কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ তথ্য | প্রসাধনী ব্যবসা শুরু করুন | Complete information on starting a cosmetics business, No 1 success plane

বর্তমান সময়ে কসমেটিকস ব্যবসা ব্যাপকভাবে মার্কেট ধরে রেখেছে। আর খুব অল্প পুঁজি বিনিয়োগের ব্যবসার মধ্যে কসমেটিকস ব্যবসা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রতিটা মেয়ের রূপচর্চার জন্য অনেক ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী কিনে থাকেন। তাই দিনে দিনে প্রসাধনী ব্যবসা খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন বর্তমানে প্রতিটা বাজারেই কমবেশি কসমেটিকসের দোকান গড়ে উঠেছে। তবে সঠিক নিয়মে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে আপনি যদি কসমেটিকস ব্যবসা করতে চান তবে অবশ্যই আপনার জন্য আজকের এই আলোচনা। এই ব্যবসা অতীতে যেমন লাভজনক ছিল তেমন বর্তমানেও আছে আর ভবিষ্যতেও এই ব্যবসা লাভজনক ই থাকবে। পৃথিবীর জনসংখ্যা যেমনভাবে বাড়ছে তেমনি সৌন্দর্য সচেতনতা মানুষের মধ্যে প্রবল ভাবে দেখা যাচ্ছে। তাই প্রতিটা মানুষই পুরুষ কিংবা মেয়ে প্রত্যেকেই তাদের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের নানা কোম্পানির প্রসাধনী সামগ্রী কিনতে চাই এবং কিনছে ও। আপনি যদি তাই প্রসাধনী ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন।

সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কসমেটিকস এর চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। নানা ধরনের বিভিন্ন কোম্পানির কসমেটিকস নিয়ে আপনি যদি একটি ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই এখনই ব্যবসা শুরু করুন। কসমেটিকস ব্যবসা সম্পর্কিত সকল তথ্য আজকের এই পোষ্টে দেওয়া হল।

Cosmetics business
কসমেটিকস ব্যবসা

Table of Contents

কসমেটিকস ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন? (How to start a cosmetics business?)

যে কোন ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে সেই ব্যবসা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য আগে জানতে হবে। এছাড়াও সেই ব্যবসাটা করার জন্য আপনাকে ভালো করে মার্কেট রিসার্চ করতে হবে এবং নিত্য নতুন বিজনেস স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে হবে। তাই আপনি যদি কসমেটিকস ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এই ব্যবসা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জেনে নিতে হবে আগে।

মার্কেট রিসার্চ

কসমেটিকস ব্যবসা করার আগে অবশ্যই আপনাকে মার্কেট রিচার্জ করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যে মার্কেটে ব্যবসা করবেন সেই মার্কেটে কসমেটিকস এর চাহিদা কেমন। যেখান থেকে আপনি কসমেটিক সংগ্রহ করবেন তার দূরত্ব কেমন কিংবা কসমেটিকস এর দাম কত। এছাড়া যে এলাকাতে আপনি ব্যবসাটি করতে চাইছেন সেখানে আর কটা কসমেটিকস দোকান রয়েছে, এই সমস্ত জিনিস গুলি আপনাকে আগে দেখে নিতে হবে।

বিজনেস স্ট্যাটেজি তৈরি করুন

কসমেটিকস ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে বিজনেস স্ট্র্যাটেজি আগে তৈরি করে নিতে হবে। বিজনেস স্ট্যাটেজি বলতে আপনি কি পদ্ধতিতে কাস্টমারকে আপনার দোকানের প্রতি আকৃষ্ট করবেন এবং কি পদ্ধতিতে কাস্টমার ধরে রাখবেন এই সমস্ত জিনিস গুলো পড়ে। এর জন্য অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে বর্তমানে যারা কসমেটিকস ব্যবসা করছেন তারা কি পদ্ধতিতে ব্যবসা করছে তাদের থেকে আপনি আরো ভালো কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন এই সকল জিনিসগুলি আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

কসমেটিকস ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে? (How much does it cost to run a cosmetics business?)

সাধারণত এই ব্যবসা করার জন্য আপনার ন্যূনতম 15 থেকে 20 হাজার টাকা বিনিয়োগ করেই এই ব্যবসা করা যায়। আপনার কাছে যদি অল্প টাকা থাকে তাহলে আপনি পাইকারি বাজার থেকে খুব অল্প দামে কসমেটিক্স সামগ্রী কিনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এছাড়াও আপনাকে একটা দোকান তৈরি করে ব্যবসা করতে গেলে কম্পরে 30 থেকে 50 হাজার টাকা খরচ হবে কারণ দোকান ডেকোরেশন এবং সমস্ত কসমেটিকস এর জিনিসপত্র কেনার পেছনে। আর আপনি যদি চান ঘরেতে থেকে কসমেটিকস ব্যবসা করবেন তাহলে আপনার খরচ হবে ন্যূনতম 10 থেকে 15 হাজার টাকা।

কিভাবে ঘরে বসে কসমেটিকস ব্যবসা করা যায়? (How to do cosmetics business at home?)

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের যুগে ঘরে বসে থেকে যে কোন ব্যবসা করা সম্ভব। সেই কারণে বর্তমানে মানুষ তাদের জীবনধারণের জন্য বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারনেটের মাধ্যমে জীবিকা। আপনি যদি কসমেটিকস ব্যবসা বা প্রসাধনী ব্যবসা শুরু করতে চান আপনার বাড়িতে থেকেই তাও সম্ভব ইন্টারনেটের মাধ্যমে। বাড়িতে থেকে ব্যবসা করতে হলে আপনাকে সর্ব প্রথম হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে হবে।

কারণ বর্তমানে একজন বাড়ির মহিলা বাড়িতে বসেই হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং করে কসমেটিকস ব্যবসা করতে পারেন। এছাড়াও ফেসবুকে ও ইনস্টাগ্রামে একটা পেইজ তৈরি করে তার মধ্য দিয়ে এই ব্যবসা করা যায়। আরও যদি আধুনিক পদ্ধতি আপনি ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনি ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলিতে আপনার বিজনেস অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তার মধ্য দিয়েও কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনাকে শুধু যে সকল জিনিসগুলি জানার বেশি প্রয়োজন পড়বে তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং আর ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান

অবশ্যই পড়ুন- হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং কি?

 ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করুন সহজ ১৬ টি উপায়ে

কসমেটিকস পাইকারি বাজার কোথায়?

কসমেটিকস ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রতিটা কসমেটিকস সামগ্রী খুবই অল্প দামে কিনতে হবে। এর জন্য আপনি আপনার এলাকার যেকোনো পাইকারি মার্কেট এ যোগাযোগ করতে পারেন। তবে আপনি চাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি কোম্পানির সাথে ডিলারশিপ নিয়োগ কসমেটিকস এর ব্যবসা করতে পারেন। বর্তমানে যেসব জায়গা থেকে আপনি খুব অল্প দামে কসমেটিক্স সামগ্রী কিনে নিয়ে কসমেটিকস ব্যবসা করতে পারবেন তা হল-

পশ্চিমবঙ্গের কসমেটিকস পাইকারি বাজার

পশ্চিমবঙ্গের পাইকারি বাজার বলতেই সবচেয়ে প্রথমে যে নামটা আমাদের মাথায় আসে সেটা হল কলকাতার বড় বাজারক্যানিং স্ট্রিট। হ্যাঁ বন্ধুরা কলকাতার বড় বাজারে কয়েকশো কসমেটিকস এর পাইকারি দোকান রয়েছে। যেখান থেকে খুবই অল্প দামে আপনি সকল প্রকার কসমেটিক সামগ্রী কিনতে পারবেন। তাই আমি বেশ কিছু দোকানের যোগাযোগ নাম্বার আপনাকে দিয়ে দিলাম যেখান থেকে আপনি কলকাতায় এসে খুব অল্প দামে কসমেটিক সামগ্রী কিনে নিয়ে যেতে পারবেন।

  • Kamlesh Gupta 50 N0 Balloon Gali , Canning Street , Kolkata Mobile No- 9903110085 / 7059813273
  • Shop Name- Raja Imitation Address- 108, Old China Bazar Street 5th Floor( Ram Rahim Market ) Kolkata – 700001 Call For Order : 8240316876 , 7003092354
  • Shop name: R K COSMETIC Shop No A107 A Block, 1st Floor Bagree Market. (Entry From Gate C, opposite Mehta Building) 71, Canning Street, Bara Bazar. Kolkata 700001, Shop Phone Number 8017284995
  • Manju Cosmetic, Address 22, Sukeas Lane 1st Floor KOLKATA -700001, (Near Bhikam Chand Market), Call Now 7003850460

বাংলাদেশের কসমেটিকস পাইকারি বাজার

বাংলাদেশ একাধিক জায়গাতে কসমেটিকস সামগ্রী পাইকারি দামে বিক্রি হয়ে থাকে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ঢাকার বুড়িগঙ্গার পাড়ে অবস্থিত চকবাজার পাইকারি মার্কেট। আপনি চাইলে চকবাজার কসমেটিকস পাইকারি মার্কেট থেকে খুব অল্প মূল্যে কসমেটিক সামগ্রী কিনতে পারবেন। চকবাজারে নুরজাহান মার্কেট, মৌলভী বাজার, বেগম বাজার, উর্দু রোড কসমেটিক্স সামগ্রী বিক্রির জন্য বিখ্যাত। আপনাকে এইসব মার্কেট থেকে কসমেটিক কেনার জন্য যোগাযোগ নাম্বার দিয়ে দেওয়া হল-

  • মেসার্স রেয়াদ ষ্টোর (খাজা সুপার মার্কেট-২য় তলা, দোকান নং-৩৬) সোয়ারীঘাট রোড, চক মোগলটুলী, ঢাকা-১২১১ 🛒পাইকারি অর্ডার করতে যোগাযোগ করুন :- ☎ 01988-010230 (imo + WhatsApp)
  • চকবাজার, খাজা সুপার মার্কেট ২য় তলা, দোকান নং-৩৬, সোয়ারীঘাট রোড, চক মোগলটুলি, ঢাকা। মেসার্স রিয়াদ স্টোর – হাজী মো: তকদির হোসেন – 01712047382
  • এম, এস আলম ষ্টোর, প্রোপাইটরঃ মোঃ মনির হোসেন, ১৩৮/৪০ খাঁন মার্কেট চক মোগলটুলী, চকবাজার, ঢাকা-১২১১। ফোনঃ ০২-৫৭৩৪০২০ মোবাঃ ০১৭১২-০৮৫২৪৩ / ০১৯১৬-৮১৪১৯৬
  • চুমকি কসমেটিক্স মমতাজ প্লাজা ফোন: 01892555733/ 01923265144
  • Ajker Bazar Official Address: 27 Link Road (3rd Floor), Bangla Motor, Dhaka 1000, Bangladesh

এছাড়াও আপনি চাইলে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন কসমেটিকস বাজার থেকে খুব অল্প দামে কসমেটিক সামগ্রী কিনতে পারেন। চট্টগ্রামের এই বাজারে একাধিক কসমেটিকস দোকান রয়েছে যারা খুবই স্বল্প দামে কসমেটিক সামগ্রী বিক্রি করে থাকেন।

প্রসাধনী ব্যবসায় দোকান তৈরি করুন

প্রসাধনী ব্যবসা আপনাকে করতে হলে যেকোনো ভালো একটি বড় মার্কেটে দোকান ঘর তৈরি করতে হবে। এর জন্য আপনাকে ন্যূনতম 10 বাই 10 ফুটের একটা দোকান ভাড়া নিতে হবে। আপনি চাইলে আরো ছোট দোকান নিয়েও ব্যবসা করতে পারেন সেটা নির্ভর করবে আপনার যে মার্কেটে ব্যবসা করছেন সেই মার্কেটের কেমন ঘর পাওয়া যায় তার ওপর। শুধু দোকান ভাড়া নিলে কিংবা তৈরি করলে হবে না সেই দোকান টা ভালো করে সাজানো বা ডেকোরেশনের দিকেও আপনাকে লক্ষ্য দিতে হবে। কারণ ডেকোরেশন এর উপরে নির্ভর করবে কাস্টমারের আকর্ষণ আপনার দোকানের প্রতি।

আরো পড়ুন- মুরগির খামার ব্যবসা শুরু করুন

প্রসাধনী ব্যবসায় দোকান ডেকোরেশন কেমন হবে? (How will the cosmetics business shop decoration?)

কসমেটিকস ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে দোকান ডেকোরেশন এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনি যদি বাড়িতে প্রসাধনী ব্যবসা শুরু করেন তাহলে ক্রেতাদের সুবিধার জন্য আলাদা রুম বা আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করতে হবে। দোকান কিংবা ঘরের দেওয়ালে কাঠের সেল্ফ তৈরি করতে হবে। প্রতিটি তাকে আলাদা আলাদা ভাবে বিভিন্ন কসমেটিক্স প্রোডাক্ট সাজিয়ে রাখতে হবে।

রুমের লাইটটা অবশ্যই সাদা এলইডি লাইট হতে হবে। সাদা এলইডি লাইটের কারণে প্রতিটি প্রোডাক্ট ভালো লাগবে এবং আকর্ষণীয় লাগবে। এছাড়াও ছোট ছোট কিছু কিছু কসমেটিক্স প্রোডাক্ট যা রাখার জন্য আপনাকে একাধিক বাক্স ব্যবহার করতে হবে। বাক্স ব্যবহার করলে তাতে প্রোডাক্ট গুলি সুরক্ষিত থাকবে এবং ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকবে। আবার যে সকল প্রোডাক্ট মহিলারা বেশি করে কিনতে পছন্দ করে সেই সব প্রোডাক্টগুলো সামনের সারিতে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

বর্তমানে যেহেতু বিউটি পার্লারের চাহিদা বেড়েছে তাই আপনি চাইলে বিউটি পার্লারের সাথেও কথা বলে সেখানেই কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এছাড়া আপনার দোকানের শিশুদের জন্য ব্যাগ, হেয়ার ক্লিপ, পেন্সিল, খাতা, কলম এইসব জিনিস রাখতে হবে। কারণ মহিলারা যখন কোনো একটি দোকানে বাজার করতে কিংবা কোনো কিছু কিনতে ঢোকেন তখন তারা যদি তাদের প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম একটা দোকান থেকেই পেয়ে যায় তাহলে তারা দ্বিতীয় কোন দোকানে যাওয়ার কথা ভাবে না, তাই তাদের কথা ভেবে তাদের সাথে সাথে তাদের সন্তানদেরও জিনিসপত্র আপনার দোকানে যদি আপনি সুন্দর করে সাজিয়ে রাখেন এবং বিক্রি করেন এতে করে আপনার বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং কিছু নির্দিষ্ট স্থায়ী ক্রেতাও তৈরি হয়ে যাবে। প্রধান কথা হল ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী রেখে ব্যবসা করতে হবে।

প্রসাধনী ব্যবসাতে প্রচার ও ক্রেতা সংগ্রহ কিভাবে করা হয়? (How to promote and engage buyer in cosmetics business?)

কসমেটিকস ব্যবসা প্রসাধনী ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার ব্যবসার প্রচার বা বিজ্ঞাপন দিতে হবে। ব্যবসার শুরুতে আপনি এলাকার কোন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা কোন সিনেমার সুপারস্টার কে দিয়ে আপনার ব্যবসার উদ্বোধন করাতে পারেন। এতে করে খুব সহজেই জনপ্রিয়তা লাভ করা যায়। এর সাথে সাথে আপনি ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম গুগলের আলাদা করে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। রিতাকে যখন আপনার দোকানে কোন কিছু কিনতে আসবে তাদেরকে ছোট ছোট কোন কসমেটিকস জিনিস গিফট হিসেবে ও দিতে পারেন নির্দিষ্ট কেনাকাটার দামের ওপরে। যত বেশি করে কাস্টমারের কাছে আপনি নিত্য নতুন অফার সহ জিনিসপত্রের কম দাম নিয়ে হাজির হবেন তত বেশি পরিমাণে কাস্টমার বা ক্রেতা আপনার দোকানে একাধিকবার আসতে থাকবে।

বিভিন্ন এলাকাতে আপনার দোকানের ফ্লেক্স ছাপিয়ে প্রচার করতে পারেন। দোকানের বাইরে ছোট একটা বক্স লাগিয়ে অনবরত আপনার দোকানে আসার জন্য এবং দোকানের বিভিন্ন অফার মাইকিং করতে পারেন। আপনার দোকানে যখন কোন কাস্টমার আসবে তাদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা এবং অন্যান্য দোকানের থেকে দাম কম রেখে কোন জিনিস বিক্রি করতে পারেন। যত ভালো থাকবে কাস্টমারের সঙ্গে আপনার ব্যবহার এবং জিনিসপত্রের ভেরাইটিস এর উপর দাম, তত বেশি পরিমাণে কাস্টমার আপনার দোকানে আসবে।

বিশ্বাসযোগ্য কর্মচারী নিয়োগ

কসমেটিকস ব্যবসা করতে হলে আপনাকে ব্যবসার শুরুতে একাই ব্যবসা করতে পারেন কিন্তু দোকানে যত কাস্টমার আসতে থাকবে তখন আপনার একার পক্ষে সমস্ত ব্যবসাটা করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া নতুন কসমেটিকস কেনার জন্য পাইকারি মার্কেটে যাওয়া এবং বিক্রি করা সমস্ত কাজ আপনার একার পক্ষে করা অসম্ভব তার জন্য আপনাকে একাধিক ভরসাযোগ্য কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। কর্মচারী যদি মেয়ে হয়ে থাকে তাহলে কসমেটিকস ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক ভালো হয়। তাই আপনাকে দেখতে হবে ভরসা কর্মচারী না হলে দোকানে দামি প্রোডাক্ট এবং বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

অবশ্যই পড়ুন- বিনা পুঁজিতে মাসে আয় করুন 1 লক্ষ টাকা

Cosmetics business
প্রসাধনী ব্যবসা

কসমেটিকস ব্যবসায় আয় কত? (What is the income of cosmetics business?)

কসমেটিকস ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা বর্তমানে ভারতে বেড়েই চলেছে। আসলে এই ব্যবসাটা এমন একটি ব্যবসা যা ভালো ভাবে দাঁড় করাতে পারলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। তবে কসমেটিকস ব্যবসায়ী সর্বনিম্ন আই হতে পারে প্রতিটা প্রোডাক্ট বিক্রি করার পর 15 থেকে 45 শতাংশ। অর্থাৎ বলা যেতে পারে 1 টাকায় একটা প্রোডাক্ট কিনে আপনি 10 টাকায় বিক্রি করতে পারেন। আপনি যে ভাবেই এই ব্যবসাটা করুন না কেন সর্বনিম্ন আয়ের পরিমাণ প্রতি মাসে 30 থেকে 50 হাজার টাকা হতে পারে।

খুব ভালোভাবে আপনি যদি আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে কসমেটিকস ব্যবসা করতে পারেন তাহলে আপনার প্রতি মাসে রাইট 1 লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ কসমেটিকস ব্যবসা খুব অল্প পুজিতে শুরু করা যায় আর প্রতিটা প্রোডাক্ট বিক্রি করে লাভ করতে পারা যায় 70% এরও বেশি।

প্রসাধনী ব্যবসা সম্পর্কিত কিছু তথ্য (Some information about cosmetics business)

আমেরিকান একটি সংস্থার তথ্যে জানা গেছে শুধুমাত্র আমেরিকাতে 2018 -19 সালে 72 বিলিয়ন ডলারের বেশি টাকার কসমেটিকস বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও ইউরোপিয়ান আরেকটি সংস্থার পরীক্ষাতে দেখা গেছে সারা পৃথিবীতে 2019-20 সালে 450 বিলিয়ন ডলারেরও বেশি টাকার কসমেটিকস ব্যবসা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন দিনেদিনে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের সৌন্দর্য সচেতনতা ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই উন্নত হোক অনুন্নত হোক সমস্ত দেশেই কসমেটিকস ব্যবসা খুব দ্রুততার সাথে প্রসার ঘটছে।

বর্তমানে অ্যান্টি-এইজিং ক্লিনিক, বিউটি সেলুন, বিউটি পার্লার, হেয়ার সেলুন, মেকওভার সেলুন, ন্যাচারাল বিউটি সেলুন, অ্যারোমা থেরাপি বিভিন্ন নামের সৌন্দর্যের ব্যবসা চলছে চারিদিকে। এবং প্রতিটা প্রতিষ্ঠানেই কসমেটিকসের ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার করা হচ্ছে তাই কসমেটিক্স প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি যদি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনার ব্যবসা সফলতার দিকে এগোতে থাকবে। ব্যবসা করার আগে আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করার সকল নিয়ম কানুন এবং ব্যবসা আপনার এলাকাতে কি ধরনের বা কিভাবে করলে দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাবে তা আপনাকে মার্কেট রিসার্চ করে বুঝতে হবে।

আপনি যদি কসমেটিকস ব্যবসা করবেন বলে মনস্থির করে থাকেন তাহলে বর্তমানের বড় বড় কোম্পানির ব্র্যান্ডের একটা তালিকা প্রথমে তৈরি করুন। তারপর নন-ব্র্যান্ড কোম্পানির তালিকা আপনাকে তৈরি করতে হবে। আপনি যদি বড় করে কসমেটিকস ব্যবসা করবেন বলে ভাবেন তাহলে আপনাকে সমস্ত কোম্পানির ওয়েবসাইটে ঢুকে তাদের কাছ থেকে সরাসরি অল্প মূল্যে সমস্ত রকমের কসমেটিক্স প্রোডাক্ট কিনে ব্যবসা করতে পারেন। মনে রাখবেন কাস্টমার দোকানে এসে যদি বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন রকমের প্রোডাক্টের ভ্যারাইটিজ দেখতে পাই তখনই তার কেনার আগ্রহ বেশি পরিমাণে বেড়ে যায়। তাই দোকানে দোকানে বাকি সব দোকানের থেকে বেশি বেশি প্রোডাক্ট এর কোয়ালিটি এবং বেশি ধরনের প্রোডাক্ট অবশ্যই রাখতে হবে।

এছাড়াও আপনাকে আরও একটা কাজ করতে হবে সেটা হচ্ছে হাসান রিলেটেড অথবা বিউটি রিলেটেড আর্টিকেলগুলো পড়া ইউটিউব দেখা যাতে নিত্যনতুন কসমেটিকসের জ্ঞান আপনার থাকে এবং সেই কসমেটিকস যাতে আপনার দোকানে পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থাও আপনাকে করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হতে পারে আপনি যদি ব্যবসা করার সাথে সাথেই একটা কসমেটিকসের ওপর প্রাইভেট কোন দিকে নিয়ে নিতে পারেন। তাতে করে যখন কোন কাস্টমার আপনার দোকানে আসবে তাকে আপনি সঠিক কসমেটিকস দিতে পারবেন এবং সে যখন সেই কসমেটিকস ব্যবহার করে সফলতা বা উপকার পাবে সে দ্বিতীয়বার আবার আপনার দোকানে আসার চেষ্টা করবে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

কসমেটিকস ব্যবসা করতে কত পুঁজি লাগে?

উত্তর: 10 হাজার টাকা থেকে 15 হাজার টাকা কসমেটিকস ব্যবসা করতে লাগবে।

কসমেটিকস ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন?

উত্তর: কসমেটিকস ব্যবসা করতে ন্যূনতম আপনাকে 10/10 ফুটের একটা ঘর প্রয়োজন।

প্রসাধনী ব্যবসাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

উত্তর: প্রসাধনী ব্যবসাতে প্রয়োজনীয় সকল কসমেটিকস আপনি আপনার এলাকার অথবা শহরের যেকোনো বড় পাইকারি মার্কেট থেকে পেয়ে যাবেন। যেমন পশ্চিমবঙ্গের বড়বাজার, বাংলাদেশের চকবাজার পাইকারি মার্কেট।

কসমেটিকস পণ্য তালিকা কি কি?

উত্তর: কসমেটিকস পণ্যের তালিকা অনেক বড় হতে পারে কারণ পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত ব্যবহার করা প্রতিটা প্রোডাক্টটি কসমেটিকস এর মধ্যে পড়ে। কয়েকশো রকমের কসমেটিক্স প্রোডাক্ট হয়।যেমন

নেইল পলিশ
ফুট কেয়ার ক্রিম
বডি লোশন
ফেসওয়াশ
লিপস্টিক
আইলাইনার
আইশ্যাডো
টিপ ক্লিনিং স্প্রে
মাউথ স্প্রে ইত্যাদি

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

10 হাজার টাকা লাগিয়ে মাসে 50 হাজার টাকা ইনকাম করুন

পারফিউম তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment