ই-কমার্স কি? ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করুন সহজ ১৬ টি উপায়ে | What is e-commerce?| New Business Idea 2022,WOW

ই-কমার্স কি বলতে গেলে এক কথায়,এখনকার দিনে খুব কম মানুষই আছেন যারা অনলাইনে কেনাকাটা করেন না, কারণ সকলেই কমবেশি অনলাইন থেকে কেনাকাটা করে থাকেন। আর করোনা মহামারীর পর থেকে প্রত্যেকটা ফ্যামিলিতে একজন না একজন অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটা বর্তমান সময়ে অনেক বেশি পরিমাণে প্রচলিত হয়ে গেছে। এই অনলাইন শপিংয়ের জন্য মানুষ তাদের নিজেদের পছন্দের জিনিসপত্র ঘরে বসেই কিনতে পারছেন।

Table of Contents

ই-কমার্স কি?(What is e-commerce?)

ই-কমার্স কথাটির মধ্যে দুটি আলাদা আলাদা শব্দ রয়েছে ই যেখানে শব্দের অর্থ হলো ইন্টারনেট আর কমার্স শব্দের অর্থ হলো বাণিজ্য বা ব্যবসা। ই-কমার্স কে অনেক মানুষ বলেন ইলেকট্রনিক কমার্স বা ইন্টারনেট কমার্স। তবে সাধারণত ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন পণ্য কেনা-বেচা কেই ই-কমার্স বলা হয়। ই-কমার্স হল একটি অনলাইন ব্যবসার মাধ্যম যেখানে কোনো একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী কেনা এবং বেচা হয়ে থাকে। মাইক্রোসফট কোম্পানির co-founder বিল গেটস একটি সভায় বলেছিলেন ” যদি আপনার ব্যবসা ইন্টারনেটে উপলব্ধ নেই, তাহলে আপনার ব্যবসা কোন ব্যবসায় নয়”

e-commerce
ই-কমার্স কি

ই-কমার্স কে কত ভাগে ভাগ করা হয় ও কি কি?(How much is e-commerce divided into?)

ই-কমার্স ব্যবসা কে সাধারণত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। সেই চারটি ভাগ যথাক্রমে হল-

1. ব্যবসা থেকে উপভোক্তা (Business to consumer) | B2C কি?

যখন কোন ব্যবসায়ী সরাসরি কোন প্রোডাক্ট তৈরি করে কাস্টমারকে বিক্রি করে তাকে B2C বিজনেস বা ব্যবসা থেকে উপভোক্তা বিজনেস বলে। অর্থাৎ আপনি কোন রেস্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানি কিনলেন, এবং সেই রেস্টুরেন্ট বিরিয়ানি তৈরি করে সরাসরি আপনাকে বিক্রি করল , বা কোন ব্যবসায়ী আপনাকে একটা ফোন বিক্রি করল এই ব্যবসার নিয়মটাকে ব্যবসা থেকে উপভোক্তার ব্যবসা বলা হয়।

2. ব্যবসা থেকে ব্যবসা (Business to business) | B2B কি?

যখন কোন ব্যবসায়ী তার ব্যবসায় তৈরি প্রোডাক্ট গুলি অন্য ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেন এই প্রক্রিয়াটিকে B2B ব্যবসা বা ব্যবসা থেকে ব্যবসা বলা হয়। অর্থাৎ আপনার কোম্পানিতে যে জামাকাপড় তৈরি করেন আপনি, সেটি আরেকটি পাইকারি দোকানে আপনি বিক্রি করেন। আবার বলা যায় আপনি আপনার কোম্পানিতে ফেসওয়াশ তৈরি করেন সেই ফেসওয়াস টি আপনি আবার বিক্রি করেন কোন পাইকারি দোকান কে। এই পদ্ধতিটা কি বলা হয় ব্যবসায়ী থেকে ব্যবসায়ীর ব্যবসা বা B2B বিজনেস।

3. উপভোক্তা থেকে উপভোক্তা (Consumer to consumer) | C2C কি?

যখন কোনো উপভোক্তা আর একজন উপভোক্তা কে তারই ব্যবহৃত জিনিসগুলি বিক্রি করে থাকে, তাকেই উপভোক্তা থেকে উপভোক্তার ব্যবসা বা C2C বিজনেস বলা হয়। অর্থাৎ আপনি আপনার ব্যবহৃত পুরনো জিনিস গুলি যখন OLX ,Quikr এর মাধ্যমে বিক্রি করে থাকেন অন্য মানুষ কে, সেই পদ্ধতিটা কি বলা হয় C2C বিজনেস পদ্ধতি।

4. উপভোক্তা থেকে ব্যবসা (Consumer to Business) | C2B কি?

যখন কোনো উপভোক্তা তার ব্যবহৃত পণ্য কোন ব্যবসায়ীকে বিক্রি করে থাকেন তাকেই উপভোক্তা থেকে ব্যবসা বলা হয় বা C2B বিজনেস বলা হয়। অর্থাৎ আপনি আপনার ব্যবহৃত ফোনটি কোন দোকানে এক্স চেঞ্জ করে নতুন ফোন কিনলেন বা ফোন দোকানে বিক্রি করে নতুন ফোন কিনলেন। আবার বলা যায় আপনি কোন ফটো বা ভিডিও এডিট করে কোন ব্যবসায়ীকে বিক্রি করলেন এই পদ্ধতিটা কেই C2B বিজনেস পদ্ধতি বলা হয়।

নতুন ব্যবসা- বিনা পুঁজিতে মাসে আয় করুন 1 লক্ষ টাকা

কিভাবে ই কমার্স ব্যবসা শুরু করবো? (How do I start an e-commerce business?)

নতুন করে একটা ব্যবসা শুরু করা যেমন সহজ কথা নয় ঠিক তেমনি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করাটা ও খুব একটা সহজ জিনিস নয়। আবার আপনি যদি ই-কমার্স সম্পূর্ণ বুঝে যান তাহলে আপনার পক্ষে ই-কমার্স ব্যবসা করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। যেমনভাবে বর্তমান সময়ে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এইসব কোম্পানিগুলি বর্তমানে ই-কমার্স দুনিয়ায় এক বড় পদচিহ্ন ফেলে রেখেছে। তাই চলুন দেখে নেয়া যাক ই-কমার্স ব্যবসা করার জন্য সহজ ৮ টি ধাপ।

একটা নিখুঁত ব্যবসার পরিকল্পনা এবং বিজনেস মডেল তৈরি করুন (Create a perfect business plan and business model)

একটা ব্যবসা শুরু করার আগে সেই ব্যবসার জন্য কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং বিজনেস মডেল তৈরি করা দরকার। তারপর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনার ব্যবসাটি চলছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার অত্যন্ত জরুরী। ই-কমার্স ব্যবসা সম্পূর্ণ পরিকল্পনার ভিত্তিতে চলে।
ই-কমার্স ব্যবসায়ী দু ধরনের মডেল তৈরি হয়। একটা Single Vendor E-Commerce Store, আরেকটা Multi Vendor E-Commerce Store
চলুন দেখে নেয়া যাক দু’ধরনের পদ্ধতিটি।

  1. Single Vendor E-Commerce Store কি?

যখন আপনি অল্প বাজেট নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন তখন সিঙ্গেল ভেন্ডর স্টোর খুলতে পারেন। অর্থাৎ বলা যায় Single Vendor Store -এ এক ধরনের প্রোডাক্টট বিক্রি হয়ে থাকে। আপনি যদি আপনার কোম্পানিতে এক রকমের প্রোডাক্ট তৈরি করে থাকেন তাহলে আপনি আপনার ব্যবসার সুবিধার্থে Single Vendor E-Commerce Store খুলতে পারেন। এতে আপনার Advertisement এর জন্য অনেক অল্প খরচ হবে।

  1. Multi Vendor E-Commerce Store কি?

অনেকজন বিক্রেতা বা Seller তাদের তৈরী আলাদা আলাদা প্রোডাক্ট একটি ই-কমার্স সাইটে যখন বিক্রি করে তখন তাকে Multi Vendor E-Commerce Store বলে। এখানে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল কাস্টমার একই ওয়েবসাইট থেকে তাদের পছন্দমতো বিভিন্ন প্রোডাক্ট কিনতে পারে, হলে কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জন করা যায় এবং কাস্টমার বৃদ্ধি পায়। যদি কোন বিক্রেতা তার তৈরি প্রোডাক্ট কোনো কারণবশত বিক্রি করতে না পারে তখন কাস্টমার অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে সেই একই প্রোডাক্ট কিনতে পারে এর ফলে কাস্টমাররা ওই প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যেতে চায়না। আর Multi Vendor E-Commerce Store হওয়ার দরুন লাভের পরিমাণ টাও অনেক বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন নতুন ব্যবসা- ১০ টি অনলাইন ইনকাম করার উপায়

ব্যবসার সঠিক নামকরণ করুন (Properly name the business)

মনে রাখতে হবে আপনি যে ব্যাবসা করছেন সেটি ভবিষ্যতে বড় কোন ব্রান্ড হয়ে যেতে পারে। তাই ব্যবসা শুরু করার সময় আপনাকে সঠিক নামকরণ করতে হবে আপনার ব্যবসার জন্য। ব্যবসার নাম নির্বাচন করার আগে আপনাকে বেশ কয়েকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, যেমন –

  1. ব্যবসার নাম যেন ছোট হয়, যাতে মানুষ সহজে মনে রাখতে পারে।
  2. এমন একটি নাম নির্বাচন করতে হবে যা আপনার ব্যবসার কে প্রতিফলিত করে।
  3. যে নামটি নির্বাচন করতে হবে সেই নামটি যেন সম্পূর্ণ ইউনিক হয়ে থাকে।
  4. ব্যবসার নামটির অর্থ যেন সমস্ত ভাষাতে একই হয়ে থাকে বা নামের অর্থ যেন বিভিন্ন ভাষাতে আলাদা আলাদা না হয়। যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট ইত্যাদি।
e-commerce business process

ব্যবসার ধরন ঠিক করা বা Business type নির্বাচন করা।

বিভিন্ন দেশে ব্যবসার তাই ভিন্ন হতে পারে, যেমন ভারতে ব্যবসা চার ধরনের হয়ে থাকে। তাই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কেমন ব্যবসা করতে চান বা কি ধরনের ব্যবসা করতে চান।

  • Sole Proprietorship
  • One Person Company
  • Limited Liability Partnership
  • Private Limited Company

এই সমস্ত কোম্পানী গুলির নিয়ম এবং ধরন সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। তাই আপনাকে শুরুতেই ঠিক করতে হবে আপনি কি ধরনের ব্যবসা করতে চান। মানে আপনি একা ব্যবসা করতে চান, নাকি কোন পার্টনারশিপ এর ব্যবসা করতে চান, আপনি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি তৈরি করতে চান, নাকি ছোট কোম্পানি তৈরি করতে চান, সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করবে আপনি কেমন ভাবে কি ধরনের ব্যবসা করতে চাইছেন।

ই-কমার্স ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন কিভাবে করা হয়?, আপনি আপনার ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করুন।

যে কোন ব্যবসা করতে গেলে প্রত্যেকটা ব্যাবসায়ী ব্যবসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হয় সরকারের কাছে। তাই আপনাকে ও আপনার ব্যবসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
আপনি যদি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি তৈরি করতে চান তার জন্য রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে Ministry of Corporate Affairs এর অনলাইন ওয়েবসাইটে গিয়ে। DIN (Director Identification Number) ফর্ম ফিলাপ করে।
এর জন্য Pan CardDSC (Digital Signature Certificate) থাকাটা জরুরী। তারপর আপনি যখন DIN সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন তখন এই সার্টিফিকেট চেক করার জন্য বা সরকারের কাছে আপনার কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা দেখার জন্য আপনাকে ROC ( Registration Of Companies) জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। সম্পূর্ণ পদ্ধতি গুলি অনলাইনের মাধ্যমে হবে।

ছয় মাস সময় লাগবে সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া হতে। এই ছয় মাসের মধ্যে আপনি চাইলে আপনার কোম্পানীর জন্য আরো কিছু রেজিস্ট্রেশন তৈরি করে নিতে পারেন। আপনার কোম্পানীর জন্য যেসকল রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে সেগুলি হল-

  • GST (Goods and Service Tax) রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
  • ট্রেড লাইসেন্স (Establishment License)
  • PF বা Provident Fund
  • ESIC (Employees State Insurance Corporation)

সমস্ত রেজিস্ট্রেশন গুলি অনলাইন লিংক সহ দেয়া হলো।
এই সমস্ত লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন গুলি আপনি পেয়ে গেলেই আপনি খুব সহজেই আপনার ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন। তা না হলে সরকার পক্ষ থেকে বিভিন্ন আইনি জটিলতার মধ্যে আপনার ব্যবসাকে পড়তে হতে পারে।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন। (Create an e-commerce website)

ই-কমার্স ব্যবসা করার জন্য আপনার গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি দরকার সেটি হল একটি ওয়েবসাইট। তাই আপনি যদি নিজে থেকে যান একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে, তাহলে আপনি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলুন। আর আপনি যদি ওয়েবসাইট তৈরি করতে না পারেন তাহলে কোন ওয়েব ডিজাইনারের সাহায্য নিতে পারেন। বর্তমানের সামান্য ওয়েবসাইট সম্পর্কে নলেজ যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে আপনি বিভিন্ন Pre-Built Platform(WordPress,Wix) এই ধরনের ওয়েবসাইটের সাহায্য নিয়ে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে পারেন।Pre-Built Platform প্ল্যাটফর্ম গুলিতে অনেক ধরনের template পাওয়া যায়, তাই খুব অল্প পরিশ্রমে আপনি নিজেই ওয়েবসাইট বানাতে পারেন। তবে সেই ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য হতে পারে কোন ওয়েব ডিজাইনারের দরকার পড়ে।

আরো পড়ুন- টিস্যু ব্যাগ তৈরির ব্যবসা করে মাসে আয় 1 লক্ষ টাকা

আবার আপনি চাইলে বর্তমানে Scratch Website (WooCommerce, Shopify) ওয়েবসাইটগুলির সাহায্য নিয়ে আপনার ই-কমার্স ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন।
আপনার নিজেকে ঠিক করতে হবে আপনি নিজের ওয়েবসাইটে ই-কমার্স ব্যবসা করবেন নাকি অলরেডি থাকা পপুলার ওয়েবসাইটগুলো সাহায্য নিয়ে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন। তাই আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার পরেই আপনি ঠিক করুন আপনি ওয়েবসাইট বানাবেন, নাকি তৈরি ওয়েব সাইটে কাজ করবেন। তার জন্য যতটা সময় লাগে লাগুক কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

কোম্পানির নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করুন

ব্যবসা শুরু করার পাশাপাশি আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, আপনার যে নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট টি রয়েছে, সেই ব্যাংক একাউন্ট এর সাহায্যে আপনি ব্যবসা শুরু করলেও ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন না। কারণ ব্যবসায় কিছু নিয়ম থাকে তার জন্য আপনাকে আপনার ব্যবসার নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে। যেহেতু আপনি ই-কমার্স ব্যবসা করতে চলেছেন তাই ই-কমার্স ব্যবসা তে অনলাইন পেমেন্ট হয়ে থাকে তাই আপনার ব্যাংকে সরাসরি টাকা আসবে। Bank account টা তাই কোম্পানির নামে খুলতে হবে আপনাকে।

পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরি করুন (Create Payment Gateway)

ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে যাবার পর সেই ওয়েবসাইটটি আরো লাভজনক এবং জনপ্রিয় করার জন্য চালু করুন পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম। ওয়েবসাইট এর মধ্যে Payment Option রাখতে হবে, যেমন-ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং UPI ও ক্যাশ অন ডেলিভারি ইত্যাদি।আপনার ওয়েব সাইটে পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম চালু করার জন্য আপনাকে কিছু ডকুমেন্ট জমা করতে হবে।

  • Bank Account
  • PAN card
  • CIN(Certificate of Incorruption)
  • AOA(Article Of Association)
  • MOA(Memorandum Of Association)
  • Identity Proof
  • Address Proof
How do I start an e-commerce business
কিভাবে ই কমার্স ব্যবসা শুরু করবো?


এই সব ডকুমেন্টস আপনার থাকলে তবেই আপনি ওয়েব সাইটের মধ্যে Payment Gateway সিস্টেম চালু করতে পারবেন।

হোম ডেলিভারির সুবিধা (Home Delivery Facility)

আপনি যদি আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মধ্য হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করে থাকেন তাহলে অনেক কাস্টমার আপনার বাড়বে। কারণ বর্তমান সময়ে মানুষের সময় অনেক দামি হয়ে গেছে। তাই যদি আপনার হোম ডেলিভারি সুবিধা অন্য আর দশটা কোম্পানির মতই সুন্দর হয়ে থাকে তাহলে কাস্টমাররা আপনার ওয়েবসাইটের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবে। আর বাকি বড় কোম্পানির মত আপনারও ওয়েবসাইটটির মধ্য কাস্টমার অর্ডার করার পর অর্ডারটি কাস্টমারের হাতে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত সমস্ত তথ্য যেন ট্র্যাক করার ব্যবস্থা থাকে। এতে কাস্টমারের আকর্ষণ অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি হয়। কাস্টমার অর্ডার করার পরে সেই অর্ডারটা কাস্টমারের হাতে কখন পৌছাবে এই ট্রাকিং পরিষেবাটি আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে অবশ্যই থাকাটা জরুরী।

প্রোডাক্ট রিটার্ন এবং এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থা (Product Return and Exchange Arrangements)

বর্তমান সময়ে মানুষ যেহেতু অনলাইনে অর্ডার করছি সমস্ত প্রোডাক্ট, তাই কোন কারনে প্রডাক্ট ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রোডাক্ট হাতে আসার পরে যদি কাস্টমারের পছন্দ না হয়, তাহলে কাস্টমার যেন রিটার্ন বা এক্সচেঞ্জ করতে পারে, এই ব্যবস্থাটাও যেন আপনার ওয়েবসাইটে অবশ্যই থাকে এটা নজর রাখবেন।
কারণ বাকি সব কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটে এক্সচেঞ্জ ওর রিফান্ডের অপশনটি খুব ভালোভাবে রেখেছে। এতে কাস্টমার অনেক বেশি ভরসা পাই সেই কোম্পানির ওয়েবসাইট এর প্রতি। তাই আপনাকে ও আপনার ব্যবসার সুবিধার্থে কাস্টমারের আকর্ষণ বেশি পরিমাণে আপনার দিকে আকর্ষিত করার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে বাকি অন্য বড় ওয়েবসাইটগুলির মত সমস্ত সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে।

ই-কমার্স মার্কেটিং কিভাবে করা হয়? (How is e-commerce marketing done?)

আপনি যদি ভেবে থাকেন ওয়েবসাইটটি খোলার সাথে সাথেই প্রচুর পরিমাণে কাস্টমার এবং অর্ডার পেতে থাকবেন তাহলে আপনার ধারনাটি সম্পুর্ন ভুল। কারণ আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট টি মধ্য যতক্ষণ পর্যন্ত কাস্টমার না আসে বা ট্রাফিক নাচে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার লাভ সম্ভবই নয়। এইজন্য আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটটি কে নিয়ে যথেষ্ট বেশি পরিমাণে মার্কেটিং এর দিকে নজর দিতে হবে, অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটটি Advertisement করাটা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে দরকার।
আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে ট্রাফিক বা কাস্টমার আনার জন্য কিছু পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। আর সেইসব পদ্ধতি গুলি হল-

এসসিও মার্কেটিং পদ্ধতি (SEO marketing method)

যেকোন ওয়েবসাইট রেঙ্ক করানোর জন্য মূল যে জিনিসটির দরকার সেটি হল SEO (Search Engine Optimization)। আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে কাস্টমার আনার জন্য আপনার SEO strategy ঠিক রাখতে হবে। আমরা যখন গুগলে কোন কিছু সার্চ করি তখন যেসব ওয়েবসাইটগুলি সামনে আসে বুঝতে হবে তাদের SEO অনেক বেশি ভালো বাকি অন্য নিচে থাকা ওয়েবসাইটগুলির থেকে। তাই আপনাকেও আপনার ওয়েবসাইটের প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য আলাদা আলাদা SEO রেডি করতে হবে।

সঠিক কীওয়ার্ড নির্বাচন করুন (Choose the right keywords)

আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইট কে গুগল সার্চের মধ্যে নিয়ে আসতে চান তাহলে আপনার কীওয়ার্ড এর ওপর একটু বেশি জোর দিতে হবে। তার জন্য আপনি চাইলে গুগলে Keyword Research Tool ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া আপনি চাইলে আপনার নিজের মনের মত কীওয়ার্ড রাখতে পারেন।
তবে মনে রাখবেন এমন কীওয়ার্ড রাখতে হবে যেটা মানুষজন বেশি করে সার্চ করে, এবং যে কীওয়ার্ড মানুষজনের কাছে বেশি সুপরিচিত।

নতুন ব্যবসা- ব্যবসা করুন মাত্র 600 টাকা দিয়ে

ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন দিন (Advertise Website)

বর্তমান সময়ে দ্রুত কাস্টোমারের কাছে পৌঁছানোর জন্য অ্যাডভার্টাইজমেন্ট বা বিজ্ঞাপন একটি অত্যান্ত জরুরী বিষয় ব্যবসার ক্ষেত্রে। ই-কমার্স ব্যবসা করার জন্য আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে গুগোল অথবা ফেসবুকের মাধ্যমে। আপনি যদি আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট টি দ্রুত কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে চান তাহলে Advertise একমাত্র ভরসা আপনার জন্য। খুব অল্প খরচা করে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। একবার কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটে আসা শুরু করলে, তখন বিভিন্ন অফারের মাধ্যমে সেই কাস্টমারকে আপনার ওয়েবসাইটে রাখার দায়িত্ব আপনার।

এছাড়া আপনার কাছে যদি বেশি অর্থ না থাকে তাহলে আপনি পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। পুরনো পদ্ধতি বলতে প্রফেশনাল ব্লগার ইউটিউবারদের আপনি রিকোয়েস্ট করতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটটি প্রমোশন করানোর জন্য। আপনি কোন নিউজপেপারে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দিতে পারেন। ইউটিউবার বা প্রফেশনাল ব্লগার রা তাদের পোস্টে আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে কিছু লিখবে, যাতে ট্রাফিক বেশি আসা শুরু হয়। আর ইউটিউবাররা ভিডিও তৈরি করবে আপনার ওয়েব সাইট মানুষজনদের কাছে পৌঁছানোর জন্য।
এইসব পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি দ্রুত আপনার ওয়েবসাইটটি মানুষজনদের কাছে বা কাস্টমারের কাছে নিয়ে যেতে পারবেন।

ই-কমার্স ব্যবসা করার সমস্যা

বর্তমান সময়ে ই কমার্স ব্যবসা একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করে দিতে পারে। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে এই কম্পিটিশন মার্কেটে আপনিও যদি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেন, যদি সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন না করেন তাহলে আপনি ই-কমার্স ব্যবসা করতে পারবেন না।
বর্তমানে বহু জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে মার্কেটে। তাই আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট টি যদি সেইসব জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলোর তুলনায় উন্নত না হয় তাহলে আপনাকে সর্বদা পিছিয়ে থাকতে হবে। তাই আপনাকে বলব আপনার ব্যবসাটি ই-কমার্স ব্যবসা করার জন্য সঠিক জ্ঞান এবং সঠিক প্ল্যানিং এর মধ্য দিয়ে করুন। দরকার হলে কয়েক মাস ভাবার সময় নিন এবং রিচার্জ করুন কয়েক মাস ধরে তারপরই ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করুন। নিজের ওপর ভরসা রাখুন আর মনের আনন্দে ব্যবসা করে যান।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

বোতল ক্লিনিং ব্রাশ তৈরির ব্যবসা

মশলা তৈরির ব্যবসা

Leave a Comment