আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা 1 লক্ষ টাকা লাভ (Potato Chips Making Business) amazing ideas

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা সারা বছর তো চলবে ভবিষ্যতেও আপনার এই ব্যবসা কোনদিনও বন্ধ হবে না। ছোট থেকে বয়স্ক সমস্ত মানুষের পছন্দ আলুর চিপস। আপনি যদি আলুর চিপস এর ব্যবসা করতে চান তাহলে আর বেশি দেরি না করে এখনি ব্যবসা শুরু করুন। খুব অল্প পুঁজি লাগিয়ে আপনি চাইলে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং পরবর্তী কালে ব্যবসা বৃহত্তর হয়ে গেলে আপনি বেশি বুঝি লাগিয়ে বৃহৎ বড় কোম্পানি তৈরি করতে পারেন।

Table of Contents

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ হয়?

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা করতে খুব সামান্য টাকা খরচ হবে আপনার। মাত্র 25 হাজার টাকা খরচ করে আপনি শুরু করতে পারেন এই ব্যবসা। পরবর্তীকালে ব্যবসার একটু বড় করার জন্য আপনি ব্যবসাতে আরো কিছু টাকা ইনভেস্ট করে এই ব্যবসাতে আরো অত্যাধুনিক মেশিন লাগিয়ে এই চিপস তৈরির ব্যবসা করতে পারেন। সম্পূর্ণ মেশিন কিনে আপনার এই ব্যবসা করতে খরচ হবে 80 হাজার টাকার মতো।

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা
আলুর চিপস

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসায় কাঁচামাল কি কি লাগে?

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসায় কাঁচামাল বুঝতেই পারছেন আলু লাগছে।
আপনি চাইলে আলু একসাথে অনেক বস্তা কিনে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন তাহলে আলুর প্রতি কেজির দাম অনেক কমে পড়বে আপনার।
আলু ভাজার জন্য তেল লাগবে।
এবং আপনার পছন্দমত সুন্দর মসলা লাগবে চিপস তৈরির ব্যবসা করতে।

চিপস তৈরির ব্যবসার কাঁচামাল কোথা থেকে কিনবেন?

আপনার নিকটবর্তী যেকোনো বাজার থেকে আপনি চাইলে বস্তা বস্তা আলু সহ সমস্ত কাঁচামাল কিনতে পারেন খুবই কম দামে। এছাড়া যে সকল গাড়ি আপনার নিকটবর্তী বাজারে আলু নামায় সেই সকল গাড়ির সঙ্গে কথা বললে তারা আপনাকে গাড়ি থেকেই সরাসরি আলু নামিয়ে দেবে এবং অন্য ব্যবসায়ীদের থেকে অনেক কম দামে আপনি গাড়ি থেকে সরাসরি আলু কিনতে পারেন।
এবং বাকি সকল কাঁচামাল আপনি নিকটবর্তী মুদিখানা এবং হোলসেল দোকান থেকে কিনে নিতে পারেন।

চিপস তৈরির ব্যবসা করতে কত বড় জায়গার প্রয়োজন হয়?

একদম ছোট্ট জায়গা হলেই আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন অর্থাৎ আপনার ঘরের সাইজের একটি ঘর কিংবা আপনার রান্না ঘরের মধ্যেও আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।আসলে এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন সামগ্রী খুবই ছোট ছোট হয়ে থাকে যা একটি টেবিলের মধ্যে রেখে আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন শুধুমাত্র ভাজার জন্য একটি করা লাগে যা আপনি আপনার রান্নাঘরের করাতেও করতে পারেন।

চিপস তৈরির মেশিন কি কি লাগে?

আলুর চিপস তৈরি করার জন্য আপনার প্রথমত লাগবে পটাটো পিলার মেশিন।
আর লাগবে স্লাইসার মেশিন।
অয়েল কন্ট্রোলার মেশিন এবং অটোমেটিক প্যাকেট সিলিং মেশিন।
এই সকল মেশিন গুলি হলেই আপনি খুব সহজেই ব্যবসা করতে পারেন।

তৈরির মেশিন
চিপস তৈরির মেশিন

চিপস তৈরির মেশিনের দাম কত?

চিপস তৈরির মেশিনের দাম বিভিন্নতর হয়ে থাকে। যেমন-
পটাটো পিলার মেশিন-20-25 হাজারের মধ্যে।
স্লাইসার মেশিন- 20 হাজার টাকা।
অয়েল কন্ট্রোলার মেশিন- 10-15 হাজার টাকা
অটোমেটিক প্যাকেট সিলিং মেশিন-20-25 হাজার টাকা।

এইসব মেশিন হলে আপনি খুব সহজেই আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।যদি আপনি অটোমেটিক চিপস তৈরির মেশিন কিনতে চান তাহলে কিনতে পারেন। অটোমেটিক চিপস তৈরির মেশিনের আপনাকে শুধুমাত্র আলু টি কন্টেইনারে দেওয়ার সাথে সাথেই চিপস তৈরি হতে থাকবে কিন্তু এই মেশিনের দাম অনেকটা বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে।

চিপস তৈরির মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়? (Where can I buy a machine to make chips?)

চিপস তৈরির মেশিন কেনার জন্য আপনি আপনার নিকটবর্তী বড় হোলসেল মার্কেট থেকে পেয়ে যাবেন। ইন্ডিয়ামার্ট ওয়েবসাইট থেকেও আপনি যেকোন মেশিন কিনতে পারেন। এছাড়া যে মেশিন বিক্রেতা মেশিন তৈরি করে থাকে সেই বিক্রেতার কাছ থেকে সরাসরি আপনি এই চিপস তৈরির মেশিন কিনতে পারেন। এইরকম বিক্রেতাদের নাম্বার আমি নিচে দিয়ে দিলাম।
7548950003 / 7548950004 এই ফোন নাম্বারে ফোন করে আপনি সরাসরি মেশিন কোম্পানির কাছ থেকে মেশিন কিনতে পারেন। বাংলাদেশীয় মেশিন বিক্রয় করে থাকে এই বিক্রেতা।

কিভাবে চিপস তৈরি হয়?( kivabe chips toiri hoi )

প্রথমে আলু গুলি নিয়ে পটাটো পিলার মেশিন এর ভেতরে দিয়ে দিন। পটাটো পিলার মেশিনের দ্বারা আলু সুন্দর ভাবে চলে যাবে অর্থাৎ আলুর ছাল ছোলার জন্য এই মেশিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আলুর ছাল পরিষ্কার হয়ে গেলে, সেই আলু গুলি নিয়ে একবার জলে ধুয়ে নিয়ে স্লাইসার মেশিন এর মধ্য দিয়ে দিতে হবে।
স্লাইসার মেশিনের দ্বারা আলু গুলো খুব সুন্দর আকারের কেটে বাইরে চলে আসবে । শুধু মনে রাখতে হবে আলু স্লাইসার মেশিনে দেওয়ার পরে বেশি পরিমাণে জল স্লাইসার মেশিনের মধ্য দিয়ে দিতে হবে। এবং এই জলগুলো দেওয়ার জন্য আলু কোন ভাবে আটকে যাবেনা স্লাইসার মেশিনের মধ্যে।

চিপস তৈরি
চিপস তৈরি


এরপর ওই কাটা আলর টুকরোগুলি চাইলে আপনি শুধুমাত্র জল ঝরিয়ে তেলের করায় ভাজতে পারেন। তা না হলে আপনি চাইলে আলু গুলিকে সামান্য হাওয়াতে রেখে শুকনো করে অথবা সামান্য রোদে রেখে জলগুলো শুকনো করে, ঝরঝরে হয়ে যখন যাবে তখন নিয়ে তেলের করাই ভাল করে ভেজে নিতে পারেন।
তেলে ভেজে নেবার পর এই তৈরি হয়ে যাবে আপনার চিপস।


এরপর চিপস এর মধ্যে যে বাকি তেলটা রয়েছে সেইটা ছাড়ানোর জন্য অয়েল কন্ট্রোলার মেশিন এর মধ্য দিয়ে দিন।
ওয়েল কন্ট্রোলার মেশিন সমস্ত তেল বার করে দেবে এবং শুধুমাত্র চিপসটা মেশিনের মধ্যে পড়ে থাকবে। এরপর চিপস এর মধ্যে আপনার মনের মত যে মসলা, আপনি যেমন চান চানাচুর মসলা তৈরি সেই মসলা মিশিয়ে প্যাকেজিং করতে পারেন।
অটোমেটিক প্যাকেট সিলিং মেশিন এর মধ্যে চিপসগুলো দিয়ে দিলে, চিপস এর পরিমাণ অনুযায়ী প্যাকেট অটোমেটিক ভর্তি হয়ে যাবে। এবং তা বাজারে বিক্রি করার জন্য তৈরি হয়ে যাবে।

রোদে শুকানো আলুর চিপস তৈরি

স্লাইসার মেশিন দিয়ে আলু কেটে বেরিয়ে আসার পর, সেই আলু গুলোকে রোদে সুন্দর করে শুকনো করে নিতে হবে। শুকনো করা হয়ে গেলে সেই আলু গুলি সামান্য তেলে ভেজে নিয়ে কন্ট্রোলার মেশিন দ্বারা সেই সামান্য তেল বের করে দিতে হবে। এবং অয়েল কন্ট্রোলার মেশিন এর পড়ে থাকবে শুধু আলুর চিপস গুলি, তার মধ্যে আপনি মসলা মাখিয়ে প্যাকেট তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন এবং এটা হবে শুধুমাত্র রোদের শুকনো আলুর চিপস।

শুকানো আলুর চিপস
রোদে শুকানো আলুর চিপস

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স লাগে?

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা করার জন্য প্রথমত আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।
এরপর আপনি যেহেতু খাবারের প্রোডাক্ট বানাচ্ছেন তার জন্য FSSAI(ফুড লাইসেন্স) নিতে হবে।
এই সমস্ত লাইসেন্স গুলি আপনি চাইলে বর্তমান সময়ে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন এর মধ্যেও পাওয়া যায়।
এছাড়া পঞ্চায়েত অফিস বিডিও অফিস কিংবা কর্পোরেশন থেকে এই সমস্ত লাইসেন্স পাওয়া যায়।
আপনার ব্যবসায় যখন আপনি মাসে দু লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন তখন আপনাকে একটি GST লাইসেন্স নিয়ে নিতে হবে।

চিপস তৈরির ব্যবসা করতে কি কোন ইন্সুরেন্স করতে হয়?

যে কোন ব্যবসা করতে হলে সেই ব্যবসা করার পরে পরেই ব্যবসার জন্য একটি ইন্সুরেন্স করে নেওয়া উচিত। কারন কেউই বলতে পারে না ব্যবসায় কখন কোন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই আপনিও আপনার ব্যবসা শুরু করার পরেই আপনার ব্যবসার জন্য একটি ইনসুরেন্স করে রাখবেন। যাতে আপনার ব্যবসায় যদি কোনো বড় ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে পারেন।

চিপসের প্যাকেজিং কিভাবে করতে হয়?

যে কোন ব্যবসার যে প্রোডাক্ট গুলি আমরা দেখি, প্রত্যেকটা প্রোডাক্টে যদি চোখে না লাগে মানুষ সেটি কিনতে চায় না। তাই প্যাকেজিং জিনিসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আপনি চাইলে বাজার থেকে রেডিমেট প্যাকেট কিনতে পারেন কিনে তার মধ্য চিপস ভর্তি করে বিক্রি করতে পারেন। আবার আপনি চাইলে আপনার কোম্পানির নাম সহ সুন্দর ছবি লাগিয়ে প্যাকেট ছাপিয়ে, সেই প্যাকেটের মধ্যে চিপস ভর্তি করে, চিপস গুলি প্রত্যেকটা প্যাকেট মোটা কার্ড মলাটের কার্টুনের ভেতর ভরে দোকানে বিক্রি করতে পারেন।

চিপসের মার্কেটিং কিভাবে করা হয়? (How to market chips)

চিপস এর মার্কেটিং দু’ধরনের পদ্ধতিতে করা হয়ে থাকে । একটি অফলাইন বা পাইকারি মার্কেটিং, আরেকটা অনলাইন মার্কেটিং।
দুই প্রকারের মার্কেটিং যদি আপনি না করতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসায় লাভ করা সম্ভব হবে না। বাকি অন্য ব্যবসায়ীরা সকলেই এই দুই প্রকার মার্কেটিং করে থাকছে বর্তমান সময়ে।

চিপসের পাইকারি ব্যবসা কিভাবে করা হয়?

চিপসের প্যাকেট গুলি আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী মার্কেট এর সমস্ত দোকানদারদের বিক্রি করতে পারেন। অথবা যেসকল হোলসেলার রয়েছে তাদের কাছে আপনি পাইকারি রেটে বিক্রি করতে পারেন সমস্ত প্যাকেট গুলি। এছাড়া যে বড় হোলসেল মার্কেট আছে, সেই হোলসেল মার্কেটের দোকানে আপনি বেশি পরিমাণে প্যাকেট বিক্রি করতে পারেন।আপনি চাইলে নিজে থেকেই সাইকেলে করে চিপসের প্যাকেট গুলি গ্রামের প্রতিটি দোকানে হোলসেল রেটে বিক্রি করতে পারেন।

চিপসের অনলাইন ব্যবসা কিভাবে করা হয়?

বর্তমান সময়ে অনলাইন মারকেটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং। এবং সকল ব্যবসায়ীরা অনলাইন ব্যবসা করে থাকছে।
প্রথমে আপনাকে অনলাইন যে সাইট গুলি রয়েছে যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইন্ডিয়ামার্ট এই ধরনের সব সাইটে একটি করে বিজনেস একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর সেই বিজনেস একাউন্ট এর মধ্যে আপনি আপনার কোম্পানির তৈরি সমস্ত প্রোডাক্ট এর ছবি সহ বিবরণ দেবেন। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই আপনার অনলাইন থেকে একটা বড় সংখ্যক প্রোডাক্ট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এবং এই ভাবে আপনি যদি ব্যবসা করেন তাহলে অনলাইনে থেকেও আপনি অনেক লাভ করতে পারবেন আপনার ব্যবসায়।

potato slicer
চিপস তৈরির মেশিন

আলুর চিপস তৈরির ব্যবসায় লাভ কত?( Alur chips toirir babsai lav koto )

চিপস তৈরীর ব্যবসায় লাভ অনেক বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে। এক প্যাকেট চিপস তৈরি করতে খরচ হয় 2 থেকে 3 টাকা। সেই প্যাকেট বাজারে বিক্রি করতে পারেন 5 থেকে 10 টাকা হোলসেল দামে।
প্রতিদিন আপনি যদি হাজার প্যাকেট বিক্রি করতে পারেন মার্কেটে। তাহলে প্রতিদিন আপনি 3000 টাকা কম করে লাভ করতে পারেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে আপনি 1 লক্ষ টাকার বেশি ইনকাম করতে পারেন এই ব্যবসা থেকে।

চিপস তৈরির ব্যবসা করতে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?

প্রথমত আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে আপনার প্রোডাক্টের কোয়ালিটি যেন বাকি অন্য সব প্রোডাক্ট এর থেকে খারাপ না হয়।
দ্বিতীয়তঃ আপনাকে দেখতে হবে মার্কেটিং টা যেন অনেক ভাল ভাবে করা হয়। তা না হলে বর্তমান সময়ে বহু কোম্পানি এই মার্কেটে অলরেডি রয়েছে তাদের সাথে কম্পিটিশন করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না।
তৃতীয়তঃ দামের দিকটাও আপনাকে নজরে রাখতে হবে। অর্থাৎ প্রথমে অল্প লাভ রেখে আপনার প্রোডাক্ট গুলি মার্কেটে বিক্রি করুন। যাতে পুরো মার্কেট টা আপনি ধরতে পারেন। এবং আপনার প্রোডাক্ট গুলি সকলে কিনে নেয় নিজে থেকেই

তুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া পেতে দেখুন-

বাটার পেপার এর ব্যবসা

স্ক্রাবার তৈরির ব্যবসা

10 thoughts on “আলুর চিপস তৈরির ব্যবসা 1 লক্ষ টাকা লাভ (Potato Chips Making Business) amazing ideas”

Leave a Comment