আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা কিভাবে খুলবেন? | How to open ayurveda medicine business?, 1no Successful Ideas

আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা শুধু এখন নয় বহু প্রাচীন সময় থেকে চলে আসছে। যখন মানুষ অন্য কোন ওষুধের ব্যবহার শেখে নি তখন থেকে আয়ুর্বেদ ওষুধ ভারতের মানুষের জীবন রক্ষা করছে। আয়ুর্বেদ এর জন্ম মধ্য বিংশ শতাব্দীর আগে থেকে। যখন ভারতে মুনি-ঋষিদের সময় ছিল সেই মুনি-ঋষিদের হাত ধরেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্র জন্ম নিয়েছে। বর্তমানেও মানুষজন আয়ুর্বেদ এর ওপর অনেক ভরসা করে। হলে আপনি যদি আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করেন, তাহলে আপনি প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকাও আয় করতে পারেন।

বর্তমানে ভারতের আয়ুর্বেদ পৃথিবীজুড়ে তার নাম অর্জন করেছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র জন্মের পর থেকেই দেশে-বিদেশে তার সুনাম অর্জন করেছে। এমন কিছু কিছু ভারতের আয়ুর্বেদ ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা তাদের ব্যবসাকে শুধু ভারতে না পৃথিবীর কোনায় কোনায় নিয়ে গেছেন। আপনিও যদি আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা এই রকম হবে বড় করতে চান তাহলে অবশ্যই আয়ুর্বেদ শাস্ত্র সম্পর্কে আপনার ন্যূনতম ধারণা তৈরি হওয়া দরকার। সেই জন্য আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করার যাবতীয় তথ্য গুলি দেওয়া হল।

ayurveda medicine business
আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা

Table of Contents

আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ হয়?

আয়ুর্বেদ ওষুধ যেহেতু গাছগাছালি থেকে তৈরি হয় তাই আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে খুব বেশি পুঁজি আপনাকে খরচ করতে হবে না। তবে ছোট করে আপনি যদি আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকান দেন অথবা ব্যবসা করেন তাহলে আপনার খরচ হবে ন্যূনতম 10 থেকে 15 হাজার টাকা। আবার আপনি যদি বড় বৃহৎ আকারের আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা পাইকারি ভাবে করতে চান তাহলে আপনার খরচ হবে 2 লক্ষ থেকে 5 লক্ষ টাকার মধ্যে।

আর আপনি যদি একাধিক আউটলেট বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি দোকান করে ব্যবসা করেন তাহলে আপনার খরচ হবে দশ লক্ষ থেকে কুড়ি লক্ষ টাকার মধ্যে। ব্যবসা বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন পদ্ধতিতে করা যায় আপনি যে ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করবেন সেই অনুযায়ী খরচের পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকবে। অনলাইন পদ্ধতিতেও বর্তমানে আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করা যায়। ব্যবসা করতে যে পরিমাণ পুঁজি আপনাকে খরচ করতে হবে সেটা এলাকা বিবেচনায় ভিন্ন হতে পারে।

আয়ুর্বেদ ওষুধের ডিলারশিপ নিতে হলে আপনাকে 5 থেকে 15 লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে। কিছু কিছু কোম্পানি ফ্রিতে ও ডিলারশিপ দিয়ে থাকে সেই সব কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে আয়ুর্বেদিক ওষুধ গুলি আপনি ব্যবসা করতে পারেন।

এছাড়া আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে হলে যদি আপনাকে দোকান ভাড়া নিতে হয়, এলাকা বিবেচনায় দোকানের ভাড়া যেমন হবে সেই অনুযায়ী টাকা আপনার খরচ হবে দোকান ভাড়া করার জন্য।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের জন্ম কিভাবে হয়? (How is Ayurveda born?)

হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র ‘বেদ’ এর একটি পাট ‘অথর্ববেদ’, এই অথর্ববেদের চিকিৎসা বিদ্যায় বর্ণিত চিকিৎসায় মূলত আয়ুর্বেদ নামে পরিচিত ।যখন পৃথিবীতে এখনকার মত এত ওষুধের জন্ম হয়নি, তখন মানুষের রোগ নিরাময়ের জন্য মুনি-ঋষিরা বিভিন্ন গাছগাছালির পাতা, মূল থেকে সেই সব রোগ নিরাময়ের জন্য ওষুধ তৈরি করা শুরু করেন। এই ওষুধগুলি বর্তমানের আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে পরিচিত। যখন কোন কিছু ওষুধ তৈরি করা হতো তখন সেইসব ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়া লিখে রাখা হতো, সেই সম্মিলিত লেখাগুলিকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বলা হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ৫০০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা কে বর্তমানে অনেকে ‘হারবাল চিকিৎসা’ বলে চিনে থাকেন।

অবশ্যই পড়ুন- অল্প পুজিতে ওষুধের ব্যবসা

আয়ুর্বেদ মেডিসিন স্টোর কিভাবে খুলবেন? (How to open Ayurveda Medicine Store?)

আমরা সবাই জানি আয়ুর্বেদ চিকিৎসার জন্ম 5000 বছরের পুরনো সময় থেকে চলে আসছে। মানুষের মধ্য আজও আয়ুর্বেদ এর উপর ভরসা প্রবল। আপনি যে স্থানে বাস করেন সেখানকার মানুষজনদের কাছে যদি আপনি একটু জানতে চান আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সম্পর্কে, তাহলে আপনি দেখবেন প্রত্যেকেই কম-বেশি আয়ুর্বেদ সম্পর্কে জানে, কিন্তু সবার কাছেই আয়ুর্বেদ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। তবে সবাই বিশ্বাস করে যে রোগ বর্তমানের অ্যালোপ্যাথি অথবা হোমিওপ্যাথি ওষুধে সারাও দুঃসাধ্য হয়ে যায়, সেই রোগ আয়ুর্বেদ ওষুধের দ্বারা ভালো হয়ে যায়।

ভারত সরকার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার বিস্তারের জন্য ভারতে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য নতুন করে মন্ত্রালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। আপনি যে গ্রামে থাকেন যে শহরে থাকেন সেই শহর-গ্রামের কাছাকাছি যদি কোন আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান না থেকে থাকে তাহলে আপনি একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান দিতে পারেন। এইভাবে আপনার আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবসা বৃদ্ধি লাভ করতে পারে। যেহেতু মানুষের মধ্যে আয়ুর্বেদিক ওষুধ খাবার প্রবণতা অনেক বেশি পরিমাণে আছে তাই আপনি যদি আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবসা শুরু করেন তাহলে সত্যিই আপনি লাভবান হবেন।

শহরের বড় বড় হাসপাতাল থেকে শুরু করে এখনের গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ সরকার থেকেই করছে। সুতরাং আপনি বুঝতেই পারছেন ভারত-বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে আর বেদ শাস্ত্র কতটা জনপ্রিয়। তাই আপনি যদি আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখতে পারবেন।

আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকান কোথায় করা যায়? (Where can I get Ayurveda drug store?)

আপনি যেখানে বাস করেন তার কাছাকাছি যদি কোন বড়বাজার থাকে আপনি সেই বাজারের মধ্যে আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান করতে পারেন। আবার আপনি যে গ্রামে থাকেন সেই গ্রামের কোন জয়েন্ট মরে ওষুধের দোকান করতে পারেন।
আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার এলাকাতে যেখানে আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান আছে তার কাছাকাছি না করে যে এলাকাতে নেই আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান সেখানে ব্যবসা করতে হবে।

শহরে যদি আপনার বাড়ির হয় তাহলে আপনি আপনার এলাকার যে কোন জায়গাতে ব্যবসা করতে পারেন। গ্রামের থেকে শহরে যেহেতু মানুষজনের সংখ্যা বেশি তাই আপনি যেখানেই আর দোকান করুন না কেন সেখানেই আপনি ব্যবসাটি বড় করতে পারবেন।
এছাড়া আপনি জনবহুল ব্যস্ত এলাকাতে ব্যবসা করতে পারেন। অনিক সরকারি হসপিটালের ডাক্তার রা যেসকল আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রেসক্রিপশনের দেন সেই ওষুধগুলো কেনার জন্য রোগীরা বিভিন্ন দোকানে খোজ করেন তাই আপনি চাইলে কোন সরকারি হসপিটালের বাইরে আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান করতে পারেন।

কেন আয়ুর্বেদিক দোকান করবেন?

আমরা সবাই জানি বর্তমানে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ, হোমিওপ্যাথি ওষুধ মানুষ খেলেও আয়ুর্বেদিক ওষুধের প্রতি একটি ভালোবাসা রয়ে যায়। বর্তমানে অ্যালোপ্যাথি ওষুধের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে কিন্তু আয়ুর্বেদ ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না। তাই মানুষের মধ্য আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ওষুধগুলো মানুষের রোগ নিরাময় করতে করতে মানুষের শরীরকে দুর্বল করে তোলে। যার কারণে মানব শরীর প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শারীরিক ক্ষতির দিকে ঝুকে যায়।

সেই দিক থেকে দেখলে আয়ুর্বেদ ওষুধ মানব শরীরে কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া করে না, আবার মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কে শক্তিশালী করতে নিজেদের ভূমিকা পালন করে। এই কারণে আপনি যদি আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে পারেন তাহলে সত্যিই একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন। বর্তমানে আয়ুর্বেদ ওষুধের বিকল্প পার্শপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সারা বিশ্বে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। এইসব কারণগুলোর জন্যই আপনাকে বলব অবশ্যই আপনি আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করুন।

Ayurvedic medicine Business
আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবসা

আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্স প্রয়োজন? (What kind of license is required to trade in Ayurvedic medicine?)

আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবসা বা আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকান করতে অ্যালোপ্যাথি ওষুধের দোকানের মতো খুব বেশি কাগজপত্রের প্রয়োজন পড়ে না। আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবসা করতে প্রয়োজন পড়বে একটা ট্রেড লাইসেন্সের। এছাড়া আপনি আপনার আধার কার্ড দিয়েই চালু রাখতে পারেন আপনার আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান। আর আপনার ব্যবসায় যদি বছরে কুড়ি লক্ষ টাকার বেশি ইনকাম হয় তাহলে আপনাকে একটা জিএসটি লাইসেন্স নিতে হবে। এছাড়া আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করার জন্য কোন কিছুর লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে না। এছাড়া আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকান করতেও আপনার আলাদা কোনো কাগজপত্র প্রয়োজন পড়বে না।
তবে আপনার ব্যবসার শুরুতে আপনি চাইলে সমস্ত কাগজপত্র পরে করে আগে ব্যবসা করতে পারেন।

আরো দেখুন- মুরগির খামার ব্যবসা

আয়ুর্বেদিক দোকান কেমন হবে? (What will the Ayurvedic shop look like?)

আয়ুর্বেদিক ঔষধ দোকান আপনি ছোট কিংবা বড় যেমনভাবে ইচ্ছা তেমন ভাবে বানাতে পারেন। অনেক আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান আছে যারা ছোট্ট দোকান থেকেই অনেক বড় বড় ব্যবসা করে। তবে আপনি যেমন ধরনের ই দোকান করমু না কেন স্তরেজ ক্যাপাচিটি যেন ভালো হয় সেই দিকটা দেখবেন। আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকান করলে সেই ওষুধের দোকান টা যেন সর্বদা ঠান্ডা ভাবাপন্ন ঠান্ডা থাকে সেই দিকটা উপর নজর রাখতে হবে। আয়ুর্বেদিক ঔষধ গুলো বেশি গরমে ভালো থাকে না তাই জন্য ঠান্ডা আবহাওয়া প্রয়োজন আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে। দোকানের 3 দিকটা দেওয়াল দেওয়া অবশ্যই থাকতে হবে যাতে ওষুধগুলি ভালো থাকে।

আপনি যদি কোন কোম্পানীর কাছ থেকে ডিলারশিপ নিয়ে আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ আয়ুর্বেদ ওষুধ গুলো রাখার জন্য আলাদা একটি সেলফ তৈরি করতে হবে। আলাদা সেলফ থাকলে আপনি খুব সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন কোন ওষুধ গুলির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে আর কোনো শুধু গুলি ভালো আছে সেগুলি।

আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কতটা প্রয়োজন?

আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করার জন্য নূন্যতম কিছু শিক্ষার প্রয়োজন আছে। আপনার যদি আয়ুর্বেদিক ওষুধ সম্পর্কে কিছুই ধারনা না থাকে তাহলেও আমি আর বেথা ওষুধের ব্যবসা করতে পারেন একটা ট্রেনিং এর মাধ্যমে। অথবা আপনি আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করার আগে যেকোনো আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকানে কিছুদিন কাজ করে বা সেখানের কাজের প্রসেস এবং ওষুধ সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান অর্জন করে আপনি দোকান দিতে পারেন। বর্তমানে ভারতের আয়ুর্বেদ চিকিৎসার বিকাশের জন্য যে আয়ুর্বেদিক মন্ত্রণালয় রয়েছে সেখানে আপনি চাইলে ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

বর্তমানে আয়ুর্বেদিক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন এলাকাতে ওয়াকসপ করে আয়ুর্বেদ সম্পর্কে যাবতীয় জ্ঞান প্রদান করে। আপনি চাইলে আপনার নিকটবর্তী বিডিও অফিসে গিয়ে আয়ুর্বেদ সম্পর্কে কোন কোর্স আছে কি না তা জেনে সেই কোর্স করতে পারেন। এছাড়া আপনি আয়ুর্বেদ পণ্য সম্পর্কে ইন্টারনেটে অনেক আর্টিকেল পাওয়া যায় সেগুলি পড়ে আয়ুর্বেদ ওষুধ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

আয়ুর্বেদ ওষুধ ব্যবসায় কর্মচারী নিয়োগ

শুরুর দিকে ব্যবসাতে আপনি চাইলে একা কোন কর্মচারী না নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। তবে আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা দিন দিন যত বড় হতে থাকবে তত আপনার একার পক্ষে সমগ্র ব্যবসাটি পরিচালনা করা সম্ভব হবে না তাই আপনাকে সুদক্ষ কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। আপনি কর্মচারী নিয়োগ করবেন তার জন্য আপনার অবশ্যই দেখা দরকার আপনার দোকানের আয়তন কেমন, আপনার বিক্রির সেল কেমন হয়, সেই সব বুঝে আপনি কর্মচারী নিয়োগ করতে পারেন। আবার আয়ুর্বেদিক ওষুধের ডিলারশিপ বিক্রি করা, মার্কেটিং করা -এর জন্য আপনি চাইলে আলাদা আলাদা করে কর্মচারী নিয়োগ করতে পারেন। আপনার আয়ুর্বেদিক ওষুধ স্টরে যদি কোন রেজিস্টার আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ কে আপনি বসাতে পারেন তাহলে বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে।

কিভাবে আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিক্রি করা হয়? (How are ayurvedic medicines sold?)

আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিক্রির জন্য এলাকায় এলাকায় আপনার দোকানের পোস্টার লিফলেট বিলি করতে পারেন। আপনি যদি আয়ুর্বেদিক ওষুধের ডিলারশিপ নেন তাহলে ডিলারশিপ দেওয়া কম্পানি আপনার ওষুধ দোকানের বিজ্ঞাপন তারা দিয়ে দেবে। এছাড়া আপনি এলাকায় এলাকায় প্রচার করতে পারেন মাইক লাগিয়ে, বিভিন্ন জায়গায় সেমিনার করতে পারেন।

এছাড়া আপনি চাইলে আপনার ওষুধ দোকানে বিভিন্ন পাস করা আয়ুর্বেদিক ডাক্তার দের বসিয়ে রোগী দেখার ব্যবস্থা করতে পারেন এতে আপনার অনেক বেশি পরিমাণে সেল হবে। বর্তমানে আপনি নজর রাখলে দেখতে পাবেন আপনার আশেপাশের যেসকল আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকানে রয়েছে তারা সবাই তাদের ওষুধ দোকানের পাশাপাশি পাশ করা ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করায় মানুষের।

আপনি যদি আয়ুর্বেদিক ওষুধ ও কসমেটিক স্টোর পড়েন তাহলে প্রচারের জন্য আপনি অনলাইন মাধ্যম কে বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি বড় বড় ফ্লেক্স তৈরি করে এলাকায় এলাকায় লাগিয়ে আপনার দোকানের প্রচার করতে পারেন। হাসপাতাল, জনবহুল এলাকা, বিভিন্ন বড় বড় বাজারের মোড়ে আপনি লিফলেট বিলি করে আপনার আয়ুর্বেদ ওষুধের দোকানের প্রচার করতে পারেন। এতে করে আপনার দোকান সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ কৌতুহল বাড়তে থাকবে ফলে আপনার ক্রেতার সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে উঠবে।

আয়ুর্বেদিক মেডিসিন কোম্পানি তালিকা (List of Ayurvedic Medicine companies)

আয়ুর্বেদিক ওষুধের কোম্পানি সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। ভারতের যেরম একাধিক বড় বড় আয়ুর্বেদিক ওষুধের কোম্পানি রয়েছে যেমন বাংলাদেশেও আয়ুর্বেদিক ওষুধের বড় বড় অনেক কোম্পানি রয়েছে। আপনি যদি ভারতে থেকে থাকেন অথবা বাংলাদেশে থাকেন তাহলে আপনি এইসব কোম্পানী গুলির সাথে যোগাযোগ করে ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। এই সব কোম্পানির ডিলার দের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।
ভারতে যে বড় বড় আয়ুর্বেদিক ওষুধের কোম্পানি গুলো রয়েছে সেগুলি হল-

Ayurveda Shastra
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র

১০টি ভারতের আয়ুর্বেদিক ওষুধের কোম্পানি (Top 10 Ayurvedic medicine companies in India)

  1. Baidyanath
  2. Dabur India Limited
  3. Zandu Ayurveda
  4. Charak Pharma Private Limited
  5. Hamdard Laboratories
  6. Patanjali Ayurved
  7. Wilson Drugs
  8. Shree Dhootapapeshwar Ltd
  9. Himalaya Wellness

এছাড়া বাংলাদেশ অনেক বড় বড় আয়ুর্বেদিক কোম্পানি দেখা যায়। বাংলাদেশ 201 টার বেশি আয়ুর্বেদিক কোম্পানি রয়েছে। এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় বড় কোম্পানিগুলো হল-

10টি বাংলাদেশের আয়ুর্বেদিক ওষুধের কোম্পানি ( Top 10 Bangladeshi Ayurvedic Medicine Companies)

  1. Hamdard Laboratories (WAFQ) Bangladesh
  2. Modern Herbal Group
  3. Square Pharmaceuticals Ltd. ( Ayurvedic division)
  4. The Acme Laboratories Ltd. (Ayurvedic unit)
  5. Chemist Herbal Care (Ayurvedic)
  6. Shadhona Aushadalaya Ltd.
  7. Shakti Oushadhalaya (Ayurvedic)
  8. Ayurvedic Pharmacy (Dacca) Ltd
  9. Aksim Laboratories (Ayurvedic)
  10. B. Laboratories (Ayurvedic)

অবশ্যই পড়ুন- ১০ টি অনলাইন ইনকাম করার উপায়

আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসায় লাভ কত? (What is the profit of Ayurveda medicine business?)

আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে হলে আপনি যদি কোন কোম্পানীর কাছ থেকে ডিলারশিপ নিয়ে থাকেন, তাহলে ওষুধ ও কসমেটিক অনুযায়ী 35 থেকে 60 শতাংশ আপনার লাভ থাকে। এছাড়া আপনি যদি কোন ডিলার এর কাছ থেকে ওষুধ কিনে আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করেন তাহলে প্রতি ওষুধ পিছু আপনার 15 থেকে 30 শতাংশ আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ বলা যেতে পারে আপনি একটা ওষুধ বিক্রি করে 15 টাকা থেকে 30 টাকা লাভ করতে পারেন।

আপনি বুঝতেই পারছেন আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি লাভজনক ব্যবসা। ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আয়ুর্বেদের ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন প্রতিটা ব্যবসায়ী। আয়ুর্বেদ ওষুধ সম্পর্কে আপনি অল্প কিছু জ্ঞান অর্জন করেই আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে পারবেন। তবে আয়ুর্বেদ ওষুধ ব্যবসায় লাভ নির্ধারণ করার সঠিক মাপ কাঠি এলাকা বিবেচনায় ভিন্ন হতে পারে। আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে আধুনিক নিয়মে আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে পারেন তাহলে আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা পরিণত হবেন। তাই সাহস করে আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা একবার পড়ে দেখুন, তারপর থেকে আপনাকে পেছন ফিরে তাকানোর প্রয়োজন পড়বে না।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: 10 হাজার টাকা থেকে 2 লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে আয়ুর্বেদ ওষুধের ব্যবসা করতে।

আয়ুর্বেদিক ওষুধ দোকান তৈরি করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: আয়ুর্বেদিক ওষুধ দোকান তৈরি করতে 30 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা বিনিয়োগ লাগে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের জন্ম কোথায়?

উত্তর: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের জন্ম ভারতে। খ্রিষ্টপূর্ব 5 হাজার বছর আগে থেকে ভারতের চিকিৎসা স্বাস্থ্যই পরবর্তী সময় আয়ুর্বেদ স্বাস্থ্য নামে পরিচিত।

আয়ুর্বেদ ব্যবসা কোথায় করা যায়?

উত্তর: গ্রাম কিংবা শহরের যে কোন জনবহুল এলাকায় রাস্তার ধারে আয়ুর্বেদ ওষুধ দোকান তৈরি করা যায়।

আয়ুর্বেদিক দোকান করতে কতটা জায়গা লাগে?

উত্তর: 10/10 ফুটের জায়গা কমপক্ষে প্রয়োজন আয়ুর্বেদিক দোকান করতে।

আয়ুর্বেদিক ওষুধ ব্যবসায় লাভ কত?

উত্তর: প্রতিমাসে 25 হাজার টাকা থেকে 50 হাজার টাকা কমপক্ষে আয় করতে পারেন যদি সঠিক জায়গায় সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করেন।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

পেরেক তৈরির ব্যবসা

 ঘর মোছা তৈরীর ব্যবসা

Leave a Comment