপনাকে দিতে হবে। বর্তমান সময়ে বিজ্ঞাপন ছাড়া অর্গানিক পদ্ধতিতে কোম্পানি বড় করতে চাইলে খুব ধীরে ধীরে তা বড় হয়। এর জন্য আপনাকে কিছু পুঁজি আগে থেকে রেখে দিতে হবে বিজ্ঞাপনের জন্য।

গ্রাহক আকর্ষণ কিভাবে করবেন

ব্যবসা শুরু করার পরে গ্রাহকদের যদি আপনি আপনার ব্যবসার প্রতি আকর্ষিত না করতে পারেন তাহলে আপনি ব্যবসা দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি করতে পারবেন না। গ্রাহকদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন অফারটা বিভিন্ন আকর্ষণীয় দিক গুলি আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।
যেভাবে আপনি গ্রাহকদের আকর্ষণ করবেন আপনার ব্যবসার প্রতি সেগুলি হল-

  • সব ধরনের ডেলিভারির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ।
  • ডেলিভারি চার্জ কম নেওয়া।
  • দ্রুত ফাস্ট ডেলিভারি পরিষেবা দেওয়া।
  • গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখা।

আপনি আপনার ব্যবসাটিকে যত গ্রাহকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন ততো তাড়াতাড়ি আপনার ব্যবসায় সাফল্য আসবে।

আরো পড়ুন- চালের পাইকারি ব্যবসা

অল্প সময়ে ডেলিভারি কমপ্লিট করা

মানুষ এখন চাই তাদের অর্ডার যত অল্পসময়ের মধ্যে তাদের কাছে এসে পৌছবে বা ডেলিভারি হবে সেই জিনিসটা। এই দিকটা আপনাকে মাথায় রেখে আপনি যেভাবেই ব্যবসা করুন না কেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে ডেলিভারি কমপ্লিট করতে হবে আপনাকে। আপনি যত অল্প সময়ের মধ্যে ডেলিভারি কমপ্লিট করতে পারবেন তত বেশি ভালো করে কাস্টমারের মনের মত হতে পারবেন।
বর্তমানে খুব কম কোম্পানি আছে যারা এক থেকে দু দিনের মধ্যে মাল ডেলিভারি করতে পারে, আপনার কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা কে এমন ভাবে তৈরি করুন যাতে আপনি এক থেকে দু দিনের মধ্যে মাল ডেলিভারি করতে পারেন এতে খুব দ্রুততার সাথে আপনার ব্যবসার সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসার উন্নতি হবে।

পার্সেল ডেলিভারি জন্য সঠিক বাহন নির্ধারণ করা।

বিভিন্ন ধরনের পার্সেল ডেলিভারির জন্য দু’ধরনের গাড়ি আপনি ব্যবহার করতে পারেন। ছোট ছোট পার্সেল হলে বাইক, আর বড় কোন পার্সেল হলে তিন চাকা চার চাকার কোন গাড়ি আপনি আপনার কোম্পানিতে ভাড়া নিতে পারেন অথবা কিনে নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
দ্রুততার সাথে কোন পার্সেল ডেলিভারি করতে হলে অবশ্যই আপনার সঠিক বাহনের দরকার পড়বে। এর জন্য গাড়ি থাকাটা অবশ্যই দরকার আপনার কোম্পানির কাছে। গাড়ি রাখতে হলে আপনাকে যে সকল জিনিসগুলি নজর রাখতে হবে সেগুলি হল-

  • গাড়ির স্পিড যেন ভালো হয় সেই দিকে দেখতে হবে।
  • পার্সেল গুলো রাখার মত জায়গা থাকতে হবে।
  • গাড়িগুলির যেন লাইসেন্স ঠিক থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
  • গাড়ির ডাইভার চেনো বিশ্বস্ত এবং ভরসার হয় সেটা দেখতে হবে।
  • পার্সেল সুরক্ষিত রাখার মতো ব্যবস্থা থাকে যেন এই দিকটা নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশের সেরা কুরিয়ার সার্ভিস কম্পানি গুলি কি কি?

বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি রয়েছে সেগুলি হল-

  • সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস
  • এস এ পরিবহন
  • ইউএসবি এক্সপ্রেস
  • জননী এক্সপ্রেস
  • ডিএইচএল বাংলাদেশ
  • কারাতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস
  • ফক্স পার্সেল
  • ইউনাইটেড এক্সপ্রেস বাংলাদেশ
  • ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিস

বর্তমানে এই সত্নামি কোম্পানিগুলি ছাড়াও আরো অনেক ছোটখাটো কোম্পানি রয়েছে যারা কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করছে। তবে এই বড় কোম্পানি ব্যবসা করলেও আপনি যদি সাহসিকতার সাথে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করতে পারেন তবেই আপনি সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন। ব্যবসার শুরুতেই যদি আপনি এই বড় কোম্পানিগুলো দেখে ভয়ে পিছিয়ে যান তাহলে আপনি কোন দিনই বড় ব্যবসায়ী হতে পারবেন না।

আপনি চাইলে এই সব কুরিয়ার এর সাথে কথা বলে এইসব কুরিয়ার এর শাখা হিসেবে ব্যবসা করতে পারেন। প্রতিটা কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি তাদের শাখা বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি করছে, তাই এইসব কুরিয়ারের শাখা খোলার জন্য আপনি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য আবেদন করতে পারেন।

best courier service company
সেরা কুরিয়ার সার্ভিস কম্পানি

ভারতের সেরা কুরিয়ার সার্ভিস কম্পানি গুলি কি কি?

ভারতে অনেক বেশি পরিমাণে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি থাকলেও যেসব কোম্পানিগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে এবং তাদের ব্যবসায় খুব সুন্দর পরিকাঠামো তৈরি করেছে সেইসব কম্পানি গুলি হল-

  • DHL
  • DTDC
  • FEDEX
  • FIRST FLIGHT
  • BLUE DART

আরো একাধিক বড় বড় কোম্পানি রয়েছে আমি শুধুমাত্র অল্প কিছু নামী দামি কোম্পানি নাম এখানে বললাম। যে গুলি বর্তমানে ভারতে বেশি পরিমাণে নাম করেছে।

এইসব কোম্পানিগুলি এদের ফ্র্যাঞ্চাইজি বড় বড় শহরের তৈরি করেছে, এবং যে সকল জায়গাতে এখনো হয়নি সেই সব জায়গাতে যদি আপনি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে চান তাহলে এদের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করলেই এরা ফ্র্যাঞ্চাইজি আপনাকে দেবে।

অবশ্যই পড়ুন- ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয়

কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্ট নিয়োগ (Courier Service Agent Recruitment)

বর্তমান সময়ে আপনি যদি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিতে কাজ করতে চান বা কুরিয়ার কোম্পানি এজেন্ট হিসেবে চাকরি করতে চান তাহলে আপনার যেসকল জিনিসগুলি অবশ্যই থাকতে হবে সেগুলি হল-

  1. শিক্ষাগত যোগ্যতা
  2. নাগরিকত্বের প্রমাণ পত্র
  3. সুন্দর এবং স্মার্টলি কথা বলতে পারা
  4. দু কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  5. একটি মোটরসাইকেল অথবা যে কোন গাড়ি চালানোর লাইসেন্স

এইসব জিনিস গুলি যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে আপনি বর্তমানের যে কোন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি তে যোগাযোগ করতে পারেন। কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিতে চাকরি করার জন্য আপনি যখন সেইসব কোম্পানিতে কর্মী নিয়োগ করবে সেই সময় আপনি আবেদন করতে পারেন। এছাড়াও তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে সরাসরি আপনি মেইল করতে পারেন। একবার বিফল হলেও আপনাকে বারবার চেষ্টা করতে হবে কাজের জন্য আপনার নিষ্ঠা এবং পরিশ্রমী আপনাকে চাকরি দেওয়ার জন্য বাধ্য করবে।

কুরিয়ার সার্ভিস খরচ কত? (How much does courier service cost?)

বিভিন্ন কোম্পানির কুরিয়ার সার্ভিসের খরচ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
আপনি কি ধরনের কোম্পানিতে কি ধরনের কুরিয়ার পাঠাতে চাইছেন তার ওপর নির্ধারণ করবে খরচের হিসাবটা।
যেমন ধরা যাক আপনি যদি কুরিয়ারে একটি জামা পাঠাতে চান বা জামা কিনতে চান তার জন্য আপনাকে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিকে টাকা পে করতে হবে 30 থেকে 40 টাকা। ভারতের জিএসটি ফি নিলে আরো 5-10 টাকা বেড়ে যাবে।
আবার আপনি যদি কুরিয়ার এর সাহায্যে বড় কোন ফ্রিজ অথবা টিভি আমদানি রপ্তানি করতে চান তাহলে আপনাকে 1000 থেকে 2000 টাকার মতো। ফলে আপনি কি ধরনের কুরিয়ার করতে চাইছেন তার ওপরেই নির্ভর করবে টাকার পরিমাণটা।
তবে প্রতিটা কুরিয়ার কোম্পানি বর্তমানে অল্প অল্প টাকার বিনিময় কুরিয়ার পরিষেবা দিয়ে থাকেন।

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসাতে লাভ কত?

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করতে যেমন বেশ কিছু টাকা খরচ করতে হয় তেমন এই ব্যবসায় লাভ হয় একটু ভিন্ন প্রকারের। যখন কোনো গ্রাহক কোন জিনিস আমদানি রপ্তানি করবে আপনার কুরিয়ার কোম্পানির মধ্য দিয়ে তখন আপনাকে সেই জিনিসের ওপর ন্যূনতম 5% কমিশন রাখলেই আপনার ব্যবসাতে অনেক বেশি পরিমাণে লাভ করতে পারবেন।

পরিশেষে বলা যায় যে কোন ব্যবসা করতে গেলে এবং ব্যবসার উন্নতির জন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রম তার সাথে বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলতে হয়। আপনার কঠোর পরিশ্রমই হবে ব্যবসার উন্নতির মূল মন্ত্র। কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করে ও আপনি লাভবান হতে পারেন যদি সঠিক নিয়ম এবং পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আপনার ব্যবসাটি তৈরি করেন

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

কিভাবে ব্যবসা শুরু করব?

টুথপিক তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment