আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করুন খুব সহজেই | 1 No. Import Export Business, see now

এখন প্রায় প্রতিটা জিনিস যেভাবে আমদানির রপ্তানি চলছে তাতে আগামী ভবিষ্যতে এই আমদানি রপ্তানি ব্যবসা বিপুল মুনাফা কামিয়ে দেবে প্রতিটি ব্যবসায়িকে। আমরা সকলেই জানি বহু প্রাচীন সময় থেকে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী করে আসছে। সেই পুরানে চাঁদ সওদাগর যিনি বাংলার একজন নামকরা বণিক ছিলেন তারও প্রধান ব্যবসা ছিল এই আমদানি রপ্তানি ব্যবসা । পুরান ছেড়ে দিলেও ইতিহাসের পাতায় আমরা দেখতে পাব ভাস্কো দা গামা যখন দেশ আবিষ্কার করে চলেছে তখন একের পর এক দেশে বিদেশি উপনিবেশিকরা ব্যবসা করার জন্য এসেছিল এবং তাদের মূল ব্যবসা ছিল এই আমদানি রপ্তানি ব্যবসা।

বর্তমানে আজ খাদ্য, পানীয়, আসবাবপত্র, জামাকাপড় থেকে শুরু করে সকল প্রকার জিনিসই আমদানি রপ্তানি হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে যার কেনা বেচা চলছে। এক দেশে পণ্য তৈরি হচ্ছে আর এক দেশে বিক্রি হচ্ছে। আবার যে দেশে যে পণ্য তৈরি হয় না, সেই দেশ অন্য দেশের কাছ থেকে আমদানি করছে তাদের চাহিদার পণ্য। তাই আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করেন তাহলে এই ব্যবসা শুধু বর্তমানে নয় ভবিষ্যতেও আপনাকে অনেক লাভবান করবে এবং ব্যবসার নিয়ম অনুসারে আরো বৃহৎ আকার ধারণ করবে। আজকের এই পোস্টে এই import export ব্যবসার যাবতীয় তথ্য প্রদান করা হবে।

Table of Contents

কিভাবে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা শুরু করবেন?

সেই প্রাচীন সময়ে যখন রাজ রাজাদের আধিপত্য ছিল অখণ্ড ভারতে তখন থেকেই আমদানি রপ্তানি ব্যবসা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। আজ আধুনিকতার যুগে সেই প্রাচীন এক ব্যবসা নতুনের চাদর জড়িয়ে আরো সুন্দর থেকে সুন্দরতর হয়ে উঠেছে। আমরা অনেকেই জানি এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক ব্যবস্থায় আমদানি রপ্তানি ব্যবসা। বর্তমানে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য দেশের বাইরে থেকেও অর্ডার করে অনলাইনে এবং তা আমদানি কিংবা দেশের বাইরে পাঠাতে গেলে রপ্তানি হয় কোন একটি কোম্পানির মধ্য দিয়ে।

আপনি যদি আমদানি রপ্তানি ব্যবসাতে মননিবেশ করতে পারেন তাহলে আপনার কোম্পানি খুব দ্রুততার সাথে এই ব্যবসা করে অনেক বড় হয়ে উঠবে। আপনি ভারত বাংলাদেশ কিংবা পৃথিবীর যে দেশেই থাকুন না কেন আপনি চাইলে ছোট করেই শুরু করতে পারেন আমদানি রপ্তানির ব্যবসা। এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য বিক্রয় ও ক্রয়ের প্রয় প্রণালী আপনি যদি একটু ভালো করে শিখে যান তাহলেই আপনি শুরু করতে পারেন অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেই এই ব্যবসা।

এক্ষেত্রে আপনি একটি কোম্পানি তৈরি করে বা এজেন্সি তৈরি করে উৎপাদনকারীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন দেশের ভেতর এবং বাইরে এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন হবে সরকারি কিছু লাইসেন্স এবং একাধিক এজেন্টের। নতুনদের কাছে যদিও এই আমদানি রপ্তানি ব্যবসা একটু কঠিন কাজ মনে হতে পারে কিন্তু এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কোন মানুষের কাছে এই ব্যবসার থেকে সহজ ব্যবসা আর হয় না। তবুও বর্তমানে আপনি যেহেতু নতুন তাই আপনার এই ব্যবসা করতে প্রথম প্রথম অনেক সমস্যা আসতে পারে এবং তা সমাধানের মধ্য দিয়ে আপনি বড় ব্যবসায়ী হতে পারবেন। তাই এই ব্যবসা সম্পর্কিত সাময়িক ধারণা দেওয়ার জন্য আজকের এই পোস্ট।

Import Export Business
ইমপোর্ট এক্সপোর্ট ব্যবসা

ইমপোর্ট এক্সপোর্ট ব্যবসা সম্পর্কে জানুন (Learn about import export business)

সাধারণত ইমপোর্ট এক্সপোর্ট ব্যবসা দুই ধরনের হয়ে থাকে, প্রথমত দেশীয় আমদানি রপ্তানির ব্যবসা আর দ্বিতীয়ত বৈদেশিক আমদানি রপ্তানির ব্যবসা। তাই আপনি যদি একটি দেশের মধ্যেই আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার পুঁজিবি নিয়োগ কম হলেও কোন সমস্যা থাকবে না কিন্তু আপনি যদি দেশের বাইরে আমদানির রপ্তানি ব্যবসা করেন অর্থাৎ এক দেশ থেকে অন্য দেশের মধ্য যদি এই ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটু বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। এই ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে প্রথমে একটি ব্যবসার জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করতে হবে এবং ব্যবসার ব্যাপক হারে বিজ্ঞাপন দিতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজেই আপনার ব্যবসা পরিচিতি লাভ করে। মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিস ঠিক সময়ের মধ্যে আমদানি কিংবা রপ্তানি করে তাদেরকে খুশি করতে হবে।

অবশ্যই পড়ুন- বাড়িতে চকলেট তৈরির ব্যবসা করে 50 হাজার টাকা আয়

দেশীয় আমদানি রপ্তানির ব্যবসা

আপনি যদি একটা দেশের মধ্যেই আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করতে চান তাহলে এই ব্যবসা খুব সহজেই করতে পারবেন। দেশীয় আমদানি রপ্তানি বলতে একই দেশের মধ্য এক রাজ্যের জিনিস অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া বা অন্য রাজ্যের জিনিস এক রাজ্যে নিয়ে আসার কাজকেই বলা হয়। দেশের মধ্যে আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে সময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও পণ্য নিয়ে আসা এবং নিয়ে যাওয়ার কাজটি করতে হবে। বাংলাদেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মাল আমদানি ও রপ্তানি করার জন্য আপনি নিজস্ব একটি এজেন্সিও কোম্পানি খুলতে পারেন। ভারতের ক্ষেত্রে এটা একটু জটিল হয়। কারণ অনেকটা বড় দেশ হওয়ার কারণে সময়ের মধ্যে মাল পরিবহন করার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বৈদেশিক আমদানি রপ্তানির ব্যবসা

আপনি যদি ইন্টারন্যাশনাল ভাবে এই আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই বড় ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির সাথে পার্টনারশিপে কাজ করতে হবে। আপনি যদি বড় এক্সপোট ইমপোর্ট কোম্পানির সাথে পার্টনারশিপ নিয়ে কাজ করেন সেক্ষেত্রে আপনার মূলধন অল্প বিনিয়োগের এক বিশেষ সুবিধা হবে আবার সময়মতো পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করতে সাহায্য মিলবে। বিদেশি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানিগুলির সাথে যোগাযোগ করার জন্য আপনাকে গুগলের সাহায্য নিতে হবে এবং তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের সাথে পার্টনারশিপ করতে হবে। আপনি নিজে ব্যবসার শুরুতেই ইন্টারন্যাশনাল ভাবে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না, কারণ এই ব্যবসায়ী অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, আর অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য আপনাকে ব্যবসার শুরুটা দেশীয় আমদানি রপ্তানির কোম্পানি করেই শুরু করতে হবে।

কোম্পানির নাম নির্বাচন করুন

আপনি যখন একটি আমদানি রপ্তানির ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে আপনার ব্যবসার জন্য এমন একটি নাম নির্বাচন করতে হবে যা সাধারন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং মনে রাখার মত হয়ে থাকে। তাই ব্যবসা শুরুর পূর্বেই আপনাকে আপনার ব্যবসার জন্য সুন্দর একটি নাম নির্বাচন করতে হবে। এই নামই আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। তাই আপনি যদি খেয়াল করেন দেখবেন প্রতিটা কোম্পানির রাখা তাদের ব্যবসার নাম মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে এবং নামের কারণেই কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু কতটা বেড়ে যায়। নাম রাখার পর আপনাকে এই নামের সাথে একটি লোগো তৈরি করতে হবে যা মানুষের স্মৃতিতে সব সময় গেঁথে থাকবে আপনার কোম্পানির নাম শুনলেই বা লোগো দেখলেই।

এক্সপোর্ট ইমপোর্ট অফিস করুন

ব্যবসার শুরুতেই একাধিক জায়গায় অফিস করার প্রয়োজন নেই। আপনি যে এলাকার মধ্য ব্যবসা করবেন সেই এলাকাতে একটি কিংবা একাধিক জায়গায় অফিস করতে পারেন। এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই প্রতিটি জেলাতে একটি করে অবশ্যই অফিস নির্মাণ করতে হবে। যেহেতু আপনার কাজ মানুষের পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া বা নিয়ে আসার তাই এই অফিসের ভূমিকা খুবই উল্লেখযোগ্য হিসেবে আপনার ব্যবসার জন্য কাজ করবে।

অফিস নির্মাণের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে অফিস কি যেন রাস্তার ধারে হয়ে থাকে। অফিসের উপরে কোম্পানির নামের বড় সাইনবোর্ড অবশ্যই লাগানো থাকতে হবে। এছাড়াও অফিস ডেকোরেশনের ওপর আপনাকে বিশেষ নজর দিতে হবে । অর্থাৎ আপনার কোম্পানির প্রতিটা অফিস যেন সুন্দর হয় এবং প্রতিটা কাস্টমার অফিসে এসে যাতে মুগ্ধ হয়ে যাই তার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

কি ধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানি করবেন?

আপনি যখন আমদানি রপ্তানি ব্যবসা শুরু করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে আগে থেকে ঠিক করতে হবে আপনি কি ধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানি করবেন। আপনি ব্যবসার শুরুর দিকে ছোট পণ্য গুলি আমদানির রপ্তানি করতে পারেন যেমন-বিভিন্ন কাঁচামাল, পোশাক, ওষুধ, পাট, চা, চামড়া, তামাক, পারজাত দ্রব্য, হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, বিভিন্ন ধরনের ফুল, খাদ্যশস্য, দানাশস্য ইত্যাদি।

আবার আপনি চাইলে বিভিন্ন কলকারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, পরিবহন সামগ্রী এয়ারকন্ডিশন, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, বা বড় বড় যে কোন জিনিস আমদানি রপ্তানি করতে পারেন। ছোট সামগ্রী যখন আপনি আমদানি রপ্তানি করবেন সে ক্ষেত্রে আপনার আলাদা খরচ হবে আবার আপনি যখন বড় পণ্য আমদানির রপ্তানি করবেন সে ক্ষেত্রে আলাদা খরচ পড়বে। তাই আপনি ব্যবসার শুরুর দিকে ছোট পণ্য এবং অত্তা প্রয়োজনীয় পণ্যর আমদানির রপ্তানি করতে পারেন।
আপনি যদি বড় বড় বিদেশী সংস্থার সাথে কাজ করেন সেক্ষেত্রে প্রতিটি আমদানি রপ্তানির আইটেমের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্যাক্স দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে এর জন্য আলাদা কিছু খরচ লাগে।

কিভাবে আমদানি রপ্তানি করবেন?

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করতে গেলে আপনার কি প্রথমে ভাবতে হবে আপনি কি পদ্ধতিতে আমদানির রপ্তানির কাজ করবেন। ব্যবসার শুরুতে যদি আপনি এক দেশের মত আমদানি রপ্তানির কাজ করেন তাহলে আপনাকে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি গুলির সাথে কন্টাক্ট করতে হবে। স্থলপথে আমদানি রপ্তানি করার জন্য আপনি বিভিন্ন ট্রাক ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির সাথে কন্ট্রাক্ট করতে পারেন আবার সরকারিভাবে রেলের সাথে চুক্তিবদ্ধ পারমিশন নিতে পারেন। জলপথে হলে জাহাজের সাথে আপনাকে ট্রান্সপোর্ট এর চুক্তি করতে হবে।

এছাড়াও আপনি ব্যবসার শুরুতেই বড় কোম্পানিগুলির সাথে ট্রাই আপ করে ব্যবসা করতে পারেন। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে যে সকল বড় বড় ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি রয়েছে তাদের সাথে একত্রিতে আপনি যদি ব্যবসা করেন সে ক্ষেত্রে আপনার বিনিয়োগ কম হবে এবং খুব সহজেই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে আপনি নিজে একাধিক গাড়ি ও একাধিক লাইসেন্স নিয়ে নিজে উদ্যোগেই ব্যবসাটি করতে পারবেন। এই আমদানি রপ্তানির ব্যবসা সম্পর্কে বলতে গেলে একটি বইও শেষ হয়ে যাবে তাই আপনি যদি আরো ভালো করে এই ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই ইউটিউব এবং বিভিন্ন বই কিনে পড়তে পারেন।

ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সাথে কন্টাক্ট করুন

আপনি যখন একটি ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কোম্পানি খুলবেন তখন অবশ্যই আপনাকে আপনার ব্যবসার সুবিধার্থে একাধিক ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সাথে কন্টাক্ট করতে হবে। অর্থাৎ বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি বিভিন্ন রকম চুক্তি করে ব্যবসা করে। ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সাথে চুক্তি করলে আপনার যে সুবিধা হবে তা হল-

  • এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় মাল ট্রান্সপোর্ট করতে পারবেন খুব সহজে।
  • অল্প খরচে ট্রান্সপোর্ট এর কাজ হয়ে যাবে।
  • বিনিয়োগ কম লাগবে।
  • সময় মাল কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।
  • নিচের ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি খোলার থেকে খরচ বেঁচে যাবে।

ডেলিভারি বয় নিযুক্ত করুন

যেকোনো আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন পড়বে একাধিক ডেলিভারি বয়। এই ডেলিভারি বয়দের আপনাকে নিযুক্ত করার আগে দেখতে হবে সে কোন এলাকার ডেলিভারি করতে পারবে খুব সহজে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা রয়েছে তার ওপর। গ্রাহকের আমদানি রপ্তানির জিনিসগুলি যদি দামি হয়ে থাকে তা যাতে কোনভাবে চুরি বা নষ্ট না হয় তার দায়বদ্ধতা যাতে ডেলিভারি বয় বহন করতে পারে তার জন্য আপনাকে বিশ্বাসযোগ্য ডেলিভারি বয় হিসাবে কর্মচারী নিযুক্ত করতে হবে। সাধারণত প্রতিটি কোম্পানির ডেলিভারি বয় নিযুক্ত করার আগে একটি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার তৈরি করে বা অফিস থেকে অফিস এলাকার আশেপাশে ডেলিভারি করার জন্য ওই এলাকারই কোন ছেলেকে কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত করে। আপনার এই ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য আপনার প্রয়োজন পড়বে একাধিক ডেলিভারি বয় এর।

আরো পড়ুন- ফুল ঝাড়ু তৈরির ব্যবসা

আমদানি রপ্তানির ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

আমদানি রপ্তানির ব্যবসা শুরুর পরেই আপনার মার্কেটিং এর উপর বেশি জোর দিতে হবে আপনি চাইলে ব্যবসা শুরু করার আগেই মার্কেটিং শুরু করে দিতে পারেন। আপনি যত ভালো করে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন আপনার ব্যবসার এবং যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন আপনার কোম্পানির নাম ততই আপনি বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন এবং কোম্পানিকে বড় করতে পারবেন। এই মার্কেটিং করার জন্য আপনি যে পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করতে পারেন তা হল-

  • ওয়েবসাইট তৈরি করুন: একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন সেই ওয়েবসাইটটি google এবং প্লে স্টোরে যাতে পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করুন। গ্রাহক কোন কিছু আমদানি করার সময় বা রপ্তানি করার জন্য আপনার এই ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে একটি ডোমিন নিতে হবে এবং ওয়েব ডিজাইনার কে দিয়ে সুন্দর করে ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করতে হবে। আর আপনি আপনার ব্যবসার নামের যে অ্যাপ তৈরি করবেন সেটা যেন প্লেস্টোর এবং ios অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যায় তা দেখতে হবে।
  • ফেসবুক ও ইউটিউব: ফেসবুক ও ইউটিউবে একটি করে পেজ এবং অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আপনি প্রতিদিন নিত্যনতুন পোস্ট করতে পারেন বা ছবি আপলোড করতে পারেন আপনার ব্যবসার রিলেটেড। কিছুদিনের মধ্যেই যখন আপনার ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বেড়ে যাবে তখন তাদের মারফত আপনি আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন করতে পারেন। আবার ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে দেখাতে পারেন যে অন্য ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলির থেকে আপনার আমদানি রপ্তানি কোম্পানি কতটা ভালো এবং মানুষের কতটা উপকারে লাগছে। এই ধরনের ভিডিও দেখে মানুষ আরো বেশি করে আপনার কোম্পানির প্রতি ভরসা করবে এবং আপনার কোম্পানির বৃদ্ধি দ্রুততার সাথে হবে।
  • Facebook, google advertisement-আপনি চাইলে ফেসবুক এবং google এ অল্প টাকা বিনিয়োগ করে আপনার ব্যবসার অঞ্চলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আপনি যদি সমগ্র বাংলাদেশ অথবা ভারতে ব্যবসা করেন তাহলে পুরো দেশের মধ্যে এই বিজ্ঞাপন অল্প টাকায় আপনি দিতে পারেন। যেহেতু বর্তমান সময়ে মানুষ ফেসবুক এবং ইউটিউব গুগল এইসব জিনিসগুলি বেশি করে ব্যবহার করে তাই আপনি যদি এই ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন তাহলে খুব দ্রুততার সাথে মানুষের কাছে আপনি পৌঁছাতে পারবেন এবং মানুষ আপনার কোম্পানি সম্পর্কে পরিচিত হবে। আর সাধারণ মানুষ যত আপনার কোম্পানি সম্পর্কে পরিচিত হবে তত বেশি করে আপনি অর্ডার পেতে থাকবেন এবং আপনার ব্যবসাও বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
  • পোস্টার বিজ্ঞাপন: ব্যবসার শুরুতে আপনি প্রায় প্রতিটি এলাকাতে ছোট বড় বিভিন্ন আকারের পোস্টার লাগিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আপনার যে ডেলিভারি বয় থাকবে তাদের কাজে নিযুক্ত করার আগে আপনি পোস্টার লাগাতে বলতে পারেন বিভিন্ন এলাকাতে তারপরে তাদেরকে আপনি ডেলিভারি বয় হিসেবে নিযুক্ত করতে পারেন । এতে হয় কি প্রতিটি ডেলিভারি বয় বিভিন্ন এলাকা সম্পর্কে পরিচিত হবে এবং তারা খুব সহজে কাস্টমারের অর্ডার তার বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারবে।
  • ফ্লিক্স বিজ্ঞাপন: ব্যবসার শুরুর দিকেই আপনি প্রতিটি এলাকার বাজার মোড় গুলিতে বড় বড় ফ্লেক্স ছাপিয়ে আপনার কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আবার আপনি গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জনবহুল এলাকাগুলিতে ফ্লেক্স লাগিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এতে আপনার যে সুবিধা হবে তা হল মানুষের কাছে আপনার কোম্পানির পরিচিতি দ্রুততার সাথে লাভ হবে এবং ব্যবসার ও উন্নতি হবে।
Import export business
আমদানি রপ্তানি ব্যবসা

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করতে কি কি লাইসেন্সের প্রয়োজন?

আপনি যদি আমদানি রপ্তানি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে বেশ কয়েকটি লাইসেন্স নিতে হবে ব্যবসার আগেই। প্রতিটি ছোট বড় কোম্পানিকেই তার ব্যবসা শুরু করার আগে লাইসেন্স নিতে হয় কিন্তু আমদানির রপ্তানির কোম্পানিগুলিকে ব্যবসা শুরুর আগেই লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক। তাই আপনি আপনার ব্যবসার জন্য কি ধরনের লাইন এবং কোথা থেকে নেবেন তা হল-

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • আমদানি রপ্তানি নাম্বার
  • কর্মচারী নিয়োগের লাইসেন্স
  • আমদানি রপ্তানি বস্তুর গ্যারান্টি
  • কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার
  • জি এস টি নাম্বার
  • নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র

আবার আপনি যে এলাকাতে ব্যবসা করছেন সেই এলাকার ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু আইনি কাগজপত্রের প্রয়োজন পড়তে পারে সেটা ব্যবসার আগে আপনাকে দেখে নিতে হবে আপনার এলাকাতে ব্যবসা করতে কি কি আর লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়ে। সাধারণত এইসব লাইসেন্স নেওয়ার জন্য বর্তমানে অনলাইনে আপনি আবেদন করতে পারেন। প্রতিটি লাইসেন্স এখন অনলাইনে নিজস্ব ওয়েবসাইটগুলিতে আবেদন করেই পাওয়া যায়। আর এই লাইসেন্স গুলোর জন্য আপনার খরচ পড়বে দুই হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে।

অবশ্যই পড়ুন- মোবাইল ফোনের ব্যবসা করে মাসে 60 হাজার টাকা আয় করুন

প্রতিটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করুন:

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করার আগে আপনাকে একটি লিস্ট তৈরি করে নিতে হবে এই লিস্টে থাকবে বিভিন্ন জাতীয় পণ্যের আমদানি রপ্তানি করবার চার্জ। অর্থাৎ খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্যগুলি আমদানি করবার জন্য বা রপ্তানি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট দাম রাখতে হবে। আবার ইলেকট্রনিক্স জাতীয় পণ্য আমদানির রপ্তানি করার জন্য একটি আলাদা দাম রাখতে হবে। আবার কারখানার বড় পণ্য আমদানি রপ্তানি করার জন্য আলাদা চার্জ রাখতে হবে। এই ধরনের বিভিন্ন পণ্যের জন্য নির্ধারণ করতে হবে। আপনাকে এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে বাকি অন্য কোম্পানিগুলি যে দামে পণ্য আমদানির রপ্তানি করে থাকে তার থেকে অল্প দামে আপনাকে করতে হবে এবং আপনার নির্ধারিত দামটি যেন বাকি অন্য কোম্পানিগুলির থেকে কম হয় তা দেখতে হবে।

আমদানি রপ্তানির ব্যবসার বিনিয়োগ কত?

সাধারণত আপনি যদি ছোট আকারের আমদানি রপ্তানি ব্যবসা শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে কমপক্ষে 10 লক্ষ থেকে 15 লক্ষ টাকা। তবে এই টাকা শুধুমাত্র ছোট ব্যবসার জন্যই আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন কারণ আমদানি রপ্তানি ব্যবসা বড় করে করতে গেলে অবশ্যই আপনার বিনিয়ম কটিতে পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ একটি বড় কোম্পানি তৈরি করতে গেলে আপনাকে কমপক্ষে 5-10 কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তাই ব্যবসার শুরুতে আপনি অল্প বিনিয়োগ করুন এবং বড় বড় এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসা শুরু করুন।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় লাভ কত?

সাধারণত আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় বিনিয়োগ যেমন বেশি করতে হয় তেমন এই ব্যবসা থেকে প্রচুর পরিমাণে লাভ করা যায়। আপনি যদি ছোট করে কোম্পানি শুরু করেন তাহলেও আপনি প্রতি মাসে 50 হাজার টাকা থেকে 1 লক্ষ টাকারও বেশি লাভ করতে পারবে । তবে বর্তমান সময়ে ব্যবসার শুরুর দিকে কোম্পানিগুলি এই পরিমাণ লাভ করে কিন্তু পরবর্তীকালে একটি ছোট কোম্পানিও 5-10 লাখ টাকা প্রতি মাসে খুব সহজেই লাভ করতে পারে। আপনি কি পদ্ধতিতে ব্যবসা করবেন এবং কোন এলাকার মধ্যে ব্যবসা করছেন তার ওপরে নির্ভর করবে আপনার লাভের একাংশ। আর এক অংশ করবে আপনি কিভাবে মার্কেটিং করতে পারছেন আপনার ব্যবসার এবং আপনার কোম্পানি কত মানুষের কাছে পৌঁছোতে পাচ্ছে তার ওপর।

এই ব্যবসায় সতর্কতা:

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে একটু সতর্ক হয়ে ব্যবসা করতে হবে। কারণ এই ব্যবসায় আমদানি রপ্তানি করার জন্য কম দামি পণ্যের সাথে সাথে অনেক দামি দামি পণ্য থাকবে। তাই এই দামী পণ্য গুলি যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বা চুরি না হয়ে যায় তার যথাসাধ্য ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে। আবার যে কর্মচারীদের আপনি নিযুক্ত করছেন তারা যাতে কোনোভাবে কাস্টমারের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা না নেই তাও দেখতে হবে।

প্রতিটি কাস্টমারের অর্ডার করা পণ্য বা আমদানি রপ্তানি করা পণ্য যাতে ঠিক সময়মতো কাস্টমারের কাছে পৌঁছে যায় তার দিকে খেয়াল দিতে হবে। এই ব্যবসায় একটু ঝুঁকি থাকে কারণ এই ব্যবসার জন্য যে কোম্পানিগুলির সামনে আপনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তারা হঠাৎ করে যদি চুক্তি ভেঙ্গে দেয় তাতে আপনি অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কোন কারণবশত যদি এক্সিডেন্ট হয়ে যায় তাহলে যে ক্ষতি হয় তার সমস্তটা আপনার কোম্পানি কি বহন করতে হবে

সেরা ১০ টি ভারতীয় আমদানি রপ্তানির কোম্পানি (Top 10 Indian Import Export Companies)

  1. Geniemode
  2. Pfc
  3. Agkem Impex Private Limited
  4. Victoria International
  5. A V Global Corporation Private Limited
  6. Jaipur Rugs Group
  7. Shabana Exports & Imports
  8. Itsy Bitsy Group
  9. Kishor Exports
  10. Designco India

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও FAQ

আমদানি রপ্তানির ব্যবসা কোথায় করা যায়?

উত্তর: যেকোনো দেশের শহরাঞ্চলে এই ব্যবসা করা যায়।

আমদানি রপ্তানির অফিসের আয়তন কত লাগে?

উত্তর: 10/10 ফিট অফিস হলেই যথেষ্ট।

বাংলাদেশ কোন কোন দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে?

উত্তর: ভারত, চীন, জাপান, আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, করিয়া, ইতালি, মেক্সিকো আরো অনেক দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে কি ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়?

উত্তর: বাংলাদেশ থেকে ভারতে মূলত মাছ ও খাদ্যদ্রব্য কিছু পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে।

আমদানি রপ্তানি ব্যাবসায় লাভ কত হয়?

উত্তর: ১ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা প্রতি মাসের আয় হতে পারে একটি ভালোভাবে দাঁড়ানো ছোট কোম্পানির।

নতুন নতুন ব্যবসার আইডিয়া দেখুন-

চাউমিন তৈরির ব্যবসা

অনলাইনে মুদিখানা দোকান ব্যবসা

Leave a Comment