কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করুন মাত্র 10 হাজার টাকায় | Hand bangle business, Right now

ভারত আর বাংলাদেশের মহিলাদের হাতের চুড়ি সাজসজ্জার অঙ্গ হিসাবে দেখা যায়। তাই আপনি যদি কাঁচের চুড়ির ব্যবসা ব্যবসা করেন অবশ্যই আপনি সফল হবেন। বাঙালি মেয়েরা আবার যে কোনো অনুষ্ঠানেই কপালের টিপ,শাড়ি আর হাত ভর্তি চুড়ি পরতে ভীষণ পছন্দ করে। যতই আধুনিকতার রং লাগুক না কেন আমাদের সংস্কৃতিতে মেয়েদের চুড়ি পরা একটা ঐতিহ্যময় জিনিস হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রতিটা মেয়েই স্কুল-কলেজ হোক কিংবা কোন অনুষ্ঠানে যেকোনো পোশাকের সাথেই তারা হাতে কমবেশি চুড়ি পরতে পছন্দ করে।

আপনি যদি বাঙালি হয়ে থাকেন তাহলে এই বাংলাতে আপনার জন্য কাঁচের চুড়ির ব্যবসা লাভজনক একটি ব্যবসা হিসেবে দেখা দিতে পারে। বর্তমানে কাঁচের চুড়ির পাশাপাশি প্লাস্টিকের চুড়ি, কাঠের চুড়ি, মাটির চুড়ি, পুতি ও সুতা দিয়ে ডিজাইন করা বিভিন্ন চুড়ির প্রচেতা ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে শুধু চুড়ি আমাদের ভারত-বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তাই আপনার জন্য কাঁচের চুড়ির ব্যবসা সম্বন্ধিত সমস্ত তথ্য এখানে দেওয়া হলো।

Table of Contents

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে কত পুঁজি লাগে? (How much does it cost to make a glass bangle business?)

বর্তমানে বাকি সকল ব্যবসার মতো কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে বেশি খরচ করতে হয় না। কারণ আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন মাত্র 10 থেকে 15 হাজার টাকা খরচ করে।কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে প্রয়োজনীয় সমস্ত ধরনের চুড়ি কিনতে হবে পাইকারি মার্কেট থেকে। আবার আপনি চাইলে যেখানে সরাসরি চুড়ি তৈরি হয় সেখান থেকেও কিনতে পারেন।


চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে বিভিন্ন দামের বিভিন্ন কোয়ালিটির চুড়ি কিনতে হবে। আপনি চাইলে ছোট করে কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে পারেন, তার জন্য আপনার খরচ হবে 5 থেকে 10 হাজার টাকার মতো। আবার আপনি যদি একটা বড় দোকান করে ভালোভাবে বড় ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই কমপক্ষে 30 থেকে 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে চুড়ির ব্যবসায়।

চুড়ির ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন? (How to start a bangle business?)

চুড়ির ব্যবসা আপনি গ্রাম, শহর কিংবা বিভিন্ন মেলা এবং হাট-বাজারে যেকোনো জায়গাতেই আপনি করতে পারেন ছোট কিংবা বড় আকারে। আমাদের দেশের হিন্দু মুসলিম সকল ধর্মের মহিলারাই চুড়ি পরতে ভীষণ পছন্দ করেন। আবার বাঙালি সংস্কৃতিতে চুড়ির একটা আলাদা প্রাধান্য রয়েছে মহিলা সমাজে। তাছাড়াও বিভিন্ন উৎসব ঘরোয়া অনুষ্ঠানের প্রায় প্রতিটা মেয়েই কমবেশি চুড়ি পরে আর সকল উৎসব আনন্দের সাথে পালন করে। এখন কাকের মেয়েরা আবার প্রতিটা গ্রেড অনুযায়ী তার কালার ধরে ধরে আলাদা আলাদা রঙের চুড়ি পড়তে বেশি পছন্দ করে।

তাই আপনি যদি কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করেন তাহলে আপনার জন্য এর থেকে ভালো সুবর্ণ সুযোগ আর নেই। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য হিসাবে চুরির বৈশিষ্ট্য আলাদা আলাদা রকমের হয় যেমন পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের সব রকমের চুড়ি পরার প্রচলন রয়েছে আবার উত্তর ভারতের মেয়েদের শুধু কাঁচের চুড়ি এবং কিছু কিছু জায়গার মেয়েরা আবার লোহার চুড়ি পরতে বেশি পছন্দ করেন। আপনি যদি চুড়ির ব্যবসা করবেন বলে ঠিক করে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই এই বাংলার মেয়েদের যে ধরনের চুড়ি পরার প্রচলন রয়েছে তা বুঝে সেই সব রকমের চুড়ির কালেকশন আপনার কাছে অবশ্যই রাখতে হবে।

bangle business
কাঁচের চুড়ির ব্যবসা

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কি প্রয়োজন রয়েছে?

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার তেমন কোনো প্রয়োজন পড়বে না। কারণ আপনার যদি সাধারন জ্ঞান এবং সাধারন আইডিয়া থাকে তাহলেই আপনি এই ব্যবসা করতে পারবেন। তবে সব সময় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে মার্কেট বুঝে এবং আপনার কাস্টমার এর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন রকমারি নতুন নতুন ডিজাইনের চুড়ি কালেকশন আপনাকে রাখতে হবে। কারণ বিভিন্ন সময়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের চুড়ির চাহিদা থাকে। যেমন সরস্বতী পূজা, দুর্গাপূজা, ঈদ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রকমের চুড়ি মেয়েরা করতে পছন্দ করে। তাই আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যেমন থাকনা কেন আপনার যদি সাধারন আইডিয়া থেকে থাকে তাহলে আপনি এই ব্যবসা সুন্দরভাবে করতে পারবেন।

অবশ্যই পড়ুন- পপকর্ন তৈরির ব্যবসা

চুড়ির পাইকারি বাজার কোথায়?

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে পাইকারি বাজার থেকে চুড়ি কিনতে হবে। আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী যেকোনো বড় পাইকারি বাজার থেকে অল্প দামে চুড়ি কিনে ব্যবসা করতে পারেন। যেমন কলকাতার বড় বাজার পাইকারি মার্কেট এবং বাংলাদেশের চকবাজার পাইকারি মার্কেট থেকে আপনি খুবই অল্প দামে অনেক ধরনের কাঁচের চুড়ি কিনতে পারবেন। আবার আপনি চাইলে সরাসরি ভারতের বড় বড় হোলসেল মার্কেট থেকে কাঁচের চুড়ি কিনে ব্যবসা করতে পারেন। ভারতের যে সকল মার্কেটে আপনি চুড়ি পাবেন সেগুলি হল

  • দিল্লির চাঁদনী চক
  • জয়পুরের জোরি বাজার
  • হায়দ্রাবাদের লট মার্কেট
  • কলকাতার বড় বাজার

এছাড়াও আপনি চাইলে রাজস্থানে চুড়ির কোম্পানি রয়েছে। ওখানের অনেক পরিবার রয়েছে যাদের প্রধান জীবিকা কাঁচের চুড়ি তৈরি করা। আপনি চাইলে সরাসরি রাজস্থানে গিয়ে সেই সব চুড়ির বিক্রেতাদের কাছ থেকে পাইকারি দামে বিভিন্ন ডিজাইনের কাচের চুড়ি অল্প মূল্যে কিনতে পারেন।

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে কি কি লাইসেন্স দরকার?

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে আপনার শুরুতেই কোন লাইসেন্স এর প্রয়োজন পড়বে না। তাছাড়া আপনি যদি ছোট করে ব্যবসা শুরু করেন তাহলেও আপনার কোন লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে না। তবে আপনি যদি বড় করে ব্যবসা করেন তাহলে আপনাকে প্রতিটা বড় ব্যবসায়ীদের মতন ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে ব্যবসার জন্য। এছাড়াও আপনি যদি চুড়ির রপ্তানি ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স নিতে হবে সরকারের কাছ থেকে। তবে আপনি যদি কাঁচের চুড়ির ব্যবসা ছোট করে শুরু করেন তাহলে আপনি আপনার আধার কার্ড দিয়েই প্রাথমিকভাবে কাজ চালাতে পারেন, আপনার আলাদা করে কোন বড় কোন লাইসেন্স নেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। আর আপনার চুড়ির ব্যবসা যদি বড় হয় তবে আপনাকে অবশ্যই ব্যবসার জন্য GST নাম্বার নিতে হবে।

চুড়ির দোকান কোথায় করবেন?

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে একটা চুড়ির দোকান করতে হবে। চুড়ির ব্যবসা করার জন্য আপনাকে অবশ্যই একটা ভালো লোকেশন বা জায়গা নির্বাচন করে সেখানে দোকান করতে হবে। মনে রাখবেন দোকানটি অবশ্যই আপনাকে ভালো কোন জনপ্রিয় জায়গাতে করতে হবে যদি আপনি ভাল জনপ্রিয় জায়গা না নির্বাচন করে যেখানে সেখানে দোকান তৈরি করেন তাহলে আপনার ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে যাবে ফলে আপনার লাভের পরিমাণ অনেক কমে যাবে।

তাই সব সময় আপনাকে এমন কোন জনবহুল এলাকা বা জনপ্রিয় বাজার এলাকা নির্বাচন করতে হবে যেখানে প্রচুর পরিমাণে মানুষের যাতায়াত রয়েছে, বিশেষ করে মেয়েদের জিনিসপত্র বিক্রি যে মার্কেটে বেশি হয় সেই অঞ্চলে আপনি যদি একটা দোকান তৈরি করেন তাহলে আপনার অবশ্যই চুড়ির ব্যবসা অনেক লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হবে । তবে আপনি যদি শহরাঞ্চলে কাঁচের চুড়ির ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি যেকোন রাস্তার ধারে একটা দোকান তৈরি করতে পারেন। যেহেতু শহরাঞ্চলের রাস্তার ধার দিয়ে প্রচুর পরিমাণে মানুষের যাতায়াত রয়েছে তাই আপনার ব্যাবসার কোনো সমস্যা হবে না।কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে জনবহুল জনপ্রিয় কোন বাজার ও স্কুল-কলেজের সামনে দোকান তৈরি করে আপনি ব্যবসা করতে পারেন।

আরো পড়ুন- চকলেট তৈরির ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয়

অনলাইনে কিভাবে কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করা যায়?

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটিং যেভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করছে তার দিকে নজর দিয়ে আপনি যদি কাঁচের চুড়ির ব্যবসা অনলাইনে শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনার ব্যবসা দ্রুততার সাথে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং আপনার ব্যবসাতে অনেক লাভ হবে। অনলাইনে করার জন্য আপনি একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন যেখানে কাঁচের চুড়ি বিক্রি করতে পারেন। এছাড়াও আপনি যে জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো রয়েছে যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট এই ধরনের ওয়েবসাইটে একটা করে বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে পোস্ট করতে পারেন এবং এখান থেকে আপনি অনেক পরিমাণ এর কাস্টমার পেয়ে যাবেন এবং বাড়িতে বসেই আপনি ব্যবসা করতে পারবেন।

এছাড়াও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া যে সকল সাইট রয়েছে যেমন ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ইউটিউব এই সকল সাইটে আপনি একটা করে যদি পেজ তৈরি করে প্রতিদিন নিত্যনতুন পোস্ট করতে থাকেন তাহলে দেখবেন আপনি ঘরে বসে কোন টাকা-পয়সা খরচ না করে মার্কেটিং কত ভালোভাবে করতে পারছেন এবং এই অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া সাইট গুলো থেকে অনেক বেশি পরিমাণে প্রোডাক্ট বিক্রি হবে এবং আপনার লাভ হবে।

চুড়ির ব্যবসায় দোকানের আয়তন কেমন হওয়া উচিত?

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা যদি আপনি দোকান তৈরি করে শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনার দোকানের আয়তন নির্ভর করবে আপনার কাছে যেমন পুঁজি থাকবে তার ওপর। কারণ চুড়ির দোকান ছোট কিংবা বড় যেমনই হোক না কেন ব্যবসায় লাভের পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে। তবে আপনার কাছে যদি পুঁজি বেশি থাকে তাহলে একটু বড় দোকান তৈরি করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বড় দোকান থাকলে কাস্টমারের আগ্রহ বেড়ে যায় আবার একই দোকানে আপনি স্টেশনারি বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতে পারেন।

এক কথায় বলা যেতে পারে দোকান ছোট হোক কিংবা বড় দোকানটি আপনি যত সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পারবেন তত বেশি পরিমাণে চুড়ি বিক্রি করতে পারবেন। তবে দোকানের আয়তন যদি 10/10 ফুটের হয়ে থাকে তাহলে সবচেয়ে ভালো হয় কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করার জন্য। আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে আপনি দেখতে পাবেন আপনার এলাকাতেও অনেক ব্যবসায়ী আছে যারা দোকান তৈরি না করেও ফেরি করে এলাকায় এলাকায় সাইকেলে করে চুড়ির ব্যবসা করছে।

চুড়ির দোকান ডেকোরেশন কেমন হবে?

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই চুড়ির দোকান সুন্দর করে ডেকোরেশন করার দিকে আপনাকে লক্ষ্য দিতে হবে। কারন একটা কথা প্রচলন রয়েছে “জো দিখতা হে, ওহী বিকতা হে” অর্থাৎ আপনি যেমন ভাবে দোকানটি সাজিয়ে রাখতে পারবেন তত বেশি পরিমাণে কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন। মেয়েদের চুড়ির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই মেয়েদের পছন্দ মত সাজানো আপনাকে শিখতে হবে। দোকান সাজানোর জন্য আপনি দোকানের দেয়ালে কাঠের সেলফ তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি তাকে সুন্দর করে চুড়ি সাজিয়ে রাখতে পারেন।

এছাড়াও দোকানের ডিসপ্লেতে আপনাকে নিত্যনতুন ডিজাইনের চুড়ি সর্বদা রাখতে হবে এবং যা 15-20 দিন অন্তর অন্তর পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া নতুন গ্রাহক পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে দোকানের বাইরে সুন্দর ডিজাইনের ফ্লেক্স লাগাতে হবে যাতে দোকানের সামনে দিয়ে যখন কোন কাস্টমার যাবে তার প্রথম নজর আপনার দোকানের প্রতি পরে।

আরো সুন্দর করে দোকান ডেকোরেশন করতে গেলে আপনাকে দোকানের ভেতরে বড় আইনা লাগাতে হবে। যখন কোন কাস্টমার আপনার দোকান থেকে কাঁচের চুড়ি কিনতে আসবে তখন তারা যেন হাতে চুড়ি পড়ে আয়নাতে দেখতে পারে কেমন লাগছে তাদের। এছাড়াও দোকানের রং এবং লাইট যেন আকর্ষনীয় হয়ে থাকে এই দিকেও আপনাকে সর্বদা নজর দিতে হবে। আর আপনাকে দোকানের সাইনবোর্ড টা বড় বড় করে তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিটা কাস্টমারের লক্ষ আপনার দোকানের প্রতিপরে।

অবশ্যই পড়ুন- মৌমাছি চাষের ব্যবসা

কাঁচের চুড়ির ব্যবসার মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

আপনি যখন চুড়ির ব্যবসা শুরু করছেন তখন অবশ্যই আপনাকে ভালো করে মার্কেটিং এর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রথমে আপনি যখন দোকান তৈরি করছেন সেই দোকানে যাতে কাস্টমার বৃদ্ধি পাই তার জন্য আপনাকে এলাকায় এলাকায় পোস্টারিং করতে হবে। আবার বিভিন্ন জনপ্রিয় মোড়গুলোতে বড় বড় ফ্লেক্স টানিয়ে প্রচার বাড়াতে হবে। আবার আপনি চাইলে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে এক-দুবার প্রচার করতে পারেন। এছাড়াও বর্তমানে সামাজিক যেসকল সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমগুলো রয়েছে সেখানে ফেসবুক পেজ তৈরি করে প্রতিটি পেজে প্রতিদিন নিত্যনতুন পোস্ট করতে পারেন।

এইভাবেও অনেকে তাদের ব্যবসার মার্কেটিং করে থাকে। আবার আপনি চাইলে আপনার এলাকার বিভিন্ন পেপার এবং ইউটিউবারদের দিয়ে আপনার দোকানের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। স্কুল-কলেজ বিভিন্ন বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ এবং মন্দিরের কাছে যেখানে বিশেষ করে মেয়েদের যাতায়াত এবং আনাগোনা বেশি থাকে সেই সকল অঞ্চলে আপনি ব্যানার ছাপিয়েও প্রচার করতে পারেন। এতে করে মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে আপনার ব্যানার, ফলে আপনার দোকানের কাস্টমারের সংখ্যাও অনেক গুন বেড়ে যাবে।

কাঁচের চুড়ির ব্যবসায় লাভ কত?

কাঁচের চুড়ির ব্যবসাতে লাভের পরিমাণ অনেকটাই বেশি হয়ে থাকে। কারণ এই ব্যবসাতে আপনি যখন পাইকারি দামে চুড়ি কিনবেন তখন আপনার যে টাকা খরচ হবে বিক্রি করতে পারবেন আপনি সেই চুড়ি গুলি কয়েকগুণ বেশি টাকাতে। যেমন বলা যেতে পারে 2 টাকায় চুড়ি কিনে আপনি বিক্রি করতে পারেন 20 টাকা তে। আবার 20 টাকায় চুড়ি কিনে আপনি বিক্রি করতে পারেন 200 টাকা তে। শুনে হয়ত একটু অবাক হচ্ছেন আপনি কিন্তু এটাই বাস্তব। চুড়ি আপনি যদি পাইকারি বাজার থেকে বা সরাসরি কোম্পানি থেকে কেনেন তাহলে আপনার খরচ হবে এইরকম অল্প কিছু টাকা। কিন্তু বাজারে যে সকল চুড়িগুলো বিক্রি হয় সেগুলোর দাম বর্তমানে কুড়ি টাকা থেকে শুরু হয়ে 200-500 টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

এছাড়াও চুড়ির ডিজাইন এবং মার্কেটের চাহিদা অনুযায়ী দাম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। অর্থাৎ যে সময়ে মার্কেটে চুড়ির চাহিদা বেশি থাকে সেই সময় দাম অনেকটাই বেশি হয়ে যায় কিন্তু প্রতিটা ব্যবসায়ী সেই চুড়ি কেনেন অল্প দামে। একজন কাঁচের চুড়ির ব্যবসায়ী প্রতিমাসে চুড়ির ব্যবসা করে লাভ করতে পারেন 50 হাজার টাকা থেকে 70 হাজার টাকার মতো। আবার একজন বড় পাইকারি চুড়ির ব্যবসায়ী প্রতিমাসে লাভ করতে পারেন 2 লক্ষ টাকা থেকে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এখন আপনি নিজেই হিসেব করে দেখতে পারেন যে এই ভাবে যদি আপনি ব্যবসা করেন তাহলে আপনার ব্যবসাতে আপনি কেমন লাভ করতে পারবেন। সব সময় মনে রাখবেন বর্তমান সময়ে মেয়েদের আইটেম নিয়ে যে কোনো ব্যবসায় অনেক লাভজনক হতে পারে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: ছোট করে ব্যবসা শুরু করতে 5 থেকে 10 হাজার টাকা লাগবে।

বাংলাদেশের চুড়ির পাইকারি বাজার কোথায়?

উত্তর: ঢাকার চকবাজার পাইকারি মার্কেটে চুড়ির পাইকারি দোকান অনেক রয়েছে।

চুড়ির দোকান তৈরি করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: চুড়ির দোকান তৈরি করতে ন্যূনতম 10/10 ফুটের জায়গা হলে ভালো হয় ‌। এছাড়াও ছোট কোন গুমটি দোকান তৈরি করে ব্যবসা করা যেতে পারে।

চুড়ির ব্যবসাতে লাভ কত হয়?

উত্তর: প্রতিমাসে আপনি কমপক্ষে 30000 টাকা থেকে 50 হাজার টাকা লাভ করতে পারেন।

কাঁচের চুড়ির ব্যবসা কোন জাগায় করা যায়?

উত্তর: স্কুল-কলেজ, মন্দিরের সামনে এবং জনপ্রিয় কোন বাজারের মধ্যে চুড়ির দোকান ব্যবসা করা যায়

প্রশ্ন: কত রকমের চুড়ি হয়?

উত্তর: 13 রকমের চুড়ি হয়। যেমন-

  • কাঁচের চুড়ি
  • সোনার চুড়ি
  • রুপার চুড়ি
  • প্লাটিনামের চুড়ি
  • পঞ্চধাতু চুড়ি
  • তামার চুড়ি
  • প্লাস্টিকের চুড়ি
  • কাঠের চুড়ি
  • মাটির চুড়ি
  • পুতির চুড়ি
  • সুতোর চুড়ি
  • হাড়ের চুড়ি
  • লোহার তারের চুড়ি

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

টিস্যু পেপার তৈরির ব্যবসা

আচার তৈরির ব্যবসা মাত্র 10 হাজার টাকা দিয়ে

Leave a Comment