কার্পেট ব্যবসা করুন ৫০ হাজার টাকায় | carpet business for 50 thousand rupees, right now

বর্তমান সময়ে সৌখিনতার যুগে কার্পেট ব্যবসা খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। প্রতিটি অনুষ্ঠান থেকে অনেক সৌখিন বাড়ির সৌখিনতা বজায় রাখতে কার্পেটের ভূমিকা অনেক বেশি লক্ষণীয়। আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে কার্পেট ব্যবসা করতে চান তাহলে আজকে এই পোস্ট থেকে আপনি অনেক আইডিয়া পাবেন আপনার ব্যবসা করার জন্য যা আপনাকে সুবিধা যোগাবে।

Table of Contents

কার্পেট ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়? (How to start a carpet business?)

কার্পেট এমন একটি জিনিস যা বহু প্রাচীন কাল থেকে ভারতের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। সেই ষোড়শ শতাব্দীর সময় থেকে এই দেশে কুটির শিল্পর হাত ধরে আরবিয়ান ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ভারতীয় শিল্পীর হাতে তৈরি হয় কার্পেট। যা আরবিয়ান গালিচার মত অনেকটা দেখতে হলেও তার মধ্যে ভারতীয় ঐতিহ্যের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। এখন ভারতে তৈরি হওয়া কার্পেট শুধু ভারতে নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানির মুখ্য উপাদান হিসেবে এক জায়গা তৈরি করেছে। কার্পেটের এই বিপুল চাহিদার জন্য ভারতে তৈরি কার্পেট ব্যবসা জনপ্রিয়তা লাভ করছে। বর্তমানে ভারতে তৈরি হওয়া কার্পেট সারা পৃথিবীতে বিপুল পরিমাণে রপ্তানি হয় যা তৈরি হওয়া কার্পেটের 85% মতো।

আপনিও যদি কার্পেট ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কার্পেট তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল কিনে কার্পেট বানানোর মেশিন দিয়ে সুন্দর ডিজাইন তৈরি করে কার্পেট বানাতে পারেন। আবার আপনি কার্পেট তৈরীর কোম্পানির কাছ থেকে কার্পেট কিনে দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারেন। আপনি কিভাবে কার্পেট ব্যবসা করবেন সেটা আপনাকে ঠিক করতে হবে অর্থাৎ আপনি কার্পেট তৈরি করে ব্যবসা করবেন, নাকি আপনি তৈরি হওয়ার কার্পেট কিনে বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা করবেন তা আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে।

কার্পেটের ব্যবহার

আপনি যখন কার্পেট ব্যবসা করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে কার্পেট কত কাজে ব্যবহার করা হয়। কারণ কার্পেটের ব্যবহার আপনি যদি না জানেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন না কার্পেটের মার্কেট কোথায় বেশি হবে বা কোথায় কার্পেটের চাহিদা বেশি।

  1. গৃহস্থালীতে কার্পেটের ব্যবহার
  2. পরিবহনে কার্পেটের ব্যবহার
  3. অনুষ্ঠানে কার্পেটের ব্যবহার
  4. মসজিদে কার্পেটের ব্যবহার
  5. স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কার্পেটের ব্যবহার
  6. সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কার্পেটের ব্যবহার
  7. স্কুলে কার্পেট ব্যবহার
  8. আতিথিয়তায় কার্পেটের ব্যবহার
carpet shop
কার্পেটের দোকান

কার্পেটের বাজার সম্ভাবনা

বর্তমানে কার্পেটের ব্যবহার এতটাই বেশি পরিমাণে হচ্ছে যে আপনি যখন কার্পেট ব্যবসা করবেন তখন এই ব্যবসা থেকে আপনিও প্রচুর উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমানে বিভিন্ন কার্পেট ব্যবসায়ী তার এলাকা ছাড়াও আশেপাশের এলাকার বাজার বুঝে কার্পেট বিক্রি করেন। আপনিও যখন কার্পেট ব্যবসা করবেন তখন বিভিন্ন ধরনের বাজার বুঝে ব্যবসা আপনাকেও করতে হবে। আমরা অনেকেই হয়তো জানি কার্পেটের বিক্রি দিনে দিনে কতটা বেড়েছে কারণ আমরা সবাই লক্ষ্য করি সকল প্রকার কাজে ও অনুষ্ঠানে কার্পেটের ব্যবহার দেখে।

  • বর্তমানে বিয়ে বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়িগুলিতে মাটিতে কার্পেট বিছিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিয়ে বাড়ির আত্মীয়-স্বজনের যাতায়াতের পথকে সুন্দর করে তোলা হয়। তাই এলাকার ডেকোরেটার্সরা প্রচুর পরিমাণে কার্পেট কেনেন বিয়ে বাড়ি ও অনুষ্ঠান বাড়ি গুলিতে ভাড়া দেবার জন্য। আপনিও যখন কার্পেট ব্যবসা করবেন তখন এই ধরনের ডেকোরেটর কে অল্প দামে সরাসরি কার্পেট বিক্রি করতে পারেন এবং এই সকল ডেকোরেটররা প্রচুর পরিমাণে কার্পেট আপনার কাছ থেকে কিনতে পারে।
  • স্কুল থেকে সরকারি বিভিন্ন অফিসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মন্ত্রীদের আসা-যাওয়ার জন্য মাটিতে কার্পেট বিছানো হয়।
  • আবার অনেক স্টেডিয়ামের ভেতরেও কার্পেট বিছিয়ে স্টেডিয়ামকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়।
  • বিভিন্ন খেলার মাঠে প্লাস্টিক ঘাসের কার্পেট বিছিয়ে খেলার মাঠ কে সুন্দর করে তোলা হয়। আবার অনেকেই প্লাস্টিক ঘাসের কার্পেট ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ঘরের কোন কোন জায়গায় লাগিয়ে থাকেন।
  • বিভিন্ন সৌখিন বাড়িগুলিতে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মেঝেতে কার্পেট বিছানো হয়। এবং এই সৌখিন বাড়িগুলির মেঝেতে কার্পেট থাকার জন্য বাড়ি গুলির সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পায়। তাই আপনি কার্পেট ব্যবসা করলে এই ধরনের কিছু পরিবারের মানুষদের সরাসরি বিক্রি করতে পারেন।
  • আবার বিভিন্ন পাইকারি কিংবা ছোট ছোট রিটেল দোকানীয় কার্পেট বিক্রি করতে পারেন যাতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্পেট কেনে।
  • কার্পেট বা গালিচা যেহেতু খুবই সুন্দর দেখতে হয় তাই যে কেউ কেনার জন্য উৎসুক হয়ে থাকবে। অনেকেই ঘরের দেওয়ালে সুন্দর ডিজাইনের গালিচা লাগিয়ে দেওয়ালের সুন্দর্যতা বৃদ্ধি করে।

গালিচার ব্যবসা কেন লাভজনক?

গালিচার ব্যবসা এই কারণেই বেশি লাভজন ক কারণ এই গালিচার সুন্দর নকশা ও আকর্ষণীয় রং প্রতিটি মানুষের মনে একটি আলাদা জায়গা দখল করে নেয়। প্রতিটি গালি চাই সুন্দর সুন্দর ডিজাইন এবং নকশার কারণে আকর্ষণীয় করে তোলে। বহু প্রাচীন সময় থেকে আরবি ও গালিচার মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভারতীয় ঐতিহ্যে এক আলোড়ন তৈরি করেছিল। পরবর্তীকালে ভারতীয় শিল্পীদের শৈল্পিক নিদর্শন প্রতিটি গালিচার মধ্যে ফুটে ওঠে। গালিচাতে দেখা যায় ভারতীয় পুরনো ঐতিহ্য ছাপ। এখন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা গালিচা শুধুমাত্র ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয় তারা তাদের লেপ-কম্বল ও গালিচা দিয়েই তৈরি করছে। বর্তমানে অনেক গালিচা সুতির কাপড়ের পাশাপাশি সিল্কের কাপড়ের হওয়ার জন্য খুবই আকর্ষণীয় লাগছে।

অবশ্যই পড়ুন- কেটে ফেলে কলা গাছ থেকে মাসে 1 লাখ টাকা আয়

কার্পেট ব্যবসার পরিকল্পনা

যেকোনো ব্যবসা করতে গেলে তার আগে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে হয়। তেমন আপনি যখন কার্পেট ব্যবসা শুরু করবেন তার আগে অবশ্যই একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা আপনাকে রেডি করতে হবে। এই কার্পেট ব্যবসার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা হিসেবে আপনাকে প্রথমে ঠিক করতে হবে,

  • আপনি কোথায় থেকে কার্পেট কিনবেন।
  • কোথায় কার্পেট বিক্রি করবেন।
  • আপনার এলাকায় কতজন কার্পেট ব্যবসায়ী রয়েছেন।
  • বাজারে কার্পেটের চাহিদা কেমন রয়েছে।
  • কি ধরনের কার্পেট বেশি পরিমাণে বিক্রি হয়।
  • কি পদ্ধতিতে আপনি কার্পেট ব্যবসা করলে বেশি লাভবান হতে পারবেন।

এই ধরনের বিভিন্ন জিনিস আপনার ব্যবসা শুরুর আগে পরিকল্পনা করে নিয়ে বা মার্কেট রিসার্চ করে নিয়ে তারপরে এই কার্পেট ব্যবসায় নামতে হবে। আপনি যদি আগে থেকে মার্কেট রিসার্চ করে একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করে কার্পেট ব্যবসায়ী নামেন তাহলে আপনার ব্যবসা অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাবে এবং খুব সহজেই আপনি ব্যবসা থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

কার্পেট ব্যবসার নাম নির্বাচন করুন

আপনি যখন একটি কার্পেট ব্যবসা শুরু করবেন তখনই ব্যবসার নাম আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। কারণ আপনিও জানেন যে কোন ব্যবসা করতে গেলে ব্যাবসার একটি নাম কতটা ভূমিকা পালন করে সেই ব্যবসাটি বড় করার পেছনে। তাই আপনাকে একটি সঠিক নাম নির্বাচন করতে হবে এবং দেখতে হবে যে সেই নামটি যেন ইতিপূর্বে কেউ ব্যবহার না করে থাকে। তাই মানুষের মনে রাখার জন্য সহজ সরল কিছু আকর্ষণীয় নাম রাখতে হবে আপনার ব্যবসার জন্য। এরপর নামের নামাঙ্কিত ব্যবসায়িক লোগো তৈরি করতে আপনি পারেন যা আপনার ব্যবসার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে। আপনি চাইলে আপনার ব্যবসার নাম নির্বাচন করার পর সেই নামটি যাতে আর কেউ ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য পেটেন্ট নিয়ে রাখতে পারেন।

কার্পেট তৈরীর কাঁচামাল কি কি? (What are the raw materials for making carpets?)

আপনি যদি কার্পেট তৈরীর ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কার্পেট তৈরি করার কাঁচামাল কিনতে হবে। আর এই কার্পেট তৈরির কাঁচামাল আপনি খুব সহজলভ্য দামে চিনতে পারেন কলকাতার বড়বাজার এলাকা থেকে। কলকাতার বড় বাজার এলাকার একাধিক সুতো ও উলের পাইকারি দোকান রয়েছে। একটি কার্পেট বানাতে গেলে যে সকল কাঁচামালের প্রয়োজন হয় তা হল-

  1. উলের সুতো
  2. সিন্থেটিক সূত্র
  3. সুতির সুতো
  4. রঞ্জক
  5. কিছু রাসায়নিক
  6. সিন্থেটিক ফাইবার
  7. প্যাকেজিং এর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী

বাংলাদেশে কার্পেট ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি (How to start Carpet Business in Bangladesh)

বাংলাদেশে যদিও কার্পেট তৈরীর ব্যবসা এতটা জনপ্রিয়তা লাভ করেনি কিন্তু বাংলাদেশে কার্পেট ব্যবসা খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে থাকা প্রতিটি মসজিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের নামাজ পড়ার জন্য ব্যবহৃত কার্পেট গুলি সাধারণত বিদেশ থেকেই আমদানি করা হয়। আপনি যদি বাংলাদেশে নিজে উদ্যোগে কার্পেট তৈরীর ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে হয়তো একটু বেশি টাকা আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে এই ব্যবসায়। কিন্তু এই কার্পেট তৈরীর ব্যবসা থেকে আপনি প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারবেন বাংলাদেশের কার্পেটের কোম্পানি তৈরি করে।

সাধারণত বাংলাদেশের যে বড় বড় কার্পেটের পাইকারি বিক্রেতা রয়েছেন তারা বিদেশ থেকে বা ভারত থেকে কার্পেট কিনে এবং ব্যবসা করার ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। আর বাংলাদেশে যে সকল ছোট কার্পেটের ব্যবসায়ী রয়েছেন অর্থাৎ যারা এই সকল পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে কার্পেট কিনে দোকানে দোকানে রিটেল এ বিক্রি করেন তারা ২-৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসা করছে। তবুও বর্তমানে যেহেতু বাংলাদেশে বেশি কার্পেট তৈরির ব্যবসা হয় না, তাই আপনার জন্য এই ব্যবসাটি একটি সুবর্ণ সুযোগ, যদি আপনি নিজে উদ্যোগে একটি কোম্পানি তৈরি করে কার্পেট তৈরীর ব্যবসা শুরু করেন।

আরো পড়ুন- আইসক্রিম তৈরির ব্যবসা

কার্পেট তৈরীর ব্যবসা করতে কি কি মেশিন লাগে?

কার্পেট তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আপনার কি প্রথমে বেশ কয়েক রকমের মেশিন কিনতে হবে। কার্পেট যেহেতু কাপড়ের এক আলাদা অনুকরণ তাই কাপড় তৈরীর মেশিন দিয়েও কার্পেট বানানো যেতে পারে। তবে সেই কার্পেট কতটা সুন্দর হবেনা যা বাজারে বিক্রি হওয়া কার্পেটের মত। তাই কার্পেট তৈরির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে কিনতে হবে একটি কম্পিউটার এবং কার্পেট রং করার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও কার্পেট বানানোর মেশিন।
কার্পেট বানানোর মেশিন দিয়ে আপনি খুব সহজেই 17 মিটার থেকে 20 মিটার প্রশস্ত কার্পেট বানাতে পারবেন। এই কার্পেট তৈরীর মেশিন দিয়ে আপনি ৮ রকমের রংয়ের কার্পেট বানাতে পারবেন এবং কার্পেটে উলের ঘনত্ব অনুযায়ী আরো সুন্দরতা বৃদ্ধি করতে পারবেন।

Carpet manufacturing business
কার্পেট তৈরীর ব্যবসা

কার্পেট তৈরির পদ্ধতি

আপনি যদি কার্পেট তৈরীর ব্যবসা করবেন তাহলে অবশ্যই কার্পেট তৈরি করা আপনাকে শিখতে হবে বা ট্রেনিং প্রাপ্ত কর্মচারী নিয়োগ করে এই ব্যবসা করতে হবে। কার্পেট তৈরি করা খুবই সহজ জিনিস কারণ বর্তমান সময়ে আধুনিক ইলেকট্রনিক মেশিন এসে গিয়ে এই কার্পেট তৈরি টা সহজ করে দিয়েছে। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে কার্পেট বানানো হয় তা হল-

  • সুতোর বান্ডিল গুলি মেশিনের প্রান্তে লাগিয়ে দিতে হয়।
  • কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন ডিজাইন তৈরি করে মেশিনে প্রেরণ করা হয়।
  • মেশিন পুরনো তাঁত বোনার নিয়মে কাপড় বুনতে থাকে
  • ভারী দাঁতযুক্ত চিরনির মতো দেখতে মেশিনের ফলাগুলি ওপর-নিচ হতে হতে সুন্দর ডিজাইনের কার্পেট তৈরি করে।
  • নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী কার্পেট তৈরি হয়ে গেলে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তী কার্পেট তৈরি করতে থাকে।
  • এরপর সুতো কেটে আপনাকে কার্পেট বাইরে বের করে নিতে হবে।
  • কোন সুতো যদি আলাদা করে উঠে থাকে তাহলে তার হাত দিয়ে কেটে দিতে হবে।
  • এরপর কার্পেট টা ভালো করে জলে ধুয়ে শুকনো করতে হবে।
  • শুকনো হওয়া কারপেটে একটু সুগন্ধি মিশিয়ে প্লাস্টিক প্যাকেটে ভরে ফেলতে হবে।
  • বাজারে বিক্রি হওয়ার জন্য কার্পেট প্রস্তুত হয়ে যাবে।

গালিচা ব্যবসার আর্থিক পরিকল্পনা

কার্পেট ব্যবসা বা গালিচা ব্যবসার শুরুটা আপনাকে আর্থিক পরিকল্পনা বুঝে করতে হবে। অর্থাৎ আপনার কাছে যে পরিমাণ পুঁজি থাকবে তা বিনিয়োগ করে আপনি কতটা বড় ব্যবসা করতে পারবেন তা আগে থেকেই আপনাকে ঠিক করতে হবে। আপনার এই ব্যবসা করতে যে ঘরের প্রয়োজন পড়বে তা আপনি তৈরি করবেন না ভাড়া নেবেন তাও আপনার ব্যবসার আগেই ঠিক করতে হবে। আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি যে পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করলে এই ব্যবসাটি আরও বড় করা যাবে এবং যে এলাকাতে ব্যবসা করলে আপনার ব্যবসাটি আরও বড় হবে সেই আর্থিক পরিকল্পনাটি।ব্যবসার পরবর্তী ক্ষেত্রে প্রচারের জন্য যে আর্থিক বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে তাও আপনার ব্যবসা করার পূর্বেই একটি পরিকল্পনা করে নিতে হবে।

পাপোশ ব্যবসা করতে কার্পেটের ভূমিকা কি থাকে

বর্তমান সময়ে ছোট কার্পেট তৈরি করা হয় কারণ পাপোশ হিসাবে মানুষ সেই কার্পেটকে ব্যবহার করেন। আবার অনেক পাপোশ ব্যবসায় কার্পেটের ডিজাইনে পাপোশ তৈরি করা হয় যাতে পাপোশের বিক্রি বেড়ে যায়। তবে যে সকল বাড়িতে মেঝেতে কার্পেট বিছানো হয় তা অনেকটাই পাপোশের কাজ করে। ছোট আকারের কার্পেট গুলি পাপোশ হিসাবেই বিক্রি হয় প্রতিটা দোকানে। বাংলাদেশ এবং ভারতীয় মুসলিম কালচারে সুন্দর ডিজাইনের পাপোশ খুবই বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। এই কালারফুল পাপোশগুলি এক প্রকার কার্পেট এর অংশ।

অবশ্যই পড়ুন- ফেলে দেওয়া জামা কাপড় থেকে 1 লক্ষ টাকা আয়

কার্পেট ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়ে?

আপনি যদি কার্পেট ব্যবসা ছোট করে শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনার আলাদা করে কোন লাইসেন্স নিতে হবে না। তবে বর্তমান সময়ে ভারতীয় ব্যবসার আইন অনুযায়ী প্রতিটা ব্যবসায়ীকেই তার ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় এবং কিছু আইনি অনুমোদনপত্রের প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশেও ব্যবসা করতে গেলে প্রতিটা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীকে আলাদা আলাদা লাইসেন্স নিতে হয় ব্যবসার জন্য। তাই কার্পেট ব্যবসার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গুলি হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • জি এস টি নাম্বার
  • আমদানি রপ্তানি নম্বর
  • কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট
  • নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র
  • কারখানা তৈরির লাইসেন্স (কারখানা তৈরি করলে)
  • কর্মচারী রাখার অনুমোদন পত্র

কার্পেট ব্যবসার মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

আপনি যখন কার্পেট ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে আপনার ব্যবসা বড় করার জন্য সুন্দর মার্কেটিং করতে হবে। বর্তমান সময়ে আধুনিক মার্কেটিং এর যুগে আপনাকেও আধুনিক পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতে হবে এবং পুরনো পদ্ধতি ও ব্যবহার করতে হবে। তাই আপনার কার্পেট ব্যবসা দ্রুততার সাথে বড় করার লক্ষ্যে যে পদ্ধতিতে আপনি মার্কেটিং করতে পারেন তা হল-

  • ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে পেজ ও অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রতিদিন নিত্যনতুন ছবি ও কিছু লেখা পোস্ট করুন। কিছুদিনের মধ্যে আপনার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এর পেজে জনপ্রিয়তা লাভ করবে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম থেকে অনেক কাস্টমার আপনি পেয়ে যাবেন। আপনার ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
  • ফেসবুক গুগল ও ইউটিউবে অল্প টাকা বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্য আপনি প্রচার করতে পারেন বা অ্যাডভার্টাইজ করতে পারেন। বর্তমানে ফেসবুকে দেখা ভিডিও অ্যাডভার্টাইজ এর মত আপনার কোম্পানি বা আপনার ব্যবসার ও অ্যাডভার্টাইজ করা সম্ভব।
  • যে এলাকাতে ব্যবসা করছেন সেই এলাকার আশেপাশে আপনি ছোট বড় পোস্টার ছাপিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • বিভিন্ন বড় রাস্তার মোড় গুলিতে ও বাজার এলাকাগুলিতে বড় বড় ফ্লেক্স ঝাপিয়ে আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
  • বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ডিস্ট্রিবিউটার ধরে তাদেরকে বিক্রি করতে পারেন ও তাদের মারফত আপনার ব্যবসার লিফলেট প্রতিটি দোকানে দিতে পারেন।
  • অ্যামাজন ফ্লিপকার্ট এর মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলিতে বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে কার্পেট বিক্রি করতে পারেন অনলাইনে এই পদ্ধতিতে।
  • নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে আপনি সেই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ডিজাইনের বিভিন্ন সাইজের কার্পেট বিক্রি করতে পারেন এবং নিজস্ব ওয়েব সাইটে বিক্রি করার ফলে ব্যবসার উন্নতি দ্রুততার সাথে হতে পারে।
  • জনবহুল বাজার এলাকা গুলিতে একাধিক ছেলেকে দিয়ে লিফলেট বিলি করাতে পারেন।

কার্পেট ব্যবসা করতে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয়? (How much money to invest in carpet business?)

আপনি যখন কার্পেট ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনার কাছে কত টাকা পুঁজি আছে তার ওপর নির্ভর করে এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন। আপনি যদি নিজেও উদ্যোগে কার্পেট তৈরীর ব্যবসা শুরু করেন সে ক্ষেত্রে আপনার একটু বেশি পরিমাণের টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। আর আপনি যদি শুধু কার্পেট ব্যবসা করেন কোন কোম্পানি থেকে কিনে নিয়ে তাহলে আপনার টাকা বিনিয়োগের পরিমাণটাও কমে যাবে। আপনি ছোট করে ভারতে কার্পেট ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশে ছোট করে কার্পেট ব্যবসা করতে আপনার খরচ হবে 2 লক্ষ টাকা থেকে 3 লক্ষ টাকা।

আর আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে পাইকারি হিসেবে ভারত অথবা বিদেশ থেকে কাপড় আমদানি করে ব্যবসা করলেন তাহলে আপনাকে 20 লক্ষ টাকা থেকে 30 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

কার্পেট ব্যবসায় লাভ কত? (How much profit carpet business)

কার্পেটের মার্কেট চাহিদা অনেক বেশি হওয়ার কারণে কার্পেট ব্যবসায় লাভ অনেক বেশি থাকে। আপনি যে কার্পেট 200 টাকায় কিনবেন তা বাজারে বিক্রি করতে পারবেন 600 টাকা থেকে 800 টাকা দামে। আবার যে কার্পেট আপনি পাঁচ সাতশ টাকায় কিনবেন তা বাজারে বিক্রি করতে পারবেন 1500 টাকারও বেশি দামে। বর্তমানে প্রতিটি কার্পেট ব্যবসায়ী এই ভাবেই তাদের ব্যবসা থেকে লাভ করেন প্রচুর টাকা। ছোট কার্পেট ব্যবসায়ী প্রতি মাসে 30 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা লাভ করতে পারেন। একজন বড় কার্পেট ব্যবসায়ী 2 লক্ষ টাকা থেকে 10 লক্ষ টাকা লাভ করতে পারেন কার্পেট বিক্রি করে।

বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে কার্পেট রপ্তানির পাশাপাশি খুচরা মার্কেটেও কার্পেট বিক্রি হয়। এই কারণে বড় ব্যবসায়ীদের লাভের পরিমাণ এতটা বেশি হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি সঠিক নিয়মে ব্যবসা করেন তাহলে ছোট থেকে ব্যবসা করেও খুব দ্রুততার সাথে বড় আকারে কার্পেট ব্যবসা করতে পারেন

FAQ.

কার্পেট ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 50 হাজার টাকা থেকে 2 লাখ টাকা লাগে কার্পেট ব্যবসা করতে।

কোথায় কার্পেট ব্যবসা করা যায়?

উত্তর: গ্রাম-শহর পৃথিবীর যে কোন জায়গাতে আপনি কার্পেট ব্যবসা করতে পারেন।

কার্পেট ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: কার্পেট রাখার জন্য একটি গুদাম ঘর বা স্টোর রুমের প্রয়োজন পড়বে যা আপনি যেমন পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসা করছেন তার ওপরে নির্ভর করবে।

কার্পেটের পাইকারি বাজার কোথায়?

উত্তর: কলকাতার বড়বাজার এবং ঢাকার চকবাজারে কার্পেটের পাইকারি মার্কেট রয়েছে।

কার্পেট ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: ৩০ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা কার্পেট ব্যবসায় লাভ থাকতে পারে।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

অল্প পুজিতে ক্যাটারিং ব্যবসা

চা দোকানের ব্যবসা শুরু করুন

Leave a Comment